বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

ইরানে অ্যাম্বুল্যান্সে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহত ৩

ইরানের মধ্যাঞ্চলে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ জুন) ইসফাহান প্রদেশের নাজাফাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

দেশটির সংবাদ সংস্থা ইসনা এ খবর জানিয়েছে।

নাজাফাবাদ কাউন্টির গভর্নর হামিদরেজা মোহাম্মদি ফেসহারাকি জানান, হামলার সময় অ্যাম্বুল্যান্সটিতে একজন রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। পথে ড্রোন হামলায় অ্যাম্বুল্যান্সটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে চালক, রোগী এবং রোগীর সঙ্গে থাকা একজন স্বজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

হামলার পরপরই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং অ্যাম্বুল্যান্সটি পাশের একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়।

গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যার জবাবে তেহরান থেকেও পাল্টা হামলা শুরু হয়। সেদিন থেকেই দুদেশের মধ্যে পালটাপালটি হামলা অব্যাহত আছে।

সৌদি থেকে ফিরেছেন ৪৭ হাজার ২১২ হাজি

হজপালন শেষে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৪৭ হাজার ২১২ জন হাজি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৬ জন আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪২ হাজার ২০৬ জন রয়েছেন।

সোমবার হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্প ডেস্ক।

এতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১২০টি ফিরতি হজ ফ্লাইটে দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪৮টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ১৯ হাজার ১৩ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৫০টি ফ্লাইটে ১৯ হাজার ৭৫৮ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৪১ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

এদিকে চলতি বছর এখন পর্যন্ত হজে গিয়ে ৩৮ বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ ও নারী ১১ জন। এর মধ্যে মক্কায় মারা গেছেন ২৫ জন, মদিনায় ১১ জন, জেদ্দায় একজন ও আরাফায় ১ জন।

হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট ছিল ২৯ এপ্রিল আর শেষ ফ্লাইট ৩১ মে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় গত ১০ জুন। এ দিন সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ‘এসভি-৩৮০৩’ ৩৭৭ হাজিকে নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগামী ১০ জুলাই হজযাত্রীদের শেষ ফিরতি ফ্লাইট।

শত্রু বড় অপরাধ করেছে, শাস্তি পেতেই হবে : খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েলকে শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন, এটি অব্যাহত থাকবে। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল ‘বড় ভুল ও বড় অপরাধ’ করেছে। সেই অপরাধের শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

সম্প্রতি মার্কিন হামলার পর খামেনি প্রথমবারের মতো এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
তার এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (আগের টুইটার)। তিনি বলেছেন, ‘জায়নবাদী শত্রু বড় ভুল করেছে, বড় অপরাধ করেছে, তাদের শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে এবং তারা বর্তমানে সেই শাস্তি পাচ্ছে।’

গত ১৩ জুন ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা চালায়, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। তখন থেকে নিরাপত্তার কারণে খামেনি তার বাসভবন ছেড়ে বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সরাসরি যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি শঙ্কিত, যদি ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে, এ জন্য দ্রুত সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন তিনি। ইরানের আইনসভা, বিচারব্যবস্থা, নির্বাহী বিভাগ এবং সামরিক বাহিনী— সবই খামেনির হাতে কেন্দ্রীভূত।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর ঘটনায় প্রতিবাদ হয়েছে বিশ্বজুড়ে। বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
ফ্রান্স, পাকিস্তান, গ্রিস ও ফিলিপিন্সের প্রতিবাদকারীরা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সূত্র : আলজাজিরা

বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের ‘সম্ভাব্য জোট’ নিয়ে কৌতূহল

