বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

দুই দেশের সম্পর্ক বাড়াতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দোভালের বৈঠক

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা ভারত-চীন সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সামগ্রিকভাবে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যার মধ্যে জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ও রয়েছে।

সোমবারের এই বৈঠকে এনএসএ দোভাল সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়, যা উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অজিত দোভাল আজ বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক।

এছাড়াও দোভাল উল্লেখ করেন যে তিনি বিশেষ প্রতিনিধি (এসআর) পর্যায়ের ২৪তম বৈঠকের জন্য ভারতের মাটিতে ওয়াং ই-এর সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন।

দুই পক্ষ সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে একমত হয়।
এছাড়াও, উভয়পক্ষ ভিসা সুবিধা, মিডিয়া ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বিনিময় বাড়ানোর জন্য বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।

পাকিস্তান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি ১২.৪ বিলিয়ন ডলার

উপসাগরীয় দেশগুলোর (জিসিসি) সঙ্গে পাকিস্তানের বাণিজ্য ঘাটতি চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত ১৪ শতাংশ বেড়ে ১২.৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও দেশটি জিসিসির ছয়টি সদস্য দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে রপ্তানি ও বাজার প্রবেশাধিকার বাড়ানো যায়। সরকারিভাবে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য দেখা গেছে। খবর আরব নিউজের।

স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এসবিপি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১০.৯ বিলিয়ন ডলার। এই সময়ে পাকিস্তানের জিসিসিতে রপ্তানি ১৬ শতাংশ বেড়ে ৫.০৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও, আমদানি ১৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার।

জিসিসির সদস্য দেশগুলো হলো— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, ওমান এবং বাহরাইন।

টপলাইন সিকিউরিটিজের গবেষণা পরিচালক শঙ্কর তালরেজা জানান, এই বাণিজ্য ঘাটতির প্রধান কারণ হলো— ইউএই থেকে আমদানির প্রবল বৃদ্ধি, যা পাকিস্তানের জিসিসি অঞ্চলের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী।

তিনি বলেন, ১১ মাসে পাকিস্তানের ইউএই থেকে আমদানি ৩২ শতাংশ বেড়েছে। এটি প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বৃদ্ধি।

মোট ইউএই থেকে আমদানি ৪৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে দেশটিতে রপ্তানি ছিল ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে সৌদি আরব থেকে আমদানি ১৫ শতাংশ কমে হয়েছে ৩.৪৭ বিলিয়ন ডলার।

তেল আমদানির এই বৃদ্ধি এমন সময়ে ঘটেছে যখন পাকিস্তান বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের দামের গতিপথ নজরে রাখছে, কারণ দেশটি জিসিসির ওপর তেল আমদানির দিক থেকে অনেকটাই নির্ভরশীল।

১৩ জুন ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের পর তেলের দাম ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৭ ডলারে পৌঁছেছিল, পরে ২৪ জুন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর আবার ৬ শতাংশ কমে যায়।

তালরেজা বলেন, বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম গত বছরের জুলাই থেকে মে মাসের গড় দামের চেয়ে ১০ শতাংশ কম, তাই ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের মোট পেট্রোলিয়াম আমদানির খরচ বৃদ্ধি পাবে না।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বৃদ্ধির নিন্দা যুক্তরাজ্যের

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নার। বুধবার তিনি বলেন, গাজা পরিস্থিতি এখনো চরম উদ্বেগের। এ কারণে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার কড়া বিরোধিতা করেন তিনি।

হাউস অব কমন্সে সাপ্তাহিক প্রাইম মিনিস্টারস কোয়েশ্চনস সেশনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নেদারল্যান্ডসের হেগে অনুষ্ঠিত ন্যাটো নেতাদের সম্মেলনে থাকায় তার অনুপস্থিতিতে রায়নার বলেন, ‘গাজার পরিস্থিতি আমাদের জন্য চরম উদ্বেগের।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিন্দনীয় এবং ফলপ্রসূ নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গাজায় সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ, (অধিকৃত পশ্চিম তীরে) বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার তীব্র বিরোধিতা করি।’

ইসরায়েলে ব্রিটেনের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ রপ্তানি অব্যাহত রাখা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রায়নার বলেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি ইসরায়েলকে অস্ত্র বিক্রি করে না, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পবিত্র কাবাঘরে ১২০ কেজি স্বর্ণের নতুন গিলাফ

পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়েছে। বুধবার (২৫ জুন) পবিত্র মসজিদুল হারামে এশার নামাজ শেষ হওয়ার পর তা পরিবর্তন করা হয়। এ সময় সৌদি আরবের রাজপরিবারের প্রতিনিধি ও মসজিদুল হারামের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে খাদিমুল হারামাইন বাদশাহ সালমানের পক্ষে মক্কা অঞ্চলের উপ-আমির এবং হজ ও ওমরাহবিষয়ক স্থায়ী কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রিন্স সাউদ বিন মিশাল মসজিদুল হারামের সিনিয়র কিপার আবদুল মালিক বিন তাহা আল-শাইবির কাছে পবিত্র কাবার নতুন গিলাফ হস্তান্তর করেন।

প্রতি হিজরি নববর্ষের প্রথম দিন পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। ২৫ জুন ছিল হিজরি নববর্ষ ১৪৪৭-এর প্রথম প্রহর। পবিত্র কাবাঘরের গিলাফকে বলা হয় কিসওয়া। নতুন গিলাফ তৈরি করা হয় কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর হলি কাবা কিসওয়াতে।

মূলত ইসলামের প্রথম যুগ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ আরাফাত দিবসে কাবাঘরের গিলাফ পরিবর্তনের রীতি ছিল। ২০২২ সাল মোতাবেক ১৪৪৪ হিজরি থেকে কাবার গিলাফ পরিবর্তনের সময়সূচিতে পরিবর্তন করে সৌদি সরকার। তখন থেকে হিজরি নববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে মহররমের প্রথম রাতে গিলাফ পরিবর্তন করা হয়।

এতে ব্যবহার করা হয় প্রাকৃতিক কালো রঙের সিল্ক কাপড়।
স্বর্ণ ও রুপার তৈরি সুতা দিয়ে তাতে নকশা করা হয়। উচ্চতায় গিলাফের দৈর্ঘ্য ১৪ মিটার। ওপরের এক-তৃতীয়াংশে একটি বেল্ট রয়েছে, যা ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া এবং ৪৭ মিটার লম্বা।

কিসওয়া বা কাবার গিলাফে ইসলামী কারুকাজযুক্ত ১৬টি কাপড় যুক্ত করা হয়। আর পাঁচ টুকরা কাপড় জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয় বিশাল এই গিলাফ।
কিসওয়া তৈরি করতে এক হাজার কেজি সিল্ক, ১২০ কেজি স্বর্ণ এবং ১০০ কেজি রুপা ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র : আরব নিউজ

ইসরাইলি হামলায় গাজায় ত্রাণ কেন্দ্রে গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ৩৩ জনসহ ৭৮ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজায় ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে জমায়েত হওয়া ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বাহিনী গুলি চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ জুন) গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে কমপক্ষে ৭৮ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। নিহতদের মধ্যে অনেকেই ত্রাণ কেন্দ্রে অপেক্ষমান অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৭ মে থেকে এপর্যন্ত এই ধরনের হামলায় সাড়ে পাঁচশ’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলি বিমান হামলায় এক আশ্রয়কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, যেখানে অনেক মানুষ অবস্থান করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই ভবনটি ধ্বংস করা হয়, এতে নিচে চাপা পড়ে বহু হতাহত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামহীন অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কাতার জানিয়েছে, ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে কয়েকদিনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় বসা হতে পারে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন এই বিষয়ে কাতার ও মিসরের সঙ্গে কথা বলছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রস্তাব আসেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের সময় গাজায় যুদ্ধবিরতি বিষয়ে বড় অগ্রগতি হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ তাকে যুদ্ধবিরতির পথ প্রায় প্রস্তুত হওয়ার খবর দিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট, ইউরোপীয় নেতারা এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী দ্রুত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরাইল জানিয়েছে তারা গাজায় আটক থাকা ৪৯ জন জিম্মি মুক্তির জন্য সামরিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

হজ সমাপ্তির পর দেশে ফিরেছে ৫১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি, মৃত্যুর সংখ্যা ৩৮

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবারের হজ শেষে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৬ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী দেশে ফিরে এসেছে। হজ পরিবহনে অংশ নেয় তিনটি বিমান সংস্থা—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফেরত এনেছে ২২ হাজার ১৪৯ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ২১ হাজার ২৫ জন এবং ফ্লাইনাস ৮ হাজার ৪৪১ জন হজযাত্রী। এ পর্যন্ত ১৩৪টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ ৫৮টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৫৪টি এবং ফ্লাইনাস ২২টি ফ্লাইট চালিয়েছে।

সৌদি আরবে হজ পালনের সময় এ বছর মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন, যার মধ্যে ২৭ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী। বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও অসুস্থতাকেই প্রধান মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের হজযাত্রায় বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭ হাজার ১৫৭ জন মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। হজ যাত্রা শুরু হয় ২৯ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে পাঠানো হয় ৩১ মে। ফিরতি ফ্লাইট চলবে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফেরত আসা যাত্রীদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু গৃহাগমন নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

পুতিনকে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত করে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের দাবি জেলেনস্কির

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২৫ জুন নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে আয়োজিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের সময় তিনি ‘কাউন্সিল অফ ইউরোপ’-এর মহাসচিব অ্যালাইন বেরসেটের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে ইউক্রেন আক্রমণের জন্য একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলেনস্কি বলেন, আগ্রাসন করলে শাস্তি পেতে হয় এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে ইউরোপকে একযোগে কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। দোনেৎস্ক ও দিনিপ্রোতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৯ জন নিহত ও তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। শিশু হাসপাতাল, দোকানপাট ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ভোরোনেজ ও রোস্তভ এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার বেশিরভাগ ভূপাতিত হয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে ৭০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ৩৫০টি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদের সুদ থেকে এ অর্থ সরবরাহ করা হবে। নেদারল্যান্ডসও ইউক্রেনকে ২০৩ মিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তা দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত ড্রোন শনাক্তকরণ রাডার। হেগে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক হয়, যেখানে যুদ্ধবিরতি ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। জেলেনস্কি বৈঠককে ‘দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কথা বলবেন।

হেগে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব ও সামরিক সহায়তার ঘোষণা যুদ্ধকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ইউক্রেনীয় নেতৃত্ব পশ্চিমা জোটের সহযোগিতা নিয়ে কূটনৈতিক ও সামরিক দুই পর্যায়ে চাপ বাড়িয়ে চলেছে, আর রাশিয়া পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে। জেলেনস্কির এই আহ্বান পশ্চিমা বিশ্বকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার বার্তা বহন করছে

আল নাসরের সঙ্গে রোনালদোর নতুন চুক্তির সম্ভাবনা

সৌদি ক্লাব আল নাসরের সঙ্গে নতুন চুক্তির পথে রয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইতালির ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, ৪০ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা আরও দুই বছরের জন্য চুক্তি করতে যাচ্ছেন ক্লাবটির সঙ্গে।

২০২৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর আল নাসরে যোগ দেন রোনালদো। চলতি মাসেই তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। শেষ ম্যাচে ক্লাব ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেও পরে বিভিন্ন ক্লাবের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আল নাসরেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া সৌদিতে নিজস্ব ক্রীড়া বিনিয়োগ শুরুর পরিকল্পনাও করছেন রোনালদো।

শেষ মৌসুমে সৌদি প্রো লিগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে আল নাসর। চ্যাম্পিয়ন আল হিলালের চেয়ে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান ছিল ১৩। ফলে আগামী মৌসুমে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নিতে পারবে না ক্লাবটি।

রিভার প্লেট বিদায়, দ্বিতীয় রাউন্ডে ইন্টার মিলান

ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন রিভার প্লেট। বুধবার (২৫ জুন) সকালে গ্রুপ ‘ই’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইন্টার মিলানের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় তারা।

ইন্টার মিলানের হয়ে গোল করেন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ফ্রান্সেস্কো পিও এসপোসিটো ও ডিফেন্ডার আলেক্সান্দ্রো বাস্তোনি। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে এসপোসিটো গোল করে ইন্টারকে এগিয়ে দেন। এর ছয় মিনিট আগে রিভার প্লেট ১০ জনের দলে পরিণত হয়—ডিফেন্ডার লুকাস মার্তিনেজ কোয়ার্তা হেনরিখ মখিতারিয়ানকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।

৬৪তম মিনিটে রিভার প্লেটের পক্ষে ফাকুন্দো কোলিদিও একটি সুযোগ পেলেও ইন্টার গোলরক্ষক ইয়ান সোমারের দুর্দান্ত সেভে তা প্রতিহত হয়।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের ৯৩তম মিনিটে বাস্তোনি ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ে দারুণ এক শটে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।

এই জয়ে ইন্টার মিলান ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে। ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে মেক্সিকোর ক্লাব মন্তেরেই। রিভার প্লেট (৪ পয়েন্ট) ও জাপানের উরাওয়া রেড ডায়মন্ডস (০ পয়েন্ট) বিদায় নিয়েছে গ্রুপপর্ব থেকেই।

কেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ১৬, আহত ৪০০’র বেশি

কেনিয়ায় কর বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা।

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানী নাইরোবি ও আশপাশের এলাকায় এই সংঘর্ষ ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান, কাঁদানো গ্যাস ও গুলি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও কেনিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (KNCHR) সংঘর্ষে প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ছোড়ে এবং সিভিল পোশাকে লাঠিসজ্জিত লোকজন হামলা চালায়, যাদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ ছিল বলে দাবি তাদের।

নাইরোবির কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পতাকা ও পুলিশের গুলিতে নিহতদের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগ দাবি করেন।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ কয়েকটি দেশের দূতাবাস শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রুটোও সহিংসতা পরিহার করে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, করবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত বছর একই ধরনের বিক্ষোভে অন্তত ৬০ জন নিহত হন। নিহতদের স্মরণেও এদিনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।