মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ কানাডার

কানাডা প্রায় ৩০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের আমেরিকান আমদানির ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে মার্কিন শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর কানাডা এই ঘোষণা দেয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

কানাডিয়ান সরকার জানিয়েছে যে তারা ‘ডলার-বাই-ডলার’ পদ্ধতি অনুসরণ করবে এবং আমেরিকান আমদানির ওপর ২৫% শুল্ক আরোপ করবে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয, স্থানীয় সময় বুধবার সকালে কানাডা একগুচ্ছ প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে, যা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে।

কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কোটি কোটি ডলার মূল্যের কম্পিউটার, ক্রীড়া সরঞ্জাম এবং ঢালাই লোহার পণ্যকেও শুল্কের লক্ষ্যবস্তু করতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কানাডার জ্বালানিমন্ত্রী জোনাথন উইলকিনসন জানিয়েছেন, কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেল রপ্তানি সীমিত করার মতো অশুল্ক ব্যবস্থা আরোপ করতে পারে। এ ছাড়া খনিজ পদার্থের ওপর রপ্তানি শুল্ক আরোপ করতে পারে।

অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় টাইব্রেকারে জিতে শেষ আটে রিয়াল

বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে ২-১—এ পিছিয়ে থাকা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে ২৭ সেকেন্ডেই গোল করে দুই লেগ মিলিয়ে সমতায় ফেরে। সেই সমতা বজায় থাকল ৯০ মিনিট পেরিয়ে অতিরিক্ত আরো ৩০ মিনিট পর্যন্ত। মাঝে রিয়ালকে হতাশায় ডুবায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পেনাল্টি মিস। তবে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জিতে শেষ আট নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

ওয়ান্দা মেত্রোপলিটানোয় বুধবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে নির্ধারিত সময়ের খেলায় রিয়ালকে অ্যাতলেতিকো ১-০ গোলে হারালেও দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ গোলে ম্যাচ সমতায় ছিল। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। তাতে ৪-২ গোলে জিতেছে রিয়াল।

প্রথম লেগে ১ গোলে পিছিয়ে থাকা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ ২৭ সেকেন্ডে গোল করে সমতায় ফেরে।
দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোল করেন কনর গ্যালাগার। গোল হজম করে রিয়াল রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়ে অ্যাতলেতিকোর ওপর। অ্যাতলেতিকোও অবশ্য ছেড়ে কথা বলেনি। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে উঠে দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই।
২৫ মিনিটে দুর্দান্ত কিপিংয়ে রিয়ালকে বাঁচান থিবো কোর্তোয়া। ৩৫ মিনিটে আরও একবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল অ্যাতলেতিকো। তবে এবারও অল্পের জন্য হতাশ হতে হয় স্বাগতিকদের। একটু পর ফের আলভারেজকে হতাশ করেন কোর্তোয়া।

প্রথমার্ধে গোলে মাত্র তিনটি শট নিতে পারা রিয়াল বিরতির পরও নিজেদের খুঁজে ফেরে।
৬৮ মিনিটে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রতি-আক্রমণ থেকে আতলেতিকোর দুই ডিফেন্ডারকে নাকাল করে অ্যাতলেতিকোর বক্সে ঢুকে পড়লে তাকে ফাউল করে বসে লেংলে। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পেনাল্টিটা মিসই করে বসেন ভিনিসিয়ুস। শট উড়ে গিয়ে পড়ল গ্যালারিতে। রিয়াল সুযোগ মিস করায় সমতাতেই এগিয়ে চলে ম্যাচ। দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু নির্ধারিত সময়রে পর অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল আর গোল পায়নি। যে কারণে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, ফেদেরিকো ভালভের্দে এবং আন্তোনিও রুদিগার লক্ষ্যভেদ করলেও মিস করেছেন লুকাস ভাসকেজ। অন্য দিকে আতলেতিকোর হয়ে আলেক্সান্দার সোরলথ, আনহেল কোরয়ো গোল করলেও মিস করেছেন আলভারজে ও মার্কোস লরেন্তে। পেনাল্টি শ্যুট আউটে অ্যাতলেতিকোর আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড আলভারেজের শট বাতিল হয় ডাবল টাচের কারণে। ভিএআরের সাহায্যে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ, স্লিপ করে পড়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে শট ঠিকই নিতে পারেন তিনি, কিন্তু বলে স্পর্শ লেগে যায় তার দুই পা! তাতেই বিপত্তি এবং গোল বাতিল।

