সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও মানবসম্পদে পরিণত হচ্ছে : আমু

Amir-Hossen-Amuসঠিক শিক্ষানীতির ফলে বতর্মানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও মানবসম্পদে পরিণত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শিল্প মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ব মেধা সম্পদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের বৃহৎ একটি গোষ্ঠী মাদ্রাসা শিক্ষার মাধ্যমে অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সঠিক শিক্ষানীতির ফলে তারা আলোর মুখ দেখছে। বর্তমান শিক্ষানীতির ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সব ধরনের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। এর ফলে তারাও দেশের সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

মেধা সম্পদ ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না বলে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, একটি দেশের মেধা সম্পদ নষ্ট করতে পারলেই একটি জাতিকে পঙ্গু করা যায়। একাত্তর সালে এ জাতিকে পঙ্গু করতেই পরাজিত শত্রুরা দেশের মেধা সম্পদ নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করেছিল।

আলোচনা সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মেধা সম্পদ রক্ষায় ব্যক্তিগত সচেতনাসহ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। এ ছাড়া এ সম্পদ রক্ষায় আইন সংশোধন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও সহযোগিতা দরকার।

শিল্পসচিব মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ।

 

হতাশ যুবরাজ

image_78758_0

আইপিএল-৭ এ বৃহস্পতিবারের ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে ২ রানে হেরে হতাশা ভর করছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু শিবিরে।তবে সবচেয়ে বেশি হতাশ ম্যাচে ৩৪ বলে ৩১ রান করা যুবরাজ সিং। টাইমস অব ইন্ডিয়া লেখা এক কলামে তিনি তার হতাশার কথা তুলে ধরেন।

নিজের লেখা কলামে যুবরাজ বলেন, “আমি নিজের পারফরমেন্সে হতাশ। কেননা ম্যাচের শেষ পযন্ত আমার ক্রিজে থাকা উচিত ছিল। শেষ আট বলে আমাদের ৯ রান প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ক্রিজ লিনের এক অবিশ্বাস্য ক্যাচে ডি ভিলিয়ার্স আউট হয়ে গেলে আমরা ম্যাচটা মা্ত্র ২ রানে হেরে যাই।”

২০১১ বিশ্বকাপের নায়ক হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘কখনো কখনো ক্রিকেট অনেক নিষ্ঠুর হতে পারে। তীরে এসে তরী ডুবে যাওয়াটা খুবই মর্ম পীড়াদায়ক।কলকাতার সাথে গত ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক কঠিন ছিল।”

যুবি আরো বলেন, “গত ম্যাচে আমরা জয়ের একবারে দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছি।কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করতে পারিনি।”

‘আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ‘অটো প্রমোশন’ পেয়ে সংসদে’

image_78746_0সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. আ স ম হান্নান শাহ বলেছেন, “আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আর মন্ত্রীরা ‘অটো প্রমোশন’ পেয়ে সংসদে বসেছে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে নয়।”

বিএনপির শীর্ষ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আমান উল্লাহ আমানসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা জেলা যুবদল আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন।

মানববন্ধনের পরেই প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টি আয়োজিত ‘বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতি, সর্বক্ষেত্রে সরকারের দুর্বৃত্তায়ন প্রতিরোধে সচেতন নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভাতেও অংশগ্রহণ করেন হান্নান শাহ।

হান্নান শাহ বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থের দিক থেকে বিএনপির সঙ্গে আছে জামায়াত। তাদের কর্মীদের আমরা হত্যা করতে পারি না, হত্যা করেছে সরকারদলীয় কর্মীরা। আর সেই মামলা দেয়া হয়েছে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর।”

সরকারের প্রতি অভিযোগ করে তিনি বলেন, “সরকার কোন আইন না মেনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নেতাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠাচ্ছে।”

সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, “সকল রাজবন্দিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন, অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিন।”

