মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

৭০টি স্বর্ণের বারসহ আটক ১০

৭০টি স্বর্ণের বার, ৩৫ লাখ টাকা ও পাঁচ হাজার সৌদি রিয়ালসহ সহ ১০ চোরাকারবারীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।image_94076_0

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বেলা সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যেমে বিস্তারিত জানানো হবে।

পিস্তল ও বন্দুকসহ অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

তিন রাউন্ড গুলি,  ১টি বিদেশি পিস্তল ও একনলা বন্দুকসহ এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

সোমবার রাত ১০টার দিকে মিরপুর মণিপুরী মোল্লাপাড়া বারেক মোল্লার মোড়ে রশীদের চায়ের দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।image_94088_0

আটক হওয়া অস্ত্র ব্যবসায়ীর নাম জালাল শেখ। অস্ত্র কেনা-বেচার সময় তাকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানায়। একই সময় শাহাদাৎ হোসেন, রাসেল এবং ইসমাইল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্র কেনা-বেচার ব্যবসা করছে।

মিয়ানমারের সঙ্গে সঙ্কট ঘনীভূত হতে পারে

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তে তেমন কোনো উত্তেজনা না থাকলেও গত সপ্তাহে দু’দেশের সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বাংলাদেশকে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী এই দেশের সঙ্গে রোহিঙ্গা এবং নিজ জলসীমায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনসহ দ্বিপক্ষীয় কয়েকটি বিষয় নিয়ে সঙ্কট আরো ঘনীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।image_94055_0

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সুবেদার নায়েক মিজানুর রহমানকে হত্যা এবং তার লাশ ফেরত নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে তিক্ত অভিজ্ঞতা আগামী দিনে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া, ১৯৯৯ সাল থেকে আলোচিত বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারকে নিয়ে নতুন জোট (বিসিআইএম) গঠন এবং সর্বশেষ এই চারটি দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপনও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্কের কারণে আটকে যেতে পারে বলেও মনে করেন তারা।

এ ব্যাপারে বাংলামেইলের সঙ্গে আলাপকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রহমান বলেন, ‘জাতিগতভাবে বিভাজন জিইয়ে রেখে মিয়ানমার সরকার পরিস্থিতি জটিল করার পাশাপাশি দেশটির মোসলমানদের আরো অনিরাপদ করে দিচ্ছে। এতদিন ভারতের সঙ্গে সীমান্তে সমস্যা থাকলেও মিয়ানমার সীমান্ত ছিল শান্ত।’ হঠাৎ করেই প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ককে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে সীমান্তে সম্প্রতি যা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সুবেদার নায়েক মিজানের লাশ ফেরত আনতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা দুর্বল ছিল।

এদিকে ভারতের নির্বাচনের পরপরই বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি এবং পরস্পরকে দোষারোপ করা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. আমেনা মোহসীন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমার সরকারের অস্পষ্ট অবস্থান। দেশটির মোসলমানরা বাঙালি হিসেবে নিবন্ধন নিলে মিয়ানমার সরকার যদি তাদের বৈধতা দেয় তবে সেটি একটি বিষয়। আর যদি এরপরও বৈধতা না দেয় তবে নিবন্ধিত হওয়ায় আর না হওয়ায় সমান কথা। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক
জাতিসংঘের অভিবাসী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কাছে এ ব্যাখ্যাটি অবশ্যই চাইতে হবে।’

তিনি বলেন, সেখানকার দূতাবাসও বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে বর্তমানে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত নিয়ে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। যাদের ফিরিয়ে দিতে সরকার জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা চেয়ে আসছে বছরের পর বছর। তবে মিয়ানমারের অনাগ্রহের কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে চলতি মাসের ৯ জুন মিয়ানমার যাচ্ছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদের নেতৃত্বে ৩২ সদস্যের প্রতিনিধি দল। দু’দিনব্যাপী মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক গত শনিবার যোগ না দেয়ার কথা বললেও সোমবার সন্ধ্যায় বাংলামেইলকে টেলিফোনে বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতেই পূর্ব ঘোষিত ৯ জুন মিয়ানমার যাচ্ছি। সেখানে মিজানুরের লুটে নেয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা হবে। দু’দেশের মধ্যে বিরাজমান সীমান্ত সঙ্কট যেন আরো ঘনীভূত না হতে পারে সেদিক বিবেচনায় রেখে আলোচনা করবে বাংলাদেশ।’

