বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

ফের বিবর্ণ ব্যাটিংয়ের পর বোলারদের নৈপুণ্যে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেও আরও একবার চরম হতাশ করলেন ব্যাটাররা। দ্বাদশ ওভারে ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর বিপর্যয়ের পর পাওয়া সাদামাটা সংগ্রহ রক্ষা করলেন বোলাররা। রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তারের নৈপুণ্যে শঙ্কা এড়িয়ে ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে 'বি' গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৩৪ রানে জিতেছে টাইগ্রেসরা। তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ চারে নাম লিখিয়েছে তারা। সেখানে তাদের অপেক্ষায় আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। একই ভেন্যুতে আগামী বৃহস্পতিবার হবে ম্যাচটি।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার খেলে ধুঁকে ধুঁকে ৭ উইকেটে ১০৩ রান তোলে বাংলাদেশ। ব্যাটাররা বিবর্ণ থাকার পর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে দলকে দিশা দিতে জ্বলে ওঠেন বোলাররা। তারা একটুও লড়াই জমাতে দেননি প্রতিপক্ষকে। আরব আমিরাত পুরো ওভার খেলে স্কোরবোর্ডে জমা করতে পারে ৯ উইকেটে স্রেফ ৬৯ রান।

শুরুতেই চাপে পড়ে একাদশে দুই পরিবর্তন আনা বাংলাদেশ। অফ স্পিনার সুরক্ষা কোট্টের শিকার হয়ে ইনিংসের তৃতীয় ওভারের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। তারপর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ২৯ রানের এই জুটি ভাঙে জুয়াইরিয়া ২০ বলে ১৬ রানে আউট হলে।

কিছুদূর এগিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন জ্যোতিও। তিনটি চারে ২৮ বলে ২৩ রান করেন তিনি। একাদশ ওভারের শেষ বলে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে নিজের তৃতীয় শিকার ধরেন কোট্টে।

পরের ওভারে তৃতীয় ও চতুর্থ বলে জোড়া উইকেট নেন আরব আমিরাতের পেসার ইন্ধুজা নন্দকুমার। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই বিদায় নিয়ে গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান স্বর্ণা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন।

৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে পৌঁছে যাওয়া বাংলাদেশকে এরপর টানেন একাদশে ফেরা শারমিন আক্তার সুপ্তা। তাকে সঙ্গ দেন নাহিদা। তাদের সপ্তম উইকেট জুটিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪২ রান।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করে ১৯তম ওভারে আউট হন শারমিন। তার ৩১ বলের ইনিংসে চার তিনটি। নাহিদা ২৬ বলে ১৬ ও রাবেয়া ৪ বলে ৩ রানে অপরাজিত থাকলে অলআউট হওয়া থেকে বেঁচে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

রান তাড়ায় নামা আরব আমিরাতকে ইনিংসের কোনো পর্যায়েই তাল খুঁজে পেতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। পাওয়ার প্লেতে অধিনায়ক এশা ওজা ও সামাইরা ধার্নিধার্কাকে বিদায় করে সুর বেঁধে দেন পেসার মারুফা। এরপর চার স্পিনারের সবাই উইকেট শিকারে যোগ দিলে ম্যাচ চলে আসে মুঠোয়।

একাদশে ফেরা লেগ স্পিনার রাবেয়া ১৪ রানে নেন ৩ উইকেট। ব্যাটিংয়ে অবদান রাখার পর বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা ২ উইকেট পান ১৮ রান খরচায়। সমান সংখ্যক উইকেট নিতে মারুফা দেন মোটে ৯ রান। একটি করে শিকার ধরেন ফাহিমা ও সুলতানা খাতুন।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো স্বাগতিকদের পক্ষে দুজন যেতে পারেন দুই অঙ্কে। হিনা হোটচন্দনি ১৯ বলে ১৮ ও তীর্থ সতিশ ২৪ বলে ১১ রান করেন।

শুক্রবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে রোববার।

সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রী-হুইপদের রাখা নিয়ে স্পিকারের উষ্মা

