শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬

গাজায় জাতিসংঘের ত্রাণবহর প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা

জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তাদের মানবিক সাহায্যপণ্যবাহী একটি ত্রাণবহরকে গাজার উত্তর অংশে প্রবেশ করতে দেয়নি। এ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারির পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় খাদ্যসহ সাহায্যপণ্য নিয়ে আসা প্রথম ট্রাকবহর ছিল এটি।

গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ এড়াতে সেখানে যতো দ্রুত সম্ভব সড়ক পথে প্রবেশের সব পথ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।

এদিকে পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস। তবে আলোচনার বিষয়ে হামাস জানিয়েছে ‘বল এখন ইসরায়েলের কোর্টে।’ তবে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে পৌঁছাতে যে প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলো এড়ানো যাবে না এমন নয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার (৫ মার্চ) সাক্ষাৎ করেছেন ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গান্টজ। তার এই সফর নেতানিয়াহুকে নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের হতাশাকে প্রকাশ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ইসরায়েলকে কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে এখনো সহায়তা করে যাচ্ছে দেশটি। এছাড়া কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে ব্লিঙ্কেনের।

অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় যুক্তরাজ্যের পাঠানো পানি বিশুদ্ধ করার ফিল্টার প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন একজন ব্রিটিশ এমপি। গত বছরের অক্টোবর মাসে এক হাজার ৩৫০টি ফিল্টার গাজায় পৌঁছানোর জন্য ওই চালান যায় যুক্তরাজ্য থেকে। তবে ইসরায়েল ‘সুনির্দিষ্ট হুমকি’র অভিযোগে ওই চালানটি আটকে দেয়।

গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত

৩০ হাজার ৬৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে আর আহত হয়েছে ৭২ হাজার ৪৩ জন। অন্যদিকে অক্টোবরে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৩৯ জন।
খবর আল-জাজিরা

জ্বালানি তেলের দামে ‘বড় ধরনের’ পরিবর্তন আসছে : প্রতিমন্ত্রী

নতুন স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে দাম সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দামে ‘বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

আজ বুধবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ঢাকা-চট্টগ্রাম জ্বালানি পাইপলাইন প্রকল্পের ডেচপাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে রিলায়েবল জ্বালানি দিতে চাই। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্ষেত্রে একই কথা। আগামীকাল থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের দামে বিরাট পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর পর থেকে প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহে দাম নির্ধারণ শুরু করছি। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা চালু করতে পারলে সেখানেও খরচ সাশ্রয় হবে। বিশ্ববাজারে যদি কোনো পরিবর্তন না হয়, তাহলে তেলের ক্ষেত্রে দাম আরও কমে আসবে।

প্রথমবার দাম সমন্বয় করতে গিয়ে দেশে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কিছুটা কমবে বলে মঙ্গলবারই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন প্রতিমন্ত্রী। তবে দাম কতটা কমবে, সেটি তিনি স্পষ্ট করেননি।

২০২২ সালের ৩০ আগস্ট তারিখের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন ১০৯ টাকা, পেট্রোল ১২৫ টাকা এবং অকটেন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চলতি মার্চ মাসের প্রথম দিনই মাসে মাসে দাম সমন্বয়ের নির্দেশিকা প্রকাশ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সেই নির্দেশিকায় চলতি মাস থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির দাম পুনর্র্নিধারণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, দর সমন্বয় করার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেয়েছে। ফলে দাম নির্ধারণের এ পদ্ধতি চলতি সপ্তাহ থেকেই কার্যকর হচ্ছে।

স্বচ্ছতা আনতে ভূমিসেবা কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে : ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেছেন, ভূমি সংক্রান্ত স্বচ্ছতার বিষয়ে মন্ত্রণালয় নজরদারি করবে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি সেবা নিশ্চিতে এবং খাসজমি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে।

ডিসিদের এমন প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই স্বচ্ছতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে। ভূমির বিষয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হয় জেলা প্রশাসকদের ওপর। ভূমি কমিশনারদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এসিল্যান্ড পর্যন্ত বিসিএস ক্যাডার, তাই আশা করছি স্বচ্ছতা বাস্তবায়ন করতে পারব। ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা আনতে ভূমিসেবা কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

