বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

এ বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা ও সর্বনিম্ন ১১০ টাকা

এ বছর ১৪৪৭ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতর-এর হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব
মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।

এই সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, ইসলামী শরীয়াহ মতে আটা, যব, কিসমিস, খেজুর ও পনির ইত্যাদি পণ্যগুলোর যে কোন একটি দ্বারা ফিতরা আদায় করা যায়।

গম বা আটা দ্বারা ফিতরা আদায় করলে অর্ধ সা’ বা ১ কেজি ৬শ’ ৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা প্রদান করতে হবে।

যব দ্বারা আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩শ’ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৫৯৫ টাকা, খেজুর দ্বারা আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩ শ’ গ্রাম বা এর বাজার মূলা ২ হাজার ৪৭৫ টাকা, কিসমিস দ্বারা আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩শ’ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৬৪০ টাকা ও পনির দ্বারা আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩ শ’ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৮০৫ টাকা ফিতরা প্রদান করতে হবে।

ইফা’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশের সকল বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনিরের বাজার মূল্যের ভিত্তিতে এই ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এসব পণ্যের যে কোন একটি পণ্য বা এর বাজার মূল্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ পণ্যগুলোর স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরস এর গর্ভনর মাওলানা মাহফুজুল হক, দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মুহাদ্দিস ড. ওয়ালিয়ুর রহমান খান, মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু সালেহ পাটোয়ারী, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কাশেম মো. ফজলুল হক, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী ও রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ জামে মসজিদের খতীব মাওলানা মহিউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২ মার্চ ইসি’র জাতীয় ভোটার দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে

আগামী ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি’র জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠান সূচি থেকে জানা গেছে, জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ১৭ ফাল্গুন ২ মার্চ সোমবার সকাল ১১টায় নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে (বেইজমেন্ট-২) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ভোটারদের শক্তি গণতন্ত্রের মুক্তি’।

আলোচনা সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন— নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে আজ ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে জানিয়েছেন।

জয়নুল আবদিন ফারুকের সহধর্মিণীর ইন্তেকাল

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের সহধর্মিণী কানিজ ফাতেমা (৭৩) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ (বুধবার) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সকালে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অসুস্থ হয়ে পড়লে কানিজ ফাতেমাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই আইসিইউতে নিবিড় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ যোহর নিকুঞ্জ-১, লেক রোডের ৪৩ নম্বর বাসার সামনে মরহুমার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টায় নোয়াখালীর সেনবাগের ইয়ারপুরস্থ নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা হবে।

কানিজ ফাতেমার মৃত্যুতে দলীয় নেতাকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার রূহের মাগফেরাত কামনা করেছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মশক নিয়ন্ত্রণ ও নিধন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন।

আজ বুধবার সকালে গুলশান নগরভবনে ডিএনসিসি’র বিদায়ী প্রশাসক সুরাইয়া আখতার জাহান আনুষ্ঠানিকভাবে নবনিযুক্ত প্রশাসকের নিকট দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রশাসক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর-২ এলাকায় অবস্থিত ডিএনসিসি’র মশক নিধন ঔষধ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে মশক নিধন ঔষধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয় এবং নগরীতে মশক নিয়ন্ত্রণে কর্পোরেশনের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান পরিদর্শনের শেষে বলেন, ‘সকলকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকাকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাবো।’

এসময় ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পিএসসির নতুন সচিব সানোয়ার জাহান

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়াকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ে সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়।

এদিকে, অন্য এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ে সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক : হজ ও ধর্মীয় সহযোগিতার অঙ্গীকার

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ধর্মবিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সিনেটর ড. জুলকিফলি হাসান এবং বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের মধ্যে এক ভার্চুয়াল দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল (২৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হওয়া এ ভার্সুয়াল বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ধর্ম বিষয়ক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়।

এই অনলাইন বৈঠকে হজ ব্যবস্থাপনা, যাকাত প্রশাসন এবং ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই হজ কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হজযাত্রীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, আবাসন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে ইতিবাচক মতামত ব্যক্ত করা হয়।

যাকাত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার এবং উপকারভোগীদের তথ্যভিত্তিক তালিকা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা যাকাত তহবিলের কার্যকর ব্যবহার ও দারিদ্র্য বিমোচনে এর ভূমিকা আরো ফলপ্রসূ করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমসাময়িক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যুগোপযোগী করতে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, গবেষণা সহযোগিতা এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বিশেষ করে প্রযুক্তি-সমন্বিত শিক্ষা, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির মূল্যবোধ জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নে যৌথ প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়। উভয় মন্ত্রী পারস্পরিক সম্মান ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ধর্ম বিষয়ক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই ভার্চুয়াল বৈঠককে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আলোচিত বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আরো ৮৭ মিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরো ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে কেনা হয়েছে।

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাড়িঁয়েছে ১ হাজার ৫৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ক্রয় করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৮ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সূত্র জানায়, টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতকে পুনরুদ্ধার করার চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ডলার ক্রয় করেছে।

জনপ্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান

জনপ্রশাসনে শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শের কর্মকর্তাদের হাতেই ছিল পুরো প্রশাসন পরিচালনার চাবি। সেই বিশেষ কর্মকর্তাদের বলয় ভেঙে নতুনদের নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। একই সঙ্গে সরকার কর্মস্থলে কাজের গতি ফেরানো এবং অফিস সময় নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ইতোমধ্যেই সকাল ৯টায় অফিসে আসা নিশ্চিত করতে আদেশ জারি করা হয়েছে। যার ব্যত্যয় হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার শপথের পরের দিন মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয়ে অফিস শুরু করেন।
শুরু থেকেই সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অফিসে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ঠিকমতো আসছেন কি না, সেই খোঁজও রাখছেন। সচিবালয়ে সব শ্রেণির কমকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। তবে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং বিভিন্ন সংস্থাপ্রধান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শের কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের নিয়োগ বাতিল করতে পারে এই আশঙ্কায় আছেন। সূত্র মতে জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে চায় সরকার। ব্যাচভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের নির্দেশনা আসতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, বিগত বছরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আদর্শের কর্মকর্তাদের পদায়ন করে। বিএনপিপন্থি কর্মকর্তারা বঞ্চিত ছিলেন এসব পদায়নের ক্ষেত্রে।
যে কারণে ওই সব আদর্শের অতি উৎসাহী দলবাজ সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবদের বদলি এবং প্রয়োজনে ওএসডি করা হতে পারে। প্রকল্প পরিচালকদের নিয়োগও বাতিল হবে অনেকের। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রশাসনের চিহ্নিত দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে সংবিধান ও আইনবিধি অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সচিবরা সরকারের অংশ। কোনো দলের নয়। সবারই একটা ভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে। কে কোন দলের আদর্শ ধারণ করছেন, সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়, আমরা মেধা এবং কাজ দিয়ে আপনাদের মূল্যায়ন করব।

অন্য একটি সূত্র জানায়, মেধাবী এবং যোগ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে বিশেষ আদর্শে নিয়োগ পাওয়াদের সরিয়ে নতুন মুখ আনতে চায় সরকার। ইতোমধ্যেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ৯ সচিবের চুক্তি বাতিল এবং তিন সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকালও সচিব পর্যায়ে কিছু রদবদল হয়েছে।

২ সচিবের দপ্তর বদল হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে চুক্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব করা হয়েছে।

এর আগে নতুন সরকার গঠন হলে সরানো হতে পারে এমন আশঙ্কায় নিজে থেকে সরে যান মন্ত্রিপরিষদ ও মুখ্য সচিব। তবে এখন এই দুটি পদে যারা আছেন তারাও চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন।

চুক্তির বাইরেও কিছু নিয়মিত সচিব পদে রদবদল আসতে যাচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার আঁকড়ে আছেন অনেক অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তমন্ত্রণালয় পরিবর্তন হবে। প্রশাসন ঠিক করার অংশ হিসেবে ওপর থেকে পর্যায়ক্রমে নিচের দিকে নামতে চায় সরকার। দ্রুতই জনপ্রশাসনে নিয়োগ পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ (এপিডি) নিয়োগ দেওয়া হবে। এপিডি শাখা থেকেই সব পর্যায়ের নিয়োগ ও রদবদল হয়। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি কয়েক মাস ধরে শূন্য।

জানতে চাইলে সাবেক সচিব এ কে এম আউয়াল মজুমদার বলেন, নতুন সরকার হলে কিছু রদবদল হয়। কাজের গতি ফেরাতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়। সত্যিকারের যোগ্য মেধাবী কর্মকর্তা হলে কাজের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। কর্মকর্তাদের দলদাস হওয়া উচিত নয়।

এদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস সময় নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। অনেকেই ৯টার অফিস ১০টায় হাজির হতেন। এতে নিয়মিত কাজে ভাটা পরে। এ কারণে কাজের গতি বাড়াতে অফিস সময় নিয়ে ছাড় দিচ্ছে না সরকার। নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি ও ত্যাগের একটি নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদের চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’-এর নির্দেশ মোতাবেক সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অধীন দপ্তর/সংস্থাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়।? মাঠপর্যায়ের সব অফিসের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটির দিনে স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর অধিদপ্তর থেকে পৃথক চিঠি জারি হচ্ছে কর্মকর্তাদের অফিসে ঠিকমতো উপস্থিত হতে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় চিঠি জারি করে জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে না এলে বা বিলম্বে উপস্থিত এবং নির্ধারিত সময়ের আগে বিনা অনুমতিতে ত্যাগ করলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে। আদেশে বলা হয়, সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মদিবসে সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত থাকতে হবে। অফিস সময় শেষ হওয়ার আগে কেউ দপ্তর ত্যাগ করতে পারবে না। রমজানে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটের আগে এবং রমজান-পরবর্তী সময়ে বিকাল ৫টার আগে অফিস ত্যাগ নিষিদ্ধ থাকবে।

যে তিন শ্রেণির নাগরিক আগে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড

আগামী ১০ মার্চ দেশের ১৪টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ বি এম জাহিদ হোসেন এ কথা জানান।

তিনি জানান, এটি একটা ইউনিভার্সাল কার্ড। কেউ বাদ যাবে না।
হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, এই তিন শ্রেণির সবাই আগেই কার্ড পাবেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবে সরকার। আগামী ১০ মার্চ দেশের ১৪টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ডা. জাহিদ বলেন, একটি মহল ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে বলে খবর পাচ্ছি।
তারা এটা প্রতারণা করছে। এই কার্ড সরকার সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেবে, কোনো টাকার প্রয়োজন নেই। কেউ টাকা চাইলে তাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বা স্থানীয় প্রশাসনের হাতে তুলে দিন।

৪ বছরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, উপকারভোগীদের সংগৃহীত সকল তথ্য সফটওয়্যারে সংরক্ষণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে যে ব্যাংক থেকে গ্রাহক টাকা তুলতে চান সেই ব্যাংক থেকেই তা তুলতে পারবেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আমরা ম্যানুয়ালি তথ্য সংগ্রহ করছি ইউনিয়ন পর্যায়ে। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য অফলাইন ও অনলাইনেও দেওয়া যাবে। তবে কেউ প্রতারণা করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কার্ড পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, এর জন্য তদবিরের কোনো প্রয়োজন নেই।

শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব হলেন মাউশি পরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রাজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টারস অফ স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলাইজেস)অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর সেকশন ১৪ (১) মোতাবেক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে (পরিচিতি নম্বর : ০০০০৩১৭৪) শিক্ষামন্ত্রী যতদিন তার পদ অলংকৃত করেন অথবা, যতদিন তাকে নিজের একান্ত সচিব পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন, ততদিন পর্যন্ত তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য বর্ণিত কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী দায়িত্বভার ভাতা প্রাপ্য হবেন।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।