বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

রোনাল্ডোর জোড়া গোলে রিয়ালের বড় জয়

ronaldorটানা ২০ ম্যাচে জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ৷ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর জোড়া গোলে শনিবার লা লিগায় আলমিরাকে ৪-১ হারায় রিয়াল৷ রোনাল্ডো ছাড়াও গোল পেয়েছেন গ্যারেথ বেল ও ইস্কো৷

ম্যাচের ৩৪ মিনিটে ইস্কোর গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ৷ করিম বেঞ্জিমার পাশ ধরে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান ইস্কো৷ বেশিক্ষণ অবশ্য ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি রিয়াল৷ চার মিনিট পরই ভারজার গোলে সমতা ফেরায় আলমিরা৷ প্রথমার্থ ১-১ গোলে শেষ হয়৷ কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের সামনে দাঁড়াতে পারেনি আলমিরা৷ দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বেলের গোলে এগিয়ে রিয়াল৷ ১০ গজ দূর থেকে হেডে দুরন্ত গোল করেন বেল৷ বাকি ৪০ মিনিট ২-১ এগিয়ে ছিল রিয়াল৷ কিন্তু তার পর সিআর সেভেনের জোড়া গোলে আলমিরাকে দুরমুশ করে ৪-১ ম্যাচ জিতে নেয় রিয়াল৷ ৮১ ও ৮৮ মিনিটে গোল দু’টি করেন রোনাল্ডো৷

যেমন আছেন লতিফ সিদ্দিকী

latif21চিকিৎসকদের পরামর্শ- যতটা সম্ভব দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে লতিফ সিদ্দিকীকে। তবে অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে তার রক্তচাপ বেড়ে গেছে। হার্টে ব্লক থাকায় লতিফ সিদ্দিকীর বুকে ব্যথার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিন পাঁচবার খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। বাসা থেকে পাঠানো ফলমূলও খাচ্ছেন। হাসপাতাল কেবিনে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পত্রিকা পড়েন লতিফ সিদ্দিকী। মাঝে মাঝে চোখ রাখেন টেলিভিশনে। কেবিনেই আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক করেন। সোমবার স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কেবিনে বসে কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ৫১২ নম্বর ভিআইপি কেবিনে এভাবেই শুয়ে-বসে লতিফ সিদ্দিকীর সময় কাটছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও কারা কর্মকর্তারা।

হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে বিএসএমএমইউ’র পাঁচতলায় ভিআইপি ৫১২ নম্বর কেবিনে রাখা হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ায় কারাগার থেকে তার ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনে। বুকে ব্যথা অনুভব করায় শনিবার তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউ’র কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। লতিফ সিদ্দিকীর কেবিনের প্রতিদিনের ভাড়া ৪ হাজার ২৫ টাকা। কেবিনের ভেতরে পাহারায় আছেন দুই কারারক্ষী। দরজার সামনে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি পুলিশ দল। করিডোরের প্রবেশমুখে আছেন আনসারের দুই সদস্য। আর ভবনের নিচে অবস্থান করছেন আরও ৮ থেকে ১০ পুলিশ সদস্য। অন্যান্য কেবিনে থাকা রোগীদের স্বজন সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এভাবেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে রাখা হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, ডিভিশন অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকী সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। আর চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কারা বিধি মেনে তার সঙ্গে স্বজনরা দেখা করছেন। সোমবার লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে তার স্ত্রী দেখা করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালে লতিফ সিদ্দিকীর সময় কাটছে শুয়ে-বসে। লতিফ সিদ্দিকীর হার্টে আগে থেকেই রিং পরানো ছিল। বিতর্কিত মন্তব্য করে গ্রেফতারের পর অনেকটাই দিশেহারা এখন তিনি। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা তার আগে থেকেই ছিল। কারা অভ্যন্তরে থাকাবস্থায় তা আরও বেড়ে গেছে। ৭৭ বছর অতিক্রম করা লতিফ সিদ্দিকীকে বার্ধক্যজনিত রোগেও পেয়ে বসেছে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে তার রক্তচাপ বেড়ে গেছে। তার হার্টে আগে বস্নক ধরা পড়ায় বুকে ব্যথার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ওষুধপত্র প্রয়োগ করেও রক্তচাপ স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন যতটা পারা যায় টেনশনমুক্ত থাকতে। সে চেষ্টাও করছেন তিনি। পত্রিকার বিভিন্ন সংবাদ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ছেন। কখনও বা চোখ রাখছেন টেলিভিশনের পর্দায়।

লতিফ সিদ্দিকী বিএসএমএমইউ’র কার্ডিওলজির ইউনিট প্রধান অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জির অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। ভর্তি হওয়ার পর থেকে লতিফ সিদ্দিকী হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা খাবার খাচ্ছেন। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়মিত নানা ধরনের ফলমূল সরবরাহ করা হচ্ছে। বাসা থেকে সরবরাহ করা তিন বেলা খাবার খেতে চাইলে হাসপাতাল ও জেল কর্তৃপক্ষের যৌথ অনুমতি নিতে হবে।

কারা কর্মকর্তা বলেছেন, লতিফ সিদ্দিকী ভিআইপি কেবিনে রয়েছেন। এসব কেবিনে অন্য কেবিনের চেয়ে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। দিনে পাঁচবার খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে তাকে। সকালে রুটি-ডিম-সবজি, বেলা ১১টার দিকে বিস্কুট-চা, দুপুরে ভাত-মাছ-ডাল-সবজি, বিকালে স্যুপ, রাতে ভাত বা রুটি, মুরগির মাংস বা মাছ-ডাল ও সবজি পরিবেশন করা হয়। লতিফ সিদ্দিকী হাসপাতালের সরবরাহ করা এসব খাবারই খাচ্ছেন।

বিএসএমএমইউ পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মজিদ ভূইয়া বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা ও ওষুধ-পথ্যের বিষয়গুলো তদারক করছে। নিয়ম অনুযায়ী সব করা হচ্ছে। বাকি নিরাপত্তাসহ লোকজন দেখা করতে পারবে কি পারবে না- তা কারা কর্তৃপক্ষের বিষয়।

২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ইসলামী দলগুলো আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয়। এ অবস্থায় টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। পরে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এ সদস্যকে। এ ঘটনার পর লতিফ সিদ্দিকী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত হয়ে ২৩ নভেম্বর রাতে ঢাকায় আসেন। দুই দিন আত্মগোপনে থাকার পর ২৫ নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করেন। ওই দিনই তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লে জাপাও আন্দোলনে যাবে

babluগ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সরকারের অংশ জাতীয় পার্টিও আন্দোলনে নামবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

শনিবার সকালে রাজধানীর বনানীতে দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাবলু এ হুঁশিয়ারি দেন। আগামী ১ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ সামনে রেখে পার্টির প্রস্তুতি কমিটির ঘোষণা উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সাল চিশতি, এমএ হান্নান, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল করিম ভূইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাপা মহাসচিব বলেন, “সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। দাম বাড়ানো হলে জাতীয় পার্টি ঘরে বসে থাকবে না। যে দিন থেকে থেকে দাম বাড়ানো হবে সেদিন থেকেই জাতীয় পার্টি রাস্তায় নামবে।”

সরকারের খুন গুম অপহরণের দায় জাতীয় পার্টি নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় সংসদের এই বিরোধী দল।

বাবলু বলেন, “রাজপথে আন্দোলন করে সরকার পতনে বিশ্বাসী নয় জাতীয় পার্টি। আমরা গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাসী। এ জন্য সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি।”

তিনি বলেন, “কৌশলগত কারণে আমরা সরকারে আছি। সরকারের পার্টনার হিসেবে নয়। কৌশলটা হলো ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে সারাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছিল। সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। মানুষ সত্যি শান্তি চেয়েছিল। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতেই আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু এ জন্য  সরকারের খুন গুম অপহরণের দায় নেবে না জাতীয় পার্টি।”

মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির তিনজন সদস্য থাকা সত্ত্বেও তারা পার্টনার নয় কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “৫০ জনের মন্ত্রিসভায় তিনজন মন্ত্রী থাকা না থাকার মধ্যে তফাৎ নেই।”

পঞ্চম বিশ্বকাপে নামবেন জয়াবর্ধনে-আফ্রিদি

afridi sঅস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ২০১৫ বিশ্বকাপে সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামবেন মাহেলা জয়াবর্ধনে ও শহিদ আফ্রিদি৷ পঞ্চম বিশ্বকাপে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করবেন প্রাক্তন শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান অধিনায়ক৷ যদিও ছ’টি বিশ্বকাপ খেলার নজির রয়েছে জাভেদ মিয়াঁদাদ ও শচিন টেন্ডুলকারের৷

১৯৭৫-এ প্রথম বিশ্বকাপ থেকে টানা ছ’টি অর্থাৎ ১৯৯৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলেছেন পাক ব্যাটসম্যান৷ আর ১৯৯২ থেকে ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা ছ’টি বিশ্বক্রিকেটে মেগা ইভেন্টে খেলেছেন সচিন৷ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে চলা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে একাদশ বিশ্বকাপে খেলবেন জয়বর্ধনে ও আফ্রিদি৷ দু’জনেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপ থেকে প্রতিটি সংস্করণে খেলছেন৷ দু’দেশের বোর্ড বিশ্বকাপের প্রাথমিক ৩০ জনের দলে রেখেছেন এই দু’জনকে৷

গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো হচ্ছে: খালেদা

khaledaaবিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “স্বাধীনতার পর থেকেই অগণতান্ত্রিক শক্তি তাদের মুখোশ খুলে ফেলে দেশের মানুষের সার্বজনীন গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো একের পর এক অমানবিক কায়দায় দমন করে। আর এই কারণেই সীমাহীন রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দিনে দিনে দুর্বল করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো হচ্ছে।”

১৪ ডিসেম্বর ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ উপলক্ষে  শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

খালেদা বলেন, “১৪ ডিসেম্বর একটি বেদনাময় দিন। বাংলাদেশকে মেধা-মননে পঙ্গু করার হীন উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত বিজয়ের ঊষালগ্নে এ দিনে হানাদার বাহিনীর দোসররা দেশের প্রথিতযশা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক বিজ্ঞানীসহ বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করোছিলো। তারা মনে করেছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করলেই এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দুর্বল হয়ে পড়বে এবং উন্নয়ন অগ্রগতি রুদ্ধ করে দেয়া যাবে। কিন্তু তাদের সে লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে।”

খালেদা জিয়া বলেন, “অমর বুদ্ধিজীবীরা দেশের বরেণ্য শ্রেষ্ঠ সন্তান, যারা একটি সমৃদ্ধ এবং মাথা উঁচু করা জাতি দেখতে চেয়েছিলেন। তারা ন্যায় বিচারভিত্তিক শোষণমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক সমাজের প্রত্যাশা করেছিলেন। দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা আন্তর্জাতিক অপশক্তি তাদের সে প্রত্যাশাকে বাস্তবায়িত হতে দেয়নি।”

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “বিভেদ অনৈক্য এবং সংকীর্ণতার দ্বারা জাতীয় অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে। সুতরাং আমাদের রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ এবং দেশকে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে হবে। এ ক্ষেত্রে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা আমাদের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে যাবেন।”

তিনি বলেন, “আজকের এ শোকাবহ দিনে আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই-আসুন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা এক সঙ্গে কাজ করি।  আমি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

ছিনতাই, অপহরণ, টেন্ডারবাজির পর এবার ইয়াবা ব্যবসায় ঢাবি ছাত্রলীগ

du logoছিনতাই, অপহরণ, টেন্ডারবাজির পর এবার ইয়াবা ব্যবসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। চলতি  সপ্তাহে ঢাবি’র মুহসীন হলে ১২৫০ পিস ইয়াবা ধরাপড়ার পর বিষয়টি
সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগ এই ব্যবসা করলেও অনেকটা অজানা-অধরা ছিল। সম্প্রতি এই সিন্ডিকেটে ভাগ-বাটোয়ারা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাগের অংশ কমে যাওয়ায় এই ঘটনা ফাঁস করে দেয়া হয়েছে। এরপর কেঁচো খুঁড়তে সাপ পেয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।
গোয়েন্দা সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, এফ. রহমান হল, মুহসীন হল, শহীদুল্লাহ হল, মাস্টার দা সূর্যসেন এবং জগন্নাথ হল থেকে রাজধানীর অর্ধেকের বেশি এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ হয়। এই ৬টি হল থেকে ক্যাম্পাস থেকে দ্রুত বের হওয়ার পাশাপাশি হলের ছাত্রলীগের সিন্ডিকেট শক্ত। তাই এই ৬টি হলকে বেছে নেয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন, কোন ছাত্র এই অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে বসে ইয়াবাসহ মাদকের ব্যবসা করে আসছে। এই সিন্ডিকেটের প্রধান নিয়ন্ত্রক মুহসীন হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করে ঢাবি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে না কেউ। বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি জানলেও কোন ধরনের অভিযান চালায়নি। এমনকি হল কর্তৃপক্ষ নীরবে নিভৃতে সহ্য করে গেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মাসে মুহসীন হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাদক ব্যবসার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে মতপার্থক্য হয়। সেখানে সভাপতি গ্রুপ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতার চাহিদা অনুসারে ভাগ দিতে রাজি না হওয়ায় এই কেন্দ্রীয় নেতা অপর গ্রুপকে প্রস্তাব দেয় পুরো ব্যবসা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার। বিষয়টিতে কয়েক দফা দেন-দরবার হলেও কোন সুরাহা হয়নি। এরপর সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ সিদ্ধান্ত নেয় এই সিন্ডিকেট ফাঁস করে দেয়ার। এরই অংশ হিসেবে গত রোববার পুলিশকে খবর দেয় সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের সিন্ডিকেট। ওই সময় পুলিশকে সকল ধরনের তথ্যের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনও হয়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে ১২৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে ৭ জন বহিরাগতকে। পরে আটককৃত ৭ জন হল সভাপতির নাম বললেও আজ অবধি কোন ব্যবস্থা নেয়নি ঢাবি ছাত্রলীগ। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন মামলা পর্যন্ত করেনি।
জানা গেছে, পুলিশের সামনেই আটককৃতদের মারধর করে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা। এর সঙ্গে সভাপতির লোকজন জড়িত বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিতেও চাপ দেয়। এরপর সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রেক্ষাপট পাল্টানোর চেষ্টা করেন। সেই  আবার আটককৃতদের মারধর করে সভাপতির সিন্ডিকেট জড়িত বলতে চাপ দেয়। এরপর পুলিশ তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়। হল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুইজন কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রশ্রয় পেয়ে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। কোন কিছুতেই তাদের থামানো যাচ্ছে না। সূত্র আরও বলছে, হল সভাপতির প্রশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে হলে এই মাদকের ব্যবসা করছে বহিরাগত কিছু ছেলে। প্রতি মাসে এ খাত থেকে হল সভাপতিকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেয়া হতো। সম্প্রতি এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা আশরাফ নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীর সঙ্গে মনোমালিন্যর প্রেক্ষিতে তাকে হল থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর সেই এই ইয়াবা ব্যবসার কথা ফাঁস করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে বছর খানেক নাজমুল নামে আরেক ছাত্রলীগ কর্মী এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতো। সে বর্তমানে এই ব্যবসার বাইরে রয়েছে।
জানা গেছে, শুধু মাদক নয়, ঢাবি ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতা সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে বসে জুয়া খেলা, নেশা করা ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকেন। সিন্ডিকেট নতুন করে এই উদ্যানে বসে ইয়াবার বড় চালান রাজধানীর বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। এর আগে চলতি বছর ৯ই মে রাতে কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অনুপম চন্দ্র, মুহসীন হলের ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুুল্লাহ আল মামুন ও কর্মী হিমেল মোবাইল ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী ফরহাদকে অপহরণ করে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। ঢাবি কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ১১ই মে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছেন। জানা গেছে, এই চারজন ছাত্রলীগ নেতা সবাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুলের ক্যাডার বলে পরিচিত। এদের অর্থের ভাগ নাজমুল পেয়ে থাকেন। সূত্র বলছে, সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানকন্দ্রিক সব ধরনের চাঁদাবাজি, অপহরণ, ব্ল্যাকমেইলিং সহ সকল অপকর্মের সঙ্গে ঢাবি ছাত্রলীগ জড়িত। আর এরা কেন্দ্রীয় ও ঢাবি ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করে এমন গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র বলছে, ঢাবি’র মুহসীন, এসএম, এফ. রহমান, জগন্নাথ, সূর্যসেন ও শহীদুল্লাহ এই ছয়টি হল থেকে রাজধানীর ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ হয়। ক্যাম্পাসকে ব্যবসার নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে সিন্ডিকেটগুলো। এর আগে এই হলগুলো থেকে অপহরণ, প্রশ্নফাঁস, ইয়াবা, মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। মুহসীন হলের সূত্র বলছে, এই হলের সভাপতি মাকসুদুর রহমান মিঠুর বিরুদ্ধে এর আগে একাধিক অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কাছে করা হলেও বহাল তবিয়তে আছেন তিনি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের আস্থাভাজন হওয়ায় সব ঘটনাই পার পেয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদ, হল শাখার সাবেক কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এএম আমজাদ বলেন, ক্যাম্পাসকে সকল ধরনের সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত রাখতে যা করা দরকার সবই করবো। এর সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত বলে অভিযোগ এসেছে বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন, যারাই জড়িত থাকুক কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ বলেন, ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে কোন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সম্পৃক্ত না। বিশ্ববিদ্যালয় বসে কোন মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট করা হয় না। তারপরও যদি কোন ধরনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তবে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে।
সূত্র আরও বলছে, এই ৬টি হলে নিয়মিত মাদকের আখড়া বসে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা এসএম ও মুহসীন হলে নিয়মিত মাদকের আখড়া বসান। সমপ্রতি পর্নো ছবি তৈরির সরঞ্জামসহ বংশালের একটি হোটেল থেকে আটক করা হয় এ হলের বেশকিছু শিক্ষার্থীকে। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় বেশকিছু নেতাকর্মীর এ ঘটনায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে।

কৌশলী আন্দোলনের সিদ্ধান্ত বিএনপির

bnp logoসরকার পতন আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে জেলা সফরের ধারাবাহিকতায় আজ নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কাঁচপুরের বালুমাঠে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। ডিসেম্বরের পরেই ইতিমধ্যে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে এবারের আন্দোলনে কৌশলী সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। আগেভাগেই ঘোষণা করা হবে না চূড়ান্ত কোন কর্মসূচি। রাজধানীতে আন্দোলন সফলে আগাম কাউকে দায়িত্বও দেয়া হবে না। তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তিনি। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। দলের অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে যুবদল নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠকে করেন তিনি। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ২৯শে ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’তে দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে বের না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। যুবদল নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে তো মোবাইল ছিল না। তারপরও দলের নেতাকর্মীরা নিজেরা সংগঠিত হয়ে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। কিন্তু তো যোগাযোগের জন্য মোবাইল রয়েছে। আধুনিক যুগে যোগাযোগের এতসব মাধ্যম থাকার পরও দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামেনি। আমার বাসার সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিলেও দলের কোন নেতা আসেনি। এবার আগেভাগে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে না মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, গত ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে রাজধানীকে ৮টি জোনে ভাগ করে ৮ সিনিয়র নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু ওইসব নেতা কেউই দায়িত্ব পালন করেননি। আমি ফোন করেও কাউকে পাইনি। এবার আগেভাগে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে না। এছাড়া আগাম কোন সিদ্ধান্তও নেয়া হবে না। যুবদলের নেতাদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আপনারা নিজেরা সংগঠিত হোন। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ান। থানা ও ওয়ার্ডগুলোর নেতাকর্মীদের সংগঠিত করুন। দলের নেতারা সবাই প্রস্তুত থাকবেন। যখনই কর্মসূচি ঘোষণা করবো তখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, কোন ধরনের গুজবে কান দেবেন না। দলের মধ্যে কোন ধরনের বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। সর্বাত্মক আন্দোলন প্রস্তুতি নিন। বৈঠকে যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মামুন হাসান, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হামিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মজনুসহ ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এরআগে ১০ই ডিসেম্বর রাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
বর্ণিল সাজে কাঁচপুর
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, খালেদা জিয়ার জনসভাকে ঘিরে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে কাঁচপুর। প্রস্তুত করা হয়েছে জনসভাস্থল কাঁচপুর বালুর মাঠ। বেলা দুইটায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হবে। বেলা আড়াইটায় গুলশানের বাসভবন থেকে গাড়িবহর নিয়ে রওনা হবেন খালেদা জিয়া। বিকাল ৪টায় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও  কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. তৈমূর আলম খন্দকার। জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি জানাতে গতকাল জনসভাস্থলে সংবাদ সম্মেলন করেন জনসভার প্রধান সমন্বয়কারী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের সমাবেশ সফল করতে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সকল বিভেদ ভুলে এক কাতারে এসে কাজ করছেন ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। বর্তমান সরকারের দুঃশাসন, অত্যাচার, লুটপাট, খুন, গুম ও হত্যার হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন খালেদা জিয়া।
খালেদার আগমনে মিটলো নগর বিএনপির বিভেদ
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনসভাকে ঘিরে নগর বিএনপি নেতাদের দ্বন্দ্ব-বিভেদ ও মান-অভিমানের অবসান ঘটেছে। এতদিন পাল্টাপাল্টি বিষোদগার, বক্তব্য আর বিরোধের কারণে দলের নেতাকর্মীরাও ছিল বিভক্ত। তবে তাদের নেত্রী আসার একদিন আগেই অবসান হয়েছে বিরোধের। গতকাল সকালে জেলা বিএনপির সভাপতির বাসায় ও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ শেষতক এক হয়ে গেল। এক টেবিলে নেতারা বসে তাদের ক্ষোভের কথা বললেন। ওই সময়ে নিজেকে দল আর নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ‘অভিভাবক’ আখ্যা দিয়ে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার। চোখ ভিজিয়েছেন নোনা জলে। আর এতেই ভাঙলো সকল অভিমান।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, পানি কাটলে ভাগ হবে কিন্তু নগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আমরা ভাগ হবো না। আমি বেঈমান না। আমি আপনাদের সঙ্গে বেঈমানী করবো না। আমি মরে গেলেও দলের মার খাওয়া লোকজনের সঙ্গে আছি। বেলা ১১টায় শহরের ডিআইটি এলাকায় অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ে নগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আজকের সমাবেশকে ঘিরে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তৈমুর আলম খন্দকার এসব কথা বলেন। এ সময় তৈমুর আলম খন্দকার অতীতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন।  তিনি বলেন, আমার অনেক ভুল-ত্রুটি আছে। সব দায়দায়িত্ব আমার। নগর বিএনপি চেয়ারপারসনের সমাবেশকে নিয়ে যে ক্ষোভের কথা বলেছে সেটা কোন বিভেদ নয়। তাদের কোন দুঃখ থাকলে তারা আমার কাছেই বলবে। এতে অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছে। সভায় নগর বিএনপির সহ সভাপতি সুরুজ্জামান বলেন, আমরা যারা শহরে রাজনীতি করি তারা আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে হামলা মামলার শিকার বেশি হই। যেটা অন্যান্য থানার নেতৃবৃন্দ পারে না। তাই সমাবেশে যেন মহানগর এলাকার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কোন প্রকার অবমূল্যায়ন না করা হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সভায় সঞ্চালনা করেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খান, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ্জামান, হাজী শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হামিদ খান ভাষানী, মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, রানা মুজিব, আকতার হোসেন খোকন শাহ, মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি ফারুক  হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মনির মল্লিক, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা জামাল প্রমুখ। মতবিনিময় শেষে বিএনপির আজকের সমাবেশ সফল করতে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

কম খরচে ইন্টারনেট সুবিধা মানুষের মৌলিক অধিকার

tim barnarsমানুষকে কম খরচে ইন্টারনেট সুবিধা দিতে হবে। ডেটা প্যাকেজে কোনো বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের কথা বাদ দিতে হবে। ইন্টারনেটকে মানুষের মৌলিক চাহিদা হিসেবে দেখতে হবে। তবেই প্রবৃদ্ধি হবে দেশের। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎ্সা যেমন মানুষের মৌলিক অধিকার, তেমনি কম খরচে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাও মানুষের মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত বলে মনে করেন ওয়েবের জনক টিম বার্নার্স-লি। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব উদ্ভাবনের কৃতিত্ব কম্পিউটার বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লির। আজ এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে ইন্টারনেটকে মৌলিক চাহিদা হিসেবে ঘোষণা করার।

এখনো বিশ্বের কয়েক’শ কোটি মানুষ ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে কিন্তু এ ক্ষেত্রে সরকারি গোপন নজরদারি ও সেন্সরশিপ ক্রমশ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর ইন্টারনেটকে মৌলিক চাহিদা হিসেবে ঘোষণার তাগিদ দিলেন ওয়েবের জনক।

টিম বার্নার্স-লি বলেন, ইন্টারনেট মানুষের মধ্যে কেবল তখনই বৈষম্য দূর করতে পারবে, যখন ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন হবে না এবং ইন্টারনেটে মুক্তভাবে নিজের মতামত ব্যক্ত করা সম্ভব হবে। ২০১৪-১৫ সালের ওয়েব ইনডেক্স প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

১০ ডিসেম্বর প্রকাশিত ২০১৪-১৫ ওয়েব ইনডেক্সে দেখা গেছে, অনলাইনে সবার ওপরে গোপন নজরদারি ঠেকানোর আইন দুর্বল এবং ৮৪ শতাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো আইন নেই। ৮৬টি দেশ নিয়ে করা জরিপে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রেই অনলাইনে স্পর্শকাতর কনটেন্টগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মুছে ফেলা হয়। এ ছাড়া এই ৮৬টি দেশের প্রায় অর্ধেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর অনলাইন অধিকার খর্ব করা হয়। এই ৮৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৩।
ওয়েব ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪০ কোটি মানুষ এখনো ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে, যার বেশির ভাগই উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাসিন্দা।
বার্নার্স-লি বলেন, এখন ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সময়। এর অর্থ হচ্ছে সবার জন্য কম খরচে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা, ইন্টারনেট প্যাকেজ ডেটা কোনো বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি না রেখেই ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া, ওয়েব ব্যবহারকারীরা কে কোথাকার বাসিন্দাÍএ বিবেচনায় না রেখে তাঁদের প্রাইভেসি ও স্বাধীনতার বিষয়টি নিশ্চিত করা।

ওয়েব ইনডেক্সে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ে শীর্ষে রয়েছে। অর্থাৎ এই তিনটি দেশে ইন্টারনেট আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ৮৬টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম ইন্টারনেট সুবিধা পান ইয়েমেন, মিয়ানমার ও ইথিওপিয়ার জনগণ

‘পিকে’ ছবিতে অভিনয় করেছেন আমিরের স্ত্রী

amir sচলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে কিরণ রাও যথেষ্ট প্রশংসিত। অন্যদিকে স্বামী মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট আমির খান বলে থাকেন কিরণ তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। এবার এতোদিন যা হয়নি- তা-ই হতে চলেছে। বাস্তব জীবনের মতো তারা পর্দা একসঙ্গে হাজির হতে যাচ্ছেন। তাও আবার ‘পিকে’ চলচ্চিত্রে।

রাজকুমার হিরানি পরিচালিত ‘পিকে’ চলচ্চিত্রে আমিরকে সার্বক্ষণিক সাহায্য করেছেন কিরণ। খান সাহেবের পোশাক ও মেকআপে তার অবদান রয়েছে।

ইতোমধ্যে অনেকে বলেছেন, আমিরের চেহারা এ ছবিতে এমন কেন? ওই চেহারা নাকি কিরণের বেশ পছন্দ।

বিজনেস অব সিনেমা জানায়, এ ছবিতে বিশেষ একটি চরিত্রে পর্দায় মুখ দেখাবেন কিরণ। তবে ছবির কাহিনীর মতোই পরিচালক রাজু ওই সিকোয়েন্সে কি থাকবে তা গোপন রেখেছেন। তা সত্ত্বেও বলা যায় এটি হতে যাচ্ছে অতি প্রতিক্ষীত চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ।

আমির খান ও কিরণ রাও বিয়ে করেন ২০০৫ সালে। তাদের আজাদ নামে একটি ছেলে রয়েছে। এতোদিন কিরণকে শুধু ক্যামেরার পেছনে দেখা গেছে। এ প্রথমবার তাকে পর্দায় দেখা যাবে। ‘পিকে’ মুক্তি পাচ্ছে আগামী ১৯ ডিসেম্বর।

ঢাকায় অরিজিৎ, সন্ধ্যায় কনসার্ট

orijitভারতীয় সংগীতাঙ্গনের হার্টথ্রব গায়ক অরিজিৎ সিং এখন রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে। শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকায় এসেছেন তিনি।

সন্ধ্যায় রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ‘অলিটালিয়া অরিজিৎ সিং লাইভ’ শীর্ষক কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করবেন ২৭ বছর বয়সী এ তারকা। এর আগে মধ্যাহ্নভোজের পর সেখানে আধঘণ্টা মহড়া করবেন অরিজিৎ। এরই মধ্যে তার শব্দ প্রকৌশলীরা ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে নেমেছেন।

কনসার্টটির আয়োজক ইমেকার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাঈম আশরাফ রোমান গণমাধ্যমকে বলেন, মহড়া শেষে আবার হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নেবেন অরিজিৎ। আশা করছি, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মঞ্চে উঠবেন তিনি।

‘অরিজিৎ সিং লাইভ’-এ আরও শোনা যাবে নির্ঝর, ইমরান, কর্নিয়া ও রেশমির গান।