সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

দোরিভালের বিদায়ে আলোচনায় যাদের নাম

আর্জেন্টিনার কাছে ৪-১ গোলের লজ্জাজনক হারের পর ব্রাজিল কোচ দোরিভাল জুনিয়রকে ছাঁটাই করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। এক বিবৃতিতে সিবিএফ জানিয়েছে যে, ‘কোচ দোরিভাল জুনিয়র আর ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্বে নেই। বোর্ড তাকে (দোরিভাল) ধন্যবাদ জানাচ্ছে এবং তার ক্যারিয়ারের সাফল্য কামনা করছে … সিবিএফ তার স্থলাভিষিক্ত খুঁজে বের করতে কাজ করবে।’

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন ৬২ বছরের দোরিভাল।
তবে ১৫ মাসের বেশি স্থায়ী হতে পারেননি তিনি। গত বছরের মার্চে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজের যাত্রা শুরু করা দোরিভাল ১৬ ম্যাচে সেলেসাওদের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ৭ জয় এবং ৭ ড্রয়ের পাশাপাশি হেরেছেন ২টি ম্যাচ। ২৫ গোল দেওয়ার বিপরীতে হজম করেছে ১৭ গোল। এর মধ্যে আছে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে বিদায়ের ব্যর্থতাও।

দোরিভাল জুনিয়রের বিদায়ের পর ব্রাজিল কোচের উত্তরসূরি কে হবেন তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এই তালিকায় সম্ভাব্য কোচ হিসেবে শোনা যাচ্ছে কার্লো আনচেলত্তির নাম। আনচেলত্তিকে অবশ্য অনেক দিন ধরেই নাকি পেতে আগ্রহী ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। যদিও এই কোচের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের চুক্তি আছে এই মৌসুমের শেষ পর্যন্ত।

পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে আছেন পর্তুগিজ কোচ হোর্হে জেসুসও। জেসুস বর্তমানে আল হিলালের কোচের দায়িত্বে আছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে কোচ হবেন, সেটা জানতে আরো কিছু সময় হয়তো অপেক্ষা করতে হবে।

ঈদে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে কাজ করছে পুলিশ-বিজিবি-আনসার : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ঈদে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে ঢাকায় পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন ভালো থাকে এ জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (২৯ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ঢাকায় কোনো ধরনের নাশকতার হুমকি নেই।
কোনো হুমকি থাকলে সেটা সবাইকে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে। জনগণ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করলে কেউ নাশকতা করতে পারবে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার ঈদে সবাই ছুটি ভোগ করছে, কিন্তু পুলিশ, বিজিবি ও আনসার ছুটি কাটাচ্ছে না। তারা কিন্তু নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ঢাকায় কাজ করছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন ভালো থাকে এ জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা যেন ভালোভাবে যেতে পারেন। আপনাদের বাসাবাড়ি ভালো থাকে। এ জন্য তারা সব ধরনের কাজ করে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকারের উদ্যোগ ছিল বলেই মানুষ এবার স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারছে। আমরা চেষ্টা করছি, তারা যেন ভালোভাবে বাড়ি যেতে পারে এবং ভালোভাবে আবার ঢাকায় ফিরে আসতে পারে।

খেলোয়াড়-কোচরা কেউই বোনাস পাওয়ার যোগ্য নন, বলছেন গার্দিওলা

সর্বশেষ কয়েক বছর স্বপ্নের মতো কেটেছে ম্যানচেস্টার সিটির। ক্লাবকে শিরোপা এনে দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে বোনাসে পকেট ভরেছে খেলোয়াড়সহ কোচিং স্টাফদের। সঙ্গে পারিশ্রমিক তো ছিলোই।

তবে ম্যানসিটির সেই সুসময় এখন অতীত।
বর্তমান মৌসুমে ছন্নছাড়া একদল তারা। একে একে সব মেজর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে তারা। এমনকি সর্বশেষ চার মৌসুম ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা টুর্নামেন্টে এবার শীর্ষ চারে থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে পারবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের কারণে যারপরনাই হতাশ সিটিজেনদের কোচ পেপ গার্দিওলা।
তাই এবারের মৌসুমে যদি দল ক্লাব ফুটবল কাপে চ্যাম্পিয়নও হয় তবুও তারা বোনাস পাওয়ার যোগ্য নন বলে মনে করেন তিনি। আগামী পরশু বোনমাউথের বিপক্ষে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ খেলতে নামার আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ।

বোনাসের বিষয়ে গার্দিওলা বলেছেন, ‘এই মৌসুমে আমরা এটা পাওয়ার যোগ্য নই। আমরা কেউই বোনাস পাওয়ার যোগ্য নই।
যদি জিতি জানি না কত পাবো তবে এটা ক্লাবের। ম্যানেজার, ব্যাকরুম স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা কেউ পাওয়ার মতো যোগ্য নয়।’ ক্লাব বিশ্বকাপে যে দল চ্যাম্পিয়ন হবে তারা ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পাবে।

ফের বাড়ল সোনার দাম

দেশের বাজারে আবারো বাড়ল সোনার দাম। নতুন করে প্রতি ভরিতে ভালো মানের সোনার (২২ ক্যারেট) দাম এক হাজার ৭৭৩ টাকা বেড়ে এক লাখ ৫৭ হাজার ৮৭২ টাকা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার থেকে সারা দেশে সোনার নতুন এ দর কার্যকর হবে।

আজ শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনার এ মূল্য বৃদ্ধির তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।

নতুন মূল্য অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে এক লাখ ৫০ হাজার ৬৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬ হাজার ৫৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে, অপরিবর্তীত রয়েছে রুপার দাম। ক্যাটাগরি অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি দুই হাজার ৫৭৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি দুই হাজার ৪৪৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি দুই হাজার ১১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫৮৬ টাকা।

নির্বাচন পরবর্তীতে সংস্কার হবে না : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই বিচার, সংস্কার এবং গণ পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান তৈরির কথা বলেছি। আমরা মনে করি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার ছাড়াই যদি আমরা নির্বাচনের দিকে যাই তাহলে নির্বাচন পরবর্তীতে যে সরকার আসবে তারা যে সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান রাখবে সে নিশ্চয়তা আমাদের নেই। তাই আমরা চাই বিদ্যমান আইনের মধ্যেই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচার করতে হবে।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন বিজয় সৌধ চত্বরে এনসিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি তরুণদের উদ্যোগে গঠিত একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সৃষ্টির জন্য কাজ করছে। আমরা বলেছি রাষ্ট্রের সংস্কার হতে হবে, রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন হতে হবে, কারণ পরিবর্তনের জন্যই এই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। যদি সংস্কার ও পরিবর্তন না হয়, তাহলে কেন এতো মানুষ জীবন দিলেন, কেন এতো মানুষ রক্ত দিলেন। আমরা দেখছি অনেকে সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচনের দিকে যেতে চাচ্ছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সিরাজগঞ্জের মানুষের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম আগামীতে সকলকে ঐক্যবন্ধ থাকার আহবান জানিয়ে সিরাজগঞ্জবাসীকে অগ্রীম ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার, এসএম সাঈদ মোস্তাফিজ, উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠক জুথি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিরাজগঞ্জের আহ্বায়ক সজীব সরকার, মুখপাত্র টি এম মুশফিক সাদ, আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্য নেহাল, ফজল হোসেন ও মহসিন রেজা প্রমুখ।

রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়াল

ঈদের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

চলতি মার্চ মাসে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। এই রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে সুখবর দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, দেশের মোট রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

রমজান মাস ও ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ মাসের প্রথম ২৬ দিনে ২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো মাসের জন্য সর্বোচ্চ।

তবে ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) এর অধীনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পদ্ধতি অনুসারে, বাংলাদেশের নেট রিজার্ভ বর্তমানে ২০ দশকি ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বেইজিংয়ের কাছে ৫০ বছরের পানি ব্যবস্থাপনার মহাপরিকল্পনা চেয়েছে ঢাকা

নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদী ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য চীনের কাছ থেকে ৫০ বছরের মহাপরিকল্পনা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ শুক্রবার চীন সফরের তৃতীয় দিনে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওয়িংয়ের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ অনুরোধ জানান তিনি। বেইজিংয়ের একটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রফেসর ইউনূস চীনের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে বলেন, ‘কিছু জটিল পানি সমস্যা মোকাবেলায় চীন আশ্চর্যজনক সাফল্য পেয়েছে।
আমাদের সমস্যা আপনাদের মতোই। তাই, আপনার অভিজ্ঞতা জানালে আমরা খুশি হব।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ; আমাদের দেশে শত শত নদী রয়েছে। পানি আমাদের জীবন-জীবিকার মূল, কিন্তু কখনো কখনো এটি শত্রুতে পরিণত হয়।
এখন যেহেতু জনসংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই এটি বাস্তুতন্ত্রের জন্য কী ধরণের ক্ষতি করতে পারে সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

‘চীনকে পানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ কারিগর’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে।’

তিনি পানি ব্যবস্থাপনায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভিশন বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে আপনার কাছ থেকে শিখতে এসেছি: কীভাবে আমরা পানি সম্পদকে মানুষের জন্য উপযোগী করে তুলতে পারি।
’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের চাহিদার কারণে নদীর ধারে জমি দখল বাড়ছে। উজানের দেশ ভারতেও একই ধরনের উন্নয়ন সমস্যায় পড়ছে। পলি জমে নদীর মাঝখানে চর জেগে উঠছে, যা কখনও কখনও নদীগুলোকে সংকুচিত করছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনা একই রকমের চ্যালেঞ্জ।’

বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ নদী সমতল ভূমি যা দেশের জন্য পানি ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলেছে জানিয়ে তিনি বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি চীনের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা দিয়েছেন যার মাধ্যমে চীন পানি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারছে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা তৈরিতে আপনার সাহায্যের প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সমস্যা কেবল একটি নদী নিয়ে নয় বরং সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায়।’

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা এবং ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোর দূষিত পানি পরিষ্কারকরণের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে সহায়তা চান প্রধান উপদেষ্টা।

চারদিনের সফরে বর্তমানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সফরে তিনি চীনের নেতা এবং বিনিয়োগকারীদের সাথে একাধিক বৈঠক করেছেন।

২.১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি চীনের

চীন সরকার ও দেশটির কম্পানিগুলোর কাছ থেকে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার শুক্রবার (২৮ মার্চ) এর তথ্য জানান।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানোর পর প্রায় ৩০টি চীনা কম্পানি চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চীন মংলা বন্দর আধুনিকীকরণ প্রকল্পে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার, চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার এবং কারিগরি সহায়তা হিসেবে আরো ১৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
বাকি অর্থ অনুদান এবং অন্যান্য ধরণের ঋণ হিসেবে আসবে।

প্রধান উপদেষ্টার চারদিনব্যাপী প্রথম দ্বিপাক্ষিক চীন সফর প্রসঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও জয়েন বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সফর।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এই সফর বাংলাদেশের প্রতি চীনা বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় ড. ইউনূস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বাংলাদেশে চীনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের জন্য সবুজ সংকেত দেওয়ার অনুরোধ করেন।

আশিক চৌধুরী জানান, প্রেসিডেন্ট শি চীনা কম্পানিগুলোকে তাদের উৎপাদন কেন্দ্র বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে উৎসাহিত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, এই সফর চীনের অনেক কম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার। এ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক।

শুক্রবার ড. ইউনূস এবং আশিক চৌধুরী বেইজিংয়ে তিনটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে বিশ্বের বৃহত্তম কিছু কম্পানিসহ ১০০টিরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে উন্নত বস্ত্রশিল্প, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তি পেলেন আলভেস

ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তি পেলেন দানি আলভেস। দোষী প্রমাণিত হওয়ায় গত বছর বার্সেলোনার একটি আদালত তাকে সাড়ে ৪ বছরের সাজা দিয়েছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে মামলায় জয়ী হয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক ডিফেন্ডার।

আলভেসকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে কাতালুনিয়া অঞ্চলের সর্বোচ্চ হাইকোর্ট জানিয়েছেন, মূল রায়ে ‘অসঙ্গতি ও বৈপরীত্য’ পাওয়া গেছে।
মামলার রায়ে বলা হয়েছে, ‘আগের রায়ে অনেক ফাঁকফোকর, অসম্পূর্ণতা, অসঙ্গতি ও সাংঘর্ষিক বিষয় পেয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। যার ভিত্তিতে বিচারিক মূল্যায়ন এবং নিষ্পত্তির পথে হেঁটেছেন।’

রায়ে আলভেস খুশি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক বার্সেলোনার আইনজীবী ইনেস গার্দিওলা। তিনি বলেছেন, ‘ভীষণ আনন্দিত দানি আলভেস।
সে নির্দোষ।’

মামলায় খালাসের সঙ্গে আলভেস ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকেও মুক্তি পেয়েছেন। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণের মামলা করেন। অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনার একটি নৈশক্লাবে তাকে ধর্ষণ করেন আলভেস।
সেই মামলায় গত বছর সাড়ে ৪ বছরের শাস্তি পান তিনি। সঙ্গে ৪১ বছর বয়সী ডিফেন্ডারকে ১ লাখ ৫০ হাজার ইউরো দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে আপিল করে ১ মিলিয়ন ইউরো জমা দিয়ে জামিন নেন সাবেক বার্সেলোনা-জুভেন্টাসের ডিফেন্ডার। তার আগে অবশ্য ১৪ মাস জেল খাটতে হয়েছে তাকে।

ঢাকা ও বেইজিং জলবিদ্যুৎ-পূর্বাভাস ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহযোগিতা জোরদার করবে

বাংলাদেশ ও চীন জলবিদ্যুৎ, পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ হ্রাস, নদী খনন, পানি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে।

আজ শুক্রবার উভয় পক্ষ ইয়ারলুং জাংবো-যমুনা নদীর জলবিদ্যুৎ তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমনওইউ) বাস্তবায়ন পরিকল্পনা স্বাক্ষরকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনে সরকারি সফরে রয়েছেন।

বাংলাদেশ ও চীনের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনঃসংস্কার প্রকল্পে চীনা কম্পানিগুলোর অংশগ্রহণকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছে।
উভয় পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং নীল অর্থনীতিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সম্মত হয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন সমুদ্র সংক্রান্ত বিষয়ে বিনিময় জোরদার করতে এবং উপযুক্ত সময়ে সামুদ্রিক সহযোগিতা সংক্রান্ত নতুন সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এশিয়ার বোয়াও ফোরামের মহাসচিবের আমন্ত্রণে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ২৬ ও ২৭ মার্চ চীনের হাইনান প্রদেশে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন।

এরপর, চীন সরকারের আমন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টা ২৭ থেকে ২৯ মার্চ বেইজিং সফরে রয়েছেন।

আজ শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শ্যুয়েশিয়াং বোয়াও ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এছাড়া চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং বেইজিংয়ে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে, দুই পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা করে এবং ব্যাপক সমঝোতায় পৌঁছায়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন।

প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চীন স্বাগত জানিয়ে গতবছরের আগস্ট থেকে সরকারের গৃহীত সংস্কার কর্মসূচি ও অগ্রগতির প্রশংসা করেছে।

একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে গভীর আগ্রহী চীন।

উভয় পক্ষ সমগ্র কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব আরও সুসংহত ও গভীর করার জন্য সমান প্রতিশ্রুতি পুনরায় নিশ্চিত করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয় উভয় দেশ একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছরে, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবসময় শক্তিশালী ও স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে গেছে।

উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতির প্রতি অটল থাকার, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব এগিয়ে নেওয়ার, রাজনৈতিক পারস্পরিক বিশ্বাস দৃঢ় করার, উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় গভীর করার এবং বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

এতে উভয় দেশের জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল নিশ্চিত করা যাবে বলে তারা আশাবাদী।

প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের ঐতিহাসিক সময়ে উভয় পক্ষ পরস্পরের প্রধানতম স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়ে পারস্পরিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে চলে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে শ্রদ্ধা করে এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষায় সমর্থন প্রদান করে।

চীন বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনভাবে নির্ধারিত উন্নয়ন পথকে সম্মান করে এবং বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন পথ অনুসন্ধানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, চীন সবসময়ই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতির অনুসারী এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে কার্যকর শাসন পরিচালনা, জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমর্থন দিয়ে আসছে।

উভয় পক্ষ জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বাস্তবিক বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বৃহত্তর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।

উভয় দেশ সমতার ভিত্তিতে শৃঙ্খলাপূর্ণ বহুপক্ষীয় বিশ্ব ও সর্বজনীনভাবে উপকারী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

উভয় পক্ষ জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক কাঠামোর আওতায় সমন্বয় আরও জোরদার করার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর যৌথ স্বার্থ রক্ষার এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা সমুন্নত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

মিয়ানমার সংকট ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের ভূমিকা বাংলাদেশ মিয়ানমারের শান্তি আলোচনায় চীনের গঠনমূলক ভূমিকা এবং রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের সমস্যা সমাধানে চীনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে।

চীন রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত জনগণকে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে এবং বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

চীন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের জনগণকে তার ও বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের প্রতি উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে চীনা নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।