মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

বৃহস্পতিবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার মুদ্রানীতি বিবৃতি (এমপিএস) ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)।

এদিন ঢাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আনুষ্ঠানিকভাবে এই এমপিএস ঘোষণা করবেন।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় গভর্নর বর্তমান মুদ্রানীতির আওতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে বর্তমান এমপিএসের ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদসহ ব্যাংকের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।

যুক্ত হচ্ছে ৪৫ লাখ নতুন ভোটার, বাদ পড়ছে মৃত ২১ লাখ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ১০ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রায় ৪৫ লাখের বেশি নতুন ভোটার যুক্ত হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া তালিকা থেকে বাদ যাবে ২১ লাখ মৃত ভোটার।

ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, ‘১০ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে সেটা আগস্টের মধ্যে হবে কি না, এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’

তবে ইসি সূত্রে জানা গেছে, দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি ভোটার তালিকা আইন সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো একই বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে ইসি।

এর আগে গতানুগতি নিয়ম অনুযায়ী গত ২ জানুয়ারি খসড়া এবং ২ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে ইসি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা নতুন ভোটারদের নিয়ে দ্বিতীয়বার তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে।
এ তালিকায় ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারির আগে যাদের জন্ম, তাদেরকে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে আরেকবার সম্পূরক বা খসড়া তালিকা প্রকাশ হতে পারে। ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারির পর যাদের জন্ম এবং সেখানে চলতি বছরে তালিকা প্রকাশের সময়ে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদেরকে অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

ইসি সূত্র জানায়, আগামী ১০ আগস্ট উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকা নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তিনি নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে সংশোধনের আবেদন জানাবেন।
এই সময়ে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনও করা যাবে।

সূত্র জানায়, গত ২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিল ইসি। গত ২৫ মে পর্যন্ত হালনাগাদে মোট ৬৫ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৫ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন ৬১ লাখ ৮৮ হাজার ৪৩ জন। যার মধ্যে ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে জন্ম বা ভোটারযোগ্য ছিলেন কিন্তু ভোটার হননি এমন ৪৫ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৯ জন রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ৮২৮, নারী ২৬ লাখ ৩৭ হাজার ৮৫৭ ও ১৫৪ জন হিজড়া রয়েছেন। আর ২০০৭ সালের ২ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম এমন ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২০৪ জন ভোটার হওয়ার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ৮ হাজার ৩১৫, নারী ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬১ ও ২৮ জন হিজড়া রয়েছেন।

সূত্র আরো জানায়, এ সময় মৃত ভোটার কর্তনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ২১ লাখ ৭৬ হাজার ৮১৪টি। এর মধ্যে সার্ভারে কর্তন এন্ট্রি করা হয়েছে ২০ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫টি।

সংস্কার গভীর না হলে আবারও স্বৈরাচার আসতে পারে : প্রধান উপদেষ্টা

সংস্কার মানে শুধু কয়েকটা কাগজের সংস্কার নয়, মনের গভীরতর জায়গার সংস্কার করতে হবে। সংস্কার গভীর না হলে দেশে আবারও স্বৈরাচার আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জুলাই বিপ্লবের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশকে একেবারে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
শুধু উপরে একটি প্রলেপ দিয়ে নয়, গভীর থেকে পরিবর্তন আনতে হবে। সেই গভীরতম পরিবর্তন যদি না করি, যেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আজকে আমরা কথা বলছি, আবার ঘুরে ফিরে সে চলে আসবে, যতই আমরা সামাল দেই, যতই সংস্কার করি। আমাদের আরো গভীরের সংস্কার দরকার। এই সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণহত্যার বিচার এমনভাবে করা হবে যেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে কখনো নীরবতা দমন বা দেশের জনগণকে ধ্বংস করা না যায়।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সংস্কার কর্মসূচির পাশাপাশি আমরা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি। কিন্তু বিচার মানে শুধু শাস্তি নয়—বিচার মানে এই নিশ্চয়তা প্রদান করা যে রাষ্ট্রক্ষমতা আর কখনো জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে না।’

রাজনৈতিক ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য গড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই ঐকমত্য এমন একটি ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করবে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করে।
আমাদের লক্ষ্য একটাই—একটি বাংলাদেশ গঠন করা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক শান্তিতে, মর্যাদায়, গর্বে ও স্বাধীনতায় বাঁচতে পারে।’