আজ বুধবার (৬ মার্চ) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের চতুর্থ দিনের প্রথম অধিবেশনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্য অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদেও তিনি এসব কথা বলেন।

নজরদারি কীভাবে থাকবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় নজরদারি করবে। এ ছাড়া ডিসি, এসিল্যান্ড ও ইউনো আছে। আমরা স্থানীয়ভাবে সরাসরি পরিদর্শন করছি। জনগণের কাছ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনাদের নির্দেশনা কি ছিল জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী বলেন, আমরা যে পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করছি সেগুলো তাদের জানানো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে হবে। এ ছাড়া তারা খাস জমি নিয়ে কতগুলো সুপারিশ করেছে, আমরা সেগুলো উত্তর দিয়েছি। যে-সব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি সেসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের সহযোগিতা করা হবে, যাতে তারা সহজভাবে কাজ করতে পারে।

ভূমি অপরাধ আইনের কি অবস্থা জানতে চাইলে নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, ভূমি অপরাধ আইন হলে বিধির দরকার হয়। বিধির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এই আইন হলে জনগণ উপকৃত হবেন। ফলে কেউ দখলে থাকলে তিনি সুবিধা পাবেন না। কাগজই হবে শেষ কথা।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত অনেক আইন চলমান। ওগুলো তো আমরা নিষ্পত্তি করতে পারবো না। তবে এর বাইরে যেগুলো আছে সেগুলো যা যা করার দরকার সেসব আমরা করছি। একটি পরিপত্র ইতোমধ্যে জারি হয়েছে। স্পষ্ট করে যদি বলি, একটা খতিয়ান থেকে কেউ হয়ত বের হয়ে গেছে, ওই খতিয়ান ধরে অনেকে খাজনা দিতে পারছেন না। যারা বের হয়ে গেছে তাদেরটা আলাদা করে যারা বের হয়নি তাদের পৃথক খতিয়ান করে খাজনা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যারা বের হয়ে গেছেন, তাদের খাস খতিয়ানে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। একটা পর্যায়ে খ তফসিল থাকবে না।

ভূমির ডিজিটালাইজেশন, ভূমি কর, নামজারি অনলাইন করার কথা। যারা সেবাটা নেবেন তাদের এখনও ভূমি অফিস বা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে যেতে হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রেকর্ড ডিজিটালাইজেশন না হওয়া পর্যন্ত এটা পুরোপুরি সম্ভব না।

কারণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, যেমন ধরেন একটা খতিয়ানে ১০ জন শরিক বা অংশীদার আছেন। এখন কাউকে না জানিয়ে একজন শরিক বিক্রি করে দিয়েছেন। নামজারির আগে তো অন্য শরিকদের বিষয়টি জানাতে হবে, এটা তো তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়। আইন অনুযায়ী শরিককে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। কিন্তু যখন ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে তখন তো প্রত্যেকটা খতিয়ান পৃথক ব্যক্তি নামে হচ্ছে। সেই পৃথক খতিয়ান অনুযায়ী ম্যাপিং হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে চললে সাব রেজিস্ট্রার যখন রেজিস্ট্রি করবেন তা অনলাইনে চলে যাবে এসিল্যান্ডের কাছে। এসিল্যান্ড অফিসে কিন্তু সমস্ত ছবি আসছে ম্যাপসহ। কখন আর নোটিশ হবে না, অটোমেটিক নামপত্র হয়ে তার কাছে চলে যাবে। এখন আমরা যদি ভুল ম্যাপ দেই অথবা ম্যাপ যদি ডিজিটালাইজড করতে না পারি তাহলে নোটিশটা পৃথক নামেই থেকে যাবে।

১০ মের মধ্যে ভারতীয় সেনাদের ছাড়তে হবে মালদ্বীপ

আগামী ১০ মের পর ভারতীয় কোনো সামরিক কর্মী মালদ্বীপে থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুইজু।

চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরের দিন সোমবার এ কথা জানান তিনি। এ চুক্তির আওতায় চীন মালদ্বীপকে বিনামূল্যে সামরিক সহায়তা দেবে।

মুইজু তার বার্তায় বলেন, ১০ মের পরে কোনো ইউনিফর্ম পরা ভারতীয় সামরিক কর্মী, এমনকি বেসামরিক পরিচয়ে সাদা পোশাকে ভারতীয় সৈন্যকেও মালদ্বীপে থাকতে দেয়া হবে না।

তার এই বার্তা মুইজুর ভারতবিরোধী বক্তব্যকে আরও জোরদার করে।

একটি ভারতীয় বেসামরিক দল মালদ্বীপের তিনটি বিমানবন্দরের একটি দখল করতে দ্বীপরাষ্ট্রে যাওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মুইজুর বার্তাটি এসেছে।

মুইজুকে উদ্ধৃত করে দ্য অ্যাডিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অনেকে ভারতীয় সেনাদের বহিষ্কারে সরকারের সাফল্য সম্পর্কে গুজব ছড়াচ্ছে এবং তারা পরিস্থিতি বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তারা বলতে চাইছে, ভারতীয় সৈন্যরা চলে যাচ্ছে না, তারা ইউনিফর্ম পরিবর্তন করে বেসামরিক পোশাক পরে ফিরছে। কিন্তু আমাদের এমন চিন্তা করা উচিত নয়, যা আমাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে এবং মিথ্যা ছড়ায়।’

মালদ্বীপে তিনটি ভারতীয় প্ল্যাটফর্মে ৪৪টি ভারতীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। মুইজু গত বছর ভারত-বিরোধী অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং শপথ নেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দেশ থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবি করেছিলেন।
খভর এনডিটিভি

গুলশানে ‘কাচ্চি ভাই’কে ১ লাখ টাকা জরিমানা

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া গুলশানের ধানসিঁড়ি রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার এবং সোনারগাঁও জেনারেল স্টোর নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকার গুলশান ও বনানী এলাকায় ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলকার নায়ন ও মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযানে নামে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। তাতে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিস।

অভিযানের শুরুতে গুলশান-২ নম্বর সার্কেলের হোসেন ভবনে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাঁচতলা ওই ভবনে ‘কাচ্চি ভাই’সহ রেস্তোরাঁর সংখ্যা আটটি।

‘কাচ্চি ভাইয়ে’ গিয়ে কাগজপত্র দেখতে চাইলে দায়িত্বরত কর্মচারীরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আর কিছু দেখাতে পারেনি বলে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলকার নায়ন জানান।

বিরিয়ানির ওই দোকানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না জানিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট নায়ন বলেন, ‘তারা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আর কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি। তাদের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নেই, কোনো ফায়ার এক্সিট নেই। এ কারণে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আবার পরবর্তী অভিযানে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সিলগালা করে দেওয়া হবে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নায়ন বলেন, গুলশান ও আশপাশের এলাকার রেস্তোরাঁগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে অভিযানে।

গুলশানের সাততলা ‘সেবা হাউজ’ ভবনের নিচতলায় মালামাল রাখায় সোনারগাঁও জেনারেল স্টোরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি আমরা। মালমালগুলো সোনারগাঁও স্টোরের। এছাড়া অপ্রতুল অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও রেস্তোরাঁর কিচেনের পরিবেশ ভালো না থাকায় ধানসিঁড়িকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে লাগা আগুনে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও অনেকে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৪২ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির এডিসি জুনায়েদ আলম।

তিনি জানান, কয়েক দিন থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ধরার অভিযান চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় ডিবির বিভিন্ন টিম অভিযান চালায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের ৪২ জনকে গ্রেপ্তার হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বিস্তারিত জানাবেন।

১ ঘণ্টা ফেসবুক বন্ধ : জাকারবার্গের ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি

মেটা পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেড ও মেসেঞ্জার গতকাল মঙ্গলবার প্রায় ১ ঘণ্টা অচল ছিল। বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৯টার দিকে হঠাৎ ডাউন হয় মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেড ও মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হঠাৎ লগ-আউট হয়ে যায়। এতে অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বেশিরভাগ মানুষ ভয় পেয়ে যান এই ভেবে যে তাদের আইডি হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে।

