মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬

টেসলা গাড়ি কিনলেও রাস্তায় চালাতে পারবেন না ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলন মাস্কের মালিকানাধীন টেসলার একটি লাল গাড়ি কিনেছেন। তবে কেনার সময়ই তিনি বলেছেন, তিনি এই গাড়ি চালাবেন না। কারণ রাস্তায় গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই তার। খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের।

গত মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি আমার বন্ধু ইলন মাস্কের কাছ থেকে একটি টেসলা কিনেছি, কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, আমার গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের রাস্তায় গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই। নিরাপত্তার কারণে এই নিয়ম করা হয়েছে। রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সুরক্ষার জন্য এই নিয়ম জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তাদের পরিবারের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

টেসলার সিইও ইলন মাস্ক সম্প্রতি রাজনৈতিকভাবে সমালোচনা এবং আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি তার কোম্পানির কাছ থেকে একটি টেসলা গাড়ি কিনবেন। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট তার সবচেয়ে শক্তিশালী উপদেষ্টাকে সমর্থনের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

মাস্ক গত বছর ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন এবং ট্রাম্পের এই মেয়াদের প্রশাসনে তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ফেডারেল সরকারের ব্যয় সংকোচনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার বলেন, ইলন মাস্কের প্রতি আস্থা ও সমর্থন প্রদর্শন হিসেবে তিনি একটি নতুন টেসলা কিনতে যাচ্ছেন। শেয়ার বাজারে টেসলার স্টক মূল্যের পতন হওয়াতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কোম্পানিটি।

২০২৩ সালের কনজিউমার অ্যাফেয়ার্সের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে প্রায় দুই কোটি ৪৩ লাখ মানুষের।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা অন্যান্য সাবেক প্রেসিডেন্টদের এক সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তাদের আর গাড়ি চালানোর অনুমতি থাকে না।

সিক্রেট সার্ভিসের উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এজেন্টরা গাড়ি চালান আর প্রেসিডেন্ট বা সাবেক প্রেসিডেন্ট সেই গাড়িতে চলাফেরা করেন। যদিও এই বিষয়ে কোনো আইন নেই, তাদের নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা। খুব যদি ইচ্ছে করে চালাতে তাহলে বাড়ির কম্পাউন্ডের ভেতরে চালাতে পারবেন, যেমন চালিয়েছেন, অবসর নেওয়ার পর রোনাল্ড রিগ্যান বা জর্জ ডব্লিউ বুশ তাদের র‌্যাঞ্চে।

দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পাবেন প্রাথমিকের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা পাবেন। সেই সঙ্গে এসব শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে হবে বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে শিক্ষকদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন।

এর আগে হাইকোর্ট ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেড করাসহ গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ক্ষেত্রেই প্রবেশ পদে বেতন স্কেল দশম গ্রেড করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে গেজেটেড পদমর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে প্রধান‌ শিক্ষকদের ১০ গ্রেডে উন্নীতের পথে বাধা সৃষ্টি হয়।

এরপর বারবার চেষ্টা করেও আওয়ামী শাসন‌ আমলে মামলাটির শুনানি করতে ব্যর্থ হন আইনজীবী। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ। এদিকে, এই রায়ে সন্তুোষ প্রকাশ করেছেন রিটকারী প্রধান শিক্ষকেরা।

সাংবাদিকের বেতন ৩০ হাজার টাকার নিচে হলে পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হবে : প্রেসসচিব

সাংবাদিকের বেতন ৩০ হাজার টাকার নিচে হলে পত্রিকা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বুধবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক আলোচনাসভায় প্রেস সচিব এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশের সাংবাদিকদের একটা মিনিমাম বেসিক থাকতে হবে। সেটা ৩০ হাজার বা ৪০ হাজার টাকা হোক।
এর নিচে যারা দেবে, সেই পত্রিকা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘সাংবাদিকতা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটা রক্তচোষার মতো হয়ে গেছে। একজন সাংবাদিককে পাঁচ হাজার, ১০ হাজার টাকা বেতন দেন মালিকরা। আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা সাংবাদিক ভালো বেতন পাক।
এ ক্ষেত্রে মিনিমাম একটা ফ্লোর থাকতে হবে। যাঁরা এ বেতন দিতে পারবেন না, তাঁদের সেই ওয়েবসাইটের দরকার নেই। ঢাকাচুরি.কম চালাবেন, দরকার নেই।’

পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এত শিক্ষিত না হলেও ইউনিয়নের ক্ষেত্রে আপনার আমার থেকে ১০০ গুণ এগিয়ে আছে।
তাঁরা মিনিমাম ওয়েজের জন্য লড়াই করে সাড়ে ১২ হাজার টাকা আদায় করেছেন এবং কয়েক দিন আগে আরো ৯ শতাংশ বাড়িয়েছেন। আমি মনে করি, সাংবাদিকদের ইউনিয়ন বা সংগঠনগুলো এখানে ফেল করছে। তাঁদের আওয়াজ তুলতে হবে। এ জন্য সত্যিকার অর্থে মুভমেন্ট করা উচিত।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
কিছু লোক আসছেন, বলেন আমি এটার সম্পাদক। আবার কিছু লোক দু-একটা ভালো রিপোর্ট করে বাকিগুলো চুরি করে। এই সাংবাদিকতার প্রয়োজন নেই। যাঁরা সারা দিন খেটে সাংবাদিকতা করেন, তাঁদের মূল্যায়ন করতে হবে। এ জন্য তাঁদের একটা বেসিক বেতন ধরা উচিত।’

সিবিএফ প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন রোনালদো

গত ডিসেম্বরে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন দেশটির কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও। উদ্দেশ্য হিসেবে বলেছিলেন ‘ব্রাজিলের ফুটবলের সম্মান এবং মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা’। কিন্তু গতকাল বুধবার ঘোষণা করেছেন সিবিএফ-এর প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার দৌড় থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।

ব্রাজিলের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ ও দুবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই কিংবদন্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘সিবিএফের আগামী নির্বাচনে আমি সভাপতি পদপ্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম।
কিন্তু এখন আমি আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাহার করছি।’

সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, তিনি প্রার্থী হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, বিশেষ করে আঞ্চলিক ফেডারেশনগুলির কাছ থেকে। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট এদনালদো রদ্রিগেজের বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে পারবেন না, যার সমর্থন প্রায় সব নির্বাচনী প্রতিনিধির কাছে রয়েছে।

রোনালদো তার সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রথমবার যোগাযোগের পর ২৭টি আঞ্চলিক ফেডারেশনের মধ্যে ২৩টিই আমার প্রস্তাব শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা মনে করেন যে ব্রাজিলের ফুটবল ভালো মানুয়ের হাতে রয়েছে, তাহলে আমার চিন্তা কিছুই নেই।’

ফেডারেশনগুলো জানিয়েছে, তারা আগামী নির্বাচনে বর্তমান সভাপতি এদনালদো রদ্রিগেজকে সমর্থন দেবে। কারণ তারা বর্তমান প্রশাসন নিয়ে সন্তুষ্ট।

সিবিএফের বর্তমান সভাপতি এদনালদো রদ্রিগেজের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের মার্চে।
রোনালদো সরে দাঁড়ানোয় আগামী বছরের নির্বাচনে একমাত্র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এখন এদনালদোর।

আমির-রণবীরের লড়াইয়ে সঙ্গী রোহিত-পান্থরা

এক দিন আগেই আলিয়া ভাট জানিয়েছিলেন, তার স্বামী ও অভিনেতা রণবীর কাপুর ও আমির খানের মাঝে এক যুদ্ধ হতে যাচ্ছে। দুজন একসঙ্গে আসছেন পর্দায়। তখনই জানা যায়, খান-কাপুর মিলে একটি বিজ্ঞাপনে জুটি বাঁধছেন। তবে ভক্তদের জন্য চমক বাকিই ছিল বলা যায়।
গতকাল সেই বিজ্ঞাপন প্রকাশ্যে আসতেই চোখ ছানাবড়া সবার। শুধু আমির-রণবীরই নন, বিজ্ঞাপনে হাজির গোটা ভারতীয় ক্রিকেট টিম!