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়ে চীনের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই তিন দেশের সমন্বয়ে ‘একটি সম্ভাব্য জোট’ গঠনের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। তিন দেশের মধ্যে এটিই এ ধরনের প্রথম বৈঠক। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই তিনটি দেশের মধ্যে একমত হওয়া বিষয়গুলো তদারকের জন্য শিগগিরই একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করা হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত চীনের উদ্যোগেই এ বৈঠকটি হয়েছে, যাকে তিন দেশই ‘অনানুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এ বৈঠকে ‘সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা’র বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার চীনের কুনমিং-এ নবম চায়না-সাউথ এশিয়ান এক্সপজিশন অ্যান্ড দ্যা সিক্সথ চায়না-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন- শীর্ষক বৈঠকের সাইডলাইনে তিন দেশের পররাষ্ট্র সচিবদের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ বৈঠকের খবর বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। বিশেষ করে আর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়ার কথা। এই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার কেন এমন উদ্যোগে সামিল হচ্ছে সেই প্রশ্নও উঠছে।

যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষক ও বিশ্লেষক ওবায়দুল হক বলছেন, রাজনৈতিক সরকারগুলোর পক্ষে এ অঞ্চলে ভারতকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে আরেকটি জোটের দিকে অগ্রসর হওয়া কঠিন হবে এবং সে কারণেই চীন বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়টাকেই এ উদ্যোগের জন্য বেছে নিয়ে থাকতে পারে।

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলছেন, এ উদ্যোগের পেছনে ভারতকে একটা ‘বার্তা’ দেওয়ার চেষ্টা থাকতে পারে। তবে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা, এই তিন দেশ শেষপর্যন্ত কীভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, সেটাই হবে দেখার বিষয়।

প্রসঙ্গত, চীন সরকারিভাবে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

এদিকে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল আজ রবিবার রাতে চীন সফরে যাচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের পর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে সম্পর্ক ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে কী জানা যাচ্ছে

চীনের কুনমিংয়ে ওই বৈঠকে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইডং, বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী ও পাকিস্তানের অতিরিক্ত সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ ভার্চুয়ালি এতে অংশ নিয়েছেন।

বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে ‘প্রতিবেশীসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি, সমতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস, উন্মুক্ততা ও অন্তর্ভুক্তি, অভিন্ন উন্নয়ন ও সবার সুফলের সহযোগিতা’ নীতির ভিত্তিতে সহযোগিতার জন্য তিন পক্ষের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে দেওয়া বিবৃতিতে বৈঠকটিকে ‘অনানুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, বৈঠকে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি, উন্নতি ও স্থিতিশীলতার দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করতে কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে অবকাঠামো, যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ম্যারিটাইম অ্যাফেয়ার্স, তথ্য প্রযুক্তি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন।

পাকিস্তান ও চীনও আলাদা করে বৈঠকের বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে। চীনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চীনের ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু ও ভালো অংশীদার এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’

বিবৃতিগুলোয় তিন দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে কাজ করতে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরির সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

আলোচনা ও নানা প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়ে চীনের ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কে কেন বেছে নেওয়া হলো, সেই প্রশ্নও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, এ ধরনের একটি কৌশলগত জোটে সম্পৃক্ত হওয়ার ম্যান্ডেট অন্তর্বর্তী সরকারের আছে কি-না। এছাড়া এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো ফোরামে আলোচনা হয়নি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত, যেখানে যথাযথ বাছাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হতে পারে।

আবার কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকার এলে ভারতকে এভাবে পাশ কাটিয়ে চীন ও পাকিস্তানের সাথে জোট করা সহজ হবে না।

‘চীনের দিক থেকে বিবেচনা করলে অন্তর্বর্তী সরকারটাই তার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। কারণ রাজনৈতিক সরকারকে অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হয়, যা অন্তর্বর্তী সরকারকে নিতে হয় না। এ জন্যই হয়তো চীন এই সময়টাকে বেছে নিয়েছে,’ বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ওবায়দুল হক।

যদিও গত বছরের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। অন্যদিকে ভারতের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ঢাকায় বৈঠক হয়েছে প্রায় পনের বছর পর।

আবার চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই স্থিতিশীল। দেশটি এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। আবার সেই সরকারের পতনের পর বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীনে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরেও দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলছেন, চীন ও পাকিস্তান আগে থেকেই পারস্পারিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে একযোগে কাজ করছে। ‘এখন সেসব বিষয়ে বাংলাদেশ কীভাবে যুক্ত হতে পারে এবং তাতে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে, সেটি দেখার একটি চেষ্টা এই পদক্ষেপে বাংলাদেশের দিক থেকে থাকতে পারে।’

যদিও তার মতে, চীন ও পাকিস্তানের সাথে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্পর্ক হলেও বাংলাদেশের জন্য ভারতকে প্রয়োজন হবে। ‘পুরো উদ্যোগের মধ্যে ভারতকে একটা বার্তা দেওয়ার বিষয় থাকতে পারে। আবার চীন অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছে ভারতকে বন্ধু হিসেবে পেতে। কিন্তু তাতে ভারত উৎসাহিত নয়। কিন্তু এখন যদি একজনেরটা আরেকজন দিয়ে পোষানোর চিন্তা করা হয়, সেটিও খুব একটা কাজে দেবে না।’

ওবায়দুল হক অবশ্য বলছেন, তার ধারণা ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকেই চীনের দিক থেকে ‘ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা’র উদ্যোগটি এসেছে। ‘চীনের দিক থেকে দেখলে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য আনার চেষ্টার জন্য এটাই ভালো সময়। তবে এখনো কোনো জোট হয়নি। তিন দেশের মধ্যেই অনেক প্রশ্ন আছে, যেগুলোর সমাধান খুব একটা সহজ নয়।’

পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানিচুক্তি আর পুনর্বহাল হবে না : অমিত শাহ

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আর কখনোই সিন্ধু পানিচুক্তি পুনরায় চালু করা হবে না এবং যে পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হচ্ছিল, তা দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহারের জন্য সরিয়ে নেওয়া হবে।

গত এপ্রিল মাসে ভারতশাসিত কাশ্মীরে একটি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ১৯৬০ সালের এ চুক্তিতে তাদের অংশগ্রহণ ‘স্থগিত’ করে। নয়াদিল্লি একে পাকিস্তানের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করে। পাকিস্তান হামলার দায় অস্বীকার করলেও উভয় দেশের মধ্যে কয়েক দিনের তীব্র লড়াই হয়, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে তাদের সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনা হিসেবে বিবেচিত।

গত মাসে ভারত ও পাকিস্তান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও অমিত শাহ শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার সরকার চুক্তিটি আর কখনোই পুনরায় চালু করবে না, যা ভারতে উৎপন্ন তিনটি নদীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিক্ষেত্রের জন্য পানির প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা দেয়।

তিনি আরো বলেন, ‘এটি আর কখনোই পুনরুদ্ধার হবে না। আমরা একটি খাল নির্মাণ করে যে পানি পাকিস্তানে যাচ্ছিল, তা রাজস্থানে নিয়ে আসব। পাকিস্তান অন্যায়ভাবে যে পানি পাচ্ছিল, তা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হবে।
’

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান হিমালয় থেকে উৎসারিত সিন্ধু অববাহিকার পানি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। এতে ভারত রবি, শতদ্রু ও বিয়াস নদীর ওপর নিয়ন্ত্রণ পায় এবং পাকিস্তান সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানি পায়। এ ছাড়া এ চুক্তির আওতায় ভারত-পাকিস্তান সিন্ধু কমিশন গঠিত হয়, যা পানিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। ৬৫ বছরে দুই দেশের মধ্যে বহুবার উত্তেজনা ও যুদ্ধের পরও এই চুক্তি টিকে ছিল।

তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার সবচেয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী অমিত শাহর এই মন্তব্য ইসলামাবাদের পক্ষে অদূর ভবিষ্যতে চুক্তি নিয়ে আলোচনার আশাকে ম্লান করে দিয়েছে। পাকিস্তান এখনো শাহের মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে তারা আগে বলেছে, চুক্তিতে কোনো একতরফা প্রত্যাহারের বিধান নেই এবং পাকিস্তানে প্রবাহিত নদীর পানি আটকে দেওয়া হলে তা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

গত মাসে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছিলেন, ‘চুক্তিটি কোনো পক্ষ একতরফাভাবে সংশোধন বা বাতিল করতে পারে না, উভয়পক্ষের সম্মতি ছাড়া তা সম্ভব নয়।’

ইসলামাবাদ ইতিমধ্যে ভারতের এই ‘স্থগিতাদেশের’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এপ্রিল মাসে আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানি আইনজীবী আহমের বিলাল সুফি বলেন, ‘ভারত স্থগিত বলেছে, কিন্তু চুক্তিতে এ ধরনের কোনো ধারাই নেই। এটি আন্তর্জাতিক রীতিনীতিরও লঙ্ঘন, যেখানে ওপরের দেশ নিচের দেশকে পানি সরবরাহ বন্ধ করতে পারে না।’

নয়াদিল্লিভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনুত্তমা ব্যানার্জি তখন বলেছিলেন, ‘চুক্তিটি টিকে থাকতে পারে, তবে বর্তমান রূপে নয়। এটি হয়তো পর্যালোচনা, পুনর্বিবেচনা বা পুনর্গঠনের জন্য উত্থাপিত হবে। কারণ ভূগর্ভস্থ পানির সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নতুন চ্যালেঞ্জগুলো চুক্তির মূল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।’

‘সুইসাইড ডিজিজ’-এ আক্রান্ত সালমান, ভুগছেন মস্তিষ্কের জটিল রোগেও

অনেক দিন ধরেই জটিল রোগে ভুগছেন সালমান খান। তবু থামছেন না তিনি, অসুস্থতা নিয়েও আপন মনে কাজ করে যাচ্ছেন। অভিনেতা নাকি ট্রাইগেমিনাল নিউরালজিয়া, অ্যানিউরিজম, এভি ম্যালফরমেশনের মতো রোগে বহু বছর ধরে ভুগছেন। সদ্য শুরু করা কপিল শর্মা শোয়ের নতুন সিজনের প্রথম অতিথি হিসেবে এসে এমনটা নিজেই জানালেন ভাইজান।

অভিনেতা মনে করেন, অসুখ থাকবেই। কিন্তু বলিউডে টিকে থাকতে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে।

এরপর সালমান বললেন, ‘রোজ হাড় ভাঙছে, পেশি ছিঁড়ে যাচ্ছে, এদিকে আবার ট্রাইগেমিনাল নিউরালজিয়া নিয়ে কাজ করছি। মস্তিষ্কে অ্যানিউরিজম রয়েছে।
এগুলো থাকা সত্ত্বেও কাজ করে চলেছি। এভি ম্যালফরমেশনও রয়েছে আমার, তা-ও চলা ফেরা করছি।’

এসময় সালমান আরো জানান, তার জীবনে এমন নানা রকমের জটিলতা রয়েছে। মেজাজ খারাপ থাকলে আরো শারীরিক জটিলতা বেড়ে যায় বলেও জানান অভিনেতা।

এর আগে ২০১৭ সালেও ট্রাইগেমিনাল নিউরালজিয়া নিয়ে কথা বলেছিলেন সালমান। দুবাইতে ‘টিউবলাইট’ সিনেমার প্রমোশনের সময় নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। সেসময় জানিয়েছিলেন, এই অসুখ নাকি ‘সুইসাইড ডিজিজ’ নামেও পরিচিত। এই অসুখে নাকি যন্ত্রণা এমন প্রবল জায়গায় পৌঁছায়, রোগী নিজের জীবন পর্যন্ত শেষ করে দিতে চান। তাই এই রোগের নামটা এমন।

এই রোগে মূলত রোগীর মুখমণ্ডলে যন্ত্রণা হয়ে থাকে বলে জানা যায়। এছাড়া অ্যানিউরিজম স্নায়ু সংক্রান্ত মস্তিষ্কের সমস্যা। অন্যদিকে এভি ম্যালফরমেশন শিরা ও ধমনীর মধ্যে এক অস্বাভাবিক যোগ থেকে তৈরি হয়। মস্তিষ্ক-সহ শরীরের নানা জায়গায় এই অসুখ হতে পারে।