তবে সব আশঙ্কা দূর করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফের সচল হয় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেড ও মেসেঞ্জার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী মেটার এসব মাধ্যম এক ঘণ্টা বন্ধ থাকায় মেটার শেয়ারের দামও ১.৫ শতাংশ কমে গেছে। একই সঙ্গে এর কারণে মার্ক জাকারবার্গ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান ডাউন ডিটেকটরের গ্রাফে দেখা গিয়েছিল, রাত ৯টা থেকে ৯টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত ৩ লাখ ৫২ হাজার ২৯ জন ফেসবুক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন তারা ফেসবুক ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।

ব্যবহারকারীরা জানান, রাত ৯টার পর হঠাৎ করেই তাদের ফেসবুক আইডি লগআউট হয়ে গেছে। শুধু মুঠোফোন ব্যবহারকারীরা নয়, কম্পিউটারে ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও একই সমস্যায় পড়েছেন।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রাম ফিরে আসার পর রাত ১১টা ১৯ মিনিটে এ ঘটনার ব্যাখা দেন মেটার প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা অ্যান্ডি স্টোন। এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আজ একটি কারিগরি ইস্যু আমাদের পরিষেবাগুলোতে ব্যবহারকারীদের প্রবেশে সমস্যা সৃষ্টি করেছিল। আমরা যতটা দ্রুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধান করেছি। যারা এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন আমরা তাদের সবার কাছে ক্ষমা চাইছি।’

এর আগে ২০২১ সালের ৪ অক্টোবর তারিখে ৬ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ ছিল ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম। সেসময় ছয় ঘণ্টার ওই বিভ্রাটে ৭০০ কোটি ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন জাকারবার্গ। আর বিশ্ব অর্থনীতি ১০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছিল।

শৃঙ্খলায় না ফেরা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে : মেয়র তাপস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, অবৈধ ভবন ও রেস্তোরাঁয় অভিযান পরিচালনা করে যেখানে সমস্যা পাওয়া যাবে, প্রাথমিকভাবে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। শৃঙ্খলায় না ফেরা পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আজ বুধবার (৬ মার্চ) রাজধানীর মতিঝিলের সাউথ পয়েন্ট নগর ব্যায়ামাগার উদ্বোধন করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, একটি দুর্ঘটনা ঘটলে, পরে দায়সারা তদন্ত হয়। ফলে কে অপরাধী সে দায়ভার নির্ধারণ হয় না। যার কারণে তারা পার পেয়ে যান। এতে বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে মানুষের মুখের কথায় একজনের উপর আরেকজনের দায়ভার চাপানোর অপচেষ্টা না করে আইনের আওতায় যেভাবে দায়ভার নির্ধারণ করা হয় সেটি করতে হবে।

বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের দায়ভার রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাব মেয়র তাপস বলেন, বেইলি রোডের দুর্ঘটনায় আমরা অত্যন্ত শোকাহত। এখানে ৪৬টি তাজা প্রাণ চলে গেছে। আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং জাতি শোকাহত। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে যে, বিভিন্নভাবে ঢালাওভাবে দায়ভার এবং দোষারোপ করার একটি অপউদ্যোগ চলছে। এটি বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মহল করছে। আসলে দায়ভার বা দায়িত্ব এটা নির্ণয় করবে আইন। এখানে কেউ ঢালাওভাবে কিছু বললে আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সেটাকে প্রভাবিত করবে। সুতরাং আমি সকলকে অনুরোধ করব, তথ্য-উপাত্ত ছাড়া সঠিকভাবে না জেনে ঢালাওভাবে দোষারোপ বা দায়ভার দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। সারা বিশ্বে আইনগতভাবেই এগুলো নির্ধারিত। আইন বলে, যে কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তার জন্য যে সংস্থা দায়িত্বশীল তাদেরকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশ স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের আইনগুলো ব্রিটিশ সরকারের আইনটাই এখন পর্যন্ত ব্যবহার করছি। আমরা যদি বেইলি রোডের দুর্ঘটনা দেখি তাহলে দেখব যে, সেখানকার সিঁড়িটি প্রশ্রস্ত ছিল না। একটি ৯ থেকে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করতে হলে বেশ কিছু ইমারত বিধিমালা মানতে হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই বিধিমালা প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম দায়ভার কার? এখানে প্রথম দায়ভার হচ্ছে একজন স্থপতির। যিনি এই ভবনের নকশা তৈরি করেছেন। কারণ বাড়ির মালিক তার কাছে পেশার সেবা নিতে যাচ্ছেন। সারা বিশ্বের আইনে বলা আছে যিনি পেশার সেবা দেবেন তাকে বিশেষভাবে যথাযথ আইনের নীতিমালাগুলো পরিপালন করতে হবে। দশতলা ভবনে কতটুকু প্রশস্ত সিঁড়ি থাকার কথা সেটি ওই পেশাদার স্থপতির জানার কথা। সেখানে কয়টি সিঁড়ি থাকবে সেটা ওই স্থপতিই ঠিক করে দেবেন। সেখানে ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী কি কি সুবিধা থাকতে হবে, কতটুকু জায়গা ছাড়তে হবে, সিঁড়ি কতটি হবে এবং কতটুকু প্রশস্ত হবে এই সবকিছুর দায় সেই স্থপতির উপর বর্তায়। সে হিসেবে প্রথম দায়ভার হচ্ছে স্থপতির।

