সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

শেখ হাসিনার ৬ মাসের কারাদণ্ড, ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

মামলা পরিচালনায় সম্পৃক্ত প্রসিকিউটর, তদন্ত কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য ও আদালতের কর্মচারীদের ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে করা মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বিষয়টি এসেছে। এ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি গতকাল রবিবার ট্রাইব্যুনালে কর্মরত সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গত ২ জুলাই এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শেখ হাসিনার পাশাপাশি এ মামলায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুলকেও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা ও বুলবুলের কথোপকথন একটি অডিও গত বছরের অক্টোবরে ভার্চুয়াল জগতে ছড়িয়ে পড়ে।
এই অডিও সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় দুজনের কথোপকথন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নয়।

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান। এ মামলার আরেক আসামি বুলবুলও পলাতক।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে শেখ হাসিনা ও বুলবুলের কথোপকথন (ফাঁস হওয়া অডিও) তুলে ধরা হয়েছে। এর এক জায়গায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওই সব তালিকা করো আর অফিসারদের বলো আমরা তালিকা পাঠাচ্ছি নেত্রীর কাছে। উনি চাইছেন, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।’ শেখ হাসিনার এই কথার পর বুলবুল বলেন, ‘জি নেত্রী, জি আসসালামু আলাইকুম।’ এরপর শেখ হাসিনা বলেন, ‘চাকরি সামনেও করতে হবে, এটা ভুলে যায় না যেন।
এক মাঘে শীত যায় না।’

এই অংশ (কথোপকথন) সম্পর্কে রায়ে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে কারো নাম উল্লেখ না করে কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়েছেন হাসিনা। তবে ধারণা করা যায়, শেখ হাসিনা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের (প্রসিকিউটর, তদন্ত কর্মকর্তা, ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য) ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিয়েছেন।

বুলবুলের সঙ্গে কথোপকথনের মাঝামাঝি সময়ে শেখ হাসিনা কী বলেছেন, সেটিও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আমার তো সারা বাংলাদেশে ২২৭টি মার্ডার কেস। তোমরা তালিকা করো। ধরো অন্তত ২২৭ জনকে মারার লাইসেন্স পেয়ে গেছি। আর এক মামলার যে শাস্তি আর সোয়া ২০০ মামলায় সেই শাস্তি, তাই না? তো ঠিক আছে, সেই শাস্তি নেব কিন্তু তার আগে সোয়া ২০০ হিসাব করে নেব। এটা যেন মাথায় থাকে।’

রায়ে বলা হয়েছে, বুলবুলের কাছে শেখ হাসিনা ২২৭ জনকে হত্যার দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করেছেন। সে জন্য বুলবুলকে তিনি ২২৭ জনের একটি তালিকা তৈরি করতে বলেছেন।

অডিওতে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘একটা কথা আমি বলি, তোমাদের কার বাড়ি পোড়াইছে কে?’ তখন বুলবুল বলেন, ‘ওই ওরাই নেত্রী, সবাই, জামায়াত-বিএনপি সকলেই।’ এরপর শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের বাড়িঘর নাই?’ বুলবুল বলেন, ‘আছে নেত্রী।’ হাসিনা বলেন, ‘তাদের ঘরবাড়ি নাই।’ বুলবুল বলেন, ‘জি, আছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাহলে সব কিছু কি প্রকাশ্যে করতে হয়?’ বুলবুল বলেন, ‘জি না, না নেত্রী, জি।’ এরপর শেখ হাসিনা, ‘আমাদের ঘরবাড়ি নাই, তাদেরও ঘরবাড়ি থাকবে না।’

কথোপকথনের এই বিষয়টি তুলে ধরে রায়ে বলা হয়েছে, এসব বলে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাকর্মীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে বুলবুলকে উসকে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা ও বুলবুলের কথোপকথনের ওই অডিওর ফরেনসিক পরীক্ষার বাইরেও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বিষয়টির তদন্ত করেন বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেই তদন্ত সম্পর্কে রায়ে বলা হয়েছে, গাইবান্ধার সাংবাদিক সুমন মিয়া ফাঁস হওয়া ওই অডিও প্রথমে পান। অডিওর কথোপকথনটি স্থানীয় সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বুলবুল।

তদন্তে আরো উঠে আসে, ‘এ টিম’ নামের একটি গ্রুপের (অনলাইনভিত্তিক) মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপে ও জুমে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) গোপন সভা হতো। গত বছরের ২৫ অক্টোবর সে রকম একটি সভায় শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন।

ফিলিপাইনের জাহাজ তাড়া করতে গিয়ে নিজের যুদ্ধজাহাজে ধাক্কা মারল চীন

দক্ষিণ চীন সাগরে সোমবার ফিলিপাইনের একটি জাহাজকে তাড়া করার সময় চীনের একটি যুদ্ধজাহাজ দুর্ঘটনাক্রমে নিজেদের কোস্ট গার্ডের জাহাজে ধাক্কা দিয়েছে। ম্যানিলা এ খবর জানিয়েছে।

কমোডোর জে টারিয়েলা জানিয়েছেন, ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা বিতর্কিত স্কারবোরো শোলে মাছ ধরার এলাকায় মৎসজীবীদের সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছিলেন। ওই সময় চীনা কোস্ট গার্ড একটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল’ অবলম্বন করে, ফলে চীনা যুদ্ধজাহাজের সামনের ডেকে ‘গুরুতর ক্ষতি’ হয়।

চীন সংঘর্ষের ঘটনা স্বীকার করলেও ফিলিপাইনের বিরুদ্ধে ‘জোরপূর্বক চীনা জলসীমায় প্রবেশের’ অভিযোগ করেছে এবং সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করেনি।

দক্ষিণ চীন সাগর হলো চীন, ফিলিপাইন ও অন্য দেশগুলোর মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রে থাকা একটি এলাকা। গত কয়েক বছরে বেইজিং ও ম্যানিলার মধ্যে উত্তেজনা আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। সেখানে দুই পক্ষই একে অপরের ওপর উত্তেজনা সৃষ্টির ও সামুদ্রিক সংঘর্ষের দায় চাপাচ্ছে, যার মধ্যে তরবারি, বর্শা ও ছুরি ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে।

স্কারবোরো শোল একটি ত্রিভুজাকৃতির প্রবাল শৃঙ্খল ও পাথরের চেইন। ২০১২ সালে এলাকাটি চীন দখল করার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে এটি দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু।

ম্যানিলা প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চীনা কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ জলকামান ব্যবহার করে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড জাহাজকে তাড়া করছে এবং হঠাৎ বাঁক নিয়ে একটি বড় চীনা জাহাজে জোরে ধাক্কা মারে। টারিয়েলা জানান, সংঘর্ষের ফলে চীনা যুদ্ধজাহাজ ‘সাগরপথে অচল’ হয়ে পড়েছে।
তবে এই ঘটনায় কেউ আহত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

টারিয়েলা আরো জানিয়েছেন, ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড চীনা কর্তৃপক্ষকে আঞ্চলিক বিরোধ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক নিয়মগুলোকে সম্মান করার জন্য ‘ধারাবাহিকভাবে অনুরোধ’ করছে, ‘বিশেষ করে সামুদ্রিক আইন প্রয়োগে তাদের ভূমিকা বিবেচনা করে’। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আরো জোর দিয়ে বলেছি, এমন অবিবেচক আচরণ সামুদ্রিক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।’

হুট করেই সনুর সাজঘরে ঢুকে পড়েন অভিনেত্রী, অতঃপ

বিনোদন দুনিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়— সেলেব্রিটিদের বন্ধুত্ব কি সত্যিই আন্তরিক, নাকি সবটাই প্রচারের জন্য সাজানো নাটক? সংগীত জগত থেকে হলিউড-বলিউড; সবখানেই এমন উদাহরণ আছে যেখানে প্রচারের স্বার্থে সম্পর্কের প্রদর্শন দেখা গেছে।

