বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

র‍্যাব বিলুপ্তি নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, র‍্যাব বিলুপ্তসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে ‘সবাই বসে’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘একটি প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। আমরা সবাই বসব, বসার পর আমাদের যা সিদ্ধান্ত তা জানাব।
আমরা জাতিসংঘের এসব প্রস্তাবের বিষয়ে স্বাগত জানিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতিসংঘ একটি ভালো কাজ করেছে। আমরা বসে একটা সিদ্ধান্ত নেব।’

গতকাল বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সেখানে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্তির সুপারিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) কেবল সীমান্তরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরকে কেবল সামরিক গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে আনসার-ভিডিপির ওপর ‘সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রোধ’ করে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সহায়ক হিসেবে কাজে লাগানোর সুপারিশও করা হয় প্রতিবেদনটিতে।

হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ট্রাইব্যুনালে বিএনপির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই-আগস্ট গণহত্যায় দেশব্যাপী ৮৪৮ নেতাকর্মী নিহতের ঘটনায় ভারতে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।

বিএনপির মামলা ও সমন্বয় প্রধান সালাউদ্দিন খান গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এই অভিযোগে ৫০০-এর অধিককে আসামি করা হয়েছে।
এদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছে।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তসহ ৮৪টি মামলার এজাহারের কপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে বিএনপি। এছাড়া ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিজেদের ৮৪৮ নিহত নেতাকর্মীর তালিকা জমা দিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে দেশব্যাপী হওয়া মামলার এজাহার, পত্রিকার ছবি, অডিও-ভিডিও জমা দেয়া হয়েছে।

লন্ডনে অফিসের বেসমেন্টে রোমান প্রাচীন শহরের খোঁজ মিলল

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে একটি অফিস ব্লকের বেসমেন্টের নীচে আবিষ্কার হয়েছে রোমান ইতিহাস। এটিকে রোমান ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রাচীন শহরের প্রথম ব্যাসিলিকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ খুঁজে পেয়েছেন। এটি ২ হাজার বছরের পুরনো একটি পাবলিক ভবন।
যেখানে প্রধান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। এখন পর্যন্ত পাথরের প্রাচীরের কিছু অংশ আবিষ্কার করেছে, যা আড়াই তলা উঁচু। খননকাজ শেষে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে স্থানটি।

ব্যাসিলিকা হলো (গ্রীক ব্যাসিলিকে ) একটি বৃহৎ পাবলিক ভবন।
যার একাধিক কাজ ছিল এবং সাধারণত শহরের ফোরামের পাশে নির্মিত হত।

প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরের (মোলা) সোফি জ্যাকসন বলেন, ‘এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই ভবনটি আমাদের লন্ডনের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক কিছুই জানাতে পারে, কেন লন্ডন শহরকে ব্রিটেনের রাজধানী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক।
’

লন্ডনের ৮৫ নম্বর গ্রেসচার্চ স্ট্রিটে এই স্থানটি আবিষ্কৃত হয়েছে। বর্তমানে এখানে অবস্থিত অফিস ভবনটি ভেঙে ফেলে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার কথা। পূর্ববর্তী প্রত্নতাত্ত্বিক তদন্তে বর্তমান ভবনের নিচে প্রাচীন ব্যাসিলিকার আনুমানিক অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছিল, তাই দলটি কংক্রিটের মেঝের নীচে কী লুকিয়ে আছে তা দেখার জন্য বেশ কয়েকটি ছোট পরীক্ষামূলক গর্ত তৈরি করেছিল।

তৃতীয় প্রচেষ্টায় খনন করার সময় তারা এর খোঁজ পান। সোফি জ্যাকসন বলেন, ‘আপনি রোমান কাজের একটি বিশাল অংশ দেখতে পাচ্ছেন এবং এটি অবিশ্বাস্য যে, এটি এত ভালভাবে টিকে আছে।
আমরা এখানে এত কিছু পেয়ে অত্যন্ত রোমাঞ্চিত।’

