রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬

উর্দু ভাষায় পাকিস্তানে মুক্তি পাচ্ছে ‘জংলি’

বাংলাদেশি চলচ্চিত্র আবারও দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে। শাকিব খান অভিনীত তুফান এবং শরিফুল রাজের দেয়ালের দেশ পাকিস্তানে মুক্তি পেয়ে নতুনভাবে যে ধারার সূচনা করেছে, এবার সেটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে সিয়াম আহমেদ অভিনীত নতুন সিনেমা জংলি। তবে এইবার পার্থক্য রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দিয়ে—ছবিটি পাকিস্তানে মুক্তি পাবে উর্দু ভাষায় ডাব করে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য একটি বিরল ঘটনা।

ছবিটি এরই মধ্যে উত্তর আমেরিকার ৪০টিরও বেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এবং প্রবাসী দর্শকদের কাছ থেকে বেশ প্রশংসাও পেয়েছে। এবার পাকিস্তানি দর্শকদের জন্য সিনেমাটি পরিবেশন করতে এগিয়ে এসেছে লাহোরভিত্তিক পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান Cine Entertainment। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আসিফ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশের প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং সিনেমাটির উর্দু ডাবিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

চৌধুরী বলেন, “জংলি খুব শিগগিরই পাকিস্তানে উর্দু ডাবিং ভার্সনে মুক্তি পাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর বাংলা ভাষার কোনো সিনেমা এভাবে উর্দুতে ডাব হয়ে পাকিস্তানে মুক্তি পেতে যাচ্ছে—এটি দুই দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের মধ্যে একটি নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করবে।”
তারকাবহুল নির্মাণ ও আন্তঃদেশীয় সৃজনশীলতা

জংলি সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তরুণ তারকা সিয়াম আহমেদ। শিশুশিল্পী নৈঋতা অভিনয় করেছেন ‘পাখি’ চরিত্রে, যেখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম বুবলী এবং দীঘি। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রখ্যাত সুরকার প্রিন্স মাহমুদ, যিনি তার অনন্য সংগীতধর্মী কাজের জন্য বরাবরই আলোচিত।

চিত্রনাট্য নির্মাণে ছিল আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ছাপ। ছবির গল্প লিখেছেন আজাদ খান এবং চিত্রনাট্য যৌথভাবে তৈরি করেছেন বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মুন এবং কলকাতার লেখিকা সুকৃতি সাহা। এর ফলে চলচ্চিত্রটি পেয়েছে এক ধরনের আঞ্চলিক বৈচিত্র্য ও গঠনগত পরিপক্বতা।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্ত

জংলি’র উর্দু ডাব সংস্করণ পাকিস্তানে মুক্তি পাওয়া শুধুমাত্র একটি সিনেমার আন্তর্জাতিক প্রচার নয়—এটি বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য নতুন বাজার উন্মোচনের সম্ভাবনা। দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মাঝে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ও সহযোগিতা বাড়াতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।

বর্তমান সময়ে যখন বাংলাদেশের সিনেমা আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যাল ও বিদেশি বাজারে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে, ঠিক তখনই জংলি’র মতো উদ্যোগ জাতীয় চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য এক নতুন আশার আলো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একাদশে ফিরেই রেকর্ড গড়লেন রিশাদ

টানা তিন ম্যাচ বেঞ্চে থাকার পর অবশেষে একাদশে জায়গা পেলেন রিশাদ হোসেন। করাচি কিংসের বিপক্ষে গতকাল সুযোগ পেয়েই চমৎকার বোলিং করেন এই লেগ স্পিনার। তবে তার ভালো পারফরম্যান্স সত্ত্বেও জয় পায়নি লাহোর কালান্দার্স।

রিশাদ ৩ ওভারে ২৮ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।
আপাতদৃষ্টিতে ইকোনমি একটু বেশি মনে হলেও, ম্যাচের প্রেক্ষাপটে যেখানে অধিকাংশ বোলারই রান খরচে ছিলেন উদার, সে তুলনায় কম-ই বলা যায়।

লাহোর বালান্দার্স ১৫ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬০ রান তোলার পর নামে বৃষ্টি। ক্রিজে থাকা রিশাদ তখন ১ বলে শূন্য রানে অপরাজিত। বৃষ্টি থামার পর রিশাদরা আর ব্যাটিংয়ে নামতে পারেনি।
তাতে ১৫ ওভারে করাচির লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬৮ রান।

রিশাদ যখন বোলিংয়ে আসেন, তখন করাচি কিংস ৬ ওভারে ২ উইকেটে ৬৮ রান তুলে চাপে ফেলেছিল লাহোর কালান্দার্সকে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্দান্ত শুরু করেন রিশাদ—নিজের প্রথম ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে জেমস ভিন্সকে শিকার করেন। তবে দ্বিতীয় ওভারে এক চার ও এক ছক্কায় দেন ১৩ রান।
শেষ ওভারে আরও ৮ রান দিলে তিন ওভারে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ২৮ রানে ১ উইকেট।

রিশাদের বোলিং কোটা শেষ হওয়ার পর করাচির প্রয়োজন ছিল শেষ ৪ ওভারে ৫৮ রান। ইরফান খান ও মোহাম্মদ নবীর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে করাচি, হাতে ছিল তখনও ৩ বল। ইরফান খান ২১ বলে ৫টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৪৮ রান করেন। আর মোহাম্মদ নবী ৮ বলে ১৫ রান করে আউট হন।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন রিশাদ হোসেন। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি উইকেট তার দখলে। করাচি কিংসের বিপক্ষে ১ উইকেট শিকার করে রিশাদের মোট উইকেটসংখ্যা দাঁড়ায় ৯-এ। এর মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে যান সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহকে, হয়ে ওঠেন পিএসএলে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।

সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভারসাম্য রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ : প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংবিধান ও গণতন্ত্রের মধ্যে সুষম ভারসাম্য বজায় রাখা। যা অ্যারিস্টটলের ‘আইনের শাসন, ব্যক্তির শাসন নয়’- এই আদর্শ দ্বারা পরিচালিত হবে।

গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন অনুষদ ও একে খান ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ন্যায়বিচারের ভবিষ্যৎ পুনঃকল্পনা’ শীর্ষক আইন বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। চবির একে খান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম জাফর উল্লাহ তালুকদার।

অনুষ্ঠানে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং সংবিধান কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে সংস্কারের চেতনা জাগ্রত করবে।

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রকিবা নবি বলেন, সময়োপযোগী ও চিন্তনউদ্দীপক থিম আমাদের ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করবে। এ সময় তিনি একে খান ফাউন্ডেশনকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন চবির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, একে খান ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি সচিব সালাহউদ্দিন কাসেম খান এবং ট্রাস্টি এ এম জিয়াউদ্দিন খান।

আমরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শত অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতনের মধ্যেও আমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের পথে টিকে আছি আল্লাহর রহমতের কারণে। আমরা অধৈর্য হইনি, মিথ্যা মামলা সত্ত্বেও কখনো কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি।

গতকাল রবিবার বিকেলে মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর দুই দিনব্যাপী জেলা ও মহানগরী আমির সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে আরো বলেন, আমাদের সামনে উদাহরণ হলো রাসুল (সা.)-এর জীবন ও কর্ম।
আমাদের আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহকে সর্বদা অনুসরণ করতে হবে। আমাদের সব সময়ই আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করতে হবে এবং ঈমান ও তাকওয়ার সঙ্গে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা সংগঠনের কাছ থেকে ইসলামের যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেয়েছি, তা আপাতত অত্যন্ত কঠিন মনে হলেও দায়িত্ব সঠিকভাবে বণ্টন এবং পালন করলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের সব কঠিন কাজকেও সহজ করে দেবেন ইনশাআল্লাহ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দ্বিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।
আমাদের দায়িত্ব হলো ভবিষ্যতে যারা ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন তাদের আমাদের চেয়েও বেশি দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ইতালি যেতে ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর ভাগ্য নির্ধারণ আজ

ইতালির ভিসা পেতে অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর ভাগ্য নির্ধারণ আজ। উন্নত জীবনের আশায় বৈধ পথে দেশটিতে যেতে অর্থকড়ি বিনিয়োগ করেছেন তারা। কিন্তু দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ভুলে ভিসা পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষায়।

ভুক্তভোগী এবং সরকারের সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন আজ থেকে শুরু হওয়া ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে এ নিয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।
দুইদিনের সফরে আজ ঢাকা আসছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতেও পিয়ান্তেদোসি। সফরে নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসন নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হবে।

অবৈধ পথে ইতালি যাওয়া বন্ধ করতে বাংলাদেশ ও ইতালি উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পর্যায়ক্রমে লক্ষাধিক দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী নেওয়ার জন্য দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে যাচ্ছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতালির এই এমওইউ স্বাক্ষর হবে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গতকাল রবিবার রাতে কালের কণ্ঠকে জানান, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে পাড়ি দিচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি নাগরিক।

ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অনেক বাংলাদেশি মারাও যাচ্ছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইতালি।
এ কারণে দুই দেশের আলোচনাসাপেক্ষে একটি এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) সই করতে যাচ্ছে দুই দেশ।

এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, ইতালি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কথা হয়েছে। তারা লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ কর্মী নেবে। ইতালির সঙ্গে এর আগে কোনো এমওইউ ছিল না। এই এমওইউ স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য খুলবে।
মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় ইস্কাটন গার্ডেনের প্রবাসী কল্যাণ ভবনে অভিবাসনসংক্রান্ত এমওইউ স্বাক্ষর হবে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আজ বিকেলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা আছে। এর আগে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, আন্তর্জাতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল হাসান কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, আজ দুপুরে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

বৈঠক ও এমওইউ স্বাক্ষর শেষে মঙ্গলবার তিনি নিজ দেশে ফিরে যাবেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতালিতে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের অনেক কর্মী ভিসা পেতে অপেক্ষায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও তারা ভিসা পাচ্ছেন না। ইতালির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনেক বাংলাদেশি ইতালি যাওয়ার জন্য যে ভিসা আবেদন করেছেন, সেখানে তারা ভুয়া নথিপত্র জমা দিয়েছেন। সে কারণে অধিকতর যাচাই-বাছাই করার জন্য ভিসা দিতে দেরি হচ্ছে। ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে এই বিষয়টির সুরাহা হবে বলে জানা গেছে।

ইতালিতে যেতে ইচ্ছুক প্রবাসী কর্মীদের ভিসা পেতে বিলম্বের বিষয়ে একাধিকবার ব্যাখ্যা দিয়েছে ভিসা আবেদনপত্র ও ডকুমেন্টস প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ভিএফএস গ্লোবাল। এক বিবৃতিতে বলা হয়, একটি দায়িত্বশীল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত ভিসা আবেদনকারীদের সচেতন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে করে তারা সতর্ক থাকেন এবং শেষ মুহূর্তের সমস্যা এড়াতে জলদি ভিসার জন্য আবেদন করেন।

গত ৩১ মার্চ থেকে ইতালির ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন ই-মেইল ভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং সিস্টেম চালুর কথা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বৈধ ‘নুল্লা ওস্তা’ থাকা আবেদনকারীদের ই-মেইলে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও সময় জানানো হচ্ছে। ‘নুল্লা ওস্তার’ বৈধতা ইতালীয় দূতাবাস যাচাই করে এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যাও তারাই নির্ধারণ করে। ‘নুল্লা ওস্তা’ পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে আবেদনকারী যদি সঠিকভাবে মেইল করলে ওই ‘নুল্লা ওস্তা’ বাতিল হয় না।

আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে ভিএফএস গ্লোবাল বলছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণের অন্য কোনো উপায় নেই, প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। যারা ভিন্ন তথ্য পাচ্ছেন, (তাদেরকে) প্রতারণা বা অননুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের বিশ্বাস না করে, ভিএফএস গ্লোবাল এবং ইতালির দূতাবাসে রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। স্মরণ করা যায়, জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনাময় গন্তব্য ইতালি চলতি বছর স্পন্সর ভিসায় বিভিন্ন দেশ থেকে ১ লাখ ৯১ হাজারের বেশি শ্রমিক নেবে। তবে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো সেই তালিকায় বাংলাদেশি নেই। ফলে হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী বেছে নিচ্ছেন অবৈধ পথ। দেশটিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ ভিসার দ্বার খুলতে অন্তর্বর্তী সরকারের আরও জোরালো পদেক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূত্র মতে, সম্প্রতি ইতালির নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর হয়েছে। এই নীতির আওতায় আলবেনিয়া হয়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের ঢাকায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ইতালির জর্জা মেলোনির সরকার। অবৈধ অভিবাসীদের আলবেনিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্তসহ কঠোরতার খড়গ যাতে বাংলাদেশিদের ওপর না পড়ে সে বিষয়ে সফরে আসা দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে ঢাকা।

হাসনাতের ওপর হামলা, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম এনসিপির

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর হামলার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের ধরতে না পারলে কঠোরতম কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৪ মে) রাজধানীর বাংলামোটর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড় পাড়ি দিয়ে পুনরায় বাংলামোটরে এসে মিছিল শেষ করেন এনসিপির নেতারা। এনসিপি ঢাকা মহানগর শাখা এ আয়োজন করে।

এ সময় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার, লুৎফর রহমান, হুমায়রা নূর, জয়নাল আবেদীন শিশির, নিজাম উদ্দীন, এনসিপি নেতা আরমান হোসেন, ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজুসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভকালে এনসিপি নেতারা ‘হাসনাত, হাসনাত’, ‌‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, অ্যাকশন টু অ্যাকশন’, ‌‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ করো, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করো’, ‘হাসনাতের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘জুলাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, অ্যাকশন অ্যাকশন’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে মাহিন সরকার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়ভার হাসনাত আব্দুল্লাহর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, তা না হলে আমরা কঠোরতম কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।

তিনি বলেন, আহত অবস্থায়ও তিনি পুলিশ প্রটেকশন পাননি। পরবর্তী জনরোষ ফুঁসে ওঠায় পুলিশ সেখানে এসেছে। আমাদের প্রশ্ন, এত দীর্ঘ সময় কেন? হাসনাত আব্দুল্লাহর নিরাপত্তার যদি এ অবস্থা হয় তাহলে সাধারণ জনগণ কোথায় যাবে?

আমরা মনে করি এ হামলায় আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদীরা জড়িত।
আমরা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে দেশের মানুষ থাকবে। সাধারণ জনগণ আজকে আওয়ামী লীগের হাতে নিরাপদ নয় এটা আবার প্রমাণ হয়েছে।

এ দিকে হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে হামলার ঘটনা নিয়ে নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। পতিত ফ্যাসিস্টদের বিচারের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।
’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে ও সামাজিকভাবে মোকাবেলা না করে সব মনোযোগ শুধু নিজস্ব রাজনৈতিক প্রচারণার পেছনে দেওয়ার কারণে জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকারী জনতা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক দিশা থেকে ক্রমান্বয়ে বঞ্চিত হচ্ছে।’

নাসির উদ্দিন আরো বলেন, ‘ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নয়, বরং গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখাই আমাদের সব রাজনৈতিক পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।’

দেশে মামলাজট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে : বিচারপতি মাহমুদুল হক

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মাহমুদুল হক বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় দেশে মামলাজট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে যেমন অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

রবিবার (৪ মে) যশোর জজকোর্ট চত্বরে আগত বিচার প্রার্থী ও সাধারণ জনগণের জন্য নির্মিত বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই আন্তরিক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির অস্বাভাবিক লম্বা সময় কমিয়ে সহনশীল পর্যায়ে আনতে হবে বলে মত দেন তিনি।

বিচারপতি মাহমুদুল হক বলেন, টাকা-পয়সাওয়ালা লোকেরা সাধারণত আদালতে আসেন খুবই কম। বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ আদালতে এসে দীর্ঘ সময় অবস্থানকালে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করেন। তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘবে সরকার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ প্রতিষ্ঠা করেছে।

যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দায়রা জজ নুরুল ইসলাম, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা জাহাঙ্গীর, জিপি আব্দুল মোহাইমেন এবং পি পি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।

অনুষ্ঠানে আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবু মোর্তজা ছোট, সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর, দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি সিরাজুল ইসলাম, নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আব্দুল লতিফ লতা, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির বাবর আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হুতির হামলার পর তেল আবিব রুট স্থগিত এয়ার ইন্ডিয়ার

ইসরায়েলের তেল আবিব শহরে বেন গুরিওন বিমানবন্দরের কাছে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আগামী দুই দিনের জন্য তেল আবিবগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। স্থানীয় সময় রবিবার সকালে হওয়া হামলার কারণে দিল্লি থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটকে আবুধাবিতে ঘুরিয়েও নেওয়া হয়। এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে এয়ারলাইনসটি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যাদের বৈধ টিকিট রয়েছে, তাদের একবারের জন্য পুনর্নির্ধারণ অথবা অর্থ ফেরতের সুযোগ দেওয়া হবে।

এয়ার ইন্ডিয়ার বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘৪ মে দিল্লি থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হওয়া এআই১৩৯ ফ্লাইটটি আজ সকালে বেন গুরিওন বিমানবন্দরে একটি ঘটনার পর আবুধাবিতে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। ফ্লাইটটি স্বাভাবিকভাবে আবুধাবিতে অবতরণ করেছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দিল্লি ফিরে আসবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, আমাদের তেল আবিবগামী ও সেখান থেকে আগত সব ফ্লাইট ৬ মে পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
গ্রাহকদের সহায়তা দিতে আমাদের কর্মীরা বিকল্প ব্যবস্থার কাজ করছেন।’

এয়ারলাইনসটি বলেছে, ‘৪ থেকে ৬ মের মধ্যে যারা আমাদের ফ্লাইট বুকিং করেছেন, তাদের জন্য একবার সময় পুনর্নির্ধারণ অথবা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুযোগ থাকবে। আমরা আবারও জানিয়ে দিতে চাই, এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

এদিন ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র বেন গুরিওন বিমানবন্দরের প্রধান টার্মিনালের কাছাকাছি পড়ে এবং এতে অন্তত চারজন আহত হয়।
কিছু সময়ের জন্য বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে তা আবার চালু হয়। তবে হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘বেন গুরিওন বিমানবন্দর আর বিমান চলাচলের জন্য নিরাপদ নয়।’

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যে আমাদের আঘাত করবে, আমরা তাকে সাত গুণ বেশি আঘাত করব।’

ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলছে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতেই তারা এই হামলা চালাচ্ছে।

সূত্র : এনডিটিভি

সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিতে হবে : ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকায় সকল প্রকার সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্মাণ কাজের ঠিকাদারদের নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

তিনি বলেন, সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের কারণে জনদুর্ভোগ ও পরিবেশ দূষণ হতে পারে। তা কমাতে কাজের জায়গা চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। সেখানে সাইনবোর্ড থাকতে হবে।
ঠিকাদারের পরিচয়, কাজ শুরু-শেষের তারিখ এবং যোগাযোগের ঠিকানা থাকতে হবে ওই সাইনবোর্ডে।

আজ রবিবার (৪ মে) ডিএনসিসির উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি, গুণগতমান, গতিশীলতা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত সভায় ঠিকাদারদের উপস্থিতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

মোহাম্মদ এজাজ বলেন, সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করতে হবে। গুণগতমান যাচাইয়ের পরেই বিল দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, ডিএনসিসি কাজ বা বিল পেতে কোনোরূপ দুর্নীতির প্রশ্রয় দেয় না। ঠিকাদার বা কর্মকর্তা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগে. জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন, ডিএনসিসির অন্য কর্মকর্তারা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

নির্বাচন কবে জানতে চেয়েছে জাপানও : আমীর খসরু

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সবার একটা আগ্রহ আছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জাপানও জানতে চেয়েছে নির্বাচন কবে।

তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে… সবার তো সিদ্ধান্তের ব্যাপার আছে সেটা বিনিয়োগ হোক, অন্য স্টেকহোল্ডারদের… সে জন্য বাংলাদেশে একটি নির্বাচন এবং নির্বাচিত সরকারের জন্য তারা অপেক্ষা করছে… তারা চায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরে আসুক… এটাই প্রত্যাশা করছে।

রবিবার (৪ মে) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জাপানের রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি। এ বৈঠকে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘জাপানের অ্যাম্বাসাডরের কলঅনের আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কেমন, উনার দেশে ফেরা, দুই দেশের মধ্যকার বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের নির্বাচন।

তিনি বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) দেশে ফেরার বিষয়টাকে তারাও (জাপান) খুব আগ্রহের সাথে লক্ষ্য করছে এবং বাংলাদেশের জনগণের মতো তারাও মনে করছে ম্যাডামের ফিরে আসাটা একটি ভালো সময়ে হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ম্যাডামের দীর্ঘ অবদান এবং মানুষের ভালোবাসা সব কিছু তারাও ভালোভাবে দেখছেন।

তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক।
তারা সবসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী দেশ। তাদের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবে আগামী দিনে যে নতুন সরকার আসবে তাদের সাথে কাজ করার পরিবেশটা যাতে অব্যাহত থাকে সেটা তারা চায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বাংলাদেশে জাপানের বড় বিনিয়োগ আছে। আগামীদিনে তাদের অনেক পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশে বিনিয়োগের।
সেসব বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করেছে। জাপানিজ ইনভেস্টমেন্ট সব সময়ে আমরা প্রত্যাশা করি।