সলমন খানের শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘সিকান্দর’। ছবি নিয়ে অনুরাগীদের প্রবল আশা ছিল। কিন্তু মুখ থুবড়ে পড়ে অভিনেতার এই ছবি।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল : অর্থ উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকার অনুমোদিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনা এবং ভবন নির্মাণে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

রবিবার (২২ জুন) বিকেলে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা বাড়াতে চান না জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এবার কালো টাকা সাদা করার বিধান থাকছে না।

আগামী অর্থবছরের জন্য সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বাজেট অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে তা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে।
এ ক্ষেত্রে আজই বরাদ্দসংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ এবং শুল্ক-কর সংক্রান্ত আরেকটি অধ্যাদেশ জারি করার কথা রয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ভিন্ন বাস্তবতায় এবার সংসদের বাইরে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গত ২ জুন সোমবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিসহ অন্যান্য বেসরকারি গণমাধ্যমে একযোগে প্রচার করা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার নতুন বাজেট।

প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গত ১৯ জুন পর্যন্ত নাগরিকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করা হয়।
এরপর কিছু সংযোজন বিয়োজন কর বাজেটের খসড়া চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

জাতীয় নির্বাচন হবে পুলিশের কলঙ্ক মোছার নির্বাচন : অতিরিক্ত আইজি

পুলিশ বাহিনীর অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) আবু নাছের মোহাম্মদ খালেদ বলেছেন, কোথায় কোথায় ভুল রয়েছে তা সংশোধন করে পুলিশ বাহিনীকে ঘুরে ধারাতে হবে। আগামী কয়েক মাস পরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা পুলিশ বাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। আগামী নির্বাচন হবে পুলিশ বাহিনীর কলঙ্ক মোছার নির্বাচন।
সুন্দর সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

আজ রবিবার (২২ জুন) সকালে মির্জাপুরের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৫৫ তম টিআরসি ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ (ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল) সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত চার হাজার ১০০ গর্বিত নবীন পুলিশ কনস্টেবল আপনারা। আজকে থেকে আপনারা পুলিশ বাহিনীর গর্বিত সদস্য হতে যাচ্ছেন।
পুলিশ বাহিনীর যে শপথ বাক্য পাঠ করেছেন তা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।’ পুলিশ সদস্যদের জনগণের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের সুরক্ষা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
জনগণের সঙ্গে আমরা মেলবন্ধন তৈরি করতে পারি তাহলে পুলিশ বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা জনগণের প্রতি এক হাত বাড়িয়ে দিলে জনগণ বুকে জড়িয়ে আলিঙ্গন করবেন।’ ভালো কাজের মধ্য দিয়েই পুলিশ বাহিনীর হারানো গৌরব ফিরে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথি নবীন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানের উৎকর্ষতা, সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা কর্মজীবনে প্রয়োগ এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে ব্রতী হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। পুলিশ বাহিনীর সব সদস্যের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন।

এ সময় মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ডিআইজি মোহাম্মদ আশফাকুল আলম, অতিরিক্ত ডিআইজি এ এইচ এম কামরুজ্জামান বিপিএম, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মহেড়া ট্রেনিং সেন্টারের কয়েকজন পুলিশ সুপার, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সালাম গ্রহণ করেন। শেষে প্রধান অতিথি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী চারজন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। মৌলিক প্রশিক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ৫৫ তম টিআরসি ব্যাচের ৮১৫ জন ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল সফলতার সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

টেস্ট ক্রিকেটকে সামনের দিকে দেখতে চাই : বিসিবি সভাপতি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে টেস্ট ক্রিকেটকে স্বাগত জানাচ্ছে। বাংলাদেশ অলরেডি ফুল মেম্বার। ২৫ বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলছে। আমরা টেস্ট ক্রিকেটকে সামনের দিকে দেখতে চাই।
’
রবিবার (২২ জুন) সকালে রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাসের ২৫ বছর পূর্তিতে দেশব্যাপী অনূর্ধ্ব-১২ সিক্স-এ-সাইড ক্রিকেট প্রতিযোগিতা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘দেশব্যাপী ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দিতে ডি-সেন্ট্রালাইজড করতে চাই। রাজশাহীতে মাঝে মধ্যে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট হয়। আমরা গ্রেটার রাজশাহী রিজিয়নের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগ চালু করবো।
এখানে আমরা ক্রিকেট অ্যাকটিভি আরো বাড়াবো। এখানে ক্রিকেট ট্রেইনিং প্রোগ্রাম আরো বাড়ানো হবে। ইতিমধ্যে এখানে ১৪, ১৬ ও ১৮ বছরের ক্রিকেট হচ্ছে। সেগুলোকে আমরা দুই দিনে রূপান্তর করবো।
’

বিসিবি সভাপতি আরো বলেন, ‘সব জায়গাতে ক্রিকেট ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছি। কীভাবে এখানে আরও বেশি ক্রিকেট খেলা হতে পারে, কীভাবে রাজশাহী থেকে জাতীয় দলে খেলোয়াড়রা যুক্ত হতে পারেন। কীভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আপনারা সাহায্য করতে পারেন। সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করবো।’

তিনি বলেন, ‘দেখছেন যে এই গ্রাউন্ডস এত সুন্দর, এমন আউটফিল্ড কিন্তু অনেক দেশে নেই।
উইকেট এত সুন্দর নেই। গ্রাইন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুব ভাই এখানে আছেন, দেশব্যাপী যদি আমরা এ রকম ফ্যাসিলিটিজ তৈরি করতে পারি, তাহলে কিন্তু অটোমেটিক্যালি আউটফিল্ড বের হয়ে আসবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কর্তৃক বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পূর্ণাঙ্গ টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির গৌরবময় ২৫ বছর পূর্তি উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্মরণে, বিসিবি দেশজুড়ে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে অনূর্ধ্ব-১২ সিক্স-এ-সাইড ক্রিকেট প্রতিযোগিতা এবং আনন্দ আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, প্রসার এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে অনাবিল আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে বড় জুয়া খেলছেন ট্রাম্প

‘শান্তির দূত’ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে ফেলার জন্য একটি নাটকীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা তো দূরের কথা, ট্রাম্প এখন এমন একটি অঞ্চলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যেটা আরো বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, এমন একটি যুদ্ধ যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।

ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা করার মাত্র দুই ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই অভিযানটি ছিল একটি ‘অসাধারণ সাফল্য’। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার এই পদক্ষেপ আরো স্থায়ী শান্তির দরজা খুলে দেবে, যেখানে ইরানের আর পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

অন্যদিকে ইরান বলেছে, তাদের শক্তিশালী ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্রে স্থাপনার সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে সময়ই বলে দেবে কোন পক্ষ সঠিক।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাশে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, যদি তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বাদ না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা এমন হামলার মুখোমুখি হবে, যা ‘অনেক ভয়াবহ’।

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘অনেক টার্গেট এখনো বাকি আছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘গতি, নির্ভুলতা ও দক্ষতার সঙ্গে’ সেদিকেও যাবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ধরনের বাহাদুরী সত্ত্বেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক সম্পৃক্ততা যুক্তরাষ্ট্র, ওই অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বয়ে আনতে পারে।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার ফলে মধ্যপ্রাচ্য একটি নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খলার চক্রে’ পড়ে যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, অঞ্চলটি ইতিমধ্যে সেই পরিস্থিতির ‘দ্বারপ্রান্তে’।

যদি ইরান প্রতিশোধ নেয়, যেমনটা মার্কিন হামলা হলে ঘটবে বলে সতর্ক করেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রও জবাব দিতে বাধ্য হতে পারে।

‘দুই সপ্তাহ’ দুই দিনে পরিণত হলো
এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, ইরানকে ‘নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করতে হবে’, সেটা প্রেসিডেন্টকে এমন একটা অবস্থায় ফেলে দেয় যেখান থেকে তার ফিরে আসা ছিল কঠিন। ইরানও যে হুমকি দিচ্ছিল সেটাও তাকে একই অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল। এভাবেই যুদ্ধ শুরু হয় এবং এভাবেই যারা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যুদ্ধটা তাদের কল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানিদের দুই সপ্তাহের সময়সীমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা যা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তার চেয়েও কমে আসে—মাত্র দুই দিনে।
শনিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাহলে দুই সপ্তাহ ধরে আলোচনা কি কেবল একটা ভান ছিল? এই সপ্তাহ শেষে ইরানিদের একটা মিথ্যা নিরাপত্তার অনুভূতিতে প্রলুব্ধ করার একটি প্রচেষ্টা? নাকি পর্দার আড়ালে ট্রাম্পের মনোনীত দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে?

হামলার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে এর ফলাফল খুব কমই জানা যায়। কিন্তু ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট ও টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে শান্তির দ্বার উন্মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে এটি হয়তো অতিরিক্ত আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। কারণ ইসরায়েল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালালেও খামেনির হাতে এখনো অনেক অস্ত্র রয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়েও উঠতে পারে।

এখন অপেক্ষার পালা শুরু। ইরান তার তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রতিক্রিয়া কিভাবে দেখাবে, যার মধ্যে ফোরদোও রয়েছে, যেটিকে তার পারমাণবিক কর্মসূচির রাজকীয় মুকুট হিসেবে হিসেবে দেখা হয়?

ট্রাম্প আশা করছেন, মার্কিন হামলা ইরানকে আলোচনার টেবিলে আরো বেশি ছাড় দিতে বাধ্য করবে। কিন্তু এটির সম্ভাবনা খুব কম। কারণ যে দেশটি ইসরায়েলি হামলার সময় আলোচনায় রাজি নয়, তারা মার্কিন বোমা পড়ার সময় আরো আগ্রহী হবে—এমনটা ভাবা কঠিন।

আর যদিও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন আক্রমণটি ছিল একটি একক ও সফল অভিযান। কিন্তু যদি বাস্তবে যদি তা না হয়, তাহলে আবারও আক্রমণ করার জন্য চাপ বাড়বে অথবা প্রেসিডেন্টকে ন্যুনতম একটা সামরিক লাভের জন্য গুরুতর রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে হবে।

‘শান্তির দূত’ প্রেসিডেন্ট পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিতে
সেই ঝুঁকির মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় রাজনৈতিক উদ্বেগের মতো বিষয়ও আছে। ইরানের ওপর মার্কিন হামলার আশঙ্কা ইতিমধ্যে কেবল ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে নয়, ট্রাম্পের নিজস্ব ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের ভেতর থেকেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্টের অস্বাভাবিকভাবে তার তিনজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাকে পাশে রাখা সম্ভবত তার দলের মধ্যে ঐক্য প্রদর্শনের একটি প্রচেষ্টা ছিল। বিশেষ করে ভ্যান্স, যিনি বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের আরো সংযত পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে কথা বলেছেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, ট্রাম্প এখনো একজন অনাক্রমণবাদী ও তার সমর্থকদের তাকে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দেওয়া উচিত।

যদি এই আক্রমণটি শুধু একবারের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে ট্রাম্প হয়তো তার সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে খুব সহজেই বিভক্তি দূর করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু যদি এটা যুক্তরাষ্ট্রকে আরো বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট তার দলের ভেতর থেকেই প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারেন।

শনিবারের আক্রমণটি প্রেসিডেন্টের জন্য এমন একটি আগ্রাসী পদক্ষেপ ছিল, যিনি তার প্রথম মেয়াদে কোনো নতুন যুদ্ধ শুরু না করার গর্ব করেছিলেন। গত বছর নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি সংঘাতে দেশকে জড়ানো পূর্বসূরিদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে সমালোচনা করেছিলেন।

ট্রাম্প তার পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু এখান থেকে এটি কোথায় যাবে তা পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই।