বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

ইরানের প্রতিক্রিয়া আত্মরক্ষামূলক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইরানে দখলদার ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে ‘সুস্পষ্ট আগ্রাসন’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। ঢাকায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

আরাঘচি জানান, এই হামলাগুলো শুক্রবার সকালে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই শুরু হয়, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু আলোচনা চলছিল এবং যার ষষ্ঠ দফা ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, নাতাঞ্জের পরমাণু স্থাপনায় ও তেহরানের আবাসিক এলাকায় হামলা, বেসামরিক নাগরিক, পরমাণু বিজ্ঞানী ও শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের নিজ বাড়িতে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী ও বেআইনি।
পাশাপাশি তিনি কিছু দেশের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি সমর্থনের কথা উল্লেখ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর দুর্বল প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেন, কেউ কেউ ইসরায়েলকে দোষারোপ করার পরিবর্তে বরং ইরানকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, ইরানের পাল্টাহামলা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত ও “বৈধ আত্মরক্ষা” নীতির আওতায়, যা শুধু “অধিকৃত ভূখণ্ডে” অবস্থিত সামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ইরানের তেল শোধনাগার ও অর্থনৈতিক অঞ্চল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার পর ইসরায়েলের অর্থনৈতিক স্থাপনায় পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে। তিনি এই আগ্রাসনের বিশ্বব্যাপী নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান এবং সতর্ক করে দেন, এ ধরনের বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের প্রতি উদাসীনতা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

এ ছাড়া ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাক্বাঈ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আগ্রাসী ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী তাদের
প্রচারে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যেন তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালায় এবং আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মাত্র তিনটি হামলায় ৭০ জনের বেশি নারী ও শিশু নিহত হয়েছে। চামরান শহরতলির যে ভবনে হামলা চালানো হয়েছিল, সেখানে ধ্বংসস্তূপের
নিচে চাপা পড়া ২০ শিশুর মধ্যে এখনো ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি।
আগ্রাসী শাসকগোষ্ঠী একদিক থেকে ঠিকই বলেছে তারা সত্যিই নির্ভুলভাবে হামলা করে, কিন্তু সেই হামলার লক্ষ্য নারী ও শিশুরা। এই বর্বরতা তাদের স্বভাবসুলভ আচরণ।’

একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ইরানে ইসরায়েলের হামলা একটি প্রকাশ্য আগ্রাসন। বিশ্ব প্রত্যাশা করে, আপনি আপনার দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এই আগ্রাসনকে স্পষ্টভাবে, কোনো ধোঁয়াশা ও কোনো অজুহাত ছাড়া, বিকৃত ব্যাখ্যার আড়ালে লুকানো ছাড়াই নিন্দা জানাবেন।’

ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দুঃসংবাদ দিল মার্কিন দূতাবাস

ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দুঃসংবাদ দিয়েছে সেখানকার মার্কিন দূতাবাস। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে এক বার্তায় দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যেসব নাগরিক ইসরায়েলে বসবাস করছেন, তাদেরকে আপাতত নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে।

মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এখন এমন অবস্থায় নেই যে এখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কিংবা ইসরায়েল ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে কোনো প্রকার সহযোগিতা করতে পারবে। সেই সঙ্গে নাগরিকদের অনুরোধ করা হচ্ছে যে বিপদ কেটে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তারা যেন বম্ব শেল্টার কেন্দ্রগুলো থেকে বাইরে না বের হন।

তেহরানে ৪০০ বাংলাদেশি, সবাইকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হবে

ইরানের তেহরানে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, তেহরানে বাংলাদেশিরা নিরাপদ স্থানে যেতে চান।

আজ মঙ্গলবার ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পরিস্থিতি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা বিষয়ে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী এসব তথ্য জানান।

ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, ৪০০ জনের মধ্যে প্রায় ১০০ বাংলাদেশি তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। একই সঙ্গে কূটনীতিকসহ দূতাবাসের ৪০ জনকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, তেহরানের ৪০০ নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হবে। তারপর তাদের নিরাপদে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে ইসরায়েল ইরানে বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা শুরু করে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানে প্রতিদিনই হতাহত বাড়ছে। এদিকে ইসরায়েলেও ইরান পাল্টা হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

