মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

শেখ হাসিনা জাতির কলঙ্ক, তাকে ক্ষমা নয় : মির্জা ফখরুল

শেখ হাসিনা জাতির কলঙ্ক, তাকে ক্ষমা নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে কখনো ক্ষমা করা যাবে না।’

আজ রবিবার রাজধানীর জিয়া উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ও আমরা বিএনপি পরিবারের যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‌‘একজন শহীদের মা, কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, যে ছেলেটিকে দেখে আমি স্বপ্ন দেখেছি, স্বপ্ন দেখেছি আমার ভবিষ্যতের; সেই ছেলেটিকে ওরা কেড়ে নিয়ে গেছে।
কেড়ে নিয়ে গেছে একটা নিদারুণ ভয়াবহ মর্মান্তিক পাশবিকভাবে। তাকে গুলি করে মেরেছে, পড়ে গেছে, এরপর একটা ভ্যানের মধ্যে উঠিয়েছে, বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে সেটা না দেখে আরো ৬-৭টা লাশের সঙ্গে তাকে পুড়িয়ে দিল। চিন্তা করতে পারেন? একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক আমরা!’

তিনি বলেন, ‘আমরা ৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম একটা স্বাধীন দেশের জন্য। সেই দেশের প্রশাসন, যারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে, যাদের বেতন আসে আমাদের প্রত্যেকের ট্যাক্সের টাকা থেকে।
তারা আজ আমার ছেলেকে হত্যা করছে, পুড়িয়ে মারছে। কী নির্মম, নৃশংস, অমানবিক। এ জন্য হাসিনাকে কখনো ক্ষমা করা যাবে না।’

জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারদের জন্য ফান্ড তৈরি করবে বিএনপি উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, গতকালও বলেছি, আজকেও বলেছি, নির্বাচন হবেই।
নির্বাচনে কে দায়িত্ব পাবে বা না পাবে, সেটা পরের কথা। আজকেই আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বলব, দলের পক্ষ থেকে একটা ফান্ড করব। যাতে আহত ও শহীদ পরিবারদের পুনর্বাসন করা যায়। ইতোমধ্য আমাদের ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ থেকে জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে তারা দাঁড়িয়েছে।

৩০ শতাংশ বেতন কমিয়ে বার্সায় রাশফোর্ড

কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর অবশেষে মার্কাস রাশফোর্ডকে দলে টানতে যাচ্ছে বার্সেলোনা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে মৌসুমব্যাপী ধারের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত করেছে কাতালান ক্লাবটি। মৌসুমের শেষে স্থায়ীভাবে চুক্তির সুযোগও থাকছে বার্সার হাতে।

স্প্যানিশ পত্রিকা মুন্দো দেপোর্তিভোর খবরে জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সী রাশফোর্ড রোববার অথবা সোমবার বার্সেলোনায় মেডিক্যাল সম্পন্ন করবেন।
এরপর মঙ্গলবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাতালান ক্লাবের নতুন সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

প্রথম ধাপে লোন চুক্তিতে বার্সায় যাচ্ছেন রাশফোর্ড। তবে এতে একটি উল্লেখযোগ্য শর্ত রয়েছে। স্পোর্ট জানিয়েছে, বার্সেলোনা চাইলে আগামী গ্রীষ্মে মাত্র ৩৫ মিলিয়ন ইউরোতে তাকে স্থায়ীভাবে দলে টানতে পারবে।
বর্তমান ট্রান্সফার মার্কেটের প্রেক্ষাপটে এই অঙ্ককে একেবারেই সমস্যার মনে করছে না বার্সা।

এই চুক্তির অধীনে পুরো মৌসুমে রাশফোর্ডের বেতন বার্সেলোনাকেই দিতে হবে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এতে কোনো অর্থ দিচ্ছে না। তবে রাশফোর্ড নিজেই এই চুক্তিকে সহজ করে দিয়েছেন।
তিনি নিজের বাৎসরিক ১৮ মিলিয়ন ইউরো বেতনের ৩০ শতাংশ ছাড় দিয়ে একরকম স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে দিয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, র‍্যাশফোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি শুধু বার্সেলোনাতেই যেতে চান। যদিও বার্সেলোনার প্রথম পছন্দ ছিলেন না তিনি। লিভারপুলের দাবি করা মোটা অঙ্কের ট্রান্সফার ফির কারণে লুইস দিয়াজকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর দ্রুত রাশফোর্ডকে নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছায় বার্সেলোনা।

