বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

হারের পর একাদশ নির্বাচন নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ভারত কোচ

সুপার এইটের ম্যাচে বড় ধাক্কা খেল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের টানা ১২ ম্যাচের জয়যাত্রা থেমে গেল।

ম্যাচের পর একাদশ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মুখ খুলেছেন সহকারী কোচ রায়ান টেস ডোশাট। বিশেষ করে অক্ষর প্যাটেলকে বাইরে রেখে ওয়াশিংটন সুন্দরকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়।

রায়ান টেন ডুশাট জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং শক্তির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দলের বিশ্লেষণে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে ধরা হয়েছিল কুইন্টন ডি কক, রায়ান রিকেলটন ও ডেভিড মিলারকে।

তার ভাষ্য, পাওয়ারপ্লেতে কার্যকর বোলিং অপশন প্রয়োজন ছিল। অক্ষর প্যাটেল মাঝে মাঝে নতুন বলে বল করলেও, দল মনে করেছে ওয়াশিংটন সুন্দর এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি প্রথম ছয় ওভারে বেশি প্রভাব ফেলতে পারবেন।

তবে মাঠের চিত্র ছিল ভিন্ন। সুন্দর ২ ওভারে ১৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। স্পিন বিভাগও সুবিধা করতে পারেনি। বরুণ চক্রবর্তী ৪ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে নেন মাত্র একটি উইকেট।

১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ভারত। ঈশান কিশান শূন্য রানে এবং তিলক ভার্মা ১ রানে বিদায় নিলে পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩১ রান।

মাঝে শিবম দুবে ৩৭ বলে ৪২ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি। ফলে বড় হার এড়াতে পারেনি ভারত।

স্মার্ট প্রযুক্তিতে নিরাপদ মসজিদুল হারাম

বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম। সারা বছরই এখানে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সমাগম ঘটে, বিশেষ করে হজ ও রমজানের মৌসুমি মুসল্লিদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি হয়। এমন বিশাল জনসমাগম নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মসজিদুল হারাম গ্রহণ করেছে অত্যাধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি।

মসজিদের প্রতিটি প্রবেশদ্বার, প্রস্থানপথ ও করিডরে স্থাপন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংবলিত সেন্সরভিত্তিক গণনাব্যবস্থা। এই সেন্সরগুলো রিয়াল-টাইমে হাজিদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করে এবং নির্ভুলভাবে মানুষের প্রবাহ গণনা করে। ফলে কোথায় কত মানুষ প্রবেশ করছে, কোথায় ভিড় বাড়ছে— সব তথ্য মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণকক্ষে পৌঁছে যায়।

ফলে নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বশীলরা সে তথ্য বিশ্লেষণ করে মাঠ পর্যায়ের সমন্বয় টিমকে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশনা দিতে পারে।

কোনো এলাকায় ভিড়ের ঘনত্ব বেড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প পথ খুলে দেওয়া হয়, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা বা নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করা সম্ভব হয়। এতে সংকট তৈরি হওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হয়ে যায়।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মসজিদের বিশাল প্রাঙ্গণ ও পথঘাটে মানুষের চলাচল ও অবস্থান ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়। ফলে হাজিরা স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত করতে পারেন, অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়ানো সহজ হয়।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সম্ভাব্য ভিড়ের স্থানগুলো আগেভাগেই শনাক্ত করা যায়। কোনো এলাকায় মানুষের জমায়েত অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করলে সিস্টেম তা শনাক্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। এতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। এই ব্যবস্থাপনা শুধু যান্ত্রিক নয়, এটি প্রযুক্তিগত নজরদারি ও মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির সমন্বিত প্রয়াস। নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য ও ময়দানের কর্মীদের তৎপরতা একসঙ্গে কাজ করে হাজিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করছে।

সূত্র : দি ইসলামিক ইনফরমেশন ডটকম

লঘু দণ্ডে মঞ্জুরুলকে পার বিসিবির

বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ক্রিকেট কাঠামোয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে মঞ্জুরুল ইসলামকে। গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনলাইন সভায় পরিচালকদের সর্বসম্মতিক্রমে তৎকালীন ম্যানেজার ও নির্বাচক মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাহানারার অভিযোগ আমলে নিয়ে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি চলতি মাসের শুরুতে তাদের প্রতিবেদন ও সুপারিশ বিসিবির কাছে জমা দিয়েছিল। নির্দিষ্ট চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছিল কমিটি।

সেই সুপারিশের ভিত্তিতে গতকালের বোর্ড সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় ভবিষ্যতে বিসিবির যেকোনো ধরনের কার্যক্রম থেকে মঞ্জুরুলকে বিরত রাখা হবে। যদিও বর্তমানে বিসিবির কোনো দায়িত্বে নেই তিনি। ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, যৌন হয়রানির অভিযোগে এই শাস্তি কতটা যথোপযুক্ত হয়েছে?

এ ছাড়া বোর্ড সভায় আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা হাবিবুল বাশারের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি। যদিও কয়েক দিন আগে বিসিবির পক্ষ থেকে তাঁকে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ পদের জন্য আরো বিকল্প বিবেচনা করা হবে। সে ক্ষেত্রে দায়িত্ব ছাড়তে চাওয়া বর্তমান প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেনকে আরো এক মাস কাজ চালিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে।

এদিকে মেয়েদের বিপিএলের সূচিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল শুরু হবে টুর্নামেন্টটি, যা শেষ হবে ১৪ এপ্রিল। ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি ভেন্যুতে হবে ম্যাচগুলো। অন্যদিকে পদত্যাগ করা পরিচালক ইশতিয়াক সাদিকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন আসিফ আকবর।

৯ মন্ত্রী-উপদেষ্টা-প্রতিমন্ত্রীর এপিএস হলেন যারা

ছয়জন মন্ত্রী, মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা ও দুইজন প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে নয়জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও ‍উপদেষ্টাদের অভিপ্রায় অনুযায়ী এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রী/উপদেষ্টা/প্রতিমন্ত্রী যতদিন এ পদ অলংকৃত করবেন অথবা তার সহকারী একান্ত সচিব পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে।
চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ অনুযায়ী (৯ম গ্রেড) ২২০০০-৫৩০৬০/-টাকা বেতন স্কেলে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. ইউনুস আলী। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আকবর হোসেন।

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আল মুনজির বিন ওবায়েদ। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমের এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আবদুল আউয়াল। খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আমিনুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহর এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মীর সোলাইমান। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. তৌহিদুল ইসলাম। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী পরিচালক মো. খাইরুল আমিন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি এই আদেশ জারি করা হয়।

খনি চুক্তিতে সই ভারত–ব্রাজিলের, পাঁচ বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের লক্ষ্য মোদির

ভারত ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরো গভীর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। গত শনিবার খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ইস্পাত চাহিদা মেটানো এবং কাঁচামালের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে সক্ষমতা সম্প্রসারণে সহায়তা করা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট এই সপ্তাহের শুরুতে তিন দিনের সফরে নয়াদিল্লিতে এসেছিলেন।

ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ লৌহ আকরিক উৎপাদক দেশগুলোর একটি এবং ইস্পাত উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের বিপুল মজুদ সেখানে রয়েছে। ভারতের সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইস্পাত খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও প্রযুক্তিতে ভারতের প্রবেশাধিকার বাড়াতে উভয় দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই সহযোগিতা অনুসন্ধান কার্যক্রম, খনন এবং ইস্পাত খাত–সম্পর্কিত অবকাঠামোতে বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দেবে।
বর্তমানে ভারতের ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা ২১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়নের ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়তে থাকায় কম্পানিগুলো উৎপাদন সক্ষমতা আরো সম্প্রসারণ করছে।

লুলার নেতৃত্বে ব্রাজিলের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘তাদের আলোচনায় ভারত-ব্রাজিল বাণিজ্য অংশীদারিত্ব আরো গভীর করার উপায়গুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।’ মোদি বলেন, ‘আমরা আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
’ দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার।

মোদি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশগুলো প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, এআই, সেমিকন্ডাক্টর এবং আরো অনেক ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।’ ভারত ও ব্রাজিল ২০০৬ সাল থেকে কৌশলগত অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে।

ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্রাজিলই ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।
পাশাপাশি, জাতিসংঘের সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সন্ত্রাসবাদ দমনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করে। বৃহস্পতিবার লুলা ব্রাজিল ও ভারতের মধ্যে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে নিজ নিজ মুদ্রায় বাণিজ্য নিষ্পত্তির পক্ষে মত দেন।

এদিকে ব্রাজিল কোনো ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ চায় না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ভারত সফর শেষে গতকাল রবিবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে লুলা বলেন, ‘আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলতে চাই যে আমরা কোনো নতুন স্নায়ুযুদ্ধ চাই না। আমরা অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। আমরা চাই সব দেশকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা হোক।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ওয়াশিংটন সফরের আগে সব দেশের প্রতি সমান আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন লুলা। আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে লুলার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। লুলা জানান, তাঁদের আলোচনার এজেন্ডায় বাণিজ্য, অভিবাসন, বিনিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারত্বের বিষয়গুলো স্থান পাবে।

সূত্র : আলজাজিরা।

সম্ভাবনাময় খেলাগুলো পাবে বিশেষ গুরুত্ব

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নিজের কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছেন আমিনুল হক। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে সাফল্য এনে দিতে সক্ষম, এমন সম্ভাবনাময় খেলাগুলোতে বাড়তি নজর দিতে চান তিনি। স্কুলগুলোতে ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি আরো তিনটি খেলা অন্তর্ভুক্ত করতে চান পাঠ্যসূচিতে। গতকাল ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় সেই খেলাগুলো কী হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়ার বিবেচনায় আর্চারি ও শ্যুটিংয়ের সঙ্গে হকির নাম উঠে এসেছে আলোচনায়। আর স্কুলগুলোতে সরঞ্জামের সহজলভ্যতা বিবেচনায় ফুটবল, ক্রিকেটের পাশাপাশি অ্যাথলেটিকস ও মার্শাল আর্টের কথা বলেছেন অনেকেই। নাম এসেছে দাবারও। আমিনুল জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এর মধ্যেই প্রাথমিক আলোচনা সেরেছেন তিনি।

খুব দ্রুতই এই খেলাগুলো অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। আর দক্ষিণ এশীয় গেমস এবং অলিম্পিকের মতো আসরগুলোতে সাফল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে খেলা বাছাইয়ে বিগত সময়ের রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়ার কথা উঠে এসেছে মতবিনিময়ে, সেই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের কথাও বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু খেলায় বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি অবশ্য এর আগেও বহুবার নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় উঠে এসেছে। কিছুদিন বিশেষায়িত সেই ক্যাম্পও হয়েছে।
কিন্তু সেটি স্থায়ী হয়নি। আমিনুল তা করে দেখাতে পারেন কি না, সেটিই দেখার।

স্কুলগুলোতে পাঁচটি খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সেখানে কোচ হিসেবে সাবেক খেলোয়াড়, কোচদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হবে। তা ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ হবে। আমিনুল জানিয়েছেন, ‘সেখানেও সাবেক খেলোয়াড়রাই অগ্রাধিকার পাবে।

আর বর্তমান খেলোয়াড়দের সব সময়ের চাওয়া সরকার বা ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বেতনের আওতায় আসা, আমিনুল সেটিও নিশ্চিত করার কথা বলেছেন, ‘খেলাকে পেশা করতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা নিয়ে কাজ করছি। আমরা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতনের আওতায় আনব। তার জন্য ফেডারেশনগুলোকেও স্বাবলম্বী করতে হবে। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আগামী দুই দিন তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসব।’

খেলার মাঠ বাড়ানোর বিষয়টি উঠে এসেছে আলোচনায়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বড় ধরনের অবকাঠামোর দিকে না গিয়ে, খালি জায়গা বেছে ভালো মানের মাঠ তৈরির দিকে মনোযোগ দেবেন তিনি। স্কুলের মাঠগুলো এলাকার সব শিশুর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন বলেও জানিয়েছেন। স্কুলগুলোতে পাঁচটি খেলা বাধ্যতামূলক করে দেওয়ার পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজনের নতুন ভাবনার কথা জানিয়েছেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার, যে প্রতিযোগিতা একেবারে উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করার পরিকল্পনা তাঁর।

জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করার ব্যাপারে সাংবাদিকদের মত চেয়েছেন তিনি। তাতে ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা উঠে এসেছে, ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসকের বদলে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদেরই নির্বাচিত করা যায় কি না সে আলোচনা হয়েছে। তা ছাড়া ক্রিকেট, ফুটবল আয়োজনের জন্য পৃথক মাঠের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। বাদ যায়নি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকাণ্ডও। আমলানির্ভর প্রতিষ্ঠানটিতে অন্তত ক্রীড়া পরিচালক পদে সাবেক কৃতী খেলোয়াড়দের নিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।

ভোটযুদ্ধ এবার স্থানীয় সরকারে

এবার স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভোটযুদ্ধের অপেক্ষায় দেশবাসী। বছরব্যাপী এসব নির্বাচনের কার্যক্রম চলবে। সিটি করপোরেশ নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে সিদ্ধান্তের জন্য সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে দলগুলো স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য চিঠি এসেছে। বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ১ জুন এ সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এ ছাড়া ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়; সে হিসেবে এ সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর একটি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গণনা করা হয়। মেয়াদপূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে আলোকে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে সিদ্ধান্তের জন্য সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিকে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবদুর রহমানেল মাছউদ এমন ইঙ্গিত দেন।
সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় নির্বাচন পূর্বের মতো নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার অধ্যাদেশ করেছে। তবে সেটি সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস হতে হবে। এরপর কমিশন আবার বিধিমালা তৈরি করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমার জানামতে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মেয়র প্রার্থী পদে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদ বসবে। সংসদ বসার পর এই বিল বা অর্ডিন্যান্স যদি রেটিফাই (অনুমোদন) হয়, তবে সেভাবেই নির্বাচন হবে। আর যদি পরিবর্তন হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তবে অন্যরকম হবে। আমরা মূলত সংসদ অধিবেশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

পুলিশে নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে সবাই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই পুলিশ বাহিনীতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়- কে হচ্ছেন নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার। এরই মধ্যে আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়ালে এ আলোচনা আরও ডালপালা মেলতে শুরু করে। বাহিনীর মধ্যে অঙ্ক কষা শুরু হয়- এই দুই পদের সম্ভাব্য কিছু নাম নিয়ে। সেই সঙ্গে অনেকটাই ভাটা পড়ে পুলিশের অপারেশনাল কাজে।
সবাই অপেক্ষা করছে নতুন নেতৃত্বের নতুন দিকনির্দেশনা অনুযায়ী নতুন উদ্যমে শুরু করার। আবার অনেকেই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে যাতায়াত বাড়িয়েছেন। কেননা- শীর্ষ পদগুলোতে রদবদলের পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ইউনিটে বড় ধরনের রদবদল হবে বলে ধারণা করছেন বিভিন্ন পদের কর্মকর্তারা। ঢাকার বাইরে দায়িত্বরত কর্মকর্তারাও ঢাকাকেন্দ্রিক যাতায়াত বাড়িয়েছেন।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেছে, বর্তমান আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার আর বেশিদিন থাকছেন না বলে তারা নিশ্চিত। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে শীর্ষ পদগুলোর রদবদলের প্রক্রিয়ার খবর তারা পেয়েছেন। এজন্য অপারেশনাল কাজে তারা সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। নতুন নেতৃত্বে সামনে ভালো কাজ উপহার দিতে বিভিন্ন অপারেশন প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
আবার অনেকে রয়েছেন নতুন নেতৃত্বের দিকনির্দেশনার অপেক্ষায়। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেছেন, পুলিশের উচ্চপর্যায়ে রদবদল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইজিপি, বিভিন্ন মেট্রোপলিটনের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, এসপিসহ বড় বড় পদে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এতে প্রাধান্য পাবে মেধা, পেশাদারি, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা। যদিও যারা বিভিন্ন হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছেন- তারা বিবেচনায় নিচ্ছেন- বিভিন্ন কর্মকর্তার ছাত্রজীবনের দলীয় পদপদবি ও বিভিন্ন সময়ে দলের জন্য ভূমিকা রাখা।
নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে বিভিন্ন মাধ্যমে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য তদবির করছেন। তবে আইজিপি, মেট্রোপলিটন কমিশনার, ডিআইজিসহ কাকে কোথায় পোস্টিং দেওয়া হবে তার তালিকা সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভাব্য কর্মকর্তাদের ফাইল পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। শীর্ষ পদে বদল হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে আপাতত সব স্তরে ঢালাও বদলি করা হবে না বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইজিপির দৌড়ে এগিয়ে আছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) দেলোয়ার হোসেন মিঞা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ, র‌্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান শেখ এবং পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক (কো-অর্ডিনেটর, গ্রেড-১) আনসার উদ্দিন খান পাঠান।

ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আলোচনায় আছেন অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ ও র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিককে সিআইডি প্রধানের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া মো. নাজমুল করিম খানকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে কোনো একটি রেঞ্জের। এ ছাড়াও র‌্যাব ডিজি, এসবি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) পদে রদবদল হতে পারে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাড়ার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এবার ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বেড়েছে। সে হিসাবে আজ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, সবশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩২ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ২০ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১২ দফা।

স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

মসজিদে নববীর নতুন ইমাম শেখ সালেহ আল-মাগামসি

মসজিদে নববীর নতুন ইমাম হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেখ সালেহ বিন আওয়াদ আল-মাগামসি। সৌদি সরকারের রাজকীয় আদেশে এ নিয়োগ কার্যকর হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সৌদি গেজেট।

১৯৬৩ সালে মদিনার একটি সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে জন্ম নেন শায়খ সালেহ আল-মাগামসি। শৈশব থেকেই তিনি জ্ঞানচর্চার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। ফলে খুব অল্প বয়সেই ইসলামী শিক্ষায় মনোনিবেশের সুযোগ পান তিনি। দীর্ঘদিন তিনি মদিনার ঐতিহাসিক কুবা মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সৌদি আরবে কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে শান্ত, সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনার জন্য সুপরিচিত তিনি। পাশাপাশি ধর্মীয় বিষয়ে সমকালীন বাস্তবতা ও জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়ের সঙ্গে সংযোগ করে তুলে ধরার দক্ষতার কারণে মুসলিম সমাজে তিনি বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন সুনাম অর্জন করেন।