অন্য ম্যাচে, লিলের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে (দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে) শেষ আটে পৌছেছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। পিএসভির মাঠে প্রথম লেগ ৭-১ গোলে জেতা আর্সেনাল ২-২ গোলে ড্র করে কোয়ার্টারে এবং ক্লাব ব্রুজকে ৩-০ গোলে (দুই লেগ মিলিয়ে ৬-১ গোলে) জিতে শেষ আটে গেছে অ্যাস্টন ভিলা।

১১ মাসের মাথায় পর্তুগালে সরকার পতন

পর্তুগালের জাতীয় সংসদে সরকারের আনা আস্থা ভোটে হেরে যাওয়ায় ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো সরকারের পতন হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১১ মার্চ) পর্তুগালের পার্লামেন্টে দিনভর নানা নাটকীয়তার পর অধিকাংশ দল সরকারের আনা আস্থা ভোটের বিপক্ষে ভোট দেয়।

এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পার্লামেন্টে নির্বাচন বা জাতীয় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দেবেন প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার পুরো পর্তুগালবাসীর চোখ ছিল দেশটির পার্লামেন্ট অধিবেশনের দিকে।
প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনেগ্রোর ডাকা আস্থা প্রস্তাবে সাড়া, নাকি বিপক্ষে ভোট দেবে রাজনৈতিক দলগুলো, সেটাই ছিল দেখার বিষয়।

শেষমেশ সরকারের আনা আস্থার বিপক্ষেই ভোট দেয় বিরোধীসহ বেশির ভাগ দল। পার্লামেন্টে ২৩০টি আসনের মধ্যে ১৪২ জন সদস্যই ভোট দেন আস্থা ভোটের বিপক্ষে। আর এতেই পতন নিশ্চিত হয় ১১ মাস আগে ক্ষমতা নেওয়া সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট বা এডি সরকারের।

সংসদের বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে যে, প্রধানমন্ত্রী তার ওপর আসা অভিযোগগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেননি; বরং তিনি কৌশল অবলম্বন করছেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ওপর দুটি দলের ডাকা অনাস্থা প্রস্তাবে প্রধান বিরোধী দল সরকারকে সমর্থন করলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে যথাযথ ব্যাখ্যা না পাওয়ার অভিযোগে সরকারের ডাকা আস্থা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট প্রদান করে বিরোধী দলসহ বেশ কয়েকটি দল।

আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নতুন সরকার গঠন করতে পারেন অথবা নতুন নির্বাচনের ডাক দিতে পারেন। আর তাই সরকার পতনের পরই বুধবার (১২ মার্চ) রাজনৈতিক দলগুলোকে ডাকেন প্রেসিডেন্ট মার্সেলো।
ঐকমত্যে পৌঁছানো গেলে এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হলে মে মাসে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন তিনি। নতুন সরকার আসার আগ পর্যন্ত এডি সরকার সীমিত পরিসরে তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকা পালন করবে।

উল্লেখ্য, পর্তুগালে গত ৪ বছরে কোনো সরকারই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি! ২০২২ সালে সোশ্যালিস্ট পার্টি (পিএস) নির্বাচনে জিতে আন্তোনিও কস্তা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। তবে পরবর্তী সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যা তার সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হলে আন্তোনিও কস্তা ২০২৩ সালের নভেম্বরে পদত্যাগ করেন।
তার সরকার পতনের পর নতুন নির্বাচন ঘোষণা করা হয়।

