বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

পবিত্র আশুরা : হোসেনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিল শুরু, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক হোসেনি দালান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের শোকাবহ তাজিয়া মিছিল শুরু হয়েছে। রবিবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ৪০০ বছরের পুরনো এই ইমামবাড়া থেকে মিছিলটি যাত্রা শুরু করে। তাজিয়া মিছিলটি হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে শুরু হয়ে আজিমপুর, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট ও সায়েন্সল্যাব এলাকা হয়ে ধানমণ্ডিতে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মিছিলে অংশ নেওয়া শিয়া মুসল্লিদের অধিকাংশকে কালো পোশাকে দেখা গেছে।
তাদের হাতে ছিল প্রতীকী ছুরি, আলাম, নিশান, পতাকা, বেস্তা ও বইলালাম। কারবালার শহীদদের শোক ও স্মৃতিকে স্মরণ করেই এই প্রতীকগুলোর ব্যবহার।

মিছিল ঘিরে রাজধানীর ওইসব এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। মিছিলের শুরু, মাঝামাঝি ও শেষ অংশজুড়ে মোতায়েন রয়েছেন বিপুলসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, সোয়াট, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

মিছিল যেসব সড়ক দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, সেসব এলাকায় দেখা গেছে সাধারণ ও ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারি।

প্রসঙ্গত, আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক শোকাবহ দিন।
১০ মহররম, কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীরা জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে শহীদ হন। এই স্মৃতি বুকে ধারণ করে প্রতিবছর শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা মহররমের এই দিনে তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করে থাকেন।

গিলের রেকর্ডের বৃষ্টি, ভারত অধিনায়ক যেন উড়ছেই

এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়লেন শুবমান গিল। প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রানের রেকর্ড ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিলেন ১৬১ রানের ঝলমলে সেঞ্চুরি। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৪২৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে এবং ইংল্যান্ডকে দেয় টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় লক্ষ্য—৬০৮ রান।

এই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৩০ রান করে গিল উঠে এসেছেন টেস্ট ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে যিনি এক ম্যাচে ৪০০ রানের বেশি করেছেন।
টেস্ট ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শুধু গ্রাহাম গুচের ১৯৯০ সালে ভারতের বিপক্ষে করা ৪৫৬ রানের চেয়েই পিছিয়ে গিল। তবে সবচেয়ে বড় রেকর্ডটি হলো—টেস্ট ইতিহাসের ১৪৮ বছরের মধ্যে প্রথমবার কোনো ব্যাটার একটি ম্যাচে একবার ডাবল সেঞ্চুরি এবং আরেকবার ১৫০ রান করলেন।

এই ম্যাচেই গিল গড়েছেন আরো নজিরবিহীন কীর্তি।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বোর্ডারের পর তিনিই টেস্টে দুই ইনিংসেই ১৫০ রানের বেশি করার কীর্তি গড়লেন। একই সঙ্গে এক ইনিংসে শতক ও অপর ইনিংসে দ্বিশতকের দুর্লভ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন গিল—ভারতের হয়ে এর আগে কেবল সুনীল গাভাস্কারই এমন কীর্তি গড়েছিলেন।

ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসেই শতক করার কীর্তিও গিলের নামের পাশে—এর আগে শুধুমাত্র গাভাস্কার ও কোহলিই এই কীর্তি গড়েছিলেন।

আর ইংল্যান্ডের মাটিতে দুই ইনিংসে শতক? সেই তালিকায় ভারত থেকে গিলের আগে কেবল ছিলেন ঋষভ পন্ত।

মাত্র ২৫ বছর বয়সী গিল অধিনায়কত্ব পেয়েছেন রোহিত শর্মার টেস্ট থেকে অবসরের পর, আর দায়িত্ব পাওয়ার পরেই যেন উড়ছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে মাত্র চার ইনিংসে করেছেন তিনটি সেঞ্চুরি—প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে ১৪৭, এরপর এজবাস্টনে ২৬৯ ও ১৬১।