প্রাচীরটি এক ধরণের চুনাপাথর দিয়ে তৈরি। ব্যাসিলিকাটি প্রায় ৪০ মিটার লম্বা, ২০ মিটার প্রস্থ এবং ১২ মিটার উঁচু ছিল। অন্যান্য নিদর্শনও পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রাচীন শহরের একজন কর্মকর্তার স্ট্যাম্প অঙ্কিত একটি ছাদের টালি।

ব্যাসিলিকা লন্ডনের ফোরামের অংশ ছিল। একটি সামাজিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র, যার একটি উঠান ছিল ফুটবল মাঠের আকারের প্রায়। জ্যাকসন ব্যাখ্যা করেন, ‘ব্যাসিলিকা হলো একটি টাউন হল। এর সামনে ছিল একটি বড় খোলা বাজারের চত্বর এবং যেখানে বাইরের দিকে দোকান এবং অফিস ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি সেই জায়গা যেখানে ব্যবসা হত, আদালতের মামলা নিষ্পত্তি হত, এখানে আইন তৈরি করা হত এবং লন্ডন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হত।’

৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে এটি নির্মিত হয়েছিল। রোমানরা ব্রিটেন আক্রমণ করে এবং শহরের রোমান নাম লন্ডিনিয়াম প্রতিষ্ঠা করার মাত্র কয়েক দশক পরে। কিন্তু প্রথম ব্যাসিলিকা এবং ফোরামটি প্রায় ২০ বছর ধরে ব্যবহৃত হয়েছিল। তাদের পরিবর্তে আরো একটি বড় দ্বিতীয় ফোরাম তৈরি করা হয়েছিল। এটি প্রতিফলিত করে যে, শহরটি কত দ্রুত আকারে গুরুত্বের সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

এই আবিষ্কারের ফলে বর্তমান ভবনের মালিক হার্টশটেন প্রপার্টিজের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। রোমান ধ্বংসাবশেষ এখন সম্পূর্ণরূপে খনন করা হবে, নতুন অফিসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে স্থপতিদের জন্য একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের চারপাশে একটি ভবন পুনর্নির্মাণের কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

লন্ডনের স্কয়ার মাইলের রাস্তার নিচে আবিষ্কৃত রোমান ইতিহাসের সর্বশেষ নিদর্শন এটি। জনসাধারণকে এই স্থানগুলো দেখাতে উদ্ভাবনী উপায় খুঁজে বের করার জন্য ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টা চলছে এখন। লন্ডন সিটি কর্পোরেশনের ক্রিস হেওয়ার্ড বলেছেন, তিনি চান আরো বেশি লোক অতীত এবং বর্তমানের মধ্যে সংযোগটি অনুভব করুক।

সূত্র: বিবিসি

অপারেশন ডেভিল হান্ট : ৪ দিনে গ্রেপ্তার প্রায় তিন হাজার

যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান অপারেশন ডেভিল হান্টে চার দিনে ২ হাজার ৮৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ অভিযান শুরুর পর শনিবার রাত থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অপারেশন ডেভিল হান্টের বিশেষ অভিযানে প্রথম দিনে সারা দেশে এক হাজার ৩০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অনেকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র।
গ্রেপ্তারকৃতদের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের তালিকায় রয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ।

দ্বিতীয় দিনে আরো ৩৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ১১টি গুলিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সময়ে বিশেষ অভিযানের বাইরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১ হাজার ১৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান তৃতীয় দিন ৬০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশেষ অভিযানে ২টি পিস্তল, ১টি এলজি, ১টি ওয়ান শুটারগান, ১টি পাইপগান, ২টি গুলিসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অপারেশন ডেভিল হান্ট ছাড়াও বিভিন্ন মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৭৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানের আওতায় ৫৯১ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক হাজার ৬৮৬ জনকে।

এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি চায়না রাইফেল (পুলিশ থেকে লুট করা), দুটি এলজি, চারটি ওয়ান শুটারগান, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, ১৭ রাউন্ড কার্তুজ, ২০টি ককটেল, ছয়টি ছুরি, একটি তলোয়ার, একটি হাতুড়ি, একটি গুটি রেঞ্জ, একটি প্লায়ার্স, একটি সেলাই রেঞ্জ, দুটি লোহার পাইপ, একটি কাটার ও তিনটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যৌথ বাহিনী দেশজুড়ে অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু করেছে। গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে এক সভায় এই অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

তার আগে শুক্রবার রাতে গাজীপুরে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের বাড়িতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মারধরের শিকার হন ১৫-১৬ জন শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শিক্ষার্থীরা ওই রাতে ডাকাতির খবর পেয়ে তা প্রতিহত করতে সেখানে গিয়েছিলেন। তখন তাদের মারধর করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

আবু সাঈদের মৃত্যু, পুলিশকে দায়ী করে যা বলল জাতিসংঘ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহতের ঘটনাকে পুলিশের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়।

আজ বুধবার প্রকাশিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনসংক্রান্ত জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, আবু সাঈদের বুক লক্ষ্য করে অন্তত দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণঘাতী বুলেট ব্যবহার করে শটগান দিয়ে একাধিক গুলি করেছেন।

এতে আরো বলা হয়, ‘হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় সাঈদের মাথা মাটিতে আঘাত লাগে।
কিন্তু মাথায় এমন কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।’

পুলিশের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘১৬ জুলাই ছাত্রলীগকর্মী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য টিয়ার গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।’

পুলিশ রিপোর্টে বলা হয়, ‘আবু সাঈদ তখন গুরুতর আহত হন এবং পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
’ মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় আঘাত ও গুলির আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন মনে করে, আবু সাঈদ নিহতের ঘটনায় পুলিশ সরাসরি জড়িত এবং দায়ী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পুলিশ ছাত্রলীগকর্মীদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালায় এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং মারণঘাতী পিলেট ব্যবহার করে শটগান দিয়ে গুলি করে। পুলিশ গুলি শুরু করলে সাঈদ হাত মেলে ধরেন।
ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে দেখা গেছে, তার এক হাতে বাঁশের লাঠি ছিল। কিন্তু প্রায় ১৪-১৫ মিটার দূরে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য তা কোনো হুমকি ছিল না।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাঈদ চিৎকার করে বলেন, ‘আমাকে গুলি করো।’ দুই পুলিশ কর্মকর্তা শটগান দিয়ে তার শরীরে একাধিক গুলি করেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন তাদের ডিজিটাল ফরেনসিক দল দিয়ে গুলির ভিডিও ও ছবি পরীক্ষা করেছে।
এর মাধ্যমে সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও সাঈদের হত্যার ঘটনার বিশ্লেষণ করা হয়।

ভিডিও থেকে সংগৃহীত ছবিতে দেখা যায়, অন্তত দুজন পুলিশ সদস্য সাঈদের ওপর গুলি চালান। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাঈদের কাঁধে লাল দাগ এবং তার শার্টে রক্তের দাগ দেখা গেছে। অন্যান্য ছবিতে তার হাত, বাহু, কনুই, ঘাড়সহ তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। সাঈদকে রক্তসহ থুতু ফেলতে দেখা গেছে, যা মেডিক্যাল প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে বলা হয়েছে, গুলি সম্ভবত সাঈদের ঘাড় ও ফুসফুসে আঘাত করে, যার ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাঈদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা বলেন, গুলি সম্ভবত তার ফুসফুসে আঘাত করেছে। এ কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে।

জাতিসংঘের ফরেনসিক চিকিৎসক সাঈদের মেডিক্যাল রেকর্ড পর্যালোচনা করেছেন এবং দেখেছেন, আন্তর্জাতিক ফরেনসিক মান অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা হয়নি।

চিকিৎসক সাঈদের শরীরের ছবিসহ চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রমাণাদি পরীক্ষা করে দেখেছেন যে তার বুকের ডান পাশে অন্তত ৪০টি এবং বাঁ পাশে ৫০টি ধাতব পিলেট আঘাত করে, যেগুলো হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও পেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কাছাকাছি ছিল।

ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাঈদকে প্রায় ১৪ মিটার দূর থেকে প্রাণঘাতী ধাতব পিলেট ভর্তি শটগান দিয়ে কমপক্ষে দুইবার গুলি করা হয়। ভিডিও ফুটেজের অধিকতর ফরেনসিক পরীক্ষায় সাঈদের ঘাড়, বুক এবং বাহু থেকে রক্তপাত দেখা গেছে, যার ফলে হাইপোভোলেমিয়া (রক্তচাপ কমে যাওয়া) এবং মাথা ঘোরার লক্ষণ দেখা গেছে।

নতুন বাংলাদেশে যুক্ত হতে বিশ্ববাসীকে আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

নিপীড়নমূলক শাসন এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র ও তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ইতালির রাজধানী রোমে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) গভর্নিং কাউন্সিলের ৪৮তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আইএফএডি ৪৮তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি রেকর্ড করা ভিডিও সম্প্রচার করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বৈশ্বিক দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে অবদানের জন্য আইএফএডিকে অভিনন্দন জানান।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএফএডি চার দশকের সহযোগিতা বিশেষ করে কৃষি ও জলবায়ু খাতে সমর্থিত প্রকল্পগুলোর প্রশংসা করেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষমতায়ন করে।

তিনি তার ‘সামাজিক ব্যবসা’-এর ধারণাকে গ্রামীণ উন্নয়নের একটি নতুন মাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা একটি সৎ চক্র তৈরি করে যেখানে ব্যবসা সম্প্রদায়ের চাহিদা পূরণ করে উন্নতি লাভ করে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে উৎসাহিত করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা আইএফএডির প্রচেষ্টা এবং ‘৩ জিরো’ বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে একটি সমান্তরাল আঁকেন- অসম্পদ ঘনত্বের মাধ্যমে শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নির্গমনের আহ্বান জানান।

প্রফেসর ইউনূস আইএফএডি গভর্নিং কাউন্সিলকে জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো, টেকসই কৃষি অনুশীলন এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সমাধানে আরও বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান, যাতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নতি করতে পারে।
তিনি আইএফএডির সদস্য রাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে দুর্বলদের জন্য সুযোগগুলো কাজে লাগাতে এবং একটি উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আইএফএডির নেতাদের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইএফএডির গভর্নিং বোর্ডের গভর্নর হিসেবে কাউন্সিল সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলার পরামর্শ জাতিসংঘের

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা, ভোটারদের একটি অংশকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করাসহ গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে- এমন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলতে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর।

২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণ-আন্দোলনের বিষয়ে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে জাতিসংঘ বলেছে, রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা ‘সত্যিকারের বহুদলীয় গণতন্ত্র’ পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে ক্ষুণ্ন করবে এবং বাংলাদেশের ভোটারদের একটি বড় অংশকে কার্যকরভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।

এ ছাড়া সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচনের আগে বিশেষ ব্যবস্থাসহ অবাধ ও প্রকৃত নির্বাচনের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতের সুপারিশও করা হয় প্রতিবেদনে।

সাংবাদিক, আওয়ামী লীগ সমর্থক, সংখ্যালঘু নেতা, মানবাধিকারকর্মী এবং নাগরিক বা রাজনৈতিক ভিন্নমত প্রকাশকারী অন্যরা যাতে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, অপ্রমাণিত ফৌজদারি মামলা বা অন্য ধরনের ভীতি প্রদর্শনের শিকার না হন- তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে জাতিসংঘ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রতিশোধমূলক সহিংসতা থেকে তাদের কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পদক্ষেপ নিন এবং এই ধরনের হামলায় জড়িত অপরাধীদের বিষয়ে তদন্ত ও বিচার করুন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হামলাসহ নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিও সহজতর করুন।’

শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করারও সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ।
দেশের নাগরিকদের নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের (নাগরিক) সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা যাতে মানবাধিকারের নীতির প্রতি সম্মান দেখায়- তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা শুরুরও সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত ক্ষেত্রে অস্থায়ী বিশেষ ব্যবস্থাসহ রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে প্রকৃত সমতা নিশ্চিতে আইন ও বিধি-বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে গুরুতর লঙ্ঘন এবং প্রতিশোধমূলক সহিংসতার জন্য ন্যায্য এবং কার্যকর ফৌজদারি বিচারের সুপারিশ করেছিল।

আদিলেরও ‘প্রিয় শিকার’ কোহলি

বোলারদের বল পিটিয়ে অনেক রেকর্ডই গড়েছেন বিরাট কোহলি। এবার মুদ্রার উল্টো পিঠটাও দেখলেন তিনি। তাকে আউট করে আজ আহমেদাবাদে রেকর্ড গড়েছেন আদিল রশিদ। ভারতীয় ব্যাটারকে সর্বোচ্চবারের মতো আউট করার রেকর্ড।

আদিল অবশ্য এককভাবে এই রেকর্ডের মালিক নন, সঙ্গী আছেন আরো দুজন। সেই দুজন হচ্ছেন জশ হ্যাজলউড ও টিম সাউদি। তিনজনেরই ‘প্রিয় শিকার’ কোহলি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে ১১ বার কোহলিকে আউট করেছেন তারা।

আহমেদাবাদে আজ কোহলিকে উইকেটরক্ষক ফিল সল্টের হাতে ক্যাচ বানিয়ে যৌথভাবে রেকর্ডের মালিক হন আদিল। আজকের আউটটি ওয়ানডেতে পঞ্চম আদিলের। অন্যদিকে দুইবার টি-টোয়েন্টির বিপরীতে চারবার টেস্টে আউট করেছেন আদিল। সব মিলিয়ে ৩৪ ম্যাচে ১১ বার আউট করেছেন ইংল্যান্ডের লেগ স্পিনার।
অন্যদিকে কোহলিকে সমানবার আউট করতে নিউজিল্যান্ডের পেসার সাউদির ৩৭ ম্যাচের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান পেসার হ্যাজলউডের লেগেছে ২৯ ম্যাচ।

আদিলের ‘প্রিয় শিকার’ হওয়ার আগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন কোহলি। সর্বশেষ সব মিলিয়ে ১০ ইনিংস পর পাওয়া ফিফটিটায় রানে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। আজ ৫৫ বলের ৫২ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৭ চার ও ১ ছক্কায়। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৭৩তম ফিফটি এটি।

দুবাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

বিশ্ব সরকার সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিট) অংশ নিতে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টায় অধ্যাপক ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

দুই দিনের সংক্ষিপ্ত সফর শেষে আগামী শুক্রবার তিনি দেশে ফিরবেন। প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে লাগবে ৫৩ বিলিয়ন ডলার : জাতিসংঘ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ড পুনর্গঠন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলজুড়ে চলমান মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় ৫৩ বিলিয়ন ডলার লাগবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে আসছে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাসের এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৮ হাজার ২১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এটি নিয়ে নতুনভাবে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের এই বর্বরোচিত হামলায় গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, আর অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

এ কারণে গাজা ভূখণ্ড পুনর্গঠন ও চলমান মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় ৫৩ বিলিয়ন ডলার লাগবে। আর এই বিপুল অর্থের মধ্যে শুধুমাত্র প্রথম তিন বছরেই ২০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজায় প্রয়োজনীয় চাহিদার সম্পূর্ণ মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক বিশ্লেষণে বোঝা যাচ্ছে যে, গাজা উপত্যকায় ব্যাপক পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।