বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

বিশিষ্ট অভিনেতা খলিলুল্লাহ খানের ইন্তেকাল

kholilবিশিষ্ট অভিনেতা জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খলিলুল্লাহ খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। রবিবার সকালে তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিশিষ্ট ও প্রবীণ এই অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

অভিনেতা খলিলুল্লাহ খান জীবদ্দশায় অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন। ‘প্রীত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তার অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সংগম, সোনার কাজল, অশান্ত ঢেউ, হাওর সন্নাসী, বেগানা, পুনম কি রাত, নদের চাঁদ, মাটির ঘর, পাগলা রাজা, ফকির মজনু শাহ, বেঈমান প্রভৃতি।

তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে শিল্পী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। চলচ্চিত্রের বাইরেও সংসপ্তকসহ অনেক টিভি নাটকেও তিনি অভিনয় করেছেন।

প্রবীণ এই অভিনেতা ২০১২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন।

এদিকে অভিনেতা খলিলুল্লাাহর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র তথা সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শেখ রেহানা গ্রেফতার!

arrestপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার পরিচয় দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে মার্জিয়া জান্নাতি নুপা নামে এক নারীকে আটক করেছে র‌্যাব।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে ওই নারীকে আটক করা হয়।

আটক মার্জিয়া ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক হিসাবে কর্মরত আছেন বলে গণমাধ্যমকে র‌্যাব জানায়।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক মেজর রুম্মান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, আটক নারী অর্থ আত্মসাতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ফোনে প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানার পরিচয় দিয়ে তদবির করছিলেন। বিষয়টি র‌্যাবকে জানানো হলে গোপন সংবাদে বনশ্রীতে অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।

ভাবির চুমুর জেরে ভেঙ্গে গেল বিয়ে

biyaবিয়ের আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষ। কনের গলায় মালা পরাবে বর। এসময় দুষ্টুমি করে বরকে চুমু দিলেন তার ভাবি। ব্যাস, এতেই লঙ্কাকাণ্ড। আসরেই ভেঙে গেল বিয়ে।

সম্প্রতি ভারতের আলীগড়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকার খবর অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দু’জনের পরিচয়, তারপর প্রেম। পরে দুই পক্ষের পরিবারই বিয়েতে সম্মতি দেয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কনেকে মালা পরানোর সময় বরের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেবরের গালে চুমু দেন।

এ পর্যন্ত থেমে থাকলে হয়ত ওতো বড় অঘটন ঘটতো না। খেপাটে ভাবি দেবরকে নিয়ে ছুটলেন নাচের জায়গায়। তারা যখন পা মিলিয়ে নাচছিলেন তখন বিক্ষুব্ধ কনে পক্ষ এ ব্যাপারে বরপক্ষের কাছে অভিযোগ করে।

বরপক্ষ এটি হেসে উড়িয়ে দিলেও বিষয়টি মেনে নিতে পারছিল না কনেপক্ষ। এক পর্যায়ে দু’পক্ষে বাগযুদ্ধ থেকে শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি। পরে বিক্ষুব্ধ বর পক্ষ বিয়ে ভেঙে দিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।

তবে কনেপক্ষের লোকজন বরকে আটকে রাখে। পরদিন পরিবারের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওমান

football bএএইচএফ হকি কাপের ফাইনালে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওমান।

রোববারের ফাইনালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিপক্ষে লড়বে কৃষ্ণ-চয়নরা। শনিবার মাওলানা ভাসানি হকি স্টেডিয়ামে তাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ওমান। তাতে দু দলের পয়েন্ট সমান হলেও গোল গড়ের ব্যবধানে ফাইনালে নাম লেখায় ওমানিজরা।

শনিবারের খেলায় প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল তাইনিজ তাইপেই। ম্যাচের ৪৫ মিনিটে সি চেংয়ের সাহায্যে গোল করেন সু চিং। তবে খেলার শেষ বাঁশি বাজার ছয় মিনিট আগে সমতা ফেরাতে সমর্থ হয় ওমান। সালমিন আলির পুশ থেকে গোল করেন হাসানি মুহান্না। এরপর কোনো দলই আর লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ফলে ১-১ গোলে শেষ হয় ম্যাচটি।

দুই জয়, এক হার ও এক ড্রয়ে ওমানের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। চাইনিজ তাইপেও সমান সংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। তবে গোল গড়ের ব্যবধানে এগিয়ে আছে ওমান। ওমানের গোল ব্যবধান +৪ ও তাইপের গোল ব্যবধান -১। ফলে ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়বে ওমান।

একই টুর্নামেন্টের শীর্ষ দুই দল হিসেবে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য যুব এশিয়া কাপে সুযোগ পেয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও ওমান।  ড্র করেও যুব এশিয়া কাপে অংশ নেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো তাইপে। আর তাইপের সমান পয়েন্ট নিয়েও ওমান গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সুযোগ পেয়েছে যুব এশিয়া কাপে।

হাসিনা-শেরিং বৈঠক অনুষ্ঠিত

hasina sheringপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।

শনিবার বিকেল সোয়া ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শিমুল হলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত  হয়।

এর আগে শনিবার  দুপুরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন ছাড়াও পারস্পরিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে  আলোচনা হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সরকারি সফরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান ।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান। এ সময় তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিনজিন দর্জি, অর্থমন্ত্রী নরবু ওয়াংচুক  এবং একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশে এসেছে।

বিমানবন্দরে নেমে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অভিনেত্রী মোনালিসা এখন সেলস গার্ল!

monalisaএকটি ভুল বিয়ে, ভুল সিদ্ধান্ত যে মানুষের জীবনে কী সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে তার জলন্ত উদাহরণ যেন মোনালিসা। ভাগ্যের ফেরে এখন দূর প্রবাসে তাকে করতে হচ্ছে সেলস গার্লের চাকরি। বিষয়টি কোনো নাটকের ঘটনা নয়, সেলস গার্লও কোনো নাটকের চরিত্র নয়। বাস্তবেই এখন সকলের প্রিয় মোনালিসার জীবনটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এমন।

সম্প্রতি নিউইয়র্কের একটি বাংলা টিভি চ্যানেলের চাকরি ছেড়ে তিনি প্রসাধনী সামগ্রী ম্যাকের সেল্স গার্লের কাজ নিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, নিউইয়র্কের কুইন্স মলে ম্যাক-এর স্টোরে অক্টোবর মাস থেকে সেল্স গার্লের কাজ করছেন তিনি।

পাশাপাশি একটি এয়ারলাইন্সের টিকিট কাউন্টারেও মোনালিসা টিকিট বিক্রির কাজ করেন বলে জানা গেছে।

মডেলিং ও অভিনয় ক্যারিয়ারের পড়ন্ত সময়ে সঙ্গীত শিল্পী ও কম্পোজার হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে মোনালিসার সম্পর্কের বিষয়টি ব্যাপকভাবে চাউর হয়। কিন্তু সে সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায়নি।

এরপর অনেকটা হুট করেই ফাইয়াজ শরীফ ফাসবীর নামে এক প্রবাসীকে বিয়ে করে নিউইয়র্কে পাড়ি দেন মোনালিসা। জানা যায়, বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই স্বামীর সঙ্গে কলহ দেখা দেয় তার। তখন পর্যন্ত তার আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি অর্থাৎ গ্রিনকার্ড মেলেনি।

জানা গেছে, কেবল বিবাহ বিচ্ছেদ নয়, স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা পর্যন্ত করেন তিনি। সেই মামলা এখন বিচারাধীন।

কিছুদিন আগে জানা গিয়েছিল যে নিউইয়র্কভিত্তিক একটি বাংলা টিভি চ্যানেলে নামমাত্র বেতনে চাকরি হয় তার। টিভি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথমে তাকে মার্কেটিং বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হলেও পরবর্তীতে অনুষ্ঠান বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়। নানা বিষয় নিয়ে টিভি চ্যানেলের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই সমস্যা চলছিল।