ইউনাইটেডে রাশফোর্ড বছরে প্রায় ১৮ মিলিয়ন ইউরো উপার্জন করতেন।
বার্সেলোনায় আসার পর তার বাৎসরিক বেতন হবে প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউরো।

লা লিগার নতুন মৌসুম শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। তার আগেই রাশফোর্ডকে নিবন্ধন করতে চায় বার্সেলোনা। নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হলে বার্সার জার্সিতে মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে।

পাকিস্তানকে হারাতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১১১

মিরপুরে টস জিতে লিটন দাসের ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটা যথার্থই প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশি বোলাররা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে ১১০ রানে অলআউট করে।

আজ ইনিংসের শুরুর ওভারেই দুর্দান্ত এক সুযোগ পায় বাংলাদশ। তবে শেখ মেহেদী সুযোগ এনে দিলেও পাকিস্তানের ওপেনার ফখর জামানের সহজ ক্যাচটা লুফে নিতে পারেননি তাসকিন আহমেদ।
সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত অবশ্য ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই করেছেন বাংলাদেশি পেসার।

পাকিস্তানের আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবকে (৬) নিজের প্রথম ওভারেই আউট করেন তাসকিন। তার সঙ্গে পরে উইকেট উদযাপনে যোগ দেন অন্যরাও। তাতে দলীয় ৪৬ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান।
সফরকারীদের স্কোর তখন এক শ ছাড়িয়ে যেতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা ছিল।

অবশ্য ম্যাচে দুইবার জীবন পাওয়া ফখর তখনো এক প্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়েছিলেন। সেই কাঁটা দলীয় ৭০ রানের সময় সরানো সম্ভব হয় রান আউটের ফাঁদে, তাসকিন-লিটনের যুগলবন্দিতে। তাতে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ব্যক্তিগত ৪৪ রানে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন পাকিস্তানের ওপেনার।

তবে শেষ দিকে সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে পাকিস্তানকে ১১০ রানের সংগ্রহ এনে দেন খুশদিল শাহ ও আব্বাস আফ্রিদি, ছোট্ট দুটি ইনিংস খেলে। খুশদিলের ১৭ রানের বিপরীতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রানের ইনিংস খেলেন আব্বাস। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ টি উইকেট নিয়েছেন তাসকিন।

উচ্চকক্ষের বিষয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত : আলী রীয়াজ

আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে উচ্চকক্ষের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ। তিন বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চকক্ষের বিষয়ে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে একটা সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে। আজকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান নিয়ে আলোচনা হবে।

রবিবার সকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে তিনি এ কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সনদ প্রস্তুত করতে কাজ করছে কমিশন। অনেকগুলো বিষয়ে একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো।

তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ চারটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে। সেগুলোর সঙ্গে কমিশনের প্রস্তাবসহ আলোচনা করা হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারে বিষয়ে আজ সবাই একমত হতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হ্যাটট্রিক জয় হামজাদের

নতুন ম্যানেজার মার্তি সিফুয়েন্তেসের অধীনে প্রথমবারের মতো মাঠে নামল লিস্টার সিটি। হাঙ্গেরির শীর্ষ লিগ ক্লাব জেটিই-র বিপক্ষে প্রাক-মৌসুমের তৃতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ১-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছে হামজা চৌধুরীরা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে সিফুয়েন্তেসের দল।

প্রথমার্ধে মাঠে নামা একাদশ কিছুটা চমকপ্রদ হলেও, পুরনো স্টাইলে ৪-২-৩-১ ফরমেশনেই খেলেছে লিস্টার।
রক্ষণে ছিলেন কোনার কডি ও ভাউট ফেস। গোলপোস্টে দায়িত্ব পালন করেন জ্যাকব স্টোলারচিক। ফুল-ব্যাক হিসেবে বাঁ দিক সামলান লুক থমাস আর ডান পাশে খেলেন হামজা চৌধুরী। মিডফিল্ডে হ্যারি উইংস ও অলিভার স্কিপের সঙ্গে আক্রমণে ছিলেন বিলাল এল খানুস, জেরেমি মঙ্গা, ম্যাকএটিয়ার ও প্যাটসন ডাকা।

তীব্র গরম (৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও উচ্চ আর্দ্রতার মধ্যে খেলায় আগ্রাসী প্রেসিংয়ে সমস্যা হলেও লিস্টার নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল বল। যদিও প্রথমার্ধে তারা খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। উইংস-স্কিপ জুটিও মাঝমাঠে খুব একটা দাপট দেখাতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে লেস্টার একসঙ্গে ১০টি পরিবর্তন আনে।
রক্ষণে আসেন রিকার্দো পেরেইরা, জাস্টিন, ওকোলি ও ভেস্টারগার্ড। মিডফিল্ড সামলান এনডিডি ও সুমারে। তাদের সামনে খেলেন তরুণ উইল আলভেস। আক্রমণভাগে ছিলেন স্টেফি মাভিডিডি, জর্ডান আায়েউ ও জ্যাক ইভানস।

দ্বিতীয়ার্ধে একেবারে ভিন্ন রূপে দেখা দেয় লেস্টার।
জোরালো প্রেসিং ও সুচিন্তিত পাসিংয়ে তারা প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। ভেস্টারগার্ড ও ওকোলির দুর্দান্ত রক্ষণ গঠনের পাশাপাশি, স্টেফি মাভিডিডির গতি ও চ্যালেঞ্জিং খেলা নজর কাড়ে।

৭০ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন জর্ডান আায়েউ। বক্সের মধ্যে থেকে নিখুঁত ফিনিশে বল জালে পাঠিয়ে দলকে জয় এনে দেন এই ঘানিয়ান ফরোয়ার্ড। আগের ম্যাচেও (ওএইচ লুভেনের বিপক্ষে) গোল করেছিলেন আায়েউ, তিনি যে দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন, তা আরেকবার প্রমাণ করলেন।

এই ম্যাচ দিয়ে প্রাক-মৌসুমে টানা তিন ম্যাচে জয় পেল লিস্টার। ২৫ জুলাই একই দিনে দুইটি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে তাদের—প্রতিপক্ষ লভিভ ও কোলন। সেখানে কোন ম্যাচে মূল একাদশ দেখা যাবে, তা এখনই বলা কঠিন।

নাটকীয় ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জার্মানি

উয়েফা নারী ইউরোতে নাটকীয় এক ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে জার্মানি। শুক্রবার রাতে সুইস শহর ব্যাসেলের সেন্ট জ্যাকব পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৬-৫ ব্যবধানে জয় পায় জার্মানরা। ম্যাচের নায়ক জার্মান গোলরক্ষক আন-ক্যাথরিন বার্গার। দুটি পেনাল্টি সেভ করার পাশাপাশি নিজেও একবার জালে বল পাঠান এই গোলরক্ষক।

১৩ মিনিটেই ক্যাথরিন হেনড্রিখ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় জার্মানি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ফ্রান্সের গ্রেস গেইয়োরো। তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি জার্মানির মেয়েরা। ২৩ মিনিটে ক্লারা বুয়েলের কর্নার থেকে হেডে গোল করে সমতা ফেরান সজোকে নিউসকেন।

ম্যাচে ফ্রান্সের দুটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। একবার ডেলফিন ক্যাসকারিনো এবং আরেকবার গেইয়োরোর শট জালে পৌঁছালেও লাইনসম্যানের পতাকায় সেই উদযাপন মাটি হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে নিউসকেনের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন ফরাসি গোলকিপার পলিন পেইরো ম্যাগনিন। অতিরিক্ত সময়েও দু’দল গোল করতে ব্যর্থ হয়।
তবে নাটকীয়তা বাড়ে পেনাল্টি শুটআউটে।

ফ্রান্সের দুই খেলোয়াড় আমেল মাজরি ও অ্যালিস সোমবাথের শট ঠেকিয়ে দিয়ে নায়িকা বনে যান জার্মান গোলরক্ষক বার্গার। তার এই কৃতিত্বে সেমিফাইনালে উঠলো জার্মানি। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।

রদ্রিগোকে দলে টানতে চেয়েছিল বার্সা

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর মধ্যে খেলোয়াড় কেনাবেচা প্রায় অসম্ভব বলেই ধরা হয়। কিন্তু চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোতে এমন এক বিস্ময়কর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রদ্রিগোকে নাকি দলে নিতে চেয়েছিল বার্সেলোনা!

স্প্যানিশ গণমাধ্যম রিয়াল মাদ্রিদ কনফিডেনসিয়াল-এর বরাতে জানা গেছে, রদ্রিগোর প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিল কাতালান জায়ান্টরা। নিকো উইলিয়ামসকে পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর বিকল্প খুঁজছিল ক্লাবটি।
তখনই রদ্রিগোর নাম আসে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে। এমনকি ক্লাব সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাও নাকি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে রদ্রিগোর পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন।

তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় গড়ায়নি। রদ্রিগোর ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও, তিনি নিজে কোনোভাবেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবে যাওয়ার কথা ভাবেননি।

গত মৌসুমে ১৪ গোল ও ১১ অ্যাসিস্ট করা এই ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু সমালোচনা থাকলেও, রিয়ালে তার প্রতি আস্থা রয়েছে। ক্লাবের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক, এবং ভক্তদের ভালোবাসা, সব মিলিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে পা রাখাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবেই দেখেন রদ্রিগো।

রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকেও বিশ্বাস করা হচ্ছে, যদি রদ্রিগো ভবিষ্যতে ক্লাব ছাড়েনও, তবে তিনি কখনোই বার্সেলোনাকে বেছে নেবেন না।

প্রধান উপদেষ্টার সহমর্মিতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে : জামায়াত আমির

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সহমর্মিতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রবিবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।

তিনি লিখেছেন, ‘গতকাল (শনিবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সভা মঞ্চে অসুস্থ হওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা আমার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং তার প্রেস সচিবকে হাসপাতালেও পাঠিয়েছেন।’

‘আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
তার এই সহমর্মিতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহ তাঁকে উত্তম জাযা দান করুন। আমীন।’

প্রসঙ্গত, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতকাল জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মঞ্চে পড়ে যান।
কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় উঠে বক্তব্য শুরু করেন। কিন্তু দ্বিতীয়বারের মতো আবারও মঞ্চে পড়ে যান। পরে তিনি বসে বক্তব্য দিতে থাকেন। সমাবেশ শেষে তাঁকে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তার অসুস্থতার খবরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দেশ-বিদেশে অনেকেই খোঁজখবর নিয়েছেন ও দোয়া করেছেন। হাসপাতালে স্বল্প সময়ে থাকাকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদসহ নেতৃবৃন্দর একটি টিম, খেলাফত মজলিসের আমির হযরত মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আব্দুল কাদের এবং খেলাফত মজলিসের অন্যতম সিনিয়র নেতা আহমদ আলী কাসেমী, খেলাফত আন্দোলন, এনসিপি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ সরাসরি খোঁজখবর নিয়েছেন।

তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পাইলটকে দায়ী করায় ক্ষুব্ধ ভারতীয় সংস্থা

তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অনুমানের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করে বিতর্কে জড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ ও ‘রয়টার্স’। আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটদের দায়ী করে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে ভারতের পাইলটদের সংগঠন ‘দ্য ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটস’ (এফআইপি)।

সংগঠনের দাবি, মৃত পাইলটদের অসম্মান ও তাদের পরিবারের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাব দেখিয়েছে সংবাদমাধ্যম দুটি। ফলে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ নিয়ে পাঠানো হয়েছে আইনি নোটিশও।

শনিবার এক বিবৃতিতে এফআইপি-র প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন সিএস রণধাওয়া জানান, এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। অথচ সংবাদমাধ্যমগুলোর আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারাই যেন তদন্তকারী সংস্থা!

তার অভিযোগ, ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ ও ‘রয়টার্স’ যাচাই-বাছাই না করেই ককপিটের কথোপকথনকে ভিত্তি করে পাইলটদের দায়ী করেছে।

১২ জুন আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রায় ২৬০ জন।
সেই দুর্ঘটনা ঘিরে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের বক্তব্য, পাইলটদের কোনো ভুল হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। এর পরও বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো পাইলটদের দায়ী করে ‘মনগড়া গল্প’ পরিবেশন করেছে বলে অভিযোগ এফআইপি-র।

দুর্ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর ‘অনুমাননির্ভর’ প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি)।
সংস্থাটির চেয়ারপার্সন জেনিফার হোমেন্ডি বলেন, এ রকম উচ্চমাত্রার দুর্ঘটনার তদন্ত সময়সাপেক্ষ। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যমগুলোর এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া অনভিপ্রেত।

এনটিএসবি-র অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে পাইলটদের সংগঠন। রণধাওয়া বলেন, আমরা কৃতজ্ঞ যে, এনটিএসবি এই অবৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছে। এটি পশ্চিমা মিডিয়ায় ভারতীয় পাইলটদের ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি দূর করতে সাহায্য করবে।

সংগঠনের তরফে পাঠানো আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, অনুমানের ভিত্তিতে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন শুধু ভুল নয়, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে। এ ধরনের সাংবাদিকতা শুধু পেশাগত দায়িত্বহীনতাই নয়, মৃতদের অপমান এবং তাদের পরিবারের প্রতি অবজ্ঞাও।

সঙ্গে যোগ করা হয়েছে, এমন কাণ্ড পুরো পাইলট সমাজের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের প্রতিবেদন তাদের মনোবলেও আঘাত হানছে।

এফআইপি-র আহ্বান, তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো যেন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অনুমাননির্ভর সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকে। আর ইতিমধ্যে যারা এই ধরনের প্রতিবেদন ছড়িয়েছে, তাদের কাছে সংগঠনের সরাসরি দাবি—প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, না হলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের সুযোগ যেন না পায় : তারেক রহমা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন আসন্ন, এ অবস্থায় কোনো আবেগতাড়িত বা কোনো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে যেন চরমপন্থা কিংবা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা বক্তব্য দেন।

তারেক রহমান বলেন, কারো রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণের প্রধান মাধ্যম হওয়া দরকার জনগণের রায়।
রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কি না- সেই প্রশ্ন তৈরি হয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে কিছু নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতাকে ক্ষেত্রবিশেষে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরো স্বচ্ছ ও সাহসী ভূমিকা রাখবে।
গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলগুলো আপনাদের পাশে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ’৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে জনগণের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন, ’২৪ সালের শহীদরাও একইভাবে স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে থাকবেন। গত বছর কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলেও জুলাইয়ের ১৬ তারিখের পর তা আর কোটায় সীমাবদ্ধ ছিল না। মানুষের মনে চূড়ান্ত বিশ্বাস জন্মেছিল, মাফিয়া সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার।
সেই বিশ্বাস থেকেই সব গণতান্ত্রিক দল পরিকল্পনা করেছিল। এ আন্দোলন যাতে একক দলের আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি না পায়, সেটি নিশ্চিত করা হয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, ২০১৪ সালে কোটাব্যবস্থার সমালোচনা করেছি। গণ-অভ্যুত্থানে বীর শহীদরা জাতির গৌরব। শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার মধ্য দিয়ে তাদের প্রতি সম্মান জানানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তাদের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রথম শর্তই হলো জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা। যার জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যাতে মানুষ তার পছন্দের প্রার্থীকে সরাসরি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারে।

আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।