ইংল্যান্ডের সামনে এখন পাহাড়সম লক্ষ্য। চতুর্থ দিন শেষে তাদের স্কোর ৩ উইকেটে ৭২ রান, জয়ের জন্য প্রয়োজন আরো ৫৩৬ রান। আগুনঝরা বোলিংয়ে ভারতের হয়ে এদিন আবারও জ্বলে উঠেছেন মোহাম্মদ সিরাজ ও আকাশ দীপ।
সিরাজ ফেরান জ্যাক ক্রলিকে (০), আর দীপ বোল্ড করেন বেন ডাকেট (২৫) ও জো রুটকে (৬)।

উল্লেখ্য, টেস্টের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান। ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় এসেছে এই এজবাস্টনেই, ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে ৩৭৮ রান।

বছরের পর বছর হাতে কাজ নেই, ক্ষোভ শ্রীলেখার

ওপার বাংলায় ফেডারেশন-পরিচালক দ্বন্দ্বে কাজ হারাচ্ছেন একাধিক পরিচালক-প্রযোজক-অভিনেতা। এমনই অভিযোগ পরিচালক গিল্ডের সদস্যদের। নিজেদের কাজ বজায় রাখতে তাদের মধ্যে ১৩ জন পরিচালক হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়েছেন। এই দ্বন্দ্বের জেরে তাদের কাজ পেতে আরও অসুবিধা হচ্ছে, এমনই দাবি তাদের।
তেমনই এক অভিনেতা-পরিচালককে নাম না করে ক্ষোভ ঝাড়লেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। কলকাতার এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, বছরের পর বছর কাজ পান না তিনি। তা নিয়ে তো কারো কোনো মাথাব্যথা নেই!

শ্রীলেখা বলেন, ‘আমি তো বছরের পর বছর কাজ পাই না। কই, তা নিয়ে তো কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।

শ্রীলেখা জানিয়েছেন, টালিউডে কাজ নেই। বাংলায় তাই তার থাকারও ইচ্ছা নেই। মুম্বাইয়ে থাকা প্রচুর খরচসাপেক্ষ। তাই ওখানেও থিতু হতে পারছেন না।
শ্রীলেখা বলেন, “সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘মায়ানগর’ দর্শক প্রশংসিত। সঠিক প্রচার, সিনেমা হলে সঠিক সময় পেলে ওই ছবি আরো ভালো ফল করত। আমার হয়ে বলবেন কে? এখানে তো কারো দায় নেই।”

শ্রীলেখার অভিযোগ, তাকে নিয়ে টালিউডের আপত্তি বা সমস্যা আজকের নয়। সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর সময়ে বাংলায় ‘স্বজনপোষণ’-এর কিছু উদাহরণ দিয়েছিলেন তিনি।
নাম করেছিলেন কিছু বিনোদন দুনিয়ার কিছু ‘রাঘব বোয়াল’-এর। তার পর থেকেই বিপর্যয় শুরু।

শ্রীলেখার ভাষ্য, ‘সরকারবিরোধী কথা বলায় আমার হাতে আসা বিজ্ঞাপনী ছবির কাজ কেড়ে নেওয়া হয়। ছবি পরিচালনা করব। কোনো প্রযোজক পাচ্ছি না! অথচ মুম্বাই গিয়ে সম্প্রতি সুধীর মিশ্রের পরিচালনায় কাজ করেছি। বলিউড আমাকে যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছে।’

তবে কাজ না পেলেও কখনো আপস করতে রাজি নন অভিনেত্রী। এমনকি নিজেকে বদলাতেও চান না। শ্রীলেখা বলেন, ‘যেমন আছি তেমনই থাকব। কখনো বদলাব না। অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না। এভাবেই একদিন না একদিন ফিরব আমি।’

অধিনায়ক মিরাজের প্রথম পাঠ

মুস্তাফিজুর রহমানের ফিল্ডিংয়ে সমস্যা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তাই তাঁকে নিরিবিলি কোনো পজিশনে দাঁড় করাতে হয়। তারপরও মাঝেমধ্যে বল মুস্তাফিজকে খুঁজে নেয়। ভুলভ্রান্তি হলে অধিনায়ক ক্ষমাসুলভ দৃষ্টিতে দেখেন।
কিন্তু প্রেমাদাসায় সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তাঁর নাগালের মধ্যে বল রেখে শ্রীলঙ্কান জুটি সিঙ্গেলকে ডাবলস নিতেই যেন তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মুখে কী বলেছেন বলা মুশকিল, তবে অধিনায়কের অঙ্গভঙ্গি দেখে মনে হলো তিনি হয়তো মুস্তাফিজকে বলতে চেয়েছেন, ‘এগুলো কী? এসব চলবে না।’ বিরল দৃশ্য বটে!

এমনিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সবার মন জুগিয়ে চলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন বহু আগে।
ম্যাচের যেকোনো পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিতে পিছপা হন না বলে প্রাক্তন অধিনায়কেরা অনেক প্রশংসা করেন। একসময়ের যুবদলের নেতাকে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নেতা করা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু হব হব করে আর নেতৃত্ব পাওয়া হয়নি মিরাজের। কারণ একটা অবশ্য আছে।
সবার মন জুগিয়ে চলতে গিয়ে নেতৃত্বের অন্যতম একটি উপাদান তিনি হারিয়ে ফেলেছেন কি না, সংশয় তৈরি হয়েছিল। সেই উপাদানটি হলো, নেতার কর্তৃত্ব। ড্রেসিংরুমে গ্রহণযোগ্যতা মিরাজের ছিল এবং আছে। কিন্তু গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে কর্তৃত্বের যেটুকু ঝাঁঝ দরকার, সেটি ছিল না বোধ হয়— এমন একটি সংশয় ছিল নীতিনির্ধারকদের। আউটফিল্ডে মুস্তাফিজের ভুলে মিরাজের প্রতিক্রিয়া বলে দেয়, নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের কাছে ভুল ভুলই।
তিনি যত বড় তারকাই হন না কেন।

ওয়ানডে সিরিজ শুরুর প্রস্তুতি থেকেই মিরাজের অধিনায়কত্বের আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল। নিজে বোলিং করার পাশাপাশি এই নেট থেকে ওই নেটে ব্যাটারদের পরামর্শ দিচ্ছেন। মিডল অর্ডারে খেলছেন জেনেও নেট করছেন শেষদিকে। মাঠে অলরাউন্ডারের জীবন এমনিতেই ব্যস্ত। অধিনায়কত্ব মিরাজের এই ব্যস্ততা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সব অধিনায়ককে দলের সবাইকে নিয়ে ভাবতে হয়। তবে মিরাজের এই ভাবনা নেট থেকে মাঠে প্রকাশ্য। বোলারের সঙ্গে বোলিং মার্ক পর্যন্ত গিয়ে আবার নিজের ফিল্ডিং পজিশনে ফিরছেন মিরাজ। চার-ছক্কা হজম করা বোলারকে ছুটে গিয়ে সাহস জোগানো- এর সঙ্গে ফিল্ডিং সাজানোর জটিলতম অঙ্ক মেলানোর ব্যাপারও আছে। এর মধ্যে একটা ব্যাপার লক্ষণীয় যে মাঠে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে না মিরাজকে। আবার ড্রেসিংরুম থেকেও একের পর এক পরামর্শ পাঠানো হচ্ছে না তাঁকে। তার মানে, নতুন অধিনায়কের ক্রিকেটীয় চিন্তা প্রত্যাশিত মানের।

সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে বোলিং-ফিল্ডিং পরিচালনায় আশাব্যঞ্জক নম্বর নিয়ে পাস করেছেন মিরাজ। প্রথম ওয়ানডেতে নাজমুল হোসেনের খণ্ডকালীন স্পিনে বাজি ধরে সফল হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে শামীম হোসেনের ওপর লম্বা সময় আস্থা রেখে প্রতিদানও পেয়েছেন অধিনায়ক। ১৬ রানে জেতা ম্যাচে মাঠে দাঁড়িয়ে যে কটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিরাজ, তার প্রায় সবগুলোই সুফল দিয়েছে দলকে। শুধু একটি বাদে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন মিরাজ। যে ওভারে ১৭ রান তোলেন কুশল মেন্ডিস। প্রথম ম্যাচে ব্যাটাররা হুমড়ি খেয়ে না পড়লে অধিনায়ক মিরাজ ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার স্বস্তি নিয়ে ক্যান্ডি যেতেন।

কিন্তু সেটি হয়নি। উল্টো মিরাজের ওয়ানডে অধিনায়কত্বের অভিষেক হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো। ৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছে দল, এর মধ্যে মিরাজও ব্র্যাকেটবন্দি। বোলিংয়ে মিতব্যয়ী ছিলেন বটে, তবে দলের মূল স্পিনার হয়েও উইকেট পাননি। জেতা ম্যাচ হেরেছে দল। একুশ শতকে বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কের এমন মর্মন্তুদ অভিষেক হয়েছে বলে মনে হয় না।

দ্বিতীয় ম্যাচের ফল উল্টে গেলে মিরাজের পুল শটটি উঠে আসত সমালোচনার টেবিলে। উইকেটে গিয়ে দুশমন্ত চামিরা যা চেয়েছেন, মিরাজ ঠিক তা-ই করেছেন। লেগসাইডে সীমানার কাছে দুজন ফিল্ডার দাঁড় করিয়ে বাউন্সার দেন লঙ্কান পেসার। মিরাজ ঠিক একজন ফিল্ডারকে খুঁজে নিয়ে তাঁর হাতে ক্যাচ দেন। তখন তাঁর রান ৯। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ০। মিডল অর্ডার ব্যাটার, যিনি আবার নতুন অধিনায়ক— এসব দেখে সমালোচকদের হাত নিশপিশ তো করবেই!

১৬ রানের জয়ে আপাতত পরিস্থিতি বদলেছে। মিরাজের অধিনায়কত্ব-গুণ নিয়ে ইতিবাচক চর্চা হচ্ছে। টানা ৭ হারের পর নতুন অধিনায়কের হাত ধরে জয়ের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ দল। নীরবে আরেকটি অর্জন নতুন অধিনায়কের আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া দিতে বাধ্য। আগের ৫ ওয়ানডেতে কোনো উইকেট পাননি তিনি। প্রেমাদাসার ‘স্যাটারডে নাইট’ ম্যাচে সেই খরা ঘুচেছে মিরাজের।
৮ জুলাই পাল্লেকেলেতে তাই সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই স্বপ্ন দেখায় আর কোনো বাধা নেই। ১৬ রানের জয়ে কিছুটা নির্ভার অধিনায়কের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঘাটতিও হয়তো মিটে যাবে সিরিজের তৃতীয় ও ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে।

যে কারণে ইরান ছাড়তে বাধ্য হলেন আইএইএ পরিদর্শকরা

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) একদল পরিদর্শক ইরান ছেড়েছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থগিত করার পর সংস্থাটির পরিদর্শকরা ইরান ছাড়লেন।

গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইএইএ বলেছে, তাদের কর্মীরা অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ফিরে যাবেন। খবর আল জাজিরার।

খবরে বলা হয়, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরানি নেতারা আইএইএর কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। তারা বলছেন, আইএইএ ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরুদ্ধে কোনো নিন্দা জানায়নি; বরং হামলার ঠিক আগের দিন ১২ জুন তারা ইরানকে দোষারোপ করে একটি প্রস্তাব পাস করে। প্রস্তাবে অভিযোগ করা হয়, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিসংক্রান্ত বিধি-নিষেধ মানছে না।

এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আইএইএর সঙ্গে ইরানের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থগিতের নির্দেশ দেন।
সংস্থাটিকে সহযোগিতা দেওয়া বন্ধ রাখার এ প্রস্তাব আগেই ইরানের পার্লামেন্টে পাস হয়েছিল। পরে দেশটির সর্বোচ্চ পরিষদ ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’ সেটি অনুমোদন করে।

আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, সংস্থাটি যেন আবারও পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের কাজ শুরু করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করা খুবই জরুরি।

আল জাজিরার সংবাদদাতা রেসুল সেরদার বলেছেন, ঠিক কতজন আইএইএ কর্মী ইরান ছেড়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তাঁর মতে, সংস্থাটির কর্তৃপক্ষ যেভাবে বলেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে না যে সবাই, নাকি কয়েকজন ইরান ছেড়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘তারা (আইএইএর কর্মী) উড়োজাহাজে চড়েননি। সড়কপথে হয়তো গতকাল বা এর আগের দিন আর্মেনিয়ায় গেছেন। এরপর তাঁরা ভিয়েনা পৌঁছেছেন।’

তার মতে, এ ঘটনা ইরানে এখন এক ধরনের ‘পারমাণবিক অনিশ্চয়তার যুগ’-এর সূচনা করেছে।

ইরানি হামলায় ইসরায়েলের অন্তত পাঁচটি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত, দাবি টেলিগ্রাফের

সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলের অন্তত পাঁচটি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। স্যাটেলাইট রাডারচিত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে তারা। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাডারচিত্র বিশ্লেষণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের পাঁচটি সামরিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানে। এর মধ্যে রয়েছে একটি বড় বিমানঘাঁটি, একটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কেন্দ্র ও একটি লজিস্টিক ঘাঁটি।

টেলিগ্রাফ জানায়, এ ধরনের হামলার কথা আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ইসরায়েল সরকারও বিষয়টি স্বীকার করেনি।
দেশটির সামরিক সেন্সরশিপের কারণে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশে বিরত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের প্রথম আট দিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ধীরে ধীরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার হার বাড়তে থাকে। এর কারণ হিসেবে গবেষকেরা ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত ব্যবহার এবং ইরানের আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগের কথা বলছেন।

ইসরায়েলের আরো ৩৬টি স্থানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার প্রমাণ মিলেছে।
এসব আঘাত আবাসিক ভবন ও শিল্পকাঠামোতেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে বলে জানায় টেলিগ্রাফ।

ইরানের ছোড়া শত শত ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে। এরপরও প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৮ জন ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত সতর্কতাব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের শেল্টার ব্যবহারের কারণেই প্রাণহানি কম হয়েছে।

যুদ্ধে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি তাদের দুটি থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকেও ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ইন্টারসেপ্টর ছোড়া হয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অন্তত ৩৬টি থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যার প্রতিটির দাম প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার।

টেলিগ্রাফ জানায়, তারা ইসরায়েলের সেনাবাহিনী আইডিএফের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আইডিএফের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কিছু বলা হবে না। তবে হামলার সময় ইউনিটগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম ছিল।’

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইসরায়েল সরকার যে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরছে, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। অন্যদিকে, যুদ্ধের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও ইসরায়েল ও ইরান—দুই দেশই নিজেদের বিজয়ী দাবি করে চলেছে।

রোগী সেজে ক্লিনিকে ঢুকে অভিনেত্রী তানিয়ার বাবাকে গুলি

একটি ক্লিনিকে নিজ চেম্বারে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জনপ্রিয় পাঞ্জাবী অভিনেত্রী তানিয়ার বাবা ডা. অনিলজিৎ কম্বোজ। শুক্রবার (৪ জুন) দুপুরে ভারতের পাঞ্জাবের এক ক্লিনিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনপ্রিয় ওই অভিনেত্রী হলেন তানিয়া। গতকাল দুজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে এসে রোগীর পরিচয়ে তার বাবার চেম্বারে ঢুকে গুলি চালায়।
এরপরই তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ডা. অনিলজিৎ কম্বোজ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তড়িঘড়ি করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম অনুসারে, প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, রোগী সেজেই অনিলের চেম্বারে ঢোকে দুষ্কৃতকারীরা।
মোগার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পরিকল্পনা করেই এসেছিল। রোগী সেজে তারা অনিলের চেম্বারে ঢোকে। তারপর তারা অনিলকে গুলি করে। ওই ঘটনায় সব সম্ভাব্য-সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এই হামলার আগে অনিলকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরেই তিনি অজানা নম্বর থেকে খুনের হুমকি পাচ্ছিলেন। তবে পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। কেন এই হামলা, কারা এর পেছনে রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

তানিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘এই মুহূর্তে আমাদের পরিবার অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সবার কাছে অনুরোধ, দয়া করে আমাদের গোপনীয়তা রক্ষা করুন। কোনো গুজব ছড়াবেন না এবং মানবিক হোন। আপনারা পাশে থাকুন, এটাই আমাদের প্রয়োজন।’

২০১৬ সালে হিন্দি ফিল্ম ‘সরবজিত’-এ সরবজিতের মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করার প্রস্তাব পেয়েছিলেন তানিয়া। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলে বলিউডে তার অভিষেক হয়ে যেত। কিন্তু পরীক্ষার জন্য তিনি ওই চরিত্রে অভিনয় করতে পারেননি। এর ঠিক দুই বছর পর ২০১৮ সালে পাঞ্জাবি ছবি ‘কিসমত’-এর মাধ্যমে অভিষেক হয় তানিয়ার। এরপর ‘সান অব মনজিত সিং’, ‘গুড্ডিয়া পাটোলে’, ‘রাব দা রেডিও ২’, ‘বাজরে দা সিটা’, ‘লেখ’ ছবিতে অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী। এ ছাড়া একাধিক পাঞ্জাবি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন তানিয়া।

নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা ইলন মাস্কের

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ‘আমেরিকা পার্টি’ নামের নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী।

পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘আপনার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে আজ আমেরিকা পার্টির জন্ম হলো।’

তার এই ঘোষণার পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

দল গঠনের আগেই এক্স-এ একটি জরিপ চালান ইলন মাস্ক। সেখানে প্রায় ১২ লাখ মানুষ অংশ নেন। মাস্কের দাবি, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন রাজনৈতিক দল চান।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিতর্কিত ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত করছাড় ও ব্যয় বৃদ্ধির বিল সই করে তা আইনে পরিণত করেন। বিলটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন ইলন মাস্ক। তিনি বলেন, ‘এই বিল যুক্তরাষ্ট্রকে দেউলিয়া করে দেবে।’

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ছিলেন মাস্ক।
ট্রাম্প প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এমনকি ট্রাম্পের প্রচারণায় আর্থিক সহায়তাও দিয়েছিলেন এই ধনকুবের। তবে সাম্প্রতিক বাজেট পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়। মাস্কের নতুন দল গঠনের মধ্য দিয়ে সেই দ্বন্দ্ব আরো স্পষ্ট হলো।

ইলন মাস্ক কিছুদিন আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি ট্রাম্পের ব্যয়বহুল বিলকে সমর্থন দেওয়া কংগ্রেস সদস্যদের বিরুদ্ধে লড়তে চান এবং প্রয়োজনে তাদের নির্বাচনে হারাতে অর্থ ব্যয় করতেও প্রস্তুত।

এদিকে সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, মাস্কের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে ভর্তুকি দেয়, তা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