এরই মধ্যে সহকর্মীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে একবার চাকরিচ্যুতও হন। কিন্তু অদৃশ্য শক্তিতে আবারও ফিরে আসেন। শেষমেশ নিজেই চাকরি ছাড়লেন। এরই মধ্যে স্বামীর সঙ্গে মামলা বিচারাধীন থাকায় ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছেন মোনালিসা। আর তা পাওয়ার পর টিভির চ্যানেলের চাকরি ছেড়ে অপেক্ষাকৃত বেশি বেতনে কাজ নেন ম্যাকের স্টোরে সেলস গার্ল হিসেবে।

এখন কেবল সময়ই বলে দিতে পারবে যে কী আছে মোনালিসার ভাগ্যে। আর কখনো কি দেশে ফিরে নতুন করে শুরু করতে পারবেন তিনি?

পাকিস্তান ভাঙার বদলা নেওয়ার হুমকি হাফিজের

hafizzপাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতার সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদ। এর বদলা নিতে ভারতের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার লাহোরে পার্টি কনভেনশনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাফিজ সাইদ বলেন, ভারত থেকে কাশ্মীরের নাগরিকদের মুক্ত করতে পাকিস্তানিদের এগিয়ে আসতে হবে। কাশ্মীরকে মুক্ত করতে সাহসী সৈনিক অপরিহার্য। ১৯৭১ সালের বদলা নেব আমরা। আহমেদাবাদের গুজরাটের দাঙ্গার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, ভারতের সেনাবাহিনী যদি আমেরকিান সেনাকে সহায়তা করতে আফগানিস্তানে যেতে পারে, তাহলে আমাদের যোদ্ধারাও কাশ্মীরের নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়াতে সেখানে যাবে।

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক দলকে একজোট হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। কাশ্মীরিদের প্রতি তার সংগঠন সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন হাফিজ। পাশাপাশি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার পেছনে ভারতের ভূমিকার জন্য দেশটির ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কাশ্মীরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের তীব্র সমালোচনাও করেন তিনি।

তথ্যসূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, জিনিউজ।

হাসপাতালে লতিফ সিদ্দিকী

latifসাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ, তাবলিগ জামায়াত এবং প্রধানমন্ত্রী পুত্রের সমালোচনা করে সারাদেশের মানুষের প্রতিবাদের মুখে পড়েন। তার এসব মন্তব্য নিয়ে সারা দেশে শুরু হয় তোলপাড়।

ফাঁসির দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন অব্যাহত থাকে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের ১৮ জেলায় ২২টি মামলা হয়।  প্রত্যেকটি আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা।

ওই বক্তব্যের পর গত ১২ অক্টোবর আমেরিকায় থাকাকালেই লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই দিনই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে তার দলের প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়। এরপর তিনি আমেরিকা থেকে ভারতে আসেন। কলকাতায় কিছুদিন অবস্থানের পর নাটকীয়ভাবে ২৩ নভেম্বর রাত ৮টা ২১ মিনিটে তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে ভিআইপি লাউঞ্জ দোলনচাঁপায় প্রায় এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন। এ সময় সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে। কিন্তু কোনো নির্দেশনা না থাকায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে আটক না করে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।

এরপর ২৫ নভেম্বর তিনি ধানমন্ডি থানায় আত্মসমার্পণ করেন। থানা থেকে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই ছিলেন। সেখান থেকে শনিবার তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়।

যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন খালেদা জিয়া

goyeshorবিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে ‘দেশনেত্রী পরিষদ’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, যে যেখানে আছেন সেখান থেকেই প্রস্তুতি নেন, যাতে সময় হলেই বেরিয়ে পড়তে পারেন। নেত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় বসে থাকবেন না। সরকার যেভাবে ছক আটছে যে কোনো মুহূর্তে দেশনেত্রীকে আটক করতে পারে।

বিএনপির কথা এবং কাজে ফাঁক থাকায় জনগণ মাঠে নামছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নর্দমার চেয়েও দুর্গন্ধময়। আওয়ামী লীগ দেখলেই জনগণ এখন নাকে রুমাল দেয়। কিন্তু তার মানে এই নয়, জনগণ বিএনপিকে খুব পছন্দ করে।

গয়েশ্বর বলেন, আমাদের কথা এবং কাজে ফাঁক থাকায় এবং কমিটমেন্ট না থাকায় জনগণ মাঠে নামছে না। দলের বড় বড় পদ নেওয়ার ব্যাপারে আমরা আগ্রহ দেখাই, কিন্তু পদ নেওয়ার পর আমাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

স্বৈরাচার পতন দিবসের আলোচনা সম্পর্কে ‘উষ্মা’ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ১৭৫৭ সালের মীর জাফর, ১৯৭১ সালের রাজাকার, ১৯৭৫ সালের বাকশাল, ১৯৮১ সালের স্বৈরাচার এবং ওয়ান ইলেভেনের সংস্কার-এই পাঁচটি শব্দ আমাদের অভিধানে নিকৃষ্ট শব্দ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়া এবং থাকার প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলই মীর জাফর, রাজাকার, স্বৈরাচার, বাকশাল এবং সংস্কারপন্থীদের বুকে টেনে নিয়েছে, কোলাকুলি ও মোলাকাত করেছে।

গয়েশ্বর বলেন, ১৯৮১ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত বিএনপির অবস্থা আজকের মতো এত শক্ত ছিলো না। দেশব্যাপী এতো জনসমর্থনও ছিলো না। কেবল খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব এবং যুব ও ছাত্রসংগঠনের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে এরশাদের পতন হয়েছিলো।

কিন্তু কী এমন প্রয়োজন হলো যে গত আওয়ামী লীগ সরকারের (১৯৯৬-২০০১) আমলে সেই এরশাদকে নিয়েই আমাদের আন্দোলন করতে হলো?- প্রশ্ন গয়েশ্বরের।

তিনি বলেন, ওই সময় বিএনপির যেসব অনুষ্ঠানে এরশাদ উপস্থিত থেকেছেন সেসব অনুষ্ঠানের মঞ্চে তো দূরের কথা তার ধারের কাছেও আমি যাইনি।

গশ্বের বলেন, এ দেশে স্বৈরাচার এরশাদ এবং রাজাকার জামায়াতের সঙ্গে মাঝে মাঝে আওয়ামী লীগ বিএনপি দুই দলকেই বসতে হয়, সে কেবল ক্ষমতায় যাওয়া এবং টিকে থাকার জন্য। ব্যক্তি স্বার্থের জন্যও কেউ কেউ স্বৈরাচারের দালাল হয়েছেন। ১৯৮১ সালের পর বিএনপির অনেক বাঘা বাঘা নেতা এরশাদের বুটের তলায় আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচার এরশাদের প্রায় ৭৫ ভাগ এমপি মন্ত্রী এখন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে অবস্থান করছেন। সুতরাং স্বৈরাচারের পরিষদবর্গকে দলে রেখে স্বৈরাচার পতন দিবস পালন কতটুকু যুক্তিসঙ্গত সেটি আমাদের ভেবে দেখতে হবে।

দেশনেত্রী পরিষদের সভাপতি একেএম বশির উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ছাত্র নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ প্রমুখ।

ভবিষ্যতে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার হবে: দুদু

duduবিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আজকে অসংখ্য ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বিতরন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের সনদ বাতিল করছেনা। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসলে তাদের চিহ্নত করে বিচার করা হবে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ৫ ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সচিবসহ সনদ জালিয়তির সাথে জড়িত ১৮৬ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবীতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আজকে পাক হানাদারের  মতো সরকার সবকিছু দখল করে আছে। এই সরকার নির্বাচন ও সংসদ ব্যাবস্থাকে ধ্বংস করেছে। তারা র‌্যাব-পুলিশসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেষ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমার ইরানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, বীর মুক্তিযোদ্ধ ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ।