বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

ইরানে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ১ অক্টোবর ব্যাপক আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর জবাব দিতে দেশটিতে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক এক ভাষণে এই ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী।

নেতানিয়াহু বলেন, সম্প্রতি ইরান ইসরাইলের যে মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, বিশ্বের অন্য কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর এই মাত্রার হামলা বরদাস্ত করবে না, ইসরাইলও করবে না।

তিনি বলেন, নিজের ভূখণ্ড ও নাগরিকদের রক্ষা করা শুধু আমাদের অধিকারই নয়, এটি ইসরাইলের দায়িত্বও। ইসরাইল সেই দায়িত্ব নিশ্চিতভাবেই পালন করবে।

ইরানের সমর্থন সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দমনে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণ লেবাননে অভিযান শুরু করে ইসরাইলের স্থল বাহিনী। এ অভিযান শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১ অক্টোবর সন্ধ্যার পর থেকে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু করে ইরানের সেনাবাহিনীর এলিট শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সেদিন সন্ধ্যার পর থেকে ২ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে আইআরজিসি।

অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই অবশ্য ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দিতে পেরেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ), তবে ওই ঘটনার পর থেকে গুঞ্জন উঠেছিল যে ইরানে হামলা চালাতে পারে ইসরাইল , তবে এতদিন এ প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলেনি জেরুজালেম। শনিবারের ভাষণে প্রথম এ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র: আনাদোলু, টাইমস অব ইসরাইল

গাজায় মসজিদে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ২৪, আহত ৯৩

গাজার একটি মসজিদে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯৩ জন। রোববার (৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় ভোরে এ হামলা চালায় ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদটি বাস্তুচ্যুত লোকদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বছরখানেক ধরে চলা যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হওয়া বহু ফিলিস্তিনি ওই মসজিদে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, দেইর-এল-বালাহ এলাকায় সাহদা আল-আকসা মসজিদটি নিজেদের কাজের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল হামাস। এই কেন্দ্রকে হামাস ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল কমপ্লেক্স’ হিসেবে ব্যবহার করছিল। তাই সেখানে বোমা হামলা চালানো হয়েছে।.

অর্থ লুটকারীদের ছাড় দেয়া হবে না: অর্থ উপদেষ্টা

দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থের অপচয় ও লুটকারীদের ছাড় দেবে না সরকার। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। যাতে আর কেউ এটি করার সাহস না পায়। — এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে কর্পোরেট গভর্নেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের জনগণ অনেক পরিশ্রমী এবং তাদের দক্ষতা রয়েছে। বিভিন্ন বাধা ও সুযোগ না পাওয়ার কারণে তারা এগিয়ে যেতে পারছে না। এই বাধা সরিয়ে মানুষের সৃজনশীলতা ও কর্ম উদ্যমকে কাজে লাগাতে চাই।

এ সময় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুশাসনের অভাব বর্তমানে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া, রাজস্ব ফাঁকি রোধে কোম্পানি সচিবদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার তাগিদও দেন তিনি।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: বাংলাদেশকে ২১ রানে হারিয়ে আসর শুরু করলো ইংলিশরা

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ২১ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। শনিবার (৫ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশকে ১১৯ রানের টার্গেট দেয় ইংল্যান্ড। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯৭ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

আগে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা করে ইংলিশরা। দুই ওপেনার মাইয়া বাউচিয়ার ও ড্যানিয়েল ওয়াট-হজ মিলে গড়েন ৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। ব্যক্তিগত ২৩ রানে রাবেয়া খানের বলে নাহিদা আক্তারের তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফেরেন বাউচিয়ার। অপর ওপেনার ড্যানিয়েল ওয়াটের ব্যাট থেকে আসে ইনিংসের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪১ রান। অ্যামি জোন্স করেন অপরাজিত ১২ রান। এছাড়া বাকি ব্যাটাররা দুই অঙ্কের রানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ১১৮ রানে শেষ হয় ইংল্যান্ডের ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন নাহিদা আক্তার, ফাহিমা খাতুন ও রিতু মনি। একটি উইকেট তুলে নেন রাবেয়া খান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। সর্বোচ্চ ৪৪ রান আসে শোভানা মোস্তারির ব্যাটে। বাকিদের মধ্যে নিগার সুলতানার ১৫ রান ছাড়া সবাই প্যাভিলিয়নে ফেরেন এক অঙ্কের রানে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ৯৭ রানে থামে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের পক্ষে দুটি করে উইকেট তুলে নেন লিন্সে স্মিথ ও ডিন।