তবে এই চকচকে দুনিয়াতেও কিছু সম্পর্ক আছে, যা বছরের পর বছর একই রকম গভীর থেকে গেছে। তেমনই এক উদাহরণ অভিনেত্রী দিব্যা দত্ত ও সংগীতশিল্পী সোনু নিগমের বন্ধুত্ব।

গত ৩০ জুলাই সনু নিগমের জন্মদিনে ইনস্টাগ্রামে একটি বিশেষ ভিডিও শেয়ার করেন দিব্যা দত্ত। ভিডিওটিতে ছিলো তাদের একসঙ্গে তোলা বিভিন্ন বছরের ছবি। ক্যাপশনে দিব্যা লিখেছেন, তাদের সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। জানান, জীবনের নানা আবেগঘন মুহূর্তে সনুর উষ্ণ উপস্থিতি তাকে সাহস জুগিয়েছে, এবং সনুই তার জীবনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।

কেমন ছিল তাদের এই বন্ধুত্বের শুরুর গল্প? সম্প্রতি দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দিব্যা দত্ত স্মৃতিচারণা করে বলেন, “আমি সনুর সঙ্গেই কাজ শুরু করেছিলাম। মনে আছে, শো-এ সনুর মেকআপ রুমে হঠাৎ ঢুকে পড়তাম আচমকা। একদিন হঠাৎ ঢুকে দেখলাম সাজঘরে একমনে মেকআপ দিচ্ছে। বললাম, ‘তুমি তোমার কাজ চালিয়ে যাও, আমি এখানে বসে কাঁদব।’ আর সনু বলল, ‘ঠিক আছে, বসো আর কাঁদো…’ ওই যে নির্ভরযোগ্যতা তৈরি হল… এমন মুহূর্ত কেউ ভোলে না।”

শুধু ব্যক্তিগত সমর্থনই নয়, পেশাগত ক্ষেত্রেও দিব্যার কাছে সনুর অবদান উল্লেখযোগ্য। জানান, ‘আজ আমি মঞ্চে কথা বলতে ভালোবাসি, কিন্তু একসময় খুব ভয় পেতাম। সোনুই আমাকে শেখায় কীভাবে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলতে হয়।’

লিভারপুলকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথম কমিউনিটি শিল্ড জিতল ক্রিস্টাল প্যালেস

ইংলিশ ফুটবল মৌসুমের শুরুর দিনটাই উপহার দিল রোমাঞ্চে ঠাসা এক লড়াই। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দেখা গেলো মনে রাখার মতো আরেকটি ম্যাচ। রোববার (১০ আগস্ট) নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে লিভারপুলকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস। এতে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কমিউনিটি শিল্ড ট্রফি জিতল ক্লাবটি।

এদিন ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয় ২-২ সমতায়। দুইবার এগিয়ে গিয়েছিল লিভারপুল। কিন্তু অদম্য প্যালেস হাল না ছেড়ে দুইবারই সমতা ফিরিয়েছে। কমিউনিটি শিল্ডের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় না থাকায় ম্যাচ চলে যায় সরাসরি টাইব্রেকারে। আর পেনাল্টি শুটআউটে বাজিমাত করে ক্রিস্টাল প্যালেস।

প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্যালেস জিতে নেয় নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কমিউনিটি শিল্ড। পেনাল্টি শুটআউটে লিভারপুলের হয়ে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন মোহাম্মদ সালাহ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং হার্ভি এলিয়ট। দুটি শট ঠেকিয়েছেন প্যালেস গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন।

ম্যাচের শুরুতেই স্মরণ করা হয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত লিভারপুলের তারকা দিয়োগো জোটা ও তার ভাই আন্দ্রেকে। শুরু থেকেই এ দিন আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে অলরেডরা। ৪ মিনিটে এগিয়েও যায় তারা। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে উইর্টজের দারুণ অ্যাসিস্টে গোল করেন একিতিকে।

যদিও এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি লিভারপুল। ১৭তম মিনিটে লিভারপুলের ডি-বক্সে ভার্জিল ফন ডাইকের ফাউলে ইসমাইল সার পড়ে যান। আর তাতেই পেনাল্টি পায় ক্রিস্টাল প্যালেস। স্পট কিক থেকে সমতা টানেন জো ফিলিপ মাতেতা। চার মিনিট পর আরেক নতুন খেলোয়াড় জেরেমি ফ্রিমপংয়ের নৈপুণ্যে আবার এগিয়ে যায় লিভারপুল।

ডমিনিক সোবোসলাইয়ের পাস পেয়ে গোলটি করেন বায়ার লেভারকুজেন থেকে গত মে মাসে অ্যানফিল্ডে আসা ডাচ ডিফেন্ডার। গত এফএ কাপের ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে ১২০ বছরের ইতিহাসে প্রথম শিরোপা জেতা প্যালেস ৬২তম মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পায়। কিন্তু গোলরক্ষক আলিসনকে পরাস্ত করতে পারেননি এবেরেচি এজে।

৭৭তম মিনিটে আর দলকে বাঁচাতে পারেননি আলিসন। প্রতিপক্ষের ছোট ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় দফায় ম্যাচে সমতা টানেন সেনেগালের ফরোয়ার্ড ইসমাইলা সার। তবে শেষমেষ টাইব্রেকারে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয় লিভারপুল। আর তাতেই প্রথমবারের মতো কমিউনিটি শিল্ডের শিরোপা জেতে ক্রিস্টাল প্যালেস।

তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত, ধসে পড়েছে বহু ভবন

তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলের নিকটবর্তী বালিকেসির প্রদেশে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া বহু ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। সোমবার (১১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বালিকেসির প্রদেশে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং বহু ভবন ধসে পড়েছে।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, সিন্দিরগি শহরে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮১ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল এই শহরেই।

তিনি আরও জানান, কমপক্ষে ১৬টি ভবন ধসে পড়েছে এবং অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন। তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যা ইস্তাম্বুল পর্যন্ত অনুভূত হয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ লেখেন, “আল্লাহ আমাদের দেশকে সব ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা করুন।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং আর কোনও গুরুতর ক্ষতি বা হতাহতের খবর নেই।

তবে সিন্দিরগি থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বড় বড় ভবন সম্পূর্ণ ধসে গেছে এবং ধ্বংসস্তূপের বিশাল স্তূপ তৈরি হয়েছে।

বিবিসি বলছে, তুরস্ক তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্কে ৫০ হাজারের বেশি এবং পার্শ্ববর্তী সিরিয়ায় আরও ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়।

বিধ্বংসী সেই ভূমিকম্পের দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেসময় বাস্তুচ্যুত হওয়া কয়েক লাখ মানুষ এখনও ঘরে ফিরতে পারেননি।

তুরস্কে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প

পশ্চিম তুরস্কে রিখটার স্কেলে ৬.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (আফাদ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলের নিকটবর্তী বালিকেসির প্রদেশে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। একাধিক প্রদেশেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

আফাদ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১১ কিলোমিটার (৬.৮ মাইল) গভীরে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.১৯ এবং গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করেছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বালিকেসির প্রদেশের সিনদিরগিতে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় মেয়র সেরকান সাক জানিয়েছেন, শহরের কেন্দ্রে একটি তিনতলা ভবন ধসে পড়েছে, যেখানে ছয়জন বাসিন্দা ছিলেন। তিনতলা ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়ারলিকায়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, আফাদের জরুরি দল ইস্তাম্বুল এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি নিরীক্ষণের কাজ শুরু করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তুরস্ক বেশ কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক ফল্ট লাইনের উপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূমিকম্প প্রবণ। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্কে ৫৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

সূত্র: রয়টার্স, টিআরটি গ্লোবাল

৩ দিনের সফরে আজ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

তিন দিনের দ্বিপক্ষীয় সরকারি সফরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তিনি আজ দুপুরে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। সফরে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে ৫টি সমঝোতা স্মারক ও ৩টি এক্সচেঞ্জ অব নোট সই হবে। অগ্রাধিকার পাবে অভিবাসন ও বিনিয়োগ খাত।