১২ মার্চ প্রকাশ্যে আসে বিজ্ঞাপনটি। আর প্রকাশ হওয়ার পরই ঝড় তুলে ফেলেছে। আলিয়া ভাটও বিজ্ঞাপনটির ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায় এটি জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি ক্রিকেট প্ল্যাটফরম ড্রিম ইলেভেনের বিজ্ঞাপন।

বিজ্ঞাপনের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় ক্রিকেটার ঋষভ পান্ত আমির খানের কাছে ছবি তোলার অনুমতি চান। কিন্তু মজাটা শুরু হয় যখন ঋষভ বলেন, তিনি আসলে রণবীর কাপুরের সঙ্গে ছবি তুলতে চান! জবাবে মজার ছলে আমির বলেন, ‘শুধু ছবি কেন, চাইলে ও তোমাকে চুমুও দিয়ে দেবে!’ এরপর রণবীরের সঙ্গে দেখা হতেই আমির ভুল করে তাকে রণবীর সিং বলে বসেন। এতেই শুরু হয় আসল ঝামেলা! রণবীর রেগে গিয়ে বলেন, ‘আমি কিভাবে সিং হলাম? এবার আমিও যদি ওনাকে সালমান বলি?’ আমির মজার ছলে উত্তর দেন, ‘সালমান বলো ঠিক আছে, কিন্তু দয়া করে আরবাজ বোলো না!’ ঠিক তখনই পেছন থেকে আরবাজ খান বলে ওঠেন, ‘সোহেল বললেই পারতে!’

এখানেই শেষ নয়। রণবীর রাগ সামলাতে ওয়াশরুমে গিয়ে আমির খানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘উনি আমাকে হিংসা করেন! উনি শুধু খান, আর আমি খানদান!’ পাশে দাঁড়ানো জ্যাকি শ্রফ তখন তার আইকনিক ডায়ালগে বলেন, ‘বিরু, টিসু দাও… ইস্যু দিয়ো না!’

শেষে আমির খান বলেন, ‘এখনকার প্রজন্মের তারকাদের ইগো বক্স অফিস কালেকশনের থেকেও বড়!’ আর তা শুনেই রণবীর চিৎকার করে বলেন, ‘আমি শুনতে পাচ্ছি, কালা নই!’

এরপরই রণবীর-আমির লড়াইয়ের ঘোষণা দেন।
যেখানে আমির তার দলে টেনে নেন ঋষভ পান্তকে, রণবীর নেন রোহিত শর্মাকে। এই ২ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে মজা, নাটক আর রসিকতার ফুল প্যাকেজ দেখা গেছে। নেটিজেনদের মধ্যে এই বিজ্ঞাপন দারুণ সাড়া ফেলেছে।

ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন পাকিস্তানের সেই ট্রেন যাত্রীরা

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে জিম্মি থাকা সব যাত্রীকে উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর অভিযান শেষ হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে ৩৩ হামলাকারীর সবাই নিহত হয়েছেন। এর আগে হামলাকারীরা ২১ যাত্রীকে হত্যা করেন।
এ ছাড়া অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছেন।

জিম্মি হওয়া ট্রেন থেকে মুক্তি পেয়ে বিবিসি এএফপি ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের কাছে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন যাত্রীরা। বিদ্রোহীদের হাত থেকে বাঁচতে কীভাবে তারা লুকিয়েছিলেন, কী ভাবে প্রতিনিয়ত সন্তানদের বাঁচানোর চেষ্টা করে গিয়েছেন, কী কী দেখেছেন, মুক্তির পর সেই ঘটনাবলির ধারাবাহিক বর্ণনা দিয়েছেন অনেকে।

ইশাক নুর নামের এক যাত্রী মুক্তির পর বিবিসিকে বলেন, ‘গুলির পর গুলি চলছিল।
আমরা কোনোরকমে দম বন্ধ করে বসেছিলাম। কী হবে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।’

সন্তানদের আড়াল করে বসেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফ ও তার স্ত্রী। যাতে কোনোভাবে গুলি তাদের দিকে চলে এলে আগে বাবা-মায়ের গায়ে লাগে।
সন্তানেরা যাতে বেঁচে যায়। আশরাফ বলেন, ‘যাত্রীরা সকলে প্রচণ্ড ভয়ে ছিলেন। যেন মনে হচ্ছিল, এটাই পৃথিবীর শেষ দিন।’

আরেক এক যাত্রী এএফপিকে জানিয়েছেন, সশস্ত্র বন্দুকধারীরা যাত্রীদের পরিচয়পত্র দেখে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন কারা বেলুচিস্তান প্রদেশের, আর কারা বাইরের। পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার পর যাত্রীদের সামনেই কয়েকজন সেনাকে গুলি করেন বিদ্রোহীরা।

মোহাম্মদ নাভিদ নামে আরেক যাত্রী বলেন, প্রথমেই আমাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে সন্ত্রাসীরা পুরুষ ও নারীদের আলাদা করে দাঁড় করায়। তারপর নারী এবং বয়স্কদের চলে যেতে বলে। ট্রেন নিজেদের দখলে নেওয়ার পর বেলুচ বিদ্রোহীরা নিজেদের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা করছিলেন, মুক্তির পর তাও জানিয়েছেন বন্দিরা।

মুশতাক মোহাম্মদ বলেন, ‘বিদ্রোহীরা মূলত বেলুচ ভাষায় নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। তাদের নেতা বার বার সতর্ক করে দিচ্ছিলেন। সকলকে সজাগ থাকতে বলছিলেন। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধির দিকে নজর রাখতে বলা হচ্ছিল।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালা জেলার বাসিন্দা নোমান আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি ওই ট্রেনে ঈদের জন্য বাড়ি ফিরছিলেন।তার কথায়, ‘আমরা যখন বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পায়, তখন গুলি থেকে বাঁচতে ট্রেনের কামরার দরজা বন্ধ করে দেই। কিছুক্ষণ পর একজন সন্ত্রাসী এসে বাকি যাত্রীদের থেকে নারী এবং বয়স্কদের আলাদা করে নিয়ে যায়। কয়েকজন আহত যাত্রী ট্রেনের মধ্যে থেকে যায়। তারা বের না হতে চাওয়ায় সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরে গুলি চালায়।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ট্রেনটিতে মোট ৪৪০ জন যাত্রী ছিল। অভিযানে ৩৩ সন্ত্রাসীর সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত অভিযানের সময় কোনো যাত্রী নিহত হননি। তবে এর আগেই ২১ যাত্রীকে হত্যা করেন হামলাকারীরা।

কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস নামের যাত্রীবাহী ট্রেনে গত মঙ্গলবার দুপুরে হামলা চালায় সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী। বেলুচিস্তানের বোলান এলাকার কাছে তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে যাত্রীদের জিম্মি করে।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো জানায়, হামলাকারীরা স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে ‘বিদেশি সহায়তাকারী’দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাদের মধ্যে আফগানিস্তানে থাকা একজন ‘মাস্টারমাইন্ড’ রয়েছেন। এ ছাড়া তারা ট্রেনে থাকা নারী ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। এ কারণে অভিযানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

এদিকে যাত্রীবাহী ট্রেনে ‘সন্ত্রাসী হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ বলেন, এই পবিত্র রমজান মাসে নিরীহ যাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো প্রমাণ করে, ওই সশস্ত্র ব্যক্তিদের ইসলাম, পাকিস্তান ও বেলুচিস্তানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

ভয়াবহ নির্যাতনের কথা জানালেন লিবিয়াফেরত বাংলাদেশিরা

অবৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে আটক বিপদগ্রস্ত ও পাচারের শিকার ১৭৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরে তারা জানিয়েছেন, মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন সহ্য করে সাক্ষাৎ মৃত্যু থেকে বেঁচে ফিরেছেন তারা। পাশাপাশি লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা বাকি বাংলাদেশিদের দ্রুত ফিরিয়ে আনা ও দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ভুক্তভোগীদের।

কেউ বছর, কেউ আবার মাসের পর মাস অপেক্ষা শেষে প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে ভেঙে পড়েন কান্নায়।
এ কান্না যেন তাদের আনন্দের। এর মধ্যে ১০৬ জন ছিলেন ত্রিপলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে। তারা তুলে ধরেছেন সেখানে হওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের কথা।

এক ভুক্তভোগী প্রবাসী বলেন, গত চার মাসের মধ্যে দুই বেলা ভাত খেতে পাইনি।
ভাত দিইনি। শুধু মেরেছে। আরেকজন জানান, লিবিয়ায় যেন কেউ না যায়। সেখানে আমাকে মাফিয়া ধরেছিল, মোট ২৬ লাখ টাকা নিয়ে গেছে আমার।
পাঁচ মাস ৯ দিন জেল খেটেছি। কথা বলতে কষ্ট হয় আমার।

ভুক্তভোগী আরেকজন জানান, পাঁচ মাস কাজ করেছি, কিন্তু এক মাসের বেতন দিয়েছে। তা-ও আবার বাংলাদেশি টাকা ৩০ হাজার আর দেয়নি। খাওয়াদাওয়ার খুবই কষ্ট, বাইরে বের হলে আবার মাফিয়া ধরে।
সব দিক থেকেই সমস্যা।

বাকি ৭০ জন বিপদগ্রস্ত অবস্থা থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ১২ জনকে শারীরিকভাবে অসুস্থ দেখা গেছে।

ডিটেনশন সেন্টারে থাকা বেশির ভাগই দালালের মাধ্যমে ইতালি পাড়ি জমানোর জন্য দেশ ছেড়েছিলেন। দালালদের এ সিন্ডিকেটের বিচার চান ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

আইওএমের সহযোগিতায় বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) ভোর সোয়া ৪টায় দেশে ফেরেন ১৭৬ বাংলাদেশি। ঢাকা হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও তদন্ত শেষে সকাল ৮টায় বের হন সবাই।

আগামী ১৯ ও ২৬ মার্চ আরো তিন শতাধিক বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস।

ট্রাম্পের চিঠি না দেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অস্বীকৃতি খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তেহরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়ার খবর নিশ্চিত করার পর তিনি এ কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি আলোচনার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এর আগে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ তেহরান সফরের সময় ট্রাম্পের কাছ থেকে ইরানকে একটি চিঠি পৌঁছে দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি খামেনিকে চিঠি লিখে নতুন পারমাণবিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তেহরান যদি এ আলোচনায় অস্বীকৃতি জানায়, তবে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাখসির কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। দুই কর্মকর্তার বৈঠকের সময় সর্বোচ্চ নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দলকে বলেন, ট্রাম্পের প্রস্তাব বিশ্ব ‘জনমত গঠনের লক্ষ্যে একটি প্রতারণা’।

খামেনি বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর একটি সম্পূর্ণ ও স্বাক্ষরিত চুক্তিতে পৌঁছেছি এবং তারপর এই ব্যক্তি (ট্রাম্প) তা ছিঁড়ে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে কেউ আলোচনা করতে পারে? … যখন আমরা জানি তারা করবে না, তাহলে আলোচনার অর্থ কী?’

যদিও খামেনি বলেছেন, তিনি চিঠিটি দেখেননি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে এটি পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভ্রান্ত জনমত তৈরি করবে বলে এটি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালে সই হওয়া ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে আসেন। ২০১৮ সালে তার প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প একতরফাভাবে চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এক বছর পরে তেহরান চুক্তির পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে প্রতিক্রিয়া জানায়।

জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
একই সঙ্গে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ দেওয়ার নীতি পুনর্বহাল করেছেন। খামেনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার বাঁধন আরো শক্ত করবে এবং ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করবে।’

ইরান দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা অস্বীকার করে আসছে। খামেনি বলেন, ‘আমরা যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাই, তবে আমেরিকা তা থামাতে পারবে না। আমরা নিজেরাই তা চাই না।’ তবে গত মাসের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুদ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রায় ৯০ শতাংশ অস্ত্র-গ্রেড স্তরের কাছাকাছি।

সূত্র : আলজাজিরা

‘পাকিস্তান নিজেই নিজের বড় শত্রু’, বলছেন সাবেক কোচ মিকি আর্থার

ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার পর দেশের ভেতরে-বাইরে নানামুখি সমালোচনা হচ্ছে। পাকিস্তানের ক্রিকেটার থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ আকিব জাভেদ ও নির্বাচকরা সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন। পাকিস্তানের এই দশার জন্য আকিব ‘বেশি পরিবর্তন’ কে দায়ী করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আড়াই বছরে আমরা ১৬ জন কোচ ও ২৬ জন নির্বাচক পরিবর্তন করেছি।
যদি বিশ্বের যেকোনো দলের সঙ্গে এমনটা হয়, তাহলে তাদের পারফরম্যান্সও একইরকম হবে।’

আকিব জাবেদের সেই মন্তব্যের জবাবে পাকিস্তানের টেস্ট দলের সাবেক কোচ জেসন গিলেস্পি অভিযোগ করে বলেন, তাকে ও কার্স্টেনকে সরিয়ে কোচের চেয়ারে বসতে আড়ালে থেকে আকিব অনেক কিছু করেছেন। একই সঙ্গে আকিবকে ‘পাগল’ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। গিলেস্পির সেই মন্তব্যে সঙ্গে একমত পাকিস্তানের সাবেক কোচ ও টিম ডিরেক্টর মিকি আর্থারও।
কোচ হিসেবে গ্যারি কার্স্টেন ও জেসন গিলেস্পিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড অবমূল্যায়ন করেছে বলে মনে করছেন তিনি। তার মতে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

টকস্পোর্টের সাথে কথা বলতে গিয়ে আর্থার বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই উক্তিটি আমার খুব ভালো লেগেছে। জেসন গিলেস্পি একজন দুর্দান্ত কোচ, চমৎকার মানুষ।
পাকিস্তান ক্রিকেট শুধু নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছে। এটি তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু।’

‘সত্যিই তারা কিছু ভালো কোচ পেয়েছিল যারা তাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তারপর সেই মেশিন, যা পাকিস্তানে কাজ করে, তা অবিরত তাদের পিছু টেনে ধরে এবং মিডিয়াতে এজেন্ডা চাপানো হয়,’ তিনি বলেন।

আর্থার বিশ্বাস করেন, পাকিস্তান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জেসন গিলেস্পি এবং গ্যারি কিরস্টেনকে রেড-বল এবং হোয়াইট-বল দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে।
তবে তিনি বলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে এখনও যে অস্থিরতা চলছে তা খুবই হতাশাজনক। ‘অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে, তাদের এখন সম্পদও রয়েছে। দলে তরুণ প্রতিভা অনেক; তাদের অসাধারণ দক্ষতা আছে। তবু এখনও এতটা বিশৃঙ্খল। এটা সত্যিই হতাশাজনক।’

এমন অবস্থায় পাকিস্তান ক্রিকেটকে ‘জঙ্গল’ বলে অভিহিত করতেও দ্বিধা করলেন না দলটিকে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতানো কোচ আর্থার। ‘এটি একটি জঙ্গলের মতো এবং আমি গ্যারি ও জেসনের জন্য সত্যিই দুঃখিত। আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই যে তাদের দুর্বল করা হয়েছে… এটা খেলোয়াড়দের জন্য ক্ষতিকর এবং অবশেষে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্যও ক্ষতিকর।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী পদে কার্নির শপথ শুক্রবার

আগামীকাল শুক্রবার (১৪ মার্চ) কানাডায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন মার্ক কার্নি। এর মাধ্যমে কানাডায় শেষ হতে চলেছে প্রায় এক দশক ধরে চলা জাস্টিন ট্রুডোর জমানা। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

খবরে বলা হয়, শুক্রবার সকালে কানাডার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন মার্ক কার্নি।
গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমন স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১১টায় কার্নি এবং তার মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বলে তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। মূলত কানাডার গভর্নর জেনারেল যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতিনিধি।
মার্ক কার্নি কানাডার ২৪তম প্রধানমন্ত্রী হবেন।

মূলত কানাডার এক অস্থির সময়ে মার্ক কার্নি দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর কানাডা তার দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে এবং এর ভেতরেই আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে মার্ক কার্নিকে একটি সাধারণ নির্বাচনও আয়োজন করতে হবে।

এর আগে স্থানীয় সময় রবিবার (৯ মার্চ) মার্ক কার্নি এক লাখ ৩১ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিনা ফ্রিল্যান্ড পেয়েছেন ১১ হাজার ১৩৪ ভোট।

টানা ৯ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ট্রুডো।
এরপর তার উত্তরাধিকার বাছাইয়ের জন্য ৯ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছিল।