বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত ইসরায়েল ছাড়তে বলল চীন

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ভয়াবহ হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত ইসরায়েল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। চীনের দূতাবাস মঙ্গলবার ইসরায়েলে বসবাসকারী চীনা নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। খবর বিবিসির।

দূতাবাসটি তাদের উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েলে অবস্থিত চীনা মিশন চীনা নাগরিকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে স্থলসীমান্ত পারাপারের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ত্যাগ করুন,’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েলে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের জর্দানের দিকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চীনের দূতাবাস মঙ্গলবার জানিয়েছে, চলমান সংঘাত আরো তীব্র হচ্ছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘অনেক বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে।’

বিতর্কিত তিন জাতীয় নির্বাচনে জড়িতদের ভূমিকা তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ

বিতর্কিত তিন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে জড়িত সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনারগণ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবদের ভূমিকা তদন্তে অবিলম্বে একটি কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (১৬ জুন) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক বৈঠকে এসংক্রান্ত আলোচনা শেষে এ নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশন প্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন ও ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

বৈঠকে কমিশন সদস্যরা জুলাই সনদ তৈরির কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, ‘বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। শিগগিরই সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সনদ চূড়ান্ত করে ফেলা সম্ভব হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সবাই জুলাই সনদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
আমি আশা করি আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আমরা এটি জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারব।’

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তার লন্ডন সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, “লন্ডনে বাংলাদেশি কমিউনিটির যাদের সঙ্গেই দেখা হয়েছে তারা সংস্কার নিয়ে জানতে চেয়েছেন। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা খুব আগ্রহী। তারা বিস্তারিতভাবে ঐকমত্য কমিশনের কাজ নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করেছে, মতামত দিয়েছে।
যেখানেই গেছি সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা আমাকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘আমরা আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে পারব তো?’ আমাদের প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। পোস্টাল ব্যালট এবং আর কী কী অপশন আছে সেগুলো নিয়ে ভাবতে হবে, সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনায় বসতে হবে।”

বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশন প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সব রাজনৈতিক একমত হয়েছে যে অতীতের তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনে কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত ও জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।’

ইসরায়েল বিজয় অর্জনের পথে : নেতানিয়াহু

ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে ইসরায়েল বিজয় অর্জন করতে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি বিমানঘাঁটি পরিদর্শনকালে সোমবার তিনি বলেন, ‘আমরা বিজয় অর্জনের পথে।’

এর আগে তেহরানের আকাশের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন’ করার দাবি করেন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে ইরানের মিসাইল লঞ্চার বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্রের ‘এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস’ করে দেওয়ারও দাবি করেন তারা।
সেই দাবিই পুনর্ব্যক্ত করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের দুটি লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি : পারমাণবিক হুমকি নির্মূল ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি নির্মূল করা।’

এ ছাড়া ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের ইরান হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেন নেতানিয়াহু। বিমানঘাঁটি পরিদর্শনের সময় সেখানে উপস্থিত সেনাদের উদ্দেশে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের ধন্যবাদ। সৃষ্টিকর্তার সাহায্যে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব এবং সফল হবো।
বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত আমরা (যুদ্ধ) চালিয়ে যাব।

অন্যদিকে তেহরানের বাসিন্দাদের ক্ষতিসাধনের কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। যদিও এর আগে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইসরায়েলে হামলা চালানোর জন্য তেহরানের বাসিন্দাদের ‘মূল্য দিতে হবে’। ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর হামলার এই হুমকি ঘিরে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর তিনি এখন তার আগের বক্তব্যের নতুন ব্যাখ্যা সামনে এনেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘তেহরানের বাসিন্দাদের শারীরিকভাবে ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই।’

এদিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চার দিন ধরে যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে, সেটি বন্ধে মধ্যস্থতা করার আগ্রহ দেখিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। দুজনই আলাদাভাবে জানিয়েছেন, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে তারা মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

সমস্যার সমাধানে রাশিয়া বিবদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘সংঘাত নিরসনের জন্য রাশিয়ার আগের প্রস্তাব এখনো বহাল রয়েছে। যদিও পরিস্থিতি এখন আরো জটিল হয়ে পড়েছে।
’

এ ছাড়া তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলে ইরানকে জানিয়েছেন এরদোয়ান।

অন্যদিকে ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় আপাতত ইরানের সঙ্গে নিজেদের সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার ইরানের সীমান্তঘেঁষা পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাদির বখশ পিরকানি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ইরানের সঙ্গে তাদের প্রদেশের পাঁচটি সীমান্ত ক্রসিংয়ের সবগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২২৪ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে শুক্রবার থেকে ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪-এ পৌঁছেছে।

সেনাপ্রধানের সঙ্গে জাতিসংঘের গুমবিষয়ক প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের বলপূর্বক গুমবিষয়ক কার্যনির্বাহী দলের ভাইস চেয়ারম্যান গ্রাজিনা বারানোভস্কার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

সোমবার (১৬ জুন) সেনা সদরে তাদের সাক্ষাৎ হয় বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাজিনা বারানোভস্কা বিভিন্ন সংস্থায় (যেমন র‍্যাব, ডিজিএফআই, বিজিবি) অতীতে কর্মরত কিছু সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জবাবে সেনাপ্রধান জানান, এ ধরনের সেনা সদস্যরা সংশ্লিষ্ট সংস্থার অধীনে নিয়ন্ত্রণাধীন থেকে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিচারপ্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে : মমতা

শুধু বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র ও মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার (১৬ জুন) বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে এর জন্য ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপিকে দায়ী করেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে মমতা বলেন, ‘বাংলা ভাষায় কথা বললে বাংলাদেশি বলা হচ্ছে।
বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। লজ্জা করে না আপনাদের! আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং অন্য পরিচয়পত্র থাকার পরেও শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে মহারাষ্ট্রে বিজেপি সরকার এই কাজ করেছে। আমি তাদের ধিক্কার জানাই।’

সম্প্রতি ভারত থেকে সীমান্তে পুশ-ইন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজিবির হিসাবে, গত ৭ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত পুশ-ইন করানো হয়েছে ১ হাজার ২৪৪ জনকে। দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর বৈঠক এবং কূটনৈতিক তৎপরতার পরও তা বন্ধ হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, সীমান্তে পুশ-ইন না করে বাংলাদেশি নাগরিকদের কূটনৈতিকভাবে ফেরত পাঠাতে ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে।

আনন্দ বাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মহারাষ্ট্রে কাজ করতে যাওয়া তিন পরিযায়ী শ্রমিককে সম্প্রতি বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে মুম্বাই পুলিশ।
পরে তাদের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের নজরে এলে রাজ্য প্রশাসনের সহযোগিতায় ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।

পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই তিনজনই পশ্চিমবঙ্গেরই বাসিন্দা। এদের দুজন মুর্শিদাবাদের আর একজনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানে।

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ২৯.৩৩ শতাংশ বেড়ে ২.৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এটি প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২.৩০ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (OTEXA) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময় ভিয়েতনাম ৫.০৮ বিলিয়ন ডলার (১৬.০৬% প্রবৃদ্ধি), চীন ৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার (০.৬৬%), ইন্দোনেশিয়া ১.৬ বিলিয়ন ডলার (১৫.৬০%) এবং ভারত ২ বিলিয়ন ডলার (২০.৩০%) মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে।

সামগ্রিকভাবে এই চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ১০.৬৫ শতাংশ বেড়ে ২৬.২২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষক ও রপ্তানিকারকদের মতামত

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (CPD) সিনিয়র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, স্থিতিশীল উৎপাদন ও মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ বাংলাদেশের এ সাফল্যের মূল কারণ। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এই প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।”

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, পরিমাণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২৮.৩০ শতাংশ হলেও ইউনিট মূল্যে তা মাত্র ০.৮০ শতাংশ, যেখানে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৫৮ শতাংশ। তিনি বলেন, “মূল্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মান, উদ্ভাবন ও ব্র্যান্ডিংয়ে আরও কৌশলী হতে হবে।”

ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে করণীয়

বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা মনে করছেন, চীন থেকে কিছু অর্ডার সরিয়ে নেওয়ায় বাংলাদেশ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে। তবে এই প্রবণতা ধরে রাখতে হলে প্রযুক্তির উন্নয়ন, দক্ষ শ্রমশক্তি বৃদ্ধি এবং পণ্যের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, ডলার সংকট, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও লজিস্টিক সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে প্রবৃদ্ধির গতি ব্যাহত হতে পারে।

প্রস্তাবিত করণীয়:

অটোমেশন ও প্রযুক্তি উন্নয়ন: উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও মান উন্নয়নের জন্য।

বাজার বৈচিত্র্য: যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রিটেইলার ও ব্র্যান্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন।

নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ: শিল্প উৎপাদন নিরবিচারে চালিয়ে যেতে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন: শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি।

মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৩৩ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে গত মে মাসে অভিযান চালিয়ে ১৩৩ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বিজিবি। এ সময় মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪৫ জন বাংলাদেশি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে ৭১৫ জন বাংলাদেশি ও ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে মায়ানমারের ৩৯০ জন নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১৬ জুন) বিজিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজিবি জানায়, জব্দ করা চোরাচালানের মধ্যে রয়েছে ১ কেজি ৫১২ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ হাজার ৫৪৪টি শাড়ি, ৫ হাজার ১৪০টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৩ হাজার ৪৭২টি তৈরি পোশাক, ১৯ হাজার ৩১৪ মিটার থান কাপড়, ২ লাখ ৫২ হাজার ২৯টি প্রসাধনসামগ্রী, ৫ হাজার ৪৪৩টি ইমিটেশন সামগ্রী, ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৫৫১টি আতশবাজি, ১৭ হাজার ৫২৩ ঘনফুট কাঠ, ৩ হাজার ১৫১ কেজি চা-পাতা, ৯২ হাজার ৪৮৭ কেজি সুপারি, ৫৩ হাজার ৪০ কেজি চিনি, ২০ হাজার ৪৪২ কেজি সার, ২৯ হাজার ৯৮৫ কেজি কয়লা, ১০০ কেজি সুতা/কারেন্ট জাল, ৩৪১টি মোবাইল ফোনসেট, ১৭ হাজার ৬৫টি মোবাইল ডিসপ্লে, ৬ হাজার ৫৪০টি ইলেকট্রনিকসসামগ্রী, ১৫,১১২টি চশমা, ৬ হাজার ৫৪৩ কেজি ফল, ৫ হাজার ৯৬০ কেজি ভোজ্য তেল, ১০১০ লিটার ডিজেল/অকটেন, ১ হাজার ৫২৬ কেজি পিঁয়াজ, ৮ হাজার ৮২৬ কেজি রসুন, ২০ হাজার ৬৪২ কেজি জিরা, ১১ হাজার ২৩৬ প্যাকেট বীজ, ৫০ হাজার ১৯১ কেজি ফুচকা, ৯ হাজার ১৭৯ কেজি মাছ, ৫০ হাজার ৬০৩ পিস চিংড়ির পোনা, ৯৩৪ কেজি কফি, ২ লাখ ২৫ হাজার ৩৪৩ পিস চকোলেট, ১ হাজার ১৩১টি গরু/মহিষ, ৪টি কষ্টি পাথরের মূর্তি, ১৩টি ট্রাক/কাভার্ডভ্যান, ১৫টি পিকআপ, ৪টি প্রাইভেটকার/মাইক্রোবাস, ৯২টি নৌকা, ২৬টি সিএনজি/ইজিবাইক, ৭২টি মোটরসাইকেল ও ২২টি বাইসাইকেল।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি দেশীয় পিস্তল, ৫টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ৯ মিমি পিস্তল, ২টি শট/পাইপ গান, ৫টি ম্যাগজিন, ৪টি ককটেল, ২৪টি গুলি ও ১টি হ্যান্ড গ্রেনেড। জব্দ করা মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য ও অন্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজার ৯৬৬টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ কেজি ৯৩৫ গ্রাম হেরোইন, ২৩ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১ কেজি ৪১০ গ্রাম কোকেন, ১০ হাজার ৫২১ বোতল ফেনসিডিল, ৮ হাজার ৯৮৩ বোতল বিদেশি মদ, ৭১.২৫ লিটার বাংলা মদ, ৮১৩ বোতল ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৯১৩ কেজি ৬৩০ গ্রাম গাঁজা, ২ লাখ ২৯ হাজার ৬০২ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৩০ হাজার ১১৫টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ৫৪ হাজার ৩৪৭ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ৫ বোতল এলএসডি, ২০ হাজার ৪৯৩টি এ্যানেগ্রা/সেনেগ্রা ট্যাবলেট, ৭৩৭টি এমকেডিল/কফিডিল এবং ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০৪ পিস বিভিন্ন ওষুধ ও ট্যাবলেট।

গৌরীর রেস্তোরাঁয় গোপন দরজার কথা ফাঁস

মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ গুলোর মধ্যে একটি হলো ‘তোরি’। রেস্তোরাঁটির মালিক বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের স্ত্রী গৌরী খানের। এই রেস্তোরাঁয় রয়েছে একটি গোপন দরজা। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই তথ্য ফাঁস করেছেন রেস্তোরাঁর প্রধান শেফ স্টেফান গ্যাডিট।

এই গোপন দরজা শুধু খান পরিবার ও নির্দিষ্ট কিছু তারকাদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

স্টেফান গ্যাডিট বলেন, “এই গোপন দরজা দিয়ে শুধু খান পরিবারের সদস্যরাই যাওয়া-আসা করেন। খান পরিবারের বাইরে খুব কম মানুষই এই পথের অনুমতি পান।
মূলত শাহরুখ পরিবারের সঙ্গে যাদের খুব ভালো সম্পর্ক তারাই সেই ‘সিক্রেট ডোর’ ব্যবহার করতে পারেন।”

তিনি বলেন, গৌরী খানের স্বামী শাহরুখ, তাদের ছেলে আরিয়ান, মেয়ে সুহানা এবং ছোট ছেলে আব্রাম সবারই এই রেস্তোরাঁয় রয়েছে পছন্দের খাবার। আব্রাম প্রায়ই এখান থেকে খাবার অর্ডার করে, সুহানা ও আরিয়ান বন্ধু-বান্ধব নিয়ে রেস্তোরাঁয় আড্ডা দেন।

শাহরুখের পরিবারে পছন্দের খাবার নিয়ে এই শেফ বলেন, শাহরুখ খান সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন এখানকার ল্যাম্ব চপস, গৌরীর প্রিয় খাবার থাই কারি, আর আব্রামের পছন্দ সুশি।
সম্প্রতি এই রেস্তোরাঁতেই শাহরুখ খানের ম্যানেজার পূজা দাদলানির জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

গত বছরের ভ্যালেন্টাইন’স ডে-তে তোরি রেস্তোরাঁটি চালু হয়। রেস্তোরাঁটির উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বলিউডের তারকা স্ত্রীদের নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ফ্যাবুলাস লাইভস অব বলিউড ওয়াইভস’-এর তারকারা—সুসান খান, মহীপ কাপুর, ভবানা পান্ডে, নীলম কোঠারি ও সীমা সাজদেহ।

মুকুল দেবের মৃত্যুর কারণ জানালেন রাহুল দেব

অভিনেতা মুকুল দেব গত ২৩ মে মারা গেছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে হতবাক হয়েছিলেন অনেকেই। কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি তবে শেষ দিনগুলো আরো কঠিন ছিল। এবার মুকুলের ছোট ভাই অভিনেতা রাহুল দেব মুখ খুলেছেন তার বড় ভাইয়ের অকাল প্রয়াণের পেছনের কারণ নিয়ে।

রাহুল জানিয়েছেন, ঠিক কী কারণে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হলো মুকুলের। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর আগে টানা সাড়ে আট দিন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মুকুল। তার এই অবস্থার অন্যতম কারণ ছিল অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস।

রাহুল দেবের কথায়, ‘চিকিৎসার দিক থেকে দেখতে গেলে খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস ঠিক না হলেই এমন পরিণতি হয়ে থাকে।
শেষ চার-পাঁচ দিনে ও পুরোপুরি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল।’ মুকুলের এই খাদ্যাভ্যাসসংক্রান্ত জটিলতা শেষ পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছিল।

মুকুল অবসাদে ভুগছিলেন? এই প্রশ্নের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মুকুলের মৃত্যু নিয়ে যারা এখন নানা মন্তব্য করছেন জীবিত অবস্থায় তারা কেউই তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।

রাহুল বলেন, ‘যারা এখন কথা বলছেন তারা কোনো যোগাযোগই রাখেননি।
ওরা বলছেন, মুকুল নাকি সুস্থ ছিল না। কিন্তু ও হাফ ম্যারাথন দৌড়েও অংশ নিয়েছিল। ওর ওজন বেড়েছিল ঠিকই। নিজের খেয়াল রাখা বন্ধ করলে, তার ছাপ তো শরীরে পড়েই।’

ওপেনিংয়ের বিষয়ে শ্রীলঙ্কাকে ধাঁধায় ফেলতে চান শান্ত

শ্রীলঙ্কা যাওয়ার আগে প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছিলেন, দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ওপেন করতে চান তিনি। বাংলাদেশের অধিনায়কের চাওয়া সত্যি হবে কি না, আগামীকাল জানা যাবে। তবে গল টেস্ট শুরুর আগে সত্যিই ওপেনিংয়ে নামবেন কি না, তা এখনি খোলসা করতে চান না তিনি।

প্রতিপক্ষকে ধাঁধার মধ্যে রাখতে চান বলে জানিয়েছেন শান্ত।
সংবাদ সম্মেলনে বাঁহাতি ব্যাটার বলেছেন, ‘আমার ব্যাটিংটা আসলে কোন জায়গায় হবে, এটা কালকেই আসলে বলতে চাই। আমি চাই না যে, প্রতিপক্ষ আগে থেকেই এই ধারণাটা পাক। ইনশাল্লাহ কালকে আমরা কী কম্বিনেশনে যাব, তার ওপর নির্ভর করে একাদশ সাজান হবে।’

শান্তর ওপেনিংয়ে নামার বিষয়টা মেহেদী হাসান মিরাজের খেলার ওপর নির্ভর করছে।
জ্বরের কারণে বাংলাদেশি অলরাউন্ডার প্রথম টেস্ট খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। শান্ত বলেছেন, ‘কারণ এখনো মিরাজ একটু শরীরটা খারাপ আছে। উন্নতি করছে। তবু ওর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
ওর এভেইলিবিলিটির জায়গাটা যদি ঠিকঠাক থাকে, তাহলে ভালো একটা কম্বিনেশন নিয়ে যেতে পারব।’

শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ সিরিজ দিয়েই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্র শুরু হবে। নতুন চক্রে তাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা সিরিজ নিয়ে কথা বলতে চান না শান্ত। ২৬ বছর বয়সী ব্যাটার বলেছেন, ‘আমার মনে হয় অতীতে আমরা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে কী সিরিজ খেলেছি, ওটা নিয়ে খুব বেশি এগোনোটা ঠিক হবে না। সবশেষ ম্যাচের কথা যদি বলেন, খুব ভালো স্মৃতি।
আগের ম্যাচটা আমরা হেরেছিলাম। পরে যেভাবে কামব্যাক করেছিল দল, সেটিই সবাইকে মোটিভেট করবে ।’

শ্রীলঙ্কায় ভালো কিছু করতে চান বলে শান্ত বলেছেন, ‘নতুন একটা প্রতিপক্ষ এবং নতুন একটা কন্ডিশনে খেলা। এই কন্ডিশনে বেশ কিছু ক্রিকেটারের খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। সেই অভিজ্ঞতা যদি কাজে লাগাতে পারে, তাহলে ভালো কিছুই হবে। তবে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আমরা যারা ব্যাটিংয়ে আছি।’

নিজেদের সেরাটা খেললে ভালো কিছু করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন শান্ত। বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেছেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালোভাবে যদি শুরু করতে পারি, দলের জন্য ভালো হবে। কারণ ভালো একটা সুযোগ। দলটা যেরকম পেয়েছি, আমরা যদি সেরা খেলাটা খেলতে পারি, ভালো কিছু সম্ভব।’