সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

পল্লবীর সিক্স মার্ডারে তিনজনের ফাঁসি বহাল, খালাস ১

image_78937_0রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ছয়জনকে খুনের মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া এক আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।

আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) শেষে রোববার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আসামি কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, মাসুম মাতব্বর ওরফে মাসুম ও জাকির হোসেন ওরফে বাহারের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন আদালত। খালাস পেয়েছেন আজিম।

আদালত সূত্র জানায় ২০০৬ সালের ১৩ অক্টোবর পল্লবী আবাসিক এলাকার ২৪/২০ নম্বর বাড়িতে গৃহকর্মী খাদিজা (১৫), আন্না (১৪), মনির (১২), প্রাক্তন ভৃত্য রিজিয়া (৪২), তাঁর ছেলে তোফেল (১৭) ও দারোয়ান মিলন বকশিকে জবাই করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় বাড়ির মালিক সিরাজুল হক পরদিন ১৪ অক্টোবর পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২০০৭ সালে ওই মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ডাকাতি করতে আসা আসামিদের চিনে ফেলায় ওই ছয়জনকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়।

এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, মাসুম মাতব্বর ওরফে মাসুম, জাকির হোসেন ওরফে বাহার ও আজিমের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে আদালত আজ রায় দেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম শফিকুল ইসলাম ও সাখাওয়াত হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

টিটোকে বিদায় জানিয়ে আজই মাঠে নামছে বার্সা

image_78940_0ক্যাম্প ন্যু এর আগে অনেক হতাশাজনক ও শোকাবহ ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। ন্যু-ক্যাম্পের বিখ্যাত স্টেডিয়ামটি তার বর্ণিল ইতিহাসে অনেক আবেগঘন মুহুর্তের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। মহাকাব্যিক জয়, বিপযয়কর পরাজয় থেকে শুরু করে ক্লাসিকো যুদ্ধের জয়-পরাজয়, সফলতা-ব্যর্থতা এবং আরো অনেক কিছুরই সাক্ষী এই ন্যু-ক্যাম্প। কিন্তু টিটো ভিলানোভার মৃত্যুর পর শনিবার রাতের মতো নিরবতা-নিস্তব্ধতা ন্যু-ক্যাম্পে আর নামেনি।

বার্সার সাবেক এই কোচের মৃত্যুতে ক্লাবের পক্ষ থেকে তিন দিনের শোক পালন করার ঘোষণা দিল বার্সেলোনা। সেই সাথে এই সপ্তাহে স্প্যানিশ লা লিগার প্রতিটা ম্যাচের আগে নীরবতা পালন করা হবে বলে ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

টিটোর অকাল প্রয়াণে বার্সা যেন পরিবারের এক মহাগুরুত্বপূর্ণ সদস্যকেই হারাল। আর ফুটবল হারাল বার্সার নান্দনিক সেই টিকিটাকা টিমের অন্যতম কারিগরকে। কিন্তু বার্সা ফুটবলার ও সমর্থকরা বুঝিয়ে দিলেন তারা ভুলবেন না প্রিয় টিটোকে।

শনিবার টিটো ভিলানোভাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়োল, নেইমার, ক্লাব সভাপতি-কর্মকর্তাসহ সবাই ন্যু ক্যাম্পে জড়ো হন। শ্রদ্ধার সাথে তারা সবাই স্মরণ করেন প্রিয় এই কোচকে।

প্রিয় কোচকে হারিয়ে শোকাতুর বার্সার প্রাণ ভোমরা মেসি স্মরণসভায় বলেন, “কোনোদিন তোমায় ভুলবনা টিটো। তুমি চিরদিন আমাদের মাঝে মিশে থাকবে।”

বার্সা দলপতি কার্লোস পুয়োল প্রিয় কোচকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, “ড্রেসিং রুমের সবাই হতাশ ও শোকাচ্ছন্ন। ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে আমরা দুই বছরেরও অধিক সময় তার সাথে ছিলাম। তার চলে যাওয়টা বড় একটা আঘাত”।

বার্সা প্রেসিডেন্ট জোসেফ বার্তেমিউ বলেন, টিটো মানেই এমন একজন ব্যক্তি, যার প্রতিটা নিঃশ্বাসে লেখা ছিল বার্সেলোনার নাম

