সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

চার দিনের সফরে প্রধান উপদেষ্টা কাতার যাচ্ছেন আজ

চার দিনে সফরে আজ সোমবার কাতারের রাজধানীতে দোহাতে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির আমন্ত্রণে দেশটিতে অনুষ্ঠ্যেয় ‘আর্থনা সামিট-২০২৫’ এ অংশগ্রহণের জন্য এ সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সামিটে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কাতারের আমিরের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

এ ছাড়া দেশের ইতিহাসে এ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের চারজন জাতীয় নারী ক্রীড়াবিদ প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে কাতারে যাচ্ছেন। এই চার ক্রীড়াবিদ হলেন- ফুটবলার আফিদা খন্দকার ও শাহেদা আখতার রিপা এবং ক্রিকেটার সুমাইয়া আখতার ও শারমিন সুলতানা।

আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল এই দুই দিনে সামিটে উপস্থাপনা, ইন্টারঅ্যাকটিভ প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা ও গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

জন্মহার বাড়ানোর পরিকল্পনা চালু করছে তুরস্ক

বিবাহের হার কমে যাওয়া, ডিভোর্স বাড়া এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগে পড়েছে তুরস্কের প্রশাসন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে তুরস্ক সরকার। একইসঙ্গে জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রণোদনা-ভিত্তিক নীতি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যায় প্রবীণদের অনুপাত বেড়ে যাওয়া এবং শিশু জন্মহার কমে যাওয়া তুরস্কের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই আশঙ্কা থেকেই সক্রিয় হয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন।

২০২৫ সালের শুরু থেকে দেশটিতে চালু হয়েছে একটি নতুন সরকারি কর্মসূচি, যার আওতায় সন্তান নেওয়া দম্পতিরা আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম সন্তানের জন্য দম্পতিদের এককালীন ৫ হাজার লিরা প্রদান করা হবে। দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হলে প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ লিরা করে ভাতা দেওয়া হবে এবং তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে মাসিক ৫ হাজার লিরা করে সহায়তা দেওয়া হবে, যা প্রায় ১৩২ মার্কিন ডলার বা ১৬ হাজার বাংলাদেশি টাকার সমান।

এই আর্থিক সুবিধা শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ নয়। যারা বিদেশে বসবাস করেন, তারাও তুরস্কের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে এই প্রণোদনার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তুরস্কে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বিয়ে করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, আবার যারা বিয়ে করছেন, তারাও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। নতুন এই প্রণোদনামূলক কর্মসূচিকে তাই ‘তুরস্কের ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবেলার পরিকল্পনা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র :

ওয়াক্ফ আইন : মাথা নত করবেন না ওয়াইসি

ভারতে বিতর্কিত ওয়াক্ফ (সংশোধনী) আইনের প্রতিবাদে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন মুসলিমরা। ভারতের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের উদ্যোগে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হায়দরাবাদে গত শনিবার বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভে হায়দরাবাদে ওয়াক্ফ (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

ভারতীয় সংসদ সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বিতর্কিত এই আইনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা মাথা নত করব না।
’

এর মধ্যে রয়েছে ৩০ এপ্রিল রাত ৯টায় বাড়িঘরে আলো নিভিয়ে ব্ল্যাকআউট প্রতিবাদ। ওয়াইসি এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ‘ওয়াক্ফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে ঐক্যের প্রতীক বলে আখ্যা বলেন, ‘এই আইন ভারতের সংবিধানের মূল চেতনার বিরুদ্ধে, এটি বাতিল করতেই হবে। বহু সংগঠনের নেতৃত্ব এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।’ ওয়াইসি তাঁর বক্তব্যে জানান, যত দিন না এই আইন প্রত্যাহার করা হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে কংগ্রেস, ভারত রাষ্ট্র সমিতি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি ও দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গমসহ বেশ কয়েকটি দলের সদস্য ও হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিল।

সমাবেশে ১৮ মে শহর পর্যায়ে গোলটেবিল বৈঠক এবং পরবর্তী সময়ে সব জেলায় অনুরূপ বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২২ মে হায়দরাবাদের ঈদগাহ বিলালি হকি গ্রাউন্ডে একটি নারী জনসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। হায়দরাবাদজুড়ে ২৫ মে দুপুর ২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত একটি মানববন্ধন প্রতিবাদ এবং ১ জুন একটি অবস্থান বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

ওয়াইসি আরো বলেন, ‘এই আন্দোলন আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টাকারী শক্তির বিরুদ্ধে, কিন্তু আমরা টিকে থাকব। যারা আমাদের বিভক্ত এবং ধ্বংস করার চেষ্টা করছে, তারা নিজেরাই ধ্বংস হবে। আমরা মাথা নত করব না।’ ওয়াইসি আরো বলেন, ‘সংসদে যখন আমি আইনটি নাকচ করেছিলাম, তখন আমি তা করেছি সব ধর্মের সেই ভাই-বোনদের পক্ষ থেকে, যারা একই ধরনের কঠোর আইনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

সূত্র : দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

রবিবার (২০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল পর্যালোচনা করেন এবং বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা ত্বরান্বিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।

উভয়পক্ষ অবকাঠামো, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলোচনাকে কার্যকর প্রকল্পে রূপান্তরিত করার জন্য যৌথ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো চীন সফরের সময় আমরা যে পরিকল্পনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি সেগুলো নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে গতি যেন হারিয়ে না যায়।’

চীনা রাষ্ট্রদূত প্রধান উপদেষ্টার অনুভূতির প্রতিধ্বনি করে বলেন, ‘এটি আমাদেরও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। চীনে আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এজেন্ডা বৈঠক হয়েছে এবং আমরা কেবল চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আরো দুই থেকে তিন বছর অপেক্ষা করতে চাই না – আমরা দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই।’

আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি ছিল মোংলা এবং আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, প্রস্তুতি চলছে এবং একবার সম্পন্ন হলে জোনগুলো বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য ডেভেলপারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, উভয়পক্ষ চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেছেন। চীনা পক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে এই প্রক্রিয়াটি এই বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

রাষ্ট্রদূত আরো নিশ্চিত করেছেন যে, চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন।
তার সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের ১০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল থাকবেন নতুন বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণের লক্ষ্যে।

বিডার চেয়ারম্যান আশিক বলেন, ‘আমরা খাত-নির্দিষ্ট সহযোগিতা জোরদার করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি ক্ষুদ্র-বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করব।’

আলোচনায় স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। চীনা পক্ষ বাংলাদেশে ১ হাজার শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা প্রাথমিকভাবে চীন সফরের সময় প্রস্তাব করা হয়েছিল। তারা চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠায় চলমান সহায়তার কথাও তুলে ধরেন।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি ফ্লাইট চালু করার জন্য অগ্রগতি হচ্ছে এবং বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসা ভিসা দ্রুততর করার প্রচেষ্টা চলছে।

অধ্যাপক ইউনূস সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তরুণ বাংলাদেশিদের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত করার জন্য একটি চীনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।

উভয়পক্ষ তিস্তা নদী ব্যবস্থার কাজসহ জল ব্যবস্থাপনার উপর দীর্ঘমেয়াদী ৫০ বছর মেয়াদী মাস্টার প্ল্যান চালু করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা চীনে পাট রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও উত্থাপন করেন এবং লোকোমোটিভ খাতে আরো বেশি চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

তিনি চট্টগ্রাম এবং সৈয়দপুর উভয় স্থানে লোকোমোটিভ উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও উপস্থাপন করা হয়।

কৃষি বাণিজ্য ছিল অগ্রগতির আরেকটি ক্ষেত্র। বাংলাদেশ এই মৌসুমে চীনে আম রপ্তানি শুরু করবে, আগামী বছর কাঁঠাল রপ্তানির সময়সূচি রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি নিজেই রাষ্ট্রপতি শি’র কাছে এক ঝুড়ি তাজা আম পাঠাব।’

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিউর রহমান, বিআইডিএ চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ তাইয়েব, মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া এবং এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ।

ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যু নিয়ে ভারতের দাবি ভিত্তিহীন : প্রেসসচিব

দিনাজপুরে ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ভারত সরকারের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন তিনি।

পোস্টে তিনি বলেন, ‘‘এটা খুব দুঃখজনক যে, ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর ‘সংগঠিত নিপীড়নের ধারাবাহিকতার’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আমরা এই ভিত্তিহীন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করছি।
’’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন দেশ নয়, যেখানে সংখ্যালঘুরা সরকারের সমর্থনে কোনো বৈষম্যের শিকার হন। বাংলাদেশ সরকার সকল নাগরিককে তার ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে অধিকার রক্ষা করে। এই নির্দিষ্ট ঘটনায়, আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে ভুক্তভোগী পূর্বপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন। তার পরিবার কারো সঙ্গে বাইরে যাওয়া নিয়ে কোনো সন্দেহজনক বিষয় জানাননি।
’

শফিকুল আলম বলেন, ‘ময়নাতদন্ত রিপোর্টে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবুও, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ভিসেরা বিশ্লেষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা সব পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি, ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য।

এর আগে শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবেশ চন্দ্র রায়ের হত্যাকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সংগঠিত নিপীড়নের ধারাবাহিকতা’ বলে মন্তব্য করে। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু নেতা শ্রী ভবেশ চন্দ্র রায়ের অপহরণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

এই হত্যাকাণ্ড একটি ধারাবাহিক নিপীড়নের অংশ, যেখানে হিন্দু সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে এবং পূর্বের ঘটনাগুলোর অপরাধীরা বিনা শাস্তিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে সকাল ১০টায়।

নাহিদ রানাসহ বাংলাদেশ নামছে তিন পেসার নিয়ে। স্পিনে মিরাজের সঙ্গে বাঁহাতি তাইজুল ইসলাম।
কিপিং গ্লাভস থাকছে জাকের আলির হাতে।

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের ম্যাচ সরাসরি দেখা যাবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি)।

বাংলাদেশ দল

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ, সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, মমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, জাকের আলি, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, খালেদ আহমেদ।

জিম্বাবুয়ে দল

বেন কারান, ব্রায়ান বেনেট, নিকোলাস ওয়েলচ, শন উইলিয়ামস, ক্রেইগ আরভিন (অধিনায়ক), ওয়েসলি মাধভেরে, নিয়াশা মায়াভো (উইকেটরক্ষক), ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, রিচার্ড এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি, ভিক্টর এনাউচি।

ক্রিমিয়ায় রুশ নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দিতে ‘প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের রূপরেখার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্রিমিয়া উপদ্বীপে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত। এ সংক্রান্ত চুক্তির কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত এক কর্মকর্তা গত শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে এ কথা জানিয়েছেন।

২০১৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি রাশিয়ার অংশ হিসেবে সংযুক্ত করে মস্কো প্রশাসন। এর পর থেকে উপদ্বীপটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ চলছে রাশিয়ার। এরপর ইউক্রেনের দোনেত্স্ক, লুহানস্ক, খারসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলকে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করে মস্কো সরকার। ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার এসব ভূখণ্ড সংযুক্তকরণকে স্বীকৃতি দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ক্রিমিয়ায় রুশ নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দিতে পারে এমন খবরে ইউক্রেন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রস্তাবে এখন যুদ্ধক্ষেত্রে যার যতটুকু এলাকা নিয়ন্ত্রণে আছে, তা ধরে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথাও বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

তিনি জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার প্যারিসে ইউরোপীয় এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই প্রস্তাবের রূপরেখা শেয়ার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে ফোনে কথাও হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন।

৬ বছর পর সিনেমায় মিথিলা

দীর্ঘ এ বিরতি প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে তানজিয়া জামান মিথিলা বলেন, ‘আমার বলিউড সিনেমাটি মুক্তির পর বেশ কিছু সিনেমার প্রস্তাব আসলেও তখন তা করা হয়নি। তাছাড়া মডেলিং নিয়েই বেশ ব্যস্ত ছিলাম আমি। এখন যেরকম অনেক ভালো ভালো সিনেমা হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিতে, সেগুলো দেখে আগ্রহী হলাম। ভাবলাম যে, ভালো গল্প হলে কাজ করা যায়।
এখন যে কাজটা করলাম সেটার গল্পও বেশ ভালো, পরিচালকও বেশ সাপোর্টিভ।’

‘থার্সডে নাইট’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে বেশ সুন্দর একটা ফিল্ম। বন্ধুত্বের গল্প হলেও এখান থ্রিল রয়েছে, আরো অনেক কিছুই রয়েছে।

জানা গেছে, আলফা আই প্রযোজিত অ্যান্থোলজি ফিল্ম ‘থার্সডে নাইট’-এ আরো অভিনয় করেছেন সৌম্য জ্যোতি, সামিরা খান মাহি, ফররুখ রেহান প্রমুখ। আসছে ঈদুল আজহায় এটি একটি ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, তানজিয়া জামান মিথিলা দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত ‘ফেস অব এশিয়া’ ২০১৯-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার আইয়ুমওলিদা ফেস অব এশিয়া ২০১৯-এর বিজয়ী হিসেবে মুকুট অর্জন করেন। এরপর মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২০ সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। এরমধ্যে বলিউডে নাম লেখান ‘রোহিঙ্গা’ সিনেমা দিয়ে। ‘দাবাং’, ‘কমান্ডো’, ‘দঙ্গল’ সিনেমার সহকারী পরিচালক হায়দার খান পরিচালিত এ সিনেমায় রোহিঙ্গা তরুণী হুসনে আরার চরিত্রে অভিনয় করেন মিথিলা।

ব্রাজিলের কোচ হওয়া নিয়ে যা জানালেন ক্লপের এজেন্ট

লিভারপুলে প্রায় এক দশক কাটানোর পর ২০২৪ সালে কোচের দায়িত্ব ছাড়েন ইউর্গেন ক্লপ। ক্লাবটির সঙ্গে দারুণ সফল সময় পার করলেও শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কারণে কোচিং থেকে বিরতি নেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কোচিং ছাড়ার পর চলতি বছরের শুরুতে রেড বুলের হেড অব গ্লোবাল সকার পদে যোগ দেন তিনি। তবে কয়েক মাস পার হতে না হতেই জোর গুঞ্জন উঠেছে, ক্লপ নাকি সেখানে সুখে নেই।

এর পর ক্লপকে ঘিরে শুরু হয় গুঞ্জন। তাকে রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের সম্ভাব্য কোচ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। মাদ্রিদের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি হয়তো বিদায় নিতে পারেন, আর ব্রাজিল জাতীয় দলও নতুন কোচের সন্ধানে রয়েছে।

তবে সেসব খবর উড়িয়ে দিয়েছেন ক্লপের এজেন্ট মার্ক কোসিকে।
কোসিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ইয়ুর্গেন (ক্লপ) তার নতুন দায়িত্বে (রেড বুলের হেড অব গ্লোবাল সকার) খুবই খুশি। কোচিংয়ে ফেরার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।’

জার্মান সাংবাদিক ফ্লোরিয়ান প্লেটেনবার্গ-ও নিশ্চিত করেছেন, ক্লপের আগামী মৌসুমে কোনো দলের হেড কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই — এমনকি সেটা রিয়াল মাদ্রিদ বা ব্রাজিল জাতীয় দল হলেও না।

তবে বিভিন্ন ক্লাব ও জাতীয় দল ইতোমধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলেও জানান তিনি।

গত মাসে দোরিভাল জুনিয়রকে বরখাস্ত করার পর থেকে নতুন কোচ খুঁজছে ব্রাজিল। তাদের প্রথম পছন্দ কার্লো আনচেলোত্তি। তার ওপর ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের নজর অনেক আগে থেকে। গত বুধবার আর্সেনালের বিপক্ষে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে রিয়ালের বিদায়ের পর ক্লাবটিতে আনচেলোত্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা, তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের কথা বইয়ে পড়েছি, কিন্তু যে আকাঙ্ক্ষায় জনগণের রাস্তায় নেমে আসা সে আকাঙ্ক্ষাগুলো বিভিন্ন সময় আমরা দেখেছি, ব্যর্থ হয়েছে। সেই ব্যর্থতার ফলেই ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের শাসনব্যবস্থার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। তাই আমরা চাই, এবারের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যেন কোনোভাবেই ব্যর্থ না হয়। জনগণের ভেতরে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
এটা জাতির প্রতি আমাদের সবারই অঙ্গীকার।

শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থান কেবল কোনো ব্যক্তির পরিবর্তন নয়, ক্ষমতা থেকে একটি দলকে সরিয়ে আরেকটা দলকে বসানোর পরিকল্পনা ছিল না। বরং কিভাবে রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক ও গুণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার রক্ষা করবে এই রকম একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ছিল।

এনসিপি আহ্ববায়ক বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এনসিপি। যে দলের প্রধান শক্তি ও ভিত্তির জায়গাটা হচ্ছে এই দেশের তরুণেরা। সেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের যে বক্তব্য ছিল, আমরা ফ্যাসিবাদের বিলোপ ও একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

এনসিপি সংস্কার বলতে মৌলিক সংস্কার বোঝে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, যে সংস্কার করলে রাষ্ট্রকাঠামোর গুণগত আমূল পরিবর্তন সম্ভব হবে।
কারণ আমরা দেখেছি, বিগত সময়ে আমাদের সংবিধান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ ঘটেছিল। আমাদের সংবিধানে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক একটি কাঠামোর বীজ বপন ছিল। ফলে সেই রাষ্ট্রকাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখে যেই ক্ষমতায় যাক তার ভেতরেও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা থাকবে, স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে ওঠার প্রবণতা থাকবে। সেই জায়গায় রাষ্ট্রের সংস্কার, সংবিধান, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে আমরা এনসিপি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে যে সুপারিশ আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, সেগুলোতে আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা একমত হয়েছি। যেসব জায়গায় আমরা আংশিক একমত বা দ্বিমত হয়েছি সেখানে আমরা আমাদের সুপারিশ সংক্ষিপ্তভাবে দিয়েছি। আজকে হয়তো বা আমরা বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ পাব। সেই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।