সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

ফের সুইডিশ ক্রিকেট বোর্ডের সচিব হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আতিক

২০২৫-২০২৯ মেয়াদের জন্য সুইডিশ ক্রিকেট বোর্ডের বোর্ড সদস্য ও সচিব হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান। ৫ এপ্রিল সুইডেনের গোথেনবার্গে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি বোর্ড সদস্য ও সচিব হিসেবে নির্বাচিত হন।

উপস্থিত ৮২ ভোটারের মধ্যে তারিক জুওয়াকের নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে আতিকুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ৬৫ ভোট পেয়ে এই বিজয় লাভ করেন। এর আগে ২০২২ সালে প্রথম বাংলাদেশি-সুইডিশ নাগরিক হিসেবে সুইডিশ ক্রিকেট বোর্ডের সচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

পুনরায় সচিব নির্বাচিত হয়ে আতিকুর রহমান বলেন, ‘পুনরায় নির্বাচিত হয়ে সুইডেনে ক্রিকেটকে আরো শক্তিশালী ও বিস্তৃত করতে আমরা সবাই মিলে কাজ করে যাব। এখানে ক্রিকেটের শিকড় দৃঢ়, এবং আমি এই খেলাটির আরো বিকাশ ও স্বীকৃতি অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সুইডিশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তারিক জুওয়াক বলেন, ‘আমরা আনন্দিত যে আতিকুর রহমান আবারও বোর্ড সদস্য হিসেবে আমাদের সঙ্গে থাকছেন। তিনি সুইডিশ ক্রিকেটের উন্নয়নে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করছেন এবং ক্রিকেট সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান আমাদের বোর্ডের কার্যক্রমকে আরো সমৃদ্ধ করবে।
’

উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১০ সালে সুইডেনে যান আতিকুর। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব বোরাস থেকে ইনফরমেটিকস বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি Borås Cricket Klubb-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি লগজেন্ট গ্রুপের (Logent Group, Sweden) আইটি প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।

বাংলাদেশকে তার মানচিত্র নতুনভাবে আঁকতে হতে পারে : রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এক গভীর হুমকি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূল ধ্বংস এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির ফলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশকে তার মানচিত্র নতুনভাবে আঁকতে হতে পারে।’

সোমবার ঢাকার ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে ‘জাতীয় নিরাপত্তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক এক সেশনে বক্তৃতায় পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মানে শুধু মিঠা পানি লবণাক্ত হয়ে যাওয়া নয—এটা মানে আমাদের ভূখণ্ড হারানো, জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া এবং সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়া।
’
তিনি জানান, শতকের মাঝামাঝি এক মিটার সমুদ্রপৃষ্ঠ উচ্চতা বৃদ্ধি হলে ২১টি উপকূলীয় জেলা ডুবে যেতে পারে। এতে কোটি মানুষ গৃহহীন হবে। কৃষি ও মাছ চাষে ব্যবহৃত নদীগুলোর লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়বে।

তিনি আরো জানান, ২১০০ সালের মধ্যে ৫২টি ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র, যেমন মালদ্বীপ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশের অবস্থা আরো সংকটাপন্ন। দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ প্রোটিনের জন্য মিঠা পানির মাছের ওপর নির্ভরশীল। লবণাক্ততা এই জীবনরেখা ধ্বংস করে দিতে পারে।

উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরার কারণে জিডিপির ১ শতাংশ ক্ষতি হারাচ্ছে।
২০৫০ সালের মধ্যে এ হার দ্বিগুণ হতে পারে। ফসলহানি, পানির সংকট ও গণবাস্তুচ্যুতি সংঘাত সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ডুবে গেলে, বাকি দুই-তৃতীয়াংশে প্রচণ্ড চাপ পড়বে। অস্থিরতা তখন স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

তেলসমৃদ্ধ দেশের কৌশলগত বিরোধিতা, কিয়োটো চুক্তির ব্যর্থতা ও প্যারিস চুক্তির দুর্বল বাস্তবায়ন নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্বের ৮০ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে G20 দেশগুলো।
অথচ বাংলাদেশ, জলবায়ু ঝুঁকিতে সপ্তম অবস্থানে থাকা একটি দেশ, সবচেয়ে বেশি ভুগছে। বিশ্বের নিষ্ক্রিয়তা আমাদের মতো দেশের জন্য মৃত্যুদণ্ড। সব দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেও তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়বে—যা মানবজাতির জন্য সহনশীল মাত্রার অনেক বেশি।

শুল্ক ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিলেন ড. ইউনূস

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত বাড়তি শুল্ক ইস্যুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

চিঠিতে ৩ মাসের জন্য ৩৭ শতাংশ শুল্ক প্রস্তাব স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার (৭ এপ্রিল) পাঠানো ওই চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—বাংলাদেশকে সময় দেওয়া হোক, যাতে আমদানি বাড়িয়ে ও শুল্ক কাঠামো সংস্কার করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়।

ট্রাম্পের উদ্দেশে চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আপনার অভিষেকের পরপরই আমি আমার উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়ে জানিয়েছি যে ১৭ কোটি মানুষের দ্রুতবর্ধনশীল বাজারে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে আগ্রহী।
আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণকারী প্রথম দেশ।’

বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে বহু বছরের চুক্তিতে সই করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এলএনজি রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর থেকেই বাংলাদেশ এলএনজিভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্—বিশেষ করে তুলা, গম, ভুট্টা ও সয়াবিন আমদানি বাড়ানোর কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, যা আমেরিকান কৃষকদের আয় ও জীবিকার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্রুত বাজারে এসব পণ্য পৌঁছাতে বাংলাদেশে একটি ‘ডেডিকেটেড বন্ডেড ওয়্যারহাউস’ চালুর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে এসব পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।
”

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি পণ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে কম শুল্ক আরোপ করে জানিয়ে ড. ইউনূস চিঠিতে লিখেছেন, তুলা, স্ক্র্যাপ লোহা ও কৃষিপণ্যে শুল্ক শূন্য রাখার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি গ্যাস টারবাইন, সেমিকন্ডাক্টর ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতির মতো শীর্ষ মার্কিন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক হ্রাসের কাজ চলছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান অশুল্ক বাধা দূর করারও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে নিরীক্ষা ও পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা হ্রাস, প্যাকেজিং ও লেবেলিংয়ের মানদণ্ড সহজীকরণ, শুল্ক প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং অন্যান্য বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ।

চিঠিতে আরো জানানো হয়, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই দেশে মার্কিন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক চালুর কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
এর ফলে নাগরিক প্রযুক্তি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা আশা করি, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে। এই সময়ের মধ্যে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ভারসাম্য তৈরির কার্যক্রম শেষ করব।’

চিঠির শেষাংশে তিনি অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্যে আরোপিত পাল্টা শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আপনি আমাদের এই অনুরোধ গ্রহণ করবেন।

৮ থেকে ১৪ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন করবে সরকার : ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, “৮ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ -২০২৫’ পালিত হবে। যদি জাটকা সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে ইলিশের উৎপাদন অনেক গুণে বাড়বে। উৎপাদন বাড়লে বাজারেও এর প্রভাব পড়বে, সরবরাহ বাড়বে, দামও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।”

আজ দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ইলিশকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ (৮ থেকে ১৪ এপ্রিল) পালন করা হবে।

তিনি বলেন, এ বছরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়েছে—‘জাটকা ধরা বন্ধ হলে, ইলিশ উঠবে জাল ভরে’।

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ২৯ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে।
দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১১ শতাংশ। দেশজ জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশের বেশি। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আহরিত হয় এ দেশের নদ-নদী, মোহনা ও সাগর থেকে। ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানে রয়েছে।
’

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, “সরকার জাটকা রক্ষায় শুধু আইন প্রয়োগ করছে না, বরং এই মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকালীন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাটকা আহরণে বিরত ৩ লাখ ৬১ হাজার ৭১টি জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসে ২৮ হাজার ৮৮৫ টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। ইলিশের প্রধান মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৫টি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা হিসেবে মোট ১৩ হাজার ৭০৭ টন ভিজিএফ (চাল) দেওয়া হয়েছে। ভিজিএফ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর মাধ্যমে জেলেদের চাহিদানুযায়ী বকনা বাছুরসহ নানা প্রকার উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।”

উপদেষ্টা জাটকা রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘ইলিশ ধরা বন্ধ থাকলেও উৎসব থেমে থাকবে না।
বরং আমাদের ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সচেতনতার এই সুযোগটাও বড় উৎসবের অংশ হতে পারে।’

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা-২০২৩-এর ৩(১) বিধি অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রতিবছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সব প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক যেকোনো ধরনের মৎস্য ও ক্রাস্টাশিয়ান্স আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ আহরণ ১২.৭৮ শতাংশ বাড়ার রেকর্ড রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়, যাতে সামুদ্রিক মৎস্য বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ কমিটি বিজ্ঞানসম্মত তথ্যাদি যাচাই করে বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকাল আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন নির্ধারণের সুপারিশ করে। এ সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ১৬ মার্চ ২০২৫ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

তিনি বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা ২০২৩ সংশোধন করে সামুদ্রিক মৎস্য সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য প্রতিবছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন সব প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ এটা কোনো সংস্কৃতির অংশ নয়। যারা ঢাকায় থাকেন তারা এটা চালু করেছেন। এটা আরোপিত সংস্কৃতি। তিনি এ বছর পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ না খাওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, দেশের ইলিশ সমৃদ্ধ ২০টি জেলায় (ঢাকা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠী, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট ও সিরাজগঞ্জ) ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৫’ উদযাপন করা হবে। এ বছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠান ৮ এপ্রিল বরিশাল বিভাগের ইলিশ সমৃদ্ধ অন্যতম জেলা বরিশাল জেলার সদর উপজেলার বেলস্ পার্কে অনুষ্ঠিত হবে এবং বরিশাল সদর উপজেলার ডিসি ঘাট সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে নৌ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. তোফাজ্জেল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর, অতিরিক্ত সচিব আমেনা বেগম, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আবদুর রউফ সহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বকা খেতে আপত্তি নেই শ্রাবন্তীর

কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি অভিনীত ছবি ‘হাঙ্গামা ডট কম’। সামনে মুক্তির অপেক্ষায় শিবপ্রসাদ মুখার্জি ও নন্দিতা রায়ের ছবি ‘আমার বস’। সেখানেও এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে শ্রাবন্তীকে।

নন্দিতা কড়া ধাঁচের পরিচালক।
তাই শ্রাবন্তী কখনো বকা খেয়েছেন কি না, ভারতের গণমাধ্যমের থেকে পাওয়া এমন প্রশ্নের জবাব হাসিমুখেই দেন নায়িকা। বললেন, ‘না, আমাকে একবারের জন্যও বকা খেতে হয়নি। পরের বার যখন কাজ করব তখন বকা খাব কিনা জানি না। তবে এবার খাইনি।
’

যদিও বকা খেতে আপত্তি নেই শ্রাবন্তীর। বলছিলেন, ‘বকা খাওয়াটাও কিন্তু উচিৎ। তবেই তো বুঝতে পারা যাবে ভুলটা কী! তবে ভগবানের আশীর্বাদে আমি বকা খাইনি।’

একদম ছোট থেকেই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত শ্রাবন্তী।
সেটে পরিচালকই বস! এরকম টক্সিক বস অর্থাৎ পরিচালক পেয়েছেন কখনো, এমন প্রশ্নে শ্রাবন্তীর উত্তর, হ্যাঁ পেয়েছি। এনওসি দিয়ে বেরিয়েও এসেছি। আসলে আমি টক্সিসিটি নিতে পারি না। সেই কারণেই ছেড়ে বেরিয়ে আসি।

তবে কে সেই পরিচালক তা স্পষ্ট করেননি শ্রাবন্তী।
শুধু জানালেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এমন ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে।

গাজাবাসীর জন্য মন কাঁদছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদেরও

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান বর্বর হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে শত শত ফিলিস্তিনি। দখলদার বাহিনীর বর্বর হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো উপত্যকা। ইতোমধ্যে ভূখণ্ডটিতে মৃতের সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়েছে। বর্বর ইসরায়েলি বাহিনীর এই নির্বিচার বোমা হামলায় হৃদয় পুড়ছে বিশ্ববাসীর।
প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবাদ হচ্ছে। প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন ক্রীড়াঙ্গনের তারকারাও।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ সকালে ফিলিস্তিনের পতাকার ছবি পোস্ট করেন মুশফিকুর রহিম। ক্যাপশনে মুশফিক লিখেছেন, ‘ওহ আল্লাহ। নির্যাতিতদের সব জায়গায় সাহায্য করুন। ওহ আল্লাহ আপনি তাদের রক্ষাকর্তা, সাহায্যকারী ও শক্তিদাতা হিসেবে কাজ করুন।

ক্ষতিগ্রস্ত গাজার দালানকোঠার ছবি পোস্ট করে মাহমুদ উল্লাহ লিখেছেন, ‘হে আল্লাহ, দয়া করে সাহায্য করুন। হে রাহমানুর রাহিম, দয়া করে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের রক্ষাকর্তা। দয়া করে তাদের রক্ষা করুন ও বিজয়ী বানিয়ে দিন। আমিন।
হে রব, এটা সহ্য করা যাচ্ছে না। আপনি আল-আহাদ, আপনি আস-সামাদ। হে আল্লাহ, দয়া করে রক্ষা করুন।’

মেহেদী হাসান মিরাজও গতকাল নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গাজার বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির ছবি পোস্ট করে ক্যাপশন দিয়েছেন, ‘গাজার আকাশ আজও বারুদের গন্ধে ভারী। গাজার আকাশ আজ অন্ধকার। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ঘরবাড়ি। নিস্তব্ধ শিশুরা কাঁদছে নিঃশব্দে। প্রতিটি কান্না প্রতিধ্বনিত হচ্ছে আমাদের হৃদয়ে। আসুন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ মিলাই, নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াই, আর গাজার জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ, নির্যাতিতদের ধৈর্য দিন, গাজাকে শান্তি ও নিরাপত্তা দিন। হে পরাক্রমশালী আল্লাহ, গা’জাকে হেফাজত করুন, অসহায়দের সহায়তা করুন।আপনি সর্বশক্তিমান।’

২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী আকবর আলী লিখেছেন, ‘গাজা শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়, এটি যেন আজ নির্যাতিত মানুষের প্রতীক! দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। পুরো বিশ্ব এই গণহত্যার জন্য দায়ী থাকবে। বিশেষ করে আরবসহ প্রতিটি মুসলিম দেশ যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এর প্রতিবাদ করেনি। হে আল্লাহ, গাজাসহ বিশ্বের প্রত্যেকটা মুসলমানকে আপনি কুদরতি শক্তি দ্বারা হেফাজত করুন।’

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ছবি শেয়ার করে ফেসবুক পেজে নাহিদ লিখেছেন, ‘এই নিষ্ঠুরতার ভার আমাদের সবার ওপর। একদিন আমাদের সবাইকে ইতিহাসের কক্ষে দাঁড়াতে হবে।’

সৌদিতে ৩৬৮ হজযাত্রীর বাড়ি ভাড়া করেনি ৯ এজেন্সি, ব্যাখ্যা চেয়েছে মন্ত্রণালয়

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন। হজ পালনের ক্ষেত্রে সৌদিতে হজযাত্রীদের থাকা ও পরিবহনের ব্যবস্থা করে থাকে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো। তবে প্রত্যেক বছরই কিছু হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া না করার অভিযোগ ওঠে।
এতে হজ করা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয় হজে গমনেচ্ছুদের।

এ বছরও মক্কা ও মদিনায় যথাসময়ে বাড়ি ভাড়া ও হজযাত্রী পরিবহন চুক্তি করেনি ৯টি হজ এজেন্সি। এ জন্য ৩৬৮ জনের হজ পালন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তাই এ ৯টি এজেন্সির বিরুদ্ধে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- সেই ব্যাখ্যা চেয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
গতকাল রবিবার (৬ এপ্রিল) এই ব্যাখ্যা চেয়ে এজেন্সি মালিকদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, হজ ২০২৫ সালে চ্যালেঞ্জার ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেডের (হজ লাইসেন্স নম্বর-০০৪৫) সঙ্গে সমন্বয়কারী ৯টি এজেন্সিকে ক্রমাগত তাগিদ দেওয়ার পরও মক্কা ও মদিনায় তাদের হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়া ও পরিবহন চুক্তি সম্পন্ন করেনি বলে লিড এজেন্সি থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে— কালকিনি হজ ট্রাভেলস, মিম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, কে জি প্রগতি এয়ার সার্ভিস, ইউসুফ এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আদিল ওভারসিজ, আহনাফ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, আল কাবা ইন্টারন্যাশনাল, আল মুজিব করপোরেশন ও মুশাররফ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস।

সৌদিতে বাড়ি ভাড়া না করার বিষয়ে জানতে চাইলে কালকিনি হজ ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজকের মধ্যেই ১০৯ হজযাত্রীর বাড়ি ভাড়ার কাজটি শেষ হবে।
হজযাত্রীদের সমস্যা হবে না।’

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় নোটিশে আরো বলা হয়, হজযাত্রীদের মক্কা ও মদিনায় যথাসময়ে বাড়ি ভাড়া ও পরিবহন চুক্তি না করার জন্য কেন সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২১’ এবং ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২’ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা ৭ এপ্রিলের মধ্যে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। কোনো হজযাত্রী এজেন্সির অবহেলাজনিত কারণে হজ পালন করতে না পারলে সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিকে বহন করতে হবে।

এর আগে লিড এজেন্সি চ্যালেঞ্জার ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আবেদনপত্র দিয়েছে।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।
এবার হজে বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন। আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

অবশেষে সেঞ্চুরি হাঁকাল সালমানের সিনেমা

অ্যাকশন সিনেমায় বরাবরই অপ্রতিরোধ্য সালমান খান। তবে এবার যেন নিজের অনুরাগীদের মনে জায়গা করতে পারল না ‘সিকান্দার’। ৭ দিন পর অবশেষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে তার সিনেমা, পার হলো ১০০ কোটির গণ্ডি।

স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘সিকান্দার’ মুক্তির ৮ম দিনে ৪.২৫ কোটি রুপি আয় করেছে এবং ৮ দিনে মোট আয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি রুপি (নেট)।
সপ্তাহান্তে এই আয় কিছুটা বেড়েছে।

‘সিকান্দার’ ২৬ কোটি ওপেনিং দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল, যা ভিকি কৌশলের ‘ছাবা’র (২০২৫-এর এখনও অবধি সবচেয়ে বড় হিট) ৩১ কোটি রুপির তুলনায় অনেক কম। প্রথম সপ্তাহের শেষে সালমানের সিনেমাটি ৯০.২৫ কোটি আয় করেছিল।

এদিকে, বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ‘সিকান্দার’ ২০০ কোটির ক্লাবের দিকে এগিয়ে চলেছে।
‘সিকান্দার’-এর প্রযোজনা সংস্থা নাদিয়াদওয়ালা গ্র্যান্ডসন এন্টারটেইনমেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি মুক্তির ৭ দিনে বিশ্বব্যাপী ১৮৭.৮৪ কোটি রুপি (গ্রস) আয় করেছে।

সিকান্দার প্রথম দিন আয় করে ২৬ কোটি, ২য় দিন ২৯ কোটি, তৃতীয় দিন ১৯.৫ কোটি, চতুর্থ দিন ৯.৭৫ কোটি, পঞ্চম দিন ৬ কোটি, ষষ্ঠ দিন ৩.৫ কোটি, সপ্তম দিন ৪ কোটি, অষ্টম দিন ৪.৫০ কোটি (প্রাথমিক প্রতিবেদন) এবং মোট সংগ্রহ – ১০২.২৫ কোটি (প্রাথমিক প্রতিবেদন)।

এ আর মুরুগাদোস পরিচালিত ‘সিকান্দার’-এ সালমান খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন রাশমিকা মান্দানা। এ ছাড়াও এই ছবিতে দেখা গেছে প্রতীক বাব্বার, সত্যরাজ, কাজল আগারওয়াল, শারমিন যোশি প্রমুখকে।

গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড বিক্রির নিলাম মঙ্গলবার

দুই বছর মেয়াদি গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড বিক্রির জন্য নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল)। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুই বছর মেয়াদি গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড বিক্রির নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। নিলামে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ড ইস্যু করা হবে।
এ ট্রেজারি বন্ডে বার্ষিক কাট অব ইয়েল্ড হারে কুপন বা মুনাফা ষান্মাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে বলেও জানানো হয়।

বলা হয়, নিলামে সরকারি সিকিউরিটিজের প্রাইমারি ডিলারের ভূমিকায় নিয়োগ পাওয়া ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিড দাখিল করতে পারবে। তবে অন্যান্য ব্যাংক এবং নন-ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানও নিজস্ব খাতে তাদের (ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী) গ্রাহকদের জন্য প্রাইমারি ডিলারের মাধ্যমে নিলামে বিড দাখিল করতে পারবে।

অভিহিত (লিখিত) মূল্যে প্রতি ১০০ টাকা মূল্যের বন্ড ক্রয়ের জন্য কাঙ্ক্ষিত প্রাইস ও বন্ড ক্রয়ের পরিমাণ উল্লেখ করে নিলামে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত এফএমআইর মাধ্যমে বিড দাখিল করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে ম্যানুয়াল বিডস ইন সিলড কভারস পদ্ধতিতে বিড দাখিল করা যাবে। নিলামে অংশগ্রহণের বিস্তারিত নির্দেশনা এরই মধ্যে প্রাইমারি ডিলারসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

এসএসসির প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয়

আগামী ১০ এপ্রিল শুরু হবে চলতি শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা । এই পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসসংক্রান্ত যেকোনো ধরনের গুজবে কান না দিতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

পাশাপাশি পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত আইন ও অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সচেতন হতে বলা হয়েছে।

রবিবার (৬ এপ্রিল) এক বার্তায় এ অনুরোধ জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এই বার্তায় পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট পূর্বে আবশ্যিকভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী প্রশ্ন সংক্রান্ত কোনো কাগজ অথবা পরীক্ষার জন্য প্রণীত হয়েছে মর্মে মিথ্যা ধারণাদায়ক কোনো প্রশ্ন সম্বলিত কোনো কাগজ যেকোনো উপায়ে ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণ শাস্তিমূলক অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং সর্বনিম্ন ৩ বছর কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা করেন তাহলে তিনি অনধিক ৫ বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করা বা বিভ্রান্তি ছড়াবার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা মিথ্যা বলে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ, প্রচার বা সম্প্রচার করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে তার অনধিক দুই বছর কারাদণ্ডে বা অনধিক তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবার বিধান রয়েছে।