বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

ঈদে যান চলাচল নিয়ে ডিএমপির জরুরি বার্তা

ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এই বিজ্ঞপ্তি দেয় ডিএমপি।

আসন্ন ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের যাত্রা সুগম করার জন্য নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো অনুসরণ করার জন্য নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হলোঃ

(১) আগামী ১৭-০৩-২০২৬ তারিখ থেকে ২৩-০৩-২০২৬ তারিখ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরী চলাচল বন্ধ রাখতে হবে (তবে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ঔষধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহনসমূহ এর আওতামুক্ত থাকবে।)

(২) আগামী ১৬-০৩-২০২৬ তারিখ হতে ঈদ যাত্রা সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চলাচল সুগম করার জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মহানগরের অন্যান্য যানবাহন সমূহকে নিম্নেবর্ণিত সড়ক সমূহ পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো:

ক) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক (কুড়িল টু আব্দুল্লাহপুর)
খ) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (গুলিস্তান টু সাইনবোর্ড)
গ) ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক/ মিরপুর রোড: (আড়ং ক্রসিং টু আমিনবাজার)
ঘ) ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়ক (ফুলবাড়িয়া টু তাতিবাজার টু বাবুবাজার ব্রীজ)
ঙ) ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক (গুলিস্তান টু বুড়িগঙ্গা ব্রীজ)
চ) মোহাম্মদপুর বসিলা ক্রসিং হতে বসিলা ব্রীজ পর্যন্ত সড়ক
ছ) আব্দুল্লাহপুর টু ধউর ব্রীজ সড়ক
জ) ফুলবাড়িয়া টু সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক

(৩) গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকগণকে নিম্নে উল্লিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো:

ক. আন্তঃজেলা বাসসমূহকে টার্মিনালের ভিতরে যাত্রী উঠিয়ে সরাসরি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে হবে; কোন অবস্থাতেই টার্মিনালের বাহিরে সড়কের ওপরে বাস দাঁড় করানো যাবে না।

খ. অনুমোদিত বাস কাউন্টার/স্টপেজ ব্যতীত রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানো ও নামানো যাবে না।
গ. ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার রাস্তাসমূহে কোনভাবেই বাস পার্কিং করা যাবে না।
ঘ. বিআরটিসি’র বাস সংশ্লিষ্ট ডিপো হতে বাহির হয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জেলাসমূহে গমন করবে, কোন ক্রমেই ঢাকা মহানগরী ক্রস করতে পারবে না (যেমন- কল্যাণপুর ও গাবতলী টার্মিনালের বাস ডিপো হতে সরাসরি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দিকে চলে যাবে, তদ্রুপ ফুলবাড়িয়া ও কমলাপুর ডিপো হতে বাস সরাসরি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দিকে চলে যাবে, ইত্যাদি।)
ঙ. বাস যাত্রার শিডিউল অনুযায়ী টার্মিনাল হতে বাস ছাড়তে হবে।

চ. যাত্রীদের নিকট হতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।
ছ. যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করা যাবে না।
জ. একই সিটের টিকেট একাধিক যাত্রীর নিকট বিক্রয় করা যাবে না।
ঝ. বাসের সিট ব্যতীত বাসের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না।

ঞ. গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে। বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না।
ট. ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু ব্রিজে ওভারটেকিং করা যাবে না।
ঠ. নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে, ঘুমঘুম ভাব ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না।
ড. বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না।

ঢ. বাস চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং বাসে উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না।
ণ. উল্টো রাস্তায় বাস চালানো যাবে না।
ত. ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করে বাস চালক নিয়োগ করতে হবে।
থ. মালিক কর্তৃক চালককে একটানা ৫ ঘণ্টা ও দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না।
দ. ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী ও লক্কড়-ঝক্কর গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না।

(৪) যাত্রী সাধারণ এবং পথচারীগণকে নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলো অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো :

ক. সড়কে বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে উঠা যাবে না, নির্দিষ্ট টার্মিনাল/কাউন্টারে গিয়ে বাসে উঠতে হবে।
খ. অপরিচিত কারো দেওয়া কোন খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা যাবে না।
গ. ভ্রমণকালে মালামাল নিজ হেফাজতে/দায়িত্বে রাখতে হবে।
ঘ. বাস যাত্রার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কাউন্টার/ টার্মিনালে হাজির হতে হবে।
ঙ. রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ/ আন্ডারপাস/জেব্রাক্রসিং অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।
চ. চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা এবং পণ্যবাহী মোটরযানে যাত্রী হয়ে যাতায়াত করা যাবে না।
ছ. দৌড়ে বা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপার হওয়া যাবে না।
জ. ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে হবে।