প্রধান উপদেষ্টার এ সফর নিয়ে গতকাল রবিবার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো গভীর হবে এই সফরের মাধ্যমে। প্রবাসী শ্রমিক নিয়োগে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসন, বিনিয়োগ এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরায় সহযোগিতা—এসব বিষয় সফরের আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে।

মালয়েশিয়া পৌঁছে প্রধান উপদেষ্টা গার্ড অব অনারে অভ্যর্থনা পাবেন।
মঙ্গলবার পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানদের একান্ত বৈঠক হবে। এর পরপরই প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং নির্ধারিত সমঝোতা স্মারক সই হবে।

৫টি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক হলো—প্রতিরক্ষা ও জ্বালানিবিষয়ক সহযোগিতা, ব্যবসায়িক কাউন্সিল গঠন, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) ও মালয়েশিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিমোস (MIMOS)-এর মধ্যে সহযোগিতা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (BIISS) ও মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (ISIS)-এর মধ্যে সহযোগিতা। এছাড়া হালাল ইকো সিস্টেম, উচ্চশিক্ষা এবং কূটনীতিক প্রশিক্ষণ একাডেমির মধ্যে সহযোগিতাবিষয়ক ৩টি এক্সচেঞ্জ অব নোট সই হবে।

সমঝোতা সইয়ের পর সংবাদ সম্মেলন এবং প্রধান উপদেষ্টার সম্মানে রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন রয়েছে। একই দিনে তিনি একটি ব্যবসায়িক ফোরামে যোগ দেবেন এবং মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

আল জাজিরা ৫ সাংবাদিক হত্যায় জাতিসংঘের শোক ও নিন্দা

গাজা সিটিতে আল জাজিরার সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক। একই সঙ্গে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন মিশন।

এক বিবৃতিতে ডুজারিক বলেন, আমরা আল জাজিরা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আজ গাজায় যা ঘটেছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি।
আমরা সবসময়ই সাংবাদিক হত্যার নিন্দা জানাতে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি। গাজা হোক বা অন্য কোথাও—মিডিয়া কর্মীরা যেন কোনো হয়রানি, ভয়ভীতি বা টার্গেট হওয়ার আশঙ্কা ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের গাজার সব এলাকায় অবাধ প্রবেশাধিকার ও স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

এদিকে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন মিশন জানিয়েছে, গাজা সিটিতে তাবুতে বোমা হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরীফ ও মোহাম্মদ ক্রিকেহকে হত্যা করেছে।

মিশন জানায়, আল-শরীফ ও মোহাম্মদ ক্রিকেহ গাজার শেষ বাকি থাকা সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন এবং তারা যথাযথভাবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে ইসরায়েলের গণহত্যা ও ক্ষুধামৃত্যুর ঘটনা উন্মোচন ও নথিবদ্ধ করেছেন।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ৫ সাংবাদিক নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ৫ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ভূখণ্ডটির গাজা সিটিতে আল-শিফা হাসপাতালের কাছে হওয়া ইসরায়েলি হামলায় তারা প্রাণ হারান।

আল জাজিরা এই ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সোমবার (১১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গাজা সিটিতে আল-শিফা হাসপাতালের কাছে ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমটি।

আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হচ্ছেন- প্রতিবেদক আনাস আল-শরীফ ও মোহাম্মদ কুরাইকেহ এবং ক্যামেরাপার্সন ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নুফাল ও মোয়ামেন আলিওয়া। তারা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে সাংবাদিকদের জন্য স্থাপিত একটি তাঁবুতে ছিলেন। সেটিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা চালায় এবং তারা নিহত হন।

আল জাজিরা এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর পরিকল্পিত ও প্রকাশ্য হামলা এবং টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

এদিকে হামলার পরপরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) টেলিগ্রামে জানায়, তারা আনাস আল-শরীফকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আইডিএফের দাবি, তিনি হামাসের একটি সশস্ত্র সেলের প্রধান ছিলেন। তবে নিহত বাকি চার সাংবাদিকের বিষয়ে তারা কিছু জানায়নি।

আল জাজিরার হিসাবে, এই হামলায় মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তারা চার সাংবাদিক নিহত হওয়ার কথা জানালেও কয়েক ঘণ্টা পর তা সংশোধন করে পাঁচজন বলে জানায়।

বিবিসিকে আল জাজিরার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ মোয়াওয়াদ জানান, আল-শরীফ একজন অনুমোদিত সাংবাদিক ছিলেন এবং গাজায় চলমান পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার একমাত্র কণ্ঠ ছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, “তারা ফ্রন্টলাইনে ছিলেন না, সাংবাদিকদের তাঁবুতেই ছিলেন। ইসরায়েলি সরকার গাজার ভেতরের সংবাদ কাভারেজ বন্ধ করতে চায়—এটি তারই প্রমাণ। আধুনিক ইতিহাসে এমন কিছু আমি দেখিনি।”

২৮ বছর বয়সী আল-শরীফ মৃত্যুর মুহূর্তের কিছু আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) গাজা সিটিতে তীব্র ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের কথা পোস্ট করছিলেন। মৃত্যুর পর তার এক বন্ধুর মাধ্যমে একটি পূর্বলিখিত পোস্টও প্রকাশিত হয়।

হামলার পরের দৃশ্যের দুটি ভিডিও বিবিসি যাচাই করে নিশ্চিত করেছে। এতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিহতদের মরদেহ বহন করছেন। কেউ কেউ মোহাম্মদ কুরাইকেহর নাম ডাকছেন, আর একজন মিডিয়া ভেস্ট পরিহিত ব্যক্তি জানাচ্ছেন, নিহতদের মধ্যে একজন আনাস আল-শরীফ।

আইডিএফের অভিযোগ, আল-শরীফ সাংবাদিক সেজে কাজ করছিলেন এবং ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও সেনাদের ওপর রকেট হামলা পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। সেনাবাহিনীর দাবি, তার সামরিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণস্বরূপ তারা আগেই গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করেছিল, যাতে ‘সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ কোর্সের তালিকাও’ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আইডিএফ জানায়, হামলার আগে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য নির্ভুল অস্ত্র, আকাশ থেকে নজরদারি এবং অতিরিক্ত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়।

গত মাসে আল জাজিরা, জাতিসংঘ এবং কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) আলাদা বিবৃতিতে আল-শরীফের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছিল। আল জাজিরা অভিযোগ করেছে, গাজায় তাদের সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে আইডিএফ ধারাবাহিকভাবে ‘উসকানিমূলক প্রচারণা’ চালিয়েছে, যা সাংবাদিকদের সরাসরি টার্গেট করার যুক্তি তৈরির চেষ্টা।

সিপিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ১৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

মালিতে জান্তাকে ‘উৎখাতের চেষ্টা’, প্রায় ২০ সেনা গ্রেপ্তার

মালিতে প্রায় ২০ জন সেনা সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা জান্তা সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের সন্দেহ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

মালির এক নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, ‘তিন দিন আগে থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।’

সেনাবাহিনীর আরেক সূত্র এই ‘অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা’র সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ‘প্রয়োজনীয় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জেনারেল আব্বাস ডেম্বেলে, যিনি মধ্যাঞ্চলীয় মপতির সাবেক গভর্নর ও সম্মানিত সামরিক কর্মকর্তা। তার ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন, রবিবার সকালে রাজধানী বামাকোর উপকণ্ঠে কাতি শহরে সেনারা এসে তাকে গ্রেপ্তার করে।
তবে তাকে গ্রেপ্তারের কারণ জানানো হয়নি।

এএফপির তথ্য মতে, ২০১২ সাল থেকে মালি একাধিক সংকটে জর্জরিত—আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের হামলা, সাম্প্রদায়িক ও অপরাধমূলক সহিংসতা ও চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে দেশটি।