বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

জনগণের চাওয়া-পাওয়া পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বদ্ধপরিকর। জনগণের আস্থা ও সমর্থনের মর্যাদা রক্ষা করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব এবং তাদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করাই বর্তমান সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।

আজ রোববার দুপুরে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গৌরনদী উপজেলা ও পৌর শাখার আয়োজনে গৌরনদী-আগৈলঝাড়া এলাকার ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি জনবান্ধব সরকার গঠন করা হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ যেন জনগণের ক্ষতির কারণ না হন। রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত পেশা নয়, এটি মানুষের অধিকার রক্ষার একটি অঙ্গীকার।’

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ববোধ, ধৈর্য, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি আস্থা নিয়েই রাজনীতি করতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকে মুক্ত, স্বাধীন ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে দিতে হবে। সরকারি দলের প্রচারযন্ত্র হিসেবে নয়, বরং দেশের বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরাই গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় ভিত্তি কৃষি খাত। গার্মেন্টস শিল্প ও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকার কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে কৃষকরা সহজে বীজ, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়া কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে গৌরনদী-আগৈলঝাড়া এলাকার বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

উত্তরা ইপিজেডে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে তিয়ানফোর্ড বাংলাদেশ টেক্সটাইল

চীন (হংকং) ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান তিয়ানফোর্ড বাংলাদেশ টেক্সটাইল কোম্পানি লিমিটেড উত্তরা ইপিজেডে একটি তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী কারখানা স্থাপনে প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।

এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি আজ বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে একটি লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ঢাকাস্থ বেপজা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং বিনিয়োগকারী কোম্পানির পক্ষে তিয়ানফোর্ড বাংলাদেশ টেক্সটাইল কোম্পানি লিমিটেডের মনোনীত পরিচালক জি ঝেনিউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এসময় বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটি ১৯ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ২৪ হাজার বর্গমিটার জায়গার উপর কারখানা নির্মাণ করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ২৫৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কারখানাটিতে বছরে প্রায় ৭০ লাখ পিস বিভিন্ন ধরনের ওভেন ও নিট গার্মেন্টস- যেমন: বটম, টপ, শার্ট, জিন্স, জ্যাকেট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, স্পোর্টসওয়্যার, সোয়েটার, হুডিসহ সকল প্রকার জার্সি উৎপাদন করা হবে। উৎপাদিত পণ্যসমূহ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বাজারে রপ্তানি করা হবে।

বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান সকল ধরনের সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ প্রদানে বেপজার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নতুন সরকার বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের গুরূত্ব প্রদানে বিশেষভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, আগের তুলনায় আরও দক্ষ, আধুনিক ও বিনিয়োগকারী-সহায়ক সেবা প্রদানে বেপজা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। একইসঙ্গে তিনি দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পখাতকে শক্তিশালী করতে প্রতিষ্ঠানটিকে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে মানসম্মত কাঁচামাল দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহের আহ্বান জানান।

জি ঝেনিউ বেপজার বিনিয়োগবান্ধব নীতির প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশকে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে কারখানার নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং আগামী বছর থেকে পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করার আশা করা হচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং তিয়ানফোর্ড বাংলাদেশ টেক্সটাইল কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জয় দিয়ে বিসিএল শুরু করতে চান শান্ত

জয় দিয়ে আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) যাত্রা করতে চান উত্তরাঞ্চলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিন বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে পূর্বাঞ্চলের মুখোমুখি হবে শান্তর উত্তরাঞ্চল। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য বিসিএলকে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিসিএলের প্রত্যাশা করে আজ বগুড়ায় সাংবাদিকদের শান্ত বলেন, ‘বগুড়ার উইকেট ভাল ও স্পোর্টিং। উইকেটটি দেখতে স্পোর্টিং দেখাচ্ছে। ব্যাটার এবং বোলার দু’দলের জন্য উপকারী হবে। আমি খুব ভাল এবং প্রতিযোগিতামূলক খেলা আশা করছি।’

উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের জন্য দলের সেরা পারফরমেন্সের উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘জয়ের জন্য ভাল ক্রিকেট খেলতে হবে। এক্ষেত্রে অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই। যে দল ভাল পারফর্ম করবে, তারাই জিতবে। আমাদের দল খুবই ভারসাম্যপূর্ণ এবং আমরা যদি আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারি, তাহলে ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে।’

এবারের প্রতিযোগিতায় উত্তরাঞ্চলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হান্নান সরকার। এর আগেও জুটি বেঁধেছেন শান্ত ও হান্নান। তাই আবারও হান্নানের সাথে সাফল্যের স্বাদ নিতে চান শান্ত। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া খুবই ভাল। দুই বা তিনটি টুর্নামেন্টে একসাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। আমি বলব না যে এটি ‘সহজ’ কাজ, কারণ সবসময়ই চ্যালেঞ্জ থাকে। তবে ভাল বোঝাপড়া থাকলে যেকোন কাজ বেশ সহজ হয়ে যায়।’

ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভারতের কাছে ফাইনালে হারল বাংলাদেশ ‘এ’ নারী দল

আজ টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারত ‘এ’ নারী দলের কাছে ৪৬ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৪ রান করে ভারত। জবাবে ৮৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

ব্যাংককের টার্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। ৩০ রানের সূচনার পর দ্রুত ৪ উইকেট হারায় তারা। বাংলাদেশ অধিনায়ক ফাহিমা খাতুনের ঘূর্ণিতে দাঁড়াতে পারেনি ভারতীয় ব্যাটাররা। এসময় ২ উইকেট নেন ফাহিমা।

পঞ্চম উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়ে ভারতকে চাপমুক্ত করেন তেজাল হাসাবনিস ও অধিনায়ক রাধা যাদব। ৩০ বলে ৩৬ রানে রাধা থামলেও, ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলে ভারতকে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন হাসাবনিস। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৪ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন তিনি।

৪ ওভারে ২৫ রানে ৪ উইকেট নেন ফাহিমা। ১টি করে উইকেট নেন ফারজানা ইয়াসমিন ও ফাতেমা জাহান।
১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১ উইকেটে ৩৭ রান তুলে ভাল শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ১১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট পতনে চাপে পড়ে তারা। দলীয় ৪৮ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৯.১ ওভারে ৮৮ রানে অলআউট হয় টাইগ্রেসরা। ১৫ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়েছে তারা।

দলের হয়ে ওপেনার শামিমা সুলতানা ২০, শারমিন সুলতানা ১৮, ফাহিমা ১৪ ও সাদিয়া আক্তার ১০ রান করেন। ভারতের প্রেমা রাওয়াত ৩ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন হাসাবনিস।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সবগুলোতে জিতে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াকে হারায় তারা।

সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৫৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন’ বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন’ বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রোববার বেলা ৩টায় সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রীপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

বেশ সকালে প্রধানমন্ত্রীকে অফিসে দেখে অনেকেই অভিভূত

রোজার সময়সূচি অনুযায়ী সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি অফিসে আসেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রী রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৫মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান। অফিসে এতো সকালে প্রধানমন্ত্রীকে অফিসে দেখে অনেকে অভিভূত হয়েছেন।’

অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন বলেন, “একজন সাংবাদিক সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার ফেইসবুকে স্ট্যাটাস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আসার ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করছি’। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যে ১৫ মিনিট আগেই সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন, সেটা উনি (ওই সাংবাদিক) জানেন না।”

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিসে এসে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টারা কারা কারা অফিসে এসেছেন তার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সকলে অফিসে উপস্থিত হন।’

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। এর পরদিন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তার দপ্তরে দুইদিন অফিস করেন। ছুটির দিন শনিবার তিনি তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করেছেন।

কেউ অপরাধ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে: আইজিপি

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, যে কোন মূল্যে স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদক সংক্রান্ত অপরাধ করলে, দলমত নির্বিশেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আইজিপি আজ বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পুলিশের সকল ইউনিট প্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারগণের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোন ধরনের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ সময় আইজিপি মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোন মূল্যে হাইওয়ে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে।

তিনি হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিগণ উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত, ট্রাম্পের দাবির প্রমাণ চায় তেহরান

ইরানে গত মাসের বিক্ষোভে হাজারো মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দেশটিতে বিক্ষোভের ঘটনায় হাজারো মানুষ সরকারি প্রতিঘাতে নিহত হয়েছে। কিন্তু তারা সেটি প্রকাশ করছে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এমন পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের কাছেই প্রমাণ চেয়েছে তেহরান।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আঘারচি বলেন, সরকার ৩ হাজার ১১৭ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের তিনি ‘সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী অভিযানের শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তালিকায় প্রায় ২০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাঘচি লেখেন, আমাদের তথ্যের যথার্থতা নিয়ে কেউ সন্দেহ করলে প্রমাণ দিন। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তালিকাভুক্তদের মধ্যে ৬৯০ জন সন্ত্রাসী, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় সশস্ত্র ছিল।
আরাঘচির এ বক্তব্য আসে কয়েক ঘণ্টা পর, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, বিক্ষোভে ৩২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ইরানের জনগণ ধর্মতান্ত্রিক শাসনের অধীনে নরকসম জীবন কাটাচ্ছে। একই সময়ে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ন্যায্য চুক্তির পক্ষে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমেও কথা বলছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক মাই সাতো বলেন, বিক্ষোভের ঘটনায় ২০ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে।