অন্যদিকে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বাংলামেইলকে ফোনে বলেন, ‘বর্তমানে মিয়ানমার সীমান্ত খুবই শান্ত অবস্থায় রয়েছে। বিজিবির মহাপরিচালকের মিয়ানমার সফরের পর আগামী ১৮ জুন সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা, বিসিআইএম গঠন বিষয়ে আলোচনা হবে।’

চার দেশের মধ্যে করিডোর স্থাপনে বিসিআইএম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব আরো বলেন, ‘১৯৯৯ সালে প্রথম সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিসিআইএম গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। গত ২ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হবে। আশা করা যাচ্ছে এবারের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার ইতিবাচক সাড়া দেবে।’

বঙ্গোপসাগরে নিজ জলসীমায় যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েনকে সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বাংলাদেশের জলসীমায় বিনা অনুমতিতে মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ চলে এলে তখন বিষয়টি দেখা যাবে বলে জানান সচিব। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

নতুন দুটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও একটি থানার অনুমোদন

নতুন দুটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা, একটি থানার অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১০৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এন এম জিয়াউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।image_84457_0

অতিরিক্ত সচিব বলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারা থানাকে উপজেলায় উন্নীতকরণ করা হয়। নতুন এ উপজেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা তিনটি, আয়তন ১১৫ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা হবে ৪৪ হাজার ২০২ জন।

সিলেট জেলার ওসমানীনগর থাকাকে উপজেলায় উন্নীকরণ করা হয়েছে। নতুন এ উপজেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা আটটি, আয়তন ২২৪.৫৪ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা হবে দুই লাখের অধিক।

সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার(পৌরসভা) আইন অনুসারে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরকে পৌরসভায় উন্নীতকরণ। এ পৌরসভার জনসংখ্যা ৫০ হাজার জন।

চট্রগ্রাম জেলা্র ফটিকছড়ি উপজেলাধীন নাজিরহাটকে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়েছে। এ পৌরসভায় জনসংখ্যা ৫০ হাজার।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ও পরিষদের বাসভবনগুলো সদর দক্ষিণ উপজেলা সীমানা থেকে কেটে আদর্শ সদর উপজেলার সীমানা অন্তর্ভুক্তকরণ এবং অবশিষ্ট এলাকা নিয়ে কুমিল্লা সদর উপজেলা দক্ষিণ উপজেলা পুনর্গঠন অনুমোদন দেয়া হয়।

লক্ষীপুর জেলা সদর থানাধীন চন্দ্রগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে থানায় উন্নীত করা হয় এবং কার্যক্রম পরিচালনার করার জন্য অতিরিক্ত ২৪টি পদ সৃষ্টি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের স্বার্থে এ থানা স্থাপন করা হয়েছে। নতুন এ থানায় ইউনিয়নের সংখ্যা নয়টি, আ্য়তন ২০৩.৮২ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা তিন লক্ষাধিক।

এছাড়া এক উপজেলা হতে অন্য উপজেলায় ইউনিয়ন/ওয়ার্ড সংযোজন এবং বিদ্যমান নবসৃষ্ট সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত এলাকা ছাড়া অবশিষ্ট এলাকা নিয়ে উপজেলা পুনর্গঠনসংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে এ কমিটি।

পদ্মা সেতুর কার্যাদেশ

অবশেষে পদ্মা সেতু প্রকল্পে মূল ব্রিজ নির্মাণের জন্য চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে কার্যাদেশ দিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

সোমবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।image_84465

মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভায় বৈঠকে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ফাইলে স্বাক্ষর করেন।  প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের পরেই কার্যাদেশ দিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

প্রসঙ্গত, ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২দশমিক ১৫ টাকায় চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে এ কাজ দেয়া হয়েছে। গত ২৩ মে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ দর প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

মুক্ত তালেবানদের কাতারে পাঠানোয় কাবুলের আপত্তি

মার্কিন সেনার বিনিময়ে মুক্ত পাঁচ তালেবান বন্দীকে কাতারের হাতে তুলে দেয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আফগানিস্তান।

দেশটির সরকার বলছে মুক্ত বন্দীদের তৃতীয় কোন দেশের জিম্মায় ছাড়া আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।83399_1

তবে বিরল এক বিবৃতিতে তালেবান নেতা মোল্লা ওমর এই চুক্তিকে একটি বড় সাফল্য বলে অভিহিত করেছেন।

বলা হচ্ছে, মুক্ত ঐ তালেবান সদস্যরা অন্তত এক বছর কাতার ছেড়ে বাইরে যেতে পারবেন না।

তবে, সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, ধারণা করা হচ্ছে ঐ পাঁচ তালেবান সদস্য হয়ত দলের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ঊর্ধ্বতন নেতা। ফলে, অনেকে আশংকা করছেন দেশে ফিরে তারা আবারো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বেন।

এদিকে, আফগানিস্তানের সরকার বলছে, চুক্তির মাধ্যমে বন্দি হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

এছাড়া মুক্ত বন্দীদের কাতারের কাছে হস্তান্তরেরও তীব্র প্রতিবাদ জানায় কাবুল।

বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতি বন্দীদের দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে আফগান সরকার।

চুক্তি অনুযায়ী পাঁচজন ঊর্ধ্বতন জঙ্গির বিনিময়ে, আফগান তালেবানদের হাতে পাঁচ বছর ধরে আটকে থাকা একজন মার্কিন সেনাকে মুক্তি দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্র এরপর ঐ পাঁচ জঙ্গিকে কাতারের কাছে হস্তান্তর করে।

এদিকে, তালেবান নেতা মোল্লা ওমর এক বিরল বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন ঐ সেনার বিনিময়ে গুয়ানতানামো কারাগার থেকে তালেবান নেতাদের মুক্তি তাদের জন্য এক বিরাট অর্জন।

মুক্তিপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা সার্জেন্ট বোয়ে বার্গডালের পরিবার জানিয়েছে, তারা এখনো তাদের ছেলের সাথে কথা বলেননি।

পরিবার জানিয়েছে, বার্গডালের সেরে উঠতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে।

মুক্তির পর বার্গডাল জার্মানিতে এক মার্কিন সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিশ্বকাপ ভেন্যু ও শহরগুলির খুঁটিনাটি

বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দরজায়। আর ১০ দিন বাদে ব্রাজিলের মাঠে গড়াবে ২০তম ফুটবল বিশ্বকাপ। কিন্তু কোথায় হবে খেলাগুলো? আনন্দযজ্ঞের সেই শহরগুলোই বা কেমন? কোন ইতিহাস-ঐহিত্যে স্মরণীয় করেছে সেই শহরগুলোকে। আসুন বিশ্বকাপ ভেন্যু ও শহরগুলির খুঁটিনাটি জেনে নেই-image_93938_0

সুউচ্চ হিজলের শহর: নাটাল
নীল আকাশ ও সারি সারি হিজল গাছ দিয়ে সাজানো নাটাল। চিরসবুজ এক বৃক্ষমেলা যেন! এই শহরটিতে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হিজল গাছ। যা গিনেজ বুক অব রেকর্ডস কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়েছে। গিনেস বুকের ওই প্যানেল স্বীকার করে যে- এই গাছটি যে পরিমাণ পরিসর দখল করে তা একটি স্টেডিয়ামের বলয়ের সমান। গানিতিক হিসেবে যা ৮ হাজার ৪০০ বর্গমিটারের সমান।
ধারনক্ষমতা: ৪৩ হাজার
জুনে গড় তাপমাত্রা: ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
জুনে গড় বৃষ্টিপাত: ২১০ মিলিমিটার
স্থানীয় হিরো: মারিনহো চাগাস। ব্রাজিলের হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিলেন।
কার্নিভালের শহর: রিও
উপমহাদেশের লোকদের সামনে ব্রাজিলের নাম আসলেই ভেসে ওঠে বর্ণিল কার্নিভালের ছবি। ড্রাম-বাঁশির সুরে লাখো লাখো স্থানীয় আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খোলামেলা পোশাক পড়ে সেই উৎসবে অংশ নেয়া। চোখ ধাঁধানো সেই শোভাযাত্রা। থাকে নাচে গানে ভরপুর জলসা।সেখানে বয়সের ফ্রেম থেকে বেরিয়ে ব্রাজিলিয়ানরা মুক্তির গান গায়। সাগর পাড়ের এই শহর বিখ্যাত রোদে পোড়া তামাটে চেহারার বিকিনি সুন্দরিদের জন্য। আক্ষরিক অর্থেই তা যদি আপনি উপভোগ করতে চান তাহলে আপনাকে রিও ডি জেনিরোতে যেতে হবে। ব্রাজিলের সাবেক রাজধানী এটি। এই শহরেই ব্রাজিলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রেগুলোর অন্যতম কোরকোভাদো ও সুগারলভ পর্বত অবস্থিত। আছে সোনা রাঙা বিচও।
স্টেডিয়ামে নাম:এস্টাডিও ডো মারাকানা (রিও ডি জেনিরো)
ধারণক্ষমতা: ৭৮,৮৩৮
জুনে গড় তাপমাত্রা: ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস
লোকাল হিরো: রোনাল্ডো, রোমারিও, জিজিনহো ও জিকো।

বিশ্ব রান্নাঘর: সাও পাওলো
ছোট ছোট নাইট ক্লাব ও রেস্তোরাঁর জন্য বিখ্যাত সাও পাওলো। আমাজানের বুকে এই শহরটি যেন এক জনঅরণ্য। প্রায় দুই কোটি লোকের বাস এখানে। যেখানে ধনী ও গরিবের জীবনযাত্রায় স্পষ্ট একটা ফারাক বা সীমারেখা দেখতে পাবেন আপনি। তবে এইটুকু তথ্যতেই হতাশ হলে অনেক কিছু মিস করবেন আপনি। ভোজন রসিক কিংবা বাঁধন-হারা লোকেরা ব্রাজিল গেলে ফরজ মনে করে এই শহরটায় একবার পা ফেলতে ভুলবেন না যেন।
স্টেডিয়ামের নাম: অ্যারেনা ডি ইটাকুয়েরা
ধারণক্ষমতা: ৬৮ হাজার
জুনে গড় তাপমাত্রা: ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস
গড় বৃষ্টিপাত: ২.২ ইঞ্চি
লোকাল হিরো: কাফু, রবার্তো কার্লোস

যাদুকরী রাস্তার শহর: বেলো হরিজন্তে
সাধারণত পাহাডের ঢাল বেয়ে ওঠার জন্য মোটর গাড়ির হর্স পাওয়ার বাড়িয়ে দিতে হয়। কিন্তু বেলো হরিজন্তে গেলে এর উল্টোটা দেখতে পাবেন। কারণ, গাড়িকে নিউট্রাল গিয়ারে রাখলেও আপনা-আপনি আপনার গাড়িটি ওপরে উঠে যাবে। এখানকার মাটির নিচে চৌম্বকীয় ক্ষমতা বেশি হওয়ায় এমনটি হয়ে থাকে।  সঙ্গে সঙ্গে এখানে সুন্দর দিগন্তেরও স্বাদ পাবেন । কারণ, দিগন্তের কমনীয়তার জন্যই এর নাম হয়েছে বেলো হরিজন্তে।
স্টেডিয়ামের নাম: এস্টাডিও মিনেইরাও
ধারণক্ষমতা: ৬৪ হাজার
জুনে গড় তাপমাত্রা: ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
জুনে গড় বৃষ্টিপাত: ০.৬ ইঞ্চি
লোকাল হিরো: টোস্টা

বাগানের শহর: কুরিতিবা
ব্রাজিলের সবচেয়ে সুন্দর শহরগুলোর একটি কুরিতিবা। বসবাসের জন্য একেবারে আদর্শ জায়গা। থরে থরে সাজানো পাইন গাছ,সুন্দর স্থাপত্য নিদর্শন ও চোখ জুড়ানো বিল্ডিংয়ে ছবির মতো সাজানো এই শহরটি। কুরিতিবার সবচেয়ে চমক জাগানো তথ্য হলো এটি ব্রাজিলের সবচেয়ে কম সময়ের রাজধানী ছিল। ১৯৬৯ সালে সামরিক জান্তার সময় মাত্র তিন দিনের জন্য রাজধানী হওয়ার গৌরব অর্জন করে শহরটি।
স্টেডিয়ামের নাম: অ্যারেনা ডা বেইক্সাডা
ধারণক্ষমতা: ৪১,৪৫৬
জুনে গড় তাপমাত্রা: ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
জুনে গড় বৃষ্টিপাত: ৩ দশমিক ৯ ইঞ্চি
লোকাল হিরো: দুইলিও দিয়াস

ব্রাজিলের ভেনিস: রেসিফে
ভেনিস বলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠে ইতালির নীল জলের একটি শহর। যেখানে থরে থরে সাজানো থাকে নৌকা। কিংবা ব্যক্তিগত প্রমোদতরীর বাহারি উপস্থাপন। অসংখ্য খালের সংযোগ সাধনের মাধ্যমে এই শহরটির বক্ষ রচনা। তবে ব্রাজিলেও কিন্তু ভেনিস নামের একটি শহর আছে। এই শহরটির নাম রেসিফে।  দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোয়া বোয়া ভিয়াজেম নামক সমুদ্র সৈকতের জন্য প্রসিদ্ধি আছে এই শহরটি। গ্রীষ্ম মৌসুমে বেশ ভালো গরম পড়ে ব্রাজিলের এই শহরটিতে। তবে জুনের বিষয়টি ভিন্ন। কারণ, খ্রিষ্টীয় অব্দের ষষ্ঠ মাসটি স্থানীয় ভাবে শহরটির সবচেয়ে বর্ষণমুখর সময়। সেজন্য বিশ্বকাপের সময় এই ভেন্যুটিতে প্রিয় দলের খেলা দেখতে বসে আকাশের মুখ ভার দেখলে বিরক্ত হবেন না যেন?
স্টেডিয়াম নাম: ইতাইপাভা অ্যারেনা পারনামবুকো (রেসিফে)
ধারনক্ষমতা: ৪৬,০০০ হাজার
জুনে গড় তামমাত্রা: ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
জুনে গড় বৃষ্টিপাত: ৩৭৫ মিলিমিটার
স্থানীয় হিরো: রেসিফের ক্লাব সান্তা ক্রুজে ফুটবলের হাতেখড়ি হয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রিভাল্ডোর। যিনি পরবর্তীতে স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনায় গিয়ে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। ২০০২ সালের ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি।
আমাজানের হৃদপিন্ড: মানাউস
নিঝুমতার মাঝে এক প্রস্থ উল্লাস-মুখরতা হলো মানাউস। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেইন ফরেস্ট আমাজানের মধ্যে অবস্থিত এই ভেন্যুটি। সেজন্য স্বাভাবিক ভাবে দেশী-বিদেশী দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য মানাউস। যেখানে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে পারবেন আপনি?
স্টেডিয়ামের নাম: অ্যারেনা ডে আমাজানিয়া
ধারনক্ষমতা: ৪৪,০০০ হাজার
জুনে গড় তাপমাত্রা: ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
জুনে গড় বৃষ্টিপাত: ৮৪ মিলিমিটার
স্থানীয় হিরো: ফ্রান্সিসকো লিমা গোভিনহো। ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময় ইতালির রোমাতে খেলেছেন ডিফেন্সিভ এই মিডফিল্ডার।
কাউবয় হ্যাটস: কুইয়াবা
১৭২৭ সালে ব্রাজিলের মধ্যাঞ্চলে সোনা ও লোহার খনি আবিস্কার হওয়ার পর কুইয়াবা শহরটির গোড়াপত্তন হয়। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে গরম শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এটি। তাছাড়া গো চারণের জন্যও বিশেষ প্রসিদ্ধি আছে এই অঞ্চলটির। সেজন্য ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী কাউ হ্যাটসের প্রচলন ও ব্যবহার মধ্য ব্রাজিলের এই শহরটিকে ঘিরেই।
স্টেডিয়ামের নাম: অ্যারেনা পানটানাল
ধারনক্ষমতা: ৪৩,০০০
জুনে গড় তাপমাত্রা: ২৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস
জুনে গড় বৃষ্টিপাত: ১৫.৫ মিলিমিটার
স্থানীয় হিরো: ব্রাজিলের লিভারপুল কিংবদন্তি লুকাস লেইভা।
২,০০০ দিনে নির্মিত শহর: ব্রাসিলিয়া
ব্রাজিলিয়ানদের গর্বের শহর ব্রাসিলিয়া। বর্তমানে ব্রাজিল প্রজাতন্ত্রের রাজধানী। দেশটির আনাচে-কানাচে এই কিংবদন্তি প্রচলিত যে- মাত্র ২০০০ দিনের পরিশ্রমে এই শহরটির গোড়াপত্তন করে একদল আদিবাসী। ক্যাথেড্রাল ও রঙিন মন্দিরের জন্য প্রসিদ্ধি আছে ব্রাসিলিয়ার। যা ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেডের অর্ন্তভূক্ত।
স্টেডিয়ামে: এস্টাডিও ন্যাচনাল ডি ব্রাসিলিয়া
ধারনক্ষমতা: ৭০,০৬৪
জুনে গড় তাপমাত্রা: ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
জুনে গড় বৃষ্টিপাত: ৩ শতাংশ
স্থানীয় হিরো: কাকা
নাইট ক্লাবের শহর: ফোর্টালেজা
ব্রাজিলিয়ানদের আমুদে জীবনের প্রতিচ্ছবি যেন এই ফোর্টালেজা! সপ্তাহের তিন-চার দিনে পরিশ্রম, আর বাকি দিনে মাস্তি- এই জীবন দর্শন মেনে চলে এখানে বসবাসকারী মানুষেরা। তাই নিউইয়র্ক টাইমস ফোর্টালেজাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সরব শহর বলে অ্যাখ্যায়িত করে। নাইট ক্লাবের হই-হুল্লোড়ের কিংবা নীল জলরাশিতে আনন্দে মেতে ওঠার জন্য বিশেষ খ্যাতি আছে এই শহরটির।
স্টেডিয়ামে নাম: অ্যারেনা ক্যাস্টিলাও
ধারনক্ষমতা: ৬৭,০৬৭
জুনে গড় তাপমাত্রা: ২৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
জুনে গড় বৃষ্টিপাত: ১৬ শতাংশ
স্থানীয় হিরো: মারিও জারদেল
সুখের শহর: সালভাদর
স্থানীয় ভাবে ‘চেসী’ নামে পরিচিত এক প্রকার পানীয়ের জন্য বিখ্যাত সালভাদর। একে ব্রাজিলের ‘সুখের শহর’ নামে অভিহিত করা হয়। তাছাড়া এই শহরটিতেই ব্রাজিলের অন্যতম প্রাচীন কার্নিভাল ‘সেন্ট্রাল কার্নিভাল’ বিকাশ লাভ করে।
স্টেডিয়ামের নাম: অ্যারেনা ফন্টে নোভা
ধারনক্ষমতা: ৫৫,০০০
জুনে গড় তাপমাত্রা: ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
জুনে গড় বৃষ্টিপাত: ৫০ মিলিমিটার
স্থানীয় হিরো: বেবেতো
স্কলারির জন্মশহর: পোর্তো অ্যালেগ্রে
ব্রাজিলের ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী কোচ ও বর্তমানে নেইমারদের ম্যানেজার লুইস ফিলিপ স্কলারির জন্মশহর পোর্তো অ্যালেগ্রে। তাছাড়া ব্রাজিলের এই শহরটিতেই জন্ম নিয়েছেন পাঁচ বারের বিশ্বজয়ী দলটির সাবেক কোচ মানো মানজেস। তাছাড়া ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের বিখ্যাত ডার্বি ‘গ্রেনাল’ এই শহরটিতেই হয়ে থাকে।
স্টেডিয়ামের নাম: এস্টাডিও জোস বোর্দা
ধারনক্ষমতা: ৫০,০০০
জুনে গড় তাপমাত্রা: ১৯.৭ ডিগ্রি
জুনে গড় বৃষ্টিপাত: ১২ শতাংশ
স্থানীয় হিরো: রোনালদিনহো।

তারেক রহমানের বক্তব্য খণ্ডন করতে ব্যর্থ

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য খণ্ডন করতে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে। তাই তারা গালাগালি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।image_93939_0

তিনি বলেন, ‘জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আইনমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।’

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ চতুষ্পদ শ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। সে খবর তারা না রেখে তারেক রহমানকে নিয়ে হেচকি খাচ্ছে। তারেক রহমানের বক্তব্য খণ্ডন করতে না পেরে গালাগালি করছে।’

‘জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কেউ বিষোদগার করলে তার সমস্ত অপরাধ প্রধানমন্ত্রী মাফ করে দেন’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে  সরকারের মন্ত্রী ও দলের লোকেরা পাবনা মেন্টাল হসপিটালের তালা ভেঙ্গে পড়া পাগলদের মতো হয়ে পড়েছে। কারণ যে অমূল্য ধন ক্ষমতা তারা পেয়েছেন সেটি হারানোর ভয়েই এই উন্মাদগ্রস্ত হয়ে পড়া।’

রিজভী আরো বলেন, ‘অবৈধ সরকারের অবৈধ মন্ত্রী হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য তারা অহরহ কদর্য ও কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজে অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আর তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জিয়া পরিবার।’

দ্বিতীয় জানাজার পর মিজানুরের দাফন দুপুরে

বান্দারবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে নিহত বিজিবি নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের দ্বিতীয় জানাজা শেষে সোমবার বেলা ২টার দিকে কুমিল্লায় নিজ গ্রামে দাফন করা হবে। তাকে দাফনের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
image_93929_0
এদিকে শহীদ মিজানুর রহমানকে শেষবারের মত দেখার জন্য স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন।

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় বরকামতা ইউনিয়নের ভেলানগর গ্রামে ঈদগাহে দুপুর ২টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

জানা যায়, নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমানের মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টারটি কুমিল্লার চান্দিনার ছয়ঘরিয়ায় অবতরণ করবে। সেখান থেকে গাড়িতে করে নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়ি ভেলানগরে নেয়া হবে।

ভেলানগর গ্রামের ঈদগাহে দুপুর ২টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কররস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে বান্দারবানের নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে নিহত বিজিবি নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে সকালে নাইক্ষ্যংছড়িতে দৌছড়ি সীমান্তে বিজিবি টহল দলের ওপর গুলি বর্ষণ করে বিজিপি। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাইনছড়ি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান নিহত হন। পরে অস্ত্রসহ মিজানুর রহমানের মরদেহ নিয়ে যায় বিজিপি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলাকালে গত শুক্রবার বিকালেও দৌছড়ি সীমান্তে ফের বিজিবি টহল দলের ওপর গুলি বর্ষণ করে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীরা। আত্মরক্ষায় বিজিবি সদস্যরাও পাল্টা গুলি বর্ষণ করেন। দুদেশের সীমান্তরক্ষীর মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী থেমে থেমে চলে গোলাগুলি। অবশেষে হত্যার তিনদিন পর শনিবার বিকেল পাঁচটায় বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মিজানুরের মরদেহ হস্তান্তর করে বিজিপি।

রাজধানীজুড়ে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ

গত রোববার রাতের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। সোমবার সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও রাস্তা জুড়ে পানি জমে থাকায় কর্মস্থলমুখী মানুষকে তীব্র দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তাজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। বৃষ্টির পানিতে পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশনের ড্রেনগুলোতেও দেখা দিয়েছে প্রতিবন্ধকতা।image_93936_0

সোমবার সকালে রাজধানীর কাকরাইল, রাজারবাগ, ফকিরেরপুল, পল্টন, নয়াপল্টন, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, গুলিস্তান, মগবাজার, বনানী, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। দুপুর ১২টার পর পানি কিছুটা কমতে শুরু করে।

রাস্তা জুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর অরক্ষিত ম্যানহোলগুলো হয়ে পড়েছে মরণ ফাঁদ। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৈনিক বাংলার একটি অরক্ষিত ম্যানহোলে পড়ে আহত হন সালমা আক্তার নামে এক বৃদ্ধা। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়।

কাকরাইল মোড়ে দেখা গেছে পানির মধ্যে অকেজো হয়ে পড়ে আছে একটি টেম্পু। টেম্পুর চালক নিজাম উদ্দিন বাংলামেইলকে বলেন, ‘রাস্তায় পানি থাকার কারণে পথের সঠিক চিত্র দেখতে পাইনি। সামনে একটি গর্ত ছিলো। গর্তেই পড়ে গাড়ি আটকে যায়। ইঞ্জিন আর সচল হচ্ছে না।’

রাজধানীর মালিবাগের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বাংলামেইলকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতার এমন চিত্র নতুন নয়। এটি খুব পুরোনো একটি সমস্যা। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানীবাসীকে এমন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।’

মগবাজারের বাসিন্দা আরাফাত কাউসার বলেন, ‘ভোরে রাস্তায় গিয়ে দেখি হাঁটু পরিমাণ পানি। তাই আজ ফ্যাক্টরিতে যাওয়া হলো না। বাচ্চাদেরকেও স্কুলে পাঠাতে পারিনি।’

প্রতিদিনের মতো সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো সুমাইয়া আক্তার ও তার ছোট ভাই সুজন। রাজধানীর আরামবাগের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারা। ভোর আটটা থেকে মর্নিং ক্লাস চালু থাকায় সকাল সকাল প্রস্তুতি নিতে হচ্ছিল তাদের। কিন্তু প্রস্তুতি শেষে বাসা থেকে বের হয়ে তারা দেখে রাস্তাজুড়ে হাঁটু পানি। এতে আর স্কুলে যাওয়া হলো না তাদের।

রাজধানীর ফকিরেরপুলের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকুরি করেন। সকাল ১০টা থেকে তার অফিস। অফিসের জন্য সব প্রস্তুতি সেরে বৃষ্টি কমার অপেক্ষায় আছেন তিনি। যথারীতি বৃষ্টি শেষ হলো। কিন্তু রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ পানি। মাইক্রো বাসটিও এতো পানির মধ্যে চলবে না। পরে বাধ্য হয়েই আবার বাসায় ফিরে যান তিনি।

এমন চিত্র শুধু আরামবাগ কিংবা ফকিরেপুলের নয়। সোমবার সকালে এমন চিত্র দেখা গেছে পুরো রাজধানীতে।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের পানি নিষ্কাসনে অব্যবস্থাপনার কারণেই রাজধানী ঢাকার এমন অবস্থা।