শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

সারাদেশে চলছে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

সভা-সমাবেশে বাধা, নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধ ও মুক্তি দাবি এবং সরকারের অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে সোমবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।image_111947_0

রাজধানীতে হরতালের সমর্থনে ২০ দলের নেতা-কর্মীদের কোনো মিছিল বা পিকেটিং দেখা যায়নি। সকাল থেকেই রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল করছে। তবে, অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম। ব্যক্তিগত যানবাহনও সীমিত আকারে চলাচল করছে।

এদিকে, হরতালে নাশকতা ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন হয়েছে বিজিবি।

জনসনকে সম্মান করব কেন: কোহলি

“শুনেছেন, আমাকে ওরা বখাটে বলে ডাকছে?”

অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের যে সব গৌরবের ইনিংস আছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মহানায়করা মাঠের জবাব মাঠেই ছেড়ে এসেছেন। বিরাট কোহলি সেখানে রবিবার মাঠের পর প্রেস কনফারেন্সেও একটা ঝোড়ো ইনিংস খেলে গেলেন।index

বলে দিলেন, মিচেল জনসনকে সম্মান করার কোনো কারণ দেখছেন না। “ওকে সম্মান করব কেন? যারা মাঠে আমাকে সম্মান করে না, আমিও তাদের সম্মান করি না,” বলে দেন কোহলি। মাঠের মধ্যে মাঝে মাঝেই জনসন-কোহলির টুকটাক লাগছিল। যেটা চরমে ওঠে যখন কোহলিকে রান আউট করার চেষ্টায় জনসন ফলো-থ্রু থেকে বল তুলে স্টাম্প তাক করে ছোড়েন। কোহলির যা নিয়ে মনে হয়েছে, বলটা তাকে আঘাত করার জন্য তার দিকেই ছোড়া হয়েছিল। এর পর দু’জনের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আম্পায়ারদের এসে যা মেটাতে হয়।

“খুব বিরক্ত হয়েছিলাম। যে ভাবে আমাকে বল দিয়ে মারা হলো। ওকে বলি, এটা ঠিক হচ্ছে না। পরের বার থেকে স্টাম্পে মারার চেষ্টা কোরো, আমার শরীরে নয়,” বলে কোহলির সংযোজন, “কারও গালাগাল খাওয়ার জন্য মাঠে যাই না। ঝগড়া করতেও না। যাই ক্রিকেট খেলতে, আর তাই আমাকে সম্মান না করলে আমিও করব না।”

কোহলির মনে হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার এই মনোভাবই তাদের বিরুদ্ধে তার পাঁচটা সেঞ্চুরির কারণ। “ওরা সারা দিন এ সব চালায়। রোববারই তো বলল, তুমি একটা বখাটে ছেলে। আমি বললাম আমি এ রকমই। তোমরা যত আমাকে ঘৃণা করবে, আমার তত ভালো লাগবে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে বরাবরই ভালো লাগে, কারণ ওরা মাঠে শান্ত থাকতে পারে না। আর ঝামেলা করা নিয়ে আমার সমস্যাও নেই। ওটা আমাকে তাতায়, উত্তেজিত করে, আমার সেরাটা বার করে আনে। তবুও তো অস্ট্রেলিয়াকে শিখতে দেখি না!”

জনসনদের মতো কাউকে কাউকে যে তিনি আলাদা টার্গেট করে নেন, সেটাও বলে দিয়েছেন কোহলি। তার ব্যঙ্গ, “সব টিমেই দু’একজন থাকে যারা শান্ত থাকতে জানে না। ওরাই আমার টার্গেট।” কোহলিকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, ভারত সম্পর্কে স্টিভ স্মিথ কী মন্তব্য করেছেন এই টেস্টটা শুরুর আগে। “ওদের সেই অধিকারটা আছে। ২-০ এগিয়ে। ১-১ হলে দেখতাম একই কথাগুলো বলতে পারত কি না। যখন তুমি চড়ে বসেছ, তখন অনেক কিছুই বলতে পারো। কিন্তু যখন তুমি শাসিত হচ্ছো, তখন উঠে দাঁড়ানোটাই আসল। যখন ওরা ভারতে খেলতে এসেছিল, তখন তো কিছু বলতে শুনিনি। অবাক ব্যাপার না? আমরা ০-২ পিছিয়ে, তার পরেও ওদের দেখাচ্ছি ব্যাট হাতে আমরা কী করতে পারি, দেখাচ্ছি ভারতীয় টিমের আসল চরিত্রটা কী।”

কিন্তু জনসনকে তো ব্যাটিংয়ের সময় ব্রিসবেনে স্লেজ করতে গিয়েছিল ভারত। কাজ তো হয়ইনি, উল্টো জনসন ম্যাচ বের করে নিয়েছিলেন। “ও যখন ব্যাট করছিল তখন কোনো চাপ ওকে নিতে হয়নি। কারণ ওটা ওর কাজ না। ওর কাজ উইকেট নেওয়া। আর আজ কিন্তু ও ওভারপিছু সাড়ে চারের ওপর দিয়েছে! আমি ঠিকই করেছিলাম, জনসন বল করতে এলে ওর বারোটা বাজাব।”

অস্ট্রেলীয়দের এমন আগুনের বদলে আগুন শেষ কোন ভারতীয় দিয়েছেন? স্টিভ ওয়া ভালো বলতে পারবেন! -সংবাদ সংস্থা

জাহাজে আগুন, ঘোর সঙ্কটে ৩০০ যাত্রী

মাঝসমুদ্র থেকে পাক খেয়ে উঠছে কালো ধোঁয়া। একটা ইতালীয় জাহাজ জ্বলছে দাউদাউ করে। নাম, ‘নরম্যান আটলান্টিক’। অথৈ জলে তখন প্রবল আতঙ্কের প্রহর গুনছেন সাড়ে চারশোরও বেশি মানুষ। অপেক্ষা, কখন আসবে উদ্ধারকারী দল। কেউ কেউ রেলিং বেয়ে উঠে যেতে চাইছেন যথাসম্ভব উঁচুতে।image_111944_0

ঘণ্টা চারেক অপেক্ষার পর দেখা গেল প্রথম উদ্ধারকারী জাহাজটাকে। রেডিও বিকল হওয়ায় প্রথমে বিপদবার্তাই পাঠাতে পারেনি ‘নরম্যান আটলান্টিক’। গ্রিসের কর্ফু দ্বীপের কাছে আড্রিয়াটিক সাগরে রোববার ভোরের এই অগ্নিকাণ্ডে মারা গিয়েছেন এক জন। ইতালির নৌসেনা সূত্রে খবর, সন্ধে নামার আগে পর্যন্ত ১৫১ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। যাত্রী-জাহাজকর্মী মিলিয়ে এখনও আটকে তিনশোরও বেশি মানুষ। সারা রাত উদ্ধারকাজ চলবে। হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে গ্রিস ও ইতালির সেনা। তবে অন্ধকার ও ঝোড়ো হাওয়ায় কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ।

কয়েকশো গাড়ি ও যাত্রী নিয়ে গ্রিসের পাত্রাস থেকে ইতালির অ্যানকোনা যাতায়াত করে ২৭ হাজার টন ওজনের ‘নরম্যান আটলান্টিক’। রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পশ্চিম গ্রিসের ব্যস্ত বন্দর পাত্রাস ছেড়েছিল জাহাজটি। তাতে গাড়ি ছিল প্রায় দু’শো। সঙ্গে ৫৫ জন জাহাজকর্মী ও ৪২৩ জন যাত্রী। এদের মধ্যে ২৬৮ জন গ্রিক।