জাতীয় সংসদের সংসদীয় কমিটিতে প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের রাখা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, সংসদীয় কমিটির সভাপতি হবেন বেসরকারি সদস্য। আর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ট কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে চিফ হুইপকে অনুরোধ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পাঁচটি সংসদীয় কমিটি গঠন ও দুটি কমিটি পুনর্গঠন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। এরপর তাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেন স্পিকার।

নতুন গঠিত কমিটিগুলোর মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাধারী চারজন হুইপকে চারটি কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তারা হলেন- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হুইপ জি কে গউছ।

অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। এর বাইরে অন্য কোনো কমিটিতে তাদের রাখা হয় না।

চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কমিটির চেয়ারম্যান বেসরকারি সদস্য হওয়ার এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সদস্য হিসেবে রাখার প্রথা রয়েছে। কিন্তু কয়েকটি কমিটিতে প্রতিমন্ত্রী, হুইপসহ উচ্চপদস্থ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের সদস্য করা হয়েছে। এতে কোনো বাধা না থাকলেও সংসদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বেসরকারি সদস্যদেরই কমিটিতে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

ভবিষ্যতে সংসদীয় কমিটি গঠনের সময় এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য চিফ হুইপকে অনুরোধ জানান স্পিকার।

হংকংকে উড়িয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

জয়ের ধারাটা শেষ ম্যাচেও ধরে রাখল বাংলাদেশ। হংকংকে একপ্রকার ছেলেখেলায় মাতিয়ে ৬-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়ে চ্যালেঞ্জার পুলের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত থেকেই নারী জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লাল-সবুজের দল।

চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার হুলুনবুইর সিটিতে আজ চ্যালেঞ্জার পুলের শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই হংকংয়ের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। একতরফা ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেছেন আইরিন রিয়া ও মোছা. লিমা। একটি করে গোল করেছেন শারিকা রিমন ও কনা আক্তার।

ম্যাচের ৯ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন শারিকা। এরপর ১৯ মিনিটে ফিল্ড গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আইরিন রিয়া। ২৬ মিনিটে কোনা আক্তারের ফিল্ড গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছন্দ ধরে রাখে লাল-সবুজের মেয়েরা। ৩১ মিনিটে লিমার ফিল্ড গোলে স্কোরলাইন হয় ৪-০। মাত্র দুই মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশের ব্যবধান আরও বাড়ান আইরিন রিয়া। এরপর ৪৮ মিনিটে লিমাও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয়।

এর আগে চাইনিজ তাইপে, পাকিস্তান ও কাজাখস্তানকে টানা হারিয়েছিল বাংলাদেশ। চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মোট ২২ গোল করেছে তারা। বিপরীতে হজম করেছে মাত্র একটি গোল, সেটিও পাকিস্তানের বিপক্ষে।

চ্যালেঞ্জার ও এলিট, দুই পুল মিলিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকাতেও দারুণ অবস্থানে বাংলাদেশের দুই খেলোয়াড়। ছয় গোল নিয়ে সবার ওপরে আছেন শারিকা রিমন। পাঁচ গোল নিয়ে তার পরেই আছেন বাংলাদেশের আইরিন রিয়া ও ভারতের পূর্ণিমা যাদব।

চ্যালেঞ্জার পুলে অপরাজিত থেকে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করায় এবার কোয়ার্টার ফাইনালে এলিট পুলের তৃতীয় দলকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। আগামীকালের সেই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা জাপান।

বায়ুদূষণের শীর্ষে মালয়েশিয়ার ২ শহর, ঢাকা তৃতীয়

বায়ুদূষণের তালিকায় আজ এক নম্বরে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশটির আরেক শহর কুয়ালালামপুর। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ১১ মিনিটে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর।

অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। সে হিসেবে মালয়েশিয়ার শহর দুটির দূষণ স্কোর ১৮৪ ও ১৭৯ অর্থাৎ এই দুটি শহরের বাতাস অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।

আর ঢাকার দূষণ স্কোর ১৬১ অর্থাৎ এখানকার বাতাসও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।