সরকারকে উদ্দেশ্য করে হান্নান শাহ বলেন, “আপনারা যে আওয়ামী লীগ আওয়ামীলীগ করেন তা পূর্বের আওয়ামী লীগ নয়, বঙ্গবন্ধু নিজে ১৯৭৫ সালে গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করে নতুন বাকশালি দল গঠন করেছিলেন। আর এই আওয়ামীগ ’৭৫ সালের পর থেকে সেই বাকশালি দল থেকেই এই পর্যন্ত এসেছে।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের জন্ম বাকশালিভাবে বলেই তারা ক্ষমতায় আসলেই বাকশাল কায়েম করে আর ‘অটো প্রমোশন’ নিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখে।”

আওয়ামী লীগ গুম হত্যার রাজনীতি করে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তারা পুলিশ দিয়ে মানুষ হত্যা করায়। গত দুই বছরে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ গুম ও শত শত মানুষকে হত্যা করেছে তারা। আর তারা বলে জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি করি আমরা। আমরা এমন রাজনীতি করি না, বরং আপনারাই নিজেদের রাজনীতি অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেন।”

এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা তৈরি হয়ে যান, সরকার পতনের আন্দোলনের জন্য শিগগিরই মাঠে নামতে হবে। সরকার পতন আপনাদেরই ঘটাতে হবে। খুব শিগগিরই আমরা চূড়ান্ত আন্দোলনে যাব, আপনার প্রস্তুত থাকুন। এই বাকশালি সরকারের পতন ঘটিয়েই ছাড়ব আমরা, সরকার বালুর ট্রাক দিয়ে আর আমাদের থামাতে পারবে না।”

ঢাকা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান আহ্সান উল্লাহ্ শামীমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেউপস্থিত ছিলেন- বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আহ্বায়ক ছোরাব হোসেন ডালিম, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হানিফ, জিয়াসেনার সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুর হোসেন ইসা প্রমুখ।

কানাডার ভানকুভার দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প

0000000000প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কানাডার ভানকুভার দ্বীপে বুধবার রাতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৬.৭। খবর এএফপির।
তবে এতে কোন সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে আল আসকার পালমারে অবস্থিত মার্কিন সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে।
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, গ্রিনিচ মান সময় ০৩১০টায় আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কানাডার পোর্ট হার্ডির ৯৪ কিলোমিটার দক্ষিণে ভূ-পৃষ্ঠের ১১ দশমিক ৪ কিলোমিটার গভীরে।
এ ভূমিকম্পের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হতাহতদের স্মরণ

image_78408_0ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো আর মানববন্ধন ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে রানা প্লাজা ট্রাজেডির হতাহতদের। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিজনরা ভিড় জমায় বিশ্বের ইতিহাসের ভয়াবহতম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত রানা প্লাজার সামনে।

তারা সেখানে নির্মিত বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান, ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তারা। যেখানে রানা প্লাজা ছিল তার সামনে স্বজনদের আহাজারি সৃষ্টি করে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের।

অনেকের হাতেই প্ল্যাকার্ড। হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে আজও তারা খুঁজে ফিরছেন। নানা শ্রেণী পেশার মানুষ আর ক্ষতিগ্রস্তদের স্বজনদের ভিড়ে নিশ্চল হয়ে পড়েছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক।

ভয়াবহ ট্রাজেডির এক বছর কেটে গেলেও থামেনি স্বজনহারাদের কান্না আর হাহাকার। নিখোঁজ শ্রমিকদের ছবি হাতে এখনো অভিশপ্ত রানা প্লাজার সামনে প্রিয় স্বজনদের খোঁজে ভিড় করছেন হতভাগ্য অনেকে। তাদের ভাগ্য জোটেনি কোনো ক্ষতিপূরণ। কেউ হারিয়েছেন আদরের সন্তান কেউ বা প্রিয় স্বামী কেউ বা বোন কেউ বা মা কেউ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে।

গত বছরের ২৪ এপ্রিল সাভারে যেন নেমে এসেছিল ‘রোজ কেয়ামত’৷ রানা প্লাজা ধসে নিহত হয়েছিলেন ১,১৩৫ জন পোশাক শ্রমিক৷ গুরুতর আহত এক হাজারেরও বেশি৷ আহতদের অনেকে আজও আতঙ্কগ্রস্ত৷ পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পাননি ক্ষতিগ্রস্তরাও৷

পাকিস্তানে বিমান হামলায় সন্দেহভাজন ১০ জঙ্গি নিহত

image_78414_0পাকিস্তানের খাইবারে উপজাতীয় অঞ্চল বারা তহশীলে বৃহস্পতিবার বৃহদাকারে বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত এবং আরো ১৫ জন আহত হয়।

নিরাপত্তা সূত্রে জানা যায়, বারার আকাখেল এলাকার বিমান হমলাটি সম্প্রতি খাইবার ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিদের লক্ষ্য করে করা হয়।

নিরাপত্তা বিভাগের বিবৃতিতে আরো জানা যায়, এই বিমান হামলায় ইসলামাবাদে সবজির বাজারে বাদভের, চরসাদ্দা এবং চামানে সাম্প্রতিক হামলার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন জঙ্গিরা নিহত হয়েছে।

স্পেরা ডাম, মেরোখেল, তিরাহ, এবং আকাখেল এলাকার পার্শ্ববর্তী জঙ্গীদের আস্তানায় হামলাটি করা হয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা দাবি করছে

ভারতে ষষ্ঠ দফায় ১১৭ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে

image_78385_0ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ষষ্ঠ দফায় ১২ রাজ্যে ১১৭টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে।

বৃহস্পতিবারের এই ভোটগ্রহণের পরই নিশ্চিত হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। বিজেপির নরেন্দ্র মোদি অথবা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী নাকি তৃতীয় শক্তির কোনো নেতানেত্রী।

১২টি রাজ্যের মোট ১১৭টি লোকসভা আসনে এ দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব আসনে কংগ্রেসের প্রভাব রয়েছে এমন রাজ্যগুলো হলো- আসাম (ছয়টি), ঝাড়খণ্ডে (চারটি), মহারাষ্ট্রে (১৯টি), পশ্চিমবঙ্গের (ছয়টি) ও পণ্ডিচেরির একটি আসন। বিজেপির প্রভাব রয়েছে এমন রাজ্যগুলো হলো- ছত্তিশগড়ে (ছয়টি), মধ্যপ্রদেশের (১০টি), রাজস্থানের (পাঁচটি), উত্তর প্রদেশের (১২টি) আসন।

তবে উত্তর প্রদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে আঞ্চলিক দল মুলায়েম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টি ও মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি। তেমনি পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত শক্তিশালী। এখানকার ফলের ওপর নির্ভর করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের পরে জাতীয় স্তরে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারবেন কি-না।

একইভাবে তামিলনাড়ূর সবকটি আসনে ভোট চলছে। এখানকার ৩৯টি আসনের ওপর নির্ভর করবে তামিলনাড়ূর মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতা দিল্লর কুর্সির দাবিদার হতে পারবেন কি-না।

জনমত জরিপগুলো এরই মধ্যে জানিয়েছে, মমতা-মায়াবতী অথবা মুলায়ম সিং ও জয়ললিতার সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে দিল্লির মসনদে কে বসবেন। বিহারে বিজেপি ছাড়াও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে কংগ্রেস সহযোগী লালু প্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিহারে নরেন্দ্র মোদির প্রভাব অনেকটাই রুখে দিয়েছেন লালুপ্রসাদ যাদব। ফলে উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মিলিত ১২০টি আসনের মধ্যে বিজেপি একতরফা জয়ী হতে পারছে না। ফল ত্রিশঙ্কু হওয়ার সম্ভাবনা।

আজকের ভোটের পর ভারতের ১৭ রাজ্যের সবক’টি লোকসভা আসনে ভোটপর্ব সম্পন্ন হবে। ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৪৪টির ভোটপর্ব শেষ হবে। বাকি থাকবে অন্ধ্র, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গসহ বাকি রাজ্যের ১৯৪টি আসনের ভোট। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আসাম রাজ্যের ভোটার বলে আজ গৌহাটিতে ভোট দিতে যাবেন।

আজকের ভোটের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-উত্তর প্রদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ, সমাজবাদী পার্টি নেতা মুলায়ম সিং যাদব, কেন্দ্রীয় ইউপিএ সরকারের মন্ত্রী মিলিন্দ দেওরা (মুম্বাই), জিতেন্দ্র সিং (রাজস্থান), তারিক আনোয়ার (বিহার), নমোনারায়ণ মিনা (রাজস্থান)। রয়েছেন মধ্যপ্রদেশের বিদিশায় লোকসভার বিরোধী নেত্রী বিজেপির সুষমা স্বরাজ, পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গিপুরে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিত মুখার্জি, মথুরায় বলিউড অভিনেত্রী হেমা মালিনি (বিজেপি) ও রাজস্থানে ভারতের সাবেক ক্রিকেট ক্যাপ্টেন মো. আজহারউদ্দিন (কংগ্রেস)।

পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জ কেন্দ্রে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীপা দাশমুনসি, মালদহের দুটি কেন্দ্রে এএইচ খান চৌধুরী (কেন্দ্রীয় মন্ত্রী) ও পশ্চিমবঙ্গ যুব কংগ্রেস সভানেত্রী মৌসম নুর। মুম্বাইয়ের একটি কেন্দ্রে প্রার্থী বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের বোন প্রিয়া দত্ত (কংগ্রেস) ও আম আদমি পার্টির সমাজসেবী মেধা পাটেকর।

মুলায়ম সিং যাদবের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কোনো প্রার্থী দেয়নি।সব রাজ্য মিলিয়ে দুই হাজার ৮৭ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন প্রায় ২০ কোটি ভোটার। ফলে মোট ৮১ কোটি ভোটারের মধ্যে ৫০ কোটির ভোটদান আজই শেষ হবে।

তামিলনাড়ূতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুই আঞ্চলিক দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে। এখানে কংগ্রেস একা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা মনিশংকর আয়ার ও অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের ছেলে কার্তি। অর্থমন্ত্রী এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। এই প্রথম বিজেপি দক্ষিণ তামিলনাড়ূর তিনটি ছোট আঞ্চলিক দলের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। সবারই লক্ষ্য এখানে বিজেপি আদৌ কোনো আসনে জয়ী হতে পারে কি-না।

কাশ্মীরের অনন্তনাগ আসনে আজ ভোট গ্রহণ চলছে। এখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদী হুরিয়াত ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে। ফলে লক্ষ্য থাকবে ভারতের অন্য রাজ্যের মতো কাশ্মীরের ভোটাররা অংশগ্রহণ করেন কি-না। এখানে প্রার্থী পিডিপির মেহবুবা মুফতি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা সরাসরি ফারুক আবদুল্লাহর ন্যাশনাল কনফারেন্সের সঙ্গে পিডিপির। পণ্ডিচেরির একটি আসনে কংগ্রেস প্রার্থী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি নারায়ণ স্বামী।

সীমান্তে স্পর্শকাতর ঘটনা মীমাংসায় ক্ষমতা চেয়েছে জেলা প্রশাসকরা

image_78410_0বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা বিভিন্ন সময় আকস্মিকভাবে অনাকাঙ্খিত ও স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার তাৎক্ষনিক মীমাংসা করতে ক্ষমতা চেয়েছে জেলা প্রশাসকরা।

এর জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সুনিদিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে দাবিও করেছেন ডিসিরা। মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো পত্রে এসব বিষয় বলা হয়েছে। পাঠানো কপি নতুন বার্তা ডটকমের সংরক্ষণে রয়েছে।

আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাই এ বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন হবে। ডিসি সম্মেলনে আলোচনার বিষয়বস্তুর প্রস্তাবনা চেয়ে গত ১৬ মার্চ সব জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে গত ২৫ মার্চের মধ্যে ডিসিদের সম্মেলনে উত্থাপনীয় বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত পাঠাতে বলা হয়েছিল।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার সাজ্জাদুল হাসান স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়েছে, দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা অনেক সময় আকস্মিকভাবে অনাকাঙ্খিত ও স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই প্রতিবেশ দেশের সীমান্তবর্তী জেলঅর জেলা প্রশাসক পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হলে বিষয়টি তাৎক্ষনিক মীমাংসা করা সম্ভব হবে।