দুর প্রবাসে থেকে এক সময়ের সহযোগী পেপ গার্ডিওলাও ভুলেন নি টিটোকে। জার্মানিতে শনিবার বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখ ও ওয়ের্ডার ব্রেমেন ম্যাচের আগে সদলবলে এক মিনিট নীরবতা পালন করলেন পেপ গার্দিওলা। বায়ার্ন প্রতিপক্ষের জালে ৫ বার বল জড়ালেও বারবার টিভি পর্দায় গার্ডিওলার বিমর্ষ মুখ ভেসে আসছিল। কোন আনন্দ-উল্লাসের লেশ মাত্র তার চোখে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

টিটোকে শ্রদ্ধা জানাতে পিছিয়ে ছিল না ইতালীয় ফুটবলও। শনিবার রোমা বনাম এসি মিলান ম্যাচ শুরুর আগে অলিম্পিক স্টেডিয়ামের টিভিতে একটাই বার্তা ভেসে ওঠে- সিয়াও টিটো।

বার্সার এই প্রিয় কোচকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিপুলসংখ্যক সমর্থক ক্যাম্প ন্যুতে আসেন।প্রায় ৫০ হাজার সমর্থক ন্যু-ক্যাম্পে আসেন তাদের প্রিয় কোচকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।ফুল, শ্রদ্ধাঞ্জলি, উত্তরীয় ইত্যাদিতে ভেসে যায় ন্যু-ক্যাম্পের স্টেডিয়াম।

এদিকে টিটো ভিলানোভাকে হারানোর শোক কাটিয়ে আজই মাঠে নামতে হচ্ছে বার্সেলোনাকে। লা লিগায় আজ ভিয়ারিয়াল বার্সাকে আতিথ্য দেবে। লিগের শীর্ষস্থানে থাকা অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের চেয়ে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ে শিরোপা জয়ের আশা নিভু নিভু করছে বার্সার। শিরোপা জয় করতে হলে লিগের অবশিষ্ঠ চার ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের হোঁচট খাওয়ার জন্যও অপেক্ষা করতে হবে বার্সাকে।

৩ রানে অল-আউট!

image_78944_0ইংল্যান্ড ক্রিকেটের দুঃসময়! অস্ট্রেলিয়ার কাছে অ্যাশেজে হোয়াইটওয়াশ ৷ টি-২০ ক্রিকেটে নেদারল্যান্ডসের কাছে হার ৷ এর পরও বাকি ছিল বিস্ময়! মাত্র ৩ রানে অল-আউট হলো ইংল্যান্ডের একটি ক্লাব ৷

উইরাল, উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের এই ক্লাবটি রের্কড বুকে নাম তুলল ৷ চেশায়ার লিগ তৃতীয় ডিভিশনের ম্যাচে হাসলিংটন ক্লাবের কাছে ৩ রানে অল-আউট হল উইরাল ৷ এর মধ্যে লেগ-বাই ২ রান ৷ মাত্র ১ রান এসেছে এগারো নম্বর ব্যাটসম্যান কনর হডসনের ব্যাট থেকে ৷ ১০ ব্যাটসম্যানই রানের খাতা খুলতে পারেনি ৷ প্রথম আট ব্যাটসম্যান যখন প্যাভিলিয়নে ফেরেন তখনও স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হয়নি ৷ তার পর লেগ-বাই হিসেবে ২ রান স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৷ ১০৫ রানে ম্যাচ জিতে নেয় হাসলিংটন ৷ খবর শোনার পর টুইটারে উইরালের ক্রিকেটারদের কোচিং করানোর ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন ৷

গয়েশ্বর-আমানের জামিন দায়রা আদালতেও নামঞ্জুর

image_78930_0বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানের জামিন নামঞ্জুর করেছেন মহানগর দায়রা জজ জহিরুল হক।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় কাঁচাবাজারের সামনে দক্ষিণখান থানার শিবিরের সভাপতি মানছুর প্রধানীয়া নিহতের ঘটনায় রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন বাদী হয়ে রমনা থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত ২০ এপ্রিল রোববার দুপুর ১২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।