২০২৪ সালের মার্চে মধ্য-ডানপন্থী ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এডি) সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে। তবে তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, ফলে চরম ডানপন্থী দল চেগার (সিএইচইজিএ) সমর্থন নিতে হয়। এতে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। এবং সেই সময়েই রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সবচেয়ে দুর্বল সরকার গঠন হতে যাচ্ছে।

২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো আস্থা ভোটে হেরে যাওয়ায় আরেকটি আগাম নির্বাচন হতে যাচ্ছে। যার ফলে চার বছরে তিনবার সরকার পরিবর্তন দেখল পর্তুগাল।

মাগুরার শিশুটির অবস্থার আরো অবনতি, দুইবার ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’

মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার আট বছরের শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। আজ বুধবার দুইবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসায় যুক্ত এক চিকিৎসক এ তথ্য জানিয়েছেন। বর্তমানে শিশুটি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শিশু বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।

সিএমএইচের চিকিৎসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিশুটির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। শিশুটির চিকিৎসায় সিএমএইচের প্রধান সার্জনকে প্রধান করে আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

ওই শিশুর চিকিৎসায় সিএমএইচের চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের এক সদস্য বলেন, তার অবস্থা আরো জটিল হয়েছে। আজ সকাল আটটার দিকে প্রথমবার তার হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়।
চিকিৎসায় তার হৃৎস্পন্দন ফিরে আসে। পরে দ্বিতীয়বার তার হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। সেবারও চিকিৎসায় তা ফিরে আসে। তার মস্তিষ্ক প্রতিক্রিয়াহীন অবস্থায় আছে।
তার গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) ৩। মস্তিষ্কের আঘাতের কারণে কোনো ব্যক্তির চেতনার মাত্রা হলো জিসিএস। মানুষের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ১৫। জিসিএস ৩ অবস্থাকে মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়াহীন অবস্থা বলে বিবেচনা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার সময় শিশুটিকে যখন ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়, তখন তার মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়।
পরদিন বেলা ১১টায় হাসপাতালে নেওয়ার আগপর্যন্ত এই অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হয়েছিল। এ কারণে দীর্ঘ সময় অক্সিজেন না পেয়ে মস্তিষ্কের বড় ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে অক্সিজেন দিলে মস্তিষ্কের এত ক্ষতি হতো না।

গত ৫ মার্চ দিবাগত রাতে ধর্ষণের শিকার হয় ওই শিশুটি। এ ঘটনায় তার মা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর শিশুর বোনের শ্বশুরকে সাত দিন, স্বামী, শাশুড়ি ও ভাসুর প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন মাগুরার আদালত।

ঘটনার পর দিন ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান তার বোনের শাশুড়ি। পরে শিশুটির মা হাসপাতালে যান। ওই দিন দুপুরেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার রাতেই পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এরপর শুক্রবার রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সংকটাপন্ন শিশুটিকে গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিআইসিইউ থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এখন আরো বেশি আবেদনময়ী, দুনিয়া কাঁপাতে পারি: কারিনা

প্রেমের সম্পর্কে বিচ্ছেদের প্রায় ১৮ বছর পর এক মঞ্চে একসঙ্গে দেখা গেছে শাহিদ কাপুর ও কারিনা কাপুরকে। একে অপরের সঙ্গে কথা বলেছেন, হাসাহাসি করেছেন। এমনকি জড়িয়েও ধরেছেন। হিসাব বলছে তখন কারিনার বয়স ২৭ বছর।
এর পর ২০১২ সালে তিনি বিয়ে করেন সাইফ আলি খানকে। এবার কারিনা বললেন, ‘২০ দশকে আমি যেমন ছিলাম, এখন তার চেয়ে বেশি সুখী।’

সম্প্রতি হলিউড অভিনেত্রী জিলিয়ন অ্যান্ডারসনের সঙ্গে এক একান্ত কথোপকথনে পাওয়া যায় কারিনাকে। সেখানেই কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে তারকাদের ‘কসমেটিক সার্জারি’-র প্রসঙ্গ।

জিলিয়ন দাবি করেন, চলচ্চিত্র জগৎ তাদের বাধ্য করছে এ ধরনের কৃত্রিম পদ্ধতি অবলম্বন করতে। তিনি বলেন, ‘এমন বহু অভিনেতাকেই দেখা যাবে যারা কোনও নির্দিষ্ট বয়সে নিজেদের চেহারাকে বেঁধে ফেলতে চেয়েছেন। তার জন্য আবার নানা রকম কথাও শুনতে হয়েছে।’

এ বিষয়েই কারিনা কাপুর বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।
আমি তো ওই বলিরেখাগুলি দেখতেই ভালবাসি। আমার মনে হয় এতে আমাকে দেখতে আরও আবেদনময়ী লাগে। আমি তো এই মধ্য চল্লিশে এসে আরও বেশি সুখী মনে করি নিজেকে, অন্তত ২০-৩০ বছরে যেমন ছিলাম, তার চেয়ে। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে মেনে নিতে চাই। এখনো অতটা বয়স হয়ে যায়নি, আর আমি এখনও দুনিয়া কাঁপাতে পারি।
’

কারিনা কাপুরকে সর্বশেষ দেখা গেছে, ‘বাকিংহাম মার্ডারস’ এবং ‘সিংহাম এগেইন’ ছবিতে। এর পর তাকে দেখা যাবে মেঘনা গুলজারের ছবিতে। সে ছবির নাম এখনও স্থির হয়নি।

আপাতত কানাডার স্টিল, অ্যালুমিনিয়ামের ওপর দ্বিগুণ কর নয় : ট্রাম্প

কানাডা থেকে আসা অ্যালুমিনিয়াম এবং স্টিলের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর কানাডার অন্টারিওর প্রধান যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো বিদ্যুতের ওপর শুল্কের পরিকল্পনা বাতিল করে। গতকাল মঙ্গলবার অ্যালুমিনিয়াম এবং স্টিলের ওপর কর দ্বিগুণ করার প্রস্তাব আপাতত স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো এই পরিপ্রেক্ষিতে জানান, কানাডার ওপর দ্বিগুণ শুল্কের হুমকি থেকে আপাতত সরে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তবে বুধবার থেকেই অ্যালুমিনিয়াম এবং স্টিল আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ নতুন শুল্ক ধার্য হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আপাতত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেনি।

ট্রাম্পের কর দ্বিগুণের ঘোষণা

এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, কানাডা থেকে আনা অ্যালুমিনিয়াম এবং স্টিলের ওপর তিনি দ্বিগুণ শুল্ক ধার্য করবেন। সে ক্ষত্রে ৫০ শতাংশ কর দিতে হতো।

এর অনেক আগেই ট্রাম্পের কানাডার ওপর কর আরোপ করার ঘোষণার পর সোমবার ওটাওয়ার প্রধান ডগ ফোর্ড প্রস্তাব করেন সে ক্ষেত্রে তারাও আমেরিকাকে বিদ্যুৎ রপ্তানির ওপর শুল্প বসাবে। ট্রাম্প এর পরেই কর দ্বিগুণ করার হুমকি দিয়েছিলেন।

তার ট্রুথ সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, বাণিজ্য সচিবকে তিনি জানিয়েছেন যেন কানাডা থেকে আসা অ্যালুমিনিয়াম এবং স্টিলের দ্রব্যের ওপর আরো ২৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়। বুধবার থেকেই তা লাগু হওয়ার কথা ছিল।
তার এই ঘোষণার পরেই স্টক মার্কেটে ধস নামে।

কানাডা যদি কর না কমায় তাহলে আমদানি করা গাড়ির উপরে কর বসানো হবে বলে হুমকি দেন ট্রাম্প।
কানাডার আগামী প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের এই ঘোষণা প্রসঙ্গে বলেন, এটা কানাডার ‘প্রতিটি শ্রমিক, পরিবার এবং ব্যবসার উপর আঘাত।’

এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘সরকার নিশ্চিত করতে চায় আমাদের প্রতিক্রিয়ায় যেন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সর্বাধিক এবং কানাডার ওপর সবচেয়ে কম প্রভাব পরে।’

তিনি আরো বলেন, তাদের নির্ধারিত কর তত দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে, যত দিন না পর্যন্ত আমেরিকা কানাডার প্রতি সম্মান দেখাবে এবং মুক্ত বাণিজ্যের নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে।

শুল্ক টানাপড়েন

ফেব্রুয়ারির গোড়ার দিকে কানাডার দ্রব্য সামগ্রীর ওপর ২৫ শতাংশ কর বসানোর কথা ঘোষণা করে হোয়াইট হাউস। তাদের তরফ থেকে বলা হয় মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বিষয়ে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়নি কানাডা। মার্চ থেকে নতুন শুল্ক চালু হওয়ার কথা থাকলেও কানাডা তাদের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা পাঠাতে সম্মত হয়।

এই শুল্ক পরিস্থিতি আরো জটিল হয় যখন সোমবার অন্টারিওর প্রধান ঘোষণা করেন, যুক্ররাষ্ট্রের উপভোক্তাদের জন্যও তিনি ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর বসাবেন। কানাডা-আমেরিকার সীমান্ত প্রদেশ অন্টারিও থেকে নিউ ইয়র্ক, মিশিগান এবং মিনেসোটায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। তিনি অন্যান্য প্রদেশকেও আমেরিকার ওপর শুল্ক বাড়াতে বলেন।

ট্রাম্প মঙ্গলবার শুল্ক দ্বিগুণ করার কথা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি আরো বলেন কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম ষ্টেট হতে পারে এবং এর ফলে কোনো শুল্ক সমস্যাও থাকবে না।

এর পর তিনি আরো বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্ত একটি বহু বছর আগে কৃত্রিমভাবে টানা একটি দেখা। তার এই অসত্য বক্তব্য অবশ্য নতুন নয়। কানাডা এবং মেক্সিকো ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনার মোকাবেলা করার কথা ঘোষণা করেছে।

শাহবাগীদের সমর্থনে ক্ষমতায় ছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা : হাসনাত আবদুল্লাহ

শাহবাগ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে গুম, খুন, আয়নাঘর, বিচারিক হত্যাকাণ্ডসহ যাবতীয় অপকর্মের বৈধতা দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, শাহবাগ কায়েমে যারা সচেষ্ট ছিল, তাদেরই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় বিগত পনেরো বছরে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদেরই সমর্থনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ক্ষমতার মসনদে ছিল। আজ বুধবার ভোররাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, শাহবাগ একদিনে গড়ে উঠেনি। এককভাবে কেউ শাহবাগ গড়ে তোলেনি। শাহবাগ কায়েম করতে সমর্থন দিয়েছিল তথাকথিত সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, আমলা, সাংস্কৃতিক কর্মী, বিদেশী এজেন্ট, রাজনীতিবিদ এবং ক্রীড়াবিদরাও।

তিনি লিখেছেন, শাহবাগ এদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা থেকে শুরু করে সব ধরনের মৌলিক মানবাধিকার কেড়ে নিয়েছিল।
মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছিল শাহবাগ।

তিনি আরো লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা বিগত পনেরো বছরে সংঘটিত সকল অন্যায়, অপকর্ম, গুম, খুন ও নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা আশা রাখি, সকলের প্রচেষ্টায় তা সম্ভব। ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এ জমিনে ইনসাফ কায়েম হবে।
জুলাইয়ের শহীদদের স্পিরিট রক্ষায় আমরা সদা জাগ্রত।

হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, বিগত শাসনামলে হওয়া সকল অন্যায় ও নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

হারের ম্যাচটি লিভারপুল কোচের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দর ম্যাচ’

