বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

কোলেস্টেরল কমাতে চুমুক দিন ৩ পানীয়তে

আপনি অনেক সময় নিয়ম মেনে ওষুধ খেলেও আপনার কমাছে না কোলেস্টেরল। তাই আপনি কীভাবে সুস্থ থাকবেন, তার ঘরোয়া উপায়ও জেনে রাখা উচিত। কিছু পানীয় আছে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। সে রকম কিছু পানীয়তে চুমুক দিতে পারেন। এতে আপনার কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করবে।

আপনি জানেন কী— কোলেস্টেরল মানেই হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি। আর তাই কোলেস্টেরল কোনোভাবেই বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু সব সময় নিয়ম মেনে চলা সম্ভব হয় না। খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম হয়েই যায়। সদ্য উৎসব পেরোল। আনন্দ-উৎসবের সময় খাওয়াদাওয়ায় বিধিনিষেধ মেনে চলা সত্যিই বেশ কঠিন।

তবে অনিয়ম করলেও কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, তার উপায়ও জেনে রাখা উচিত। কিছু পানীয় কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এতে চুমুক দিতে পারেন তেমন কিছু পানীয়ে।

গ্রিন টি
আপনার শরীর ঝরঝরে রাখতে অনেকেই প্রতিদিন গ্রিন টি খান। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি কোলেস্টেরলের সঙ্গে লড়তেও গ্রিন টি অত্যন্ত উপকারী। গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটাচিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। গবেষণা জানাচ্ছে, দুই মাস একটানা রোজ গ্রিন টি খেলে খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএলের মাত্রা ১৪ শতাংশ কমে যায়।

বেরির স্মুদি
ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ও ক্র্যানবেরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ফাইবার। কম ফ্যাটযুক্ত দুধের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকার বেরি মিশিয়ে তৈরি করে নিন স্মুদি। কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে সকালের জলখাবারে বেরির স্মুদি রাখতেই পারেন। সপ্তাহে তিন দিন খেলেই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

কমলালেবুর রস
কমলালেবুর রস খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। কিছু দিন পরেই শীত চলে আসবে। বাজারে ভরে যাবে কমলালেবু। কমলালেবু ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, প্রতি দিন দুই কাপ করে কমলালেবুর রস খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। কমলালেবু শুধু কোলেস্টেরল নয়, হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

রিজার্ভের পতন থেমেছে, ডলার বাজার স্থিতিশীল

প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রবাসীরা গত আগস্ট মাস থেকে বৈধ চ্যানেলে বেশি পরিমাণ আয় পাঠাচ্ছেন। তাতে এ খাতে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় হ্রাস পাওয়া ও বাড়তি বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতির ফলে বহিস্থ খাতে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। সব মিলিয়ে বিনিময় হারে একধরনের স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্যমূল্য ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। এতে বাংলাদেশে আমদানি খরচ বেড়ে যায়, শুরু হয় ডলারের সংকট। ডলারের এই সংকটে ওলট–পালট হয়ে যায় দেশের প্রায় সব আর্থিক সূচক। ব্যবসা–বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংকট মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে একসময়ের ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। একপর্যায়ে প্রকৃত বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। আমদানিও কিছুটা কমে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল হতে শুরু করে। রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি একেবারেই বন্ধ করে দেওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের পতন থেমেছে। ব্যাংকে এখন ডলার ১২০ টাকা ও খোলাবাজারে ১২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরকারি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমে এলেও মুরগি, ডিম ও সব ধরনের সবজি উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে মানুষের কষ্ট বেড়েছে।

বেড়েছে প্রবাসী আয়, কমেছে আমদানি ও রপ্তানি
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত সেপ্টেম্বরে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ২৪০ কোটি মার্কিন ডলার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৩৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গত মাসে প্রবাসীরা ৮০ শতাংশ বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। এর আগে আগস্টেও দেশে এসেছিল ২২২ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়। চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে ৯৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে যে অর্থ আসে, তার পুরোটাই প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রায় আয় ও তাৎক্ষণিক তা দেশে আসে। প্রবাসী আয়ের অর্থে আমদানি দায়সহ বিভিন্ন খরচ মেটানো হয়।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ৩৮৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৩২ কোটি ডলার। সেই হিসাবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় গত মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৫৪ কোটি ডলার বা ১৬ শতাংশ। গত জুলাইয়ে ৩৮২ ও আগস্টে ৪০৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তখন রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৩ ও ৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১ হাজার ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮১ কোটি ডলার। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৪ হাজার ৩৩৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। এ ছাড়া গত জুলাই-আগস্টে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ১ দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে।

রিজার্ভ পরিস্থিতি
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর বৈশ্বিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে দেশে প্রবাসী আয় বাড়তে শুরু করে। এতে ২০২১ সালের জুনে মোট রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে সংকট সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি শুরু করলে রিজার্ভ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে গত মে মাসে মোট রিজার্ভ কমে ২ হাজার ৩৭৭ কোটি ডলারে (২৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) নেমে আসে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী, এ সময় রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৩২ কোটি ডলারে (১৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন)। তবে তখন প্রকৃত বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলারের কিছুটা কম।

তবে গত ৪ আগস্টে মোট রিজার্ভ দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারে, যার মধ্যে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ছিল ১৫ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। ৯ অক্টোবর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের দায় পরিশোধের পর মোট রিজার্ভ কমে হয়েছে ২৫ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার ও ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ কমে হয়েছে ১৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

ডলার-সংকটের মধ্যে আর্থিক হিসাব ও চলতি হিসাবে ঘাটতি হওয়ায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে আইএমএফের কাছে ঋণ চায় বাংলাদেশ। ছয় মাস পর সংস্থাটি গত বছরের ৩০ জানুয়ারি ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করে। ওই বছরই প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ও দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পায় বাংলাদেশ। গত জুনে তৃতীয় কিস্তি বাবদ ১১৫ কোটি ডলার আসে। চলতি মাসেই চতুর্থ কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা রয়েছে। এই ঋণের অর্থ সরাসরি রিজার্ভে যুক্ত হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডলার নিয়ে যে হাহাকার ছিল, তা অনেকটা কমে এসেছে। বিদেশি মেয়াদোত্তীর্ণ বিলের অনেকগুলোই মেটানো হয়েছে। এরপরও ৩ বিলিয়ন ডলারের দেনা রয়ে গেছে, যা আগামীতে পরিশোধ করতে হবে।

ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ডলার নিয়ে অস্থিতিশীল যে পরিস্থিতি ছিল, তা কেটে গেছে। আগের মতো দাম নিয়েও তেমন হইচই নেই। সরকারি ব্যাংকগুলোর কিছু বকেয়া বিল এখনো রয়ে গেছে। এ জন্য ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠেছে। এসব দায় শোধ হয়ে গেলে ও প্রণোদনা উঠিয়ে দিলে ডলারের দাম ১২০ টাকার নিচে নেমে আসতে পারে।

এক বছর পর মাঠে ফেরার দরজায় নেইমার, আছে জটিলতাও

প্রশ্নটি ব্রাজিলের ভক্তদের কাছে। গত বছর ১৮ অক্টোবর দিনটি কি মনে আছে? সেদিন বাংলাদেশ সময় সকালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। সে ম্যাচের আর কিছু কি মনে পড়ে? হ্যাঁ, নেইমারের চোট! বাঁ হাঁটুতে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছিলেন নেইমার। এরপর আর মাঠে ফিরতে পারেননি। মাঝে কেটে গেল একটি বছর। গতকাল নেইমারের সেই চোটের কাঁটায় কাঁটায় এক বছর পূর্ণ হলো।

সুখবরও মিলল ঠিক এক বছর পরই। নেইমারের ক্লাব আল হিলালের কোচ হোর্হে জেসুস জানিয়েছেন, আগামী সোমবার ব্রাজিল ফরোয়ার্ডের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা আছে। সেদিন এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে আল আইনের মুখোমুখি হবে আল হিলাল। এ ম্যাচের নেইমারের খেলার কোনো নিশ্চয়তা দেননি জেসুস। তবে একটি সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন গতকাল, ‘আজ (গতকাল) নেইমারের চোট পাওয়ার এক বছর পূর্ণ হলো। চিকিৎসাগত দিক থেকে সে পুরোপুরি সেরে উঠেছে এবং অনুশীলনেও যোগ দিয়েছে। আগামী দুই দিন সবকিছু এমন ইতিবাচক থাকলে দলের পরের ম্যাচে তাকে সংযুক্ত করা হবে।’

সৌদি প্রো লিগে নেইমারকে এখনো নিবন্ধিত করতে পারেনি আল হিলাল। শুধু এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের জন্য তাঁকে নিবন্ধিত করতে পেরেছে সৌদি ক্লাবটি। আল হিলালের হয়ে গত বছর অক্টোবরে নেইমারের সর্বশেষ ম্যাচটি ছিল এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে নাসাজি মাজানদারানের বিপক্ষে। সেই অক্টোবরেই ব্রাজিলের জার্সিতে পাওয়া চোট কাটিয়ে গত মাসে আল হিলালের অনুশীলনে ফেরেন নেইমার।

উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচের ৪৩ মিনিটে চোট পেয়েছিলেন নেইমার। বাঁ হাঁটুতে এসিএল চোটের পাশাপাশি দুটি মেনিসকাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মাঝের এই এক বছরে নেইমারকে ছাড়া ১৪ ম্যাচ খেলে ৬ জয়, ৫ ড্র ও ৩টি হার দেখেছে ব্রাজিল। বিখ্যাত এই হলুদ জার্সিতে নেইমারের অভিষেক ২০১০ সালে। তার পর থেকে এ পর্যন্ত ব্রাজিলের খেলা ১৯২ ম্যাচের মধ্যে ৬২ ম্যাচে নেইমারকে পায়নি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। নেইমার মাঠে থাকতে ব্রাজিলের সাফল্যের হার ৭৮.৬ শতাংশ, নেইমারকে ছাড়া ৬৩.৯ শতাংশ।

নেইমারকে ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরতে দেখার অপেক্ষায়ও আছেন অনেকেই। এ বছর বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নভেম্বরে দুটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। আগামী ১৫ নভেম্বর ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ভেনেজুয়েলা। ২০ নভেম্বর উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে দরিভাল জুনিয়রের দল। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো স্পোর্ত’ জানিয়েছে, এ দুটি ম্যাচ সামনে রেখে নেইমারকে ফেরানোর পরিকল্পনা আছে টিম ম্যানেজমেন্টের। তবে তার আগে নেইমারকে অবশ্যই আল হিলালের হয়ে মাঠে ফিরতে হবে।

অর্থাৎ ব্রাজিলের জার্সিতে ফেরার আগে আল হিলালের হয়ে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন নেইমার। সেখানেও শর্ত হলো সবকিছু ইতিবাচক থাকলেই কেবল আল আইনের বিপক্ষে নেইমারকে স্কোয়াডে অর্ন্তভুক্ত করতে পারে আল হিলাল। আল আইনের মুখোমুখি হওয়ার পর এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে আল হিলালের পরবর্তী ম্যাচ ৪ নভেম্বর। তার আগেই নভেম্বরের দুটি ম্যাচের জন্য ব্রাজিলের স্কোয়াড ঘোষণা করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। গ্লোবো স্পোর্তের মতে, ২৭ অক্টোবর প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণার পর ১ নভেম্বর চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করতে পারে ব্রাজিল।

নির্বাচনের সময় নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

আগামী বছরের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব হতে পারে— নির্বাচন নিয়ে নিজের এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইন বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

