শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

শান্তি আলোচনা: তুরস্কে পৌঁছেছে রাশিয়ার প্রতিনিধিদল

তুরস্কে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানান, রাশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছে। একই দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার প্রতিনিধি দলও আংকারার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা।

রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেডিনস্কি।
দলটিতে আরো তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও চারজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। পুতিন নিজে না থাকায় পশ্চিমা নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, রাশিয়া আদৌ শান্তি চায় কি না।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সরাসরি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং পরে পুতিনের অপেক্ষায় থাকবেন। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মাইখাইলো পোদোলিয়াক স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘জেলেনস্কি কেবল পুতিনের সঙ্গেই আলোচনায় বসবেন।
’

এখনও নিশ্চিত নয়, ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা কখন এবং কোথায় হবে। ধারণা করা হচ্ছে, জেলেনস্কি ও এরদোয়ানের বৈঠকের পর তা স্পষ্ট হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, আলোচনা একটি প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে হওয়ার কথা।

রাশিয়া যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।
বুধবার রাতে পুতিন রাশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা রাশিয়াকে ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও, পুতিন তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এই আলোচনাকে ২০২২ সালের যুদ্ধের শুরুতে ইস্তাম্বুলে হওয়া আলোচনার ‘পুনরায় সূচনা’ হিসেবে দেখছে মস্কো। তবে ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার প্রস্তাবগুলো বাস্তবসম্মত নয়, বরং একতরফা চাপ।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘তিন বছরের দুঃসহ যুদ্ধের পর এখন এক নতুন সুযোগ এসেছে।
আমরা আশা করছি, ইস্তাম্বুলের আলোচনা একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।’

এদিকে, ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও ও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, এখন পর্যন্ত রাশিয়া গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়নি।

ফ্রান্স, ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপীয় নেতারাও আলোচনার পক্ষে ও যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে একটি চেয়ার খালি পড়ে আছে—ভ্লাদিমির পুতিনের চেয়ার। এটা প্রমাণ করে, শান্তি আলোচনায় অনাগ্রহী পক্ষ একমাত্র রাশিয়াই।’ পশ্চিমা বিশ্ব সতর্ক করে বলেছে, আলোচনা অগ্রসর না হলে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

সূত্র : এপি

টিকটকে লাইভ চলাকালীন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারকে গুলি করে হত্যা

টিকটকে লাইভ চলাকালীন গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ২৩ বছর বয়সী মেক্সিকান জনপ্রিয় বিউটি ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেরিয়া মার্কেজকে। মঙ্গলবার এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে। এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে শোকাহত মার্কেজের অনুরাগীরা।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলবার (১৩ মে) এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে মেক্সিকোর জালিস্কো রাজ্যের জাপোপান এলাকার একটি বিউটি সেলুনে, যেখানে ভ্যালেরিয়া মার্কেজ কাজ করতেন।
তিনি সে সময় তার অনুসারীদের জন্য টিকটকে লাইভস্ট্রিম করছিলেন। হঠাৎ করেই এক ব্যক্তি সেলুনের মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং তাকে গুলি করে দেন। রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর অফিসের পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে গণমাধ্যমে। এই ঘটনার তদন্ত করছে রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর অফিস।

মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মতে, এই নারীহত্যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে হিংসা, যৌন নির্যাতন, হত্যাকারীর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক। গুলি চলার কয়েক সেকেন্ড আগেই ভেলেরিয়া মার্কেজ তাঁর টিকটকে লাইভস্ট্রিমিং করছিলেন। টেবিলে বসে একটি খেলনা হাতে এই লাইভস্ট্রিমিং চলছিল। হঠাৎ তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ওই ওরা আসছে।
’ বাইরে থেকে একজনের কণ্ঠস্বর শোনা যায়, ‘হেই, ভ্যাল?’। এর উত্তরে ভেলেরিয়া ‘হ্যাঁ’ বলার পরে আর কোনও শব্দ পাওয়া যায় না। কিছুক্ষণ পরে শোনা যায় গুলির শব্দ। এক ব্যক্তিকে দেখা যায় ফোন তুলে নিতে। তখনও লাইভস্ট্রিমিং চলছিল।
কিছুক্ষণের জন্য তার মুখ দেখা যায়।

একই লাইভস্ট্রিমে গুলি করার কিছুক্ষণ আগে একটি অজানা ব্যক্তির আগমন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ভ্যালেরিয়া মার্কেজ। ওই ব্যক্তি তার অনুপস্থিতিতে সেলুনে এসেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে তিনি মার্কেজের জন্য একটি দামী উপহার নিয়ে এসেছেন। তবে মার্কেজ লাইভে দর্শকদের জানান, তিনি ওই ব্যক্তির ফিরে আসার বিষয়ে আগ্রহী নন।

টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে মার্কেজের প্রায় ২ লক্ষ অনুরাগী ছিল। তিনি নিয়মিত লাইভে সক্রিয় থাকতেন অনুরাগীদের সঙ্গে। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সোশ্যাল মিডিয়া। সেই সঙ্গে মেক্সিকোতে চলমান নারীহত্যা (ফেমিসাইড) সংকটকে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। জাতিসংঘের লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান বিষয়ক অর্থনৈতিক কমিশনের ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১ লাখ নারীতে ১.৩ জনের মৃত্যু ঘটে এ ধরনের সহিংসতায়। জালিস্কো রাজ্য, যেখানে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা মেক্সিকোর মধ্যে হত্যা সংখ্যা অনুযায়ী ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। ডেটা কনসালট্যান্সি সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের মেয়াদ শুরু হওয়ার পর, অর্থাৎ অক্টোবর ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত এই রাজ্যে মোট ৯০৬টি হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছে।

পিএসএলে ডাক পেয়েছেন সাকিব

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দল পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা না কাটলেও, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলায় ফিরছেন এই সাবেক এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমকে সাকিব নিজেই নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের লিগে খেলার বিষয়টি।

গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে সাকিব দেশের বাইরে আছেন।
সবশেষ তাকে মাঠে দেখা গিয়েছিলো আবু ধাবি টি-টেন ক্রিকেটে। সেখানে বাংলা টাইগার্সকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এই ক্রিকেটার।

এছাড়া স্বীকৃত ক্রিকেটে সবশেষ গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট সিরিজ খেলতে ভারত সফরে গিয়েছিলেন তিনি। তবে পরের মাসেই ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ছিলো তার।
তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পটভূমিতে দেশে ফিরতে পারেননি আইসিসি’র সাবেক এই শীর্ষ অলরাউন্ডার।

মাঝে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সাকিব। পরে আবারো অ্যাকশন পরিবর্তন করে গত মার্চে ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি পান তিনি।

তবে ক্যারিয়ারজুড়ে দেশে বিদেশে আলো ছড়ানো এই ক্রিকেটার আইপিএল বা পিএসএলের মত কোন টুর্নামেন্টের নিলামেই দল পাননি।

এবার ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের কারণে বিদেশি খেলোয়াড়রা না ফেরায় টুর্নামেন্টের মাঝপথে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ডাক পেয়েছেন সাকিব। এতে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে খেলার সম্ভাবনা দেখছেন তার ভক্তরা।

এর আগেও পিএসএলে ১৪ ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। ২০১৬ সালে করাচি কিংসের হয়ে পিএসএলের প্রথম ম্যাচ খেলেন তিনি। এরপর লাহোর কালান্দার্স ও পেশোয়ার জালমির হয়েও খেলেছেন এই ক্রিকেটার।

এই আসরে সাকিব মাঝপথে এলেও শুরু থেকেই লাহোর দলে ছিলেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।

এবারের আসরে ৯ ম্যাচ খেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় চারে আছে লাহোর।

এআইইউবিতে ‘জাপান কর্নার’ এর শুভ উদ্বোধন

গত ১২ মে ২০২৫ তারিখে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর লাইব্রেরিতে ‘জাপান কর্নার’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এআইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও চেয়ারম্যান মিস নাদিয়া আনোয়ার, ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ড. হাসানুল এ হাসান, জনাব ইশতিয়াক আবেদীন, সদস্য ড. কারমেন জেড লামাগনা, এআইইউবি-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আবদুর রহমান, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর এবং বিভিন্ন অনুষদের সম্মানিত ডিনবৃন্দ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জাপান দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি ও পাবলিক রিলেশনস অ্যান্ড কালচার সেকশনের ডেপুটি হেড জনাব ইয়ামামোটো কিওহেই এবং দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তা, এআইইউবি-এর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

‘জাপান কর্নার’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দ্য নিপ্পন ফাউন্ডেশন, জাপান-এর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং টোকিও ফাউন্ডেশন ফর পলিসি রিসার্চ-এর প্রশাসনিক সহায়তায়। বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের সহযোগিতায় এই কর্নারে ১৮৬টি মূল্যবান বই ও মাল্টিমিডিয়া উপকরণ প্রদান করা হয়েছে, যা জাপানের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে তুলে ধরে।

‘দ্য রিড জাপান প্রজেক্ট’-এর আওতায় অনুদান হিসেবে এসব বই প্রদান করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য বিশ্বব্যাপী তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে জাপানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা।

মঙ্গলে মানুষের চোখে দৃশ্যমান এমন মেরুজ্যোতি শনাক্ত করল নাসার রোভার

প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহের আকাশে চোখে দেখা যায় এমন সবুজ অরোরার (উত্তর বা দক্ষিণ মেরুর আলো) দৃশ্য ধারণ করতে পেরেছেন। পৃথিবীতে অরোরা সাধারণত আকাশের একটি নির্দিষ্ট অংশে দেখা যায়, কিন্তু মঙ্গলে এই আলো পুরো রাতের আকাশজুড়ে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।

২০২৪ সালের ১৮ মার্চে একটি সৌরঝড়ের কারণে তৈরি হওয়া এই সবুজ আলো মঙ্গলের ধূলিময় আকাশে দেখা যায় বলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার এই অরোরার সময় মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটার থেকে আকাশের একটি হলুদ-সবুজ ছবি তোলে। এই ছবি প্রথমবারের মতো কোনো গ্রহের পৃষ্ঠ থেকে দেখা অরোরার দৃশ্য — যা এতদিন বিজ্ঞানীরা কেবল কল্পনা করতেন। এর আগে মঙ্গল গ্রহে দেখা অরোরাগুলো কেবল অতিবেগুনি তরঙ্গে ধরা পড়েছিল। এগুলো মানুষের চোখে দেখা সম্ভব নয়।
এবার ইতিহাসে প্রথমবার দৃশ্যমান তরঙ্গদৈর্ঘ্যে ধরা দিল মঙ্গলের অরোরা।

সূর্য থেকে একটি প্রবল সৌর বিস্ফোরণ এবং পরবর্তী করোনাল ম্যাস ইজেকশন (প্লাজমার প্রবাহ) মঙ্গলের দিকে ধেয়ে এলে এই অরোরার সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞানীরা তিন দিন আগেই সৌরঝড়ের সম্ভাবনার পূর্বাভাস পেয়েছিলেন, তাই পারসিভিয়ারেন্স রোভারটির ক্যামেরা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল সেই বিরল দৃশ্যটি ধারণ করার জন্য।

যদিও পৃথিবীর অরোরার মতো উজ্জ্বল নয়, কারণ রোভারটির ক্যামেরা রাতে ছবি তোলার জন্য তৈরি নয়।
তবে এটিই প্রথমবার কোনো মানুষের চোখে দেখা সম্ভব এমন অরোরা, যা অন্য কোনো গ্রহের পৃষ্ঠ থেকে ধারণ করা হয়েছে।

এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব অসলোর গবেষক ড. এলিস রাইট কনুটসেন। গবেষক এলিস রাইট নুটসেন বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে আমি ভাবছিলাম, কালো পাহাড়ের পটভূমিতে সবুজ আলো ঝলমল করছে — আর রোভার ঠিক সেই ছবিটাই তুলে এনেছে।’

একজন শিল্পীর চোখে অরোরা এবং পারসিভারেন্স রোভারের ছাপ। সৌজন্যে: অ্যালেক্স ম্যাকডুগাল-পেজের চিত্রণ

নুটসেন বলেন, ‘ভাবতেই ভালো লাগে, একদিন হয়তো আমরাও তা নিজের চোখে দেখতে পারব।
একইসঙ্গে এটি মঙ্গলে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র, বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশ আবহাওয়া নিয়ে নতুন গবেষণার দরজা খুলে দিল।’

অরোরা তখনই সৃষ্টি হয়, যখন সূর্যের শক্তিশালী কণাগুলো কোনো গ্রহের চৌম্বকক্ষেত্রে ধাক্কা খায় এবং সেই গ্রহের বায়ুমণ্ডলের কণাগুলোকে উত্তেজিত করে। এই উত্তেজনায় আলো উৎপন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, অক্সিজেন কণাগুলো উত্তেজিত হলে সবুজ আলো তৈরি হয়। পৃথিবীতে এই অরোরা মেরু অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। কিন্তু মঙ্গলে পুরো গ্রহজুড়ে অরোরা ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ মঙ্গলের কোনো পূর্ণাঙ্গ চৌম্বকক্ষেত্র নেই, আছে শুধু কিছু এলাকা-ভিত্তিক শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের ধূলিময় বাতাসে অরোরার আলো কিছুটা ক্ষীণ হয়ে আসে, তবে যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে বা সূর্যের আরও শক্তিশালী কণার প্রবাহ মঙ্গলে আঘাত হানে, তাহলে এই অরোরা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতের নভোচারীরা মঙ্গলের আকাশে চোখেই এই দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখতে পারবেন।

গত দুই বছর ধরে বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছিলেন মঙ্গলের মাটিতে দাঁড়িয়ে অরোরা দেখা যায় এমন একটি দৃশ্য ধারণ করতে। কিন্তু এটি ছিল সময় ও প্রযুক্তির বড় চ্যালেঞ্জ। রোভারকে সঠিক সময়ে নির্দেশ দিতে হতো, আর প্রতিটি সৌর ঝড়ের জন্য মাত্র তিন মিনিট সময় পাওয়া যেত। তাদের প্রথম দুটি প্রচেষ্টায় সৌর ঝড় হয়তো খুব দুর্বল ছিল অথবা মঙ্গলকে না ছুঁয়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু চতুর্থ প্রচেষ্টায়, ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ, সৌর ঝড়টি সঠিকভাবে মঙ্গলে আঘাত হানে — আর সেদিন ইতিহাস গড়ে রোভার।

পারসিভিয়ারেন্স রোভারটি ২০২০ সালে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ২০২১ সাল থেকে এটি মঙ্গলের জেজেরো ক্র্যাটারে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। রোভারটি ওই অঞ্চলের মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করছে, যেগুলো ভবিষ্যতে পৃথিবীতে এনে বিশ্লেষণ করা হবে। গবেষকদের বিশ্বাস, একসময় এই অঞ্চলে পানি ছিল এবং সেখানে প্রাচীন কোনো মাইক্রোঅর্গানিজম বা জীবনের চিহ্ন থাকতে পারে।

সূত্র : দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

সবুজায়নে জুন থেকে গাছ লাগানো শুরু করা হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, পহেলা জুন থেকে ঢাকা শহর জুড়ে খাল, লেক, উন্মুক্ত স্থান ও মাঠে ব্যাপক আকারে উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণ কাজ শুরু হচ্ছে। এরইমধ্যে সারা নগরের জন্য ল্যান্ডস্ক্যাপ আর্কিটেক সম্পন্ন হয়েছে। উদ্ভিদবিদদের পরামর্শে খাল ও লেক পাড়ে গাছ লাগানো হবে। এই উদ্যোগগুলোকে সফল করতে আমরা সকল অংশীদারদের পাশে থাকতে চাই বলে।

গতকাল বুধবার (১৪ মে) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “খাল বাঁচলে, বাঁচাবে নগর— প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উত্তম চর্চার প্রসার” শীর্ষক একটি অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আগে খাল খনন করতে ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হতো কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখতে পেতাম না। আমরা ১০০ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার করতে খরচ হচ্ছে ১০ কোটি টাকারও কম খরচে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঢাকা শহরের ৩৩টি খালাকে রক্ষণাবেক্ষণ ও দুইপাড়ে গাছ লাগিয়ে সবুজায়ন করার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দিয়েছি।
প্রতি এক কিলোমিটার খালের পাড়ে গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন করে মালী নিয়োগ দিচ্ছি।

প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সীস ফর সাউথ এশিয়া (PLEASE) প্রকল্পের আওতায় কল্যাণপুর খাল এলাকায় বাস্তবায়িত একটি পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।

ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, এই প্রজেক্ট থেকে প্রাপ্ত ভাসমান বর্জ্যের শ্রেণীবিন্যাস করতে পারলে এই বর্জ্য উৎপাদনকারীদের কাছে উপস্থাপন করা যেতো। যাতে তারা পরবর্তীতে সঠিক ব্যবস্থাপনা আওতায় আনতে পারে।

সভায় ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেঃ জেনাঃ মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার ড্রেন সিস্টেম থাকলেও খালের প্রবাহ মাত্র ৮৬ কিলোমিটার। ড্রেনে আবর্জনা ফেলা এবং খালে প্লাস্টিক জমে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সিনিয়র উপদেষ্টা ড. শিবলী সাদিক বলেন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার, জনগণ, সিভিল সোসাইটি, জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতকে একযোগে গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে হবে। এই প্রকল্পটি তারই একটি উদাহরণ।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোঃ কামরুজ্জামান অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, পাউডারের খোল মাইক্রো প্লাস্টিক এটা যেন খালে বা জলাশয় না আসে, সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।
একসাথে কাজ করলেই টেকসই সমাধান সম্ভব।

এই অভিজ্ঞতা বিনিময় সভাটি নগরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমাধান, নীতিনির্ধারণী পরামর্শ এবং অংশীদারিত্বভিত্তিক উদ্যোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে উপস্থিত বক্তারা মত দেন।

মুসলিম পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে পারবেন : ভারতীয় হাইকোর্ট

একজন মুসলিম পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে পারেন বলে জানিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। হাইকোট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, একজন পুরুষ যদি তার সব স্ত্রীর সঙ্গে সমানভাবে আচরণ করতে পারেন তবে তিনি একাধিক বিয়ে করতে পারেন। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির।

খবরে বলা হয়, জাস্টিস অরুণ কুমার সিং দেশওয়ালের একক বেঞ্চ মোরাদাবাদ আদালতের চার্জশিট ও সমন আদেশ বাতিল করার একটি আবেদন শুনানির সময় এই মন্তব্য করেন।
মামলাটি ২০২০ সালের, যখন এক নারী অভিযোগ করেন যে ফুরকান নামের এক ব্যক্তি তাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের আগে তিনি জানাননি যে ফুরকান ইতিমধ্যেই আরেকজনকে বিয়ে করেছেন। ওই নারী আরো অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় ফুরকান তাকে ধর্ষণও করেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে মোরাদাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের হয় এবং ফুরকানসহ আরো দু’জনের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।

ফুরকানের পক্ষের আইনজীবী মোরাদাবাদ আদালতে যুক্তি দেন যে, ওই নারী স্বীকার করেছেন যে তিনি সম্পর্কের পর ফুরকানকে বিয়ে করেন।

জাস্টিস দেশওয়াল এক্ষেত্রে ইউনিফর্ম সিভিল কোডের পক্ষে মত দেন এবং বলেন, একজন মুসলিম পুরুষ ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী চারটি বিয়ে করতে পারেন, তাই এটি কোনো অপরাধ নয়। তিনি বলেন, কোরআনে বহুবিবাহের ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে এবং বিবাহ ও তালাক সম্পর্কিত সকল বিষয় শরিয়ত অ্যাক্ট, ১৯৩৭ অনুসারে নির্ধারণ করা উচিত।

আদালতের ১৮ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়েছে, যেহেতু ফুরকানের দুই স্ত্রী-ই মুসলিম, তাই দ্বিতীয় বিয়েটি বৈধ।
আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী ২৬ মে।

মিশা সওদাগরকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, যা জানা গেল

হাসপাতালে ভর্তি আছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় খলনায়ক মিশা সওদাগর। প্রায় ৯ বছর আগে ‘মিসড ক‘ নামে একটি সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন মিশা। সে সময় তার ডান পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থও হয়েছিলেন।
এরপর আবারও সেই একই জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হন এ অভিনেতা। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুস্থও হয়ে ওঠেন। সুস্থ হয়ে উঠলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছিল হাঁটুর অস্ত্রোপচার করা। সে উদ্দেশ্যেই বেশ কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মিশা সওদাগর।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে তার হাঁটুর অস্ত্রোপচার করা হয় বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের একটি হাসপাতালে অভিনেতার হাঁটুর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরেক অভিনেতা জায়েদ খান।

এদিকে, মিশার অস্ত্রোপচার সময়েই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে দাবি করা হয়, অভিনেতা মিশা সওদাগর মব-এর শিকার হয়েছেন।
তাকে রাস্তায় মারধর করেছেন একদল উৎসুক জনতা। এরপর তার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকার ছবিটি ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তরা ভাবেন তিনি মারধরের শিকার হয়েছেন। অনেকই মনে করেন, আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এই অভিনেতা।

তবে বিষয়টি ঠিক নয়। মিশাকে মারধরের ভিডিওটি সত্যি নয়।
তার নাম করে ভুয়া একটি ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

মিশা সওদাগরের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ‘তিনি ভালো আছেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। ভিডিওটি ভিত্তিহীন। অনুরোধ করছি- কারও বিভ্রান্তিকর পোস্টে কান দেবেন না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের একটি হাসপাতালে মিশা সওদাগরের হাঁটুর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ভালো আছেন অভিনেতা। তার স্বাস্থ্য বিষয়ে ভক্তদের উদ্দেশে কালের কণ্ঠকে অভিনেতা জায়েদ খান বলেন, ‘মিশা ভাই তার হাঁটুতে ব্যথা পেয়েছিলেন কয়েক বছর আগে। ডান পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছিল। খুব কষ্ট করতেছিলেন পায়ের ব্যথা নিয়ে। অবশেষে সফলভাবে সেটির অপারেশন সম্পন্ন হলো। আপাতত তিনি ভালো আছেন। বিশ্রামে রয়েছেন।’

২০১৬ সালে সাফি উদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘মিসড কল’ সিনেমায় বৃহন্নলা (তৃতীয় লিঙ্গ) চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছবিতে বেশ কয়েকজন বৃহন্নলাকে নিয়ে একটি গানের দৃশ্যে নাচের শুটিং করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যথা পান মিশা সওদাগর। পরে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে।

উপদেষ্টা মাহফুজকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বুধবার (১৪ মে) রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, একজন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে মাহফুজ আলম সমস্যা সমাধানে গিয়েছিলেন, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

তিনি লিখেন, এ কথা স্পষ্টভাবে মনে রাখা প্রয়োজন—আপনাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি বলেই তিনি আপনাদের কাছে এসেছেন। কিন্তু এ ধরনের উগ্র ও হঠকারী আচরণ ভবিষ্যতে কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
মাহফুজ আলম আইনি পথে হাঁটবে কি না জানি না, তবে আন্দোলনের নেতৃত্বের উচিত প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করা এবং ভবিষ্যতে এমন ন্যক্কারজনক আচরণ পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।

সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার—কিন্তু শারীরিক লাঞ্ছনা বর্বরতা, এবং সেটির কোনো যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা নেই।

তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণও সন্দেহজনক। সকল জনদাবির সম্মুখে ছাত্র উপদেষ্টাদের ঠেলে দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও সেটির বিষয়ে কেন এখনও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সেটিও এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।

এর আগে তিন দফা দাবিতে ‘লংমার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনের রাস্তায় অবস্থান নেয়।

পরে সমঝোতা করতে সেখানে উপস্থিত হন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এ সময় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি চক্র তার ওপরে আক্রমণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন উপদেষ্টা মাহফুজ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একটি পক্ষ ঢুকে আন্দোলনকে স্যাবোটাজ করার চেষ্টা করছে, তারা কারা তাদের নাম বলতে চাই না।

জবির সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে : মাহফুজ আলম

শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে আলোচনার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

বুধবার (১৪ মে) রাত ১০টার দিকে উপদেষ্টা কাকরাইল মসজিদের পাশে পুলিশি ব্যারিকেটের সামনে জবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এসময় তিন দফা দাবিতে আন্দোলনের বিষয়ে কথা বলার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তথ্য উপদেষ্টার মাথায় পানির বোতল ছুঁড়ে মারা হয়। হঠাৎ কে বা কারা পানির বোতল ছুঁড়ে মেরেছিল তা তাৎক্ষণিক দেখা যায়নি।

বক্তব্যের শুরুতে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা ন্যায্য দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এ বিষয়ে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।’

এরপর দুপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকে কিছু পুলিশ সদস্য হয়তো উসকানি.. একথা বলতেই শিক্ষার্থীরা ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করেন। এরমধ্যে হঠাৎ করে কিছু একটা মাথায় পড়তে দেখা যায়।

এরপর উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমি আর কথা বলব না।’ পরে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তিনি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে চলে যান।

তারপর যমুনার সামনের মিডিয়াতে তিনি বিফ্রিং করেন। সেখানে তিনি বলেন, আজকের সকাল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনের সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছেন। তারা তিনটি দাবি দিয়েছেন। তিনটি দাবির যৌক্তিকতা আছে কি নেই, এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিচার করে দেখবে। যে বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন সংকটে আছে, আমাদের সরকার তার সুনজরে দেখবে। আগামী বাজেটে যাতে তাদের আবাসন ভাতা সত্তর শতাংশ দাবি তুলেছেন। সেটা কত শতাংশ করা যায় একটা আলোচনা সাপেক্ষ। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ ত্বরান্বিত করার কথা বলেছেন। আমরা আশা করি, শিগগিরই কাজগুলো হবে। তবে আরেকটি দাবি হচ্ছে, বাজেট না কমানোর জন্য বা সামনে বাজেটের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি দ্রুত প্রধান উপদেষ্টার সাথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং স্টক হোল্ডারদের সাথে বসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে। আমি দুঃখ জানাতে চাই যে, এরা আমাদের সাথে আন্দোলন করেছে, আমি মনে করি যারা জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলন করেছে, তারা আমার ওপর হামলা করেনি। মামলা করেছে যারা এই আন্দোলন নামে নাশকতা করতে চেয়েছেন।

‌‌‘কথা ছিল আজকে আমার সাথে তাদের মিটিং হবে, সেই মিটিং তারা করেননি। কথা ছিল আগামীকাল সকালে প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তাদের মিটিং হবে, সেই মিটিং তারা করেননি। কীভাবে হুট করে মিছিলটা পুরান ঢাকা থেকে কাকরাইল পর্যন্ত এসেছে আমরা জানি না।’

উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, আজকে থেকে চল চল যমুনা যাই, এই রাজনীতি, এই মুভমেন্ট হতে দেবো না। আমরা এই ক্ষেত্রে স্টিক ভূমিকা অবতীর্ণ হব। যথেষ্ট হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এই কর্মকাণ্ড করেছেন, তারা অনেক বড় ভুল করেছেন। শিক্ষাতেদের মধ্যে যারা নাশকতা অভিপ্রেয় করার এখানে এসেছেন। শিক্ষার্থীদের উচিত তাদেরকে আলাদা করে রাখা। তাদেরকে চিহ্নিত করা।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষক এবং ছাত্র যখন আন্দোলন করবে তাদের সাথে প্রথমের আলোচনা করার চেষ্টা করবেন। প্রথমে সংলাপ করার চেষ্টা করবেন, প্রথমে ফোর্স ইউজ করার চেষ্টা করবেন না।

শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শিক্ষকরা তাদের কাছে অসহায়। শিক্ষকদের নৈতিক মোরালারিটি তাদের ওপরে নাই। এটা আমার জন্য দেখাটা দুঃখজনক। আমি তাদের সাথে কথা বলতে গিয়েছি তারা কিন্তু মর্যাদা রক্ষা করতে পারেনি। সেটা তারা করতে পারেনি, তারা হয়তো বুঝতে পারবে।