হজে গিয়ে ৩২ বাংলাদেশির মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৭

চলতি বছর পবিত্র হজপালনে সৌদি আরবে গিয়ে ৩২ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল ১৬ জুন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকার রামপুরার মো. মোজাহিদ আলী প্রাং (৫১) ও কুমিল্লার মুরাদনগরের বেগম সামছুন্নাহার (৭৬)। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃতদের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী।
এর মধ্যে ২১ জন মারা গেছেন মক্কায়, ১০ জন মদিনায় এবং একজন আরাফায়।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের মৃত্যু সংবাদে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে জানানো হয়, সৌদি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রাপ্ত মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ২৫৬ জন এবং সৌদি সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তিকৃত হজযাত্রীর সংখ্যা ২৭ জন।

পোর্টাল সূত্রে জানা যায়, এ বছর হজে গিয়ে গত ২৯ এপ্রিল প্রথম মারা যান রাজবাড়ীর পাংশার মো. খলিলুর রহমান (৭০)।
এরপর ২ মে মারা যান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের মো. ফরিদুজ্জামান (৫৭), ৫ মে মারা যান পঞ্চগড় সদরের আল হামিদা বানু (৫৮), ৭ মে মারা যান ঢাকার মোহাম্মদপুরের মো. শাহজাহান কবির (৬০), ৯ মে মারা যান জামালপুরের বকশিগঞ্জের হাফেজ উদ্দিন (৭৩), ১০ মে মারা যান নীলফামারী সদরের বয়েজ উদ্দিন (৭২), ১৪ মে মারা যান চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মো. অহিদুর রহমান (৭২) ও ১৭ মে মারা যান গাজীপুর সদরের মো. জয়নাল হোসেন (৬১)।

গত ১৯ মে মারা যান চাঁদপুরের মতলবের আ. হান্নান মোল্লা (৬৩), ২৪ মে মারা যান রংপুরের পীরগঞ্জের মো. সাহেব উদ্দিন (৬৯), ২৫ মে মারা গেছেন চাঁদপুরের কচুয়ার বশির হোসাইন (৭৪)। ২৭ মে মারা যান চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের শাহাদাত হোসেন, ২৯ মে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৫৩), একই দিন মাদারীপুর সদরের মোজলেম হাওলাদার (৬৩), গাজীপুরের টঙ্গীর পূর্ব থানার আবুল কালাম আজাদ (৬২) এবং ৩১ মে নওগাঁ সদরের মো. আবুল হোসেন (৭৩)।

এ ছাড়া, গত ১ জুন মারা যান, গাজীপুরের পুবাইলের মো. মফিজ উদ্দিন দেওয়ান (৬০) ও নীলফামারীর সৈয়দপুরের মো. জাহিদুল ইসলাম (৫৯), ৫ জুন মারা যান ঢাকার কেরানীগঞ্জের মনোয়ারা বেগম মুনিয়া (৫৩), ৬ জুন খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকার শেখ মো. ইমারুল ইসলাম (৬২), ৭ জুন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মো. মুজিব উল্যা (৬৮), ৯ জুন মারা যান গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের এ টি এম খায়রুল বাসার মন্ডল (৬৪), ১০ জুন মারা যান সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার গোলাম মোস্তফা (৫৮)।

আর ১২ জুন মারা যান পাঁচজন- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আব্দুর রশিদ (৬৮), লালমনিরহাটের পাটগ্রামের আমির হামজা (৬০), ঢাকার আদাবরের এ এস এম হায়দারুজ্জামান (৬০), ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানার মো. মনিরুজ্জামান (৬৬) ও নোয়াখালীর চাটখিলের খাতিজা বেগম (৪১) এবং ১৪ জুন মারা যান ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের রোকেয়া বেগম (৬২) ও যশোরের মনিরামপুরের মিসেস মনজুয়ারা বেগম (৫৯)।

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি হজ করতে গিয়ে যদি মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তার মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হয়। মৃতদেহ তার নিজ দেশে নিতে দেয়া হয় না। এমনকি পরিবার-পরিজনের কোনো আপত্তি গ্রাহ্য করা হয় না।

মধ্যেপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে: হোয়াইট হাউজ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বাড়তি সামরিক প্রস্তুতির পরও, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এখনো প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে বলে সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠাৎ টেহরান খালি করার সতর্কবার্তা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত বার্তা, যেখানে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি, তীব্র জল্পনা তৈরি করেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি তবে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে?

এই সন্দেহ আরো জোরালো হয় যখন জানানো হয়, কানাডায় চলমান জি৭ সম্মেলন ছেড়ে একদিন আগেই ওয়াশিংটনে ফিরছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির গুরুত্ব নির্দেশ করে। তবে হোয়াইট হাউজ এবং পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এখনো প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে আছে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যালেক্স ফাইফার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের জবাবে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাচ্ছে’—এমন দাবি ‘সত্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমেরিকান বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানেই রয়েছে এবং সেই নীতি অপরিবর্তিত।’

পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছি, শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে এবং আমরা আশাবাদী, এখান থেকে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান আসবে।’

এর আগে হেগসেথ জানান, তিনি সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে ‘অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের নির্দেশ’ দিয়েছেন।
তিনি এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ লিখেন, ‘আমাদের বাহিনীকে রক্ষা করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার আর এই মোতায়েন আমাদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান আরো জোরদার করতে।’

তার এই পোস্ট আসে এমন সময়, যখন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিটজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ত্যাগ করে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে এবং একাধিক মার্কিন সামরিক বিমান আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, হেগসেথ ইউএসএস নিমিটজ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বজায় রাখা এবং মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মোতায়েনের লক্ষ্য।
’

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধজাহাজটির এই গমন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা চতুর্থ দিনের বিমান যুদ্ধের পটভূমিতে ঘটছে, যেখানে এখনো কোনো শান্তি সূচনা দেখা যাচ্ছে না, বরং বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।

সূত্র : আলআরাবিয়া

ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে ইরানি মিসাইলের আঘাত, নিহত ৩

ইরানি হামলায় হাইফার বাজান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। ইসরায়েলের এই তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান বাজান গ্রুপ জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের একটি বিদ্যুৎ ও স্টিম উৎপাদনকারী পাওয়ার স্টেশন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির সব রিফাইনারি স্থাপনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার বাজান গ্রুপ জানায়, হাইফা উপসাগরে অবস্থিত তাদের তেল শোধনাগারে ইরানি হামলায় তিনজন কর্মচারীও নিহত হয়েছেন। এ হামলার পর প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাতে চালানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই তিন কর্মীর মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।

এই হামলার ফলে পাওয়ার স্টেশনটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে বিদ্যুৎ ও স্টিম উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না, যা রিফাইনারি পরিচালনায় অত্যাবশ্যকীয়।

বাজান গ্রুপের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ‘এই হামলার কারণে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয়ক্ষতিই নয়, বরং আমরা মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। এটি আমাদের জন্য গভীর শোকের সময়।
’ তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল ইলেকট্রিক কম্পানির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই স্থাপনার কাছে অবস্থিত বৃহৎ তেল ট্যাংক এবং উচ্চ মাত্রার দূষণের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা রিফাইনারিটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ২০২২ সালে ইসরায়েল সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে বাজান রিফাইনারি হাইফা উপসাগর এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ বছরই বড় তেল ট্যাংক অপসারণের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল।

এই হামলার পর নতুন করে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান টানাপড়েনের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

সূত্র : রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০ মাসে আইপিওশূন্য পুঁজিবাজার

দেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে বেশ খারাপ অবস্থায় পড়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ মাস পুঁজিবাজারে কোনো নতুন কম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন হয়নি। যদিও আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সূচকের সাময়িক উত্থান হয়েছিল।

তবে সরকার বদলের পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নেতৃত্বের বদল হলেও বাজারে কোনো আশার আলো দেখা যায়নি।
বিদ্যমান সংকটেরও যেন কোনো সমাধান নেই। এ কারণে বাজার কেবলই দরপতনের একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।

গত জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর পুঁজিবাজারের হাল ধরেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। ওই দিন ডিএসইর প্রধান ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫৭৭৫.৪৯ পয়েন্টে।
তিনি কাজে যোগ দেওয়ার ১০ মাস হলেও পুঁজিবাজারে গতিশীলতা ফিরে আসেনি। বরং বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা বেড়েছে। বাজারের লেনদেন তলানিতে নামা, বড় অঙ্কের সূচকের পতন ঘটা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীদের জন্য হতাশার সময় কাটছে। এর মধ্যে নতুন করে কম্পানি পুঁজিবাজারে না আসা যোগ করেছে হতাশার নতুন মাত্রা।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত একটিও আইপিও অনুমোদন করা হয়নি। বরং এ সময়ে বাতিল করা হয়েছে ১৭টি কম্পানির আইপিও আবেদন, যা পুঁজিবাজারের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

বিএসইসি ও ইস্যু ম্যানেজার সূত্রগুলো বলছে, গত পাঁচ বছরে পুঁজিবাজার থেকে উদ্যোক্তারা যেভাবে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছেন, তা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশেষ করে ২০১৯-২০২৩ সময়ে অনেক কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে বড় অঙ্কের পুঁজি সংগ্রহ করে। কিন্তু ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২০২৪ সালের মাঝামাঝি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রবাহ একেবারেই থেমে যায়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে পুঁজিবাজার থেকে এক টাকাও সংগ্রহ করতে পারেনি কোনো কম্পানি।

আইপিও না এলে কী হয়: পুঁজিবাজারের যে দুটি অবস্থান অর্থাৎ প্রাথমিক পুঁজিবাজার এবং দ্বিতীয় স্তরের পুঁজিবাজার, উভয় খাতেই মারাত্মক স্থবিরতা বিরাজ করছে। প্রাথমিক পুঁজিবাজার মূলত এমন একটি অবস্থান, যেখান থেকে আইপিও (ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং) শেয়ার বিক্রি করে কম্পানি মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পায়। একটি লিমিটেড কম্পানি যে পদ্ধতিতে প্রথমেই জনগণের মাঝে শেয়ার বিক্রি করে প্রাথমিক মূলধন সংগ্রহ করে, সেটিই হচ্ছে প্রাথমিক পুঁজিবাজার বা প্রাইমারি মার্কেট।

পক্ষান্তরে কম্পানির ইস্যু করা আইপিও শেয়ার যেখানে বা যে পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় বা হাতবদল হয়, সেটিই হচ্ছে দ্বিতীয় স্তরের পুঁজিবাজার বা সেকেন্ডারি মার্কেট। দেশের স্টক মার্কেট হচ্ছে পুঁজিবাজারের দ্বিতীয় স্তরের বাজার। পুঁজিবাজারের জন্য দুটি পদ্ধতি অর্থাৎ প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি মার্কেট ওতপ্রোতভাবে জড়িত হলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার বলতে স্টক মার্কেটকেই বুঝে থাকে।

বেশ কিছুদিন ধরে পুঁজিবাজারের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উভয় মার্কেটে মন্দা অবস্থা বিরাজ করলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা স্টক মার্কেটের মন্দা অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রাইমারি মার্কেট যেহেতু আইপিও শেয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই সংখ্যায় কম আইপিও বাজারে এলে সেখানে মন্দা অবস্থা বিরাজ করে। কম আইপিও আসার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কিছু লাভ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু এ কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন না। আইপিও বাজার মন্দা থাকলে বিনিয়োগকারীদের চেয়ে উদ্যোক্তা বা কম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বেশি খারাপ অবস্থায় থাকে।

কেননা তারা পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং তাদের ব্যবসার অগ্রগতি থমকে যায়। প্রাইমারি মার্কেটের ঠিক উল্টা অবস্থা বিরাজ করে স্টক মার্কেটে। কেননা স্টক মার্কেটে মন্দা অবস্থা থাকলে উদ্যোক্তা বা কম্পানির তেমন কোনো সমস্যা হয় না বললেই চলে। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন যখন দেশের স্টক মার্কেটে মন্দা অবস্থা বিরাজ করে।

বিএসইসির সূত্র অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে সবশেষ এক বছর আগে আইপিও অনুমোদন দিয়েছিল বিএসইসি। ২০২৪ সালে আইপিওতে শেয়ার বিক্রি করা চার কম্পানির মধ্যে রয়েছে এনআরবি ব্যাংক, বেস্ট হোল্ডিং, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ও টেকনো ড্রাগস। চারটি কম্পানি আইপিওতে শেয়ার ছেড়ে ৬৪৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে। এরপর আর কোনো কম্পানির আইপিও অনুমোদন হয়নি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী কালের কণ্ঠকে বলেন, শেয়ারবাজারের সঙ্গে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি জড়িত। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বল্পকালীন সরকার থাকে, ততক্ষণ বিনিয়োগকারীরা নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে। এই পরিস্থিতির মধ্যে দেশে তেমন বিনিয়োগ হয় না। বিনিয়োগ যদি না হয়, মানুষ ব্যবসা সম্প্রসারণ না করে, তাহলে পুঁজিবাজার গতিশীল থাকবে না। এতে ভালো আইপিও আসবে না, ব্যবসা ভালো না চললে লভ্যাংশও ভালো আসবে না। এ রকম পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে ভালো কিছু আশা করা যায় না।

ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প : ম্যাখোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন।

কানাডার কানানাসকিসে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাখোঁ বলেন, ‘একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির জন্য এবং আরো বিস্তৃত আলোচনার সূচনা করার জন্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ হবে এবং ফ্রান্স সেটিকে সমর্থন জানাবে। আমরা সেটাই কামনা করি।
’

ফরাসি ভাষায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ম্যাখোঁ জোর দিয়ে বলেন, ‘উভয় পক্ষের তরফ থেকে জ্বালানি, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক অবকাঠামো এবং সর্বোপরি সাধারণ জনগণের ওপর হামলা বন্ধ করা অত্যাবশ্যক। এ ধরনের হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

এদিকে আজ মঙ্গলবার ভোরেও ইরানের রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে।

সূত্র : সিএনএন

লন্ডন বৈঠকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথযাত্রা

১৩ জুন লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বহুলপ্রতীক্ষিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরেই এ বৈঠকটি ছিল আলোচনা এবং আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। অবশেষে সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অত্যন্ত সৌহার্দমূলক পরিবেশে তাঁদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী উভয় পক্ষের যৌথ ঘোষণার মধ্য দিয়ে আপাতত বোঝা যাচ্ছে যে বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে।
গণ অভ্যুত্থানের ১০ মাস অতিবাহিত হলেও নির্বাচন কবে হতে পারে তা নিয়ে ছিল এক ধরনের অনিশ্চয়তা। এর মাঝে ঈদুল আজহার আগের দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করলেন ২০২৬-এর এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রসঙ্গত, তিনটি রাজনৈতিক দল ছাড়া সব দল এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চেয়ে আসছিল। প্রধান উপদেষ্টার ওই ভাষণের পর নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়।
তার ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার এ বৈঠক এবং তার ফল গণতন্ত্রের প্রশ্নে জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

ঢাকায় তারুণ্যের সমাবেশে তারেক রহমান ঘোষণা করেছিলেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। সবার আগে বাংলাদেশ হৃদয়ে ধারণ করে তারেক রহমান বরাবরের মতোই প্রমাণ করেছেন তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির নিষ্পেষণের শিকার তারেক রহমান সময়ের প্রয়োজনে দায়িত্বশীল ছাড় দিয়ে দেখিয়েছেন, গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পথযাত্রায় তিনি শুধু সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতা নন, আলোচনার টেবিলে এবং রাজনীতির ক্রান্তিলগ্নে ইতিবাচক ভূমিকা পালনেও দক্ষ ও দূরদর্শী।
সুদীর্ঘ সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার তারেক রহমান মা খালেদা জিয়ার ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি হিসেবে যথার্থতা প্রমাণ করলেন যে গণতন্ত্রের প্রশ্নের তিনি সত্যিই আপসহীন। তিনি কেবল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নন, বরং একজন সংগ্রামী রাজনীতিবিদ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অদম্য প্রতীক। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথমার্ধে তৃণমূলে যে অমূল্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, দ্বিতীয়ার্ধে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রাণপুরুষে পরিণত করেছে। সংগ্রামী রাজনৈতিক পথযাত্রা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করার পর থেকেই দেশি ও আন্তর্জাতিক একটি মহল তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত চরিত্রহননের রাজনীতি শুরু করে যার ধারাবাহিকতা ধরে রাখে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আদর্শ নির্মূল এবং বিদেশি প্রভুভক্ত সুবিধাভোগী রাজনীতি টিকিয়ে রাখার জন্যই আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি, ষড়যন্ত্র ও সহিংসতার সঙ্গে তারেক রহমানকে জড়িত দেখানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালায় ১৬ বছর ধরে এবং রাজনৈতিকভাবে দমনের অপচেষ্টা অব্যাহত রাখে। চক্রান্তকারীদের সব প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে তারেক রহমান জাতির ক্রান্তিলগ্নে এসে আরও একবার প্রমাণ করলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমের চেতনাই তাঁর শিরস্ত্রাণ। লন্ডন বৈঠকে দেশকে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনে আশার আলো জ্বালিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়কের কাছে বাংলাদেশের মানুষ এমনটাই প্রত্যাশা করে। প্রধান উপদেষ্টাকে No One Is Too Small to Make a Difference এবং Nature Matters : Vital Poems from the Global Majority নামে দুটি বই ও একটি কলম উপহার দিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সৌজন্য ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার নতুন ধারার সূচনা করেছেন।

সমসাময়িক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ এ বৈঠকে আগামী রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে যে ফলপ্রসূ ঐকমত্য হয়েছে, তা অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দেশের মানুষের জন্য এনেছে স্বস্তির বার্তা, রাজনীতিতে নিয়ে এসেছে চাঞ্চল্য। এপ্রিলের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত সময় থেকে সরে এসে নির্বাচনের জন্য একটি যৌক্তিক সময়সীমা নির্ধারণে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে সাধুবাদ জানাই। সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা উপলব্ধি করে যে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন তা সত্যিই আমাদের গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্মানজনক প্রস্থানের রাস্তা সুগম হলো এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়ের ব্যাপারে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া গেল।

বৈঠকের আগের ঘটনাপ্রবাহে বোঝা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেই বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকের পর উভয় পক্ষ আলোচনার ফলাফলে যে ‘সন্তুষ্টি’ প্রকাশ করেছে, তা সবার জন্যই স্বস্তিদায়ক। তবে কোনো কোনো রাজনীতি বিশ্লেষক এ স্বস্তি কতদূর স্থায়ী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। বৈঠকের পটভূমির দিকে তাকালে বিষয়টি যৌক্তিক মনে হতে পারে। কারণ এ সংকটের যে গভীরতা সেটা উভয় পক্ষের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল তা থেকে সৃষ্ট। সাধারণভাবে জনমনে যে ধারণা তৈরি হচ্ছিল তা হলো, বিএনপির মধ্যে নির্বাচন নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা বা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থকদের একাংশ সংস্কার এবং শেখ হাসিনার বিচারের আগে নির্বাচন নয় এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে পাঁচ থেকে ১০ বছর সুযোগ দেওয়ার পক্ষে যে ব্যাপক প্রচার শুরু করে, তা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অবিশ্বাস তৈরির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ বৈঠক শেষে আপাতদৃষ্টে সব অবিশ্বাস দূরীভূত হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়। সরকার আশাবাদী যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজন করা যায়। সে ক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে। রমজান যেহেতু মধ্য ফেব্রুয়ারির পরপরই শুরু, সেহেতু নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো আপত্তি নেই। এর অর্থ দাঁড়ায় নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংস্কার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কিছু সাফল্য প্রধান উপদেষ্টার অন্যতম লক্ষ্য। গণ অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সাফল্য অর্জন করতে চাওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন নোবেলজয়ীর জন্য খুবই স্বাভাবিক। বিপরীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও যে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বিচারের জন্য সময়ের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নিয়েছেন, তা বাস্তবতার মাপকাঠিতে অত্যন্ত যৌক্তিক। ডিসেম্বরই নির্বাচন হতে হবে এমন কোনো অনড় অবস্থান তিনি নেননি। নির্বাচনের সময় নিয়ে উভয় পক্ষের নমনীয়তায় আপাতদৃষ্টে সৃষ্টি হওয়া দূরত্বের অবসান ঘটিয়েছে।

বৈঠকে নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে বিচার এবং সংস্কারের বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন, সংস্কার, ফ্যাসিবাদীদের বিচার-এ তিন বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন। গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের কাছে জনগণ এবং রাজনীতিবিদদের প্রত্যাশাও তা-ই ছিল। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাজনীতি এ দেশে শুধু নির্বাচনের সংস্কৃতি ধ্বংসই করেনি, সেই সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছিল। আমরা আশা করি, একটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যে যতটুকু সংস্কার প্রয়োজন প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ভিন্ন অন্য কোনো পথ খোলা নেই। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশে ফিরে আসবে স্থিতিশীলতা এবং প্রতিষ্ঠিত হবে জনগণের সরকার।

রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন প্রকার সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। যৌক্তিক এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সরকার বাস্তবায়ন করবে বলে আমরা দৃঢ় আশা ব্যক্ত করতে পারি। ফ্যাসিবাদীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তবে বিচার একটি দীর্ঘ এবং চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার এ বিচার প্রক্রিয়া অবশ্যই এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন। মনে রাখতে হবে, সুদীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণ অভ্যুত্থানে সহস্র মানুষের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই একমাত্র তাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন সম্ভব। নয়তো জাতি হিসেবে আমরা অকৃতজ্ঞ হয়ে রইব। তবে সংস্কার এবং বিচার যা-ই বলি না কেন সর্বাগ্রে প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন। বলার অপেক্ষা রাখে না, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার মানেই জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি সরকার। ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করে আওয়ামী লীগ যে অগণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, তার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম এবং গণ অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য। তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতেই জেলজুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছেন বিএনপির লাখ লাখ নেতা-কর্মী। যে লক্ষ্যে তাদের এ আত্মত্যাগ, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই তা অর্জিত হওয়া সম্ভব।

লন্ডনের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সে লক্ষ্য অর্জনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল বিএনপি। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশকেই বরাবরের মতো এগিয়ে রাখলেন তারেক রহমান। বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের গতিশীল নেতৃত্ব ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের এ সৌহার্দ ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা। গণতন্ত্র জয়ী হলে জয় হবে বাংলাদেশের, জয় হবে জনগণের। এখন প্রত্যাশা অন্তর্বর্তী সরকার নিজ অবস্থান অটুট রেখে আগামী রমজানের আগেই নির্বাচন আয়োজনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করবে এবং সেই নির্বাচনি উৎসবে শরিক হবে দেশের সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল।

লেখক : গবেষক এবং রাজনীতি বিশ্লেষক।

নতুন আত্মঘাতী ড্রোন উন্মোচন করল ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স তাদের নতুন আত্মঘাতী ড্রোন ‘শাহেদ-১০৭’ উন্মোচন করেছে। সোমবার নতুন এই ড্রোনটি প্রকাশ্যে আনা হয়। খবর তাসনিম নিউজের।

খবরে বলা হয়, এই ড্রোনটি শত্রু লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে আত্মঘাতী অভিযানে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

ড্রোনটির প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, এটি একটি পিস্টন ইঞ্জিন দ্বারা চালিত, যা একে ১,৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে উড়ে যাওয়ার সক্ষমতা প্রদান করে।

সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা যায়, একটি ইরানি ড্রোন যা শাহেদ-১০৭ এর মতো দেখতে সেটি ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলের উপর দিয়ে ‘অ্যারো ৩’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কাছে পৌঁছে গেছে। তাই এটি প্রমাণ করে যে, নতুন ইরানি ড্রোনটি ইসরায়েলের বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকে পড়তে সক্ষম হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি শাহেদ-১০৭ ড্রোন দলগতভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে তা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।