শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

সংস্কার কর্মসূচি থেকে নাগরিক সমাজকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই : আলী রীয়াজ

সংস্কার কর্মসূচি থেকে নাগরিক সমাজকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, আমরা বারবার বলেছি যে জাতীয় ঐকমত্য গঠনে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আলোচনা যথেষ্ট নয়, নাগরিক সমাজের মধ্যেও এ বিষয়ে এক ধরনের ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা করা দরকার। তাই নাগরিক সমাজকে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে।

আজ রবিবার কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছি তা জানানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতার জন্য যে বিষয়ে সমঝোতা হয়নি তাও জনগণকে অবহিত করা হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি তুলে ধরে আলী রীয়াজ জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থানের কারণে মতপার্থক্য থাকবে, সব বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না, এটা হচ্ছে বাস্তব।

তিনি বলেন, পাশাপাশি আমরা নাগরিক সমাজের চিন্তাভাবনাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে আজকে আমরা এখানে আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবং এই আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের কার্যক্রমের ব্যাপারে আপনাদের পরামর্শ নেব।

আলী রীয়াজ বলেন, যে সব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে এগুলো জানাব।
আর যেসব বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করা যায়নি সেগুলোও আমরা জানাব। এর কারণ হচ্ছে স্বচ্ছতার জন্য এবং জনগণের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সহযোগিতা করার জন্য। আমরা মনে করি সেটা খুবই জরুরি। সেই বিবেচনা থেকেই আমরা এখন পর্যন্ত অগ্রসর হচ্ছি এবং সেক্ষেত্রে আপনাদের পরামর্শ আমাদেরকে সাহায্য করবে।

আলী রীয়াজ জানান, ঐকমত্য কমিশন চেষ্টা করবে যে জাতীয় সনদ তৈরি হচ্ছে তার পাশাপাশি যে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে সেখানে যেন এই মতামতগুলো থাকে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার গুরুত্বের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে গঠিত হওয়ার পর থেকে নির্ধারিত সময় দেওয়া হয়েছে ছয় মাস। সেই ছয় মাসের প্রায় মাঝামাঝি সময়ে আমরা উপস্থিত। এই সময়ে আমরা বিভিন্নভাবেই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করা ছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তার সংক্ষেপ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো নিয়ে যোগাযোগ করেছি। দলগুলো তাদের মতামত দিয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আমরা একটা মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। অমিত সম্ভাবনা তৈরি করেছি, কিন্তু যে কোনো সম্ভাবনা যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে; এই পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলো অত্যন্ত কঠিন। আমাদের প্রত্যাশা যে সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের যে সুযোগ, সেই সুযোগকে আমরা গ্রহণ করতে পারব।

তিনি জানান, ৫৩ বছর ধরে যে চেষ্টা, সেই চেষ্টার পাশাপাশি গত ১৬ বছর ধরে যে সংগ্রাম সর্বোপরি জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে রক্তপাত, প্রাণনাশ, মানুষের আত্মদান সেগুলোর কাছে আমাদের দায় আছে। আমাদের সেই দায়িত্বের জায়গা থেকেই আশা করি যে সকলেই তাদের নিজস্ব জায়গা থেকে এই কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো যতটা অর্জন করা সম্ভব, সেজন্য সক্রিয় থাকবে। সেই আশা থেকেই আমাদের এই আলোচনা। আশা করি যে আপনাদের মতামত আমাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করবে।

আলোচনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ছাড়াও সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

আসিফ-মাহফুজ কোনো দলের নয়, গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি : হাসনাত

অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম কোনো দলের নয়, তারা এই সরকারে গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

রবিবার চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেট এলাকায় পথসভার শুরুতে এই মন্তব্য করেন।

হাসনাত বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই দুই উপদেষ্টা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয় বরং চলমান গণঅভ্যুত্থানের সার্বজনীন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাদের (আসিফ-মাহফুজ) দলীয় পরিচয়ে ট্যাগ করার প্রচেষ্টাকে আমরা তীব্রভাবে নিন্দা জানাই। তারা এনসিপি বা অন্য কোনো দলের প্রতিনিধি নন, তারা এই সরকারে জনগণের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

এ সময় পথসভার নিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, গণমানুষের মতামত জানতেই আমরা চট্টগ্রাম দক্ষিণ থেকে যাত্রা শুরু করেছি। আমরা সারা বাংলাদেশ ঘুরে জনগণের ভাবনা জানাবো এবং নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরব।
এটি একটি পারস্পরিক সংলাপের প্রক্রিয়া।

হাসনাত আব্দুল্লাহ জানান, বিচারব্যবস্থার সংস্কার, নতুন সংবিধান প্রণয়ন, গণপরিষদ ও আইনসভার নির্বাচন, আহত ও শহীদ পরিবার পুনর্বাসনসহ মৌলিক সংস্কারের দাবিতে তারা সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে তারা দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন।

এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও জুবাইরুল আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কাউকে দিচ্ছি না : প্রেসসচিব

চট্টগ্রাম বন্দর কাউকে দেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রাম বন্দর কাউকে দিচ্ছি না। বন্দরকে সংস্কার করতে চাচ্ছি।’

আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর ক্যাপিটাল মার্কেট সাংবাদিক ফোরামের আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসসচিব বলেন, সরকার চায়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় কম্পানিগুলো চট্টগ্রাম বন্দরকে যেন ম্যানেজ করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আমরা চাই টার্মিনালে যেন তারা বিনিয়োগ করেন, ম্যানেজ করেন। ইতোমধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছি, তারা তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

বিপাশা বসুকে দেখে অবাক নেট দুনিয়া!

বেশিরভাগ নারীর শরীরেই সন্তান হওয়ার পর বেশ কিছু পরিবর্তন আসে, যার মধ্যে অন্যতম হলো অতিরিক্ত স্থূলতা। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন থেকে শুরু করে দীপিকা পাড়ুকোন- প্রায় প্রত্যেক তারকাদেরই দেখা গেছে মা হওয়ার পর এমন স্থূলতার শিকার হতে। তবে অভিনেত্রী বিপাশা বসুর এমনই স্থূলতার একটি ছবি ভাইরাল, যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে নেটিজেনদের মাঝে।

সন্তান প্রসবের পর বিপাশা বসুর ওজন বেড়েছিল ঠিকই।
কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রীর নিয়মিত সক্রিয় থাকার কারণে অনুরাগীরা জানেন, তিনি সেই ওজন কমিয়ে ফেলেছেন। কিছুদিন আগেই ক্যাট আই সানগ্লাস পরে বেশ কিছু ছবিও শেয়ার করেছিলেন তিনি। তারই মাঝে অভিনেত্রীর মোটা হয়ে যাওয়ার ছবি ভাইরাল হওয়ায় কিছুটা অবাক বনে যান অনুরাগীরা।

সদ্যই কোনোরকম মেকআপ ছাড়া রাস্তায় বের হয়েছিলেন বিপাশা।
আর সঙ্গেই ছবিশিকারিদের ক্যামেরাবন্দি হন তিনি। আর সেই ছবিই এই মুহূর্তে নেটমাধ্যমে ভাইরাল। কেউ যেন মেনেই নিতে পারছেন না তার চেহারার এই গড়ন। বিভিন্ন ধরনের কটাক্ষমূলক মন্তব্যও ধেয়ে আসছিল অভিনেত্রীর দিকে।
তবে অনেকে তার পাশেও দাঁড়িয়েছেন।

একজন নেটিজেন লিখেছেন, ‘তার যখন প্রয়োজন ছিল, তখন তিনি নিজেকে সেভাবেই দেখিয়েছেন। এখন তিনি তার মাতৃত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যেটাকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা উচিৎ।’ আরেক নেটিজেন লিখেছেন, ‘তিনি অন্যদের মতো সারোগেসি করাননি, নিজেই জন্ম দিয়েছেন। তার মধ্যে মাতৃত্বের মাধুর্যতা ফুটে উঠেছে।
‘

বিপাশাকে নিয়ে অনেকে কটাক্ষ করেছিলেন। তাদের ওপর চটে গিয়ে অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। বিপাশা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় অপরাজিতার অকপট জবাব, ‘কিছু মানুষ আছে শুধু খারাপ কথা বলার জন্য। এদের পাত্তা দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।’

অপরাজিতা বলেন, ‘মানুষের এই নিম্ন রুচির জন্যই আমি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করি না। এই নোংরামিতে গুরুত্ব দিতে আমার রুচিতে বাঁধে।’

বনানীতে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ২ মোটরসাইকেল আরোহীর

রাজধানীর বনানীতে কংক্রিট রেডি-মিক্সের ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকাল ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে বলে বনানী থানার ওসি রাসেল সরোয়ার জানিয়েছেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে বনানী ফ্লাইওভার দিয়ে যাচ্ছিলেন।
এ সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দিলে তারা রাস্তায় পড়ে যান এবং ওই ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ট্রাকের চালককে আটক করা হয়েছে এবং ট্রাকটি বনানী থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিস লিমা খাতুন বলেন, আমরা খবর পেয়ে দুই জনের লাশ উদ্ধার করি। কিন্তু তাদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

লন্ডনে স্কলারশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংবর্ধনা

যুক্তরাজ্য সরকারের কমনওয়েলথ ও চিভনিং স্কলারশিপ পেয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন। কমনওয়েলথ ও চিভনিং স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ৪০ শিক্ষার্থীকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট, কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশন প্রতিনিধি এবং ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেন, এই মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ অর্জনের মাধ্যমে আপনারা শুধু নিজেদের আলাদা করে তোলেননি বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরো সুদৃঢ় করেছেন।

হাইকমিশনার বলেন, এই স্কলারশিপগুলো কেবল অ্যাকাডেমিক সুযোগ নয়। এগুলো নেতৃত্ব, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে এক একটি বিনিয়োগ।

তিনি আরো বলেন, কমনওয়েলথ ও চিভনিং স্কলারদের এই অসাধারণ অর্জন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী করে তোলে।

এ সময় যুক্তরাজ্য সরকার, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট, এফসিডিও এবং স্কলারশিপ কমিশনের প্রতি তাদের অব্যাহত সহায়তা ও সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, এ ধরনের স্কলারশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যে সস্পর্ক আরো জোরালো হবে। উভয় দেশ পরস্পরের কাছ থেকে লাভবান হবে।

চিভনিং সেক্রেটারিয়েট ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু চ্যাডউইক বলেন, স্কলারশিপের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করার ইচ্ছা রয়েছে। সবাই সেটাই চায়।
কিন্তু ফান্ড সীমাবদ্ধতার কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। স্কলারশিপ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ফাউন্ডেশন এবং কোম্পানির সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা করা হবে।

কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ম্যাগি গনকাভস বলেন, কমনওয়েলথ স্কলারশিপের সঙ্গে অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আশা করি এই স্কলারশিপের আওতায় যারা যুক্তরাজ্য পড়াশোনা করতে এসেছে তারা দেশে ফিরে গিয়ে সেটি কাজে লাগাবে এবং নিজেদের কমিউনিটিতে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ৮ দল-সংগঠনের বৈঠক

দেশের আট রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের শীর্ষ নেতারা আজ রবিবার সন্ধ্যায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে অংশ নেবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলামী পার্টি।

এই বৈঠক বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বৈঠক ইস্যুতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এই বৈঠকে তার দলের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন। একইসঙ্গে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, গণ অধিকার পরিষদ, নেজামে ইসলামী পার্টি এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা।