পুলিশ সূত্রে খবর, নীচের ডেকে গাড়ি রাখার জায়গাতেই রোববার ভোরে প্রথম আগুন লাগে। উপকূলরক্ষীরা জানান, কিছুটা পথ পাড়ি দেওয়ার পর কর্ফু দ্বীপের কাছে খারাপ আবহাওয়ার জন্য জাহাজটির সঙ্গে কিছুক্ষণ রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ফের যোগাযোগ করা যেতেই এল বিপদবার্তা ‘নীচের ডেকে আগুন!’ তত ক্ষণে হুড়োহুড়ি পড়েছে জাহাজের ডেকে। এক যাত্রী ফোন করে গ্রিসের একটি চ্যানেলে বলছেন, “আগুন লেগেছে। ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছি। বাঁচাও! আমাদের ফেলে যেও না!” অন্য এক যাত্রী জানালেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন তারা। ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। ডেকে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দেন অনেকে।

ডাঙা কাছেই। অথচ উদ্ধারকারী জাহাজ, বিমান কিছুই চোখে পড়ছিল না তখন! পরে গ্রিসের জাহাজমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই সময়ে হাওয়া বইছিল ঘণ্টায় প্রায় ৯০ কিলোমিটার বেগে। সমুদ্র ছিল অস্থির। আগুনও ছড়াচ্ছিল দ্রুত। তবে খবর পাওয়ার পর আর রওনা হতে দেরি করেনি নৌ ও বিমানবাহিনী। গোটা ছয়েক হেলিকপ্টার ও বেশ কয়েকটি জাহাজ পৌঁছনোর পর গতি আসে উদ্ধারকাজে। উঁচু ঢেউ থেকে ‘নরম্যান আটলান্টিক’-কে আড়াল করতে তার চারপাশে ব্যারিকেড করে দাঁড়িয়ে পড়ে অন্য জাহাজগুলি। যাত্রীদের উদ্ধারের পাশাপাশি আগুন নেভানোর কাজও চলতে থাকে পুরোদমে।

আপাতত আবহাওয়াই সবচেয়ে বড় শত্রু। তবে আশ্বাস দিয়েছেন গ্রিসের জাহাজমন্ত্রী। বলেছেন, “আগে কখনও এই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাইনি। সময় লাগছে ঠিকই। তবে আশা করি সকলকেই সাহায্য করতে পারব। ইতালির সেনাবাহিনীও ভালো কাজ করছে।” -সংবাদ সংস্থা

বিমান দুর্ঘটনা ভাবাত নিখোঁজ কর্মী অস্কারকে

মাত্র পাঁচ মাস আগে এক বিমান দুর্ঘটনার খবর শুনে একটা দীর্ঘ টুইট করেছিলেন তিনি। নিজে বিমানকর্মী। তাই এক বছরের মধ্যে দু’দু’টো বিমান বিপর্যয় হয়তো ছুঁয়ে গিয়েছিল তাকেও। গত ১৭ জুলাই ইউক্রেনের ডনেৎস্কে জঙ্গিদের ক্ষেপণাস্ত্রে যখন ধ্বংস হয় মালয়েশীয় বিমান সংস্থার দ্বিতীয় বিমানটি, airউৎকণ্ঠা আর চেপে রাখতে পারেননি তিনি। টুইটারে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেছিলেন। অস্কার দেসানো জানতেন না, বছর-শেষে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে তার জন্য। এয়ার এশিয়ার যে বিমানটি ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছে, দেসানো সেই ‘কিউজেড-৮৫০১’-এর কর্মী।

প্রথমে মার্চে মালয়েশীয় বিমান সংস্থার এমএইচ-৩৭০ কুয়ালা লামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে হারিয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি ওই বিমানের ২৩৯ জন যাত্রীর। তার পরে জুলাইয়ে ওই একই সংস্থার আর একটি বিমান ধ্বংস হয়ে যায় ইউক্রেনের আকাশে। মৃত্যু হয় ২৯৮ জনের।

কয়েক মাসের ব্যবধানে পর পর দু’টি বিমান বিপর্যয়ে খানিক শঙ্কিত হয়েছিলেন কি অস্কার? টুইটার অ্যাকাউন্টে ১৭ জুলাইয়ের পোস্টে ওই তরুণ বিমানকর্মী লিখেছিলেন, “মালয়েশীয় সংস্থার বিমান ধ্বংসের খবর শুনে খুবই দুঃখ পেয়েছি। এক বছরের মধ্যে ওই সংস্থার বড়সড় দু’টো বিপর্যয় ঘটে গেল। যাত্রীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা রইল। মৃতদের আত্মা শান্তি পাক। মালয়েশীয় বিমান সংস্থাও যেন সব বিপত্তি পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।”

তার পরের কয়েক মাস অবশ্য সব ঠিকঠাকই চলছিল। বড়দিনের আগে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েও টুইট করেছিলেন অস্কার। লিখেছিলেন বন্ধুকে নিয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। ঘুণাক্ষরেও জানতেন না, তার তিন দিনের মাথায় এয়ার এশিয়ার কিউজেড-৮৫০১-এর ১৫৫ জন যাত্রীর সঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যাবেন তিনিও। অস্কারের সঙ্গেই ওই বিমানে আরও ছয় কর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে খাইরুনিসা হায়দার ফাউজির মা রোহানা বিমান নিখোঁজের খবর শোনার পর থেকে শোকে পাথর। তবে সংবাদমাধ্যমের হাতে নিজের মেয়ের ছবি তুলে দিয়েছেন তিনি। তার এখন একটাই প্রার্থনা, যে করেই হোক, যেন খুঁজে পাওয়া যায় তার আদরের মেয়েকে। খাইরুনিসাদের দক্ষিণ সুমাত্রার বাড়িতে এখন পরিজনদের ভিড়। রোহানাকে যে সামলানো যাচ্ছে না!

শোকের বিপরীত স্রোতে আনন্দও আছে। সুরাবায়ার চন্দ্র সুশান্তের পরিবার এখন ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। স্ত্রী আর তিন ছোট ছোট সন্তানকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে বর্ষশেষের ছুটি কাটাতে যাওয়ার কথা ছিল চন্দ্র সুশান্তের। কিন্তু হঠাৎ চন্দ্রের বাবার শরীর খারাপ হওয়ায় গত কালই বিমানের টিকিট বাতিল করেন তারা। রোববার সকালে ঘুম ভাঙার পরে টিভি খুলে তাই চমকে গিয়েছিলেন চন্দ্র। টিভিতে খবর শুনে তার বোনও সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেন ভাইকে। চন্দ্র যে পরিবারের সঙ্গে বেরোননি, জেনে নিশ্চিন্ত হন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে চন্দ্র বলেছেন, “টিকিট বাতিলের খবর পেয়ে আমার ছেলে ক্রিস্টোফারের খুব মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ওই একটা ছুটির জন্য মুখিয়ে ছিল ও। কিন্তু আমাদের সকলের জীবন আজ থেকে পাল্টে গিয়েছে। ঈশ্বরের কাছে চির কৃতজ্ঞ হয়ে থাকব।”

বেঁচে থাকার বাঁধ ভাঙা আনন্দে একটা জিনিস ভোলেননি সুশান্তরা। পরিবারের সকলেই এখন প্রার্থনা করছেন, দ্রুত যেন নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজ মেলে।-সংবাদ সংস্থা

নিউএজ কার্যালয়ে পুলিশ

ইংরেজি দৈনিক নিউএজ এর কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালানোর চেষ্টা করে ফিরে গেছে। এ নিয়ে পত্রিকার কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতন্ডা হয়। তল্লাশির সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে না পারায় পুলিশকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি তারা।image_111909_0

রাত পৌনে নয়টায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার (ওসি) সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নিউএজ এর কার্যালযে প্রবেশ করে তল্লাশি করতে চায়। এ সময় সাংবাদিকরা পুলিশকে কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দিয়ে পুলিশের কাছে তল্লাশির কারণ জানতে চান। এ সময় পুলিশ কোনো লিখিত কারণ দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেছেন পত্রিকাটির সাংবাদিকরা। পরে পুলিশ তল্লাশি না করেই ফিরে যায়।

উল্লেখ্য, দৈনিক নিউএজে কর্মরত বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের শাস্তি নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এর সম্পাদকীয় মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।  রোববার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ বিস্ময় প্রকাশ করা হয়।বিবৃতির অনুলিপি ও নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এ ব্যাপারে পরবর্তী আদেশ দেয়া হবে। গত ২ ডিসেম্বর আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ইংরেজি দৈনিক নিউএজের বিশেষ প্রতিনিধি ডেভিড বার্গম্যানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে সাত দিনের কারাদ- দেয়া হয়। এ রায়ের পর নানা মহল থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস এ প্রকাশিত সম্পাদকীয় আমলে নিয়ে রোববার স্বপ্রণোদিত হয়ে আদেশ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে সম্পাদীয় মন্তব্য স্বীকৃত সীমার লংঘন। এটা দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি যে, প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস এর সম্পাদকীয় বোর্ড এমন মন্তব্য করতে পারে যে, ট্রাইব্যুনাল যে ন্যায় বিচারের সন্ধানে রয়েছে সে ন্যায় বিচার যদি তারা চায় তাহলে ট্রাইব্যুনালের উচিত অনতিবিলম্বে বার্গম্যানের শাস্তি প্রত্যাহার করা। এটা বুঝতে আমরা অক্ষম নিউইয়র্ক টাইমস এর মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদপত্র কিভাবে একটি স্বাধীন দেশের আদালতকে বার্গম্যানের সাজা প্রত্যাহার করতে বলতে পারে।

বায়ার্নে বার্সেলোনা স্টাইল এনে দিয়েছেন গার্দিওলা: সামীর

বায়ার্ন মিউনিখের স্পোর্টিং পরিচালক ম্যাথিয়াস সামীর বলেছেন, তার দলের কোচ পেপ গার্দিওলা বেভারিয়ান্সদের মধ্যে বার্সেলোনার স্টাইল ছড়িয়ে দিয়েছেন।

গত বছর বায়ার্নে নিজের অভিষেক বছরেই পেপের অধীনে বুন্দেসলিগার পাশপাশি ডিএফবি-পোকাল এর শিরোপা লাভ করে জার্মান জায়ান্টরা। কিন্তু শতভাগ সাফল্য সত্ত্বেও বার্সেলোনা সাবেক বস তার ফুটবলীয় নীতিতে কঠোর মনোভাব পোষণ করায় প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়ছেন। ক্যাম্প ন্যুতে image_111889_0চার বছর মেয়াদে তার জনপ্রিয় তিকি-তাকা মডেল দারুণ সফলতা পেলেও জার্মান লিগে তা কাজে এসেছে খুব কমই। অনেকেই মনে করেন পূর্বসুরী জুপ হেইঙ্কেসের অধীনে বায়ার্ন যেভাবে নিজেদের মেলে ধরে প্রথমবারের মতো ২০১৩-১৪ মৌসুমে ট্রেবল জয় করেছিল সেই স্টাইল বা কৌশল থেকে পেপ অনেকটাই সরে এসেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ৫-০ ব্যবধানের পরাজয় এখনো মানতে পারেনি জার্মান জায়ান্টরা। সেই পরাজয় সমালোচনার পালে আরো হাওয়া যোগ করেছে।

কিন্তু ডিসেম্বরেই ১১ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বুন্দেসলিগায় শীর্ষে থাকা দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে। আর এ কারণে সামীর ৪৩ বছর বয়সী গার্দিওলার প্রশংসাই করেছেন।ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কে তিনি বলেন, সে যথাযথভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে ফুটবলের প্রতি তার খেলোয়াড়দের শক্তিতে জড়ো করতে। কোনটা এ ব্যাপারে কাজে আসবে আর কোনটা আসবে না এ সম্পর্কে জানতে তার আরো কিছু সময় লাগবে। তার কিছু কিছু কৌশল সত্যিকার অর্থেই আমাদের কাজে এসেছে যা অসাধারণ।

একজন ব্যক্তি হিসেবে গার্দিওলার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই সামীর বলেছেন তার নীতি ক্লাবের নীতির সাথে একেবারে যথার্থভাবেই মিলে গেছে। তার সাথে কাজ করতে পারাটা সত্যিই আনন্দের। বায়ার্নের সাথেও সে দারুণভাবে মিশে গেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি তার কাজের প্রতি শতভাগ আস্থা রাখতে পারি। আমার সাথে তার সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ঠ।

বিশ্বকাপের পরে জার্মান দলের একের পর এক ব্যর্থতায় মোটেই ভীত না হয়ে সামীর বলেছেন ওটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশন ছিল। খেলোয়াড়রা এত বড় একটি আসরের পরে নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারেনি। কিন্তু গার্দিওলা তার অভিজ্ঞতা দিয়ে বায়ার্নের খেলোয়াড়দের ঠিকই এগিয়ে নিয়েছেন। সূত্র: ওয়েবসাইট

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে কিউইদের জয়ের পাল্লা ভারি

ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ফলোঅনে পড়া শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে সংগ্রহ করেছে ২৯৩ রান। ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনো লঙ্কানদের প্রয়োজন আরো ১০ রান। এ অবস্থায় ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট যে স্বাগতিকদের কথাই বলছে তা নিশ্চিত করে বলা যায়। আবার অন্যভাবেও বলা যায় এই টেস্টে কিউইদেরই জয়ের পাল্লা ভারি। কারণ এখনো খেলা বাকি আরো দুই দিন।image_111923_0

প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের করা ৪৪১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিনে ১৩৮ রানেই গুটিয়ে যায় লঙ্কানদের প্রথম ইনিংস। ফলোঅনে পড়া দ্বীপরাষ্ট্রটি দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিন শেষে করেছিলো বিনা উইকেটে ৮৪ রান। দুই ওপেনার দ্বিমুথ কারুনারত্নে ৪৯ এবং কুশল সিলভা ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।এ অবস্থা তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে সফরকারিরা। কুশল সিলভা আগের দিনের রানের সাথে আর কোনো রান না যোগ করেই বিদায় নিলে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। দলীয় রান তখন ৮৫। এরপর ৯ রান যোগ করতেই বিদায় নেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা। সাঙ্গাকারা ১ রানের বেশি এগুতে পারেননি। এরফলে মাত্র ৬ রানের জন্য টেস্টে ১২ হাজারি ক্লাবের পঞ্চম সদস্য হিসেবে নাম লেখাতে ব্যর্থ হন সাঙ্গাকারা।

সাঙ্গাকারার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন লাহিরু থিরিমান্নে। এই জুটি ৮৭ রান করে বিচ্ছিন্ন হন। থিরিমান্নে আউট হন ৩৩ রান করে। এরপর কারুনারত্নে অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে সাথে নিয়ে ৯৬ রানের আরো একটি কার্যকর পার্টনারশিপ গড়েন। ট্রেন্ট বোল্টের বলে সরাসরি বোল্ড হওয়ার আগে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান লঙ্কান বাঁহাতি ওপেনার দ্বিমুখ কারুনারত্নে। মূলত তার ৩৬৩ বলে ১৫২ রানের ইনিংসই লঙ্কানদের ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা এড়ানোর হাত থেকে বাঁচানোর কাছাকাছি নিয়ে আসে। ১৫২ রান সংগ্রহের পথে ১৭ বার সীমানার বাইরে বল পাঠান কারুনারত্নে।

আর ১০ রান যোগ করতেই ট্রেন্ট বোল্ড দিকওয়েলাকে নিসামের ক্যাচে পরিণত করলে পঞ্চম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। দিন শেষে ১২৫ ওভার মোকাবেলায় দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৯৩ রান সংগ্রহ করে লঙ্কানরা। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ৫৩ রানে এবং থারিন্ডু কুশল ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ দিকে ট্রেন্ট বোল্টের দুই উইকেট শিকারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে নিউজিল্যান্ডের হাতে।

লঙ্কানদের যে পাঁচ উইকেটের পতন ঘটেছে এরমধ্যে তিন উইকেটই শিকার করেন ট্রেন্ট বোল্ড। এছাড়া টিম সাউদি ও জেমক নিশাম একটি করে উইকেট নেন।

কিউই দলের উইকেটরক্ষক ওয়াটলিং বলেন, বোল্টের ওই দুই উইকেট কিউইদের ফের সঠিক পথে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন ফের সঠিক পথে ফিরে এসেছি, যার ফলে সহজ জয়ের প্রত্যাশায় রাতটি নির্ভার হয়ে কাটাতে পারব।

তারা কঠিন লড়াই করেছে এবং কিছু ভাল ক্রিকেট খেলেছে। কিন্তু পুরো দিনে তারা ৫ উইকেটের বিনিময়ে ২০০ রান সংগ্রহ করেছে। যে কারণে এখনো আমাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তাই বলা যায় দিনটি আমাদের জন্য ভালোই কেটেছে। সূত্র: ক্রিকইনফো

বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: ওয়াং

সফররত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের চাহিদায় তার দেশ সবসময় পাশে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে বিকেলে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।ওয়াং বলেন, “বাংলাদেশকে ২০২১ সালে একটি মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করতে চীন সব ধরণের সহযোগিতা করবে।”image_111933_0

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এবং চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ছয় বছর ধরে দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের যে ব্যাপক উন্নয়ন এবং অগ্রগতি হয়েছে তার প্রশংসা করেন।”

তিনি বলেন, “সব ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়নের কারণে এই অঞ্চলে বাংলাদেশ একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিনত হয়েছে।”

উন্নয়নের যে স্বপ্ন তা বাংলাদেশ ও চীনের একই, বাংলাদেশ যদি কার্যকরভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তার সব সামর্থ্য এবং শক্তি ব্যবহার করে তাহলে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বলে ওয়াং ই আশা প্রকাশ করেন।

আঞ্চলিক সহযোগিতার ব্যাপারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ, চীন ও ভারতের মতো দেশের সমস্যা প্রায় একই ধরনের।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে একটি সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে।”

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এই অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি কাঙ্খিত উন্নয়ন অর্জনে বাংলাদেশ আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন।

ওয়াং ই বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত সামগ্রি আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, “চীন কৃষিখাতে প্রযুক্তি সহায়তাসহ বাংলাদেশকে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজ সরবরাহে প্রস্তুত।”

বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের জন্য চীনা উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, চীনের উচিত বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করা।

শেখ হাসিনা বলেন, “উভয় দেশ দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য অর্জনে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে এবং সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সহ কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।”

বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশসমূহের বৃহত্তর স্বার্থে সম্পর্ক দৃঢ় করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চায় আগামিবছর দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী যেন উপস্থিত থাকেন।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, ওই সময় বাংলাদেশ সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট চট্টগ্রামে কর্নফুলী নদীর তলদেশে নির্মিতব্য টানেল-এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন।”

শেখ হাসিনা বলেন, “চীন উন্নয়নের একটি ‘রোল মডেল’ এবং বাংলাদেশ তাদেরকে অনুসরন করবে। তিনি বলেন, ‘চীনের উন্নয়ন মানে এশিয়ার উন্নয়ন।”

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের কথা স্মরন করে বলেন, এই সফরগুলো দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আবুল কালাম আজাদ, চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

শিশুদের সাথে দিন কাটালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রোববার বঙ্গভবনে একদল শিশুর উদ্দেশ্যে বলেছেন, “তোমাদের দেশকে ভালোবাসতে হবে। দেশের গর্বিত নাগরিক হিসেবে তোমাদের নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে, কেননা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি তোমাদের মধ্য থেকেই হবে।”image_111910_0

রাষ্ট্রপতির অতিথি হিসেবে এসব শিশু রোববার বঙ্গভবনে দিন অতিবাহিত করে।রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের অতিথি হিসেবে কয়েকজন সুবিধা বঞ্চিত সহ ২৬০ জন শিশু  তার সাথে দুপুরের খাবার গ্রহণ করে এবং তাকে শিক্ষা থেকে শৈশব পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করে।

রাষ্ট্রপতি শিশুদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বলেন, “এখনও আমি ছাত্র এবং তোমরা সবাই আমার শিক্ষক।”

আজিমপুর শিশু বিকাশ একাডেমির দশ বছর বয়সি শিশু স্মৃতি বলে, “আমি আজ খুবই উদ্দীপ্ত ও আনন্দিত। আমি কখনোই দেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা কল্পনা করিনি।”

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবভবনে ‘রাষ্ট্রপতির সাথে শিশুদের সাক্ষাৎ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিশুরা রাষ্ট্রপতির বাবভবনের সবুজ মাঠে দৌড়, বল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে।

রাষ্ট্রপতি এবং অন্যান্য দর্শক-শ্রোতাদেরকে তারা নিজেদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিমোহিত করে তোলে। শিশুদের পরিবেশিত রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল গীতি, লালন গীতি, দেশাত্মবোধক ও লোকগান এবং নৃত্যনাট্য দর্শক-শ্রোতাদের ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, “তোমরা খুবই ভাগ্যবান যে, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে তোমরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারছো। আমি মনে করি এটা তোমাদের জীবনের একটি স্মরণীয় ও ব্যতিক্রমি ঘটনা।”

আবদুল হামিদ বলেন, “আমরা একটি পরাধীন দেশের নাগরিক ছিলাম। বঙ্গভবনের মতো রাজকীয় প্রাসাদে আমরা প্রবেশের চিন্তাও করতাম না। আমাদের বাক্ স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিলনা এবং সংস্কৃতির চর্চাও কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ ছিল।”
তিনি বলেন, “কিন্তু তোমাদের বাক্ স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংস্কৃতি চর্চার স্বাধীনতা এখন সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত।”

স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, “তোমাদের সাথে আজ সময় কাটিয়ে, আমি শৈশবের নস্টালজিয়ায় আপ্লুত হয়ে পড়েছি। তোমরা জানো আমি কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকা থেকে এসেছি।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বেড়ে উঠেছি। হাওরের ঢেউ, প্রকৃতি ও পাখিরা ছিল আমার শৈশবের বন্ধু এবং সংগ্রাম ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ”।

তিনি বলেন, “যদিও আমি এখন আমার কর্তব্য ও দায়িত্বের জন্য বঙ্গভবনে বসবাস করছি কিন্তু আমি সব সময় আমার জন্মস্থানকে অনুভব করি এবং সুযোগ পেলেই আমার গ্রামের বাড়িতে ছুটে যাই।”
শিশুদেরকে তাদের গ্রামের বাড়িতে স্বত:স্ফূর্তভাতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “তোমাদের অধিকাংশই শহরে বেড়ে উঠছ, কিন্তু তোমাদের নানা-দাদা এবং নানী-দাদীরা গ্রামে বসবাস করেন। তোমরা দেখতে তোমাদেরকে পেয়ে তারা কেমন খুশি হন!”।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তৃতায় চার বছর বয়সি শিশু জিহাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। শনিবার রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনীর পরিত্যক্ত পানির পাম্পের গভীর থেকে জিহাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি জিহাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শিশুরা তাদের আঁকা একটি ছবি রাষ্ট্রপতিকে উপহার দেয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান সেলিনা হোসেন।–বাসস

কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ আজ দুই দেশের জনগণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে মায়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বাংলাদেশে সফররত চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বঙ্গভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এ কথা বলেন।বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ কথা জানান।image_111915_0

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার (বিসিআইএম) নিয়ে বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোর গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালনে চীনের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে শ্রম নির্ভর শিল্প কারখানা গড়তে চীন সরকার তাদের দেশের আরো বেশি ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ওয়াং ই বলেন, ‘অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য আমাদের আরো ঘনিষ্ঠ ও সহযোগিতার অংশীদারিত্ব তৈরি করতে হবে।’

পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম এবং রাষ্ট্রপতির দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।–বাসস