সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬

রিজার্ভ বেড়ে ২০ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ৪০ কোটি ডলার ঋণের ওপর ভর করে দেশের রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে। এই দুই সংস্থার ঋণ পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। আর খরচ করার মতো রিজার্ভ অর্থাৎ (বিপিএম৬) ২০ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।
আজ রোববার সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক।
মেজবাউল হক বলেন, আইএমএফের ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার ও এডিবির ৪০ কোটি ডলার ঋণের অর্থ পাওয়া রিজার্ভও কিছুটা বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার দেশের রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। আজ রিজার্ভ বেড়ে ২৫ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর আইএমএফের শর্ত (বিপিএম-৬) অনুযায়ী, রিজার্ভ এখন ২০ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটও ৯৮ লাখ ডলার দেশের রিজার্ভে যুক্ত হয় শুক্রবার। একই দিন এডিবির ৪০ কোটি ডলারও রিজার্ভে যোগ হয়।
এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বোর্ড সভায় অনুমতি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী পর্ষদের বৈঠক অনুমতি পাওয়ার পর শুক্রবার দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রায় ৬৯ কোটি (৬৮ কোটি ৯৮ লাখ) ডলার দেশের রিজার্ভে যোগ হয়েছে।
আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ও এডিবির ৪০০ মিলিয়ন বা ৪০ কোটি ডলার ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার ৯ কোটি ডলারসহ অন্যান্য সোর্স থেকে আরও ১৩ কোটি ডলার আসবে। আর এসব অর্থের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত (রিজার্ভ) কিছুটা বাড়বে। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরে রিজার্ভে যোগ হবে এক দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। যদিও নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে আকু পেমেন্ট রয়েছে। সেখানে এক বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি রিজার্ভ থেকে বের হবে।
এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

সমৃদ্ধ বেতার উন্নত মানবিক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবে : তথ্যমন্ত্রী

স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালিকে উদ্দীপ্ত করেছে, এরপর দেশ ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা ৮৪ বছরের সমৃদ্ধ বেতার বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সসম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বেতার ভবন মিলনায়তনে বিজয় দিবস ও বাংলাদেশ বেতারের ৮৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আশাবাদ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, তঁর পরিবারের শহীদ সদস্য, জাতীয় চারনেতা এবং দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে নিজের শৈশবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের খবর ও অনুষ্ঠান শোনার জন্য মানুষ যে কি উদগ্রীব উৎকণ্ঠিত হয়ে থাকতো তা বলার নয়। যারা শোনেনি, তাদের পক্ষে সেই থ্রিল অনুভব করা সম্ভব নয়।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নিজগ্রাম সুখবিলাসে পাকিস্তানি হানাদারদের শতশত বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া, ব্রাশফায়ারে হত্যাযজ্ঞ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপাত প্রতিরোধের ইতিহাস তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এত ত্যাগ-তিতিক্ষার পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে দেশ যখন শত্রুমুক্ত হয়, তখন মুক্তিযোদ্ধা আর সাধারন মানুষের উচ্ছ্বাস ভাষায় প্রকাশের নয়। মুক্তিযুদ্ধের ফুটেজে আপনারা দেখতে পান, খালি পায়ে লুঙ্গি-গেঞ্জি পরা সাধারণ মানুষগুলো যুদ্ধ করেছিল, একটি জনযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি আমরা।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক পাকিস্তানি নেতা আত্মতুষ্টির জন্য বলতো- ভুখা বাঙালি চলে গেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা আর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার সার্থকতা এখানেই যে আমরা সামাজিক, মানবিক, অর্থনৈতিক সকল সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে অনেক এগিয়ে গেছি। বাংলাদেশ আজকে পৃথিবীর সামনে উন্নয়নের রোল মডেল। এখন পাকিস্তানিরা তাদের নেতাদেরকে বলে আমদেরকে বাংলাদেশ বানিয়ে দাও।’
তিনি বলেন, এটিও সত্যি যে, দেশে ধ্বংসাত্মক এবং সবকিছুতে না বলার নেতিবাচক রাজনীতি যদি না থাকতো তাহলে বাংলাদেশ আরো বহুদূর এগিয়ে যেত। হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের স্বপ্ন শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নয়, ইউরোপের অন্ধ অনুকরণ নয়, আমাদের স্বপ্ন একটি উন্নত সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। বেতার এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।
আলোচনা শেষে বেতার শিল্পী ও কুশলীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
খবর বাসস

জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে : ওবায়দুল কাদের

জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আজ রোববার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। কোনো অশোভন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। প্রার্থিতার বিষয়ে ৪টার মধ্যে ফাইনাল হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির নিজস্ব চাওয়া আছে, তাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই সব আসনে নৌকার প্রার্থী থাকবে না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচনকে ‘ভাগাভাগি’ বলছে। যে নির্বাচনে ২৮টি রাজনৈতিক দল এবং প্রায় ২২শ প্রার্থী আছে, সে নির্বাচন কীভাবে ভাগাভাগির নির্বাচন হয়?
এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও মির্জা আজম উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে রাষ্ট্রপতির নীতিগত অনুমোদন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।
রোববার (১৭ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালে সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ অনুমোদন দেন তিনি। তবে কবে থেকে সেনা মোতায়েন হবে তা আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
এর আগে বেলা ১১টার কিছুসময় আগে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে ইসির বৈঠক শুরু হয়। এসময় সিইসি’র সঙ্গে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর অংশগ্রহণ করেন।

ইসি সচিব বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, বেলা ১১টায় সিইসি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এর বিষয়বস্তু ছিল ভোটে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহায়তাগ্রহণ সম্পর্কিত অনুরোধ। সংবিধানের ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সিইসি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতির কাছে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করেছেন। রাষ্ট্রপতি বিষয়টি শুনেছেন, আশ্বাস দিয়েছেন যে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন।
সময়সীমা ১৩ দিনই বহাল থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় কখন কীভাবে নিয়োজিত হবে, তাদের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন কী হবে সেটা সশস্ত্র বাহিনীর বিভাগে সঙ্গে ইসি পত্রালাপাপের মাধ্যমে চূড়ান্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, একটা আলোচনা হয়েছিল অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে নিয়োজিত থাকবে তার সঙ্গে সমন্বয় করে যাতে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট সময়টি পরে জানানো হবে। ১৩ দিন চূড়ান্ত না। আমরা আলোচনা করে ঠিক করে নেবো।
এরইমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য তারা ভোটের দায়িত্ব পালন করবেন।
সবশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিনের আগে-পরে মিলিয়ে ১০ দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়।
বেসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য ‘এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’বিধানের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি নির্বাচনী এলাকাগুলোতে দায়িত্ব পালন করে সেনাবাহিনী।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনা সদস্যদের ভোটের দায়িত্বে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেয় নির্বাচন কমিশন। ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ ঘিরে ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১১ ডিসেম্বর সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসি সচিব জাহাংগীর আলম।
সেদিন তিনি বলেছিলেন, নীতিগতভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাচনি কাজে দায়িত্ব দিলে কমিশন যেভাবে চাইবে সেভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি যদি সদয় সম্মতি দেন তাহলে পরবর্তীতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে মো. সাহাবুদ্দিন ভোটে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেন।
তফসিল অনুযায়ী, আজ ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রতীক নিয়েই প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালাতে পারবনে। আর ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

বিজয়ের মাসে মানুষ নির্বাচনের উৎসবে মেতেছে : খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, বিজয়ের মাসে মানুষ নির্বাচনের উৎসবে মেতেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের বিপুল অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায় তাদের আশা কোনো দিনই পূরণ হবে না।
আজ শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সব অপশক্তিকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড় করিয়েছেন। এটাই হলো মুক্তিযুদ্ধের সার্থকতা।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধারা মনে করি মুক্তিযুদ্ধ সফল হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কিছু অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গঠনের যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থির করেছেন আমরা সেটি অর্জন করতে সক্ষম হব।
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, বঙ্গবন্ধু শোষকের হাত থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। তিনি জেল খেটেছেন। ছয় দফা আন্দোলন দিয়েছেন, ঊনসত্তরে গণ অভুত্থান করেছেন, সত্তরের নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। ৭ মার্চে তিনি মহান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। তার আহবানে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ১ কোটি মানুষ দেশ ছাড়া হয়েছে। মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ও গণহত্যা করেও বাঙালি জাতিকে দাবায়ে রাখতে পারেনি পাকিস্তানি বাহিনী। দেশ স্বাধীনের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলা গড়ার।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল খালেক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাভেদ জাহাঙ্গীর সোহেল, বিভাষ মজুমদার গোপালসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার নেতাকর্মীদের নিয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
এ ছাড়া সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের মশরপুর বাইপাস মোড়ে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মওলা। পরে পুলিশ সুপার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিকদল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল-জাজিরার সাংবাদিক নিহত

গাজা উপত্যকায় শুক্রবার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আল জাজিরার এক সাংবাদিক নিহত এবং তার সহকর্মী আহত হয়েছেন। কাতারের বার্তা সংস্থাটি এ কথা জানিয়েছে।
দেশটির খান ইউনিসের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্যামেরাম্যান সামের আবু দক্কা ও গাজা ব্যুরো চীফ ওয়ায়েল আল-দাহদৌ আহত হন বলে আল-জাজিরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল।
এমন হামলার ঘটনায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিন্দা জানিয়ে আল জাজিরা বলেছে, সেখানে তারা ড্রোন হামলায় আহত হন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইসরায়েলি বাহিনী অ্যাম্বুলেন্স এবং উদ্ধার কর্মীদের ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেওয়ার কারণে সাংবাদিক সামের ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিলেন।’
এদিকে এএফপির এক সাংবাদিক জানান, আল-দাহদৌ বাহুতে আঘাত পান এবং তাকে চিতিকৎসার জন্য খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ আপডেটে আল-জাজিরা বলেছে, আল-দাহদৌ চিকিৎসার জন্য অবরুদ্ধ এলাকা ছেড়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে আসতে পারলেও সেখানের অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে চিকিৎসকরা যেতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে পরে তিনি মারা যান।
সেখানে এমন হামলার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৬০ জনেরও বেশি সাংবাদিক এবং মিডিয়া স্টাফ প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয় এবং তারা প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়।
হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় ব্যাপক হামলা শুরু করে।
হামাস সরকার জানায়, গাজায় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় কমপক্ষে ১৯ হাজার নিহত হয়। এদের মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি নারী ও শিশু।
খবর এএফপি

কুয়েতের আমির মারা গেছেন

কুয়েতের আমির শেখ নওয়াফ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ ৮৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। রাষ্ট্রীয় টিভি এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার সৎভাই শেখ সাবাহ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহর মৃত্যুর পর শেখ নওয়াফ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। শেখ সাবাহ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ ৯১ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন। এরপরই কুয়েতের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পান শেখ নওয়াফ।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, গত মাসে জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে আমির শেখ নওয়াফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কুয়েত রাজ্যের আমির শেখ নাওয়াফ আল-আহমাদ আল-সাবাহ-এর মৃত্যুতে অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা শোক জ্ঞাপন করছি।
এ ঘোষণার আগে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় টিভিতে নিয়মিত প্রোগ্রাম বাদ দিয়ে কুরআনের আয়াত পাঠ করা হয়। কারণ, এটা দেশটির রাজপরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুর সংকেত।
কয়েক সপ্তাহ আগে শেখ নওয়াফকে জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ঘোষণা করা হয়েছিল যে তার অবস্থা স্থিতিশীল।
খবর আল-জাজিরা, খালিজ টাইমস

ওয়াশিংটনে ঐতিহাসিক ফায়ারহাউসে অগ্নিকাণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইউএস ক্যাপিটলের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক ফায়ারহাউসে শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তিনতলাবিশিষ্ট পুরনো ওই ভবনটিতে সংস্কারের কাজ চলছিল। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ওল্ড ইঞ্জিন কোম্পানি নং ১২-এ আগুনের সূত্রপাত হয়, যেটি বর্তমানে ওয়াশিংটনের ব্লুমিংডেল পাড়ায় নর্থ ক্যাপিটল স্ট্রিটের পাশে একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত।
আগুন নেভাতে প্রায় ২৫টি ফায়ার ট্রাক এবং ১২৫ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী কাজ করেছিরেন, যাদের মধ্যে মেরিল্যান্ডের কাছাকাছি মন্টগোমারি কাউন্টির কয়েকজন ছিলো।
ডিসি ফায়ার এবং ইএমএস জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন নেভানোর সময় সংকেত পাঠালে ঘটনাস্থল থেকে এক দমকল কর্মীকে উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র ভিটো ম্যাগিওলো ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, একটি গ্যাস লাইনের জ্বালানি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে ডিসি ফায়ার জানিয়েছে, আগুন ফায়ারহাউসের সঙ্গে সংযুক্ত নতুন কমপ্লেক্সের একটি চারতলা বিল্ডিংয়েও ছড়িয়ে পড়েছিল।
বিভাগটি আর জানায়, সতর্কতামূলকভাবে তখন বেশ কয়েকটি সংলগ্ন বাড়ি খালি করা হয়েছিল। তবে রাত ৯ টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
অলাভজনক ডিসি প্রিজার্ভেশন লিগের তথ্যমতে, ১৮৯৬ সালে ‘ওল্ড ইঞ্জিন কোম্পানি নং ১২’ ভবনটি নির্মিত হয়েছিল। ১৯৮৭ সালে এটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের আদেশে খালি করা হয়।

ঢাকা-চেন্নাই রুটে বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট উদ্বোধন

ঢাকা-চেন্নাই রুটে বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা-চেন্নাই রুটে বিরতিহীন ফ্লাইট চালু হলো। দক্ষিণ ভারতে বিমান বাংলাদেশের এটি প্রথম গন্তব্য।
এই রুটে প্রতি শনিবার, সোমবার ও বৃহস্পতিবার থাকছে তিনটি ফ্লাইটের শিডিউল।
আজ শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) ফ্লাইট বিজি ৩৬৩ দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ঢাকা ছেড়ে যাবে বলে জানা গেছে। ফ্লাইটটি বিকেল তিনটা ২০ মিনিটে চেন্নাই পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর সোয়া চারটায় বিমানটি উড্ডয়ন করে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আবার ঢাকায় অবতরণ করবে।
উদ্বোধনের আগে ভারতীয় এয়ারলাইন্সের জেনারেল সেলস এজেন্টের এক মুখপাত্র বলেন, শহরের যাত্রীরা চীনের গুয়াংজু ও কানাডার টরেন্টোর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের মাধ্যমে বিমানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন। বাংলাদেশে ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হয় না।
উল্লেখ্য, মেডিক্যাল ট্যুরিজম ও বিজনেস ট্র্যাভেল সেগমেন্টে ব্যবহৃত হবে সার্ভিসটি। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও ইন্ডিগো ছাড়াও রুটটিতে চলাচলকারী তৃতীয় বিমান সংস্থা এটি।

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৭১ সালে আজকের দিনেই ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানকে হারিয়েছিল।
বিজয় দিবসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে নিহতদের জন্য শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মোদি। ১৯৭১ সালে আজকের দিনেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান। এ দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন ১৬ ডিসেম্বরের গৌরবময় ইতিহাসের কথা।
আজ শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে ১৬ ডিসেম্বরের নায়কদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোদি লেখেন, ‘আজ বিজয় দিবস। সে দিনের যোদ্ধাদের নিষ্ঠা ও বীরত্ব আজও আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তাদের উৎসর্গ ও আত্মত্যাগ সকল দেশবাসীর কছে গৌরবের। তাদের দুর্দমনীয় ইচ্ছাশক্তি আজীবন আমাদের হৃদয়ে থাকবে। ভারত তাদের সাহসকে স্যালুট জানায়।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, এই দিনেই তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশ। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের আজকের দিনেই ভারতীয় সেনার হাতে পাকিস্তান পরাস্ত হয়েছিল। সেবার নিজেদের হার মেনে নিয়েছিল পাক সেনাবাহিনী। জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের।
ভারতে বিজয় দিবস পালন করা হয় সামরিক জয়ের স্মরণে। কারণ, ওই সময় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
উল্লেখ্য, আজ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের হেডকোয়ার্টার ফোর্ট উইলিয়ামে বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। ১৯৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধে জয়ের স্মরণে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাণাপ্রতাপ কলিতা।
অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সমস্ত ধরনের পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রস্তুত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার অবস্থান নিয়ে ভারতের ধারণা অত্যন্ত স্পষ্ট। তিব্বতে দখলদারি চালালেও ভারতের সার্বভৌমত্বে কোনো আঘাত হানতে পারবে না চীন।’
খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস