শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

তাবলীগেও বিভক্তি

tabligঅবশেষে তাবলীগ জামাতেও ঢুকে পড়েছে রাজনীতি। ছড়িয়ে পড়েছে আর্থিক দুর্নীতি আর অনিয়ম। চলছে ক্ষমতা দখলের লড়াই। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার নানা কৌশল। ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে এর ভাবমর্যাদা। এতে ভাঙনের মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সংগঠনটি। বিষয়টি স্বীকার করে তাবলীগ জামাতের আমীর সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে এই অরাজনৈতিক সংগঠনের গায়ে কালিমা লেপন করেছে। তারা এটাকে কলঙ্কিত করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনীতি বিবর্জিত তাবলীগ জামাতে ঢুকে গেছে কূটতৎপরতা। দীর্ঘ দিন ধরে মতানৈক্যের কারণে এর বিভক্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাবলীগের নাম ভাঙিয়ে আর্থিক সুবিধা নেয়া, নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে এই দ্বন্দ্ব ও সংঘাত।

ভারতের বাসিন্দা মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস (মরহুম) এদেশে তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনে আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থিক লেনদেন করার নিয়ম নেই। বছরখানেক আগে থেকে তাবলীগ উন্নয়ন ও রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ, টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার সময় দায়িত্বশীলদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সরকারের অনুদান নেয়া শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তখন থেকেই সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম তাবলীগ জামাতের কথা বলে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে থাকেন। তাবলীগের সঙ্গে দীর্ঘ দিন সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওয়াসিফুল রাজনীতিতেও যুক্ত, এছাড়া তাবলীগের মূলনীতি থেকেও তিনি বিচ্যুত। এর ফলে তাবলীগ জামাতে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দেয়। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা বিভক্তি ক্ষোভের ফলে ইতিমধ্যে একাধিক স্থানে তাবলীগে বিবাদমান দু’পক্ষের মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। যারা এসব বিষয়ে কথা বলছেন তাদের জঙ্গি আখ্যা দেয়া হচ্ছে। তাবলীগ জামাতের দায়িত্বশীলদের আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করা, কাকরাইল মসজিদের আর্থিক লেনদেনে সরকারের নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু প্রস্তাব জানিয়ে জাতীয় সংসদে বিল পাসের জন্য ডেপুটি স্পিকারের কাছে এপ্রিল মাসে আবেদন করেছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি হাসান হাবিব তালুকদার। প্রতিকার না পাওয়ায় এবার শুরু হয়েছে প্রকাশ্য সংঘাত।

সূত্র জানায়, তাবলীগ জামাতের সক্রিয় দু’টি গ্রুপের একটির নেতৃত্বে আছেন সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম। অন্য গ্রুপে অধ্যাপক মুশফিকুর রহমান। উভয়পক্ষই একে অপরকে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের দোসর বলে দাবি করেছেন। আবার দুই পক্ষই বাংলাদেশে তাবলীগের একমাত্র জিম্মাদারও বলেও দাবি করেন।

ওয়াসিফুল গ্রুপের দাবি, তাবলীগ একটি অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠন। ঈমান ও আমল উন্নতির সহায়ক। কিন্তু, কিছু দুষ্কৃতকারী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। মুশফিক পক্ষের দাবি, ওয়াসিফুল তাবলীগ জামাতের টাকার বড় দুর্নীতি করেছেন। কুক্ষিগত করতে চাইছেন এর বিশাল সমর্থক গোষ্ঠীকে। এটি হতে দেয়া যায় না। দুই গ্রুপের রেষারেষিতে বৃহস্পতিবার রাতে কাকরাইল মসজিদের ভেতর অধ্যাপক মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আধিপত্য বিস্তার, অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ সংবলিত দুই পাতার একটি লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এসময় ওয়াসিফুলের লোকজন এতে বাধা দেয়।

এ সময় দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে ওয়াসিফুলের লোকজন অধ্যাপক মুশফিকুরের ২৪ কর্মীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ জানায়, আটককৃতদের ৫৪ ধারায় আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। সরজমিন কাকরাইল মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের ডান পাশে একটি নতুন ভবনের উন্নয়নের কাজ চলছে। এই কমপ্লেক্স নির্মাণের ব্যয় নিয়ে শুরু হয় সন্দেহ, অবিশ্বাস, যা নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ এখন তুঙ্গে।

তাবলীগের মধ্যে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা চিল্লাধারী মুরুব্বিরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা এ ঘটনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তাবলীগ জামায়াতের মজলিসে শূরা সদস্য আব্দুল লতিফ জানান, তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় মুরুব্বি মাওলানা ইলিয়াস আলী, মাওলানা জোবায়ের আহমেদসহ মুরুব্বিরা মতামত দিয়েছেন যে, তাবলীগের কোনো কর্মী নামাজ শেষে মসজিদের বাইরে কোনো বই অথবা লিফলেট বিলি করতে পারবে না। এতে তাবলীগের কাজে বিঘ্ন ঘটবে এবং মেহনত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখন যদি তাবলীগের কর্মীরা নামাজ শেষে বই ও লিফলেট বিলি করেন এবং তাতে যদি লেখা থাকে ‘চলো চলো বাংলাদেশ সচিবালয় ঘেরাও করো’ তাহলে এটি কেমন হলো? এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছেন তাবলীগের নাম ভাঙিয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও জামায়াতপন্থি মুশফিকুর রহমান। তাবলীগকে তিনি জামায়াতে রূপান্তরিত করার ষড়যন্ত্র করছেন। একে কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

মসজিদের গেটে দায়িত্বপালনকারী নিরাপত্তারক্ষী সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ তিন বছর ধরে তাদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব চলে আসছে। মুশফিকুর ও তার লোকজন কোরআনে ও হাদিসের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। এতে বিভেদ বাড়বে এবং তাবলীগ জামাতে চিল্লা দেয়ার মতো লোকজন পাওয়া যাবে না।

তবে অধ্যাপক মুশফিকুরের অনুসারীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তার কর্মী জাবেদ হোসেন অভিযোগ করে জানান, অনেকটা বাধ্য হয়ে আমরা ওয়াসিফুলের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ করেছি। ২০০৩ সালে দিল্লিতে বাংলাদেশের তাবলীগের ১৪ মজলিসে শূরা সদস্য নির্বাচিত হন। তাদের একজন ওয়াসিফুল। এরপর থেকেই তিনি শুরু করেন হাদিয়া বাণিজ্য। তিনি বলেন, কাকরাইল মারকাজ মসজিদের উন্নয়ন, বিদেশী মেহমানদের খেদমত ও ইজতেমার কথা বলে দেশে ও বিদেশে তাবলীগ জামাতের ধনী মুরুব্বিদের কাছ থেকে তিনি কোটি কোটি টাকা চাঁদা তুলেছেন। এই কাজে তার স্ত্রী মিনু ইসলামও নিয়োজিত। এত বিপুল অংকের টাকার হিসাব তিনি কাউকে দেননি।

জাবেদ আরও জানান, ২০১২ সালে কাকরাইলের মারকাজ মসজিদের ডান দিকে একটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ভবনটি এখন নির্মাণ চলছে। ওই ভবনের নির্মাণের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয়েছে। অথচ তিনি এখন সবাইকে হিসাব দেখাচ্ছেন ৬ কোটি টাকা চাঁদা উঠেছে। এত বড় জালিয়াতি কখনও মেনে নেয়া যায় না। ওয়াসিফকে তিনি আওয়ামী লীগের চর বলে আখ্যায়িত করেন। মুশফিকুরের অনুসারীর তাবলীগের কর্মী তাওহিদুল ইসলাম জানান, ওয়াসিফুলের দুর্নীতির বিষয়টি ফাঁস করে দেয়ার জন্য হারুন নামে এক তাবলীগ কর্মীকে তিনি জঙ্গি বলে আখ্যায়িত করে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছেন। ২০১৩ সালের ২৪শে ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমার ময়দানে তার দুর্নীতির লিফলেট বিতরণের জন্য তিনজন তাবলীগ কর্মীকে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তার অপকর্মের প্রতিবাদে ১৯শে জানুয়ারি প্রেস ক্লাবে এবং রাজশাহীতে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এরপর তিনি তার সব অপকর্ম বন্ধ করবেন বলে আমরা মনে করছিলাম। কিন্তু, তিনি আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করে ইসলামী পণ্ডিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাবলীগের আকিদা ও ঐক্য রক্ষা করতে হলে এই ওয়াসিফুলের হাত থেকে তাবলীগ জামাতকে মুক্ত করতে হবে। কাকরাইল মসজিদে বরিশালের বাবুগঞ্জ থেকে আসা চিল্লাধারী আজিজুল ইসলাম জানান, তাবলীগ তো আল্লাহ ও নবীওয়ালাদের কাজ। এখানে কেন বিভেদ থাকবে? বিষয়টি যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে এ জন্য সতর্ক হতে হবে। নইলে এটি কারও জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। এ ঘটনার জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। কাকরাইল মসজিদে যেন আর অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এ জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। – মানবজমিন

সৈয়দ কায়সারের মৃত্যুদণ্ড

kawsarএকাত্তর সালে পাক হানাদার বাহিনীর পক্ষে গড়ে তোলা কায়সার বাহিনীর প্রধান সৈয়দ মো. কায়সারকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২  তার ফাঁসির আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।
সকাল দশটা ৫৫ মিনিটে কায়সারকে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। এরপর এগারটার দিকে তিনজন বিচারপতি এজলাসে প্রবেশ করেন।
চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, এটা ট্রাইব্যুনাল-২ এর অষ্টম রায়। এ মামলায় সহযোগিতা করার জন্য প্রসিকিউশন এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান।
এ রায়টি মোট ৪৮৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত মোট ১৬৬১ প্যারায় প্রণীত হয়েছে।
আদালতে রায়ের সংক্ষিপ্ত কপি চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নিজেই পাঠ করেন।
কায়সারের বিরুদ্ধে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১৪টি প্রমাণিত হয়েছে।
প্রমাণিত অভিযোগের মধ্যে ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।
এছাড়া ১, ৯, ১৩ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ২ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর, ৭ নম্বরে সাত বছর ও ১১ নম্বরে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ৪ ও ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে এ অভিযোগগুলোতে কোনো শাস্তি দেয়া হয়নি।
এ সময় আসামি সৈয়দ কায়সার কাঠগড়ায় বসেছিলেন। তার সামনের আসনে বসেছিলেন তার দুই ভাই এবং এক সন্তান।
গত ২০ আগস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ট্রাইব্যুনাল অপেক্ষমাণ রাখেন। একই সঙ্গে কায়সারের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
কায়সারের বিরুদ্ধে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
কায়সারের পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ও রানা দাশগুপ্ত পাল্টা আইনি পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
গত ৭ আগস্ট থেকে কায়সারের পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান তরফদার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। একই দিনে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ষষ্ঠ কার্যদিবস কায়সারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।
২৩ জুলাই প্রসিকিউশনের ৩২তম সাক্ষী ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মনোয়ারা বেগমের জেরা শেষে আদালতের নির্দেশে প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত কায়সারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। ওই দিন থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট ছয় কার্যদিবস আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত।
এর আগে এ মামলায় ৩১ জন সাক্ষী কায়সারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষ তাদের জেরাও করে। তবে ট্রাইব্যুনালে এই প্রথম কোনো আসামি হিসেবে কায়সারের পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষ্য দেয়া হয়নি।
২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আদালত।
এ বছরের ৪ মার্চ কায়সারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য প্রদান করে প্রসিকিউশন। ৯ মার্চ থেকে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত বছরের ১৫ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এর পর ২১ মে কায়সারকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ধর্ষণ বুলেটের চেয়েও ভয়ঙ্কর: ট্রাইব্যুনাল

tribunalবুলেটের আঘাতের চেয়েও ধর্ষণের আঘাত অনেক যন্ত্রণাদায়ক, ভয়ঙ্কর বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

মঙ্গলবার একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মামলার রায়ে ট্রাইব্যুনাল এ মন্তব্য করেন।

ট্রাইব্যুনাল তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, একাত্তর সালে শত্রুর গুলিতে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের থেকেও যন্ত্রণাদায়ক হলো যারা একাত্তর সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

আদালত বলেন, ধর্ষণের যন্ত্রণা সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। সামাজিকভাবেও এ যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।

এ জন্য আদালত বলেছেন, একাত্তরে যুদ্ধ শিশু, ধর্ষিত নারী ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের তালিকা করে পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ ছাড়া নির্যাতনের শিকার এমন ব্যক্তিদের ‘জাতীয় বীর’ উল্লেখ করে তাদেরকে স্যালুট করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত।

এদিকে সৈয়দ কায়সারের রায়কে ব্যতিক্রমী রায় উল্লেখ করে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এ রায়টিকে বিরাঙ্গনাদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন।

প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, “এ রায়টিকে আমাদের দেশের বিরাঙ্গনাদের প্রতি উৎসর্গ করা উচিত। ”

প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত বলেন, “এ রায়ে আমরা খুশি। এতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ”

এর আগে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।

কায়সারের বিরুদ্ধে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১৪টি প্রমাণিত হয়েছে।

প্রমাণিত অভিযোগের মধ্যে ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

এছাড়া ১, ৯, ১৩ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ২ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর, ৭ নম্বরে সাত বছর ও ১১ নম্বরে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ৪ ও ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে এ অভিযোগগুলোতে কোনো শাস্তি দেয়া হয়নি।

আমির খানের পিকে’র গায়ে ‘লাভ জিহাদে’র তকমা

pk23আমির খান অভিনীত বলিউডের সর্বশেষ ব্লকবাস্টার ‘পিকে’ কট্টর হিন্দুদের রোষানলে পড়েছে।

শুক্রবার মুক্তি পাওয়ার পর চলচ্চিত্রটি সমালোচক-দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ালেও, প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হিন্দুত্ববাদীরা অভিযোগ তুলেছে এই ছবির বক্তব্য হিন্দুবিরোধী। হিন্দুত্ববাদী কোন সংগঠন সরাসরি সামনে না এলেও, ট্যুইটারসহ ইন্টারনেটের সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে আক্রমণ। বয়কটপিকে হ্যাশট্যাগে বহু মানুষ অভিযোগ করছে ছবির একটি সংলাপে হিন্দুদের ছোট করে দেখানো হয়েছে।

হিন্দি সংলাপটি হলো- ‘যো ডর গ্যায়া, সো মন্দির গ্যায়া- অর্থাৎ যে ভয় পায়, সে মন্দিরে যায়। সূত্র: বিবিসি বাংলা

বহু মানুষ সমালোচনা করছে, এই সংলাপে তাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া, চলচ্চিত্রে একজন হিন্দু সাংবাদিকের সঙ্গে একজন পাকিস্তানি মুসলিমের রোমান্সের ঘটনাকে সমালোচনা করা হচ্ছে।

অনেকে লিখছেন এতে ‘লাভ জিহাদ’কে সমর্থন করা হয়েছে। তবে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ট্যুইটারে উইসাপোর্টপিকে হ্যাশটাগে চলচ্চিত্রটির পক্ষে শুরু হয়েছে পাল্টা প্রচারণা। শুক্রবার মুক্তি পাওয়ার পরদিনই আমির খানের এই ছবিটি ২৫ কোটি রুপি ব্যবসা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পিকে এ বছরের সবচেয়ে ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র হবে।

গাজীপুরে যে কোনো মূল্যে সমাবেশ : ছাত্রদল

satrodolgaziআগামী ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে খালেদা জিয়ার পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ  যে কোন মূল্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ছাত্রদল।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ঘোষণা দেন ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দেশব্যাপী খালেদা জিয়ার যে সমাবেশগুলো রয়েছে সেগুলোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে ছাত্রদল। এই সমাবেশ সফল করার জন্য যে ভাষায় কথা বলা দরকার এবং যে পদ্ধতিতে কাজ করা দরকার- তা করতে ছাত্রদল বদ্ধপরিকর।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। যদি সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় ছাত্রদল নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হবে।

তিনি বলেন, নিকৃষ্ট ছাত্রলীগ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে গণধোলাই থেকে রক্ষা হবে না। আগামীতে সব আন্দোলনে মাঠে থাকবে ছাত্রদল।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কারারক্ষীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী

hasina23কারারক্ষীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে কারা সপ্তাহ ২০১৪ উপলক্ষে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পরিদর্শন শেষে এ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীরা যাতে কারাগারের ভেতর থেকে জঙ্গি কার্যক্রম চালাতে না পারে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্দীদের সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপদে আটক ও তাদের প্রতি মানবিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ‘পাপকে ঘৃণা করো পাপীকে নয়’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কারা প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৩ বছরেও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমী এবং ঢাকায় একটি কারা স্টাফ কলেজ স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে কারা সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

এ উপলক্ষে কারাগারের বাইরে ও ভেতরে সবধরনের প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করেছিল কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারের প্রবেশপথ ও প্রধান ফটকে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন রঙের পতাকা ও ফেস্টুন। কারাগারকে আরো সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করতে কাজ করেছেন কর্মীরা। এ ছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠান-স্থলেও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়।

জনপ্রিয়তা বেড়েছে টুইটারের

twitter২০১৪ সালে টুইটারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এক জরিপে এ কথা জানিয়েছে। আর সেই তুলনায় ফেসবুকের জনপ্রিয়তা কমেছে।

গবেষণা সংস্থা ফ্রাঙ্ক এন মাজিদ এসোসিয়েটস ইনং এর করা জরিপে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে তরুণদের মাঝে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা ছিল ৯৪ শতাংশ, যা ২০১৪ তে ৮৮ শতাংশে নেমে গেছে।

তরুণদের মাঝে জনপ্রিয়তার দিক থেকে টুইটার ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যম যেমন- ইনষ্টাগ্রাম, বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ। যেমন- হোয়াটসঅ্যাপ এবং অ্যাপলের মেসেজিং অপশনের গুরুত্ব বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে টুইটারের ব্যবহার বেশি। তবে সে তুলনায় বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবহার বেশি বলে ধারণা করা হয়।

এ নিয়ে মঙ্গলবার সকালের অধিবেশনে বিবিসি ঢাকা স্টুডিওতে বিশেষ আলোচনায় যোগ দেন বাংলাদেশে রকমারি ডট কমের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা কাজি কাওসার এবং ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব ডেভলপমেন্ট অল্টারনেটিভের জুনিয়র লেকচারার জান্নাত আরা শিফা। কাজি কাওসার টুইটার ইউজার। অন্যদিকে জান্নাত আরা শিফা ফেসবুক ইউজার।

কেন টুইটার পছন্দ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণত সেলিব্রেটিরাই একটু বেশি টুইটার ব্যবহার করেন। তাদের আপডেটগুলো সহজে ও সংক্ষেপে দেয়া থাকে। তাই সহজেই সেগুলো জানা যায় বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ফেসবুকে সব ডিটেইল লেখার অপশন রয়েছে। প্রচুর লেখতে হয় বা প্রচুর পড়ে জানতে হয়। কিন্তু টুইটারে ছোট করে লেখা থাকে। কোনো কিছু জানার থাকলে সহজেই জানা যায়।

অন্যদিকে জান্নাত আরা শিফা বলেন, ফেসবুকে সবার সঙ্গে কানেক্টেড থাকা যায়। সবার সঙ্গে কানেক্টেড থাকা ফেসবুকেই সম্ভব।

তিনি বলেন, নিজের চিন্তা ভাবনা, ছবি, নোট সহজে শেয়ার করা যায়। অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়।

জান্নাত আরা বলেন, টুইটার একাউন্ট আমারও আছে। কিন্তু এখানে কিছু করার নেই। শুধু কাউকে ফলো করতে হবে। আমাদের দেশে সেলিব্রিটিরা টুইটারে তেমন জনপ্রিয় নন। কিন্তু ফেসবুকে অনেক কিছু করার আছে। তাৎক্ষণিক ম্যাসেজ দেয়ার সুবিধা রয়েছে।

র‌্যাব-পুলিশ ছেড়ে আসুন, দেখি কার চামড়া কে তোলে : মির্জা আলমগীর

fakrul23আওয়ামী লীগকে পুলিশ-র‌্যাব ছেড়ে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা বলছেন- গায়ের চামড়া তুলে নেবে। পুলিশ-র‌্যাব ছেড়ে তারা মাঠে নামুক, এরপর দেখবো কে কার চামড়া তুলে নেয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সম্মেলনে সোমবার বিকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চ মাঠে আয়োজিত সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট হারুন আল রশীদ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি।

মির্জা আলমগীর বলেন, সারাদেশ এক অস্বস্তিকর কারাগারে পরিণত হয়েছে। তারেক রহমান লন্ডনে বসে বইপত্রের আলোকে কিছু কথা বলেছেন, তাতেই আওয়ামী লীগের গায়ে আগুন ধরে গেছে। তিনি ভুল বলে থাকলে বইপত্র নিয়ে এসে তারা প্রমাণ করুক।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঞা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আনোয়ার হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহাবুব শ্যামল।

উত্তর কোরিয়ার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন

koriya uউত্তর কোরিয়ার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে দেশটির ওপর নজরদারি বৃদ্ধির কথা ঘোষণার পর সেখানকার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে নিরাপত্তা পরিষদ।

জাতিসংঘএর আগে নিরাপত্তা পরিষদে কেবলমাত্র দেশটির পারমানবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতো।

মাত্র কদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই পিয়ংইয়ংকে সনি পিকচার্স কর্পোরেশনে সাইবার আক্রমণের জন্য অভিযুক্ত করে।

পিয়ংইয়ং এর বাসিন্দারা বলছেন, সোমবার দেশটিতে বছরের সবচেয়ে খারাপ ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। একপর্যায়ে তা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। তবে ঠিক কি কারণে এমনটি হচ্ছে, তা কেউ নিশ্চিত নন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে হতে পারে। তবে অনেকেরই আশঙ্কা, হয়তো সনি পিকচার্স কর্পোরেশনে চালানো উত্তর কোরিয়ার সাইবার আক্রমণের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে সোমবারই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচিতে উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে, চীন ও রাশিয়া এ বিষয়ে ভোটদানে বিরত ছিল।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত সামান্থা পাওয়ার বলেছেন, উত্তর কোরিয়াকে তার কর্মকা-ের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। সামান্থা পাওয়ার বলেন, আজ নিরাপত্তা পরিষদের নীরবতা ভাঙলাম আমরা।

উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে আমরা যা দেখলাম তা অত্যন্ত ভীতিকর।

নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়টি আজকে এজেন্ডাভুক্ত করা সেখানকার মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বছরের শুরুতে উত্তর কোরিয়ায় ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশটিতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

সামান্থা পাওয়ার এ জন্য পিয়ংইয়ং এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আর্জি জানাতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান।

যদিও সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়ে বিবিসি। কেননা চীন এ ক্ষেত্রে বিরোধিতা করবে।

তবে দেশটির ওপর নিরাপত্তা পরিষদের নজরদারি বৃদ্ধির ফলে সামনের দিনগুলোতে পিয়ংইয়ং এর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ যে বাড়তে যাচ্ছে সেটি পরিষ্কার।

সৈয়দ কায়সার ট্রাইব্যুনালে

kawsarএকাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক জাতীয় পার্টি সরকারের প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জের সৈয়দ মুহম্মদ কায়সারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশি নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। সৈয়দ কায়সারকে ট্রাইব্যুনালের ভেতরে হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

কিছুক্ষণ পর তার মামলার রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যর বেঞ্চ। বেঞ্চের অপর ২ সদস্য হলেন- বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম।

এদিকে রায়কে ঘিরে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২০ আগস্ট একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনসহ ১৬টি অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

১৬টি ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল আইনে কায়সারের বিরচদ্ধে চলতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর পর ৪ মার্চ থেকে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। কায়সারের বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগ বিষয়ে প্রসিকিউশন আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।

গত ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৬ কার্যদিবস প্রসিকিউশন এবং ৭ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আসামিপক্ষ ৭ কার্যদিবস যুক্তি উপস্থাপন করে। গত ৯ মার্চ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত কায়সারের বিরচদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগমসহ ৩২ জন সাক্ষী। অন্যদিকে আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করতে পারেনি।

গত বছর ১৫ মে কায়সারের বিরচদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ২১ মে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ আগস্ট বিশেষ বিবেচনায় কায়সারকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন ট্রাইব্যুনাল-২। অভিযোগ গঠনের শুনানিতে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সৈয়দ কায়সারের বাবা সৈয়দ সাঈদউদ্দিন ১৯৬২ সালে সিলেট-৭ আসন থেকে কনভেনশন মুসলিম লীগ থেকে এমএনএ নির্বাচিত হন। আর সৈয়দ কায়সার ১৯৭০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্‌দ্িবতা করে পরাজিত হন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, একাত্তর সালে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ৫০০ থেকে ৭০০ ‘স্বাধীনতাবিরোধীকে’ নিয়ে ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করেন এই মুসলিম লীগ নেতা। তিনি নিজে ছিলেন ওই বাহিনীর প্রধান। এ বাহিনীর নিজস্ব ইউনিফর্ম ছিল।

সৈয়দ কায়সারের বিরচদ্ধে অভিযোগ  তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পথ দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রামে নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের লোক এবং হিন্দু সমপ্রদায়ের ওপর দমন অভিযান চালাতেন। পরে স্বাধীনতার ঠিক আগে তিনি আত্মগোপন করেন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হন কায়সার।

১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং হবিগঞ্জ বিএনপির সভাপতি হন। এরশাদের আমলে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন।