বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

দেশে অপরাধের পরিমাণ বাড়েনি : প্রধান উপদেষ্টা

দেশে অপরাধের পরিমাণ বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আমি হিসাব নিচ্ছি, অপরাধের পরিমাণ মোটেই বাড়েনি। আগের মতোই রয়েছে। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ছয় মাসে ডাকাতির সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এটা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কী সমস্যা হচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি আমরা। সমস্যার কথা আপনিও জানেন, আমিও জানি। প্রথমদিকে সমস্যা ছিল যে পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে আমরা কাজ করাচ্ছিলাম, তারা ভয়ে রাস্তায় নামছিল না।
কারণ কয়েক দিন আগেই তারা এদের গুলি করেছে। মানুষ দেখলেই তারা ভয় পায়। তাদের ঠিক করতে করতেই কয়েক মাস চলে গেছে। এখন মোটামুটি ঠিক হয়ে গেছে।

মব জাস্টিস, গণপিটুনি, ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরসহ বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই ভাঙচুর চললেও সরকার বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি— এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সময় নিচ্ছে (আইন-শৃঙ্খলা) বাহিনী। তারা এখনো প্রস্তুত হয়নি। তাদের মানসিকতা থেকে এখনো মুক্ত হতে পারেনি। এটা একটা বিষয় হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি যেকোনো পুলিশ স্টেশনে গিয়ে তারা যেকোনো রিপোর্ট করতে পারে, আইনের আশ্রয় নিতে পারে। আমরা সেটাকে সহজ করেছি। এখন অনলাইনে মামলা করা যায়, যাতে মামলা করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে না হয়। মামলার প্রক্রিয়াটা সহজ করেছি।

ব্রডির হাতেই উঠল অস্কার

অনুমান ছিল আগে থেকেই। সিনেমাপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল, এ বছর অস্কারে সেরার পুরস্কারটা উঠবে অ্যাড্রিয়েন ব্রডির হাতে। উঠল তাই। অস্কারের ৯৭তম আসরে সেরা অভিনেতার পুরস্কার ঘরে তুললেন গুণী অভিনেতা অ্যাড্রিয়েন ব্রডি।
বছরের অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্রুটালিস্ট’-এর জন্য বছরসেরার অস্কার হাতে উঠে অভিনেতার। এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অস্কারজয়।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে রবিবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় অস্কারের জমকালো আসরে সেরা এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সেরা অভিনেতার অস্কার জেতার মাধ্যমে মাত্র দুইবার মনোনয়নে দুবারই পুরস্কার জিতে রেকর্ড গড়লেন ব্রডি।

ব্র্যাডি করবেট পরিচালিত ‘দ্য ব্রুটালিস্ট’ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে শরণার্থীর জীবনের সংগ্রাম, তাদের স্বপ্ন, লড়াই ও নৈতিকতার টানাপোড়েনের গল্পে। এই সিনেমায় হাঙ্গেরির গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া এক তরুণ স্থপতি মূল চরিত্র, তার নাম লাভি। যিনি সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তার ‘আমেরিকান ড্রিম’ বাস্তবায়ন করতে চায়। কিন্তু লাভির এই পরিচয় তৈরির পথটা জটিলতায় পূর্ণ।
এই পথটা সহজ করতে হলে তার নৈতিকতা বিসর্জন দিতে হবে। যা দিতে নারাজ লাভি। সিনেমার গল্পে শরণার্থীর জীবনের সংগ্রাম, তাদের স্বপ্ন, লড়াই ও নৈতিকতার দিকটি তুলে ধরেছেন নির্মাতা করবেট।

২০০২ সালে ‘দ্য পিয়ানিস্ট’ সিনেমার জন্য ২৯ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন ব্রডি। পরের এতগুলো বছরে বলার মত তেমন কোনো সাফল্য নেই ব্রডির।
‘দ্য ব্রুটালিস্ট’ দিয়ে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জেতা ব্রডির জন্যও তাই দুর্দান্ত ফেরার বছর এটি। সেই সঙ্গে ক্যারিয়ারে মাত্র দুইবার মনোনয়ন পেয়ে দুইবারই সেরার পুরস্কার জিতলেন ব্রডি যা অস্কারের ইতিহাসে অনন্য এক মাইলফলক।

এ বছর অস্কারে অভিনেত্রী মাইকি ম্যাডিসন জিতেছেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। আনোরায় দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য সেরা হন তিনি। সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার ঘরে তুলেছে ‘আনোরা’।

এছাড়াও আয়োজনের প্রথম পুরস্কারটি পেয়েছেন আমেরিকান অভিনেতা কিয়েরান কালকিন। ‘অ্যা রিয়েল পেইন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতার স্বীকৃতি পেলেন তিনি। ‘এমিলিয়া পেরেজ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে অভিনয় করে অস্কার ছিনিয়ে নিলেন জো সালদানা। দ্বিতীয়বারের মতো অস্কার জিতে নিলেন শন বেকার। অ্যানোরা সিনেমার জন্য সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে অস্কার জিতলেন তিনি।

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে গেলেন সেনাপ্রধান

তিন দিনের সরকারি সফরে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের উদ্দেশে আজ সোমবার ঢাকা ত্যাগ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সফরকালে সেনাপ্রধান সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নিয়োজিত বাংলাদেশি কন্টিনজেন্টগুলো এবং সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। এ ছাড়া সেখানকার জনসাধারণের সেবার উদ্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তিরক্ষী কর্তৃক নির্মিত একটি কমিউনিটি ক্লিনিক সেনাপ্রধানের উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫টি কন্টিনজেন্ট শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৪ সাল থেকেব আজ পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৬১ জন সেনাসদস্য শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং আফ্রিকার সংঘাতপূর্ণ এই দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত অবস্থায় ১১ জন সেনাসদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে সংস্কার হবে, জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে দেশের সংস্কার হবে সে বিষয়ে রূপরেখা বর্ণনা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ বিষয়ে জানান।

সাক্ষাতকারে বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রশ্ন করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বড় লক্ষ্য হিসেবে আপনি সংস্কারের কথা বলেছেন এবং এটি নিয়ে আপনি অনেকগুলো কমিশনও গঠন করেছেন। কিন্তু এখন যেহেতু আপনারাই বলছেন যে এ বছরের শেষে নির্বাচন হবে; তো এই অল্প সময়ের আপনারা সংস্কার কতটা করতে পারবেন বলে মনে করেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সেটার প্রক্রিয়া আমরা শুরু করে দিয়েছি।
আমরা একেবারে প্রত্যেকটা বিষয়ে সুপারিশ দেব। সুপারিশের সঙ্গে কথা থাকবে; আপনারা রাজনৈতিক দল এটাকে সমর্থন করেন? এতে রাজি আছেন, রাজি থাকলে বলেন, রাজি না থাকলে বলেন। আমরা এই যে সুপারিশটা আছে সেটার মধ্যে যদি কোনো একটা সংশোধনী এলে আপনি রাজি হবেন, সেটা বলেন। এটা কি নির্বাচনের আগে সংশোধন করা ঠিক হবে, নাকি নির্বাচনের পরে করা হবে; সব প্রশ্নের এখানে সমাবেশ আছে।
রাজনৈতিক দলকে শুধু বলতে হবে— এটা রাজি, এটা রাজি, এটা রাজি না। এটা বলে দিলেই হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু মিলিয়ে তারপর আমরা ঠিক করব, কোন সুপারিশে সবাই একমত হয়েছেন। এ রকম যেসব সুপারিশে তারা একমত হয়েছেন সেগুলো আমরা আলাদা আরেকটি কাগজে নিয়ে আসব।
এরপর আলাদা কাগজে লিখব যে, এ সমস্ত বিষয়ে সবাই একম হয়েছেন। তখন এটাকে আমরা বলব একটা চার্টার, জুলাই চার্টার। তারপর সবাইকে আহ্বান জানাব, যেহেতু এবার আপনারা একমত হয়েছেন তাহলে এই জুলাই চার্টারে সই করে দেন। এই মতেই আমরা এখন থেকে চলব। সেই পরিপ্রেক্ষেতেই তখন নির্বাচনটা হবে।
নির্বাচনের আগে যেটা বলেছেন সেটা নির্বাচনের আগে হবে, যেটা নির্বাচনের পরে বলেছেন সেটা নির্বাচনের পরে হবে। সেটা আপনাদের বিষয়। কিন্তু আপনারা একমত হয়েছেন। সেই ঐকমত্যই আমরা গঠন করার চেষ্টা করছি।

তাহলে কি বলা যায় যে নির্বাচনটা এই বছরের মধ্যেই হচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা তো সেটা ঘোষণা করেই দিয়েছি, নতুন করে আর বলার তো কিছু নেই।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে: প্রধান উপদেষ্টা

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশের পরিস্থিতিতে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কতটা পরিবর্তন এসেছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বহু পরিবর্তন এসেছে। যে ধ্বংসাবশেষ থেকে এসেছিলাম এখন একটি নতুন চেহারা এসেছে।
আমরা অর্থনীতি সহজ করেছি, দেশ বিদেশের আস্থা অর্জন করেছি। সারা দুনিয়ায় আমরা আস্থা স্থাপন করতে পেরেছি। এটা কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না। যে দেশই বলুন, তাঁরা আমাদের ওপর আস্থা স্থাপন করেছে এবং বিপুলভাবে করেছে।
তাঁরা বলছে আমরা অতীতে যা করিনি তার চেয়ে বেশি করব তোমাদের জন্য। যেহেতু আমরা দেখছি যে একটি সুন্দরভাবে সরকার চলছে।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটা দেশ নিজে এসে বলেছে আমরা তোমাদের সমর্থন করছি। তোমাদের যা দরকার আমরা দেবো।
অবিশ্বাস্য রকমের সমর্থন তাঁরা দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমার কোনো চিন্তা-ভাবনা ছিল না যে আমি হঠাৎ করে একটা সরকারের প্রধান হবো, দায়িত্ব পাবো। এবং সেই দেশের দায়িত্ব যেখানে সব তছনছ হয়ে গেছে। কোনো কিছুই আর ঠিকমতো কাজ করছে না। যা কিছু আছে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাজ করতে হবে।
কাজেই আমার প্রথম চেষ্টা হলো সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আসল চেহারাটা বের করে আনা। মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করে আনা, সেই চেষ্টার মধ্যে ছিলাম।

তিনি বলেন, তারপর আস্তে আস্তে ভবিষ্যৎ কি হবে সেই চিন্তা করা। প্রথম চিন্তা আসল যে, একটা সংস্কার দরকার আমাদের। যে কারণে এইসব ঘটনা ঘটেছে, এই ফ্যাসিবাদী সরকার চলতে পেরেছে, ১৬ বছর ধরে চলতে পেরেছে আমরা কিছুই করতে পারি নাই; তিন তিনটা নির্বাচন হয়ে গেল, ভোটারের কোনো দেখা নাই। এই যে অসংখ্য রকম দুর্নীতি, ব্যর্থতা, অপশাসন সেখান থেকে আমরা কীভাবে টেনে বের করি মানে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো করতে হবে। সে কারণে প্রথমে ঠিক করলাম কিছু সংস্কার কমিশন করব।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই গাজায় ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ ইসরায়েলের

গতকাল রবিবার গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে বাধা দিয়েছে ইসরায়েল। হামাস এ বিষয়ে মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। গাজা উপত্যকায় সকল মানবিক সাহায্য প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি আরব রাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে।

মিসর এবং কাতার জানিয়েছে, রবিবার ইসরায়েলি পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবিক প্রধান টম ফ্লেচার এটিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, তার দেশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে কারণ হামাস সরবরাহ চুরি করছে এবং ‘তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে অর্থায়নের জন্য’ ব্যবহার করছে। তিনি ফিলিস্তিনি এ গোষ্ঠীকে গাজায় যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার জন্যও অভিযুক্ত করেছেন।

রবিবার এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এটিকে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে বর্ণনা করেছে।
মিসরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে অনাহারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে। কাতার এবং মিসর উভয়ই গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করতে সহায়তা করেছে।

এদিকে, সৌদি আরব ইসরায়েলি সাহায্য অবরোধের নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল টম ফ্লেচার এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন স্পষ্ট, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ জীবন রক্ষাকারী সাহায্য সরবরাহের জন্য প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
’

নেতানিয়াহু বলেন, ‘হামাস রসদ চুরি করে এবং গাজার জনগণকে তা পায় না বলে ইসরায়েল এই পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই রসদ ব্যবহার করে তারা তাদের সন্ত্রাসী চক্রকে অর্থায়ন করে, যার লক্ষ্য সরাসরি ইসরায়েল এবং আমাদের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা। আমরা এটি মেনে নিতে পারি না।’

তবে হামাস পূর্বে গাজায় মানবিক সাহায্য চুরি করার কথা অস্বীকার করেছে। নেতানিয়াহু আরো বলেছেন, হামাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির অস্থায়ী বর্ধিতকরণ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

পণ্য স্থগিতাদেশের বিষয়ে মন্তব্য করে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি রয়টার্সকে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধবিরতি আলোচনার ওপর প্রভাব ফেলবে।’ ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি প্রতিনিধিদল কায়রোতে পৌঁছাবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এর আগে জানিয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের রমজান ও পাসওভারের সময় গাজায় অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। পূর্বে সম্মত যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পর এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

যদি তারা একমত হয়, তাহলে ৩১শে মার্চের দিকে রমজানের রোজার শেষ সময় এবং ২০শে এপ্রিলের দিকে ইহুদিদের পাসওভার ছুটির দিন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি থাকবে। স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়, তাহলে হামাস প্রথম দিনেই জীবিত ও মৃত জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং এই শর্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

হামাস বলেছে, তারা মূলত যুদ্ধবিরতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা দ্বিতীয় পর্যায়ে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। তাদের লক্ষ্য যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানো, কিন্তু প্রথম ধাপে ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতির সাময়িক বর্ধনের ধারণাটি তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাউই আল জাজিরাকে বলেন, ইতিমধ্যেই সম্মত হওয়া ধাপে ধাপে চুক্তির শর্তাবলী অনুযায়ী হামাস কেবলমাত্র অবশিষ্ট ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেবে।

শুক্রবার মিসরীয় সূত্র জানিয়েছে, কায়রোতে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল প্রথম ধাপের মেয়াদ ৪২ দিন বাড়ানোর চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে যেতে চায়। মুখপাত্র হাজেম কাসেম শনিবার বলেছেন, গোষ্ঠীটি প্রথম ধাপ বাড়ানোর ইসরায়েলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে, হামাস ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে এবং পাঁচজন থাই নাগরিককে অনির্ধারিত মুক্তি দেয়। যার বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি এবং গাজার কিছু জায়গা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হয়।

মূল চুক্তির অধীনে, দ্বিতীয় পর্যায়ের লক্ষ্য ছিল বাকি ৫৯ জন জিম্মিকে মুক্তি, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করা। তবে আলোচনা কখনও শুরুই হয়নি এবং ইসরায়েল বলেছে, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে সকল জিম্মিকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

এদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, উত্তর এবং দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় পৃথক হামলায় ইসরায়েলি বন্দুকধারীদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর গাজায় তাদের সেনারা সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করেছে। তারা আরো জানিয়েছে, ‘হুমকি দূর করার জন্য’ এ বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় সকল পণ্য ও সরবরাহ প্রবেশ বন্ধ করা হবে। ‘আমাদের জিম্মিদের মুক্তি ছাড়া ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি হামাস তাদের অবস্থানে অটল থাকে, তাহলে আরো খারাপ পরিণতি ভোগ করতে হবে।’ এদিকে
হামাস ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ এবং ‘চুক্তির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অভ্যুত্থান’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, ‘আমরা মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে তারা চুক্তির অধীনে সকল পর্যায়ে তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য দখলদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক।’ তারা আরো বলেছে, ‘জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় হবে চুক্তি মেনে চলা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য আলোচনা শুরু করা।’

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়নি : প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকারে বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রশ্ন করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের একটি অবনতি দেখা গেছে, এখন দুই দেশের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে আছে?

মীর সাব্বিরের প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক খুবই ভালো। আমাদের সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়নি।
আমি যেভাবে ব্যাখ্যা করে এসেছি, আমাদের সম্পর্ক সব সময় ভালো থাকবে। এখনো ভালো আছে, ভবিষ্যতেও ভালো থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ভালো না থেকে উপায় নেই। আমাদের সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ, আমাদের পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা এত বেশি এবং আমাদের ঐতিহাসিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে আমাদের সম্পর্ক এত ক্লোজ; সেটার থেকে আমরা বিচ্যুত হতে পারব না।
তবে মাঝখানে কিছু কিছু মেঘ দেখা দিয়েছে। এই মেঘগুলো মোটামুটি এসেছে অপপ্রচার থেকে। অপপ্রচারের শত্রু কারা সেটা অন্যরা বিচার করবে। কিন্তু এই অপপ্রচারের ফলে আমাদের সঙ্গে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে।
সেই ভুল বোঝাবুঝি থেকে আমরা উত্তরণের চেষ্টা করছি। তবে মূল সম্পর্কের মধ্যে কোনো ঘাটতি তৈরি হয়নি।

অপর আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভারত সরকারের সঙ্গে আমাদের সব সময় যোগাযোগ হচ্ছে। তারা এখানে আসছে, আমাদের লোকজন সেখানে যাচ্ছে। প্রাইম মিনিস্টার মোদির সঙ্গে আমার প্রথমেই কথা হয়ে গেছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, পরিবারসহ ‘অজ্ঞাত স্থানে’ জেডি ভ্যান্স

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে সপরিবারে মবের কবলে পড়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। নিরাপত্তার জন্য তাদের অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইরিশ স্টার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার ভ্যান্স পরিবারের সঙ্গে ভারমন্ট রাজ্যে ছুটিতে গেলে একদল ইউক্রেন সমর্থক বিক্ষোভকারী তাকে ঘিরে ফেলে।
ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে হওয়া বৈঠক থেকেই ওই বিক্ষোভের সূত্রপাত। ওই বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মূলত সেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ভ্যান্স। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে শুরু হলেও হঠাৎই ভ্যান্স জেলেনস্কির ওপর তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন, যা জেলেনস্কিকে পুরোপুরি অপ্রস্তুত করে ফেলে।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী শনিবার ভ্যান্স ও তার পরিবারকে ‘অজ্ঞাত স্থান’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কারণ তিনি ইউক্রেন সমর্থক বিক্ষোভকারীদের সম্মুখীন হন। বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে তীব্র ভাষায় গালাগাল করে। অনেকে হাতে প্ল্যাকার্ড ধরে ছিলেন, যেখানে লেখা ছিল ‘রাশিয়ায় গিয়ে স্কি করো।
’

ওই বৈঠকে যখন জেলেনস্কি কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে ভ্যান্সের বক্তব্য জানতে চান তখন ভ্যান্স পাল্টা বলেন, ‘আমি এমন কূটনীতির কথা বলছি, যা আপনার দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাবে।’ জেলেনস্কিকে উদ্দেশ করে ভ্যান্স আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আপনার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমেরিকান মিডিয়ার সামনে এসে এভাবে বিষয়টি উত্থাপন করা আপনার পক্ষ থেকে অসম্মানজনক।’

এরপর তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন জেলেনস্কি। এ ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে যুক্তরাষ্ট্র যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে তার জন্য জেলেনস্কি যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেননি।

এই নাটকীয় বাগবিতণ্ডার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে কোনোভাবেই ক্ষমা চাইতে বাধ্য নন।
ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রেসিডেন্টের প্রতি ভ্যান্সের আচরণে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে।

রমজানে রোজা রাখা নিয়ে যা বললেন শাহরুখ

রমজান মানেই আত্মার পরিশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাস। এ মাসের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো রোজা রাখা। রমজানে রোজা রাখার চেষ্টা করেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানও। এক সাক্ষাৎকারে নিজেই সে কথা জানিয়েছিলেন কিং খান।

২০১৩ সালে ঈদে চেন্নাই এক্সপ্রেস মুক্তির পর ভক্তদের মুখোমুখি হন শাহরুখ। সে সময় এক ভক্ত তাকে প্রশ্ন করেন, রমজান মাসে রোজা রাখা হয় কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহরুখ খান জানান, হ্যাঁ, রোজা রাখা হয়। তবে দুই-চারটা রোজা ছুটে যায়। কারণ আমাকে ব্যথার ওষুধ নিতে হয়।

তিনি বলেন, যখন পিঠের ব্যথা শুরু হয়, তখন ওষুধ নিতে হয়। যে কারণে দুই-চারটা রোজা ছুটে যায়। তবে মাশাআল্লাহ অধিকাংশ রোজাই রাখা হয়।

রমজানে বিভিন্ন ইফতার পার্টিতেও দেখা যায় শাহরুখ খানকে।

তৃতীয় সিজনেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে ‘আশ্রম’

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজ ‘আশ্রম’। ববি দেওল অভিনীত সিরিজটি পরপর দুটি সফল সিজনের পর তৃতীয় সিজনেও দারুণ সাড়া ফেলে। তৃতীয় সিজনের প্রথম কিস্তির পর দ্বিতীয় কিস্তিতেও ‘আশ্রম’ দর্শকমনে দুর্দান্ত প্রভাব ফেলেছে।

আশ্রমের গল্প তৈরি হয়েছে ভণ্ড এক সাধুকে ঘিরে।
সেই ভণ্ড সাধুর বিলাসবহুল আশ্রম আর অগণিত ভক্ত। বাস্তবের দুনিয়ার এই ‘নামি’ ভণ্ড সাধুর কী পরিণতি হয়েছে, তা কারো অজানা নয়। রিল লাইফের ভণ্ড সাধুর পরিণতিও যে একই পথে এগোচ্ছে, তা আশ্রম সিরিজের প্রথম থেকেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। কিন্তু কিভাবে আজকের রাজা কাল ভিখারিতে পরিণত হবে, সেটাই ছিল কৌতূহলের জায়গা।
তা দেখতেই নতুন করে এম এক্স প্লেয়ার ডাউনলোড করে চোখ রাখা বাবা নিরালার আশ্রমের দিকে। সত্যি কথা বলতে এবার নিরাশ হতে হয়নি। বরং অবশেষে যে ‘ভগবানে’র দীর্ঘ কাহিনি অন্তিম লগ্নে এসে পৌঁছেছে, সেটা দেখে স্বস্তি পাওয়া গেল।

বাস্তবের ঘটনায় ভিত্তি করে ছবি তৈরি করতে ভালোবাসেন পরিচালক প্রকাশ ঝা।
একইভাবে ওটিটি প্ল্যাটফরমেও হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল তাঁর ‘আশ্রম’। ববি দেওলকে সাধুর চরিত্রে এনে বেশ চমকে দিয়েছিলেন পরিচালক। তারপর ‘জপনাম, জপনাম’ বলতে বলতে ভক্তি, ভয়, মাদকপাচার, যৌনতা, রাজনীতি, পালটা রাজনীতির মোড়কে এগিয়ে যায় গল্প। সিরিজের তৃতীয় ভাগে নায়িকাকেই (পাম্মি) তোলা হয় কাঠগড়ায়। আর হাজারো ‘পাপ’ করেও বহাল তবিয়তে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে থাকে ভগবান নিরালা।
সদ্য মুক্তি পাওয়া তৃতীয় সিজনের দ্বিতীয় ভাগে পরিচালক দর্শকদের নিয়ে গিয়েছিলেন মন্টি ওরফে নিরালার ‘সাধু’ হয়ে ওঠার দিনগুলোতে। কিভাবে সন্তকে সরিয়ে ছলেবলে কৌশলে সেই আসন দখল করেছিল মন্টি (ববি দেওল) এবং তার বন্ধু ভোপে (চন্দন রায় সান্যাল)। এটা যেমন গল্পের এক পিঠ, তেমনই অন্য পিঠে উঠে আসে পাম্মি পহেলবানের ফন্দি। বাবা নিরালাকে উচিত শিক্ষা দিতে প্রতিনিয়ত নানা ছক কষছে সে। আর সেই ছকেই শেষমেশ পর্দাফাঁস হয় সাধুর। সেই সঙ্গে শাসনের সিংহাসনে নতুন বাবার আগমন। সব মিলিয়ে সিরিজের ‍তৃতীয় সিজনের সমাপ্তি বেশ পছন্দই করেছেন দর্শকরা।

আশ্রমের প্রথম সিজন মুক্তি পায় ২০২০ সালে। মুক্তির পরই ব্যাপক সাড়া ফেলে সিরিজটি। একই বছর আসে দ্বিতীয় সিজন। সেটিও লুফে নেয় দর্শকরা। তারপর ২০২২ সালে তৃতীয় সিজনের প্রথম ভাগ মুক্তি পায়। সর্বশেষ তৃতীয় সিজনের দ্বিতীয় ভাগে আশ্রমের বাবা নিরালার মুখোশ উন্মোচন হয়। তার অপরাধের সব জগতও প্রকাশ্যে আসে। তাহলে কি এখানেই শেষ? দর্শকদের মনে এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে এখন। তবে নির্মাতারা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন এর চতুর্থ কিস্তি আনার।