মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬

ফিল্মফেয়ারে মুখোমুখি তারা

শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের সম্মান জানাতে বলিউডের পাশাপাশি টলিউডেও আয়োজিত হয়ে আসছে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। আগামী ১৮ মার্চ কলকাতায় বসতে যাচ্ছে ‘জয় ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস বাংলা’ নামের এই আসর।

এই ফিল্মফেয়ারে ২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো থেকে বেছে নেওয়া হবে সেরাদের। যেহেতু টলিউডে বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীরাও নিয়মিত কাজ করেন, সেহেতু এই ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসে ওঠে এসেছে তাদেরও নাম।
এবারের অ্যাওয়ার্ডস বাংলা ২০২৫-এর মনোনয়ন তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের জয়া আহসান, মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরী।

জানা গেছে, প্রখ্যাত নির্মাতা মৃণাল সেনের বায়োপিক ‘পদাতিক’ এর জন্য সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পেয়েছেন চঞ্চল, তবে মূল বিভাগে জায়গা হয়নি। তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন সমালোচক বিভাগে। একই বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন মোশাররফ করিম।
ব্রাত্য বসু পরিচালিত ‘হুব্বা’য় অভিনয়ের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। অর্থাৎ চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিম—দুজনের যে কেউ পুরস্কারটি পেতে পারেন।

ফিল্মফেয়ারের মঞ্চে জয়া আহসানের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। গত বছরও ‘দশম অবতার’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রী ও ‘অর্ধাঙ্গিনী’র জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
অর্ধাঙ্গিনীর জন্য পুরস্কারও ঘরে তুলেছিলেন।

এবারের আসরে ‘ভূতপরী’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন জয়া। তার সঙ্গে মনোনয়ন তালিকায় আরও রয়েছেন অপরাজিতা আঢ্য (এটা আমাদের গল্প), কৌশানী মুখার্জি (বহুরূপী), ঐন্দ্রিলা সেন (মির্জা), ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (অযোগ্য) ও শুভশ্রী গাঙ্গুলি (বাবলি)।

হ্যান্স জিমারের সুর কখনো পায়নি মার্ভেল

হ্যান্স জিমার, সংগীত জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ক্যারিয়ারে বহু ব্লকবাস্টার সিনেমায় তিনি সংগীত করেছেন। প্রতিটিই জনপ্রিয় হয়েছে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন অনেক।
জিতেছেন অস্কারও। তার সংগীত সিনেমায় থাকুক, এটা বহু নির্মাতারই স্বপ্ন ও চাওয়া। তবে সেই চাওয়া পূরণ হয়নি সুপারহিরো সিনেমার আঁতুড়ঘর মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স। জিন্স হ্যামারের সুর আজ পর্যন্ত কোনো মার্ভেলের কোনো সিনেমায় উঠেনি।

গত দেড় দশকের বেশি সময় হলিউড মাতিয়ে রেখেছে এমসিইউ (মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স)। বহু জনপ্রিয়, ব্যবসাসফল ও বিগ বাজেটের সিনেমা নির্মাণ করলেও জিমারের সংগীত তারা পায়নি। কেননা জিমার সুপারহিরো সিনেমায় সংগীত করতে চান না। এটা জিমারের পুরনো সিদ্ধান্ত।

হ্যান্স জিমারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আরেক কিংবদন্তি নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের। তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন ব্যাটম্যানে। এছাড়া তিনি যে সুপারহিরো সিনেমায় সংগীত করেননি এমন নয়। ১৯৮৪ সালে ‘এক্স-মেন: ডার্ক ফিনিক্স’ থেকে শুরু বলা যায়। ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার ম্যান টু’তেও সংগীত পরিচালনা করেছিলেন।
২০১৬ সালে তিনি সংগীত করেছেন ‘ব্যাটম্যান’ ভার্সাস ‘সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস’ সিনেমায়। সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন জ্যাক স্নাইডার। এ সিনেমার সংগীত পরিচালনা জিমারের জন্য কঠিন ছিল বলেই তিনি প্রকাশ করেছেন। এরপর আর কোনো সুপারহিরো সিনেমায় সংগীত করেননি।

তবে এতকিছুর মধ্যেও কখনো তাকে এমসিইউতে কাজ করতে দেখা যায়নি। সম্প্রতি জশ হরোউইটজের পডকাস্টে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি কি কখনো ডাক পাননি? উত্তরে জিমার বলেন, ‘তারা অনেকবারই ডেকেছে। কিন্তু ঘটনাটা হয়েছে এমন যে কখনো সময় অনুকূলে ছিল না। সত্যি বলতে এখন আমি অন্য ধরনের কাজ খুঁজছি। সুপারহিরো সিনেমার কথা আর ভাবছি না। ’সুপারম্যান’, ‘ব্যাটম্যান’, ‘স্পাইডার ম্যান’, ‘উয়ান্ডার ওইম্যান’ সব চরিত্রের সিনেমার জন্যই সংগীত করেছি। এখন আর নতুন কী করার আছে!’

এমসিইউতে কাজ করার প্রস্তাবের প্রসঙ্গে জিমার বলেন, ‘এ কথা শুনতে হয়তো খারাপ লাগবে, তবে কেভিন ফাইগি জানতে চেয়েছিলেন, আমার আপত্তিটা কোথায়। সত্যি বলতে তিনি বুঝতেই চাননি।’

হ্যান্স জিমারকে বর্তমানে বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে প্রভাবশালী সুরকার হিসেবেই মানা হয়। ‘দ্য ডার্ক নাইট’, ‘দ্য লায়ন কিং’, ‘ম্যান অব স্টিল’, ‘ইনসেপশন’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’-এর মতো সাড়াজাগানো একাধিক কালজয়ী সিনেমায় সংগীত পরিচালনা করেছেন জার্মান এ সুরকার। সর্বশেষ ২০২২ সালে ‘ডুন’-এর জন্য তিনি সেরা মৌলিক আবহসংগীতের অস্কার জিতেছিলেন।

শেখ হাসিনা-রেহানা পরিবারের জমি-ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং শেখ রেহানা, তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের নামে থাকা জমিসহ বাড়ি ও ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম তথ্য জানিয়েছেন।

জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে- টিউলিপ সিদ্দিকের গুলশানের ফ্ল্যাট, যার বাজারমূল্য ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৯২০ টাকা।
সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে থাকা ধানমন্ডিতে ১৬ কাঠা জমিসহ বাড়ি, যার বাজারমূল্য তিন কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া শেখ রেহানার নামে গাজীপুরে আট লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকার সাড়ে ৮ কাটা জমি। তার গাজীপুরে আরেক জায়গায় তিন লাখ টাকা মূল্যের ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমি। সেগুনবাগিচায় ১৮ লাখ টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে থাকা গুলশানের ছয়টি ফ্ল্যাট।

আদালত সূত্র জানায়, দুদকের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম এ আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ হাসিবার ছোট বোন রেহানা ও তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক স্থাবর সম্পদগুলো অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন।

ট্রাম্পের নজরে পড়া গ্রিনল্যান্ডে ভোট চলছে আজ

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে আজ মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অতীতে গ্রিনল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচন বাইরের বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পারলেও এবার এক ভিন্ন আবহের কারণে এ ভোট বিশ্বের নজর কেড়েছে।

বিবিসি ও আল জাজিরার খবরে বলা হয়, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার আগ্রহ প্রকাশ করার পর বিশ্ব আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপটি।

গ্রিনল্যান্ড প্রায় ৩০০ বছর ধরে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে।
ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরে দ্বীপটির অবস্থান। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো পরিচালনা, দেখভালের দায়িত্ব দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ পালন করে। আর দ্বীপটির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয় কোপেনহেগেনে।

স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটির ৩১ আসনের পার্লামেন্টে চার বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন হয়।
এই দ্বীপটির মোট ৫৬ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৪ হাজার। পার্লামেন্টে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ১৬ আসন পেতে হয়।

আজকের নির্বাচনে ছয়টি দলের প্রার্থীরা লড়ছেন। নির্বাচনের ফলাফল আগামীকাল বুধবার সকাল নাগাদ পাওয়া যেতে পারে।
গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে ক্ষমতায় আছে দুটি দলের জোট সরকার। দল দুটি হলো কমিউনিটি অব দ্য পিপল (আইএ) ও ফরোয়ার্ড (এস)। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুট এগেদে।

যে ছয়টি দল নির্বাচনে লড়ছে, তার মধ্যে পাঁচটিই ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে। কৌশলগত অবস্থানের পাশাপাশি অব্যবহৃত খনিজ সম্পদের কারণে দ্বীপটির ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজর পড়েছে।
তিনি তার ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে গ্রিনল্যান্ড কেনার ধারণাটি প্রথম সামনে এনেছিলেন।

পরবর্তীতে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় বসার পর দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে তার ইচ্ছার কথা বারবার বলে আসছেন। তবে ট্রাম্পের এই আগ্রহের বিষয়টি গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতারা বারবার নাকচ করেছেন।

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পুরস্কার ২০০৩ বাতিলের সিদ্ধান্ত রহিত (বাতিল) করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫ এর নির্বাচিত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

যেসব ব্যক্তিকে এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, তার মধ্যে রয়েছেন—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), সাহিত্যে মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর), সমাজসেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর), শিক্ষা ও গবেষণায় বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর এবং প্রতিবাদী তারুণ্যে আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।

এর আগে ২০১৬ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার। পরে জাতীয় জাদুঘর থেকে তার পুরস্কারের মেডেল ও সম্মাননাপত্র সরিয়ে ফেলা হয়।

ইউএসএআইডির ৮৩ শতাংশ কর্মসূচি বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

ছয় সপ্তাহ পর্যালোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) ৮৩ শতাংশ কর্মসূচি বাতিল করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় সোমবার এক্সে এ তথ্য জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। খবর আল জাজিরার।

রুবিও বলেন, ৬ সপ্তাহ পর্যালোচনার পর সংস্থার ৫ হাজার ২০০টি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
এগুলোতে কোটি কোটি ডলার এমনভাবে ব্যয় করা হয়েছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল জাতীয় স্বার্থের জন্য কাজ করেনি। বরং কিছু ক্ষেত্রে তা মার্কিন স্বার্থের ক্ষতিও করেছে। তবে কোন কোন কর্মসূচি বাতিল হয়েছে তা স্পষ্ট করে বলেনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, ইউএসএআইডি’র বাকি ১৭ শতাংশ কর্মসূচি এখন থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে।
আন্তর্জাতিক এই উন্নয়ন সংস্থার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে দরিদ্র দেশগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, গত জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নিয়েই ইউএসএআইডির ওপর খড়গহস্ত হন। তিনি সংস্থাটি ভেঙে দিতে চান। ইউএসএআইডিতে কাটছাঁট পদক্ষেপের একটা বড় অংশ তদারক করছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।

রুবিওর পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর পোস্ট করেন ইলন মাস্ক। তিনি বলেন, এটা কঠিন, কিন্তু প্রয়োজনীয়। আপনার সঙ্গে কাজ করে ভালো লাগলো। ইউএসএআইডি-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সর্বদা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা উচিত ছিল।

ইউএসএআইডির মাধ্যমে বিশ্বে হাজার হাজার কোটি ডলারের সহায়তা দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।
এর সহায়তা বন্ধের ফলে বিভিন্ন দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মনে করেন অনেকেই।

পাচার হওয়া কয়েকশ কোটি ডলার এ বছরই ফিরিয়ে আনা সম্ভব : অর্থ উপদেষ্টা

দেশ থেকে পাচার হওয়া কয়েকশ কোটি ডলার এ বছরের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। আজ মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, বিশাল অংকের টাকা। সব টাকা আনতে সময় লাগবে।
তাদের আইডেন্টিফাই (শনাক্ত) করতে হবে, পাচারের সঙ্গে জড়িতরা বিভিন্ন দেশে আছেন, এখানে কতগুলো আইনের পদক্ষেপও রয়েছে, আবার সে আইনের পদক্ষেপগুলো বিদেশের সঙ্গেও জড়িত। এ জন্য একটি বিশেষ আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার, শিগগিরই যা অধ্যাদেশ আকারে জারি হবে বলেও জানান অর্থ উপদেষ্টা।

সরকার কয়েকশ কোটি ডলার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এটা কি সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, হ্যাঁ এটা সম্ভব।
অনেক সময় দেখা যায় ১১-১২ জন দিয়েছে, ২০০ কোটি টাকার ওপরে অনেকের আইডেন্টিফাই করা হয়েছে। সব মিলিয়ে হয়তো আমরা আনতে পারব।

আমিরের ছেড়ে দেওয়া সিনেমা দিয়েই লাইমলাইটে শাহরুখ!

বলিউডের দুই খান আমির ও শাহরুখের তুলনা বরাবরই হয়ে থাকে। অভিনেতা হিসেবে কে বেশি ভালো, তা নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে তর্ক লেগেই থাকে।

কিন্তু শাহরুখ অভিনীত একটি অন্যতম চরিত্রের সুযোগ প্রথমে এসেছিল আমিরের কাছে। সে সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেতা।
পরে সেই চরিত্রে আলোড়ন ফেলেছিলেন শাহরুখ।

ছবিটির নাম ‘ডর’। নায়ক নয়, খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ। এই চরিত্রের প্রস্তাব প্রথমে আমিরের কাছে যায়, কিন্তু তিনি রাজি হননি।
তবে এই চরিত্রের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কোনো অনুশোচনাও নেই আমিরের।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ফের এ বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেতা। আমিরের কথায়, ‘আমার অভিনয় করার কথা ছিল ‘ডর’ ছবিতে। কিন্তু কিছু কারণের জন্য সেই ছবি আমি ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।
ছবিটা খুব ভালোভাবেই তৈরি করা। এই চরিত্রের জন্য শাহরুখ একদম সঠিক নির্বাচন।’

আমির মনে করেন, চরিত্রটি তিনি ফুটিয়ে তুলতে পারতেন না। পরিচালক শাহরুখকে বেছে নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাই এই চরিত্রের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে আজও কোনও আক্ষেপ নেই মিস্টার পারফেকশনিস্টের।

তিনি বলেছেন, ‘আমি ওই চরিত্রে অভিনয় করলে মোটেই ভালো হতো না। তাই আমার কোনো অনুশোচনা নেই।’

যশ চোপড়া পরিচালিত এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সানি দেওল ও জুহি চাওলা। খলনায়কের চরিত্রে ছিলেন শাহরুখ। নায়কের চেয়ে অবশ্য খলনায়কই বেশি নজর কেড়েছিলেন ছবিতে। তার পর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শাহরুখকে, ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেছেন বলিউডের ‘বাদশাহ’।

ভারতে জবানবন্দি নিতে গিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পুলিশের ধর্ষণ

ভারতের রাজস্থানের হোটেলে জবানবন্দি রেকর্ডের অজুহাতে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়াকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী স্থানীয় থানায় শুক্রবার একটি অভিযোগ জানান। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার ওই ব্যক্তির স্ত্রী এবং তিন বছরের সন্তানকে জবানবন্দি রেকর্ড করার নামে কনস্টেবল একটি হোটেলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ।

নির্যাতিতার স্বামীর অভিযোগ, সেখানেই ওই কনস্টেবল তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছেন।

জয়পুরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিনোদ শর্মা জানান, শনিবার রাতেই নির্যাতিতার স্বামী থানায় ধর্ষণের অভিযোগ জানান। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এসিপি জানান, শনিবার নির্যাতিতার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। অভিযুক্ত কনস্টেবল নির্যাতিতার বাড়িতে ফোন করেন এবং জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি জায়গায় দেখা করতে বলেন। এরপরে একটি বাইকে চাপিয়ে নারী এবং তার সন্তানকে ওই হোটেলে নিয়ে যান কনস্টেবল। হোটেলের রিসেপশনে ওই কনস্টেবল নিজেকে পুলিশ অফিসার বলে পরিচয় দেন।
পাশাপাশি হোটেল কর্মীদের বলেন যে নারীটি অসুস্থ এবং তাকে পোশাক পরিবর্তন করতে হবে। হোটেল রুমে ঢুকে ওই কনস্টেবল নারীকে চড় মেরে, গামছা দিয়ে চেপে ধরে জোর ধর্ষণ করেন।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার কথা জানাজানি হলে ওই নারীর স্বামীকে জেলে পাঠিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

পরে শনিবার রাতের নারীর স্বামীর অভিযোগের পর রবিবার সকালেই কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্ত কনস্টেবল সাঙ্গান থানায় কর্মরত ছিলেন।
পাশাপাশি ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ যাচাই করার জন্য তার ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ট্রাম্পের শুল্ক নীতি: যুক্তরাষ্ট্র এবং এশিয়ায় শেয়ারবাজারে ধস

আমেরিকা ও এশিয়ার শেয়ার বাজারের পতন ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগের কারণে এই পতন ঘটেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

একটি টিভি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি পরিবর্তনের সময়কালে রয়েছে, এর পরেই শেয়ার বাজারে পতনের ঘটনা ঘটেছে।
ট্রাম্পকে তখন সম্ভাব্য মন্দার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। স্থানীয় সময় গত রবিবার ট্রাম্পের এই মন্তব্য সম্প্রচারিত হয়, এরপর থেকেই ট্রাম্পের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং উপদেষ্টারা বিনিয়োগকারীদের ভয় কমানোর চেষ্টা করছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রেকর্ড করা ফক্স নিউজের একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি এই ধরণের ভবিষ্যদ্বাণী করতে ঘৃণা করি।
এখন একটি পরিবর্তনের সময় চলছে, কারণ আমরা যা করছি তা আকারে খুবই বড়। আমরা আমেরিকার সম্পদ ফিরিয়ে আনছি। এটি একটি বড় বিষয়।’

আজ মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দিনের শুরুতেই জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পায়, দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায় এবং অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়।
বৃহত্তম আমেরিকান কম্পানিগুলোর ওপর নজর রাখে এস এণ্ড পি ৫০০।

গতকাল সোমবার (১০ মার্চ) নিউইয়র্ক শেয়ারবাজারে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পায়, অন্যদিকে ডাও জোন্স ২ শতাংশ কমে যায়। টেক-হেভি স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য সর্বাধিক পরিচিত ‘ন্যাসডাক’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ৪ শতাংশ পতন ঘটে।

টেসলার শেয়ার ১৫.৪ শতাংশ কমেছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ জায়ান্ট নাভিদিয়ার শেয়ার কমেছে ৫ শতাংশের বেশি। মেটা, অ্যামাজন এবং অ্যালফাবেটসহ অন্যান্য প্রধান প্রযুক্তির শেয়ারের মূল্যও তীব্রভাবে কমেছে।

আর্থিক পরিষেবা সংস্থা কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, ‘ট্রাম্প রাজনৈতিক নেতাদের শুল্ক নিয়ে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ধারণা নিতে বাধ্য করছেন। কিন্তু সমস্যা হলো, তিনি বিনিয়োগকারীদেরও এ সম্পর্কে ধারণা করতে বাধ্য করছেন আর এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে বাজারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মন্দা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ব্যবসায়ীদের নিজেদের বাঁচতে হবে, এমন মানসিকতায় ফেলার জন্য যথেষ্ট।’

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টারা আশ্বস্ত করেন, এসব নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ছে এবং উৎপাদন পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে। দিনের শেষের দিকে একটি পৃথক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেছেন, ‘আসলে শিল্প নেতারা ট্রাম্পের এজেন্ডার প্রতি সাড়া দিয়েছেন, এর মধ্যে রয়েছে শুল্কসহ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি।’

গত সপ্তাহে প্রধান মার্কিন বাজারগুলো আগের স্তরে ফিরে এসেছিল। অর্থাৎ গত নভেম্বরে ট্রাম্পের নির্বাচনী জয়ের আগে দেখা স্তরে ফিরে আসে। প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগকারীরা কর হ্রাসের আশা করেছিল এবং বাজারে নিয়ন্ত্রন শিথিলের আশা করেছিল।

অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ এল-এরিয়ান বলেন, ‘প্রথম দিকে বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের কর ছাড় ও নিয়ন্ত্রণ শিথিলের পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। তবে এখন তারা বাণিজ্য যুদ্ধের ঝুঁকি উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন।’ তবে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হাসেট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে এবং ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ইতোমধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।

বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, অন্য দেশের পণ্যে ওপর ট্রাম্প শুল্ক বসানোর ফলে পণ্যের দাম বৃদ্ধির পাবে এবং বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে। কিলিক অ্যান্ড কোং-এর বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক র‍্যাচেল উইন্টার টুডে প্রোগ্রামকে বলেন, ‘আমার মনে হয় ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করছেন, নিঃসন্দেহে তা ভবিষ্যতে কোথাও না কোথাও মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করবে।’

চীন, মেক্সিকো এবং কানাডাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক এবং অভিবাসীদের প্রবাহ বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ এনে ট্রাম্প এই পদক্ষেপগুলো নিয়েছে। তাবে তিনটি দেশ ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র: বিবিসি