আজ শনিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে একটি পোস্টে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেন, ‘সম্প্রতি একটি টিভি আলোচনায় আমি বলেছি নির্বাচন হয়তো আগামী বছরের মধ্যে সম্ভব হতে পারে, তবে এক্ষেত্রে অনেকগুলো ফ্যাক্টর রয়েছে। সেখানে এসব ফ্যাক্টর পুরোপুরি ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাইনি। কিন্তু আমাদের সরকারের কথা থেকে সবাই বুঝবেন যে নির্বাচনের জন্য সংস্কার ও রাজনৈতিক সমঝোতার কথা বলা হয়। এগুলোই সেই ফ্যাক্টর।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘সংস্কারের কথা আমিও অনুষ্ঠানে বলেছি। আরও কিছু ফ্যাক্টর আমি অনুষ্ঠানটিতে ব্যাখ্যা করেছি, যেমন- সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন ইত্যাদি। এসব ফ্যাক্টর ঠিক থাকলে নির্বাচন হয়তো হতে পারে আগামী বছর। বলেছি এটাও আমার প্রাথমিক অনুমান।’

শর্তভিত্তিক ধারণা ও অনুমানকে কিছু গণমাধ্যম নির্বাচনের ঘোষণা হিসেবে দেখাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি লিখেন, ‘বিনয়ের সাথে বলছি, এটা সঠিক নয়। নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পলিসি ডিসিশন। এর সময় সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ঠিক হবে। তিনিই একমাত্র এটা ঘোষণার এখতিয়ার রাখেন।’

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে চ্যানেল আইয়ের সংবাদ পর্যালোচনামূলক অনুষ্ঠান ‘আজকের সংবাদ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, রিয়েলিস্টিক্যালি আগামী বছরের মধ্যে (২০২৫) ইলেকশন করাটা হয়ত সম্ভব হতে পারে।’

সরকার ‘কিছুদিনের মধ্যেই’ সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। এরপর ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কথাও বলেন উপদেষ্টা।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সেনাপ্রধানের বক্তব্য সরকারের বক্তব্য নয়। সরকার যতদিন নির্দিষ্ট করে বলবে না ততদিন নির্বাচনের সময় নির্ধারিত নয়।

এর একদিনের মাথায় নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এছাড়া, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধানও নির্বাচন কবে হতে পারে, সে বিষয়ে আভাস দিয়েছিলেন।

রয়টার্সকে তিনি বলেছিলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ‘গণতন্ত্রে উত্তরণ’ ঘটা উচিত। তবে সেজন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

শেষ রাষ্ট্রীয় সফরে জার্মানিতে জো বাইডেন

অবশেষে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ রাষ্ট্রীয় সফরে জার্মানি গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই সফরে তিনি জার্মানির চ্যান্সেলরের সঙ্গে ইউক্রেনে যুদ্ধসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৫ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তার মাত্র আড়াই সপ্তাহ আগে তিনি জার্মানি সফরে গেলেন।

ইউক্রেন সমস্যা ছাড়াও বাইডেনের দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সামনে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা ৫ নভেম্বরের নির্বাচন।

কারণ- ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউক্রেনকে সমর্থন দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি বাইডেনের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন না। তিনি দেশটিতে খুব বেশি সহায়তা দিতে অনিচ্ছুক। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সমর্থক। ট্রাম্প নির্বাচিত হলে কিয়েভ বড় সামরিক ও আর্থিক সমর্থন থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

গাজার জাবালিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৩৩

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন চলছেই। আবারও জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে সেনারা। এতে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩৩ জনের।

গতকাল শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাবালিয়ার বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এতে আহত হয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ। যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

আহতদেরকে আল আওদা হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। যদিও প্রয়োজনীয় ওষুধ-সরঞ্জামের অভাবে রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছে না বলে জানা গেছে। আহতদের ভীড়ে সেখানে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রায় দুসপ্তাহ ধরে উত্তর গাজার ক্যাম্পটি ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে সেখানে। জানা গেছে, হতাহতদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে অনেকে। গাজার অন্যান্য এলাকাতেও হয়েছে প্রাণঘাতি হামলা।

এদিকে, মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে বোমাবর্ষণে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। গাজা সিটিতে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেছে ৪ জনের। উত্তর গাজায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান স্থল অভিযানে কমপক্ষে সাড়ে চারশ’ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। সেদিন ইসরায়েলের বিভিন্ন অবৈধ বসতিতে হামলা চালায় হামাসের যোদ্ধারা। ওই সময় তারা প্রায় ২৫০ জনকে ধরে গাজায় নিয়ে আসে এবং ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে।

হামাসের এই হামলার প্রতিশোধ নিতে ওইদিনই গাজায় ব্যাপক হামলা চালানো শুরু করে ইসরায়েল। গত এক বছর ধরে চলা তাদের এসব নির্বিচার বর্বরতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৩ হাজার ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ।

সাজিদ হত্যা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে কামাল আহমেদ মজুমদার

রাজধানীর কাফরুল থানায় দায়েরকৃত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদ হত্যা মামলায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দার সাবেক এই শিল্প প্রতিমন্ত্রীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বনানীর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে কাফরুল থানায় নিয়ে আসা হয়।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট মিরপুর-১০ এর গোলচক্করে মাথায় গুলি লাগে ইকরামুল হক সাজিদের। ভিডিওতে দেখা যায়, মাথার পেছন দিক থেকে ঢুকে ঘাতক সেই বুলেটটি চোখ দিয়ে বের হয়ে যায়।

এরপর আহত অবস্থায় তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) ১০ দিন পর গত ১৪ আগস্ট তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ইকরামুল হকের বাবা জিয়াউল হক ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আজ চতুর্থ দফায় দলগুলোর সঙ্গে বসবেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আজ চতুর্থ দফায় সংলাপে বসতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনায়’ এই সংলাপ শুরু হবে।

এবারের সংলাপে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কার, নির্বাচনী রোডম্যাপ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সংলাপে আমন্ত্রণ পাওয়া রাজনৈতিক দলগুলো হচ্ছে গণফোরাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, জাতীয় পার্টি-বিজেপি ও লেবার পার্টি।

এর আগে ৫ অক্টোবর বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, হেফাজতে ইসলামসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

ঢাকা থেকেই সাকিবকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে আপাতত দেশে না আসার জন্য

সাকিব আল হাসান আপাতত বাংলাদেশে আসছেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শেষ টেস্ট খেলা হচ্ছে না তাঁর। তার মানে কি ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টই সাকিবের শেষ টেস্ট হয়ে থাকবে? নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না সেটিও।

দুবাই থেকে সাকিব নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর এখন দেশে আসা হচ্ছে না। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। দুবাই থেকে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

এর আগে গতকাল গভীর রাত থেকেই শোনা যাচ্ছিল, সাকিবের দেশে আসা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুবাই হয়ে দেশে আসছিলেন তিনি। দুবাই থেকে তাঁর ঢাকার ফ্লাইট ছিল স্থানীয় সময় আজ বিকেলে, ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রাতে।

কিন্তু জানা গেছে, নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ঢাকা থেকেই সাকিবকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে আপাতত দেশে না আসার জন্য।

যদিও গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২১ অক্টোবর শুরু প্রথম টেস্টের দল ঘোষণা করা হয়েছে তাঁকে রেখেই। নির্বাচকেরা বিসিবির সবুজসংকেত পেয়েই তাঁকে দলে রেখেছিলেন। আর বিসিবি সবুজসংকেত পেয়েছিল সরকারের কাছ থেকে। তারপরও হঠাৎ সাকিবের নিরাপত্তা কেন একটা ইস্যু হয়ে গেলে, সেটি জানা যায়নি। এ ব্যাপারে বিসিবির কাছ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা আসেনি।

গত কয়েক দিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সাকিবের বিরুদ্ধে কিছু মানুষ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছেন, দেয়াললিখন লিখেছেন। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। সাকিবকে যেন দেশের মাটিতে শেষ টেস্ট খেলতে না দেওয়া হয়, সে দাবি নিয়ে আজ দুপুরেও একটি পক্ষের স্মারকলিপি নিয়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আসার কথা। তবে তার আগেই হয়তো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসে যাবে যে সাকিব দেশে আসছেন না।

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ অবশ্য সাকিববিরোধীদের এই আচরণকে ‘আবেগের ব্যাপার’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘একজন ক্রিকেটার (সাকিব), তিনি খেলবেন এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। আসার ব্যাপারে তো আমি কোনো বাধা দেখি না।’ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেটা আমরা নিশ্চিত করব।’

দেশের মাটিতে সাকিবের শেষ টেস্ট খেলতে পারা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, সাকিবের দেশে আসা-যাওয়ায় কোনো বাধা নেই। তিনি সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু পরিস্থিতি হুট করেই পাল্টে গেল। আজ সকালে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানোর আগপর্যন্ত সাকিবকে দুবাইয়ে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। তবে ঢাকায় আসার ফ্লাইটের আগে যেহেতু হাতে যথেষ্ট সময় ছিল, শেষ পর্যন্ত সাকিব দেশে আসার সবুজসংকেত পাবেন বলে তাঁরা আশা করছিলেন। এখন আর সেটি হচ্ছে না।

মোহাম্মদপুরে ডাকাতির ঘটনায় র‍্যাবের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জড়িত থাকার তথ্য

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যৌথ বাহিনীর পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতির ঘটনায় র‍্যাবের সাবেক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও জড়িত বলে তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা র‍্যাব সদর দপ্তরের একটি শাখার প্রধান ছিলেন। ২০১৯ সালে তাঁকে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসরে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া এই ডাকাতির ঘটনায় র‍্যাব ৪–এ কর্মরত শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের (নন–কমিশন্ড) নাম এসেছে। তাঁদের বিষয়ে র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে র‍্যাব ৪–এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার মো. রোকনুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ওই র‍্যাব সদস্যদের নাম উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠালেও তিনি উত্তর দেননি।

এর আগে গত মঙ্গলবার র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেছিলেন, ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন র‍্যাব সদস্যের নাম বলেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে গতকাল আবার যোগাযোগ করা হলে র‌্যাবের এই মুখপাত্র এই প্রতিবেদককে ডিবির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

১১ অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়ে বেড়িবাঁধ এলাকায় ব্যবসায়ী আবু বকরের বাসায় ও কার্যালয়ে ডাকাতি হয়। সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের পোশাক পরা ডাকাতেরা নিজেদের যৌথ বাহিনী বলে পরিচয় দেন। তাঁরা ৭৫ লাখ টাকা ও ৭০ ভরি সোনা লুট করেন বলে গৃহকর্তা ও পুলিশ সূত্র জানায়।

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এই মামলায় গ্রেপ্তার কামাল হোসেন নামের একজন আসামিকে গত মঙ্গলবার রাতে ডিবির কাছে হস্তান্তর করেছে র‍্যাব। ডিবি জানিয়েছে, কামাল হোসেন সাবেক সেনাসদস্য। তাঁকে গতকাল বুধবার আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তাঁকে ডিবির হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এর আগে গত সোমবার ছয়জনের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তাঁরাও ডিবির হেফাজতে আছেন। এই ছয়জনের মধ্যে তিনজনকে ডিবি গ্রেপ্তার করে। বাকি তিনজনকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছিল।

আলোচিত এই ডাকাতির ঘটনায় গত রোববার আটজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল র‌্যাব। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে পরদিন ডিবির কাছে হস্তান্তর করে। বাকি পাঁচজন কোথায়, সেটা নিশ্চিত করে জানা যাচ্ছে না। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে ডিবির কাছে দেওয়া কামাল হোসেন ওই পাঁচজনের একজন কি না, সেটাও র‌্যাব পরিষ্কার করে বলেনি। এমনকি পাঁচজনের নাম-পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান গতকাল রাত ১০টার দিকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে র‍্যাব একজন আসামিকে ডিবিতে হস্তান্তর করেছে। এ নিয়ে র‍্যাব ডিবির কাছে চারজন আসামি হস্তান্তর করেছে।