উল্লেখ্য, এ ম্যাচের ফলাফলে গ্রুপ টেবিলে তিন নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) একই মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে তারা।

অন্তর্বর্তী সরকারকে সংসদের মেয়াদ কমানোর প্রস্তাব গণঅধিকার পরিষদের

অন্তর্বর্তী সরকারকে সংসদের মেয়াদ এক বছর কমিয়ে চার বছর করার পরামর্শ দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। পাশাপাশি দ্বি কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের দাবিও জানিয়েছে দলটি। শনিবার (৫ অক্টোবর) রাতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠক শেষে এ কথা জানান দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর।

নুরুল হক নুর বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে উপদেষ্টা পরিষদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর পেছনে ইন্দনদাতাদের খুঁজে বের করতেও পরামর্শ দিয়েছি। এ সময় রাষ্ট্র সংস্কারে মোট ১২ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও চিকিৎসা কমিশন গঠন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এ সময় গণহত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শেখ হাসিনার আমলে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনারও দাবি জানান তিনি।

ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে দুই মাস ধরে নিবন্ধনকাজ ব্যাহত

১ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তা তালাবদ্ধ।

কিছু সময় পর সেখানে উপস্থিত হন কয়েকজন মশকনিধনকর্মী। তাঁদের দুজন মেহেদী হাসান ও হাবিবুর রহমান। তাঁরা জানান, কার্যালয়টি প্রায় দুই মাস ধরে তালাবদ্ধ। তাঁরা এসেছেন হাজিরা দিয়ে মশকনিধনের ওষুধ নিতে। কার্যালয়ে জন্ম–মৃত্যুনিবন্ধনসহ অন্যান্য কাজ বন্ধ রয়েছে। মশকনিধনকর্মীদের হাজিরা দেওয়ার সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন এসে তালা খুলে দেন।

রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়ায় অবস্থিত কার্যালয়টির সামনে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর একজন এসে তালা খুলে দেন। ভেতরে গিয়ে দেখা গেল ভাঙাচোরা কিছু জিনিস স্তূপ করে রাখা। একটি টেবিলে আধা পোড়া কাগজপত্রের ফাইল পড়ে আছে।

কবে থেকে কার্যালয়ে জন্ম–মৃত্যুনিবন্ধনসহ কাজ বন্ধ রয়েছে, জানতে চাইলে মো. রায়হান হোসেন নামের আরেক মশকনিধনকর্মী বলেন, গত ৬ আগস্ট থেকে কার্যালয়টি বন্ধ। সেদিন দুপুরের দিকে কিছু লোক এসে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। তারা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও টেলিভিশন লুট করে নিয়ে যায়। কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে বিভিন্ন কাগজপত্র পুড়ে যায়।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। জানা গেছে, সরকার পতনের পর রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে হামলা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মোট ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে পুরোনো (১ থেকে ৩৬ নম্বর) ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করে। বাকি ১৮টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মতো আঞ্চলিক নির্বাহী কার্যালয়ে গিয়ে এই নিবন্ধন করতে হয়। কিন্তু হামলার কারণে বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে নিবন্ধনসেবা বন্ধ হয়ে যায়। এসব কার্যালয়ে দুই মাস ধরে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের কাজ বন্ধ রয়েছে অথবা ব্যাহত হচ্ছে। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া ছিল। এ জন্য দেশজুড়ে গত ১৮ জুলাই থেকে ১০ দিন জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের কাজ বন্ধ ছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ ৬ অক্টোবর পালিত হচ্ছে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধন, আনবে দেশে সুশাসন’।

জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. যাহিদ হোসেন গত সোমবার তাঁর কার্যালয়ে বলেন, কোনো ওয়ার্ডে দুই মাস ধরে নিবন্ধনের কাজ বন্ধ থাকলে তা তাঁদের দিকের সমস্যা। নিবন্ধনকাজ যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের পরিবর্তে কারা দায়িত্ব পালন করবেন, কীভাবে নিবন্ধনের কাজ হবে, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধনের কাজ করার জন্য ডিএনসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮০ জনকে পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। তাই জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের কাজ বন্ধ নেই।

যাহিদ হোসেন আরও বলেন, জন্মনিবন্ধন সনদ থাকলে একজন নাগরিক ২২টি সেবা নিতে পারেন। তাই সুশাসন নিশ্চিতে নির্ভুল জন্মনিবন্ধন দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের সিস্টেমের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৪টি জন্মনিবন্ধন হয়েছে। আর মৃত্যুনিবন্ধন হয়েছে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৬৬০টি। অন্যদিকে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই দুই মাসে ডিএনসিসিতে ১২ হাজার ৭৯৭টি জন্ম ও ৪৯০টি মৃত্যুনিবন্ধন হয়েছে। ডিএসসিসিতে ৬ হাজার ৮০১টি জন্ম ও ২৬৭টি মৃত্যুনিবন্ধন হয়েছে।

বারবার সেবা ব্যাহত
গত ২৬ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের সব কাউন্সিলরকে অপসারণ করে সরকার। এর আগে বেশির ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা পলাতক থাকায় নিবন্ধনের কাজে ব্যাঘাত ঘটে।

গত সপ্তাহে কোনো কোনো ওয়ার্ড সচিবকে অন্য ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। যেমন ১১ নম্বর ওয়ার্ডে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের সচিব।

জানতে চাইলে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের সচিব জোবায়ের আহমেদ বলেন, গত সপ্তাহে তিনি ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদনপ্রক্রিয়ার জন্য তাঁকে নতুন করে পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

ডিএনসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মতো একই অবস্থা রাজধানীর কালাচাঁদপুরে অবস্থিত ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের। সেখানে হামলা হওয়ায় নিবন্ধনকাজ বন্ধ রয়েছে। এই ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সচিবকে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সচিবকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সচিবকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিবন্ধনকাজের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগেও নিবন্ধনসেবা পেতে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে নাগরিকদের। গত বছর ‘সার্ভার ডাউন’ ও ই-পেমেন্টের কারণে নিবন্ধনের নতুন আবেদন ও সংশোধন নিয়ে নাগরিকদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। অবশ্য সিস্টেমের সক্ষমতা বাড়ানো ও ই-পেমেন্ট বন্ধ করা হলে চলতি বছর দেশজুড়ে ভোগান্তি কমে আসে।

তবে ডিএসসিসির কিছু সিদ্ধান্তের কারণে এই এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি জিইয়ে ছিল। ডিএসসিসি গত বছরের মাঝামাঝি সময় নিবন্ধন ফির অর্থ নিজস্ব তহবিলে জমার দাবিতে চার মাস নিবন্ধন বন্ধ রেখেছিল। এরপর ৪ অক্টোবর নিজস্ব সিস্টেম দিয়ে তারা নিবন্ধন শুরু করে। এই সিস্টেমের তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে জমা হতো না। ফলে এই নিবন্ধন নিয়ে বাসিন্দারা পাসপোর্টসহ অন্য সেবা নিতে পারতেন না।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ১৪ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ অফিস আদেশ জারি করলে ডিএসসিসির নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে নেওয়া শুরু হয়। দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটে। তবে জন্ম ও মৃত্যুসনদ পেতে নাগরিকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি এখনো রয়ে গেছে।

‘এক সপ্তাহের মধ্যে নিবন্ধন কাজ স্বাভাবিক হবে’

ডিএনসিসির সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত ২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রথম সভা গত বৃহস্পতিবার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।

সভার পর ডিএনসিসির প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জন্ম–মৃত্যুনিবন্ধনসহ কাউন্সিলর কার্যালয়ে যেসব নাগরিক সেবা দেওয়া হতো, সেসব সেবার ঘাটতি মোকাবিলায় আলোচনা হয়েছে। যেসব কাউন্সিলর কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর তালিকা করা হচ্ছে।

প্রশাসক আরও বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে নিবন্ধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবার কাজ স্বাভাবিক হবে। কাউন্সিলরদের পরিবর্তে ওয়ার্ডগুলোয় সিটি করপোরেশনের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ওয়ার্ড সচিবকে দুটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখনো অনেক ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানেন না, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের সেবা তাঁরা কোথায় পাবেন। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে প্রচার বাড়ানো হবে, যাতে বাসিন্দারা বুঝতে পারেন কোন ওয়ার্ডে গেলে সেবা পাবেন।

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, মৃত্যু বেড়ে ৫

টানা প্রবল বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ’আটাশির’ বন্যার চেয়েও এবার ভয়াবহ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