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা সংকট পর্যন্ত, এমনকি গত বছরের জুলাই-আগস্টের সংকটকালীন সময়েও জাতিসংঘ সব সময় বাংলাদেশের পাশে ছিল বলেও উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
news_google_icon_128

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১৭১ অভিবাসী আটক

ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, ভিসা আইন অমান্য করা এবং পরিচয়পত্র না রাখার অভিযোগে মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুরের জালান মসজিদ ইন্ডিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ১৭১ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এক অভিযানে তাদের আটক করা হয়েছে। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট পরিচালক বাসরি ওথমান।

তিনি বলেছেন, ১৬০ কর্মকর্তা জালান মসজিদ ইন্ডিয়া এলাকায় যান।
সেখানে তারা ৭৫৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। যার মধ্যে ২৫৪ জন স্থানীয় বাসিন্দাও ছিলেন। এ ছাড়া ১৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালান তারা। তাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন অভিবাসন অপরাধে ১৭১ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।

তিনি আরো বলেন, আটক এড়াতে কিছু অভিবাসী দোকানের কাস্টমার সাজার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের এ চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়।

আটক সবাইকে সেলানগোরের বারানাংয়ের অস্থায়ী ইমিগ্রেশন ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটের তুলনায় সাজার হার কম : ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশে কর্মরত এসআইদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, বর্তমানে আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটের তুলনায় সাজার হার কম। এই হার বাড়াতে তদন্তের মান উন্নত করতে হবে। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা অভিজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বশীলতা, পেশাদারি ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিএমপিতে কর্মরত এসআইদের ব্রিফিং সেশন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তদন্ত প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, তদন্ত একটি জটিল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগতভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ নজর দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা পুলিশ বাহিনীর মেরুদণ্ড। পুলিশের সুনাম-দুর্নাম আপনাদের কাজের ওপর নির্ভর করে।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও তাদের সেবাদানে আপনাদের (এসআই) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) ফারুক আহমেদ এসআইদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তাই আপনাদেরও দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও সততা বজায় রাখতে হবে। নিজের আয়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে সংসার পরিচালনা করুন এবং পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন।
’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাকরিতে এসেছি জীবিকার জন্য, পরিবার ও সমাজের জন্য এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য। অন্যরা কী করছে তা না দেখে নিজেদের দায়িত্ব মনোযোগ দিয়ে পালন করতে হবে।’

ডিএমপিতে কর্মরত ২ হাজার ৩৪৪ জন এসআইর মধ্যে প্রথম ধাপে ৪৫০ জন এই ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।

নগরবাসীর জন্য পুলিশি সেবার মান আরও উন্নত করতে পর্যায়ক্রমে সব এসআই ও প্রবেশনার সাব-ইন্সপেক্টরদের ব্রিফিং দেবেন ডিএমপি কমিশনার।

বিচার ও সংস্কারের আগে নির্বাচন হলে বিপর্যয় ঘটতে পারে : জামায়াত আমির

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে আওয়ামী লীগ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আগে কোনো নির্বাচন হতে পারে না বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি প্রক্রিয়া সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আবারও জাতীয় বিপর্যয় ঘটতে পারে।’

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার আয়োজনে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণসভায়’ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, শহীদ পরিবারের সদস্যরা কোনো বিচার না দেখে নির্বাচনে আগ্রহী নন। তাদের বক্তব্য—‘যারা জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের মধ্যে অন্তত কয়েকজনের বিচার চোখে দেখতে চাই।’

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানে কিছু অপূর্ণতা ছিল, তা পূরণ করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ওপর অবিচার হয়েছে, আমাদের নেতাদের বিচারিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে—এমন বিচার আর দেখতে চাই না।
’

তিনি বলেন, ‘বিচার যেন শতভাগ স্বচ্ছ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে হয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেলে কেউই পার পাবেন না—এ বিশ্বাসই আমাদের।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা খুন করেছে, তারা যেন তাদের ন্যায্য শাস্তি পায় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হয়। এই প্রক্রিয়ায় দলের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
’

সরকার গঠনে সুযোগ পেলে কিংবা বিরোধী দলে থাকলেও জামায়াতের ভূমিকা হবে ‘স্পষ্ট, ন্যায়নিষ্ঠ ও অকুতোভয়’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ভয় করব না, শুধু আল্লাহকে। দায়বদ্ধ থাকব নিজের বিবেক ও দেশবাসীর কাছে। অন্য দলগুলো থেকেও একই প্রতিশ্রুতি আশা করি।’

তিনি বলেন, ‘কে সরকার গঠন করবে তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে যারাই আসুক, তারা যেন জাতির এই আমানত রক্ষা করেন।
আমাদের যেন কেউ বিশ্বাসঘাতক বলতে না পারে। সরকার ও বিচার বিভাগ আপসহীন থেকে চলবে—এই প্রত্যাশা করি।’

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও গাজায় যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না সৌদি আরব। এমন কথাই জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান।
এখন পর্যন্ত এটি সৌদি আরবের সবচেয়ে স্পষ্ট অবস্থান, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের শর্ত হিসেবে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নের কথা বলা হলো। সোমবার (২৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, জাতিসংঘের নিউইয়র্ক সদরদপ্তরে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারোরের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল।

এর আগে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ আয়োজনে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়ন নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স ফয়সাল বলেন, “রাজতন্ত্রের (সৌদি আরবের) জন্য ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।”

আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিনিময়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্তে সৌদি আরব কোনো উদ্যোগ নেবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, আজকে যে পরিষ্কার ঐক্যমতের বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা আগামীকালও থাকবে, সেই অবস্থান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে গতি তৈরি হয়েছে, সেটিই হয়তো সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের আলোচনা শুরু করতে সহায়ক হবে।”

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ নিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হতে পারে কেবল তখনই, যখন গাজায় চলমান সংঘাতের অবসান হবে এবং সেখানকার মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গাজায় মানুষ প্রতিনিয়ত মরছে, কষ্ট পাচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে সবকিছু— এমন পরিস্থিতিতে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ নিয়ে কথা বলার কোনও কারণ নেই, এর কোনো বিশ্বাসযোগ্যতাও নেই।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর আমাদের ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে কথা বলতে হবে। আর একবার সেটা অর্জিত হলে, তখন আমরা স্বাভাবিককরণের আলোচনা করতে পারব।”

বেইজিংয়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শহরের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এমন অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে ৮০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সরকারি বার্তাসংস্থা সিনহুয়া মঙ্গলবার জানিয়েছে, বেইজিংয়ের মিয়ুন জেলায় ২৮ জন এবং ইয়ানচিং জেলায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত প্রাণহানির এই সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত সপ্তাহান্ত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ সোমবার আরও তীব্র হয়। সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, বেইজিংয়ের উত্তরাঞ্চলে সর্বোচ্চ ৫৪৩ মিলিমিটার (২১.৩ ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা সিসিটিভি জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে ৮০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বহু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ১৩৬টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বেইজিংয়ে মঙ্গলবার সকালেই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু এলাকায় ৩০০ মিলিমিটার (১১.৮ ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

১৯৫৯ সালে নির্মিত বেইজিংয়ের মিয়ুন জেলার একটি জলাধারের পানি ধারণক্ষমতা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে পানি ছাড়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের সতর্ক করেছে, নিচু এলাকায় নদীগুলোর পানি বাড়বে এবং আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সোমবার রাতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে প্রাণহানি কমানো যায়। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে, স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, নির্মাণকাজ ও সব ধরনের আউটডোর পর্যটন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাজধানী বেইজিং থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের তাইশিতুন শহরে সোমবার রাস্তাগুলো কাদায় ভরে যায়। একইসঙ্গে সেখানে পানি জমে যায় আর অনেক গাছ উপড়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ঝুয়াং ঝেলিন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, “বন্যার পানি হঠাৎ করে চলে এলো। এত দ্রুত হঠাৎ করে পানি এলো যে কিছু বোঝার আগেই সব কিছু ডুবে গেল।”

সোমবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বেইজিংয়ের দক্ষিণে হেবেই প্রদেশে ভূমিধসে ৪ জন নিহত ও ৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

গাজায় আরও ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত, অনাহারে মৃত্যু আরও ১৪ জনের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ৮০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলের অবরোধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অনাহারে নতুন করে আরও ১৪ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন বলে জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

অনাহারে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন শিশু। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ক্রমবর্ধমান দুর্ভিক্ষে আরও ১৪ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করার পর অপুষ্টিজনিত কারণে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে, যাদের মধ্যে ৮৮ জনই শিশু।

সম্প্রতি গাজায় খাদ্য সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইসরায়েল পুরোপুরি অবরোধ আরোপ করে, যা মে মাসে আংশিক তুলে নেওয়া হলেও এখনও সীমিত পরিমাণে ত্রাণ ঢুকছে। জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর সতর্কতা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সাহায্য ঢুকতে পারছে না।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ–এর প্রধান ফিলিপ ল্যাজারিনি জানান, গাজায় অবস্থানরত তার সহকর্মীরা মানুষজনকে এমন অবস্থায় দেখছেন যেন তারা “না বেঁচে আছে, না মরেছে – যেন হাঁটতে থাকা লাশ”।

জাতিসংঘের একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, “শুধু ক্ষোভ বা নিন্দা জানানো যথেষ্ট নয়। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে, দুর্ভিক্ষ রোধ করতে হবে এবং বন্দিদের মুক্ত করতে হবে।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্কটল্যান্ড সফরে সাংবাদিকদের বলেন, গাজায় প্রকৃত অর্থেই দুর্ভিক্ষ চলছে এবং ইসরায়েল এ অবস্থার জন্য “বড় ধরনের দায়” বহন করে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আগের দিন বলেন, “গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই”। তবে সোমবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনিও স্বীকার করেন, গাজার পরিস্থিতি “কঠিন” এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল কাজ করছে।

ট্রাম্প জানান, গাজায় খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে “বাউন্ডারিবিহীন খাদ্য কেন্দ্র” স্থাপনের পরিকল্পনা আছে, যাতে সবার সহজে প্রবেশ নিশ্চিত হয়। এ কাজে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও কাজ করবে বলে জানান তিনি।

ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে, তারা গাজার কিছু অংশে হামলা স্থগিত রাখবে এবং নতুন করিডোর খুলবে যাতে ত্রাণ প্রবেশ বাড়ানো যায়। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সংস্থাটির মানবিক প্রধান বলেন, সাহায্যের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।

আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম জানান, ইসরায়েল যেসব ‘মানবিক বিরতি’র কথা বলছে, সেগুলো আসলে খুবই সীমিত এবং কয়েক ঘণ্টার জন্য হয়, যা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কার্যকর থাকে এবং এতে আন্তর্জাতিক কোনো তদারকি থাকে না।

এদিকে গাজায় শিশু খাদ্যের ঘাটতিও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গাজা সিটি’র আল-শিফা হাসপাতালে এক চিকিৎসক আল জাজিরাকে জানান, অপুষ্টিজনিত কারণে শিশু মোহাম্মদ ইব্রাহিম আদাস মারা গেছে, কারণ তার জন্য প্রয়োজনীয় ফর্মুলা দুধ পাওয়া যায়নি।

গাজা সরকারের গণমাধ্যম অফিস জানায়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ৪০ হাজারের বেশি শিশু ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে পড়ছে। কারণ গত ১৫০ দিনে ইসরায়েল শিশু খাদ্য ঢুকতে দেয়নি গাজায়।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা সব সীমান্ত ক্রসিং অবিলম্বে এবং শর্তহীনভাবে খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি, যাতে শিশু খাদ্য ও জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারে।”

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ‘পুরস্কার নয়, অধিকার’: জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য ‘জরুরি, সুনির্দিষ্ট, অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, গাজার পরিস্থিতি ফিলিস্তিনিদের আরও গভীর হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পুরস্কার নয়, এটি তাদের একটি অধিকার। আর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অস্বীকৃতি সারা বিশ্বের চরমপন্থিদের জন্য একটি উপহার হবে।

সোমবার (২৮ জুলাই) শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জাতিসংঘের একটি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

গুতেরেস বলেন, সময় ফুরিয়ে আসছে। প্রতিটা দিন পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস কমে যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠান দুর্বল হচ্ছে এবং আশা বিলীন হচ্ছে। গুতেরেস গাজার গভীরতর সংকটের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি বিপর্যয়ের এক ধারায় নেমে এসেছে।

জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ কমানোর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এই দুঃস্বপ্ন শেষ করার জন্য এটি সমাধানের ধারে কাছেও নয়। আমাদের একটি অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সব জিম্মির অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং পূর্ণ ও অবাধ মানবিক সহায়তা প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। এগুলো শান্তির পূর্বশর্ত নয়। এগুলোই শান্তির ভিত্তি।