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে লিভারপুল। তবে পিএসজির বিপক্ষে হারের এই ম্যাচকে ‘সবচেয়ে সুন্দর ম্যাচ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লট। এটিকে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ বলছেন তিনি।

গত সপ্তাহে প্যারিসে ১-০ ব্যবধানে হারের পর অ্যানফিল্ডে উসমান দেম্বেলের গোলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতায় ফেরে পিএসজি।
গোল স্রেফ একটি হলেও ফুটবলের মান, আক্রমণ ও প্রতিআক্রমণ, সবকিছুতে এই ম্যাচ ছিল দারুণ দর্শনীয়। ম্যাচ শেষে লিভারপুল কোচও তুলে ধরলেন সেই দিকটিই।

অ্যামাজন প্রাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্লট বলেন, ‘এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল ম্যাচ। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স ছিল, বিশেষ করে গত সপ্তাহের ম্যাচের তুলনায়।
আমরা নিখুঁত খেলা খেলেছিলাম, তবে গোল করতে পারিনি। গত সপ্তাহে পিএসজিও এমনই খেলেছিল, কিন্তু তারা গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে তারা হয়তো আমাদের চেয়ে কিছুটা ভালো খেলেছে। হয়তো আমাদের ভাগ্য সহায় ছিল না, কারণ ব্যবধান খুবই কম ছিল।
’

পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে বলেছেন, ‘দুই দলই পরবর্তী পর্বে যাওয়ার যোগ্য ছিল। এখানে লিভারপুল আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে, কিন্তু আমি মনে করি আমার দল আনফিল্ডে অসাধারণ ছিল।’

লিভারপুল অধিনায়ক ভারজিল ভ্যান ডাইক বলেন, ‘আমরা ভালো খেলেছি এবং যতদূর সম্ভব যেতে চেয়েছিলাম, তবে জানতাম প্যারিসের বিরুদ্ধে খেলা খুবই কঠিন হবে। প্যারিসে আমাদের সময়টা কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা জিতেছিলাম। আজ লিভারপুল দুর্দান্ত ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছি।

এই হারে ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলো লিভারপুলের। তবে এখনও ঘরোয়া ডাবল জয়ের সুযোগ রয়েছে তাদের। ১৫ পয়েন্টের লিড নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পথে এবং রবিবার নিউক্যাসলের বিরুদ্ধে কারাবাও কাপ ফাইনাল খেলবে অল রেডরা।

এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অ্যাপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ বুধবার এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বাংলাদেশের উদ্যোক্তা জগতে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি একজন দেশপ্রেমিক ব্যবসায়ী ছিলেন। দেশের চামড়াশিল্পকে এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তাঁর একান্ত পরিশ্রমে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে।’

১৯৯৬ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী যোগাযোগ, নৌপরিবহন, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে কৃষি, নৌপরিবহন, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

দায়িত্ব পালনকালে তাঁর দক্ষতার প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘সংগঠক হিসেবেও তাঁর অসামান্য কৃতিত্ব রয়েছে।
তিনি মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ঢাকার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন তিনি।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের উদ্যোক্তা জগতে সবার শ্রদ্ধাভাজন, দেশপ্রেমিক শিল্পপতি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক জানাই। আমি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।’

সিরিয়ার সাম্প্রতিক সহিংসতায় পুরো পরিবারও নিহত হয়েছে : জাতিসংঘ

সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নারী, শিশুসহ পুরো পরিবার নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে এই তথ্য। একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জাতিসংঘ গত বৃহস্পতিবার থেকে এখন পর্যন্ত ১১১ জন বেসামরিক নাগরিকের হত্যার বিষয়টি যাচাই করেছে, তবে প্রকৃত সংখ্যাটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মনে হচ্ছে এটি সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে, বিশেষ করে আলাউইত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে।
সুন্নি ইসলামপন্থী সরকারকে সমর্থনকারী বন্দুকধারীদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগতদের একটি নিরাপত্তা টহল দলের ওপর মারাত্মক অতর্কিত হামলার পর প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

একটি পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠী জানিয়েছে, লাতাকিয়া, তাতুস, হামা এবং হোমস প্রদেশে এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই আলাউই। এদিকে জাতিসংঘ সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং দায়ীদের জবাবদিহি করার প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে।

গত ৮ ডিসেম্বর আসাদের পতনের পর এটি সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা।
আসাদ সরকার পতনের মধ্য দিয়ে ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে, যেখানে ছয় লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল হলো আলাউইত সম্প্রদায়ের প্রাণকেন্দ্র, যা শিয়া ইসলামের একটি শাখা। এই শাখার সঙ্গে সাবেক আসাদ সরকারের রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজাতদের অনেকেই জড়িত ছিল। গত সপ্তাহে আসাদের অনুগতদের ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহের প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী এই অঞ্চলে একটি অভিযান শুরু করে।
গত বৃহস্পতিবার উপকূলীয় শহর জাবলেহে বন্দুকধারীদের অতর্কিত আক্রমণে ১৩ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার পর সহিংসতা আরো তীব্র হয়।

সিরিয়ার নতুন সরকারের বক্তব্য হলো, সাবেক সরকারের প্রতি অনুগত কিছু বিদ্রোহী এখনো রয়ে গেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ পালিয়ে যাওয়ার পর দেশটির শীর্ষ নেতা হন বিদ্রোহী দলগুলোর নেতৃত্ব দেওয়া হায়াত তাহরির আল শামের (এইচটিএস) প্রধান আহমেদ আল-শারা। সে সময় সিরিয়ার নিরাপত্তা রক্ষা বাহিনীর অনেকে বিদ্রোহী সেনাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলেও আসাদ সমর্থক সেনাদের কিছু দল আত্মসমর্পণ করেনি। তাদের শুরু করা বিদ্রোহ দমন করতে অস্ত্রধারীরা সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সিরিয়ার নতুন সরকারের অনুগত সশস্ত্র ব্যক্তিরাই আলাউইত সম্প্রদায়ের সদস্যদের মাঠে-ময়দানে হত্যা করেছে।

সহিংসতা বাড়লে নিরাপত্তা বাহিনী এই অঞ্চলে আরো সেনা পাঠায়, যাদের সঙ্গে বর্তমান সরকারকে সমর্থনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ব্যক্তিরাও যোগ দেয়। তারা ওই অঞ্চলজুড়ে আলাউইতের অনেক শহর ও গ্রামে হামলা চালায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে, তারা প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে এবং বাড়িঘর ও দোকানপাট লুট করেছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান বলেন, ‘সহিংসতার ভয়াবহ মাত্রা সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, জাতিসংঘ কঠোর যাচাই পদ্ধতি ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত ৯০ জন বেসামরিক পুরুষ, ১৮ জন নারী, দুই মেয়ে এবং একজন ছেলেকে হত্যার বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, অপরাধীরা নিরাপত্তা বাহিনী এবং আসাদ সরকারের সমর্থনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিল। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক বেশ কয়েকটি ঘটনায় নারী, শিশু এবং যুদ্ধে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদেরসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে, বিশেষ করে আলাউই শহর এবং গ্রামগুলোকে লক্ষ্য করে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস কর্তৃক সংগৃহীত অনেক সাক্ষ্য অনুসারে, অপরাধীরা বাড়িঘরে অভিযান চালিয়ে বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসা করে যে, তারা আলাউই নাকি সুন্নি, তারপর তাদের হত্যা করা হয় বা ছেড়ে দেওয়া হয়। বেঁচে যাওয়া কিছু ব্যক্তি আমাদের জানিয়েছেন, অনেক পুরুষকে তাদের পরিবারের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’

খিতানের মতে, আসাদের অনুগতরা লাতাকিয়া, তারতুস এবং বানিয়াসের বেশ কয়েকটি হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে। যার ফলে রোগী এবং চিকিৎসকসহ কয়েক ডজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া হাসপাতালগুলোরও ক্ষতি হয়েছে।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, মঙ্গলবার আরো ১৩২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাদের বেসামরিক লোকের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বানিয়াস শহরে ৬২ জন নিহত হয়েছে। তাদের সূত্র অনুসারে, প্রায় ২৩০ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং ২৫০ জন আসাদপন্থী যোদ্ধাও নিহত হয়েছেন।

খেতান বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান সিরিয়ার কর্তৃপক্ষকে দ্রুত, পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম এবং মানদণ্ড অনুসারে, আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ি সকলকে তাদের সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে জবাবদিহি করতে হবে। ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের সত্য, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণের অধিকার রয়েছে।’

সরকার কর্তৃক গঠিত নতুন তদন্ত কমিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে প্রমাণ সংগ্রহ এবং পর্যালোচনা করছে এবং ৩০ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

ইয়াসের ফারহান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কমিটি সকল ফলাফল প্রতিষ্ঠাকারী সংস্থা, রাষ্ট্রপতি এবং বিচার বিভাগকে জানাবে।’

রাষ্ট্র পরিচালিত সানা সংবাদ সংস্থা আরো জানিয়েছে, ভিডিওতে শনাক্ত হওয়ার পর উপকূলীয় গ্রামে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সহিংসতা চালানোর অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পরিস্থিতি শান্ত ছিল, রাতভর কেবল বিক্ষিপ্ত গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে।

তিন দিন আগে বানিয়াস শহর থেকে পালিয়ে আসা এক ব্যক্তি বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী হত্যাকাণ্ড এবং লুটপাট রোধ করার জন্য আশেপাশে চেকপয়েন্ট স্থাপন করায় তিনি তার বাড়িতে ফিরে এসে খোঁজখবর নিতে সক্ষম হয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি আরো বলেন, গত সপ্তাহে বানিয়াসের রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো আর নেই। সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্ট, নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে শহরের কবরস্থানে গণকবরে দাফন করছে বলে জানা গেছে।

তবে বেশিরভাগ পরিবার এখনও বাড়ি ফিরে আসেনি। যা ঘটেছে তাতে তারা মর্মাহত এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। অনেকে লাতাকিয়া শহরের বাইরে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত হামিমিম বিমান ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছে, স্থানীয় স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে অথবা গ্রামাঞ্চলে পালিয়ে গেছে। অন্যরা পার্শ্ববর্তী লেবাননে পাড়ি জমায়। সেখানে একজন নারী বিবিসিকে জানিয়েছেন, সশস্ত্র লোকেরা দুই মাস আগে হামায় তার বাড়িতে আক্রমণ চালিয়ে তার পরিবারের পুরুষদের হত্যা করেছে।

হিন্দ বলেন, ‘আমার ভাগ্নেদের বয়স ছিল ১১ এবং ১২ বছর। সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের ঘিরে ধরে অন্য সকল তরুণ আলাউই পুরুষদের লাইনে দাঁড় করিয়েছিল। তাদের একজন তার বন্ধুকে আমাদের ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। সে বলেছিল, তারা আলাউই। এরপর বন্দুক তাক করে সকল পুরুষদের হত্যা করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা আমাদের দোষী মনে করে কারণ আমাদের প্রেসিডেন্ট আলাউই ছিলেন। কিন্তু সত্য হলো, আমরা সবচেয়ে দরিদ্র। আমাদের যুবকদের কেবল যুদ্ধে নিয়ে যাওয়া এবং হত্যা করার জন্য সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল।’

উইসাম নামে এক যুবক বলেন, ‘সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে তিনি আর বিশ্বাস করেন না। তারা সবাই একই রকম। সশস্ত্র এবং মুখ ঢাকা। তাদের এমন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে যা অন্য কারও নেই। তারা যা ইচ্ছা তাই করে।’

সূত্র: বিবিসি