বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

খালেদা জিয়া ও খামেনিসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশনের শুরুতেই বর্তমান রাষ্ট্রপতি বা স্পিকারের (প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) পক্ষ থেকে এ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

শোক প্রস্তাব উত্থাপনকালে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আমরা হারিয়েছি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান চিরস্মরণীয়। সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে।

বাংলাদেশি নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে সংসদ। এ তালিকায় রয়েছেন, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

অধিবেশনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি ডা. এ.কিউ.এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়। তাদের জীবনবৃত্তান্ত সম্বলিত শোক প্রস্তাব সংসদে পাঠ করা হয়।

শোক প্রস্তাবের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন, মতিয়া চৌধুরী (সাবেক সংসদ উপনেতা), মেজর জেনারেল (অব.) কে. এম. সফিউল্লাহ (প্রথম সেনাপ্রধান), আবদুল্লাহ আল নোমান (সাবেক মন্ত্রী), মোস্তফা মোহসীন মন্টু, আব্দুল করিম খন্দকার (বীর মুক্তিযোদ্ধা) এবং রমেশ চন্দ্র সেনসহ ৩১ জন বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

শোক প্রস্তাব উত্থাপনের পর প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে সংসদে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই শোক প্রস্তাবের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

শপথ নিলেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ গ্রহণ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

এর আগে সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

পরে সংসদের অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি করে তাদের শপথ পড়ানো হয়।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নির্বাচিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আজ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সরকার দলীয় জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি জানান, স্পিকার পদে একটিমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মনোনয়নটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের। তিনি এ দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান সভাপতি।

এরপর প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান সভাপতি। নুরুল ইসলাম প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সমর্থন করেন আরেক সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। এতে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়।

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক ‘বীর বিক্রম’ অর্জন করেন। তিনি তৎকালীন পাকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবও ছিলেন তিনি।

তার বাবা ডা. আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে যোগ দেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ভোলা-৩ আসন থেকে তিনি ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচন এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।

অধিবেশনে সভাপতি জানান, ডেপুটি স্পিকার পদেও একটিমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সেটি নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। তিনিও এ দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছেন।

এরপর প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তিনি প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সমর্থন করেন আরেক হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দীন নিজান। এতেও ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়।

এরপর অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়।

সংসদকে যুক্তি, তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদকে তিনি সকল যুক্তি, তর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে তিনি ভাষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আবারও জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের রাজনীতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছেন, যার অশেষ রহমতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন যাত্রা শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রালগ্নে তিনি তাঁদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, এসব আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, যেসব সন্তান তাঁদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, যেসব পরিবার স্বজন হারিয়েছে এবং যেসব আহত মানুষ স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছেন, তাঁদের অবদান তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি আরও বলেন, নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন, দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতি, গাড়িচালক, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, গৃহিণীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ যারা গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং মিথ্যা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন কিংবা জীবন্ত মানুষ কবরস্থানের মতো বর্বর বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর মতো পরিস্থিতির মধ্যেও যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়া যায়নি, তাদের সাহসী ভূমিকায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই যাত্রালগ্নে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক বীর ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানান।

ভাষণে তিনি বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত এবং দেশে তাঁবেদারি শাসন-শোষণ কায়েম করা হয়।

তিনি বলেন, দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং জীবনে কখনো স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। আজ থেকে দেশে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের এই সাফল্যের মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। তাই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে আপসহীন নেতৃত্বের অধিকারী, স্মরণীয় ও অনুকরণীয় রাজনীতিবিদ মরহুমা খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন—‘জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেই আছি’। অর্থাৎ ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়—এটাই বিএনপির রাজনীতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

তিনি বলেন, তাঁর রাজনীতি দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই তাঁদের রাজনীতির লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা এবং জাতীয় সংসদের সকল দলের নির্বাচিত সদস্যদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

তিনি বলেন, দল বা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তাঁবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল।

তিনি বলেন, নতুন সংসদের যাত্রা শুরু করার সময় সংসদের সাবেক স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পতিত ও পরাজিত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জনরোষের ফলে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক রয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও তাঁবেদারি শাসন-শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির বিধান অনুসরণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও পাঁচবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন।

তিনি বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।

ঢাকায় আসছেন চীনা ভাইস মিনিস্টার

দুদিনের সফরে আগামী ২ এপ্রিল ঢাকায় আস‌ছেন চীনের ভাইস মিনিস্টার সান ওয়েইডং। নতুন সরকার গঠ‌নের পর ওয়েইডংয়ের এই সফর হবে চীন থেকে ঢাকায় বেইজিংয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর।

মূলত, ঢাকায় অনু‌ষ্ঠেয় বাংলা‌দেশ ও চী‌নের ১৪তম পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বেইজিংয়ের নেতৃত্ব দি‌তে ঢাকায় আস‌ছেন তিনি। যেখা‌নে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়া‌ম বাংলা‌দেশের প‌ক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

বৃহস্প‌তিবার (১২ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সুন ওয়েইডং-এর সফর প্রসঙ্গে আলোচনা ক‌রে‌ন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
এক মাসের জ্বালানি নিয়ে স্বস্তির আভাস
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা কর‌ছে, পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ পর্যালোচনা হ‌বে এবং পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রে বর্ধিত সহযোগিতার নতুন উপায়গুলো অন্বেষণ করার সু‌যোগ র‌য়ে‌ছে।

ঢাকা সফরকা‌লে সুন ওয়েইডং সরকা‌রের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নেতা‌দের স‌ঙ্গে সাক্ষাৎ কর‌তে পা‌রেন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় চীনের দীর্ঘকালীন সমর্থন ও অবদানের কথা স্বীকার করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সরকার গঠনের পর এই সফর বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে।

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন আহমেদ আযম খান

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তাকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা পৌনে একটার দিকে তিনি এই শপথ নেন। এর আগে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসনে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যরিস্টার কায়সার কামাল। তাদেরকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

স্বাভাবিকভাবে এই দুজন আর মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এর ফলে একজন নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

ভালভার্দের হ্যাটট্রিকে সিটিকে লজ্জায় ডুবাল রিয়াল মাদ্রিদ

রিয়াল মাদ্রিদ দুর্দান্ত এক প্রদর্শনীতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটিকে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উরুগুইয়ান তারকা ফেদেরিকো ভালভার্দের বিধ্বংসী হ্যাটট্রিকে কার্যত লজ্জায় পড়েছে সিটির রক্ষণভাগ।

চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে তার অনুপস্থিতি একেবারেই টের পেতে দেয়নি মাদ্রিদের ক্লাবটি।
বরং শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবলে সিটিকে চাপে ফেলে দেয় রিয়াল।

ম্যাচের শুরুতে কিছুটা বলের দখলে এগিয়ে ছিল সিটি। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে তারা উল্টো বিপদ ডেকে আনে। প্রথমার্ধেই মাত্র ২২ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের করে নেন ভালভার্দে।

প্রথম গোলটি আসে গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়ার লম্বা কিক থেকে। ১৯তম মিনিটে সিটির রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে ভালভার্দে সহজেই কাটিয়ে যান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে এবং বল জালে পাঠান।

সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস পেয়ে বাম পায়ের শক্তিশালী শটে আবারও দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করেন ভালভার্দে।

এরপর নিজের তিন গোল পূর্ণ করেন দারুণ এক গোল করে। সাবেক সিটি তারকা ব্রাহিম দিয়াজের চমৎকার উঁচু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মার্ক গুহিকে কাটিয়ে কাছ থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে আরো একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল। সিটির বক্সে ফাউলের শিকার হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে পেনাল্টি থেকে তার শট ঠেকিয়ে দেন দোন্নারুম্মা।

ম্যাচের বাকি সময়ে দুর্দান্ত রক্ষণ ও গোলরক্ষণের দক্ষতায় সিটিকে একেবারে নিস্তেজ করে রাখে রিয়াল। কোচ পেপ গার্দিওলার দল বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারেনি।

এই জয়ের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। আর সিটির জন্য ফিরতি লেগে বড় ব্যবধানে জয় ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংসদে কালেমা তাইয়্যিবা

জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে স্পিকারের চেয়ার বরাবর পেছনের উঁচু দেয়ালে পবিত্র কালেমা তাইয়্যিবা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ (সা.) লেখা আরবি ক্যালিগ্রাফি স্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গতকাল বুধবার এ ক্যালিগ্রাফিটি স্থাপন করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম সংসদ সচিবালয়ে অফিস করেন তিনি।

এসময় জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট শাখাকে কালেমা তাইয়্যিবা লেখা আরবি ক্যালিগ্রাফিটি অধিবেশন কক্ষে স্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রাজধানীর যেসব সড়ক এড়িয়ে চলতে হবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শুরু হচ্ছে।

এ উপলক্ষে আজ সকাল থেকে রাজধানীর কয়েকটি সড়কের যানবাহন চলাচল করবে। ফলে ওই সড়কগুলো এড়িয়ে চললে ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন সবাই।

বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আজ ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশী কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জাতীয় সংসদ ভবনে গমনাগমন করবেন।

উক্ত অধিবেশন চলাকালীন উড়োজাহাজ মোড়, খেজুর বাগান, মানিক মিয়া এভিনিউ, আসাদগেট ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন) ক্রসিং দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সংখ্যক যানবাহন চলাচল করবে।

এর ফলে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধা নিরসনকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক আগামী ১২ মার্চ ডাইভারশনের মাধ্যমে নিম্নোক্তভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

ডাইভারশন পয়েন্ট এবং বিকল্প সড়কসমূহ-

১. ইন্দিরা রোড টু বেগম রোকেয়া সরণি: ইন্দিরা রোড হতে উড়োজাহাজ মোড় হয়ে বেগম রোকেয়া সরণি অভিমুখি যানবাহন ডানে মোড় না নিয়ে সোজা মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে মিরপুর রোড দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

২. মানিক মিয়া এভিনিউ টু বেগম রোকেয়া সরণি: মানিক মিয়া এভিনিউ হতে খেজুর বাগান হয়ে বেগম রোকেয়া সরণিগামী যানবাহন বামে মোড় না নিয়ে ফার্মগেট হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

উড়োজাহাজ মোড় হতে খেজুর বাগান পর্যন্ত সড়কের উভয় পার্শ্বে দক্ষিণ দিকে একমুখি যানবাহন চলাচল করবে।

সকল প্রকার যানবাহন চালকদের ১২ মার্চ সকাল ৮টা হতে বেলা ১১টা পর্যন্ত যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু আজ

জাতীয় সংসদ ভবনে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এবারের গণতান্ত্রিক যাত্রায় জাতীয় সংসদে নেতৃত্ব দিচ্ছে অভিজ্ঞ বিএনপি। আর প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের ভূমিকায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত দল এনসিপি।

দেশে বহু বছর কার্যকর সংসদের অভাব মানুষ হাড়ে হাড়ে অনুভব করেছে। একতরফা সরকার, গৃহপালিত বিরোধী দল ও আংশিক নির্বাচনের কারণে জাতীয় সংসদ প্রায় অকার্যকর ছিল। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর প্রাণ ফিরে এসেছে সংসদে।

এবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সংসদে সরকারি দল, আর বিরোধী দলে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। সবার আশা, সংসদ সদস্যরা প্রাণবন্ত সংসদ উপহার দেবেন। জনপ্রত্যাশা পূরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নতুন মাইলফলকে পৌঁছাবে।

প্রথম অধিবেশন কীভাবে শুরু হবে এবং দিনের কার্যসূচি কী থাকছে, তা চলুন জেনে নিই-

প্রথম অধিবেশনে জুলাই আন্দোলনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ কারণে ২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেইটে গুলিবিদ্ধ শহীদ গোলাম নাফিজের রিক্সাচালকসহ চার শহীদ পরিবারের সদস্যদের অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

রীতি অনুযায়ী পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। স্পিকার না থাকায় সরকারি দলের একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যকে সভাপতিত্বে বসিয়ে শুরু হবে সংসদের কার্যক্রম।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যসূচিতে মোট সাতটি বিষয় রয়েছে। প্রথমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচন করা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর অধিবেশন পরিচালনা করবেন নতুন স্পিকার। এরপর সংসদীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেয়া হবে। এছাড়া প্রয়াত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

প্রথম অধিবেশনেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ২ অনুযায়ী আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করবেন। সংসদ এগুলোর অনুমোদন, সংশোধন বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এর মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িতদের ফৌজদারি দায়মুক্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বেশ কিছু অর্ডিন্যান্স হুবহু অনুমোদন করা হবে বলে জানা গেছে।

পরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করবেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে।

সবশেষ মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংসদে উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। এরপর তার ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। এভাবেই প্রথম দিনের কার্যসূচি শেষ হবে। প্রথম অধিবেশন চলবে প্রায় এক মাস।

তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদে ভাষণ দেয়ার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। সংসদে জামায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চায় উল্লেখ করেন নেতারা বলেন, বাধ্য না হলে কোনো বিষয় আদালত পর্যন্ত নেয়া হবে না।

বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার কোনো অধিকার নেই। ডেপুটি স্পিকার প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করবে জামায়াত। সবকিছুতে বিরোধিতা নয় আবার না বুঝে সমর্থনও নয়।