মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত এলেন ৩৯ বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে ফেরত পাঠানো ৩৯ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শনিবার (২ আগস্ট) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা এসে পৌঁছেন। 

ইমিগ্রেশন পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগের এক বার্তায় বলা হয়েছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানে করে ৬১ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশে এসেছেন ৩৯ জন বাংলাদেশি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অবৈধ হয়ে ধরা পড়া বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও প্রতি মাসে কিছু মানুষকে ফিরতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি : জয়শঙ্কর

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ নামে একটি তথাকথিত মানচিত্রের প্রচারকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ঘটে চলা ঘটনাপ্রবাহ আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এই মানচিত্রে ভারতের কয়েকটি রাজ্যের অংশ বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে, যা ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

লোকসভায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক সংসদ সদস্য এই বিষয়টি উত্থাপন করলে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

বিতর্কিত মানচিত্রটি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছিল, যা ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামের একটি সংগঠন আয়োজন করেছে বলে দাবি করা হয়।

অভিযোগ আছে, এই সংগঠনের সঙ্গে তুরস্কভিত্তিক একটি এনজিও ‘তুর্কিশ ইয়ুথ ফেডারেশন’-এর যোগসূত্র রয়েছে।

উক্ত সংসদ সদস্যের ভাষায়, ‘এ ধরনের কার্যকলাপ গুরুতর প্রশ্ন তোলে এবং বিষয়টি শক্তভাবে প্রতিহত করা উচিত।’

জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারতের উদ্বেগ বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের সরকার সরকারি ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলা ফ্যাক্ট’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রদর্শনীটি ছিল ইতিহাসভিত্তিক এবং ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছিল।

উক্ত মানচিত্রটি ছিল মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাসভিত্তিক একটি মানচিত্র।’

তিনি আরো বলেন, ‘আয়োজকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন— তাদের কোনো বিদেশি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। বাংলাদেশের সরকার এটাও নিশ্চিত করেছে যে, ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামে কোনো স্বীকৃত সংগঠন দেশে নেই।

তবুও জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোতে আমরা গভীরভাবে মনোযোগী।

বিশেষ করে বাংলাদেশকে ঘিরে এমন কোনো ইস্যু যা আমাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, সেগুলো আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি।’

বিশ্ব জেরুজালেমে বাঘের আক্রমণে চিড়িয়াখানাকর্মী নিহত

জেরুজালেমের একটি চিড়িয়াখানায় খাঁচা থেকে পালানো একটি বাঘের আক্রমণে শুক্রবার চিড়িয়াখানাটির একজন কর্মী নিহত হয়েছেন।

জেরুজালেম বাইবেলিক্যাল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজিত একটি চিড়িয়াখানার কার্যক্রম ঘুরে দেখার বিশেষ আয়োজন চলাকালে উরিয়েল নুরি নামে ৩৬ বছর বয়সী ওই কর্মী বাঘের আক্রমণে মারাত্মকভাবে আহত হন ও পরে মারা যান।

তারা আরো জানিয়েছে, বাঘটি কিভাবে খাঁচা থেকে পালিয়ে কর্মস্থলের অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করল তা খতিয়ে দেখতে তারা ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে তদন্ত করছে। ঘটনার পর চিড়িয়াখানাটি সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নুরির শরীরের ওপরের অংশে গুরুতর ক্ষত হলে তাকে হাদাসা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল-এইন কেরেমের ট্রমা ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাদাসা মেডিকেল সেন্টার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘দীর্ঘ সময় ধরে তার প্রাণ বাঁচানো চেষ্টার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। হাসপাতালের কর্মীরা এখন কঠিন এ সময়ে তার পরিবারের পাশে রয়েছেন ও তাদের সমবেদনা জানিয়েছেন।’

জেরুজালেমের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত চিড়িয়াখানাটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সেখানে বাঘ প্রদর্শনী অঞ্চলে মহাসংকটাপন্ন সুমাত্রান বাঘ প্রদর্শন করা হয়।

নুরি ছিলেন চিড়িয়াখানার মাংসাশী প্রাণীর দেখাশোনাকারী দলের প্রধান। তার ইনস্টাগ্রাম পেজে তার কাজ নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট করা ছিল।

চিড়িয়াখানাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘শুক্রবার সকালে একটি রুটিন কার্যক্রম চলাকালে একটি বাঘ খাঁচা থেকে পালিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণে ঢুকে কার্যক্রম প্রস্তুত করতে থাকা এক কর্মীর ওপর আক্রমণ চালায়। দর্শনার্থীদের কোনো সময় শারীরিক ঝুঁকিতে পড়তে হয়নি, কারণ তারা একটি কাচের জানালার পেছনে নিরাপদে অবস্থান করছিলেন।
’

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেতজ জানিয়েছে, খাঁচার দরজা ঢিলে হয়ে গিয়েছিল কিনা, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য গত বছর একই চিড়িয়াখানায় একটি কুমির এক কর্মীকে কামড় দিলে কুমিরটিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে ওই কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

৬২ একর বিস্তৃত এই চিড়িয়াখানাটি বাইবেলে উল্লেখ থাকা প্রাণী ও বিশ্বের বিভিন্ন বিপন্ন প্রজাতির পশু প্রদর্শনে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

সূত্র : বিবিসি

পিআর পদ্ধতির পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে : মির্জা আব্বাস

পিআর পদ্ধতির (সংখ্যানুপাতিক) পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, ‘পিআর পদ্ধতির পেছনে উদ্দেশ্য আছে। উদ্দেশ্য হলো, কেউ বলল করব, কেউ বলল করব না; অর্থাৎ একপর্যায়ে বলবে, এ কারণে নির্বাচন হচ্ছে না। সুতরাং আরো কিছুদিন সময় বাড়িয়ে দিতে হবে।
’

শুক্রবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোডে আয়োজিত এক সমাবেশে মির্জা আব্বাস এ কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘নির্বাচন দিতে এত গড়িমসি কেন, আমি বুঝতে পারি না। আমি একটা জিনিস বুঝতে পারি, জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড; অর্থাৎ বিচারক যদি দেরি করেন বুঝতে হবে, বিচারক রায় ভালো দেবেন না।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আর দেরি করবেন না।
আমরা জানি, আপনারা ঘোষণা দেবেন, তারিখ ঘোষণা দেবেন, এর পেছনে আপনাদের আবার কোন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব লুকিয়ে আছে, আল্লাহই বলতে পারবেন। আর কারো না হোক, আমি অনেক সন্দেহ করি। আমি অনেক সন্দেহ করি, তাদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পেছনেও অনেক ষড়যন্ত্র আছে। এরপরও ষড়যন্ত্র আছে।
’

দেশের মানুষকে জোর করে ইভিএম খাওয়ানো যায়নি, পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি) পদ্ধতিও খাওয়ানো যাবে না বলে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই দেশের লোককে ইভিএম পদ্ধতি খাওয়াতে চেয়েছিল হাসিনা, এ দেশের লোক গিলেনি। সুতরাং আপনাদের পিআর পদ্ধতিও কেউ গিলবে না, এই কথা মনে রাইখেন।’

অন্তর্বর্তী সরকারকে এনসিপির সরকার উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই সরকারের মাথা থেকে নিচ পর্যন্ত পচে গেছে। আমি ধারণা করেছিলাম, এই সরকার এনসিপির সরকার। সরি।
তো হ্যাঁ, অবস্থাদৃষ্টিতে মনে হয় এই সরকার বোধ হয় এনসিপির সরকার। উনারা যখন যেখানে যান, প্রটোকল পান, সরকারি প্রটোকল। পুলিশ, বিডিআর, আর্মি, গার্ড থাকে। সার্কিট হাউস ব্যবহার করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরাও তো বহু যাই, বহু গেলাম, আমরা তো পেলাম না। আমরা তো মন্ত্রী ছিলাম বহুদিন, ঢাকা শহরের মেয়রও ছিলাম, কই, আমরা তো পাই না।’

গণ-অভ্যুত্থান না হলে স্বাধীনভাবে সভা-সমাবেশে কথা বলতে পারতাম না : দুলু

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান না হলে দেশে আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারতাম না, সভা-সমাবেশ করতে পারতাম না।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে নলডাঙ্গা উপজেলার মোমিনপুর কলেজ মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জুলাই বিপ্লবের নিহত শহীদদের স্মরণে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুলু এসব কথা বলেন।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে দেশের মানুষের মত প্রকাশের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ ভিন্ন মত পোষণ করলে তাকে ধরে কারাগারে নিক্ষেপ করা হতো।
ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের মানুষ মত প্রকাশের, সভা-সমাবেশ করার এবং স্বাধীনভাবে চলাচলের সুযোগ পেয়েছে। সারা জীবন জাতির কাছে ৫ আগস্ট স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতি বছর যথাযথ মর্যাদায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পালন করা হবে।’

বিএনপি নেতা দুলু বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এক বছর পার হওয়ার আগে থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র প্রমাণ করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
তাই ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত বিএনপি-জামায়াত, এনসিপিসহ দেশের সব রাজনৈতিক দলকে এই একটি জায়গায় অন্তত ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের মাটিতে আর কখনো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সব বিভাগকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

মোমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোজাহার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান খান ওরফে বাবুল চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম আফতাব, মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন, সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু, নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহ আলম, জেলা বিএনপির সদস্য নাসিম উদ্দীন নাসিম, জেলা যুবদল সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

বিশ্ব রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্যাতন করছে আরাকান আর্মি : এইচআরডব্লিউ

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর দমনমূলক নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনের দখল করা এলাকাগুলোতে রোহিঙ্গাদের চলাফেরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা, লুটপাট, আটক, মারধর, জোরপূর্বক শ্রম ও শিশুদের নিয়োগের মতো নিপীড়ন চালাচ্ছে এই এএ।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, ‘রাখাইনে মায়ানমারের সেনাবাহিনী যেমনভাবে রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন করে এসেছে, আরাকান আর্মিও এখন সেই একই পথ অনুসরণ করছে।

তাদের এখনই এসব আচরণ বন্ধ করা উচিত।’ 

২০২৩ সালের নভেম্বরে মায়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আরাকান আর্মি। এরপর উত্তর রাখাইনের বহু এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। সে সময় তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, দখলকৃত এলাকায় সব জাতিগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

কিন্তু বাস্তবে রোহিঙ্গারা জানাচ্ছে, তাদের জীবনে আরাকান আর্মির শাসন অত্যন্ত কঠোর ও বৈষম্যমূলক। রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমরা এখন দুই দিক থেকে নিপীড়নের শিকার। একদিকে মায়ানমার সেনাবাহিনী, অন্যদিকে আরাকান আর্মি। দুই পক্ষই নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ ও বেআইনি নিয়োগসহ বিভিন্ন সহিংসতা চালিয়ে আসছে।

২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত রাখাইন ও চীন রাজ্যে চার লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে।

রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, তাদের জমি, ঘরবাড়ি, গবাদি পশু, এমনকি কবরস্থানও দখল করে নেয় আরাকান আর্মি। কেউ কেউ জানান, তাদের পুরনো কবরস্থান ভেঙে দিয়ে ধানক্ষেতে দাফন করতে বলা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জীবিকা ও কৃষিকাজেও নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করে আরাকান আর্মি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় চাঁদাবাজি ও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম।

ফলে খাবারের সংকট চরমে ওঠে।

বেলারুশ থেকে লিথুয়ানিয়ার সামরিক এলাকায় ‘রুশ’ ড্রোন

বেলারুশের আকাশসীমা থেকে লিথুয়ানিয়ায় অনুপ্রবেশকারী একটি ড্রোন দেশটির সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় পাওয়া গেছে। এটি রাশিয়ার তৈরি ড্রোন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লিথুয়ানিয়ার সেনাবাহিনী শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।

ড্রোনটি সোমবার ভোরে লিথুয়ানিয়ায় ঢুকে পড়ে ও দেশটির রাজধানী ভিলনিয়াসের কিছু অংশের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।
এ সময় সাধারণ মানুষ এটির গতিপথের ভিডিও ধারণ করে।

এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, “সম্ভবত এটিই সোমবার লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা সেই ড্রোন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি ‘গারবেরা’ ড্রোন, তবে বিস্তারিত পরে নিশ্চিত করা হবে।”

রাশিয়ার গারবেরা ধরনের ড্রোন মূলত ইউক্রেনে হামলার সময় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ড্রোনটি লিথুয়ানিয়ার গাইজিউনাই সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় পাওয়া গেছে। এ এলাকার কাছাকাছি রুকলা শহরে একটি আন্তর্জাতিক ন্যাটো ব্যাটালিয়নও অবস্থান করছে।

লিথুয়ানিয়ার সরকার দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান মিনদাউগাস সিনকেভিসিয়ুস বলেন, ‘যে স্থানে ড্রোনটি এসে পড়েছে, তাতে আমি এটিকে একটি উসকানি বলেই মনে করি।’

লিথুয়ানিয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা প্রথমে ড্রোনটিকে বেলারুশের আকাশসীমায় ট্র্যাক করেছিল, তবে পরে সেটির সংযোগ হারিয়ে ফেলে।
এ ঘটনায় ধীর প্রতিক্রিয়ার জন্য দেশটির সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোন প্রতিরোধে প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা পুনঃমূল্যায়ন করা হবে ও ভবিষ্যতে সহজেই ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য সামরিক বাহিনীকে দ্রুত অনুমতি দেওয়া হবে।

এর আগে ১০ জুলাই রাশিয়ার একটি গারবেরা ড্রোন লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করলে কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

মস্কো ইউক্রেনে হামলার জন্য শত শত ড্রোন ব্যবহার করছে, যেগুলোর কিছু প্রতিবেশী দেশ যেমন পোল্যান্ড, রুমানিয়া ও মলদোভায় গিয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি রুশ শাহেদ ধরনের ড্রোন ন্যাটো ও ইইউ সদস্য বাল্টিক দেশ লাটভিয়ায় ভূপাতিত হয়েছিল।

সূত্র : এএফপি

ক্যাপস্টোন লিডারশিপ কোর্সের বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করলেন ইকবাল হোসেন চৌধুরী

রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে সফলভাবে ক্যাপস্টোন কোর্স সমাপ্ত করেছেন জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের কাছ থেকে তিনি ক্যাপস্টোন কোর্সের সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাতও করেন।

এই কোর্সে তার অভিজ্ঞতার অন্যতম উজ্জ্বল দিক ছিল বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রিয়াজ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর এবং প্রখ্যাত আইনজীবী, খ্যাতিমান বিচারবিদ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইন অধিকারকর্মী শাহদীন মালিকের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করা।

ক্যাপস্টোন কোর্স ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ পরিচালিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কোর্স; যার লক্ষ্য কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, সূক্ষ চিন্তাভাবনার বিকাশ, আন্তঃসংস্থার সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার নেতৃত্ব পর্যায়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ক সমন্বিত ধারণা গড়ে তোলা।

কোর্সে বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা জাতীয় বিষয়াবলি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন শাহরুখ

‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ থেকে ‘জওয়ান’—তিন দশকের একটানা শাসন। ভারতীয় বক্স অফিসের রাজপাট তো বহুদিন আগেই দখল করেছিলেন তিনি, এবার এলো দেশের সর্বোচ্চ সিনেমা সম্মানের স্বীকৃতিও। প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান।

বিশ্বব্যাপী অসংখ্য পুরস্কার আর ভালোবাসা জয় করলেও অধরা রয়ে গিয়েছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের।
তবে আর অধরা নয়, এবার ৩৩ বছরের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে শাহরুখ খানের। পেতে যাচ্ছেন আকাঙ্ক্ষিত সেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বহুল প্রতীক্ষিত ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে ‘জওয়ান’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় শাহরুখ খানের।

পিঙ্কভিলা বলছে, ২০২৩ মুক্তি পাওয়া ‘জওয়ান’ সিনেমার জন্য ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত হতে যাচ্ছেন শাহরুখ খান।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার পেলেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি শাহরুখ খান। ২০০৯ সালে পাওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়ে উঠেনি।

আওয়ামী ক্যাডারদের ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বৈঠকের তদন্ত চলছে : ডিএমপি

রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বৈঠকের রহস্য উদঘাটনে এবং এর পেছনে জড়িতদের বের করতে ‘গুরুত্ব দিয়ে’ তদন্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

একইসঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারের বর্ষপূর্তিতে আগস্ট ঘিরে নানা হুমকির বিষয়ে আলোচনার মধ্যে পুলিশ বলছে, আগস্টকেন্দ্রিক কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব কথা বলেন।

গত ৮ জুলাই ভাটারা থানা এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে ‘গোপন বৈঠক’ করায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মেজর সাদিকুল হক নামের এক সেনা কর্মকর্তারও বৈঠকটিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠলে তাকে হেফাজতে নেয় সেনাবাহিনী। বলা হচ্ছে, দেশজুড়ে ব্যাপক নাশকতার ছক কষতে ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ওই বৈঠকের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তালেবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গত ৮ জুলাই ভাটারা থানা এলাকায় এক কনভেনশন হলে একটা বৈঠক নিয়ে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। কনভেনশন হলটি শামীমা নাসরিন শম্পা নামে একজন ব্যক্তি ভাড়া নেন।
সে সময় তিনি বিদেশে লোক পাঠানোর নাম করে একটা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেছিলেন। যেখানে ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ লোকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ জুলাই ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়।’

তালেবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ইতিমধ্যে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখছি।
এ ঘটনার অন্য কোনো দিক আছে কি না, এর প্রকৃত রহস্য কী এবং কারা কারা এর পেছনে দায়ী? ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত শিগগিরই উন্মোচন করার আশা করছি।’

এই বৈঠক এবং ৮ আগস্টের বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা ‘হুমকির’ আলোচনা প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তালেবুর রহমান বলেন, ‘আমরা গত একটা বছরে বিভিন্ন সময় দেখেছি, নানা সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম অনেকেই করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সজাগ রয়েছি।’

গত এক বছরে ঢাকা মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন ‘উন্নতির দিকে’ যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আগস্টকেন্দ্রিক কোনো রকমের নিরাপত্তা শঙ্কা দেখছি না। আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি।
আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি এবং সক্ষমতা রয়েছে।’

সম্প্রতি ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘বিনষ্ট’ করার জন্য কিছু লোক ‘বিভিন্ন অপচেষ্টা’ অব্যাহত রেখেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে বলেন তিনি। ডিএমপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রেখেছি এবং এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যে গোয়েন্দা তথ্য আছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কারও বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, কোনো রকম আইন-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আমরা গ্রেপ্তারগুলো করছি। এক্ষেত্রে একটা বিষয় পরিষ্কার, কাউকে ঢালাওভাবে বা কাউকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তারের কোনো অবকাশ নেই।’