আগুয়েরোর রেকর্ড ছুঁয়ে সিটিকে জেতালেন হালান্ড

গোল আর রেকর্ড, আর্লিং হালান্ডের ফুটবল জীবনে যেন দুটিই সমার্থক হয়ে গেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেও সেই ধারার ব্যতিক্রম হয়নি। জোড়া গোল করে পোর্তোকে হারানোর পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসেও নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন।

মঙ্গলবার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে পোর্তোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। সিটিজেনদের দুই গোলই করেছেন হালান্ড। এই জোড়া গোলের সুবাদে চ্যাম্পিয়নস লিগে ক্লাবটির সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কিংবদন্তি সার্জিও আগুয়েরোর পাশে বসেছেন তিনি। দুজনেরই গোলসংখ্যা এখন ৩৬। আর ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতিযোগিতায় হালান্ডের গোলসংখ্যা অবিশ্বাস্য, ৫৯ ম্যাচে ৫৯ গোল।

ম্যাচজুড়ে পোর্তোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। প্রায় ৬০ শতাংশ বল দখলে রেখে ২০টি শট নেয় ইংলিশ ক্লাবটি, যার ১০টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে পোর্তোর চারটি শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না।

প্রথমার্ধে অবশ্য সিটির সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পোর্তো গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। ২১তম মিনিটে ফিল ফোডেনের ক্রস থেকে হালান্ডের দুর্দান্ত হেডও ঠেকিয়ে দেন তিনি।

তবে বিরতির পর আর সিটি-ঝড় সামলাতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৪৭তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে হেডে গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন হালান্ড। দ্বিতীয় গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় যোগ করা সময় পর্যন্ত। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিচু শটে আবারও পোর্তোর জাল কাঁপান হালান্ড। তাতেই ২-০ গোলের জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযান শুরু করে ম্যানচেস্টার সিটি।

কাতারে দোহা ইনস্টিটিউটে স্কলারশিপ, আবেদন ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত

কাতারে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির সুযোগ দিচ্ছে। মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ১৫ জানুয়ারি ২০২৭।.যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ—দোহা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন মাস্টার্স ও ডক্টরাল প্রোগ্রামে এই বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—– পাবলিক পলিসি– তুলনামূলক সাহিত্য– ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকস– রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক– পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন– মিডিয়া স্টাডিজ– দর্শন– ভাষাবিজ্ঞান ও আরবি লেক্সিকোগ্রাফি– সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান– সংঘাত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক কার্যক্রম– মনোবিজ্ঞান– সামাজিক কাজ– মনিটারি ও সিকিউরিটি স্টাডিজ.কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের বৃত্তিতে টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা রয়েছে।.বৃত্তিতে যা মিলবে—মাস্টার্স পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘তামিম বৃত্তি’ দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ বৃত্তিতে—– সম্পূর্ণ টিউশন ফি– বিনা মূল্যে আবাসন– মাসিক ভাতা– স্বাস্থ্যবিমাডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি তিন ধাপে দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে দুই সেমিস্টারের কোর্স সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য গবেষণা-প্রস্তাবনা নিয়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। এ পর্যায়ে প্রথম ধাপের কোর্সগুলোতে কমপক্ষে ৩.৫ জিপিএ থাকতে হবে।তৃতীয় ধাপে সমন্বিত পরীক্ষা পাস করার পর দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য গবেষণাপত্র বা ডিসার্টেশন লেখার বৃত্তি দেওয়া হয়।.কলেজে ভর্তিতে আবেদন চলছে, করবেন যেভাবে.কারা আবেদন করতে পারবেন—*যেকোনো দেশের নাগরিক মাস্টার্স পর্যায়ের বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। স্নাতকের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।*ডক্টরাল পর্যায়ের বৃত্তির ক্ষেত্রে প্রথমে দোহা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট আর্থিক ও একাডেমিক যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—আবেদনের সময় সাধারণত যেসব নথি প্রয়োজন হবে—১. পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্রের কপি২. স্নাতক ডিগ্রির সনদ৩. একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট৪. হালনাগাদ সিভি৫. দুটি সুপারিশপত্র৬. ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ/স্কোর৭. ব্যক্তিগত বিবৃতি.নেটফ্লিক্সে ইন্টার্নশিপ, যুক্তরাষ্ট্র–ভারত–পোল্যান্ড–জাপানে কাজ, সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরও.আবেদন করতে হবে অনলাইনে (https://www.dohainstitute.edu.qa/en/Admissions-Office/Pages/Scholarships.aspx)। প্রথমে সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স বা ডক্টরাল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়ার পর যোগ্য শিক্ষার্থীদের বৃত্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে।আবেদনের শেষ তারিখ—১৫ জানুয়ারি ২০২৭বিস্তারিত দেখুন https://www.opportunitiescircle.com/doha-institute-scholarships/ এই ঠিকানায়।

আত্মহত্যার চেষ্টা মেঘমল্লার বসুর আইসিইউতে ভর্তি

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মকাণ্ড ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গত সোমবার রাতে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হওয়ায় কেবিনে নেওয়া হয়েছিল। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

জানা গেছে, রাজনীতি, পারিবারিক বিষয়সহ নানা হতাশা থেকে মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই পোস্ট দেখেই তার খোঁজ শুরু করেন সহকর্মীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মেঘমল্লারের ফেসবুক পোস্ট দেখে তার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হয়। পরে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে খোঁজ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেটের কাছে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

মেঘমল্লার বসু নিজের ফেসবুক সুইসাইড নোটে লিখেন, ‘জীবনটা একটা বৃত্তের মতো। অনেক ঘুরে, অনেক কিছু করে নিজেকে আবার শূন্যে আবিষ্কার করার মতো। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, দুইটা আলাদা আলাদা টাইম স্প্যানের যেকোনো একটা সময় মরে গেলে খুব ভালো হতো। একটা ২০২০ সালের গোড়ায়, আমার শেষ বাংলা বিতর্কের দিন, গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজের ফাইনালটার পরে। আরেকটা মনে হয় গত বছর এরকম একটা সময়। ডাকসু নির্বাচনের পর। দুইটা সময়ই আমি অনেক পূর্ণ ছিলাম। যখন মানুষ পূর্ণ থাকে তখন সে ভুলে যায় শূন্যতাই তার নিয়তি।’

তিনি আরো লেখেন, ‘আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হতাশা আর অপরাধবোধ ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। আমি সবচেয়ে বড় অপরাধ করছি আমার মায়ের সঙ্গে। আমি জানি তার আর কেউ নেই। অথচ তাও আমি এই পথ বেছে নিচ্ছি। কী করব! কোনোভাবেই তো এই চক্র থেকে বের হতে পারছি না। আর কত দিন সম্ভব? আমি জানি আপনারা আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। আপনারা পারলে আমার মাকে একটু বাঁচায়ে রাইখেন। মিশু ভাই, নূর আপু, আরাফাত ভাই, উৎপল দা, নিমাই কাকু এরা সবাই মিলে কত চেষ্টা করল আমারে বাঁচায়ে রাখার। আমি সবাইকে ব্যর্থ করে দিয়ে যাচ্ছি।’

মেঘমল্লার লেখেন, আপনাদের সবার প্রতি একটা একান্ত অনুরোধ হলো আমার প্রাক্তন প্রেমিকা চূড়াকে যেন কোনোভাবেই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা না হয়। আমাকে জীবনে কোনো মানুষ এত ভালোবাসা দেয়নি, যতটা তিনি দিয়েছেন। আমার গত অ্যাটেম্পটের পর সবাই ভেবেছে দোষ তার। তিনি একটি ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। অথচ বাস্তবতা হলো আমি তাকে যত ইনসিকিউরিটি অনুভব করিয়েছি, তাতে তার দশবার অ্যাটেম্পট করার কথা ছিল।

প্রতিশ্রুতি পূরণে পিছিয়ে ডাকসু, নেতারা জড়িয়েছেন বিতর্কে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, প্রথম বর্ষ থেকে হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বৈধ আসন নিশ্চিত করা হবে; কিন্তু প্রতিশ্রুতিটি পূরণ হয়নি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছেন অমর একুশে হলের শিক্ষার্থী শাফিনূর রহমান তাজিম। তাঁর ক্লাস শুরু হয়েছে এপ্রিলে; কিন্তু পাঁচ মাস হতে চললেও এখনো হলে আসন পাননি।শাফিনূর বলেন, ‘হলে আসন পাইনি বলে বাইরে ভাড়া থাকতে হচ্ছে। এতে খরচ বেশি, ভোগান্তিও বেশি।’ডাকসু নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হবে আজ ৯ সেপ্টেম্বর। ২০২৫ সালের এদিন ডাকসুর ভোট গ্রহণ হয়। বেশির ভাগ পদে জয়ী হয় ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেল। এক বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে, আবাসনসংকট, খাদ্যের মান, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ডাকসুর প্রতিশ্রুতির সামান্যই পূরণ হয়েছে।.ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত.ভোটের রাজনীতির কারণে কিছু পরিবর্তন এসেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে তা কত দিন টেকসই হয়, সেটা দেখার বিষয়।তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়.অন্যদিকে শিবিরের প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনগুলো বলছে, ডাকসুর নেতারা বিতর্কে জড়িয়েছেন বেশি। ভোটের আগে লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতির বিরোধিতা করে পরে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম নিজেই জামায়াতে ইসলামীর লেজুড়বৃত্তি করেছেন। দলটির নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন। ডাকসুর নেতাদের কারও কারও বিরুদ্ধে আইন হাতে তুলে নেওয়া, মব করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, অতীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোয় শিবিরের নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিস্বাধীনতায় নানাভাবে হস্তক্ষেপ করতেন। ডাকসুর এক বছরে তা খুব একটা দেখা যায়নি। অন্যদিকে হল দখল এবং তা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেনি। নির্বিঘ্নে ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ছাত্রদলের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আগের মতো হল দখলের চেষ্টা করতে দেখা যায়নি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ভোটের রাজনীতির কারণে কিছু পরিবর্তন এসেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে তা কত দিন টেকসই হয়, সেটা দেখার বিষয়।.বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা হচ্ছে না কেন.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সব সময় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের দখলে থাকত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আগের সাড়ে ১৫ বছর ছিল ছাত্রলীগের দখলে।হলের কক্ষগুলোর একটি বড় অংশে নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষার্থীদের ওঠাত ছাত্রলীগ। পছন্দ না হলে বের করে দিত। মিছিলে যেতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা এবং হলের অতিথিকক্ষে (গেস্টরুম) আদবকায়দা শেখানোর নামে নির্যাতন ছিল সাধারণ ঘটনা। ক্যাম্পাসে সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল, সমাবেশ করা এবং আন্দোলন দমন করাই ছিল ছাত্রলীগের মূল কাজ।২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগকে হল থেকে বিতাড়িত করেন শিক্ষার্থীরা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হলের নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন।তবে ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের অনেকের অভিযোগ, তখন মনিটরিং টিম (পর্যবেক্ষণ দল), পরিবেশ টিম ইত্যাদি গঠন করে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। এসব কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন মূলত সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে শিবিরের নেতা-কর্মীরা।.২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৮টির মধ্যে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট ২৩টি পদে জয়ী হয়। সাদিক কায়েম হন সহসভাপতি (ভিপি)। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হন এস এম ফরহাদ। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনেই শিবির–সমর্থিত প্যানেল জয়ী হয়।.জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির রাজনীতি করতে পারত না। অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে শিবিরের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা পায়। তবে ওই সময় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জোরদার হয়। সাধারণ ছাত্রদের দাবি ছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি যেন ফেরত না আসে।এমন অবস্থায় ২০২৫ সালের আগস্টে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করলে আন্দোলন শুরু হয় এবং পরে হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এর আগে জুলাই অভ্যুত্থানকালে শিক্ষার্থীদের চাপে হল কর্তৃপক্ষ হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে।অবশ্য ছাত্রদলের অভিযোগ ছিল, তারা যাতে হলে নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে জন্য শিবিরই মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে আন্দোলন করেছে। এটা ছিল তাদের অপকৌশল।২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৮টির মধ্যে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট ২৩টি পদে জয়ী হয়। সাদিক কায়েম হন সহসভাপতি (ভিপি)। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হন এস এম ফরহাদ। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনেই শিবির–সমর্থিত প্যানেল জয়ী হয়।নিজেদের প্যানেল করার ক্ষেত্রে শিবির একটি কৌশল নিয়েছিল। সেটি হলো প্যানেলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও নারীদের রেখে বৈচিত্র্য দেখানো।.১২ মাসে ৩৬টি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল। ইশতেহারে উল্লেখ করা সব কটি প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ। তাঁরা বলেন, প্রশাসনের পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় সব কাজ সম্পন্ন হয়নি।সাদিক কায়েম গত ১৭ আগস্ট প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থ বরাদ্দের বদলে তাঁরা শুধু অনুমতি চেয়েছেন। এ রকম পর্যায়েও সহায়তা পাননি।তবে এ অভিযোগ নাকচ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ডাকসুর জন্য যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল, তার চেয়ে বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছে।প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ইশতেহারের ৩৬টি অঙ্গীকারের তালিকা পাঠালে সাদিক কায়েম মুঠোফোনে কতটা পূরণ হয়েছে, তা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কমিটি গঠন ও হল সংসদের মাধ্যমে নিয়মিত তদারক করা হয়েছে, আবাসনসংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে নতুন বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর করা হয়েছে, ভর্তিপ্রক্রিয়ায় অনলাইন পেমেন্ট চালু হয়েছে, কমনরুম সংস্কার করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নতুন রিসোর্স যুক্ত করা হয়েছে, স্কিল ডেভেলপমেন্ট সামিট আয়োজন করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার আধুনিকায়ন করা হয়েছে, বাসের ট্রিপ বাড়ানো হয়েছে, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন হলে বিনা মূল্যে ‘হাইজিন প্রোডাক্ট’ সরবরাহসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।.অবশ্য শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলছেন, শিবির–সমর্থিত প্যানেল ইশতেহারে যেসব বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে টেকসই ও স্থায়ী পরিবর্তন আসেনি। খাবারের মান আগের মতোই আছে। ক্যাম্পাস এখনো নিরাপদ নয়; বরং মবের ঘটনা ঘটে। রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে ভোগান্তি দূর করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি সামান্যই।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বড় সমস্যার নাম খাবারের মান। এটা ছিল ইশতেহারে অন্যতম অগ্রাধিকার। কিন্তু ডাকসু ভোটের পর কিছুদিন তদারকি ছিল। সেটার প্রচার ছিল। তবে সম্প্রতি কয়েকটি হলের ক্যানটিনের খাবারে কেঁচো, ব্লেড, তেলাপোকা ইত্যাদি পাওয়া যায়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসফিয়ান আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, দাবি জানালেন, বৈঠক করলেন। সেটাকে নিজের উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সমস্যাটির সমাধান হলো না। সেটাকে কি ইশতেহার পূরণ বলা যাবে?নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ৩৬ দফায় একাধিক নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল। এর মধ্যে ব্রেস্টফিডিং রুম, চাইল্ড কেয়ার কর্নার, নিরাপদ পরিবহন ও আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করা হয়েছে। ছাত্রীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা এক ঘণ্টা বেড়েছে। তবে অনাবাসিক ছাত্রীদের প্রবেশাধিকার, সব কমনরুমে নারী কর্মচারী নিয়োগ ও হলগুলোয় গার্ডিয়ান লাউঞ্জ তৈরির মতো কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।ডাকসু নির্বাচনের আগে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট নারীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস তৈরির কথা বলেছিল। সেখানে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই বলে মনে করছেন শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী। একই হলের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, তিনি রাতে টিউশন করে হলে ফেরেন। ফেরার পথে মাদকাসক্ত ও ভবঘুরেদের দেখেন, যারা প্রায়ই ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে। ক্যাম্পাসে চলাচলে যদি ভয়ই লাগে, তাহলে নিরাপদ ক্যাম্পাস কীভাবে হলো।.উচ্ছেদ অভিযানের নামে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, মাঠে খেলতে যাওয়া শিশুদের কান ধরিয়ে ওঠবস করানো, আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষককে হেনস্তা, কনসার্টে সিগারেট বিতরণ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, হিজড়াদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা, স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মাত্র তিনজনের উপস্থিতি ইত্যাদি নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন ডাকসুর কোনো কোনো নেতা।.মাঠে খেলতে আসায় কানে ধরিয়ে উঠবস করালেন ডাকসু নেতা, সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ.লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সাদিক কায়েম ও সহসাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দীন খান জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে জামায়াত সাদিক কায়েমকে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, লেজুড়বৃত্তি থেকে শিবির দূরে রইল কই।উচ্ছেদ অভিযানের নামে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, মাঠে খেলতে যাওয়া শিশুদের কান ধরিয়ে ওঠবস করানো, আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষককে হেনস্তা, কনসার্টে সিগারেট বিতরণ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, হিজড়াদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা, স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মাত্র তিনজনের উপস্থিতি ইত্যাদি নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন ডাকসুর কোনো কোনো নেতা।ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন প্রথম আলোকে বলেন, ডাকসু ভোটের আগে শিবিরের প্যানেল নিজেদের নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে। নির্বাচনের পরপরই ডাকসু জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন শুরু করে।.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষককে হেনস্তা করলেন ডাকসু নেতা.বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ের সংস্কৃতি আছে কি না, একাডেমিক স্বাধীনতা আছে কি না, মুক্তমত ও বাক্‌স্বাধীনতার চর্চা আছে কি না—এসবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা মূল্যায়নের সবচেয়ে বড় সূচক বলে মনে করেন কেউ কেউ।অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান মনে করেন, যে আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ভয়ের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হয়েছিল, তা ফিরে এসেছে ডাকসুর ভোটের পর।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে অনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার, মব তৈরি, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, প্রতিপক্ষকে নানা ট্যাগ (নেতিবাচক অভিধা) দেওয়া ইত্যাদি প্রবণতার কথা উল্লেখ করে তানজীমউদ্দিন খান আরও বলেন, শক্তি ব্যবহারের ধরনের ক্ষেত্রে অনেক সময় ছাত্রলীগ (এখন নিষিদ্ধ) নেতাদের সঙ্গে ডাকসুর কোনো কোনো নেতার পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।.ডাকসুর মেয়াদ শেষ হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। তারপর নির্বাচন না হলে ডাকসুর মেয়াদ তিন মাস বাড়বে। এ সময়ে নির্বাচন না হলে বর্তমান ছাত্র সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।.ডাকসুর নেতারা লাঠি হাতে ঠিক কাদের তাড়াচ্ছেন?.শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, যতটুকু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা ধরে রাখতে ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত আয়োজন করতে হবে। ২০১৯ সালের পর ২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচন হয়। ২০১৯ সালের আগে নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে, ২৯ বছর আগে।ডাকসুর মেয়াদ শেষ হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। তারপর নির্বাচন না হলে ডাকসুর মেয়াদ তিন মাস বাড়বে। এ সময়ে নির্বাচন না হলে বর্তমান ছাত্র সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।নির্বাচন হবে কি না—জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ডাকসু নির্বাচন অবশ্যই হওয়া উচিত, হতেই হবে।উপাচার্য যতই আশ্বস্ত করুন না কেন, অনেকের মনে সংশয় রয়েছে। কারণ, রাজনৈতিক সরকারগুলো সাধারণত ডাকসু নির্বাচন হতে দিতে চায় না।

৩০ বছরের অপেক্ষার অবসান, বেদেপল্লির পাশে ঢাকা জেলা প্রশাসন

তিন দশক ধরে স্থায়ী ঠিকানার অপেক্ষায় থাকা ঢাকার ধামরাইয়ের রূপনগর বেদেপল্লির বাসিন্দাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বলে উঠেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে তাদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে খাসজমি। পরিবারের নারীদের স্বাবলম্বী করতে ২৫ জনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন। পাশাপাশি পল্লীর অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়নে দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ টাকার বরাদ্দ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা হস্তান্তর করেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রূপনগর এলাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছে বেদে সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি পরিবার। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে থাকলেও তাদের বেশির ভাগেরই ছিল না নিজের জমি কিংবা স্থায়ী ঘর। একসময় নৌকায় ভেসে ভেসে জীবন কাটানো এসব মানুষ স্থলে বসতি গড়ার পরও অন্যের জায়গার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। ফলে একটি ঘর থাকলেও সেটিকে নিজেদের স্থায়ী ঠিকানা বলার সুযোগ ছিল না।

এই পরিস্থিতি বদলাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রূপনগর বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের স্থায়ী বসবাসের জন্য খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পল্লীর নারীদের আয়মুখী কাজে যুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে ২৫ জনকে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন।

জেলা প্রশাসনের ‘হ্যালো ডিসি’ কার্যক্রমে সেলাই মেশিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন পল্লির নারীরা। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে ঘরে বসেই আয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে নারীদের পাশাপাশি পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতাও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

শুধু আবাসন ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগই নয়, পল্লির সামগ্রিক উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে পদক্ষেপ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাসিন্দাদের জীবনমান বাড়াতে উপজেলা পরিষদের বিশেষ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, পিছিয়ে থাকা কোনো জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের বাইরে রাখা যাবে না। বেদে সম্প্রদায়ের মানুষও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের স্থায়ী আবাসনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করে মূলধারায় নিয়ে আসতে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু সহায়তা দিয়ে মানুষকে নির্ভরশীল করে রাখা নয়, বরং এমন সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেন। নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে পরিবারগুলোও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২০ আগস্ট রূপনগর বেদেপল্লি পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। প্রায় ৩০ বছর পর কোনো জেলা প্রশাসকের ওই পল্লিতে সরেজমিনে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে এটিকে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় তিনি বেদেপল্লির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট, কর্মসংস্থানের অভাব, সন্তানদের পড়াশোনা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। তখনই স্থায়ী আবাসন, আত্মকর্মসংস্থান ও সরকারি সহায়তার বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন তিনি।

রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগে ১২ হাজার কোটি টাকা আয় বাংলাদেশ ব্যাংকের

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে গত অর্থবছরে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা সুদ আয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত তিন অর্থবছরের মধ্যে এটিই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ বৈদেশিক বিনিয়োগ আয়। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক বেশি সুদহার ও কুপন রেটের কারণে এ অর্জন বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, বৈদেশিক বন্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি নোটে বিনিয়োগ থেকে গত অর্থবছরে ৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকা সুদ আয় হয়েছে। বিদেশি ব্যাংকে রাখা ঋণ ও আমানত থেকেও আয় এসেছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ঋণ থেকে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি এবং স্বল্পমেয়াদি আমানত থেকে ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা আয় পাওয়া গেছে। অন্যান্য বৈদেশিক সম্পদ থেকে এসেছে আরও প্রায় ৮৭১ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা আর্থিক সম্পদ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হয়েছিল ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ আয় ছিল ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ও বিভিন্ন ব্যাংকে আমানত হিসেবে বিনিয়োগ করে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সুদহার তুলনামূলক বেশি থাকায় এসব বিনিয়োগ থেকে রিটার্নও বেড়েছে।

রিজার্ভ বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকার ও বাণিজ্যিক ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিয়েও আয় করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরে এমন অভ্যন্তরীণ খাত থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিয়ে সুদ হিসেবে এসেছে ২১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।

এছাড়া কমিশন ও ডিসকাউন্ট থেকে ৪৩১ কোটি, লভ্যাংশ হিসেবে ২০০ কোটি এবং অন্যান্য খাত থেকে ৪৭৫ কোটি টাকা আয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাতের আয় ছিল আরও বেশি, ২৪ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গত অর্থবছরের পুরো সময় নীতিসুদহার ১০ শতাংশে রাখা হয়েছিল। ফলে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে অর্থ নিতে হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয় বেড়েছে।

সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে নিট মুনাফা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকার চেয়ে ৩ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা বেশি।

জানা গেছে, গত অর্থবছরের নিট মুনাফার পুরো ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে এবং বাকি ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সম্প্রতি জমা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা।

বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস রিজার্ভ রয়েছে ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।