বৈঠকে শেখ হাসিনার শাসনামলে স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচারে পরিকল্পনা, অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা আলোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন। ধারাবাহিক এই বৈঠকগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মার্কিন পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল সিরিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার শুরুর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে সিরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারস্পরিক সম্মান ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী সিরিয়া। মার্কিন প্রশাসনের গৃহীত সিদ্ধান্ত সিরিয়ার মানবিক ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগ লাঘবের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন সংশ্লিষ্টরা।

সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। দেশটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি ও স্যানিটেশন পরিষেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

চলতি মাসে মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে সিরিয়ার ওপর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটি পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় দেশটির নেতা আহমেদ আল শারার সঙ্গেও সাক্ষাত করেন ট্রাম্প। এবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলো ট্রাম্প প্রশাসন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানায়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে সিরিয়ায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। প্রেসিডেন্টের আমেরিকা ফার্স্ট কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের ‘সিজার সিরিয়ান নাগরিক সুরক্ষা আইন’-এর আওতায় ১৮০ দিনের জন্য একটি ছাড়পত্র জারি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সিরিয়ায় বিনিয়োগের বাধা কাটাতে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি ও স্যানিটেশন পরিষেবার পাশাপাশি মানবিক সহায়তার উদ্দ্যেশে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে দেশ দুটির এক নতুন সম্পর্কের সূচনা হতে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর সিরিয়ার সরকারের কাছ থেকেও কিছু পদক্ষেপের প্রত্যাশা করেছেন ট্রাম্প। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সিরিয়ার ওপর তাদের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এই সিদ্ধান্তের আওতায় সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ ‘আনফ্রিজ’ করা হয় এবং দেশটির ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে প্রবেশাধিকার দেয়া হয়।

সমর্থকদের সঙ্গে ইউরোপা লিগের ট্রফি সেলিব্রেশন টটেনহ্যামের

সমর্থকদের সঙ্গে ইউরোপা লিগ ট্রফি সেলিব্রেশন করলো টটেনহ্যাম হটস্পার। শিরোপা নিয়ে ছাদখোলা বাসে নর্থ লন্ডন ঘুরে বেড়িয়েছেন সং ইয়ং মিনরা। আর এই উৎসবে যোগ দিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় নর্থ লন্ডন। ১৭ বছর পর কোন ট্রফি জিততে পারায় আনন্দে আত্মহারা সমর্থকরা। তাদের বিশ্বাস সামনের মৌসুমে লিগেও ভালো করবে স্পার্স।

লিগে একেবারে রেলিগেশন বারের নি:শ্বাস দুরত্বে থাকা কোন ক্লাব যখন উয়েফার দ্বিতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে যায়, বিষয়টা তখন অবিশ্বাস্যই হওয়ার কথা। এমন অসম্ভব কাজই করে ফেলেছে টটেনহ্যাম হটস্পার ইউরোপা লিগ জিতে। চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর ভক্তরাও যেনো একটা ঘোরের মাঝে।

বিলবাওয়ের সান মামেসে ইতিহাস রচনা করে পরের দিনই লন্ডন ফিরেছে স্পার্স। একদিন সময় নিয়ে ট্রফি হাতে ফুটবলাররা বেরিয়ে পড়েছেন সমর্থকদের ১৭ বছরের তৃষ্ণা মেটাতে। রুপালি ট্রফি হাতে ছাখোলা বাসে সন হিয়ং মিন, ক্রিস্টিয়ান রোমেরোরা। সাদা নেভি ব্লু পতাকা হাতে রাস্তার দু ধারে সমর্থকদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা।

চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা টটেনহ্যামের। কোন রকমে বাঁচিয়েছে অবনমন থেকে। সেই ক্লাবটাই বাজিমাত করে দিলো ইউরপো লিগে। শিরোপার আক্ষেপ ঘুঁচালো, বোনাস হিসেব নিশ্চিত করলো সামনের মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টিকিট। আর তাই একটু বেশিই আবেগি হয়ে পড়েন ভক্তরা।

এক ভক্ত বলেছেন, ‘আমরা এটা জিতেছি। এর চাইতে খুশির আর কিছু হতে পারে না। এটা দারুণ এক অর্জন। আমরা লিগে কি করেছি এটা কোন বিষয় না। আমরা এখন চ্যাম্পিয়ন। এর সুবাদে স্পার্স সামনের মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলবে। আমরা সেখানেও ভালো করবো। এটা একটা অনুপ্রেরণা। আমি ফুটবলারদের ধন্যবাদ জানাই।’

এর আগে ২০০৭-০৮ মৌসুমে সবশেষ শিরোপা জিতেছিলো টটেনহ্যাম হটস্পার। চেলসিকে হারিয়ে ওরা ঘরে তুলেছিলো ইংলিশ লিগ কাপ। শিরোপা জিততে ভুলে যাওয়া দলটাই এবার করে দেখালো নিদারুণ কিছু।

মুকুলের মৃত্যুতে ভাই রাহুল দেবের আবেগঘন বার্তা

মারা গেছেন ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা মুকুল দেব। শুক্রবার (২৩ মে) রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন অভিনেতা মুকুল দেব। ৫৪ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন ওপারে। অভিনেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন আরেক অভিনেতা মনোজ বাজপায়ী। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায় নি।

অভিনেতা মুকুল দেব একমাত্র কন্যা সিয়া দেবসহ ভাই-বোন রেখে গেছেন। মুকুলের ভাই অভিনেতা রাহুল দেব জানিয়েছেন, মুকুলের শেষকৃত্য আজ বিকেলে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে।

মুকুলের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না করলেও, জানা গেছে, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল।

ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে স্টোরি শোক প্রকাশ করেছে রাহুল দেব। তিনি লেখেন, ‘আমাদের ভাই মুকুল দেব গতরাতে নয়াদিল্লিতে পরলোকগমন করেছেন। তার একমাত্র কন্যা সিয়া দেব তাকে রেখে গেছেন। আমরা ভাই-বোন রেশমি কৌশল, রাহুল দেব এবং ভাতিজা সিদ্ধান্ত দেব তাকে খুব মিস করব। আজ বিকেল ৫টায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত থাকার অনুরোধ করছি।’

মুকুলের সঙ্গে ‘সন অব সারদার’ ছবিতে কাজ করেছিলেন অভিনেতা বিন্দু দারা সিং। এর আগে তিনি বলেন, ‘মা-বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মুকুল নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। কারও সঙ্গে দেখা করতেন না, ঘর থেকেও বের হতেন না। শেষ কয়েকদিনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। আমরা সবাই তাকে ভীষণ মিস করব।’

নয়াদিল্লিতে এক পাঞ্জাবি পরিবারে জন্ম মুকুল দেবের। তার বাবা হরি দেব সেই সময়ের সহকারী পুলিশ কমিশনার ছিলেন। বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে ছোট ছেলের প্রাথমিক পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনিই। হরি দেব মুকুলকে আফগান সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি পশতু ও ফারসি ভাষায় দক্ষ ছিলেন সদ্য প্রয়াত অভিনেতা।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন মুকুল। ছোটপর্দা থেকে বড় পর্দা- সব প্ল্যাটফর্মেই সমান তালে কাজ করেছেন। প্রথম ছবি ‘দস্তক’-এ পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল তাকে। এই ছবি দিয়ে বলিউডে পা রাখেন প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেনও। সালমান খানের সঙ্গে ‘জয় হো’ ছবিতে মুকুলের অভিনয় আলাদা করে নজর কেড়েছিল দর্শক-সমালোচকদের।

একাধিক বাংলা ছবিতে কাজ করেছিলেন তিনি। তালিকায় ‘আওয়ারা’, ‘বচ্চন’, ‘সুলতান: দ্য স্যাভিয়ার’ উল্লেখযোগ্য। সব ক’টি ছবিতেই নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন জিৎ। এছাড়া টেলিভিশনেও তিনি ‘ঘরওয়ালি উপরওয়ালি’, ‘কাহানি ঘর ঘর কী’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন।