বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শুরু

ইমারত হোসেন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শুরু হয়েছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলে ১৯ জন সদস‍্য রয়েছেন। বাণিজ্য সুবিধা, জলবায়ু পরিবর্তন, সংখ্যালঘু ইস্যু, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে উভয়ের অঙ্গীকার ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হবে সেখানে।

এছাড়া আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ইস্যুর পাশাপাশি গণতন্ত্র ও অর্থপাচার বিষয়গুলো উঠে আসবে। বিশেষ করে ফ‍্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের অগ্রগতি, জিএসপি সুবিধা নিশ্চিত ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকটি ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে চলবে। বাংলাদেশের চলমান সংকট নিরসনে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আহ্বান জানাবেন প্রধান উপদেষ্টা।

ভারতকে হারিয়ে আবারও এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ‘ব্যাক টু ব্যাক’ শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ যুব দল। ফাইনালে ভারতকে ৫৯ রানে হারিয়ে এই আসরের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় ধরে রাখলো টাইগাররা। এক বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ দল। আগে ব্যাট করে ৪৯.১ ওভারে ১৯৮ রানেই অলআউট বাংলাদেশের যুবারা। টার্গেট তাড়ায় ৩৫.২ ওভারে ১৩৯ রানে অলআউট হয় ভারত।

১৯৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। বাংলাদেশের পেসারদের তোপে ৪৪ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ‘দ্য ব্লুজ’। আয়ুশ মাহাত্রী ১, বৈভব সূর্যবংশী ৯ ও আন্দ্রে সিধার্থ ২০ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।

এরপর কার্তিয়া ও অধিনায়ক মোহাম্মদ আমান মিলে চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ৭৩ রানে ৪৩ বলে ২১ রান করে আউট কন কার্তিয়া। তার বিদায়ের পর দ্রুতই আরও তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ভারত। হারভাংস পাংগালিয়া ৬, কিরণ চোরমেল ১ ও রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান নিখিল কুমার।

এরপর হার্দিক রাজকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক আমান। ৩৪ রানের জুটি উপহার দেন এই দুই ব্যাটার। তবে দলীয় ১১৫ রানে ৬৫ বলে ২৬ রান করে আমান আউট হওয়ার পরই মোটামুটি নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।

বাংলাদেশের হয়ে ইকবাল হোসেন ইমন শিকার করেন ৩টি উইকেট। ব্যাটে এদিন না পারলেও বল হাতে পুষিয়ে দেন আজিজুল হাকিম, তারও ঝুলিতে যায় ৩ উইকেট। পেসার আল ফাহাদ নেন ২ উইকেট।

এর আগে, বাংলাদেশ ২০০ রানের কাছাকাছি সংগ্রহ তুলতে পেরেছিল মূলত নবম উইকেটে ফরিদ হাসান ও আল ফাহাদের ৩১ রানের জুটিতে।

১৬৭ রানেই ৮ উইকেট হারানো বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য আশা জাগানিয়া ছিল। প্রথম ওভারে যুধাজিৎ গুহর বলে ছক্কা মেরে বাংলাদেশের রানের খাতা খোলেন জাওয়াদ আবরার। অন্য প্রান্তে কালাম সিদ্দিকী অবশ্য রান বের করতে পারছিলেন না। যুধাজিতের বলে আউট হন ১৬ বলে ১ রান করে। জাওয়াদও আউট হন পাওয়ার প্লে শেষ হতেই, ২০ রান করে।

দলের সবচেয়ে বড় তারকা আজিজুল হাকিমও ইনিংস দীর্ঘায়ত করতে পারেননি। ১৬ রানে আউট হয়েছেন। আজিজুলের উইকেট বড় ধাক্কা হয়ে আসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। কারণ, এই টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে বাংলাদেশকে অনেকটা একাই টানছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের পক্ষে রিজান হোসেন করেন সর্বোচ্চ ৬৫ বলে ৪৭ রান। এছাড়া শিহাব জেমস ৬৭ বলে ৪৯ ও ফরিদ হাসান করেন ৪৯ বলে ৩৯ রান।

ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে বিএনপির ৩ অঙ্গসংগঠনের পদযাত্রা শুরু

ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে স্মারকলিপি দিতে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস অভিমুখে প্রতিবাদ পদযাত্রা শুরু করেছে বিএনপির তিন সংগঠন।

রোববার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদ পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী খন্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে শুরু করেন। এ সময় তারা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। সংগঠন তিনটির নেতাকর্মীদের মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে এবং হাতে ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেছে।

অন্যদিকে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে প্রতিবাদ পদযাত্রা কর্মসূচিকে ঘিরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদেরও দেখা গেছে।

যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় পদযাত্রাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এছাড়া কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ সংগঠন তিনটির হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত আছেন।

ফাইনালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ইমারত হোসেন

যুব এশিয়া কাপের ফাইনালে রোববার মুখোমুখি ভারত ও বাংলাদেশ। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালে উঠেছে টাইগাররা। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামছে তারা। টস জিতে ভারত প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে ব্যাটিংয়ে নেমেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়েছে বেলা ১১টায়। ম্যাচটি সরাসরি দেখাবে সনি পিকচারস।

বাংলাদেশের গায়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের তকমা থাকলেও, ভারতের ফাইনাল হারের নজির নেই। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৮ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত হলেও, লাল-সবুজ আছে দারুণ ছন্দে।

শ্রীলংকার কাছে গ্রুপের শেষ ম্যাচ হারলেও, প্রথম দুই ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেছে লাল-সবুজরা। এদিকে গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের কাছে হার দিয়ে আসর শুরু করা ভারত পরের দুই ম্যাচ জিতে সেমিতে পা দেয়। সেমিফাইনালে তারা শ্রীলংকাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে।

ভারত একাদশ
আয়ুষ মাত্রে, বৈভব সূর্যবংশী, আন্দ্রে সিদ্ধার্থ সি, মোহাম্মদ আমান (অধিনায়ক), কেপি কার্তিকেয়া, নিখিল কুমার, হরবংশ সিং, কিরণ চোরমলে, হার্দিক রাজ, চেতন শর্মা, যুধাজিত গুহা।

বাংলাদেশ একাদশ
জাওয়াদ আবরার, কালাম সিদ্দিকী আলীন, মোঃ আজিজুল হাকিম তামিম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ শিহাব জেমস, মোঃ ফরিদ হাসান ফয়সাল, দেবাশীষ সরকার দেবা, মোঃ সামিউন বাসির রাতুল, মারুফ মৃধা, মোঃ রিজান হোসেন, আল ফাহাদ, ইকবাল হোসেন ইমন।

দামেস্ক ছেড়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, রাজধানীতে বিদ্রোহীদের প্রবেশ

বিমানে করে দামেস্ক ছেড়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। তবে তিনি দামেস্ক ছেড়ে কোথায় গেছেন, সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এদিকে দেশটির রাজধানীতে প্রবেশ করতে শুরু করেছে বিদ্রোহীরা।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে বিবিসির সরাসরি সম্প্রচারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দিকে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে বিদ্রোহীরা। এরইমধ্যে রাজধানী ঘিরে কয়েকটি উপশহরের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে এইচটিএস যোদ্ধারা।

গতকাল শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া গেলেও বর্তমানে কোথাও প্রতিরোধের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। প্রায় বিনা বাধাতেই এগিয়ে চলছে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। এছাড়া কয়েকটি কারাগার থেকে কয়েদিদের বের করে আনার খবরও শোনা যাচ্ছে।

সিরিয়ার জ্যেষ্ঠ দুজন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আসাদ আল বাশার একটি উড়োজাহাজে দামেস্ক ছেড়েছেন। তবে তার গন্তব্য জানা যায়নি। অন্যদিকে বিদ্রোহীরা জানিয়েছেন, তারা দামেস্কে ঢুকে পড়েছেন। সেখানে কোনো সেনা মোতায়েন নেই।

এর আগে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর হোমসের নিয়ন্ত্রণ নেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের কথা জানায় তারা।

প্রসঙ্গত, দেরা, সোয়েইদাসহ সবগুলো অঞ্চলই দামেস্ক ঘিরে। দক্ষিণের বেশিরভাগ এলাকা থেকে সরে গেছে সিরীয় সেনারা। যদিও তা অস্বীকার করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ক্যারিবিয়ান দেশের

অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থানে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতা গ্রহণের আগেই জন্মগত নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে ক্যারিবিয়িান অঞ্চলের দেশ বাহামা দ্বীপ পুঞ্জ।

বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদেনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহামাস জানিয়েছে যে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসীদের স্থানান্তরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। বৃহস্পতিবার বাহামিয়ান প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ ডেভিসের কার্যালয় জানিয়েছে, ট্রাম্পের ট্রানজিট দলের অভিবাসী প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এ অনুরোধ বিবেচনার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ বাহামার নেই। প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। বাহামাস সরকার তার অবস্থানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আগামী ২০ জানুয়ারি মার্কিন মসনদে বসবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে জয় পাওয়া এ প্রার্থী ক্ষমতায় গিয়ে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনার তৈরি হয়েছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ১১ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসী রয়েছেন। অন্যদিকে একই বছরে বাহামার আদমশুমারি অনুসারে, দেশটিতে মাত্র চার লাখেরও কম মানুষ বসবাস করছেন।

এর আগে নভেম্বরে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নির্বাচনে জয় পাওয়া রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে বিধান এতদিন প্রচলিত তা তিনি বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দেশটির আগামীর ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের প্রচারাভিযানসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে বিধান তা বাতিল করা হবে। এর পরিবর্তে যাদের পিতা বা মাতার কারোর নাগরিকত্ব অথবা দেশটিতে বসবাসের বৈধ অনুমোদন রয়েছে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া কোনো শিশু দেশটির নাগরিকক্ত পেতে হলে তার পিতা কিংবা মাতার কোনো একজনের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বসবাসের বৈধ অনুমোদন থাকতে হবে। দেশের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে এ নির্দেশনা পাঠানো হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২০ জানুয়ারি নবনির্বাচিত প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন। ওই দিন থেকেই এ নির্দেশনা কার্যকর করা হবে।

সংখ্যালঘু ইস্যু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অন্যায্যভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে: প্রেস সচিব

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ইস্যু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং প্রভাবশালী দেশের শীর্ষ সংসদীয় শুনানিতে অন্যায্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে শফিকুল আলম এই তথ্য জানান। তিনি সেক্যুলার সংবাদপত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে বাংলাদেশের কথিত ধর্মীয় সহিংসতার মামলাগুলো তদন্ত করার আহ্বানও জানান।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নেত্র নিউজ যখন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে হামলার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছিল, আমি আশা করেছিলাম যে ঐক্য পরিষদ এই বিষয়ে একটি বিবৃতি দেবে। নেত্র নিউজ এমন একটি শীর্ষস্থানীয় তদন্তমূলক ওয়েবসাইট, যা বাংলাদেশের বড় বড় দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন করে সুনাম অর্জন করেছে।

প্রেস সচিব লিখেন, নেত্র নিউজের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সংখ্যালঘু পরিষদ যে ৯ জন হিন্দুর মৃত্যুর কথা বলেছিল, তাদের প্রায় সব কটির সঙ্গে রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা অন্যান্য কারণ যুক্ত ছিল, যা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়। আমাদের আশা ছিল যে ঐক্য পরিষদ নেত্র নিউজের প্রতিবেদনটির জবাব দেবে। কারণ, এটি পরিষদের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

শফিকুল আলম আরও বলেন, ঐক্য পরিষদ এ বছর জুলাই মাসে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে আরেকটি বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তারা বলেছিল, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে (যা ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে) অন্তত ৪৫ জন সংখ্যালঘু (অধিকাংশ হিন্দু) নিহত হয়েছে। আবার প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলোর প্রথম ও শেষ পাতায় প্রকাশিত হয়েছিল। ঐক্য পরিষদের এমন দাবির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও কোনো গণমাধ্যমই তা চ্যালেঞ্জ করেনি।

প্রেস সচিব বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মতে, ২০২৩ সালে সংখ্যালঘুবিরোধী সহিংসতায় কেউ নিহত হয়নি এবং এ বছর (জানুয়ারি থেকে অক্টোবর) মাত্র দু’জন নিহত হয়েছে। আসক একটি সেক্যুলার (ধর্মনিরপেক্ষ) গ্রুপ, বছরের পর বছর ধরে যেটির নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন অপরাধ স্বীকারকারী। এর বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন মানবাধিকারবাদী আইনজীবী জেড আই খান পান্না। যিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনি সহায়তা দিতে আগ্রহী।

শফিকুল আলম বলেন, ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদনগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। সম্প্রতি একজন ব্রিটিশ সংসদ সদস্য বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে কথা বলার সময় ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করেছিলেন। হিন্দুদের ওপর বিপ্লব-পরবর্তী হামলার প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১১ মিলিয়নেরও বেশিবার দেখা হয়েছে। আমাদের জানা মতে, শক্তিশালী ও সম্পদশালী হিন্দু আমেরিকান গোষ্ঠী, ভারতীয় জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং শীর্ষ ভারতীয় বিশ্লেষকেরা এই প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংখ্যালঘুবিরোধী সহিংসতা নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদনগুলোই সবচেয়ে বড় উৎস।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ঘটে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে আমরা এখনও আদর্শ দেশ হতে পারিনি। ধর্মীয়ভাবে আপত্তিকর ফেসবুক পোস্টের কারণে সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। কিছু প্রান্তিক গোষ্ঠী ও ব্যক্তি প্রায়শই সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ধর্মীয়ভাবে সংঘটিত ঘটনার সময় মানুষকে শান্ত থাকতে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সুশীল সমাজের নেতাদের দ্বারা বৃহত্তর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এ সময় তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই ঘটনাগুলোয় অসাধারণ রাজনৈতিক পরিপক্বতা দেখিয়েছে। ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদনগুলো পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলো বাড়িয়ে দেখিয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, আমরা আশা করি, শীর্ষস্থানীয় সেক্যুলার ও উদারপন্থী সংবাদপত্রগুলো সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কথিত সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়ে তাদের নিজস্ব তদন্ত করবে। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যেমন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একই ধরনের তদন্ত করবে। ২০১৩ সালে হেফাজত কর্মীদের গণহত্যা নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ চমৎকার একটি তদন্ত করেছিল। আশা করি, তারা এখানে একই ধরনের তদন্ত করবে। সরকার যদি এই গুজব খণ্ডনের কাজ করে, তবে তার প্রতিবেদনের প্রতি সন্দেহের দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শফিকুল আলম আরও বলেন, স্বাধীন সংবাদপত্র ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনাগুলো তদন্ত করুক। এটি একটি গুরুতর ইস্যু। কারণ, বাংলাদেশের বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও প্রভাবশালী দেশগুলোর শীর্ষ সংসদীয় শুনানিতে অন্যায্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কেউ কেউ তো বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী পাঠানোর অথবা দেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানায় এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। এ কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথিত ঘটনাগুলোর ন্যায্য তদন্ত চায়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৭৩ আসামিসহ এখনও পলাতক ৭০০

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারাগার থেকে পলাতক দু’হাজারের অধিক বন্দির মধ্যে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ৭০০ আসামি। এরমধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন ৭৩ জন।

আজ বুধবার (৪ ডিসেম্বর) কারা অধিদফতরের কনফারেন্সরুমে আয়োজিত বর্তমান কারাগারের প্রেক্ষাপট ও মতবিনিময়ের সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, কারাগার থেকে পালানো ২২০০ বন্দির মধ্যে ১৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মুক্তি পেয়েছেন ১৭৪ জন। বাকি আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছেন।

পলাতক কারাবন্দিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে বলেও জানান তিনি। আরও বলেন, সারাদেশে ৬৯টি কারাগারের মধ্যে ১৭ টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব কারাগার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কারাগারে বন্দিদের মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং আয়েশি জীবন-যাপন নিয়ে বিভিন্ন সময় যেসব অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয় বলেও দাবি করেন কারা মহাপরিদর্শক।

অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান ড. ইউনূসের

ইমারত হোসেন

একটা কঠিন সময় পার করছি আমরা। তাই, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ কমপ্লেক্সে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৪ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স ২০২৪ এর কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে সার্টিফিকেট প্রদান শেষ এ আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টা সফলতার সাথে কোর্স সম্পন্ন করার জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৪ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স ২০২৪ এ অংশগ্রহণকারী সকলকে অভিনন্দন জানান। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এনডিসির উচ্চমান সম্পন্ন পাঠ্যক্রমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রধান উপদেষ্টা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ বছর ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৪ এ ৯৫ জন কোর্স মেম্বার অংশগ্রহণ করেন যার মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ৪৬ জন, বেসামরিক প্রশাসনের ১৬ জন এবং ১৮ টি বন্ধুপ্রতীম দেশসমূহের ৩৩ জন সদস্য।

অপরদিকে, বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী থেকে ৫৫ জন কোর্স মেম্বার আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স ২০২৪ সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন।

সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যাহত পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া অব্যাহত পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ কথা জানায়।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে প্রশ্ন করেছিল ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা। প্রশ্নের জবাব ই–মেইলের মাধ্যমে দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর সহিংসতা ও তাঁদের প্রতি অসহিষ্ণুতার যেকোনো ঘটনার নিন্দা জানাই এবং বাংলাদেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া অব্যাহত পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানাই।’

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের যেসব ঘটনা ঘটছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে করা প্রশ্নে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলে, যুক্তরাষ্ট্র ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতাকে মৌলিক স্বাধীনতা হিসেবে সমর্থন করে। যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব অংশীদারের কাছে এই সমর্থনের কথা জানায়।