দ্বিতীয় দায়ভার হচ্ছে যে এই নকশাটা অনুমোদন করছেন তার। তাকে দেখতে হবে নকশাটা সরকারের বিধিমালা অনুযায়ী হয়েছে কিনা। এখানে যদি কোনো অবহেলা বা গাফিলতি থাকে তাহলে সেটি সেই কর্তৃপক্ষের দায়ভার হবে।

এর পরের ধাপে আসলে আমরা দেখতে পাই ভবন নির্মাণে কিছু ছাড়পত্র নিতে হয়। যেসব কর্তৃপক্ষ এসব ছাড়পত্র দিয়েছেন এর পরের দায় তাদের উপর বর্তাবে।

মেয়র আওা বলেন, এখানে তাদের অবহেলা বা গাফিলতি আছে কি না, সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে আইন। আবার এখানে মালিক পক্ষের দায়ভারও রয়েছে।

তাই ঢালাওভাবে কারো ওপর দায় না চাপিয়ে তদন্তে করা উচিত উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দায়সারা তদন্ত হয়। আইনের আওতায় ও নির্দিষ্ট দায়ভার নির্ধারণের তদন্ত সচরাচর দেখি না। সেজন্য আমি সকলকে অনুরোধ করব যেন, তদন্ত কমিটি করে এই দায়ভার নিশ্চিত করা এবং তার মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়ে বিচার সম্পন্ন করা হয়। একটি নজির যদি আমরা স্থাপন করতে পারি তাহলে আশা করতে পারি ভবিষ্যতে এরকম দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কিংবা এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী-ওআইসি মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাতে হাছান মাহমুদ

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন-ওআইসির মহাসচিব হিসেন ব্রাহিম তাহার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির ১৯তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সেশনের ফাঁকে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওআইসির মহাসচিবের স‌ঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ ক‌রেন তিনি।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততায় সন্তোষ ব্যক্ত করেন এবং আগামী দিনে এ সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

এসময় তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফর শিগগিরই সুবিধাজনক সময়ে হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসন্ন এ সফর নিয়ে আরও আলোচনা হবে এবং সৌদি আরব বাংলাদেশের সঙ্গে বিগত তিন বছরে অত্যাধুনিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে তাদের সম্পৃক্ততা বিবেচনা করে।

আইটিবি বার্লিনে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করলেন পর্যটনমন্ত্রী

বিশ্বের বৃহত্তম পর্যটন মেলা আইটিবি বার্লিনে ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’ উদ্বোধন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান।

তিন দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধনী দিনে মঙ্গলবার (৫ মার্চ) জার্মানির বার্লিনে তিনি এ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মো. সাইফুল ইসলাম।

প্যাভিলিয়ন উদ্বোধনের সময় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রচারের মাধ্যমে আমাদের পর্যটন পণ্যগুলো বিশ্বের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলাগুলো আমাদের পর্যটন পণ্য ও সেবা বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য একটি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশের এ ধরনের মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।