এই দিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হারুন অর রশীদের আদালতে শুনানি শেষে মির্জা আব্বাসকে ৫০ হাজার টাকা বন্ডে জামিন দেন। তবে বাকি দুজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিরা গত ৯ মার্চ হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

রাশিয়ায় মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৮

image_78933_0রাশিয়ার পূর্ব আলতাই অঞ্চলের মাদকাসক্তদের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আট জন নিহত হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানায়, ক্রাসিলভো হ্রদের কাছাকাছি চিশতি লিস্ট কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে আটজন নিহত এবং আরো ছয় জন আহত হয়। কর্মকর্তারা আরো জানায়, অগ্নিকাণ্ডে ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে।

বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা ঘটে। গত সেপ্টেম্বরে উত্তর পশ্চিম নভগোর্ড অঞ্চলের একটি মানসিক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ৩৭ জন মারা যায়।

কয়েক মাস আগে, মস্কোর কাছাকাছি একটি মানসিক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ৩৮ জন মারা যায়।

একই ধরনের ঘটনায় ২০০৯ সালে উত্তর-পশ্চিম কোমি অঞ্চলের একটি বৃদ্ধাশ্রমে ২৩ জন মারা যান এবং ২০০৭ সালে দক্ষিণ রাশিয়ার ক্রাস্নোদরে একটি বাড়িতে ৬৩জন নিহত হয়। ২০০৬ সালে মস্কো একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে আগুন লেগে ৪৫জন নারী মারা যায়।

শাহজালালে ৬ কোটি টাকার ভারতীয় জাল রুপি জব্দ

rupee8_505_120213100316শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয় কোটি টাকা মূল্যমানের ভারতীয় রুপির জালনোট জব্দ করা হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ বিপুল পরিমাণ ওষুধও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ওষুধের মূল্য বাংলাদেশী টাকায় প্রায় এক কোটি টাকার মতো। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

রোববার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমান থেকে পাঁচ কার্টনভর্তি এই জাল রুপি ও ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মঈনুল খান বলেন, “এসব জাল রুপি ও ওষুধ পাকিস্তান থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তবে কারা কীভাবে এগুলো এনেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে। রুপিগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই যে এগুলো জাল।”

তিস্তায় পানি বাড়া-কমা নিয়ে নাটক হয়েছে: ফখরুল

fokrul 350লংমার্চ চলাকালে তিস্তায় পানি বেড়ে যাওয়াকে নিজেদের প্রাথমিক সাফল্য বললেও পানি কমে যাওয়ায় এখন বিএনপি বলছে এটা ভারতের নীচু মানের নাটক। তারা তামাশা করেছে।

তিস্তায় পানি বাড়ার পর আবার কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেখুন কেমন নাটক করা হলো। আমরা যখন লংমার্চ করছিলাম তখন দেখলাম তিস্তায় তিন হাজার কিউসেক পানি বেড়ে গেছে। আবার যখন লংমার্চ শেষ করে রওনা হলাম তখন শুনলাম পানি কমে গেছে। এটা অত্যন্ত নীচু মনের নাটক। এটা তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়।”

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে এক আলোচনা সভায় ফখরুল এসব কথা বলেন। বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব)।

প্রসঙ্গত, গত ২২মার্চ তিস্তা অভিমুখে পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিএনপির লংমার্চ শুরু হলে ওই দিন বিকেলে হঠাৎ করে তিস্তার পানি বেড়ে যায়। এসময় লংমার্চে নেতৃত্বদানকারী দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা আমাদের প্রাথমিক সাফল্য। যদিও ২৩ মার্চ লংমার্চ শেষ হওয়ার পর আবার পানি কমে যায় বলে জানা গেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি। এজন্য তারা জনগণকে পরোয়া করছে না। তারা শুধু যাদের জোরে ক্ষমতায় এসেছে এবং যারা তাদের ক্ষমতায় রাখছে তারা কী ভাবছে সে চিন্তা করছে ।”

