শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

মিশরের সঙ্গে পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য শিগগির মিশরের সঙ্গে পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমির সঙ্গে সাক্ষাতের পর উপদেষ্টা এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তির খসড়া অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মিশরে পাঠানো হয়েছে। মিশরের পক্ষ থেকে এটি অনুমোদিত হলে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সই হবে।’

‘এছাড়া সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে মিশরের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন,’ বলেন উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশের প্রশিক্ষণ, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক আইনি সহায়তা, সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘মিশর বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ। দেশটি প্রাচীন সভ্যতা ও ইসলামী ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।’

উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘গত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে সেরা পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি মিশরে। মিশর বাংলাদেশকে পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে পারে। তাছাড়া মিশর বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।’

রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘আন্তঃদেশীয় অপরাধ নেটওয়ার্ক দমনের বিষয়টি পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা বিষয়ে চুক্তি সই হতে পারে।’

বাংলাদেশের বর্তমানে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ। কিছু রোহিঙ্গা সীমান্তে নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি করছে।’

উপদেষ্টা এসময় মিশরকে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তা ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে নৈতিক সহায়তার আহ্বান জানান।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিষয়ে মিশর বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘মিশরের সঙ্গে ইসরায়েলের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে যা বিশ্বের অন্যতম বিরোধপূর্ণ সীমান্ত। তবুও, মিশরের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটি করা গেলে বিজিবি মিয়ানমার সীমান্তে আরও দক্ষতা ও নিপুণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে।

কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রত্যাশিত রেলসহ সড়ক সেতু নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি আজ বুধবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের সার্কিট হাউস থেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ফলক উন্মোচন করেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কর্ণফুলী নদীর ওপর একটি নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণ। এর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় বোয়ালখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসী উৎফুল্ল। এখন যে সেতুটি আছে ১৯৩১ সালে সেটি নির্মাণ করা হয়েছিল। যদি এর মেয়াদকাল ৮০ বছর ধরা হয়। ২০১১ সালে এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, নতুন সেতুর কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করে ২০৩০ সালে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘কালুরঘাট ব্রিজে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। এই সেতুর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক। আজ এখানে বোয়ালখালীর বাসিন্দারাও উপস্থিত আছেন। কালুরঘাট সেতু তাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। এটি নির্মিত হলে চট্টগ্রামবাসীর কষ্টের অবসান হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম চট্টগ্রাম সফর।

দেশের অর্থনীতি বদলাতে চট্টগ্রাম বন্দরই আমাদের আশা: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের কর্মসংস্থান তৈরি করতে চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্য অর্জনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্বের খ্যাতিসম্পন্ন বন্দর ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা চট্টগ্রামে তার প্রথম কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালে বন্দরের সক্ষমতা সম্পর্কে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বদলাতে হলে চট্টগ্রাম বন্দরই আমাদের আশা। এটি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড’ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়, কোনো ডাক্তারই তা আর ভালো করতে পারে না। তাই একে বিশ্বমানের করতে হবে।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত বৈশ্বিক পর্যায়ের শীর্ষ সংস্থাগুলোকে আগেও ডাকা হয়েছিল, কিন্তু কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এই হৃৎপিণ্ডকে আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এজন্য আমি নেপাল ও ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যের (সেভেন সিস্টার্স) কথা বলেছি। যদি তারা এতে যুক্ত হয়, তারা উপকৃত হবে, আমরাও হবো। যারা যুক্ত হবে না, তারা পিছিয়ে পড়বে, বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে নিজের শৈশবস্মৃতির কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি এই সফরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। চট্টগ্রাম বন্দর তার জন্য নতুন কিছু নয়; তিনি শৈশব থেকেই এর সঙ্গে পরিচিত। এটি অনেক বদলেছে, তবে পরিবর্তনের গতি ছিল ধীর। সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই তিনি ভেবেছেন কী করা যায়।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বিশ্ব অনেক এগিয়ে গেছে, আর আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি। কেউ এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয় না। এজন্য তিনি পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব বিশ্বের শীর্ষ অপারেটরদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি আশা করেন, একদিন সবাই এর গুরুত্ব বুঝবে।

নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন প্রধান উপদেষ্টার বন্দর উন্নয়নের আগ্রহের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আশেপাশে একাধিক টার্মিনাল নির্মাণ কনটেইনার জট কমাতে সাহায্য করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই পরিবর্তন দেখা যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দর আধুনিকায়ন করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য এবং তার ৯৮ শতাংশ নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দিয়ে সম্পন্ন হয়। মনিরুজ্জামান আরও জানান, প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতার কারণে ২০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারে না। বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, একারণে বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

সাম্য হত্যা: তদন্ত কমিটি গঠন করল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্যর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গতরাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে ছাত্রদলের স্যার এ এফ রহমান হল ইউনিটের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাম্য মারা যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্যর মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত এবং এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানকে আহ্বায়ক করে সাত-সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম এবং ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার। কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী প্রক্টর শারমীন কবির। ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তদন্ত) সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ড. ইউনূসকে ডি-লিট ডিগ্রি দিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি.লিট) ডিগ্রি দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি)।

চবির পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বুধবার (১৪ মে) তাকে এ ডিগ্রি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ২২ হাজার ৫৬০ জন গ্র্যাজুয়েট।
এদিন ২২ গবেষককে পিএইচডি ও ১৭ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হবে। এ ছাড়া স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের নিজ হাতে সই করা সনদও পাবেন।

সমাবর্তনে বক্তব্য দেবেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার ও বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানসহ কয়েকজন উপদেষ্টা রয়েছেন অনুষ্ঠানে।

চবির সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে। সমাবর্তন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জুনের মধ্যে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ঋণ সহায়তা আসছে

আগামী জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের ২ কিস্তির ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ। একই মাসে বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জাইকা, এআইআইবিসহ কয়েকটি সংস্থা থেকে আরো ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পাবে দেশ। সব মিলিয়ে আগামী মাসে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের ঋণ আসবে।

বুধবার (১৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
দুবাই হতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমাদের লক্ষ্য ব্যাংকের গর্ভানেন্স নিশ্চিত করা, ইতোমধ্যে ১৪টি বোর্ড পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। বিতরণ করা ঋণের ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি হলে লভ্যাংশ দিতে পারবে না ব্যাংক।
পাশাপাশি নগদ জমা ও বিধিবদ্ধ জমায় ঘাটতির কারণে কোনো ব্যাংকের ওপর আরোপ করা দণ্ডসুদ বা জরিমানা অনাদায়ী থাকলেও লভ্যাংশ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংক সংস্কার শুরু হয়েছে। আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে, যারা উল্টাপাল্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা। ব্যাংক খাতকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে।
শর্টফুল থাকলে আমটা সে ব্যাংক নিয়ে নিবো, মার্জার করবো বা যা করার করবো। বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীর সাথে আছে। রাষ্ট্র সাময়িক সময়ের জন্য নিয়ে নিবে এতে ব্যাংক ভালো থাকবে, ঘুরে দাঁড়াবে। আমরা ব্যাংক নয়, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আসবো।

যমুনা অভিমুখী সড়কে পুলিশি ব্যারিকেড

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগ মোড় ছেড়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার (১০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা শাহবাগ ছেড়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থান নেন।

এদিকে, আন্দোলন কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। রাত ১০টায় সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ মোড় থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সড়কে বিক্ষোভ করছে আন্দোলনকারীরা।
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের মোড় থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখী সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে পুলিশ।

এর আগে শাহবাগে গণজমায়েত থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না পাওয়ায় ‘মার্চ টু যমুনা’ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

হাসনাতের এই ঘোষণার পরপর শাহবাগে অবস্থান করা জমায়েত যমুনার অদূরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে এগোতে থাকে।

জুলাইয়ে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংহতি জানিয়ে এ বিক্ষোভে যোগ দেন একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

উপদেষ্টা পরিষদের সভায় যেসব সিদ্ধান্ত এলো

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধসহ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত এসেছে। শনিবার রাতে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা শেষে এক বিবৃতিতে এসব সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগ এর যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।

এর পাশাপাশি, আজকের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কোনও রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।

২৫ বছর পর আবারও প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘ধাড়কান’

ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী নির্মিত ‘ধাড়কান’ মুক্তি পেয়েছিল ২০০০ সালে। সিনেমার গল্প থেকে গান যার সবকিছুই ছিল ইউনিক। যে প্রেমের গল্পে মুগ্ধ হয়েছিলেন দর্শক, সিনেমাটি পেয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা।

অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি এবং শিল্পা শেঠির সেই অনবদ্য প্রেম কাহিনী ২৫ বছর পর আবারও বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে।
ফের আরও একবার নস্টালজিয়ায় ভাসতে চলেছেন দর্শকরা।

জানা গেছে, আগামী ২৩ মে ধর্মেশ দর্শন পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তি পাবে। আবারও বড় পর্দায় ফুটে উঠবে অঞ্জলি দেব এবং রামের সেই অনবদ্য পাগল করা প্রেমের কাহিনী। আবারও শুনতে পাওয়া যাবে সেই মনমুগ্ধকর গানগুলি।

কিছুদিন আগেই একটি অনুষ্ঠানে অক্ষয় কুমার এবং শিল্পা শেঠিকে একসঙ্গে স্টেজ শেয়ার করতে দেখা যায়। বহুদিন পর পছন্দের তারকাদের হাসিমুখে একে অপরের সঙ্গে স্টেজ শেয়ার করতে দেখে বেশ খুশি হয়েছিলেন ভক্তরা, এবার পালা বড় পর্দার।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে অক্ষয় কুমারের ‘কেশরী চ্যাপ্টার ২’, সামনে তাকে ‘ভূত বাংলা’ এবং ‘হাউসফুল ৫’ সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা যাবে। অন্যদিকে সুনীল শেঠি ‘কেশরী বীর’ ছবির মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।
তবে শিল্পা এখন শুধুই ব্যস্ত নিজের সংসার এবং সন্তানদের নিয়ে।

parallax ad

নিবন্ধন ফিরে পেতে জামায়াতের আপিলের রায় ১ জুন

রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক ফেরতের আবেদনের বিষয়ে দায়ের হওয়া আপিলের রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। আগামী ১ জুন এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন আদালত।

বুধবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়স রেফাত আহমদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এই দিন ধার্য করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক, তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।
অপরদিকে ইসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।

গতকাল মঙ্গলবার রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেতে আপিলের তৃতীয় দিনের শুনানি শুরু হয়। এই দিন কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় আজ বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

এর আগে গত ১২ মার্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি শুরু হয়।

২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর জামায়াতের আপিল খারিজ করে দেয়। এরপর আপিলটি পুনরুজ্জীবনের জন্য আবেদন করা হয়। গত বছরের ২২ অক্টোবর আদালত বিলম্ব মার্জনা করে আপিলটি শুনানির জন্য রিস্টোর করেন। ওই দিন আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ও শিশির মনির।
এরপর ৩ ডিসেম্বর আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে সাময়িক নিবন্ধন দেওয়া হয়। পরের বছর বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির তৎকালীন মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট মাওলানা জিয়াউল হাসানসহ ২৫ জন জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন।

রিটে বিবাদী করা হয় জামায়াতের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নির্বাচন কমিশনসহ চারজনকে। তারা জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের আরজি জানান।

এ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক (পরে প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. আবদুল হাইয়ের (বর্তমানে অবসর) হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি রুল জারি করেন।

জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে রুল জারির পর ওই বছরের ডিসেম্বরে একবার, ২০১০ সালের জুলাই ও নভেম্বরে দুবার এবং ২০১২ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে দুবার তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। এসব সংশোধনীতে দলের নাম ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ করা হয়।

২০১৩ সালের ১২ জুন ওই রুলের শুনানি শেষ হয়। একই বছরের ১ আগস্ট জামায়াতকে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে অবৈধ বলে রায় দেন বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন (বর্তমানে অবসর), বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম (পরে আপিল বিভাগের বিচারপতি পদ থেকে পদত্যাগ) ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল-হকের (১৯ নভেম্বর পদত্যাগ করেন) সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর (লার্জার) বেঞ্চ।

২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জামায়াতের আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এদিন আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তানিয়া আমীর ও আহসানুল করীম। জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান।

এরপর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ফের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। ওই বছরের জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে ছাত্র-জনতা সরকার পদত্যাগের দাবি তোলে। এর মধ্যে ১ আগস্ট সরকার অঙ্গসংগঠনসহ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হলে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের আবেদন বাতিলের উদ্যোগ নেয়। গত ২৮ আগস্ট সরকার আগের নিষিদ্ধের আদেশ বাতিল করে। এরপর আপিল বিভাগে নিবন্ধন মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য আবেদন করে।