বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

দ্য হান্ড্রেড নিলামে ২৩ বাংলাদেশি ক্রিকেটার

ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেড–এর ২০২৬ আসরের নিলামে নাম লিখিয়েছেন ২৩ জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার। আগামী ১১ ও ১২ মার্চ লন্ডনের ঐতিহাসিক পিকাডিলি লাইটস–এ অনুষ্ঠিত হবে এই নিলাম।

বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য রাখা হয়েছে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের, ১ লাখ পাউন্ড। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ৭৫ হাজার পাউন্ড লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনের।
বাকি ২১ ক্রিকেটারের ভিত্তিমূল্য ৩১ হাজার পাউন্ড করে।

টুর্নামেন্টটির আয়োজক ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিলামের তালিকা প্রকাশ করেছে। এবারের আসরে ১৮টি দেশ থেকে প্রায় এক হাজার ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন।

নিলামের আগে অংশগ্রহণকারী আটটি দল নিজেদের আগ্রহের ভিত্তিতে ৭৫ থেকে ১০০ জন ক্রিকেটারের তালিকা জমা দেবে।
সেই তালিকা থেকে প্রায় ২০০ জনের একটি চূড়ান্ত লংলিস্ট তৈরি করা হবে, যারা নিলামে উঠবেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে লিগ শুরুর পর এখনো পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার দ্য হান্ড্রেডে খেলেননি। তাই এবারের নিলাম বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেনের মতো বোলারদের নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিলামে থাকা বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা:

মুস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, জাকের আলী, লিটন দাস, মেহেদী হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিম হাসান সাকিব, তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, হাসান মাহমুদ, রিপন মন্ডল, মোহাম্মদ নাঈম, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, পারভেজ হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, সাব্বির রহমান ও সৌম্য সরকার।

দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতাকে প্রতিহত করে একুশের চেতনা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে :ইফতেখারুজ্জামান

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশর (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতাকে প্রতিহত করে একুশের চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি এবং ২১ এর চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। বিশেষ করে বাংলাদেশের সব মানুষের সমান অধিকার পরিপন্থি যত শক্তি আছে, সেটাকে প্রতিহত করা হচ্ছে ২১ চেতনার মূল বিষয়। বিশেষ করে নারী, ধর্মীয়, জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী এ ধরনের প্রান্তিক যত জনগোষ্ঠী আছে, তাদের সবার সমান অধিকার নিয়ে জীবনযাপনের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকারে পরিপন্থি শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।

টিআইবির নামকরণ বাংলায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, টিআইবি আন্তর্জাতিক সংস্থা। এটার নামটাই এভাবে প্রতিষ্ঠিত। আমি যেটি বলতে চাই, ভাষার আন্দোলন বাংলা ভাষার আন্দোলন তার অর্থ এই ছিল না অন্য সব ভাষা বর্জন করতে হবে। অন্য সব ভাষার গুরুত্ব নেই এটা কিন্তু আমাদের শহীদের চেতনার মধ্যে ছিল না। বাংলাদেশেও তো অন্য ভাষা আছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আজ যখন আমরা ভাষার অধিকারের কথা বলি, তখন তা কেবল বাংলা ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কেন? ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ শব্দবন্ধটি কোথা থেকে এসেছে? এর মূল অর্থই হচ্ছে—প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মাতৃভাষা চর্চার সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

ড. ইফতেখারুজ্জামান যোগ করেন, আমি মনে করি, সব মানুষের সমান অধিকার এবং নির্বিঘ্নে ভাষা চর্চার পথের অন্তরায়গুলো আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। আর এই পথের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হচ্ছে দুর্নীতি এবং ধর্মান্ধতা।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৪ দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অধিকাংশ স্ক্যানিং মেশিন দীর্ঘদিন অচল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের দ্রুত সেগুলো সচলের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি কীভাবে দিনের পর দিন অচল থাকে? এ ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পণ্যজট ও ধীরগতির সরবরাহের অন্যতম কারণ এসব স্ক্যানিং মেশিনের অচলাবস্থা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, শীর্ষ ব্যবসায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রামে তার প্রথম সফর। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস হাউস, ইস্টার্ন রিফাইনারি, বিমানবন্দর ও সিইপিজেডসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো অবস্থিত।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের প্রতিনিধিরাসহ বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতারা আশ্বাস দেন যে, কোনো কারণেই যেন এক ঘণ্টার জন্যও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যে তাঁরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ দক্ষতা ও দ্রুততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের পদ্ধতি অনুসরণ করে বন্দর পরিচালনার বিকল্প নেই। বাজারে পণ্যমূল্য, বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে পরিচালনা ও সেবার ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।

বন্দর পরিচালনা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের জন্য তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, নৌপরিবহন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি নিজেই বিষয়গুলো তদারকি করবেন।

বৈঠকে অংশীজনদের অভিযোগ শোনার পর অর্থমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দর ব্যবহারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সেগুলোর সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করেছি। শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা করা হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. শফিউল্লাহ, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা।

প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন এনসিপির নেতারা

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতের প্রথম প্রহরের দিকে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান দলটির নেতারা।

এ সময় দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ভাষা শহীদদের প্রতি বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন।

তিনি আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ১৯৫২ সালে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে প্রাণ উৎসর্গকারী জাতির বীর শহীদদের স্মরণে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও অন্যান্য পদবীর সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাত ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন।

রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু

রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

মহান ভাষা আন্দোলনের প্রায় ৭৪ বছর পর অবশেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পেল রাজশাহীর মানুষ। নগরীর রাজারহাতা এলাকায় জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশার অবসান ঘটেছে। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে নবনির্মিত মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা এক মিনিটে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এ সময় রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে শহিদ মিনারটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরে ওঠে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীতে একটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সেই দাবির প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন রাজশাহী জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল। জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট নগরীর নওদাপাড়ায় স্থানান্তরিত হলে রাজারহাতায় প্রায় এক বিঘা জমি খালি হয়। পরবর্তীতে ওই জমিই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে জেলা পরিষদ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মধ্যে মালিকানা ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ কিছু সময় স্থবির হয়ে পড়ে। পরে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন হয়। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই শহিদ মিনারটি এখন রাজশাহীর নতুন এক প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং ভাষাসহ সকল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যেই এই শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এটি রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, যা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।

উদ্বোধনের পর একুশের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধভাবে শহিদ মিনারে ফুল দেন। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পাওয়ায় রাজশাহীবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশা, এই শহিদ মিনার শুধু শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থানই নয়, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ ও প্রজন্মের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।

সংরক্ষিত আসনে এমপির দৌড়ে আমির-নায়েবে আমিরের স্ত্রীরাও

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল কয়টি আসন পেয়েছে তার গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই গেজেট অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী সংসদে ১২টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। দলটির সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। জামায়াতে ইসলামী এবার সংরক্ষিত নারী আসনগুলোয় দলীয় পদধারীদের বাইরে দক্ষ নারীদেরও যুক্ত করবে বলে জানা গেছে।

জামায়াতের একাধিক সূত্র জানায়, সংরক্ষিত ১২টি আসনের জন্য এখনো কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সহধর্মিণী ডা. আমেনা বেগম আগেও জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এবারও তিনি থাকতে পারেন। এ ছাড়া জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী ও জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেত্রী হাবিবা রহমান সুইট, জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, জামায়াত নেত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপি, মহানগর দক্ষিণের নেত্রী আয়েশা খানম ও নারী নেত্রী সাবেকুন্নাহারকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত করার আলোচনা রয়েছে।

এ ছাড়া ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মারদিয়া মমতাজকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য করার আলোচনা শোনা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ১২টি আসন পেতে যাচ্ছে। এই আসনগুলোয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দল সুপরিকল্পিত অবস্থান নিয়েছে। যেসব এলাকায় দলের পুরুষ প্রার্থীরা নির্বাচিত হতে পারেননি, সেসব এলাকা থেকে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর মাধ্যমে দল সাংগঠনিক ভারসাম্য ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে শুধু দলীয় পরিচয়ই বিবেচ্য নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু জাতীয় সংসদে সঠিকভাবে উপস্থাপনের সক্ষমতাও যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক অবদানও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি যাচ্ছেন কি না জানতে চাইলে নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেকে পুরোপুরি উপযুক্ত মনে করি না। সংগঠন যদি যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দেয়, তবে তা পালনে আমি প্রস্তুত।


সংসদে নারী প্রতিনিধিদের ভূমিকা কেমন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু সংসদে আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাই না, বরং নারীর প্রকৃত সামাজিক মর্যাদা, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের অবিচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখাই হবে আমাদের অঙ্গীকার। সংসদের ভেতরে ও বাইরে সমানভাবে সক্রিয় থেকে নারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করব আমরা। সামনের দিনগুলোয় জামায়াতের মহিলারা আরো সম্মুখে এসে রাজনীতি করবেন।’

জামায়াতের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে জামায়াতের মহিলা বিভাগ থেকে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করা হবে। সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই তা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তাঁরা।

পৃথিবীর কোথাও ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার নজির নেই : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে জয়পুরহাটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার ঢল নামে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচির শুরুতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়াসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদাসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা, জেলা জামায়াতের আমির ও জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদ এবং বিএনপি নেতারা শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার এমন নজির নেই। ইউনেস্কো এটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শহীদ বরকত, রফিক, জব্বার ও সালামের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। মূলত একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা, সাম্য, ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, চব্বিশের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, আমি তাঁদের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একটি সুষম সমাজব্যবস্থা, মানুষের কথা বলার অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই আজ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী আজকের দিবস উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন। সেখানে তিনি একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।

মো. আব্দুল বারী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তিনি তা ধারণ করেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ বিশ্বদরবারে সমৃদ্ধশালী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। আর তখনই ভাষা শহীদ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাই-আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে, সরকারি কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের একমাত্র পদ্ধতি হবে সততা, দক্ষতা এবং মেধা। এর কোনো বিকল্প নেই বা বিকল্প থাকার সুযোগও নেই।

সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দেওয়া হবে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান করা দায়িত্ব উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেছেন, ‘আমরা দায়িত্ব পালন করার জন্য শতভাগ চেষ্টা করব। উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গতকাল শুক্রবার কুমিল্লার মুরাদনগরে তাঁর নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর এই প্রথম কুমিল্লায় তাঁর সংসদীয় আসনে এসেছেন।

এ সময় দলীয় নেতাকর্মী এবং ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে কায়কোবাদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেছেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। আমরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষ যেন কোনো কষ্টে না পড়ে সে জন্য প্রধানমন্ত্রী খুবই সচেতন। আমার বিশ্বাস দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না।’

বিগত সময়গুলোতে হজের ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবাই কাজ করে যাব যেন মানুষ সব সুবিধা ভোগ করতে পারে। তারা যেন এটা বলে যে আল্লাহর রহমতে আমরা অতীতের চেয়ে ভালো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি। অবশ্যই এ কাজ করব।’

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই একুশের মূল চেতনা: প্রধানমন্ত্রী

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে তিনি বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় এবং গৌরবের প্রতীক। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা।”

প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদ আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ সকল শহীদকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে রচিত হয় শত বছরের শাসন ও শোষণে জর্জরিত তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুক্তির প্রথম সোপান। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এই আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠাই করেনি, বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে করেছে আরও মজবুত ও সুদৃঢ়। একুশের এই রক্তাক্ত পথ ধরেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা।”

বাংলা ভাষাকে বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাতৃভাষার জন্য আমাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একুশের চেতনা আজ বিশ্বজুড়ে সব ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সুরক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা। এ চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম পার হয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ভাষা শহীদদের আদর্শ এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জন ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ এযাবৎকালে দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।”

তারেক রহমান বলেন, “আজকের এই দিনে আমি বিশ্বজুড়ে সব জাতিগোষ্ঠীর ভাষাসমূহের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাই। আসুন, আমরা দেশে বিদ্যমান ভাষা বৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করি, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা নিশ্চিত করি।”

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে সব ভাষা শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা। দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্যও কামনা করেন তিনি।