শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

৯ মাসে কত টাকার বিনিয়োগ এসেছে, জানাল বিডা

গত ৯ মাসে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বাংলাদেশি টাকায় যা ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বিডা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, গত বছর অক্টোবর থেকে চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত দেশে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে।

এ ছাড়া বিডা মোট ৭৩৯টি শিল্প প্রকল্প নিবন্ধিত করেছে তার মধ্যে শতভাগ বিদেশি প্রকল্প আছে ৬৬টি, আর যৌথ বিনিয়োগ আছে ৬১টি।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ১৬টি প্রতিষ্ঠানের সাথে জমি ইজারা চুক্তি সম্পাদন করেছে, যার মধ্যে শতভাগ বিদেশি প্রকল্প রয়েছে ৬টি এবং যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে ৩টি।

সম্প্রতি একটি শিল্প সংগঠন ‘গত আট মাসে দেশে কোনো বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি’ বলে যে মন্তব্য করেছে তার জবাবে আজ এসব তথ্য জানিয়েছে বিডা।

‘অ্যাকশন’ সিনেমায় বুবলী, নায়ক সজল

গেল ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘জংলি’ সিনেমা দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। আসন্ন ঈদেও থাকছে এই নায়িকার নতুন ছবি ‘সর্দারবাড়ির খেলা…’।

এর মধ্যেই জানা গেল নতুন সিনেমার খবর। সপ্তাহখানেক ধরে নতুন একটি সিনেমার শুটিং করছেন বুবলী।
ছবিটির প্রাথমিক নাম ‘শাপলা শালুক’। ছবিটির নাম বদলে যেতে পারে বলে জানালেন এর পরিচালক রাশেদা আক্তার লাজুক। ছবিটিতে বুবলীর বিপরীতে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আব্দুন নূর সজল।

জানা গেছে, শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন লোকেশনে ছবিটির শুটিং হচ্ছে।

বুবলী জানালেন, এই লোকেশনে আগে কখনো শুটিং করেননি তিনি। নায়িকা বলেন, ‘দারুণ লোকেশন। খুবই নিরিবিলি পরিবেশ। সিনেমাপ্রেমীদের এই লোকেশন চোখের আরাম দেবে।
’

তিনি আরো বলেন, ‘যেকোনো ছবিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে গল্প, আমার চরিত্র এবং চিত্রনাট্যের বিষয় আমি সব সময় গুরুত্ব দিই। মনে হয়, একটি চরিত্র দিয়ে যদি নিজেকে নতুনভাবে এক্সপ্লোর করা না যায় তাহলে অভিনয়শিল্পী হিসেবে সার্থকতা কোথায়। এই ছবিতেও আমার চরিত্রটি ভিন্ন রকম, যেমনটা আমি করতে চাই। এ রকম চরিত্রে আগে অভিনয় করা হয়নি। কাজ করে ভালো লাগছে।
’

পরিচালক জানালেন, ছবিটি অ্যাকশন, রোমান্টিক ও পুরোপুরি বাণিজ্যিক ধাঁচের। ছবিতে ক্ল্যাসিক ধাঁচের ছোঁয়াও আছে।

ছবিতে সজল-বুবলী ছাড়া আরো অভিনয় করছেন সুমন আনোয়ার, আয়মান শিমলা, দিলরুবা দোয়েল, রফিকুল রুবেল, বাপ্পী প্রমুখ।

টাকার বিনিময়ে নয়, যোগ্যতাকে মূল্য দিন: হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ টাকার বিনিময়ে কিংবা মার্কা দেখে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভোট হোক বিবেকের, যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক।”

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে মহানগর এনসিপির আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘর থেকেই সংগ্রাম শুরুর ডাক দেন তিনি।

হাসনাত বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই আগে ঘর থেকে শুরু করতে হবে। বাবা যদি ৪০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন, অথচ ২৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে থাকেন এবং দেড় লাখ টাকার মোবাইল কিনে দিতে পারেন, তখন সন্তানের উচিত প্রশ্ন করা—এই অর্থ আসে কোথা থেকে? যদি পরিবারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন করার সাহস না থাকে, তাহলে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ার নৈতিক ভিত্তি তৈরি হয় না।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “স্বপ্নকে বড় করতে হবে, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে শিখতে হবে। আমরা আর কোনো স্বৈরশাসকের হাতে দেশ তুলে দেব না। রাজনীতি কোনো প্রাপ্তির জায়গা নয়, এটি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্র।”

ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের নেতারা দুর্নীতিতে জড়িত। তারা রাস্তার উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ করে, টেন্ডারবাজি করে, গরিবের সম্পদ লুটে নেয়। আর আমরা, সাধারণ ভোটাররা ভোট আগের রাতেই টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিই। যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে নিজেকে যোগ্য ভোটার হিসেবে তৈরি করতে হবে।”

তিনি প্রশ্ন করেন, “মাত্র এক হাজার টাকার জন্য কি আমরা আমাদের ভোট বিক্রি করব? যদি আমাদের পরিবারের কেউও ভোট বিক্রিতে যুক্ত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করতে হবে।”

হাসনাত আরও বলেন, “যে নেতা জনগণের সেবায় নিয়োজিত, কমিটেড, তাকেই ভোট দিন। মার্কা দেখে নয়, যোগ্যতা দেখে ভোট দিন। এনসিপিতে যদি যোগ্য নেতৃত্ব না পান, তাহলে আমাদের ভোট দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।”

পথসভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের হত্যা বা গুম করবে না। বর্তমান সংবিধানের অধীনেই এসব অপরাধ ঘটছে। এই সংবিধান বাতিল করে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে হবে।”

চকবাজার ছাড়াও চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট, শাহ আমানত সেতু চত্বর, নিউমার্কেট, আগ্রাবাদ আখতারুজ্জামান সেন্টার ও অলঙ্কার মোড়ে এনসিপির পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিনের কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, মো. আতাউল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসেন।

এর আগে রোববার চট্টগ্রামের দক্ষিণ জেলা ও সোমবার উত্তর জেলায় সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবে একাধিক পথসভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা।

দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক শেরিফকে ট্রাম্পের ক্ষমা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফেডারেল ঘুষ ও জালিয়াতির মামলায় দণ্ডিত ভার্জিনিয়ার এক প্রভাবশালী সাবেক আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা স্কট জেনকিনসকে ক্ষমা করেছেন। এই সিদ্ধান্ত কার্যত তাকে কারাগারে যাওয়া থেকে রক্ষা করল, যার দিনক্ষণ ইতোমধ্যে নির্ধারিত ছিল।

কুলপেপার কাউন্টির নির্বাচিত সাবেক শেরিফ জেনকিনস ৭৫ হাজার ডলারেরও বেশি ঘুষ গ্রহণের দায়ে গত ডিসেম্বরে দোষী সাব্যস্ত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অর্থের বিনিময়ে প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার মর্যাদা দিয়েছিলেন। এ বছর মার্চে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

ট্রাম্প মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “শেরিফ স্কট জেনকিনস, তার স্ত্রী প্যাট্রিশিয়া এবং তাদের পরিবারকে নরকের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।” তিনি জেনকিনসকে একজন “চমৎকার মানুষ” বলে আখ্যায়িত করে দাবি করেন, এটি ছিল বাইডেন প্রশাসনের “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার বিভাগের” আক্রমণ।

জেনকিনসের বিরুদ্ধে একাধিক ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে ছিল ষড়যন্ত্র, ‘অন্যায্য সেবা গ্রহণে প্রতারণা’ এবং সরকারি কর্মসূচিতে ঘুষ গ্রহণের সাতটি অভিযোগ। প্রসিকিউটরদের মতে, জেনকিনস আটজনের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন ছিলেন এফবিআইয়ের ছদ্মবেশী এজেন্ট। ঘুষের বিনিময়ে এসব ব্যক্তি ‘সহায়ক ডেপুটি’ পদ পেয়ে যান, যার ফলে তারা আইন অমান্য করেও ছাড় পেতেন—এমনকি অস্ত্র বহনের অনুমতিও পেয়ে যেতেন, যদিও তাদের কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না।

মামলাটি বিচার করেছেন বিচারক রবার্ট ব্যালু, যিনি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মনোনীত হলেও এটি ছিল একটি স্বাধীন জুরি ট্রায়াল। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, জেনকিনস নিজেকে রক্ষা করার জন্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে চাইলেও বিচারক তা প্রত্যাখ্যান করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি এক বিবৃতিতে বলেন, “স্কট জেনকিনস তার দায়িত্ব ও শপথের চরম অবমাননা করেছেন। এই মামলা প্রমাণ করে, যেই হোক না কেন, ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য দায় এড়ানো যাবে না।”

জেনকিনস ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো শেরিফ নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী দুই দফায় পুনর্নির্বাচিত হন। দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তিনি ট্রাম্পের শরণাপন্ন হন এবং এপ্রিলের এক ওয়েবিনারে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব তথ্য শুনলে অবশ্যই আমাকে সাহায্য করতেন।”

এই ক্ষমার মাধ্যমে জেনকিনস যুক্ত হলেন ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ক্ষমাপ্রাপ্তদের তালিকায়, যেখানে এর আগেই ক্যাপিটল হিল হামলায় অভিযুক্ত প্রায় ১,৬০০ জন ব্যক্তি দণ্ড লাঘব বা সম্পূর্ণ ক্ষমা পেয়েছেন।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ফেডারেল অপরাধে দণ্ডিতদের ক্ষমা করার পূর্ণ অধিকার রাখেন—শুধুমাত্র অভিশংসনের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রযোজ্য নয়। প্রেসিডেনশিয়াল পারডন একজন দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা বাতিল করে এবং তাকে পূর্ণ নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়, যার মধ্যে রয়েছে ভোটাধিকার ও নির্বাচন করার অধিকারও।

এ টি এম আজহার ন্যায়বিচার পেয়েছেন : আসিফ নজরুল

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে তাকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ বাতিল করেন।

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি আপিল বিভাগ থেকে খালাস পেলেন।

রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আজহারুল ইসলাম নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস পেয়েছেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে তার দণ্ড বাতিল করেছেন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ন্যায়বিচারের পথ তৈরি হয়েছিল জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে। সেই সুযোগ রক্ষা করা এখন সকলের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনের রোডম্যাপ না পেয়ে ‘হতাশ’ বিএনপি

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পরও নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে বিএনপি।

আজ মঙ্গলবার দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘গত ২৪ মে সন্ধ্যায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে বিএনপির প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেন। একইদিনে আরও দুটি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে আমরা আমাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছি।’

পরদিন প্রধান উপদেষ্টা আরও ২০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আলোচনার প্রসঙ্গে তার প্রেস সচিবের মাধ্যমে সরকারের যে বক্তব্য পাওয়া গেছে তাতে সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো রোডম্যাপের ঘোষণা না থাকায় আমরা হতাশ হয়েছি।’

বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল কখনো প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায়নি এবং এখনো চায় না বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘কিন্তু আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি করে এসেছি। যেহেতু, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া দুটোই একসঙ্গে চলতে পারে।’

‘পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির এবং ব্যক্তির অর্থাৎ দল ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে,’ বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় আমরা উপরোক্ত বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছিলাম বরাবরের মতোই। আমরা লক্ষ্য করেছি, ওই দিন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতিতে যে বক্তব্য জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে তা অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর।’

‘উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব পালনে আমরা প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে আসছি। সরকার পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ঘাটতির কারণে এবং দুর্বলতার কারণে জনমনে সংশয় ও সন্দেহের উদয় হওয়া স্বাভাবিক,’ বলেন খন্দকার মোশাররফ।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন মহলের অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি-দাওয়া এবং এখতিয়ারবর্হিভূত বক্তব্য সরকারের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার যে অভিযোগ সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে, সেটা মূলত সরকারের নিজস্ব অর্জন।’

‘উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “পরাজিত শক্তির ইন্ধনে এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের ওপর দায়িত্ব পালনকে অসম্ভব করে তোলা হচ্ছে”। আমরা বলতে চাই, শিগগির একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমেই পরাজিত শক্তির ইন্ধন এবং বিদেশি ষড়যন্ত্র বন্ধ করা সম্ভব,’ যোগ করেন তিনি।

‘সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রদান করা জরুরি, এর কোনো বিকল্প নেই,’ বলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘দেশকে স্থিতিশীল রাখতে, নির্বাচন, বিচার ও সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে এবং চিরতরে এদেশে স্বৈরাচারের আগমন প্রতিহত করতে ফ্যাসিবাদবিরোধী বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে অতি শিগগির রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করা অতি জরুরি।’

‘এই লক্ষ্যে আমরা সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। সরকারের স্বকীয়তা, সংস্কার উদ্যোগ, বিচার প্রক্রিয়া, সুষ্ঠু নির্বাচন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে আমরা সব সময় নিরুৎসাহিত করি এবং প্রতিরোধ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। অথচ উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতিতে কোন কোন মহল তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনকে অসম্ভব করে তুলছে বলে একটি বিমূর্ত অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে,’ বলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সকল শ্রেণী-পেশার শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না হয়, যেন ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেজন্য সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং চরিত্র বজায় রাখার স্বার্থে আমরা বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ চেয়েছি। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই এদেশের জনগণ রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।’

‘অথচ সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে জনমনে এ বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ইশরাক হোসেনের পক্ষে আদালতের রায় অনুযায়ী গেজেট নোটিফিকেশন হয়েছে, অথচ সরকার আজ পর্যন্ত তার শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা আশা করি, কাল বিলম্ব না করে সরকার তার শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নেবে,’ বলেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘জুলাই-ছাত্রগণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে মানুষের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকারসহ ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাশীঘ্র সম্ভব জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই, আমরা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।’

‘এই সর্বোচ্চ জনআকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানতম এজেন্ডা হওয়া উচিত বলে জনগণ মনে করে। এর অন্যথা হলে জনগণের দল হিসেবে বিএনপির পক্ষে এই সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার নাগালের মধ্যে রাখতে, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে সরকার ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, এই প্রত্যাশা আমাদের সবার,’ বলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

দেশের মানুষের এখন মাথাপিছু আয় ২৮২০ ডলার

বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৮২০ মার্কিন ডলার। এই মাথাপিছু আয় এযাবৎকালের রেকর্ড।

গত অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২৭৩৮ ডলার।
গত অর্থবছরের চেয়ে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৮২ ডলার।

আজ মঙ্গলবার বিবিএস ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাথাপিছু আয়, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাময়িক হিসাব দিয়েছে।

মাথাপিছু আয় ব্যক্তির একক আয় নয়। দেশের অভ্যন্তরীণ আয়ের পাশাপাশি প্রবাস আয়সহ যত আয় হয়, তা একটি দেশের মোট জাতীয় আয়।
সেই জাতীয় আয়কে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে এই হিসাব করা হয়।

বিবিএসের তথ্য মতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৯৩ ডলার। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরের মাথাপিছু আয় কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৪৯ ডলারে। গত অর্থবছরে তা আরো কমে ২৭৩৮ ডলার হয়।

মূলত ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় বিবিএসের হিসাবে মাথাপিছু আয়ের পার্থক্য হয়। চলতি অর্থবছরের বিবিএসের মাথাপিছু আয় হিসাব করতে প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ধরা হয়েছে ১২০ টাকা ২৯ পয়সা। গতবার এই বিনিময় হার ধরা হয়েছিল ১১১ টাকা ৬ পয়সা।

ছোট ছেলের বিয়ের খবর জানালেন আসিফ আকবর

ছোট ছেলের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে এনেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। আজ মঙ্গলবার (২৭ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ফেসবুক পোস্টে রুদ্রর বিয়ের খবর জানান এই গায়ক।

জানান, গেল জানুয়ারি মাসে শাফায়াত আসিফ রুদ্রর বাগদান সম্পন্ন হয়েছে।

আসিফ লিখেছেন, ‘আমাদের ছোট ছেলে শাফায়াত আসিফ রুদ্র।
একটু ভুলে যাওয়া রোগ আছে, এমনিতে ইউনিক একটা ছেলে। মুহূর্তেই মানুষের ভালোবাসা অর্জনের বিরল যোগ‍্যতা তার রয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে স্টাডি শেষ করে এখন বিজনেস করার চেষ্টায় আছে, প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সে ভালো একজন ফুটবলার, তবে ক‍্যারিয়ার সেদিকে নিয়ে যায়নি।

এরপর ছেলের বিয়ের খবর জানিয়ে আসিফ লেখেন, ‘রুদ্র ২৬ বছরে পদার্পণ করল আজ। সেই সাথে এটাই তার শেষ স্বাধীন বসন্ত, আগামী ডিসেম্বরেই সে শহীদ হতে যাচ্ছে। বিয়েশাদির সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন। এনগেজমেন্ট হয়েছে জানুয়ারিতে, পাবলিকলি জানানোর অনুমতি ছিল না।
এবারের গন্তব‍্য দি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।’

সর্বশেষে ছেলের আগামী দিনের জন্য দোয়া চেয়ে আসিফ লিখেছেন, ‘আজ রুদ্রর শুভ জন্মদিন। সবার কাছে আমার ছেলের সরল এবং সুন্দর ভবিষ‍্যতের জন‍্য দোয়া চাই। শুভ জন্মদিন বাবা, আনন্দে বাঁচো। ভালোবাসা অবিরাম…।

সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রেসসচিব

সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, প্রজাতন্ত্রের কর্মীরা দেশের নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন।’

সরকারি চাকরিজীবীদের কোনো চাওয়া থাকলে তা সচিবদের কমিটির কাছে জানাতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাতারবাড়ী ও মহেশখালীকে নিউ সিঙ্গাপুরে রূপান্তরিত করতে চান বলে জানিয়েছেন তার প্রেসসচিব। মহেশখালী ও মাতারবাড়ী প্রকল্পে বিশ্ববিখ্যাত পেট্রোনাস কম্পানি এলএমজি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফর গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে প্রেসসচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা জাপান সফরে যাচ্ছেন। এটা আমাদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ ভিজিট।
জাপানের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের ব্যাপারে খুবই আগ্রহ রয়েছে। আড়াই হাজার জাপানির জন্য একটি ইকোনমিক জোন করা হয়েছে। সেই ইকোনমিক জোনে যাতে আরো বেশি জাপানি বিনিয়োগ আসে এবং তাদের আর কী কী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায় সে বিষয়ে তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) কথা বলবেন।’

শফিকুল আলম বলেছেন, ‘আমরা জাপানের কাছে ৫০০ থেকে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বা ১ বিলিয়ন ডলারের মতো সাপোর্ট এক্সপেক্ট করছি।
তার মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার হবে বাজেট সাপোর্ট।’

বুধবার সকালে মুক্তি পাবেন আজহার, জানালেন আইনজীবী

আগামীকাল বুধবার সকালে যুদ্ধাপরাধী মামলা থেকে খালাস পাওয়া জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম মুক্তি পাবেন বলে আশাবাদী তার আইনজীবী শিশির মনির।

মঙ্গলবার বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ আশা করি আগামীকাল সকালে [৯-১০টা] জনাব এ টি এম আজহারুল ইসলাম ভাই পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পাবেন।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে খালাস দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আজহারুল ইসলামের করা আপিল মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ রায় দেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্ডিয়াক ব্লকে চিকিৎসাধীন আছেন আজহারুল ইসলাম। আদালতের আদেশের নথিপত্র পেলে কারা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।