সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হচ্ছেন ড. ইউনূস

বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২ এপ্রিল) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান। তাই সব দেশের প্রধানদের সঙ্গে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা দরকার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক যাবেন প্রধান উপদেষ্টা। সম্মেলনের প্রথমদিন ইয়ুথ কনফারেন্সে যোগ দেবেন তিনি। পরদিন সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।

এতে আরো জানানো হয়, সেখানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে পারে।
এ ছাড়া সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সম্মেলনে তিনটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম ও ডেপুটি প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার বাংলার মাটিতেই হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘ভারতে বসে শেখ হাসিনা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন। আমরা শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ আনাসের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে শপথ নিয়েছি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার বাংলার মাটিতেই করা হবে। আমাদের জীবনের বিনিময়ে হলেও আমরা তাদের বিচার করব।
দিল্লি থেকে কোনো নসিহত বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।’

বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা জরিপ বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে যেসব শহীদের রক্তের ওপর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে, তাদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে তার আত্মীয়-স্বজনদের দেশ ছাড়ার সিগন্যাল দিয়েছিলেন।
দেশে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিপদে রেখে হাসিনা ও তার আত্মীয়-স্বজন সবাই পালিয়ে গেছেন।’

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যতই ষড়যন্ত্র করুক ফ্যাসিবাদী খুনিদের বিচার আমরা করবই। দিল্লিতে বসে করা কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের মানুষকে সেই বিচার থেকে পেছনে ফেরাতে পারবে না।
’

জরিপ বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মেহাম্মদ নসরুল্লাহ। দিনব্যাপী পুনর্মিলনী আয়োজনে কলেজের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক ও ব

প্রসিকিউশনের হাতে শেখ হাসিনার মামলার খসড়া তদন্ত রিপোর্ট : চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলার খসড়া তদন্ত রিপোর্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বুধবার (২ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, একাধিকবার অপরাধ প্রমাণে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে খসড়া তদন্ত রিপোর্টে। পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
চূড়ান্ত তালিকা পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তবে খসড়ার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফরমাল চার্জ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গত ২৭ মার্চ চিফ প্রসিকিউটর জানান, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের কমান্ড রেসপনসিবিলিটির মামলায় সবচেয়ে বেশি ডকুমেন্ট জড়িত। তিনি বলেন, ‘সেটারও চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে।
আশা করছি, ঈদের পর সেটাও চলে আসবে। কারণ শেখ হাসিনার কমান্ড রেসপনসিবিলিটি প্রমাণ করার জন্য সব মামলার সারসংক্ষেপ এখানে চলে আসবে। এর বাইরে কেন্দ্রীয় ব্যাপারস্যাপার আসবে। এটা অনেক বড় মামলা।
সে জন্য একটু বেশি সময় লাগছে। আশা করছি, ঈদের পরপরই এটাও চলে আসবে।’

অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক দিক দিয়ে সরকার এখন অনেকটা প্রতিষ্ঠিত : প্রেসসচিব

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়েও সরকার এখন অনেকটা প্রতিষ্ঠিত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেসসচিব শফিকুল আলম। দেশের পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রেসসচিব বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার এখন অনেক গোছানো। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সবাই অনেকটা উদ্বিগ্ন ছিল, সেই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
পুরো রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়েও সরকার এখন অনেকটা প্রতিষ্ঠিত।’

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ টোয়েন্টিফোরের ‘গল্পের ঈদ’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রেসসচিব শফিকুল আলম। এ সময় সঙ্গে তার স্ত্রী সাবিনা জাহান লুনাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি পেশায় একজন শিক্ষক।

প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদিও স্যার (প্রধান উপদেষ্টা) বলেন, আমরা এখনো একটা যুদ্ধ অবস্থায় আছি। তবে আমরা মনে করি, আগস্টে আমরা যে জায়গায় ছিলাম, সেখান থেকে বড় একটা উত্তরণ হয়েছে।’

চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, ‘স্যারের কথা হচ্ছে—ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে, যদি রাজনৈতিক দলগুলো কম সংস্কার চায়। নতুবা এটা ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে যেকোনো সময় হতে পারে। সেটি ফেব্রুয়ারি হতে পারে, মার্চে হতে পারে—এটি দলগুলোর সঙ্গে আলোনা করে বোঝা যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি আছে বলে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন অনেক জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব বলেন, ‘অর্জনটা আসলে অনেক, তবে দৃশ্যমান নয়।
অর্জনটা আমি দেখি, একটা রেভল্যুশন হলে বিপ্লব হলে যেই ধরনের কেওয়াচ তৈরি হয়, সিচুয়েশন তৈরি হয়, সেই জায়গাটা তো বাংলাদেশের মানুষ উইটনেসই করেনি। এটা না করার মূল কারণ হচ্ছে প্রফেসর ইউনূসের লিডারশিপের গুণ। দেখেন, উনি কিভাবে এই পুরো সিচুয়েশনগুলো হ্যান্ডল করলেন। আমরা ম্যাসিভ বিদেশি আউটপোরিং অব সাপোর্ট পেয়েছি, প্রচুর সাপোর্ট আমাদের এসেছে। বাংলাদেশকে নতুন করে সবাই চিনছে। আমাদের ইকোনমি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, ল অ্যান্ড অর্ডার আমি বলব যে বেটার দিকে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে অন্তর্বর্তী সরকার যে বাংলাদেশকে সমর্পণ করবে, সেটি আমার মনে হয় খুবই বেটার ও হেলদি অবস্থায় থাকবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় পুলিশ বাহিনীর মধ্যে কনফিডেন্স যত দ্রুত আনা প্রয়োজন ছিল, সেটি আমরা পারিনি। এই জায়টায় আমাদের অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। মাসখানেকের মধ্যে এটিও ঠিক হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্নের কথা জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশটা একদিন অনেক অনেক বড় হবে। আমি মনে করি, ২০-৪০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি ধনী দেশ হবে। খুব সমৃদ্ধ একটি সভ্যতার অংশ হবে।’

‘স্বাধীনতা দিবস’-এ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিতে প্রস্তুত ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ বুধবার ‘স্বাধীনতা দিবস’-এর দিন নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিতে প্রস্তুত। তিনি এই বুধবারকে ‘লিবারেশন ডে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ বা পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপে করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, এই শুল্কের ফলে সব দেশই প্রভাবিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক বিভিন্ন দেশের পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ করেছেন। চীন থেকে শুরু করে কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের ঐতিহাসিক মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্রতর হচ্ছে, তাই সবার দৃষ্টি বুধবারের দিকে। এ নিয়ে শেষ মুহূর্তে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
এর ফলে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধ সূত্রপাত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিটের বাজার বন্ধ হওয়ার পর স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ট্রাম্প তার প্রস্তাবগুলো নিয়ে বৈঠক করবেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যায্য বিদেশি প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করবেন এবং মার্কিন শিল্পের একটি নতুন ‘স্বর্ণযুগ’ তৈরি করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ছোট-বড় সব দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করবেন।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বন্ধু ও শত্রু উভয়ের সঙ্গেই আমেরিকার বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবেলায় এটিই একমাত্র হাতিয়ার। তিনি আরো যুক্তি দিয়েছেন, শুল্ক মার্কিন শিল্পগুলোকে অন্যায্য বিদেশি প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা জোর দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত হারে বিস্তৃত শুল্ক বিপরীতমুখী হতে পারে।

সমালোচকরা বলছেন, আমদানিকারকরা এই খরচ বহন করলে শুধু মার্কিন ভোক্তাদের ওপরই এর প্রভাব পড়বে না, বরং তারা দেশে ও বিদেশে ক্ষতিকর মন্দার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক দিন আগে থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

অর্থনীতিবিদ সতর্ক করে দিয়েছেন, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে। আবার বিভিন্ন দেশও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে অন্য দেশগুলো যে ধরনের শুল্ক আরোপ করে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শুল্ক আরোপিত হবে বলেই ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন।

এদিকে সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন মিডিয়া জানিয়েছে, ট্রাম্প ২০ শতাংশ শুল্ক কমানোর কথাও বিবেচনা করছেন এবং কিছু দেশের ওপর অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে ঘোষণার প্রাক্কালে শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। তিনি আরো জানান, বুধবারের ঘোষণার পরে ‘অবিলম্বে’ শুল্ক কার্যকর হবে। ট্রাম্প জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে বেশ কয়েকটি শুল্ক ঘোষণা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। তবে তার পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

সূত্র : এএফপি

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গি সমস্যা উত্থিত হয়নি : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে কোনো জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত সমস্যা উত্থিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

ঈদুল ফিতরের পর আজ বুধবার রাজধানীর খিলক্ষেত, বাড্ডা, ভাটারাসহ বিভিন্ন থানায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কার্যক্রম পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তবে দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে কোনো উদ্বেগ দেখছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

থানা পরিদর্শন নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকের থানা পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিলো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাদের খোঁজ-খবর নেওয়া।’

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই উন্নতি অব্যাহত থাকবে।’

চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় ওয়ানডে সিরিজও হারল পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডে সিরিজেও হারল পাকিস্তান। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের ২৯২ রান তাড়া করতে নেমে ৯ রান তুলতেই নেই পাকিস্তানের তিন উইকেট। সেখান থেকে ৩২ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে রিজওয়ানের দল। তবে পাকিস্তান যে ২০৮ রান পর্যন্ত তাদের স্কোর নিতে পেরেছে সেটি মূলত ফাহিম আশরাফ ও নাসিম শাহর কল্যানে।
দুজনের ফিফটিতে হারের ব্যবধান কমাতে পারলেও সিরিজ আর বাঁচাতে পারেনি পাকিস্তান।

হ্যামিলটনে বুধবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ড জিতেছে ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে। নেপিয়ারে প্রথম ম্যাচ ৭৩ রানে জেতার পর আজকের ম্যাচেও ৮৪ রানের জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজও নিজেদের করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান অলআউট হয়েছে ৪১.২ ওভারে ২০৮ রানে।
২৯৩ রানের বড় রান তাড়ায় শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ৯ রানের মধ্যে হারায় আবদুল্লাহ শফিক, ইমাম-উল-হক ও বাবর আজমের উইকেট। বিপদ আরো বাড়ে ৩২ রানের মধ্যে অধিনায়ক রিজওয়ান ও সালমান আগাকে হারালে। এর পরেই ব্যাটিংয়ে আসেন ফাহিম আশরাফ।
তাইব তাহিরকে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ১৩ রান করে ফিরেন তাহির। মোহাম্মদ ওয়াসিমও সঙ্গ দিতে পারেননি ফাহিমকে। ৭২ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হারিস রউফ, আকিব জাভেদ ও নাসিম শাহকে নিয়ে ১০২ রান তুলেন ফাহিম। নবম উইকেট হিসেবে ৭৩ রান করে যখন এই অলরাউন্ডার আউট হন তখন দলীয় রান ১৭৪। সেখান থেকে শেষ উইকেট জুটিতে দলকে দুই শ পারে করেন মূলত নাসিম শাহ।
৪৪ বলে ৫১ রান করেন এই বোলার।

পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে ৫৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে কিউদের সেরা বোলার সিয়ার্স।

সেডন পার্কে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ড ৬ ওভারে ৫৪ তোলার পর পথ হারায়। ১৩২ রানে পড়ে যায় ৫ উইকেট। এরপর মোহাম্মদ আব্বাস-হেয় মিলে গড়েন জুটি। ৮০ বলে ৭৭ রানের জুটি খেলায় ফেরায় স্বাগতিক দলকে। ৭৮ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মিচেল হে। মুহাম্মদ আব্বাস খেলেন ৬৬ বলে ৪১ রানের ইনিংস। টেল এন্ডারদের নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে তিনশোর কাছে নিয়ে যান হেয়। শেষ বলে সেঞ্চুরি পেতে তার দরকার ছিলো ৫ রান, ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন, ৪ হয়ে তিনি থামেন ৯৯ রানে। অপরাজিত থেকে ক্রিজ ছাড়েন ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে।

পাকিস্তানের ওয়াসিম জুনিয়র ও সুফিয়ান মুকিম ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন।

হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেখানে চিৎিসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।

হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করায় মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) তাকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী করাচির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার পর তাকে করাচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার জ্বর এবং সংক্রমণের কথা জানানোর পর তাকে প্রথমে নওয়াবশাহ থেকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট জারদারির বেশ কয়েকটি মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তার অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

থাইল্যান্ড যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে থাইল্যান্ডে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংকক যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সফরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন।

এর আগে গত ২৫ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব এম জসীম উদ্দিন জানান, আগামী ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা আগামী ৩ এপ্রিল ব্যাংককে পৌঁছাবেন।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, আগামী ২ এপ্রিল ব্যংককে অনুষ্ঠেয় বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ২৫তম সভায় আমি অংশ নেব। এ ছাড়া পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আগামী ৩ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় ২০তম বিমসটেকের মন্ত্রিপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন। প্রধান উপদেষ্টা শীর্ষ সম্মেলন শেষে আগামী ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন।

এবারের বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আগে আগামী ৩ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেক ইয়ং জেনারেশন ফোরাম: হোয়ার দ্য ফিউচার মিটস শীর্ষক ফোরামে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেবেন।

আসন্ন বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা বিমসটেক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করবেন এবং বিমসটেক অঞ্চলের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ এই অঞ্চলকে আর্থ-সামাজিকভাবে আরও উন্নত, টেকসই ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেবেন।

সরকার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের বিচার কাজ শেষ করবে : তথ্য উপদেষ্টা

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের বিচার কাজ শেষ করে যাবে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে চরমপন্থার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না।

আজ বুধবার (২ এপ্রিল) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামে মাসুম মিয়ার কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রপন্থা যেন মাথাচারা দিতে না পারে। নির্বাচনের মাধ্যমে যেন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ভূমিকা রাখতে পারি। যদি আলোচনা সতর্কতায় কাজ না হয়, যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়, সরকার অবশ্যই হার্ডলাইনে যাবে।’

শহীদের চেতনা যেন বাংলাদেশের জনগণ ধারণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব, গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের বিচার কাজ শেষ করে যেতে পারি।
শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ সরকারের চেষ্টা আছে। জনগণ এটার সঙ্গে আছে। আমরা বিশ্বাস করি এ চেতনার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা প্রকাশ করলে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করব।’

গণমাধ্যমের সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘যতদিন আছি আমরা চাইব গণমাধ্যমের একটি গুণগত সংস্কারের জন্য।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনায় মফস্বল ও কেন্দ্র নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা আছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া খানম, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হান ও সদস্য সচিব রাশেদুল হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।