বি:দ্র: জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর- ৯৯৯ এ যোগাযোগ করতে হবে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা মহানগর হতে দেশের বিভিন্ন জেলায় গমন করবেন। পবিত্র ঈদের সময় সাধারণত প্রায় দেড় কোটির অধিক মানুষ ঢাকা মহানগর ত্যাগ করেন এবং প্রায় ৪০ (চল্লিশ) লক্ষাধিক মানুষ অন্যত্র হতে ঢাকায় প্রবেশ করেন। ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় করার নিমিত্তে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত এখনো জীবিত আছেন, তবে তিনি আহত হয়ে থাকতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার প্রথম দিনেই মোজতবা খামেনি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তার ধারণা, তিনি হয়তো আহত বা দুর্বল অবস্থায় আছেন, কিন্তু এখনো বেঁচে আছেন। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে একটি বিবৃতি পড়ে শোনানো হয়, যা সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর মোজতবা খামেনির প্রথম বার্তা বলে জানানো হয়।

এর আগে সাইপ্রাসে ইরানের রাষ্ট্রদূত ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন। ওই হামলায় তার বাবা, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং পরিবারের আরো কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

এদিকে দ্য মিরর ইউএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়ে কোমায় আছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দ্য মিরর ইউএস হলো যুক্তরাজ্যের সুপরিচিত পত্রিকা ‘ডেইলি মিরর’-এর একটি মার্কিন সংস্করণ বা বিভাগ, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পাঠকদের জন্য আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদ, রাজনীতি, বিনোদন এবং খেলাধুলার খবর প্রকাশ করে।

খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং তার অন্তত একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এ ছাড়া তার পেট বা লিভারেও গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
তবে তিনি ঠিক কোন দিনে আহত হয়েছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বর্তমানে তার গুরুতর আঘাতের কারণে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ হলেও তা নিশ্চিত করা যায়নি।

ইসরায়েলে ইরানি হামলায় অন্তত ৩০ জন আহত

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের জারজির এলাকায় একটি ভবনে হামলায় ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান নিউজ।

জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার বরাত দিয়ে কান নিউজ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজন ক্ষেপণাস্ত্রের ধাতব টুকরা শার্পনেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। অন্যরা ভাঙা কাচের আঘাতে হালকা আহত হয়েছেন।

কান নিউজের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তাদের মধ্যে ১২ ও ১৩ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে।

রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রায় ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সাময়িক স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ অনলাইনে প্রকাশিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে জানানো হয়, আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত রুশ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে একটি লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে।

নতুন এই লাইসেন্সটি ১২ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই করা তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
এর এক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়।

ইউক্রেনে আক্রমণের জবাবে রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর এর আগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুদ্ধের মধ্যে এ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হলো।

সূত্র : রয়টার্স

আজ মধ্যপ্রাচ্যের যেসব ফ্লাইট বাতিল

ধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আকাশপথ বন্ধ থাকায় আজও ঢাকা থেকে অন্তত ২৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের এসব ফ্লাইট উড্ডয়ন করতে পারেনি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের আকাশপথে।

আজকের বাতিল হওয়া ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজের ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ) ২টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ ৪টি, এমিরেটস ৪টি, জাজিরা এয়ারওয়েজ ৪টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি ফ্লাইট রয়েছে।

গত কয়েক দিনের ধারা অনুযায়ী, গতকাল ১২ মার্চ ২৮টি এবং আজ শুক্রবার ২৪টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাতিল হওয়া মোট ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪৭টিতে।

আজ সন্ধ্যায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে।

সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান একটি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে মির্জা আব্বাসের পরিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে।
সেখানে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে (এনইউএইচ) তাকে ভর্তি করা হবে।

শায়রুল কবির খান আরো জানান, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি চিকিৎসক ও মির্জা আব্বাসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মির্জা আব্বাস।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ইফতারের সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সেদিন গভীর রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সংসদে স্লোগান দেওয়া ঠিক না, এটা রেওয়াজের বাইরে : স্পিকার

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংসদে ওয়াকআউট একটি প্রচলিত রীতি। তবুও তারা মোটামুটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিলেন। তবে সংসদে স্লোগান দেওয়া ঠিক না, এটা সংসদের রেওয়াজের বাইরে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন তিনি।

এ সময় তিনি ক্রিকেটের মতো জাতীয় সংসদেও নিরপেক্ষ আম্পায়ারিং করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

স্পিকার বলেন, ‘অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সংসদ পেয়েছি। আশা করি, আগামী দিনগুলোতে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আমরা সক্ষম হব। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচেষ্টা রাখব।

সরকারি দল এবং বিরোধী দল বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন মেজর হাফিজ।

আগামীকাল ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসানের পাঠানো এক বার্তায় আরো জানানো হয়, একই দিন খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সোয়া ১০টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বীর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়। পরে তারা স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এরপর শেরে-বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদ হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা গুম, খুন এবং আয়নাঘরের মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন, কিন্তু এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

একইসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি। ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই বিএনপির মূল দর্শন।

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, আমি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। তিনি প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক।

এই সংকটকালীন অধিবেশনে সভাপতিত্বের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আজকের এই নজিরবিহীন প্রেক্ষাপটে আমরা প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু করছি।