কুইক রেন্টালের মাধ্যমে সরকার কোটি কোটি টাকা লুন্ঠন করছে এমন দাবি করে তিনি বলেন, “লুণ্ঠন আওয়ামী লীগের পুরানো অভ্যাস। সরকারি দলের লোকজন এই (কুইক রেন্টাল) প্রকল্পের কাজ পেয়ে তারা কোটি কোটি টাকা লুণ্ঠন করেছে।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু দেশ এখন অন্য দেশের হাতে চলে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কেন অন্যদেশের কয়লা দিয়ে বাংলাদেশে কয়লাকেন্দ্রিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে? কেন করিডোর দেয়া হচ্ছে? এসব বিষয় আমাদের ভেবে দেখতে হবে। ”

সরকারের নানা সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, “এই সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলতে ইচ্ছা করে না। তবে হতাশ হওয়া যাবে না। কারণ বাংলাদেশে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনই ব্যর্থ হয়নি। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণ ভোট প্রত্যাখ্যান করেছে। বিদেশীরা এখনো একটু দ্রুত সময়ের মধ্যে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের কথা বলছেন।”

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ্যাবের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেন।

এতে আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান চুন্নু, আফজাল হোসেন সবুজ, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

বলিউডে পা রাখছে সঞ্জয়ের ছেলে শরণ

sonjayসঞ্জয় দত্ত শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম অভিনয় করেছিলেন ‘রেশমা অউর শেরা’ ছবিতে। সঞ্জয়ের বাবা সুনীল দত্ত অভিনীত ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭২ সালে। তখন সঞ্জয়ের বয়স ছিল ১৩ বছর। এবার বাবাকে টেক্কা দিয়ে মাত্র তিন বছর বয়সেই বলিউডে পা রাখছে সঞ্জয়ের ছেলে শরণ।

পরিচালক সেজল শাহ-র ছবি ‘হশমুখ পিঘল গয়া’র একটি গানেই প্রথমবার সিনেপর্দায় আসতে চলেছে সঞ্জয় দত্তের পুত্র শরণ। জানা গেছে, জনপ্রিয় ‘কিসিকি মুসকুরাহাটো পে হো নিসার’ গানের সঙ্গে নাচতে দেখা যাবে সঞ্জয়ের ছেলেকে।

‘হাসমুখ পিঘাল গ্যায়া’ ছবির গানের দৃশ্যে শরণের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে আহমেদ খান বলেন, ‘গানটির দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য আমাদের ছোট্ট একটি শিশুর দরকার ছিল। আমরা শরণকে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে সানন্দে রাজি হয়ে যান মান্যতা। আমরা মুম্বাইয়ে গানটির শুটিং করেছি।’

উল্লেখ্য, সিনেমাতে শুধু সঞ্জয়ের ছেলে শরণ নয়, আত্মপ্রকাশ ঘটবে ওপি রালহানের নাতি আরমানও। তাছাড়াও সিনেমাতে দেখা যাবে জ্যাকি শ্রফ, সঞ্জয় দত্ত ও অমিতাভ বচ্চনকে।

বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি

image_78763_0বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলন।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলন আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের বক্তারা এই দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “জনগনের মুক্তি, অর্জন আজ দুর্নীতির থাবায় আক্রান্ত। দুর্নীতির জাল বিস্তারে উঠে পড়ে লেগেছে সবাই। ক্ষমতাসীন কি ক্ষমতাহীন, সবাই আজ দুর্নীতিগ্রস্ত। বাণিজ্যিক ও অবাণিজ্যিক সংস্থাসহ সব প্রতিষ্ঠান আজ এক অদ্ভুত দুর্নীতির বেড়াজালে আবদ্ধ।”

তারা আরো বলেন, “প্রচলিত শাসন ও আইন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন না হওয়া, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা না থাকায় চেপে বসেছে দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষন, অপহরণ, গুমসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনা। এগুলো জনমনে ভীতির সৃষ্টি করছে।”

বক্তারা বলেন, “সম্প্রতি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে সোনালী ব্যাংকের টাকা লুট, হলমার্ক কেলেংকারি, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এগুলো সব ডিজিটাল দুর্নীতি।”

তারা বলেন, “সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সবাই আজ দুর্নীতির ধারক ও বাহক। নাগরিক সেবাদানকারী সংস্থাসমূহেরও ন্যূনতম জবাবদিহিতা নেই। প্রজাতন্তের কর্মচারীরা উদাসীন, দেশ আজ দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে।”