রোববার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় বন্যার্তরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর পানি কমে বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং চেল্লাখালী নদীর পানি কমে বিপদসীমার ১৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উজানের ঢলের পানি নেমে আসা অব্যাহত থাকায় শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এখনো শেরপুরের ৫টি উপজেলার কমপক্ষে শতাধিক গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের মাঠ তলিয়ে রয়েছে। অসংখ্য বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে মাছের খামার থেকে কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে যাওয়ায় খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

গত শুক্রবার রাতে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বের হয়ে বন্যার পানিতে নিখোঁজ হওয়া নালিতাবাড়ী উপজেলার অভয়নগর গ্রামের বাছির উদ্দিনের ছেলে দুই ছেলে আবু হাতেম (৩০) ও আলমগীরের (১৭) লাশ শনিবার ওই এলাকার একটি ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বাতকুচি গ্রামের আব্দুল হাকিমের স্ত্রী জহুরা খাতুন (৪৫)। এছাড়া ঝিনাইগাতীর সন্ধ্যাকুড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে এসেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অজ্ঞাত এক নারীর গলিত লাশ।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থরা বলছেন, এবারের বন্যা অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। অনেকেই বলেছেন ‘আটাশির বন্যার চেয়েও এবার ভয়াবহ’। মাছের খামারিরা বলছেন, তাদের খামারের মাছ ভেসে যাওয়ায় তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অনেক স্থানে পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবল তোড়ে ভেঙে গেছে ঘরবাড়ি, গাছপালা। পানি উঠায় অনেকের বাড়িতে চুলা জ্বলছে না। তাই রান্না-খাওয়া বন্ধ রয়েছে। বন্যা কবলিত পরিবারগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়ি-ঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকে নিরাপদ স্থানে ও আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারের জন্য কাজ করছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে শেরপুর থেকে তিনআনী হয়ে নালিতাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের রানীগাঁও সেতুর কাছে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় শনিবার দুপুর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া শেরপুর থেকে গাজীর খামার হয়ে নালিতাবাড়ীগামী রাস্তার কলসপাড় ইউনিয়নের ৪টি স্থানের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ওই সড়কে যানবাহন ও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এছাড়া নালিতাবাড়ী-নাকুগাঁও স্থলবন্দর সড়কসহ জেলার অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১০টি সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যায় জেলায় ৭ হাজার ৬৯৬ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান সম্পূর্ণ নিমজ্জিত, ৯ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমির রোপা আমন আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ২০৮ হেক্টর জমির সবজির সম্পূর্ণ এবং ৪১৩ হেক্টর আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যায় ৬৫ হাজার ৪০০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) তরফদার মাহমুদুর রহমান রোববার সকালে বলেন, শনিবার রাতে ভারি বৃষ্টি হয়নি। তবে রোববার সকাল থেকে আবার বৃষ্টি হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকায় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন। বন্যার্তদের সহায়তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা পুরোদমে চলছে। তাছাড়া ১৭টি মেডিকেল টিম বানভাসি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য এলাকায় কাজ করছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে বন্যার্তদের চিকিৎসা নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ, নিহত ১২

পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ছয় সেনাসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশটির উত্তর ওয়াজিরিস্তানের স্পিনওয়াম এলাকায় এ গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত সেনারা হলেন- লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ আলি শৌকত, ল্যান্সনায়েক মুহাম্মদ উল্লাহ, ল্যান্সনায়েক ইউসুফ আলী, ল্যান্সনায়েক শহীদ উল্লাহ, ল্যান্সনায়েক আখতার জামান ও সিপাহি জামিল আহমেদ।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী জেলাটিতে শুক্রবার গভীর রাতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ আলি শৌকতের নেতৃত্বাধীন একটি সেনাদলের সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে শৌকতসহ আরও পাঁচ সেনা নিহত হন।

‘স্মরণকালের’ ভয়াবহ বন্যায় শেরপুরে নিহত ৪, উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের সব পাহাড়ি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, নকলা শ্রীবরদী এবং শেরপুর সদরের অন্তত ৪০টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম। আকস্মিক এ বন্যায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পানিবন্দী অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন মৃত্যুর খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীতে বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন ইদ্রিস আলী, খলিলুর রহমান ও বাঘবেড় বালুরচর গ্রামের ওমিজা বেগমসহ চারজন। নিখোঁজ রয়েছেন একজন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে বন্যায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চললেও পানির প্রবল স্রোত আর পর্যাপ্ত নৌযানের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার কাজ। সেনাবাহিনীর ছয়টি টিম ছয়টি স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর নাকুগাঁও পয়েন্টে পানি ১ সেন্টিমিটার এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তীব্র স্রোতে অপর পাহাড়ি নদী চেল্লাখালীর ওয়াটার গেজ উঠে যাওয়ায় এখানকার পরিমাণ জানা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন। সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র, মৃগী ও দশানী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে পাহাড়ি নদীগুলোর উজানে নদীর পানি কিছুটা কমলেও থেমে থেমে ভারী বর্ষণের ফলে বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। বরং ভাটি এলাকায় পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার রাত থেকে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে ঘরের চালে, সিলিংয়ে ও মাচায়। অনেককে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। শেরপুরের বিভিন্ন বেসরকারি বেশ কয়েকটি সংগঠন এবং জেলা বিএনপির উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবারসহ কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। জেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল দুপুরে ঝিনাইগাতি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

নালিতাবাড়ীর ভোগাই, চেল্লাখালী নদীর ও ঝিনাইগাতীর মহারশির বিভিন্ন স্থানের বাঁধে ব্যাপক ভাঙন হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজিরখামার সড়ক, শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া তিনআনী সড়ক, নালিতাবাড়ী-নাকুগাঁও স্থলবন্দর সড়কসহ জেলার প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১০টি সড়ক। বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ পাকা ও কাঁচা সড়ক। ভেসে গেছে এসব এলাকার সব পুকুরের মাছ। সেইসঙ্গে অনেক পরিবারের গবাদি পশু ভেসে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে উঠতি আমনক্ষেত।

বিভিন্ন স্থানে ঢলের পানিতে ধ্বসে ও ভেসে গেছে কাঁচা ঘরবাড়ি। পানিতে ভাসছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। এসব এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কিছু আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেকে বিপাকে পড়েছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত জেলার সাড়ে সাড়ে ৮শ হেক্টর জমির আমন ধানের আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। সাড়ে ৯০০ হেক্টর জমির সবজির আবাদ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুরে বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ মিলিমিটার এবং নালিতাবাড়ীর দুটি পয়েন্টে ১৭০ ও ১০০ মিলিমিটার।

বিরাজনীতিকরণ-মাইনাস টু-জঙ্গিবাদ দেখতে চাই না, উদার গণতন্ত্র দেখতে চাই: ফখরুল

মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে সময় দিচ্ছি, সময় দিবো। কিন্তু কতদিন? আমরা সেই পর্যন্ত সময় দিবো, যতদিনে যৌক্তিকভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যাবে। বিরাজনীতিকরণ দেখতে চাই না। মাইনাস টু দেখতে চাই না। জঙ্গিবাদ দেখতে চাই না। উদার গণতন্ত্র দেখতে চাই।

শনিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শিক্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বহু মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশে পরিবর্তন এসেছে। সাময়িক বিজয় হয়েছে, যা ধরে রাখতে হলে সুসংহত থাকতে হবে। এটা গুরুত্বপূর্ণ সময়। সরকার পরিবর্তন হওয়ায় এখন দলে দলে বেরিয়ে আসছেন। নানা দাবি নিয়ে আসছেন। আর আগে জমি বিক্রি করে আওয়ামী লীগের এমপিদের কাছে চাকরির জন্য টাকা দিয়েছেন। দেশ পরিবর্তন না করতে পারলে জাতি চরমভাবে হতাশ হবে।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে গেছে মনে করে হাওযায় যেন না ভাসি। না, ক্ষমতায় আসেনি। তাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছরের পরও দেশের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা শিক্ষাব্যবস্থা। যে দলটি গণতন্ত্রের পুরোধা বলে দাবি করেছিল, সেই দলটির কারণে দেশে গণতন্ত্র নিহত হয়েছে। পতিত সরকার দেশে বৈষম্যের পাহাড় গড়ে তুলেছে। ৩১ দফায় আমরা সব সমস্যা ও সমাধানের কথা বলছি।

দুর্নীতির ভূত দূর করতে হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, না হলে কোনো কিছুই করতে পারবে না। আমরা ব্যর্থ হয়নি, আগেও জয়ী হয়েছি, এবারও জয়ী হবো। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। বাইরে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।