বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠাল থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ১০ বছর ধরে আটক থাকা উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠাচ্ছে থাইল্যান্ড। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আপত্তি উপেক্ষা করে এরইমধ্যে অন্তত ৪০ জনকে চীনে পাঠিয়েছে দেশটি।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, চীনে এই উইঘুররা নির্যাতনের শিকার হতে পারে। এমনকি, তাদের জীবন বিপন্ন হতে পারে।
তবে, এসব আশঙ্কার তোয়াক্কা না করেই উইঘুরদের ফেরত পাঠাচ্ছে থাইল্যান্ড।

চীনের বন্দিশালায় ১০ বছর ধরে আটক থাকার পর বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) একটি ফ্লাইটে ওই ৪০ উইঘুরকে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে পাঠানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের পর এবারই থাইল্যান্ড প্রথম উইঘুরদের চীনে পাঠাল বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

উইঘুররা চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলের একটি মুসলিম জাতিগোষ্ঠী।
তাদের ওপর গণহত্যা চালানো এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আছে চীনের বিরুদ্ধে।

বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ এই উইঘুরদের নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পর গোপনীয়তা বজায় রেখে থাইল্যান্ড তাদেরকে চীনে ফেরত পাঠিয়েছে।

থাই সরকার জানিয়েছে, তারা ৪০ জন উইঘুরকে চীনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে রাখা ঠিক নয়।
আর তৃতীয় কোনো দেশও তাদেরকে নিতে এগিয়ে আসেনি। অতীতে তুরস্ক উইঘুরদের আশ্রয় দিয়েছিল।

থাইল্যান্ডে বাদবাকী আরও ৮ উইঘুর আছে। এর মধ্যে ৫ জন আটক থাকার সময়ে অপরাধ করার সাজা হিসাবে জেল খাটছে।

থাইল্যান্ড সরকার আরো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা সম্প্রতি চীন সফর করার সময় আশ্বাস পেয়েছেন যে, উইঘুরদের ফেরত দেওয়া হলে চীন তাদের দেখভাল করবে।

সুস্থ হয়েই চিরচেনা রূপে মঞ্চ মাতালেন শাকিরা

গত বছর মুক্তি পায় শাকিরার ১২তম স্টুডিও অ্যালবাম ‘ওমেন ডোন্ট ক্রাই অ্যানিমোর’। সেই অ্যালবামেরই কনসার্ট ট্যুর শুরু করেছেন ৪৮ বছর বয়সী গায়িকা। তবে পেরুতে ট্যুর চলাকালীন প্রচন্ড পেটব্যাথা নিয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে। সাময়িক স্থগিত রাখা হয় কনসার্টের পরবর্তী শোগুলো।
তবে সুস্থ হয়ে আবারও মঞ্চে ফিরেছেন এ বিশ্বনন্দিত পপতারকা।

সুস্থ হয়েই মঞ্চে তুফান আনলেন শাকিরা। গতকাল বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে পারফর্ম করেন নিজের দেশ কলম্বিয়ার বোগোতাতে। বোগোতাতে এদিন মঞ্চে চেনা রূপে হাজির হন কলম্বিয়ার গায়িকা।
নাচে-গানে রীতিমতো ঝড় তোলেন।

জানা গেছে, নিজের এ মিউজিক্যাল ট্যুরে পেরু হয়ে কলম্বিয়ায় এসেছেন শাকিরা। আজ রাতে পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কলম্বিয়া পর্ব। এরপর চিলি, আর্জেন্টিনায় পারফর্ম করবেন।
আগামী ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে পারফর্মের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ট্যুর।

এর আগে, ১৫ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় শাকিরাকে। নিজের অসুস্থতার খবর নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন শাকিরা। তিনি জানান, পেট ব্যথার জন্য ইমারজেন্সিতে ভর্তি করা হয় তাকে। ডাক্তাররা তাকে পারফরম করতেও নিষেধ করে দেয়।
ফলে তিনি স্টেজে উঠে পারফর্ম করতে পারবেন না। এজন্য ভক্ত-শ্রোতাদের কাছে ক্ষমাও চান শাকিরা। তবে দ্রুতই মঞ্চে ফেরার প্রতিশ্রুতিও দেন গায়িকা। কথাও রেখেছেন শাকিরা। অবশেষে নিজের অসমাপ্ত ট্যুর সম্পন্ন করতে মঞ্চে ফিরলেন তিনি।

নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আলোচনায় জেলেনস্কিকে ইইউর আমন্ত্রণ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কিকে ৬ মার্চ অনুষ্ঠেয় বিশেষ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যেখানে ইউক্রেনের জন্য সম্ভাব্য ইউরোপীয় ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ নিয়ে আলোচনা হবে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের পাশ কাটিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের আলোচনা শুরু করেছেন, তখন ইউরোপ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে।

ব্রাসেলসে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে কিয়েভকে সহায়তা এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
এ ছাড়া ইউক্রেনের জন্য নতুন অস্ত্র সরবরাহ চুক্তির বিষয়ে সমঝোতা হওয়া নিয়েও আশাবাদ রয়েছে।

২৭ সদস্যবিশিষ্ট ইইউ কাউন্সিলের প্রধান কস্তা নেতাদের উদ্দেশে এক আমন্ত্রণপত্রে লিখেছেন, ইউক্রেন সংকটের ‘নতুন গতি’ যেন একটি ‘সামগ্রিক, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।

কস্তা আরো উল্লেখ করেন, ‘ইইউ ও এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য আরো বেশি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।
’

কাউন্সিলের প্রধান বলেন, ‘ইইউকে অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে, যাতে ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় ইউরোপীয় অবদান রাখা যায়।’

অন্যদিকে ইইউর শীর্ষ কূটনীতিক কায়া কালাস দ্রুত ইউক্রেনের জন্য একটি বড় অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কামানের গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র। তবে ট্রাম্প ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ দেশ হাঙ্গেরি এই প্যাকেজের বিরোধিতা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ শুধু ইউক্রেন ইস্যুতেই নয়, বরং ন্যাটো মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সম্পর্কেও ইউরোপের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিরক্ষা বিষয়ে কস্তা জানিয়েছেন, এই বৈঠকের লক্ষ্য ‘প্রাথমিক সিদ্ধান্ত’ নেওয়া, যাতে ইউরোপ ‘আরো স্বাধীন, অধিক সক্ষম ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভালোভাবে সজ্জিত’ হতে পারে।

সূত্র : এএফপি

দেশে বিরাজমান বৈষম্যগুলোকে চিহ্নিত করে কাজ করতে হবে : শিরীন হক

ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সফলতায় সংস্কারের সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে বিরাজমান বৈষম্যগুলোকে চিহ্নিত করে কাজ করতে হবে। দেশের সব ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে কাজ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হবে, সব ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্যের নিরসন। নারী-পুরুষের বৈষম্য কমাতে কাজ করতে হবে। নারীর উন্নয়ন বিকাশে বাধাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। অন্য সব সংস্কার কমিশনে নারী অধিকারের প্রাধান্য নিশ্চিত করতে হবে।
এটা আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি। ক্রান্তিকালে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার সর্বোত্তম সুযোগ।’

অনুষ্ঠানে নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (প্রকল্প-২) আসিফ মাহমুদ।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) মো. মনির হোসেন বলেন, ‘নারী উন্নয়নে সরকারের যেসব আইন-কানুন রয়েছে তা আপডেট করার কার্যক্রম চলছে।
একেবারে প্রান্তিক পর্যায় থেকে আমাদের কাজ করতে হবে।’

ইউএনডিপি বাংলাদেশের জেন্ডার টিম লিডার শারমিন ইসলাম বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিমণ্ডলের তুলনায় আমাদের নারীদের উন্নয়নের চিত্র ভিন্ন। আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতি-নির্ধারণ জায়গায় বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে যে নারী উন্নয়নের প্রাধান্য দিতে হবে।’

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সমাজে যৌন হয়রানি, সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে বন্ধ এবং জলবায়ু, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও সবুজায়ন এবং ক্রীড়াঙ্গনে নারী নেতৃত্ব বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিন ক্যাটাগরিতে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের তিনজনকে ‘নাসরীন স্মৃতিপদক ২০২৫’ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এ বছর পদক গ্রহণ করেন যথাক্রমে ডনাইপ্রু নেলি, রিনা খাতুন এবং আফরোজা খন্দকার।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটির চেয়ারপারসন ইব্রাহিম খলিল আল জায়াদ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল হামিদ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য মেঘনা গুহঠাকুরতা, দেশ গ্রোথ কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিদিয়া অম্রিত খান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান, মাঝামাঝির প্রতিষ্ঠাতা জারিন জেবা খান প্রমুখ।

গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল চেষ্টা করে যাচ্ছে : মির্জা ফখরুল

দেশের গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে বিএনপির বর্ধিত সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকে বিঘ্নিত করার জন্য, বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি মহল বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বাইরে থেকেও চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তর থেকেও কিছু কিছু গোষ্ঠী ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
’

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘দেশের মানুষের অনেক আশা, ৫ আগস্ট পরিবর্তনের পরে, ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ থেকে পলায়নের পরে, দেশে পরিবর্তন আসবে। অতিদ্রুত জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবেন। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে দেখছি, সে লক্ষ্যে আমরা সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাচ্ছি না।’

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।
ক্রমান্বয়ে শিক্ষাঙ্গনগুলো বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ থাকছে না। অবিভক্ত বাংলায় যেসব বরেণ্য বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, যারা বিশেষ করে পূর্ব বাংলায় জন্ম নিয়েছিলেন, তাদের নাম কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে সংগ্রাম বিফলে যায় : খালেদা জিয়া

বিএনপির বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে তিনি এ বর্ধিত সভায় যুক্ত হন। জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল সংলগ্ন মাঠে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান খালেদা জিয়া।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন। এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে আপনাদের এতো দিনের সংগ্রাম আত্মত্যাগ বিফলে যায়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংকীর্ণতাকে ভুলে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের কাজ করতে হবে।

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও সর্বদা দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের পাশে আছেন বলে জানান বিএনপি চেয়ারপার্সন।

দলের নেতাকর্মী ও ছাত্র সমাজের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর ও সুনির্মান দেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

প্রাপ্ত অর্জনকে নস্যাৎ করতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলেও উল্লেখ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি সবাইকে নিয়ে এই চক্রান্ত ব্যার্থ করে দিতে আহ্বান জানান।

খালেদা জিয়া বলেন, “দেশ আজ এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা রাষ্ট্র মেরামতের ন্যূনতম সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। ”

এর আগে সকাল ১১টায় শুরু হওয়ায় সভার লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মরক্কোর বাদশার দাওয়াতে রাজপ্রাসাদে যাচ্ছেন ইউসুফ আল আযহারী

মরক্কোর বাদশাহের দাওয়াতে রাজপ্রাসাদে যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত ক্বারী আহমাদ বিন ইউসুফ আল আযহারী। ৯ম বারের মতো তিনি মরক্কোর বাদশাহ মুহাম্মাদ (ষষ্ঠ)-এর দাওয়াতে রাজপ্রাসাদে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য আমন্ত্রিত হয়েছেন। আগামীকাল শুক্রবার রাবাতের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি।

‘আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থা (ইক্বরা)-এর সভাপতি ও মা’হাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশ-এর পরিচালক শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ আযহারী।
২০১৪ সাল থেকে তিনি প্রতি বছর রমজান মাসে মরক্কোর বাদশাহের অতিথি হয়ে মরক্কো সফর করছেন।

তাঁর এ রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ক্বারী আহমাদ ইউসুফ আযহারী বাংলাদেশে বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও ক্বিরাতের রুপকার ক্বারী মুহাম্মাদ ইউসুফ রহ:-এর জ‍্যেষ্ঠ পুত্র।

‘আপসহীন নেত্রীর নির্দেশ ছিল কারাগারে গেলেও আন্দোলন চলবে’

সারা দেশ থেকে আসা কয়েক হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বর্ধিত সভা শুরু হয়েছে। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কারাগারে যাওয়ার আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের নির্দেশ দেন, জানি হয়তো আপনাদের মধ্যে থাকব না, হয়তো এই ফ্যাসিস্ট সরকারের কোপানলে পড়ে আমাকে কারাগারে যেতে হবে।
কিন্তু আপনাদের আমি নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছি, গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য আপনারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সেই নির্দেশনা মেনে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দীর্ঘ ১৫ বছর সারা দেশের নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করে গেছেন। একটি গণতান্ত্রিক, আইন ও সংবিধান মেনে চলা রাজনৈতিক দলের ওপরে নির্মম নির্যাতন চালানোর পরেও শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি তার দেখানো পথেই লড়াই করে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম ও পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এর পরেও আপনারা মাঠে থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করে গেছেন। এ জন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ।
এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে যেসব নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
এ ছাড়া শ্রদ্ধা জানাই জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের।

জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচন বিনষ্টের প্রচেষ্টা চলছে : তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রক্ত-পিচ্ছিল রাজপথে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের প্রচেষ্টা চলছে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল ও মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বিএনপির বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের সামনে বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
তবে সেটা নস্যাৎ করার জন্য এরইমধ্যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমি আজ দেশের কৃষক, শ্রমিক, জনতা, আলেম-ওলামা তথা দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান এবং অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে রাখতে চেয়েছিল তাঁদের ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো থেমে নেই। সংস্কার কিংবা স্থানীয় নির্বাচন এসব ইস্যু নিয়ে জনগণের সামনে একটি ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে।
রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিএনপির কাছে সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়। সরকারে কিংবা বিরোধে দলে বিএনপি যখন যে অবস্থানে দায়িত্ব পালন করেছে, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সবসময়ে রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছে বিএনপি এবং সংস্কারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা— এ সবই ছিল রাষ্ট্র-রাজনীতির ময়দানে যুগান্তকারী সংস্কার।
এছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনের সময় বিএনপি সরকার দেশের স্কুল-কলেজে মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, রাষ্ট্র ও সমাজে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এগুলো ছিল রাষ্ট্র ও সরকারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার।

তিনি আরো বলেন, তবে ষড়যন্ত্রের হাত ধরে পলাতক গণহত্যাকারী স্বৈরাচার রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর সংস্কারের সকল পথ বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশকে চিরতরে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে গত দেড় দশকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও নাজুক করে তুলেছিল। টাকা পাচার আর লুটপাট চালিয়ে করে দেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে দিয়েছিল।
অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল দেশের সবগুলো সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। দেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকারকে হরণ করে নিয়েছিল।

বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সর্বশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া। ফ্যাসিবাদী শাসনকালে এরপর আর বিএনপির বর্ধিত সভা বা কাউন্সিল অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাধীন থাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তিনি এই সভার সাফল্য কামনা করেছেন। তিনি আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। এই মানুষটির সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও সুদক্ষ নেতৃত্ব বিএনপিকে পৌঁছে দিয়েছিল সারা দেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ঘরে।

তারেক রহমান বলেন, আজকের এই বর্ধিত সভার শুরুতেই আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই। তিনি একদলীয় অভিশপ্ত বাকশালের অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশে জ্বালিয়েছিলেন গণতন্ত্রের আলো। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের নিষিদ্ধ করা সকল দলগুলোকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন শহীদ জিয়া। জনগণের ভালোবাসায় ধন্য বিএনপির হাতে গণতন্ত্রের ঝাণ্ডা তুলে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্বৈরাচার বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, স্বজন হারিয়েছেন, যেসব পরিবার নিদারুণ দুঃখ, কষ্টের শিকার হয়েছেন, যাদের ঘাম-শ্রম-মেধায় বিএনপি আজ আপামর জনগণের কাছে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে আজকের এই বর্ধিত সভার শুরুতে তাঁদের প্রত্যেকের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই। সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ধারাবাহিক সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে সাহসী বীর আবু সাইদ, ওয়াসিম, মুগ্ধ, রিয়া গোপ, আব্দুল আহাদসহ বিএনপির পাঁচ শতাধিকসহ হাজারো শহীদ এবং আহত মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হলেন ১০৪ কর্মকর্তা

১০৪ জন সহকারী পুলিশ সুপারকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানা হয়।

পদোন্নতি পাওয়া ১০৪ জনের মধ্যে দুই জন ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন।

ওই কর্মকর্তাদ্বয় পিআরএল/অবসরকালীন পদোন্নতির তারিখ থেকে বিধিমোতাবেক ভাতাদি প্রাপ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।