সরকারের সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, “সরকার মাতৃভূমির প্রতি ন্যূনতম ভালোবাসা বিলিয়ে দিয়ে ভিনদেশীদের সঙ্গে নানা গোপন চুক্তি করছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

সংগঠনের সভাপতি হারুন অর রশিদ খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন কমরেড নুরুল হক মেহেদী, ফরোয়ার্ড পার্টির আহ্বায়ক আ ব ম মোস্তফা আমিন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা মো. আলমগীর, দেশ রক্ষা আন্দোলনের চেয়ারম্যান মো. ওয়ারেসুল হাসান প্রমুখ।

তৃণমূল থেকে আসা রাজনীতিকদের জন্য বঙ্গভবন আরামদায়ক নয়: রাষ্ট্রপতি

Abdul-Hamidতৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিকদের জন্য বঙ্গভবনের নিয়ন্ত্রিত জীবন ‘আরামদায়ক’ নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, “আমি একটা দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি। সংসদে মনের খোরাক পেতাম, বঙ্গভবনে পাই না। আসলে গ্রাসরুটে রাজনীতি করা মানুষের জন্য এ জায়গাটা সবসময় আরামদায়ক হওয়ার কথা নয়। খাঁচার পাখিরে যতই ভালো খাবার দেয়া হোক, সে তো আর বনের পরিবেশ পায় না।”

বঙ্গভবনে সংযুক্ত গণমাধ্যমগুলোর সঙ্গে বুধবার রাতে এক আলাপচারিতায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এই আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তার শৈশব-কৈশোরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে সর্বশেষ বঙ্গভবনের অভিজ্ঞতা।

২৪ এপ্রিল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে এক বছর পূর্ণ করেন ‘ভাটির শার্দুল’ আবদুল হামিদ। দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান অসুস্থ হওয়ার পর গত বছরের ১১ মার্চ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন কিশোরগঞ্জ থেকে সাত বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগে দুই দফা জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব সামলেছেন আবদুল হামিদ। স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার স্বভাবজাত হাস্যরস দিয়ে সংসদ মাতিয়ে রাখতেন। আর এ কারণে সাধারণ মানুষের মাঝেও জনপ্রিয়তা পান তিনি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে এক বছরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, “আসলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তেমন কোনো কাজ নেই। যেটা করি রুটিন কাজ। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবাইকে বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে পরামর্শ দিয়েছি।”

“ইচ্ছা করলেই অনেক কিছুই করতে পারি না। আর ইচ্ছা করলেও তো সমস্যা। ধরেন, মনে হলো কারো বাসায় যাবো। আধা ঘণ্টার মধ্যে গাড়ি রেডি। কিন্তু রাস্তা বন্ধ হবে। যে বাসায় যাবো সেখানকার রান্নাঘর থেকে শুরু করে সব কিছু চেক হবে। এটা আমার জন্য বিব্রতকর। তাই ইচ্ছা হলেও চেপে রাখতে হয়। নিতান্তই বিশেষ প্রয়োজন বা সরকারি কোন অনুষ্ঠান ছাড়া বের হই না। বাইরে যদিও যাই দশটা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। ওখানেও নিরাপত্তা কর্মীরা থাকে।”

“আসলে এখানে পারসোনাল, প্রাইভেট লাইফ নেই। বিদেশে গেলেও একই অবস্থা। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথম যেবার গেলাম, ভাবলাম কিছুটা হলেও ফ্রি। কিন্তু সেখানেও একা থাকতে দেবে না। নিরাপত্তা কর্মীরা সঙ্গে থাকে। আই এম নট অ্যাট অল এ ফ্রি ম্যান।”

“যখন কোর্টে প্র্যাকটিস করতাম, চেম্বারে মানুষ আসতো, কথা বলতাম। যদি কখনও না আসতো, তবে যেখানে আড্ডা হতো সেখানে চলে যেতাম। সংসদেও আড্ডা দিতাম। এমপিরা আসতেন, সাংবাদিকরা আসতেন। বঙ্গভবনে সে সুযোগ নেই।

যারা ফ্রিলি মানুষের সঙ্গে মেশে না, তাদের কথা আলাদা। এর আগে বঙ্গভবনে বেশীর ভাগই ছিলেন বিচারপতি-শিক্ষক। স্বভাবত তারা বেশি মানুষের সঙ্গে মেশেন না।”

স্পিকার থাকার সময় মাঝে-মধ্যে ৫-৭ দিন এলাকায় গিয়ে থাকতাম। এখন সে অবস্থা নেই। বললে হয়তো থাকতে পারবো। কিন্তু আমি গেলে আশে-পাশের এলাকা থেকে পুলিশ ফোর্স নিয়ে আসে। ৫-৬ শ”মানুষ। ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে এত লোক রাখার উপায় নেই। আমি তো আরামে থাকবো। কিন্তু পুলিশের কনস্টেবল, যারা আসে তারা হয়তো ভালো করে খেতে-ঘুমাতে পারবে না।”

কোন্ দায়িত্বটি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রপতি বলেন, “যখন ডেপুটি স্পিকার ছিলাম। দায়-দায়িত্ব বেশি ছিল না। স্পিকার হাউজে (সংসদ) না গেলে হাউজ পরিচালনা করতে হতো। আর কোনো কাজ নেই। তেমন কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বও নেই। স্পিকারকে অনেক কিছু খেয়াল রাখতে হয়। অনেক সজাগ থাকতে হয়।

“সংসদে থাকার সময়ে আমি অনেক কিছু পরিকল্পনা করেছি। এটা-ওটা বাদ দিয়েছি। বঙ্গভবনে দেখার তেমন কিছু নেই। তবে হ্যাঁ, আমি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে বিদেশ সফরে হোটেলের ভাড়া কমিয়েছি। সিঙ্গাপুরে আমার হোটেলের ভাড়া ছিলো ৬ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার। সেটা কমিয়ে ৬শ” ডলারে এনেছি। স্পিকার থাকার সময় একা যেতাম। এখনতো আর সে উপায় নেই। তবে সফরসঙ্গীদের হোটেল ভাড়াও অর্ধেক করেছি।”

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার কিশোর বয়সের রাজনীতির স্মৃতিও রোমন্থন করেন।

তিনি বলেন, “ক্লাস নাইনে থাকতে ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী-বিরোধী চেতনা শুরু হয়। তখনতো আর এখনকার মতো শহীদ মিনার ছিল না। বাঁশ দিয়ে কাঠামো তৈরি করে তার উপর কাগজ লাগিয়ে তৈরি করতাম শহীদ মিনার। এগুলো তৎকালীন সরকার ভালোভাবে নেয়নি।”

“ক্লাস নাইনে থাকতেই প্রথম থানায় ধরে নিয়ে গিয়েছিল আমাদের চার-পাঁচ জনকে। সারাদিন-সারারাত থানায় আটকে রেখেছিল। আমাদের দোষ, আমরা কেনো ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করলাম। ”

“আসলে পলিটিক্যাল টার্নের কথা যদি বলেন, সেটা ম্যাট্রিক শেষ করে যখন কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজে ভর্তি হলাম। “৬১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করি বিশাল করে। ওই সময় ২১ উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। দেড়-মাইল দীর্ঘ ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিল হলো। ওখান থেকে সবার কাছে পরিচিত হলাম।”

“৬২”র ৩১ ডিসেম্বর ফজলুল কাদের চৌধুরী কিশোরগঞ্জ আসেন। তিনি তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। তার সভা ভণ্ডুল করার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল আমাকে। পরদিন শুধু কিশোরগঞ্জ নয়, আশে-পাশের দশ মাইলের মধ্যে যত স্কুল আছে সব ছাত্রমিছিল করল। সারা কিশোরগঞ্জে শুধু ছাত্র আর ছাত্র। তৎকালীন এসডিও সাইদ সাহেব বুঝলেন জামিন না দেয়া হলে কোর্টের একটা ইট-কাঠ দরজা-জানালাও থাকবে না। পরে ছাত্ররা আমাকে কাঁধে করে মিছিল করে নিয়ে গেল।”

“৬২-৬৩ সেশনে কলেজ ছাত্র সংসদে জিএস পদে দাঁড়ালাম। আমার বিরুদ্ধে ছয় জন দাঁড়ালেন। তারা ছয়জন ভোট পেলেন ১০ শতাংশ। আর আমি ৯০ শতাংশ। এটা ছিল আমার প্রথম নির্বাচন।”