এতে করে উভয় দেশের মধ্যে বন্ধত্বপুর্ণ সম্পর্কের আরো উন্নতি ঘটবে। জেলা প্রশাসক পযায়ে বৈঠক সম্মর্কে কোন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও নীতিমালা না থাকায় তাৎক্ষণিক ভাবে সভা আয়োজন করা সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশ -ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় বিরোধ দ্রুত নিরসনের লক্ষে উভয় দেশের সীমান্তবর্তী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক গণে যাতে তাৎক্ষণিক সভা অনুষ্ঠান করতে পারবেন সে লক্ষ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সুনিদিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করার প্রয়োজন।

এছাড়া জেলা প্রশাসক পযায়ে যৌথ সীমান্ত সম্মেলন আযোজন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত নীতিমালাটি জরুরী বাস্তবায়ন ও কাযকর করা প্রয়োজন।

সিলেট জেলা প্রশাসকে উঙ্খাপন করেছেন, জকিগজ্ঞ উপজেলার সুরমা- কুশিয়ারা নদীর তীরে অবস্থিত ভারতের সমীমান্তবর্তী একটি উপজেলা। নদীর ডাইক ভাঙ্গন অত্র উপজেলার একটি নিয়মিত সমস্যা। প্রায় প্রতি বছর সুরমা -কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙে ধান্য ফসলাদি বিনষ্ট হয়। তাৎক্ষণিক সুরমা কুশিয়ারা সমীমান্তে টেকশাই বেড়া / ডাইক নির্মাণ অত্যান্ত জরুরি। জকিগজ্ঞ উপজেলার- কুশিয়ারা সীমান্তে পাথরের ব্লক দিয়ে টেকসই ডাইক নির্মাণ ও মেরামত করা যেতে পারে।

ডিসি সম্মেলনে সাধারণত দেশের ৬৪ জেলার জেলার ডিসিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের নীতি-নির্ধারকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ের শাপলা হলে এবারের সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি হলে শেখ হাসিনা ডিসিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও মুক্ত আলোচনা করেন।

উদ্বোধনী দিনেই ডিসিরা সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক কার্যঅধিবেশনে অংশ নেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে বঙ্গভবনে যান। এ সময় রাষ্ট্রপতি ডিসিদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন।

তিন দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা আরো বিভিন্ন অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক দেড় কোটি

image_78394_0দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এক মাসের ব্যবধানে চার লাখ বেড়ে মার্চ শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা এখন এক কোটি ৫০ লাখ ২৩ হাজার ৬০৪ জন।

এরমধ্যে প্রায় এক কোটি ৩৯ লাখ মানুষ মোবাইল ফোনে লেনদেন পরিচালনা করছেন। দেশের মোট ২০টি ব্যাংক থেকে এই সেবা নিচ্ছেন গ্রাহকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ব্যাংক এর মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ লেনদেন বেড়ে মার্চে তিন কোটি ৩৩ লাখ ৬২ হাজার ১৩৫টি লেনদেন হয়েছে। এই সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যেমে মোট লেনেদের হয়েছে সাত হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা। আর্থিক হিসাবে এই হার ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২০ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে নভেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর পর থেকে নিয়মিত গ্রাহক বাড়তে থাকলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জানুয়ারি থেকে প্রায় সাড়ে আট শতাংশ কম লেনদেন কমে।

এই সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ছয় হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়। তবে সেই হোঁচট কাটিয়ে উঠে আবার লেনদেন বাড়তে শুরু করেছে। এখন দুই লাখ ৫৭ হাজার এজেন্টে মাধ্যমে ব্যাংকগুলো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

মনমোহন দিসপুরেও ৭ নম্বর ছাড়ছেন

IBSA-leaders_Manmohan_Singh

আসাম সচিবালয়ের উল্টো দিকে দিসপুর গুড হেল্থ হাসপাতাল থেকে এগোলে বাঁ দিকে ছোট্ট নালার ও-পারে সরু রাস্তা। ৫০ মিটার এগোলে রাস্তা যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখানে আপাত ভাবে রাজ্যের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্র দিসপুর সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল। স্কুলের সমান্তরাল রাস্তা দিয়ে একটু এগিয়ে ছোট্ট টিলায় উঠলেই হিতেশ্বর শইকিয়ার বাড়ি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং যার ভাড়াটে। কিন্তু গত ২৩ বছরে ১০ মিনিটও তিনি সেখানে থাকেন নি! যদিও অন্য এক ৭ নম্বরে তিনি দশ বছর কাটালেন। তবে দিসপুরের ওই বাড়িতে গিয়েছেন মাত্র বার দুয়েক।
দিসপুরের ৭ নম্বর নন্দন নগরের বাড়িটি এবার ছাড়তে চলেছেন মনমোহন সিং। দিসপুরে সরুমটরিয়ার ছোট্ট পাহাড়ি টিলার ওপর, ওই বাড়িতে ‘ডঃ এম এম সিং’ লেখা ফলকটাও তাই উধাও!
ভারতীয় পত্রপত্রিকার খবর থেকে এ কথা জানা গেছে।
সূত্র মতে, সংসদ-সদস্য হওয়ার জন্য ১৯৯১ থেকে ওই বাড়িই ছিল প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ভরসা। ওই ঠিকানার ‘সৌজন্যে’ ২৩ বছর আগে তিনি রাজ্যসভার সদস্য হন। কারণ, তখনকার নিয়মে রাজ্যসভায় যেতে হলে সংশি¬ষ্ট রাজ্যের বাসিন্দা হওয়াটা ছিল আবশ্যিক শর্ত।
মনমোহন ১৯৯১ সালে নরসিংহ রাও সরকারের অর্থমন্ত্রী হন। তখনও সাংসদ হননি। তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত হয়, আসাম থেকে তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য করা হবে। কিন্তু তার জন্য তাকে আসামের বাসিন্দা হতে হবে। সাহায্যে এগিয়ে আসেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর শইকিয়া। তাঁর বাড়িই ভাড়া নেন মনমোহন। তৈরি হয় ভাড়ার রসিদ। অসমের রেশন কার্ডও হয় মনমোহন সিং ও তাঁর স্ত্রী গুরশরণ কৌরের নামে।
মনমোহনের ভাড়া নেয়া সেই ঘরের দরজায় এখন তালা। সামনে ‘ডঃ এম এম সিং’ লেখা নামফলক গত বর্ষায় ভেঙে পড়েছিল। তার হদিস কেউ জানে না। ঘরে আসবাবপত্র বলতে কিছুই নেই। কেবল রয়েছে একটি গ্রন্থসাহিব।
আগে এই বাড়িরই ঠিকানা ছিল, ‘হাউস নম্বর ৩৯৮৯, নন্দন নগর, সরুমটরিয়া, দিসপুর, গুয়াহাটি, জেলা কামরূপ, আসাম’। নতুন নথিতে নম্বরটা কাকতালীয়ভাবে ৭ হয়ে গেছে ।
গত ২০০৯ সালে প্রথম বার দিসপুর স্কুলে ভোট দিয়েছিলেন মনমোহন। তবে, ভাড়া বাড়িতে যাননি। প্রশাসনের সূত্রে পাওয়া খবর, এবারেও সেই সম্ভাবনা নেই। রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ সূত্রে জানা গেছে, ২৪ এপ্রিল দুপুর ১টায় হেলিকপ্টারে খানাপাড়া ভেটেরিনারি ফিল্ডে পৌঁছবেন মনমোহন। তার পর গাড়িতে ৩ কিলোমিটার দূরের বুথে। এসএসপি আনন্দপ্রকাশ তিওয়ারি জানালেন, প্রধানমন্ত্রী ভোট দিতে যাওয়ার সময় ওই রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে ভোটারদের কোনও অসুবিধা হবে না।
দিসপুর হাইস্কুলে এসপিজি পৌঁছে গিয়েছে। পুলিশের বড়কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা নজরদারি চালাবেন। স্কুল চত্বরের বাঁ দিক ঘেঁষে একতলা বাড়িতে ১৫৬ নম্বর ভোট কেন্দ্র। এখানেই ভোট দেবেন মনমোহন। সঙ্গে থাকতে পারেন তাঁর স্ত্রী।