সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

ইসরায়েলের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পাসপোর্ট প্রসঙ্গ

বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শর্ত পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ফলাও করে প্রচার করেছে ইসরায়েলের গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল। এর আগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে আয়োজিত ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি পালনের খবর প্রচার করে ছিল সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ লেখাটি পুনঃস্থাপন করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের নাগরিকরা যাতে ইসরায়েল ভ্রমণ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়া মুসলিম প্রধান বাংলাদেশের জন্য এটি একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিষয়।

এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে যেন ইসরায়েলে যেতে না পারেন সেটি নিশ্চিতে ‘ইসরায়েল বাদে অন্য সব দেশে বৈধ’ এমন বাক্য পাসপোর্টে লেখা ছিল। তবে ২০২১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ‘এক্সসেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দটি বাদ দেয়। তবে হাসিনা সরকার বলেছিল— এর মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নীলিমা আফরোজ বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস)-কে জানিয়েছেন, পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল বাদে’ শব্দগুলো পুনর্বহালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে গত সপ্তাহে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আজ চার ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মেট্রো রেলের দুটি স্টেশন

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আজ সোমবার মেট্রো রেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ স্টেশন চার ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে। গতকাল রবিবার ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ওয়েবসাইটে এসংক্রান্ত একটি নোটিশে চলাচলের এই বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ সুষ্ঠুভাবে উদযাপন উপলক্ষে জননিরাপত্তার স্বার্থে ১৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ মেট্রো রেলস্টেশন দুপুর ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্যের অবস্থা ‘চমৎকার’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা ‘চমৎকার’ বলে রবিবার জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ডিসির একটি হাসপাতালে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, গত জুলাইয়ে তার ওপর হওয়া হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ডান কানে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

এই স্বাস্থ্য পরীক্ষার নেতৃত্ব দেওয়া নৌবাহিনীর চিকিৎসক ক্যাপ্টেন শন বারবাবেলা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, স্নায়ুতন্ত্র ও সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা চমৎকার রয়েছে।
’

৭৮ বছর বয়সে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া ট্রাম্প মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। তবে তার পূর্বসূরি জো বাইডেন প্রেসিডেন্সি শেষ করার সময় ৮২ বছর বয়সী ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প প্রায়ই তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

মেরিল্যান্ডের বেটেসডায় ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে শুক্রবার প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে ট্রাম্পের রক্তপরীক্ষা, হৃদযন্ত্র পরীক্ষা ও আল্ট্রাসাউন্ড করা হয় বলে চিকিৎসক জানান।

এ ছাড়া বারবাবেলা রবিবার দেওয়া স্মারক বার্তায় বলেন, ‘তার সক্রিয় জীবনযাপন তার সুস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান উৎস। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য অত্যন্ত ভালো এবং তিনি প্রধান কমান্ডার ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সম্পূর্ণভাবে সক্ষম।’

এ ছাড়া ট্রাম্পের মানসিক অবস্থা, স্নায়ু, মোটর ও সংবেদনক্ষমতা এবং রিফ্লেক্স পরীক্ষার জন্য স্নায়ুবিজ্ঞানভিত্তিক মূল্যায়ন করা হয়। তাকে মন্ট্রিয়ল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট পরীক্ষাও দেওয়া হয়, যেখানে তিনি পূর্ণ ৩০-এর মধ্যে ৩০ পেয়েছেন।

চিকিৎসক আরো জানান, ট্রাম্পের ত্বকে হালকা রোদে পোড়ার ক্ষত ও কিছু ‘অবিষাক্ত ত্বকের ক্ষত’ রয়েছে।

ট্রাম্প রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং চর্মরোগ চিকিৎসার জন্য কয়েকটি ওষুধ নিচ্ছেন।

ডা. বারবাবেলার তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওজন ২২৪ পাউন্ড এবং উচ্চতা ৬ ফুট ২.৫ ইঞ্চি।

এটি ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রকাশ্য প্রথম প্রতিবেদন, যা দেওয়া হলো পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে গত জুলাইয়ে তার নির্বাচনী জনসভায় বন্দুকধারীর গুলি কান ছুঁয়ে যাওয়ার ঘটনার পর। তৎকালীন হোয়াইট হাউস চিকিৎসক রনি জ্যাকসন তখন জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের আঘাত ছিল শুধুই ত্বকচ্যুতির মতো।

গত জুলাইতে পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে নির্বাচনী সমাবেশে বন্দুকধারীর গুলি ট্রাম্পের কান ছুঁয়ে যাওয়ার পর তার যে শারীরিক ক্ষতি হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে আসার পর এই প্রথম তার কোনো স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলো।

এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক বলেছিলেন, ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ভালো, তবে ওজন কমানো ও ব্যায়াম বাড়ানো প্রয়োজন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য আন্দোল‌নে আহত ৩১ জনকে পাঠানো হবে পাকিস্তান

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৮৬৪ জন নিহত ও ১৪ হাজার আহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।

এ সময় তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ৪০ জনকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন আরো ৫২ জনকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তাদের মধ্যে ৩১ জনকে পাঠানো হবে পাকিস্তানে।

রবিবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর যখন হাসপাতালগুলোতে পরিদর্শন করতে গেলাম তখন দেখলাম কারো চোখ নেই, পা নেই, হাত নেই। আমরা প্রথমে তাদের একটি ডাটাবেইস তৈরি করার উদ্যোগ নিলাম। কতজন শহীদ হয়েছেন, কতজন আহত হয়েছেন এটার ডেটাবেইস তৈরি করা চ্যালেঞ্জিং ছিল।
অনেকে হাসপাতালে ভর্তির সময় ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন, অনেকে মোবাইল নম্বরের জায়গায় অন্যের নম্বর ব্যবহার করেছেন। এ পর্যন্ত আমরা ডাটাবেইসে যা পেয়েছি সেখানে শহীদ হয়েছেন ৮৬৪ জন। আহত ১৪ হাজারের বেশি। কিছু এখনো ভেরিফায়ের পর্যায়ে আছে।
যেগুলো ভেরিফাই না হলে দিতে পারছি না।

আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা এ আন্দোলনে এমনও আহত দেখেছি, যাদের নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও দ্বিধান্বিত ছিল তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে। পরে এ বিষয়ে আমরা প্রধান উপদেষ্টার সাথে আলাপ করি। প্রধান উপদেষ্টা বললেন যদি প্রয়োজন হয় তাদের বিদেশে পাঠাতে এবং মেডিক্যাল বোর্ড করতে। পরবর্তীতে আমরা প্রত্যেকটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ কমিটি করে দিয়েছিলাম।
যাদেরকে এই কমিটি বলবে তাদের চিকিৎসা এখানের চেয়ে বাইরে ভালো হবে আমরা তাদের বাইরে পাঠাব।’ এসংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো নীতিমালা ছিল না। যে কারণে সমস্যা দেখা দিল। পরবর্তী সময়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম মানুষকে তো আমাদের বাঁচাতে হবে। পরে নীতিমালা ছাড়াই প্রধান উপদেষ্টার সাথে কথা বলে তাদের বিদেশে পাঠাই। অনেকে এমনও আহত ছিল তাদের সাধারণভাবে পাঠালে হবে না, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে পাঠাতে হবে। আমরা মোট চারজনকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে পাঠিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ৪০ জনকে বিদেশে পাঠিয়েছি। তার মধ্যে ২৬ জন গেছেন ব্যাঙ্ককে। ১৩ জন গেছেন সিঙ্গাপুরে। একজন গেছেন রাশিয়ায়। ইতোমধ্যে ২৬ জনের মতো দেশে ফিরেছেন। বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে আরো আটজনের একটি তালিকা করা হয়েছে। এটি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তাদেরও বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। আমরা ২১ জনকে টার্কিতে পাঠানোর চেষ্টা করছি। ৩১ জন যাবে পাকিস্তানে।

আহতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে চোখ হারিয়েছেন ৭০০ জন। তার মধ্যে দু-চোখ হারিয়েছেন ২১ জন। এক চোখ হারিয়েছেন সাড়ে চার শর মতো। এসব রোগীর যে মানসিক ট্রমা সেটা চিকিৎসার জন্য যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার দরকার সেটা আমাদের এখানে নেই। তবে, তাদের এই মানসিক ট্রমা কমানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এ দায়িত্ব শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের না। এ দায়িত্ব আমাদের সবার।

এপ্রিলের প্রথম ১২ দিনে ১০৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম ১২ দিনে দেশে ১০৫ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।

রবিবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

চলতি মাসের ১২ দিনে প্রতি দিনে প্রবাস আয় এলো আট কোটি ৭৬ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬ ডলার।
যা আগের মাস এপ্রিলে আসা সর্বোচ্চ প্রবাস আয়ের চেয়ে কিছুটা কম। আগের মাস মার্চে প্রবাস আয় এসেছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

মার্চে দিনে প্রবাস আয় এসেছিল ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩৩ ডলার। এ হিসাবে এপ্রিলের প্রবাস আয় কিছুটা কমেছে।

মার্চের প্রবাস আয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাস আয় এসেছে ৩৯ কোটি ৬৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮০ ডলার।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এসেছে ৫৯ কোটি তিন লাখ ৪০ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৩ লাখ ডলার।

আপনারা অবশ্যই অনির্বাচিত, প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে : সালাহউদ্দিন আহমেদ

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আপনারা অবশ্যই অনির্বাচিত। সেটা প্রতিদিন আপনাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচিত সরকারের বিকল্প তো আপনারা হতে পারেন না।’

রবিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভাসানী অনুসারী পরিষদের ‘জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা বলে আপনারা (অন্তর্বর্তী সরকার) গণতন্ত্রের উল্টো দিকে যাত্রা শুরু করবেন, নির্বাচনের কথা বলে নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করবেন—এটা কি গণতন্ত্রের জন্য শুভ? এটা কি গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ছিল? এটা কি গণ-অভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষা ছিল?’

কয়েকজন উপদেষ্টার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে প্রধান উপদেষ্টা যখন প্রতিশ্রুত, নির্বাচনের জন্য বিএনপি রোডম্যাপ দাবি করছে, তখন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপদেষ্টার বক্তৃতা দিতে শোনা যায় যে জনগণ নাকি তাদের পাঁচ বছরের জন্য চায়। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা…। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়ে আমরা বহু কমেন্ট দেখেছি, সেটা উনি দেখেননি?

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার একটি বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। এই নেতা বলেন, ‘কালকে আমাদের ফরিদা আপা একজন উপদেষ্টা…আমার সঙ্গে খুবই ভালো সম্পর্ক, সে জন্য আমি সমালোচনা কম করতে চাই।
বললেন, উনারা নাকি নির্বাচিত হয়েছেন। কিভাবে? গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উনাদের নির্বাচিত করেছে জনগণ? তাহলে এ দেশে নির্বাচন কমিশন আছে কেন?’

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যদি রাস্তার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন হয়, সেটা অবশ্যই এ দেশের মানুষের কামনা। কিন্তু একটা নির্বাচিত সরকারের বিকল্প তো আপনারা হতে পারেন না। আপনারা অবশ্যই অনির্বাচিত।
সেটা প্রতিদিন আপনাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে।’

এ সময় কবি-চিন্তক ফরহাদ মজহারের একটি বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘উনার (ফরিদা আখতার) স্বামী আমাদের ভাই ফরহাদ মজহার সাহেব দুই-তিন দিন আগে বক্তব্য দিয়েছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে নাকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না। কেবল লুটেরাদের একটা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়। কী আর বলব!’

যে নির্বাচনের জন্য, যে ভোটাধিকারের জন্য, যে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য, যে সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য এ দেশের হাজার মানুষ শহীদ হলো, গণ-অভ্যুত্থান হলো, ফ্যাসিবাদের পতন হলো—সেই নির্বাচন, সেই ভোটাধিকারকে আপনারা অস্বীকার করছেন বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘কাদেরকে আপনারা উৎসাহিত করছেন? কোন অগণতান্ত্রিক শক্তিকে এই মাঝপথে আপনারা সুবিধা দিচ্ছেন? কাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য, কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা প্রায়ই ডিসেম্বরে থেকে জুন, ডিসেম্বর–জুন–ডিসেম্বরে আসা-যাওয়া করছেন? এক জায়গায় স্থির থাকতে পারছেন না কেন?’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনি পৃথিবীবিখ্যাত একজন সম্মানিত ব্যক্তি। আপনার এই রকম শিফটিংটা (নির্বাচন নিয়ে ডিসেম্বর ও জুন-সম্পর্কিত বক্তব্য) কিন্তু জাতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভালোভাবে নেবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আপনারা বৈঠক করেছিলেন। কথা দিয়েছিলেন। আপনাদের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে জাতীয় নির্বাচনের উদ্দেশ্যে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বসেছি, কথা বলেছি। তাদের সব নির্বাচনের প্রস্তুতি আগামী জুন মাসের ভেতরে সমাপ্ত হবে। তারা বলেছেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার জন্য উদগ্রীব।’

সোনার দাম কমেছে

দেশের বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি ভরি ভালো মানের সোনার (২২ ক্যারেট) দাম কমেছে এক হাজার ৩৮ টাকা। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হবে এক লাখ ৬২ হাজার ১৭৬ টাকায়। আগামীকাল সোমবার থেকে সারা দেশে সোনার নতুন এ দর কার্যকর হবে।

রবিবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম কমার তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমে এক লাখ ৫৪ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৩২ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৯ হাজার ৫৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ক্যাটাগরি অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি দুই হাজার ৫৭৮ টাকা।
২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি দুই হাজার ৪৪৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি দুই হাজার ১১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম এক হাজার ৫৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের লক্ষ্যে কাজ করছে : তথ্য উপদেষ্টা

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যা উন্নত বাংলাদেশের পথ প্রশস্ত করবে।’

শনিবার (১২ এপ্রিল) তুরস্কে ‘আন্টালিয়া কূটনীতি ফোরাম, ২০২৫’-এর সাইডলাইনে টিআরটি ওয়ার্ল্ডে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

গত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলের বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ ছাড়া শেখ হাসিনার শাসনামলের অস্থিতিশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও সরকার কাজ করছে।
’

মাহফুজ আলম বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের লক্ষ্যে নির্বাচন—এই তিন বিষয় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার রয়েছে। এর পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’

সেন্ট মার্টিনের পর্যটননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ : রিজওয়ানা

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন সীমিত করার ফলে স্থানীয় জনগণের জীবিকার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করেই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’

রবিবার (১৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এসংক্রান্ত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় দ্বীপের মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান নির্ধারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে একটি ওয়ার্কিং টিম গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে কৃষি, মৎস্য, ট্যুরিজম বোর্ড, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন, ব্র্যাক ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এ কমিটি অতি দ্রুত সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে।

সভায় বলা হয়, মাছ ধরায় সহযোগিতা, পরিবেশবান্ধব জাল ও আধুনিক ডিভাইস দেওয়া হতে পারে। শুঁটকির বাজারজাতকরণে ব্র্যান্ডিং করা হবে।
সি-উইড, মাশরুম, সবজি চাষ, পোল্ট্রি ও গবাদি পশুপালন, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ব্লগিং ও ফটোগ্রাফি প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়। নারীদের জন্য সেলাই, নকশিকাঁথা, স্মারকসামগ্রী তৈরি ও নারকেল ছোবড়া দিয়ে দড়ি তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তা, অন্যান্যদের বৃক্ষরোপণ, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও রেস্টুরেন্টে কাজ শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় যুবকদের পরিবেশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে ট্যুর গাইড হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
জমির ধরন অনুযায়ী সবজি উৎপাদনেও উৎসাহ দেওয়া হবে। সেন্ট মার্টিনের শুঁটকির উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসব উদ্যোগ স্থানীয়দের আয় বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য দেন।

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই হোক নববর্ষের অঙ্গীকার : প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান আমাদের সামনে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই অভ্যুত্থান বৈষম্যহীন, সুখী-সমৃদ্ধ, শান্তিময় ও আনন্দপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের প্রেরণা দেয়। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই হোক এই বাংলা নববর্ষে আমাদের অঙ্গীকার।’

রবিবার (১৩ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আসুন, আমরা বিগত বছরের গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে, নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে চলি।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যে ‘পহেলা বৈশাখ’ বিশেষ স্থান দখল করে আছে। পহেলা বৈশাখ বাঙালির সম্প্রীতির দিন, মহামিলনের দিন।”

তিনি বলেন, ‘আবহমান কাল ধরে নববর্ষের এই উৎসবে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সমগ্র বাঙালি জাতি জেগে ওঠে নবপ্রাণ স্পন্দনে, নব-অঙ্গীকারে।
’

তিনি আরো বলেন, ‘সারা বছরের দুঃখ-জরা, মলিনতা ও ব্যর্থতাকে ভুলে এই দিনে বাঙালি রচনা করে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, আনন্দ ও ভালোবাসার মেলবন্ধন।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত মুঘল সম্রাট আকবরের সময় থেকে। কৃষিকাজের সুবিধার্থে সম্রাট আকবর ‘ফসলি সন’ হিসেবে বাংলা সন গণনার যে সূচনা করেন, তা কালের পরিক্রমায় সমগ্র বাঙালির কাছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে।”

নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সব উদ্যোগের সাফল্য কামনা করেন তিনি।