মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

শৃঙ্খলা মেনে চললে দেশই লাভবান হবে

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, শুধু ভালো ইঞ্জিনিয়ার নয়, ভালো মানুষও হতে হবে। মানবিক হতে হবে। শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। তা হলেই দেশের উপকার হবে, উন্নতি হবে।
উন্নয়নের জন্য প্রকৌশল শিক্ষার গুরুত্ব অনেক।

গতকাল শনিবার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে তিন দিনব্যাপী তৃতীয় ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স (আইসিএমইএএস ২০২৫)’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে পুরস্কার দেন সেনাপ্রধান।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, যন্ত্রকৌশল ও অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স বিষয়ক এই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রুনাই, মিসর, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, জাপান, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর এবং চীন আমিরাতের খ্যাতনামা গবেষক ও পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধান অতিথি হিসেবে সেরা প্রবন্ধ উপস্থাপনকারীদের পুরস্কৃত করেন। সম্মেলনে যন্ত্রকৌশল, উৎপাদন প্রকৌশল, অ্যারোনটিক্যাল ও নেভাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রয়োগিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা যেমন- উৎপাদন প্রকৌশল, নবায়নযোগ্য শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, তাপ প্রকৌশল, মহাকাশ ও অ্যাভিওনিক্স, অ্যারোডাইনামিক্স, হাইড্রোডাইনামিক্স, কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড ডাইনামিক্স, ডিজাইন ও উৎপাদন, মেকাট্রনিক্স, রোবোটিক্স ইত্যাদি বিষয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা, প্রবন্ধ উপস্থাপন ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির সুযোগ হয়েছে, যা ভবিষ্যতে যন্ত্রকৌশল ও প্রয়োগিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে অলংকৃত করেন।

ইসরায়েলি হামলায় এক দিনে আরো ১১৬ ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকাজুড়ে হামলা অব্যাহত রেখেছে। শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া একাধিক হামলায় অন্তত ১১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণকেন্দ্রের সামনে খাদ্যের জন্য অপেক্ষা করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে।

এদিকে ইসরায়েলের অবরোধ ও সহিংসতার মধ্যে গাজায় এক নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে দুর্ভিক্ষে।
মাত্র ৩৫ দিন বয়সী এই শিশু গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু সালমিয়া। শনিবার হাসপাতালটিতে আরো এক ব্যক্তি একইভাবে অপুষ্টিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে রেকর্ডসংখ্যক ক্ষুধার্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং অবস্থা চরম সংকটময়। তারা আরো জানায়, গাজায় প্রায় ১৭ হাজার শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সহিংসতাকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং অবিলম্বে গাজায় অবরোধ তুলে দিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা

শাহজালালে ১৫৭৭ গ্রাম স্বর্ণসহ ২ চোরাকারবারি আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ হাজার ৫৭৭ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে এপিবিএনের অপারেশনাল কমান্ডার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আটকরা হলেন মো. শরীফুল আলম (৩০) ও মো. জুবায়ের (৩৬)।

অপারেশনাল কমান্ডার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, শনিবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে বিমানবন্দরের আগমনি টার্মিনাল ১ ও ২ নম্বর ক্যানোপির মাঝামাঝি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
এ সময় তারা একটি সিলভার রঙের প্রাইভেটকারে করে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের থামিয়ে তল্লাশি করে। সে সময় প্রাইভেটকারের টুলবক্স থেকে ১৩টি কফি কালারের ছোট ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ১ হাজার ৫৭৭ গ্রাম ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার স্বর্ণালংকারের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০ টাকা।

জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত এবং বিদেশি যাত্রীদের কাছ থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করে ‘রিসিভার’ হিসেবে কাজ করত।
তারা বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এই সোনা বাংলাদেশে আনত।
এই ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ২৫-বি (১)(বি)/২৫-ডি ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অপারেশনাল কমান্ডার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, বিমানবন্দরে চোরাচালান রোধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এমন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণ চোরাচালানের হার কিছুটা বেড়েছে। তবে এসব অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত।

আলহামদুলিল্লাহ, এখন অনেকটাই সুস্থ আছি : জামায়াত আমির

অসুস্থতা কাটিয়ে বাসায় ফিরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর শনিবার (১৯ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

ডা. শফিকুর রহমান সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যারা তার খোঁজখবর নিয়েছেন ও সুস্থতা কামনায় দোয়া করেছেন। হঠাৎ অসুস্থতার কারণে পূর্বঘোষিত এক সমাবেশে উপস্থিত হতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি তার পোস্টে লিখেন— আলহামদুলিল্লাহ। এখন আমি অনেকটাই সুস্থ। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিশ্রামের জন্য বাসায় এসেছি।
আমার এ সাময়িক অসুস্থতার কারণে আজকের সমাবেশে যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
এটি আমার ইচ্ছাকৃত নয়। মহান আল্লাহ নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোনো কল্যাণ রেখেছেন।
অসুস্থ হওয়ার পরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দেশ-বিদেশে অনেকেই খোঁজখবর নিয়েছেন ও দোয়া করেছেন।

হাসপাতালে স্বল্প সময়ে থাকাকালীন বিএনপি মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জনাব শফিকুল আলম, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদসহ নেতৃবৃন্দর একটি টিম, খেলাফত মজলিসের আমীর হযরত মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আব্দুল কাদের এবং খেলাফত মজলিসের অন্যতম সিনিয়র নেতা জনাব আহমদ আলী কাসেমী, খেলাফত আন্দোলনের সিপি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ তারাও সরাসরি খোঁজখবর নিয়েছেন।

দেশ-বিদেশে অসংখ্য সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, এমনকি বাংলাদেশীদের বাহিরেও অনেকেই খোঁজখবর নিয়েছেন। সরকারের বিভিন্ন মাননীয় উপদেষ্টাসহ আরো অনেকেই খোঁজখবর নিয়েছেন। আমি তাদের সকলের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। দোয়ার জন্য ঋণী। তাদের এ ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রতিদান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সকলকে যেন দান করেন।

রাব্বুল আলামিন তার এ গোলামকে বাকি জিন্দেগি তার পছন্দমত মানবতার জন্য কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন

ভুল সিদ্ধান্তে যেন ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের সুযোগ না পায় : তারেক রহমান

অন্তর্বর্তী সরকার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কি না- এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্বাচনের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। সুতরাং আপনাদের আমাদের সবার কোনো আবেগ তাড়িত হয়ে কিংবা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ভবিষ্যতে আর যাতে কোনো চরমপন্থা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের সুযোগ না পায়- এ জন্য মানুষকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
’

শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর এক হোটেলে ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান ও শহীদদের স্মরণে’ শীর্ষক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। যুক্তরাজ্য থেকে অনলাইনে স্মরণসভায় যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

স্মরণসভায় তরেক রহমান বলেন, ‘কারও রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণের একমাত্র মাধ্যম হওয়া উচিত জনগণের রায়। রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু নৃশংস ঘটনা অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। আশা করি, তারা আরও স্বচ্ছ ও সাহসী ভূমিকা রাখবে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলগুলো তাদের পাশে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন, ২০২৪ সালের শহীদরাও তেমনই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ১৬ জুলাইয়ের পর আর শুধু কোটার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তখন বিশ্বাস জন্মেছিল, মাফিয়া সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার। সেই বিশ্বাস থেকেই গণতান্ত্রিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে অংশ নেয়। এই আন্দোলন যেন একক দলের বলে পরিচিত না হয়, সেটি আমরা নিশ্চিত করেছি।’

তরেক রহমান আরও বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে শহীদরা জাতির গৌরব।
তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মধ্য দিয়েই তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব। আর তা শুরু হবে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। সেজন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষ তার পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে।’

স্মরণসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখানে মঈন খান বলেছেন সংগ্রাম শেষ হয়নি। সামনে গণতন্ত্রের যে সংকট দেখা যাচ্ছে সেই সংকট থেকে উত্তরণ করতে হলে আমাদের অনেক সজাগ-সর্তক থাকতে হবে। আজ গণতন্ত্র উত্তরণের যে স্বপ্ন আমাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের আরও সজাগ হয়ে, আরও সর্তকতার সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য কাজ করতে হবে।

অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলাম মিথিলের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, বিএনপির জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি পালন কমিটির আহ্বায়ক এবং দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবু হোরায়রা, গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজনরা সহ আরও অনেকে।

নতুন সংবিধানে সকল জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা হবে : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৭২ এর সংবিধান মুজিববাদী সংবিধানে সকল জাতিগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা করা হয়নি। পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ে জাতিগত বিভাজন করে রাখা হয়েছে। নতুন সংবিধানে সকল জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা হবে। মুজিববাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে এনসিপি।

আজ শনিবার রাত পৌনে ৯ টায় বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সামনে এনসিপির পথসভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কার, দেশ পুনর্গঠন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রীতি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে এনসিপি।

এতে আরো বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বান্দরবান জেলার প্রধান সমন্বয়ক মো. শহীদুর রহমান সোহেল প্রমুখ।

পিআর পিআর করে সমাবেশ করছে একটি দল : সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা হয়নি, এখনই পিআর পিআর করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করছে একটি দল।’

শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ও গুজবের রাজনীতি’ বিষয়ক সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ইলেকট্রনিকস ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) যেখানে ভোট দিতে অভ্যস্ত না জনগণ, সে ক্ষেত্রে পিআর পদ্ধতিতে আদৌও সরকার গঠন সম্ভব কি না, এমন প্রশ্ন রেখে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে নির্বাচনী এলাকা ঘোষণা করা হলে যারা একটা সিট পাবে, তারাই পিআর পিআর করে চিল্লাছেন।’

গণ-অভ্যুত্থানকে টিকিয়ে রাখতে নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে সবাই এক ছিলাম, এখন সবাই আলাদা হয়ে গেলাম।
জামায়াত-বিএনপি-এনসিপি বিভক্ত হয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কয়েকটি সিটের আশায় রাজনৈতিক ক্ষুদ্র স্বার্থ না ছাড়লে দেশের বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়। আর যাতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান না হয় সেদিকে সব রাজনৈতিক দলকে সোচ্চার হতে হবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন যত সামনে আসবে, গুজব ও অপপ্রচার তত বেড়ে যাবে।
আসন্ন নির্বাচনে এআই ও গুজব মোকাবেলা না করতে পারলে নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে।’

নতুন জুটিতে বলিউড মাত, রেকর্ড গড়ল ‘সাইয়ারা’

মোহিত সুরি পরিচালিত রোমান্টিক ছবি ‘সাইয়ারা’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয়েছে নতুন জুটি আহান পান্ডে ও অনীত পাড্ডার। গতকাল শুক্রবার মুক্তি পাওয়া এ ছবি রীতিমতো রেকর্ড গড়ে ফেলেছে।

অনেক দিন ধরে মুক্তি পেতে যাওয়া অ্যাকশন সিনেমার বাইরে গিয়ে একদমই প্রেমের গল্পের এই ছবি দেখ মুগ্ধ দর্শকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সবখানে দেখা যাচ্ছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া।

অভিষেক ছবিতেই বাজিমাত করেছেন নতুন মুখ আহান পান্ডে। অন্যদিকে অনীত পাড্ডা একেবারে নতুন না হলেও মূলধারার সিনেমায় এটাই তার বড় সুযোগ। এর আগে তিনি কাজলের সঙ্গে ‘সালাম ভেঙ্কি’ ও ‘বিগ গার্লস ডোন্ট ক্রাই’ সিরিজে অভিনয় করেছেন। এই জুটিকে আপনমনেই গ্রহণ করেছেন দর্শক।

বক্স অফিস রিপোর্ট বলছে, ‘সাইয়ারা’ প্রথম দিনেই আয় করেছে প্রায় ২০ কোটি রুপি। ৪৫ কোটি বাজেটের এই ছবির প্রথম দিনের আয়কে বলিউড বিশ্লেষকেরা ‘ব্যতিক্রমী’ বলছেন। এর মাধ্যমে আহান গড়েছেন এমন এক রেকর্ড, যা গত ১৫ বছরে আর কোনো নতুন অভিনেতা পারেননি।

স্টারকিড হয়েও যারা এর আগে বড় পর্দায় অভিষেক করেছেন, তাদের প্রায় সবাই প্রথম দিন দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছেন।
যেমন আমির খানের ছেলে জুনাইদ ও শ্রীদেবীর কন্যা খুশি কাপুরের ছবি ‘লাভইয়াপা’ আয় করেছিল মাত্র ১ দশমিক ১৫ কোটি রুপি। রাভিনা ট্যান্ডনের মেয়ে রাশা থাডানির ‘আজাদ’ আয় করে ১ দশমিক ৫ কোটি। সঞ্জয় কাপুরের মেয়ে শানায়ার ‘আখোঁ কী গুস্তাখিয়াঁ’ তো প্রথম দিনে আয় করেছে মাত্র ৩০ লাখ রুপি।

সেই তুলনায় ‘সাইয়ারা’ অনেক দূর এগিয়ে। এমনকি অনন্যা পান্ডের অভিষেক ছবি ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার ২’ প্রথম দিন আয় করেছিল ১২ দশমিক ৬ কোটি, আর জাহ্নবী কাপুরের ‘ধড়ক’ ৮ দশমিক ৭১ কোটি রুপি।

২০২৫ সালের হিসেবে ‘সাইয়ারা’ এখন পর্যন্ত ওপেনিং ডে–তে চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি। এর আগে আছে ভিকি কৌশলের ‘ছাভা’, সালমান খানের ‘সিকান্দার’ আর অক্ষয় কুমারের ‘হাউসফুল ৫’।

এই ছবির মাধ্যমে পরিচালক মোহিত সুরিও পেয়েছেন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ওপেনিং। তার আগের সর্বোচ্চ ছিল ‘এক ভিলেন’–এর (১৭ কোটি)। শুরুটা যেভাবে হয়েছে, তাতে ‘সাইয়ারা’ যে আরও অনেক রেকর্ড ভাঙতে চলেছে, তা বলা বাহুল্য।

২৪তম ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি শুরু

আসছে বছরের জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৪তম আসরের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

এবারের উৎসবে থাকছে চতুর্থবারের মতো ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট স্ক্রিনপ্লে ল্যাব’ প্রজেক্ট। এতে সাবমিশন ডেডলাইন ৩১ জুলাই পর্যন্ত। চলচ্চিত্র নির্মাতা আকা রেজা গালিব ও চলচ্চিত্র সমালোচক ও চিত্রনাট্যকার সাদিয়া খালিদ রীতির তত্ত্বাবধানে পুরো ল্যাবটি ৪ দিনব্যাপী হবে।

এশিয়া মহাদেশের যেকোনো ফিল্মমেকার তার প্রজেক্ট জমা দিতে পারবেন এই ল্যাবে। সেরা ১০টি প্রজেক্ট উৎসব চলাকালীন অনলাইনে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মেন্টরদের দ্বারা গ্রুমিং হওয়ার সুযোগ পাবেন। সেরা ৩টি প্রজেক্ট পাবে যথাক্রমে ৫ লাখ, ৩ লাখ ও ২ লাখ নগদ অর্থ পুরস্কার। পুরস্কারের অর্থটি স্ক্রিনপ্লে ডেভেলপমেন্ট ফান্ড হিসেবে প্রদান করা হবে।
এমনটাই জানান উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল।

এবারের আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গোটা বিশ্ব থেকে জমা পড়া অসংখ্য ছবি থেকে দুই-আড়াই শ বাছাই করা বেশ কঠিন বিষয়। এর সঙ্গে শতাধিক বিদেশি প্রতিনিধি, দেশি অতিথি, সাংবাদিক এবং দর্শক ছাড়াও আমাদের ভেন্যু, নিরাপত্তা, আবাসন অনেক কিছু নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। বলতে পারেন এখন থেকেই আমরা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি, যেন আগামী উৎসবটা অতীতের চেয়েও সুন্দর হয়।
’

রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৪তম আসরের পর্দা উঠবে ১০ জানুয়ারি, ২০২৬। পর্দা নামবে ১৮ জানুয়ারি।

প্রতিবারের মতো এবারও উৎসবের অন্যতম অংশ হয়ে থাকছে চলচ্চিত্রে নারীবিষয়ক দ্বাদশ সম্মেলন।

সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১৭৬১ জন

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আরও ১০৪৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৭০৭ জন।

শনিবার (১৯ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ১০৪৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্য ঘটনায় ৭০৭ জন। মোট গ্রেপ্তার হয়েছে ১৭৫১ জন।

অভিযানে বিদেশি রিভলবার ৩টি, দেশীয় একনলা বন্দুক (এলজি) ১টি, দেশীয় একনলা বন্দুক ১টি, দেশীয় ওয়ান শুটারগান ১টি, দেশীয় সাটারগান ১টি, ম্যগাজিন ১টি, কার্তুজ ১টি, গুলি ৭৪ রাউন্ড, হাঁসুয়া ১১টি, ছুরি ৩টি, রামদা ৩টি, এসএস স্টিলের ছোরা ৪টি ও চাপাতি ১টি উদ্ধার করা হয়েছে।