তবে রাষ্ট্রীয় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ও ছয় সপ্তাহব্যাপী যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএনএ জানিয়েছে, তারা ৭ হাজারের বেশি নিহতের তথ্য নথিভুক্ত করেছে এবং আরও প্রায় ১২ হাজার ঘটনার তদন্ত চলছে। গত শুক্রবার ৩০ জন বিশেষ প্রতিবেদক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের যৌথ বিবৃতিতে ইরান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়— বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার, গুম বা নিখোঁজ হওয়া হাজারো মানুষের অবস্থান ও পরিণতি প্রকাশ করতে এবং সংশ্লিষ্ট সব মৃত্যুদণ্ড ও ফাঁসি কার্যকর স্থগিত রাখতে।
তারা বলেন, সরকারি পরিসংখ্যান ও তৃণমূল পর্যায়ের হিসাবের বিশাল ব্যবধান পরিবারগুলোর যন্ত্রণাকে আরও গভীর করছে এবং মানবাধিকার ও জবাবদিহিতার প্রতি চরম অবহেলা প্রদর্শন করছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, আটক বা নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ, যাদের মধ্যে শিশু, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্য, এমনকি আফগান নাগরিকও রয়েছেন।

আহতদের চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক, বিক্ষোভকারীদের আইনজীবী, সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী ও মানবাধিকারকর্মীরাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত কিছু স্বীকারোক্তিকে জোরপূর্বক আদায় করা বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
শনিবার ইরানের বিচার বিভাগের সরকারি সংবাদ সংস্থা মিজান সংবাদ সংস্থা একটি আদালত কক্ষের ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে তিন ব্যক্তি তেহরানে অস্থিরতার সময় মোটরসাইকেল, একটি মসজিদ ও কোরআনের কপি পোড়ানোর ঘটনায় অনুতাপ প্রকাশ করেন বলে দেখানো হয়।

বিক্ষোভের পর কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর শনিবার তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের শিক্ষার্থীরা আবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফেরেন। রাজধানীর প্রভাবশালী শফির বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি আলাদা সমাবেশকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট বাসিজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অন্য শিক্ষার্থীরা লজ্জাহীন স্লোগান দিচ্ছেন, পাল্টা জবাবও আসে।

স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় হোস্টেলগুলোয় কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে। রাজধানীর আশপাশের কয়েকটি শহরে অন্তত ২৩০ শিশু-কিশোর নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং শ্রেণিকক্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শিক্ষকরা গত সপ্তাহে ধর্মঘট পালন করেন।

এদিকে সরকার গত মঙ্গলবার ও বুধবার তেহরানে শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী রেজা সালেহি আমিরি শনিবার জানান, মার্চের শেষদিকে শুরু হওয়া পারস্য নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হবে ঐক্য ও সহমর্মিতা, যার লক্ষ্য হাজারো প্রাণহানির শোক কাটিয়ে ওঠা।

তবে এর বিপরীতে বহু পরিবার নিজ উদ্যোগে প্রতিবাদী স্মরণানুষ্ঠান পালন করছে। প্রিয়জন নিহত হওয়ার ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে নিহতদের ছবি তুলে ধরা, করতালি, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বাজানো ও প্রতীকী নৃত্যের মাধ্যমে শোক ও প্রতিরোধ একসঙ্গে প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

ঈদের আগেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়ার ঘোষণা

ধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তৃতীয় কর্মদিবসে প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন তিনি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মগুরুদের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদানের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। সরকারের লক্ষ্য, আসন্ন ঈদের আগেই পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম শুরু করা।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান।

ড. মাহদী আমিন বলেন, আজ প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। তিনি একজন সাধারণ নাগরিকের মতোই অফিসে এসেছেন। তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি পরিহার করে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে এবং যানজটে অপেক্ষা করেই কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। অফিসে ঢোকার আগে তিনি একটি বৃক্ষরোপণও করেন।

তিনি আরও বলেন, কার্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিশেষ করে যারা তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একসময় কাজ করেছেন, তাদের নাম ধরে ডেকে কথা বলেন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্মীয় নেতাদের সম্মানীর বিষয়ে ড. মাহদী বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

একটি টেকনিক্যাল ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আসন্ন ঈদের আগেই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে সম্মানিত খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
কত টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। টেকনিক্যাল টিম ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর আলোচনা শেষে টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কর্মসংস্থান ও শিক্ষা সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সারা দেশে মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারি-বেসরকারি চাকরি এবং উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা মতামত দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বা ডিরেগুলেশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়।

জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. মাহদী আমিন।

সংরক্ষিত নারী আসনেও ‘এক পরিবারে এক প্রার্থী’ নীতি

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনেও ‘এক পরিবারে এক প্রার্থী’ নীতি অবলম্বন করবে বিএনপি। এতে অনেক নতুন মুখের সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। যেসব পরিবারে ইতোমধ্যে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান; গঠন করা হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভাও। এবার আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা নেত্রী থেকে শুরু করে তরুণ মুখ– অনেকেই আছেন এই তৎপরতায়।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্ররাও সম্মিলিতভাবে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। আর তাদের যদি বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে বিএনপির নারী আসন দাঁড়াবে ৩৭টির মতো।

গত বুধবার নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চায় ইসি। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, দলের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে এক পরিবার এক প্রার্থী– এই নীতি মেনে চলা হবে। তারা জানান, এতে অনেক পরিচিত মুখ বাদ পড়তে পারেন। এই নীতি পুরোপুরি মানা হলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী ও মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুন অর রশীদের স্ত্রী আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ছাড়াও অনেকে এ তালিকায় থাকবেন।

তবে বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের অবদান ও ত্যাগের কারণে শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কাউকে কাউকে মনোনয়ন দিতেও পারেন বলে মনে করছেন নারীনেত্রীদের অনেকে। আবার অনেকে বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলের নারী সংগঠনের তুলনায় মহিলা দল নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় ও পরিকল্পনাহীন ছিল। অথচ দেশের অর্ধেক ভোটার নারী। নির্বাচনে জামায়াতের মহিলা শাখা যেভাবে কাজ করেছে সে তুলনায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দল তেমন আলোচনায় ছিল না। তাদের কোনো পরিকল্পনা বা কৌশল চোখে পড়েনি।

তবে দলের যেসব নারীনেত্রী বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের অনেককে উচ্চকক্ষে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। ফলে বিগত দিনের ত্যাগী আর যোগ্যদের মধ্য থেকেই এবারের সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, শুধু সুপারিশ নয়, মাঠ পর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, প্রাথমিকভাবে একটি বড় তালিকা প্রস্তুত করে তা থেকে পর্যায়ক্রমে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। পরে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় এবারের সংরক্ষিত আসনে যাদের নাম বেশি আলোচিত তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। আবার আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁকে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার আলোচনাও আছে। তাঁর অনুসারীরা বলছেন, বিলকিস জাহান শিরিন বরিশাল-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এবার তাঁকে মূল্যায়ন করা না হলে মাঠের ত্যাগীরা নিরুৎসাহিত হবেন।

বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘মোট আসন অনুযায়ী বরিশালে তিনটি অথবা দুটি দেওয়া হতে পারে। ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলাম। তাই এবার সাধারণ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা ছিল। সেটা না হওয়ায় এখন দলের মূল্যায়নের অপেক্ষায় আছি।’

এর বাইরে মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন ছাড়াও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীম উদ্‌দীন মওদুদ, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সাবেক সদস্য সচিব নাসিমা আক্তার কেয়া, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত নাসির উদ্দিন পিন্টুর বোন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে চান এবং আলোচনায় আছেন।

এর বাইরে সাবেক ছাত্রদল নেত্রী শওকত আরা ঊর্মি ও শাহিনুর সাগর, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম এবং ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও ফুলবাড়ী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাহসিনা হক লিরার নাম আলোচনায় আছে। লিরা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, ‘দলকে ভালোবেসে আমার স্বামী নিহত হয়েছেন, আপন ভাইকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। নিজেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। দলের নেতারা যখন কারাগারে গেছেন বা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তখন আমরাই রাজপথে ছিলাম। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মিছিলের শেষ কর্মীকেও তিনি মূল্যায়ন করবেন। এখন দলের সুদিনে ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশা করছি।’

বরিশাল-৩ আসনের সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর মেয়ে অধ্যাপক ডা. জাহানারা লাইজুও পদপ্রত্যাশী। তিনি বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক। লাইজু বলেন, ‘বরিশাল জাসাসের সদস্য হয়ে ৯০-এর গণআন্দোলনে কাজ করেছি। ড্যাবের হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। বাবার মতো দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। দলের দুর্দিনে রাজপথে ছিলাম।’

পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আনোয়ারা খানও সংরক্ষিত আসনের এমপি হওয়ার দৌড়ে আছেন। তিনি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সাবেক এমপি শাহজাহান খানের স্ত্রী। ২০২৩ সালে বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়ার পথে শাহজাহান খান আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সংরক্ষিত আসনে এমপি প্রত্যাশার কথা স্বীকার করে আনোয়ারা খান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সব কর্মসূচিতে তিনি রাজধানীতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার দিন প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিজা জামান সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

সংরক্ষিত আসনের বাইরে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন ও কনকচাঁপাকে উচ্চকক্ষে দেখা যেতে পারে। তাদের মতো বিগত দিনে যেসব পেশাজীবী নারী আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়াও ফ্যাসিবাদী আন্দোলনে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছিলেন, তাদের এবারের মূল্যায়নের তালিকায় রাখা হবে।