টেসলার শেয়ারেও মাস্ক-ট্রাম্প দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর টেসলার প্রতি শেয়ারের দাম ছিল ৪৮৮ ডলার। অথচ গত সপ্তাহে শেয়ারের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৩১৫ ডলারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। রিপাবলিকান দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, নতুন এই দল ২০২৬ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পথ কঠিন করে তুলতে পারে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইলন মাস্ক যতই বিত্তশালী হোন না কেন, যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের দুই দলীয় আধিপত্য ভাঙা সহজ হবে না। দুই দল গত ১৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন রাজনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে অবস্থান করছে।

ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এমবাপ্পেকে নিয়ে দোটানায় রিয়াল

ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে শুরুর একাদশে দেখা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জাবি আলোনসো জানিয়েছেন, এমবাপ্পেকে শুরু থেকে খেলানো হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ম্যাচের দিন সকালে।

সংবাদ সম্মেলনে আলোনসো জানান, ফরাসি বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা এখনো গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেননি, তবে ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তিনি বলেন, “সে আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছে। গত তিন দিন ধরে সে উন্নতি করছে। কাল সকালে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”

এর আগের ম্যাচে, মায়ামিতে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে টুর্নামেন্টে অভিষেক হয় এমবাপ্পের। তখনই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে গ্যালারি—যা তার বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

এমবাপ্পের অনুপস্থিতিতে রিয়ালের আক্রমণভাগে নজর কেড়েছেন একাডেমি থেকে উঠে আসা ২১ বছর বয়সী গনসালো গার্সিয়া। এখন পর্যন্ত তিন গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি হয়ে উঠেছেন দলের অন্যতম ভরসা। জুভেন্টাসের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটিও এসেছে তার পা থেকে।

গার্সিয়া ও এমবাপ্পেকে একসঙ্গে খেলানো নিয়েও আশাবাদী কোচ আলোনসো। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, গার্সিয়া ও এমবাপ্পে একসঙ্গে মাঠে নামতে পারে। দলের প্রয়োজন হলে আমি সেটাই করব।”

শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়ালের প্রতিপক্ষ হবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। তাদের নিয়ে আলোনসো বলেন, “ডর্টমুন্ড খুবই শক্তিশালী দল। কোচ নিকো কোভাচ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারা ধারাবাহিক উন্নতি করেছে। আমাদের জন্য কঠিন এক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ম্যাচটা হবে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন জনপ্রিয় অভিনেতা

করোনায় আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাজ্য চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা কেনেথ কলি। গত ৩০ জুন অ্যাশফোর্ডে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

অভিনেতার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার এজেন্ট জুলিয়ান ওউয়েন।
তিনি জানান, অভিনেতা কেনেথ কলি সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর হঠাৎ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ওউয়েন বলেন, ‘একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর দ্রুত তিনি কভিডে সংক্রমিত হন।
যা পরে নিউমোনিয়ায় রূপ নেয়। করোনা ও নিউমোনিয়ার কারণে মৃত্যুবরণ করেন কলি।’

১৯৩৭ সালের ৭ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে জন্মগ্রহণ করেন কেনেথ কেলি। ১৯৭০ সালে টেলিভিশনে অভিনয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখা কেনেথ ১৯৮০ সালের ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান।
১৯৮৩ সালের ‘রিটার্ন অব দ্য জেডি’ সিনেমায় অ্যাডমিরাল পিয়েট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তারকা খ্যাতি পান।

কেনেথ কোলি দীর্ঘ ছয় দশকের অভিনয়জীবনে একাধারে ব্রিটিশ চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চে অভিনয় করে গেছেন। ‘দ্য জোকার’, ‘পারফরমেন্স’, ‘দ্য মিউজিক লাভারস’, ‘ফাইয়ার ফক্স’, ‘এ সামার স্টোরি’, ‘দ্য রেইনবো’, ‘দ্য লাস্ট আইসল্যান্ড’, ‘স্যাডো রান’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গ্রিটিংস’ সিনেমাটি পরিচালনা করেন।