সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

১২ দিনের যুদ্ধে অন্তত ২১ হাজার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার ইরানে

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় দেশজুড়ে প্রায় ২১ হাজার ‘সন্দেহভাজন’ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানি পুলিশ। দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর এক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

১৩ জুন ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও শত শত সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী দেশজুড়ে গ্রেপ্তার অভিযান চালায়। সেই সময় রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে এবং ‘জনগণের অভিযোগ’ গ্রহণের ভিত্তিতে পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়।
সংঘাত চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। ইরানি নাগরিকদের যেকোনো ‘সন্দেহজনক’ ব্যক্তি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল।

ইরানি পুলিশের মুখপাত্র সাঈদ মনতাজেরোলমাহদি বলেছেন, ‘জনগণের কাছ থেকে পাওয়া ফোনকল ৪১ শতাংশ বেড়েছিল, ফলে ১২ দিনের যুদ্ধের মধ্যে ২১ হাজার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

মুখপাত্র অবশ্য জানাননি, ঠিক কী অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, কিছু লোক ইসরায়েলের হামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে জুনের শেষ থেকে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত সাতজন পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।

আফগানদের ফেরত পাঠানো
এদিকে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আফগান শরণার্থী ও অভিবাসীদের বহিষ্কারের হারও বেড়েছে। সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, অবৈধভাবে ইরানে অবস্থান করা অনেক আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগও এনেছে।

পুলিশের মুখপাত্র বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দুই হাজার ৭৭৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে এবং তাদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে ৩০টির বিশেষ নিরাপত্তা লঙ্ঘন শনাক্ত করেছে। এ ছাড়া গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২৬১ জন ও অনুমতি ছাড়া চিত্রধারণের অভিযোগে ১৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তবে আটক হওয়াদের মধ্যে কতজনকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা মনতাজেরোলমাহদি উল্লেখ করেননি। তিনি আরো জানান, যুদ্ধ চলাকালীন অনলাইন প্রতারণা, অনুমতিহীন অর্থ উত্তোলনসহ পাঁচ হাজার ৭০০টির বেশি সাইবার অপরাধের মামলা পুলিশ তদন্ত করেছে। তার ভাষায়, ‘যুদ্ধের সময় সাইবারস্পেস একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় মালয়েশিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘আপনারা অর্থনীতিতে মস্ত বড় অবদান রাখছেন। আপনাদের এই অবদানের স্বীকৃতি আমাদের দিতে হবে। আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
’

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে চেষ্টা করেছি প্রবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করতে, তাদের কথা শুনতে। আপনাদের অনেক ন্যায্য অভিযোগ রয়েছে। আমরা এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।
জটিলতা কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকার খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সরকারি সব সেবা প্রবাসীদের কাছে পৌঁছে দিতে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এর পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে যাতে করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব প্রবাসী বাংলাদেশি এক প্ল্যাটফরমে কানেক্টেড থাকতে পারেন, জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বস্তির জায়গায় ফিরেছে।
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আপনারা বড় অবদান রেখেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রস্তুত। আমি ইতোমধ্যে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছি। এই নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। আশা করছি, এবার আপনাদের নতুন অভিজ্ঞতা হবে।
আপনারা সবাই ভোটার হবেন, ভোট দেবেন। নির্বাচন কমিশনারের সাথে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

সভায় মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের কয়েকটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে দূতাবাসে জনবল বাড়ানো, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা, যারা অনিয়মিত হয়ে গেছেন তাদের নিয়মিতকরণ করা, বাণিজ্য-শিল্প ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান।

বিভিন্ন পেশা, শ্রেণি, সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এ মতবিনিময়সভায় অংশ নেন।

জুলাই সনদে একবিন্দু পর্যন্ত ছাড় দেব না : নাহিদ

জনগণের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা জুলাই সনদে একবিন্দু পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৫-এ এসব কথা বলেন তিনি। সম্মেলন আয়োজন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব উইং জাতীয় যুবশক্তি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের শক্তি, তারুণ্যের শক্তি এখনো রাজপথে আছে।
গত এক বছর ছাড় দিয়েছি, জুলাই ঘোষণাপত্রে ছাড় দিয়েছি, কিন্তু জুলাই সনদে কোনো ছাড় হবে না। এক পার্সেন্ট ছাড়ও জুলাই সনদে দেওয়া হবে না। যে মৌলিক সংস্কারের রূপরেখা জনগণের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, যে নতুন বন্দোবস্তের কথা আমরা বলেছি। যেখানে গণতন্ত্র নিশ্চিত হবে, স্বৈরাচার আর ফিরে আসতে পারবে না, রাষ্ট্র কাঠামোকে গণতান্ত্রিক হিসেবে গড়ে তুলব।
সেই জুলাই সনদে আমরা একবিন্দু পর্যন্ত ছাড় দেব না।’

২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একাত্তর-পরবর্তী বাকশাল কায়েম হয়েছে। ৯০-এর পর ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
’

নির্বাচন বিষয়ে নাহিদ বলেন, ‘নির্বাচন চাই, কিন্তু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। জাতীয় ঐক্য ধরে না রাখা গেলে, দেশকে স্থিতিশীল না রাখা গেলে আরেকটি এক-এগারো আসবে।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘সংশোধন ও সংস্কার নিজেদের ঘর থেকে শুরু করতে হবে। চাঁদাবাজি কোনো রাজনৈতিক দলের ইমেজের জন্য ভালো নয়। যারা সুবিধা নেওয়ার জন্য দলে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
’

নাহিদ আরো বলেন, ‘নাগরিক পার্টি যেমন রাজপথ থেকে গড়ে ওঠা দল এবং সারা দেশে সংগঠিত হচ্ছে, তেমনি যুবশক্তিও রাজপথ থেকে গড়ে ওঠা দল। যুবশক্তি শুধু জাতীয় নাগরিক পার্টির ভ্যানগার্ড নয়, দেশের ভ্যানগার্ড হবে। ক্ষমতার নির্ধারকরা যদি তরুণদের প্রতারিত করে তাহলে এ দেশের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না।’

মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে ২ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত

টাকা না পাওয়ায় এক ব্যক্তিকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালতে দায়ের হওয়া এক মামলার প্রেক্ষিত্রে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বরখাস্ত হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোহসিন ও কনস্টেবল মো. আজাদ।
তারা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (পোর্ট জোন) কর্মরত ছিলেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (বন্দর) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘অভিযোগ ওঠার পর ও আদালতে মামলা দায়ের হওয়ার পর দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুই পুলিশ সদস্য, তাদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে। অভিযোগ প্রমাণ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
’

এর আগে গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর ডাবলমুরিং থানা এলাকার বাসিন্দা সাবিনা আক্তার চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালতে একটি মামলা করেন। যেখানে তিনি অভিযোগ করেন দুই পুলিশ সদস্য টাকা না পেয়ে তার ভাইকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ২২ জুলাই তার ভাইকে কদমতলী মোড় থেকে আটক করে মনসুরাবাদ গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে নিয়ে যান। জাকিরের পরিবারের সদস্যরা ডিবি অফিসে গেলে ওই দুই পুলিশ সদস্য জানান, জাকিরের কাছ থেকে ৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।
তারা বলেন, ১ লাখ টাকা দিলে মামলায় মাত্র ৪০০ ইয়াবা উদ্ধার দেখানো হবে, আর ২ লাখ টাকা দিলে মামলা ছাড়া তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগে জাকিরের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় মামলা দেওয়া হয়। আদালত এই মামলার তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী, জাকির হোসেন ২০১৯ সালে সদরঘাট থানায় দায়ের হওয়া আরেকটি মাদক মামলার আসামি ছিলেন।

বাবা হারালেন আতিফ আসলাম

বাবা হারালেন পাকিস্তানি সংগীত তারকা আতিফ আসলাম। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৭৬ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গায়কের বাবা মুহাম্মদ আসলাম।

আতিফ আসলামের বাবার জানাজার নামাজ লাহোরের ভ্যালেন্সিয়া টাউনে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পরিবার, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে একত্রিত হবেন।

আতিফ আসলাম পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক। বিশেষ করে ভারতীয় চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার জন্য তিনি বেশি সুপরিচিত। ১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী ২০০০ সালের শুরুর দিকে তার প্রথম অ্যালবাম ‘জলপরী’ দিয়ে সংগীতজীবন শুরু করেন।

আতিফ মূলত উর্দু ভাষায় গান করলেও আরো বেশ কয়েকটি ভাষায় গেয়েছেন।
তমঘা-ই-ইমতিয়াজ এবং লাক্স স্টাইল অ্যাওয়ার্ডসের মতো সম্মানজনক পুরস্কার জিতেছেন তিনি। তিনি ‘বোল’ নামের একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। ফোর্বস এশিয়ার ১০০ তারকার তালিকায় স্থান পেয়েছেন এই কণ্ঠশিল্পী।

সূত্র : পাকিস্তান অবজারভার

সততার সঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশের সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে : তারেক রহমান

প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা এড়িয়ে সাহস এবং সততার সঙ্গে এগিয়ে গেলে বাংলাদেশের সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিশ্ব সমাজে নিজেদের গর্বিত অংশীদারি নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ-বিদেশের চলমান বাস্তবতায় বিএনপির আগামী দিনের নীতি—জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি। তাই ব্যাপক হারে দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি।
এ জন্য তরুণ যুবশক্তিকে প্রযুক্তিনির্ভর করে দক্ষ জনশক্তিতে কিভাবে রূপান্তর করা যায়—এটি হবে আমাদের রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা এড়িয়ে সাহস এবং সততার সঙ্গে এগিয়ে গেলে আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার সব দুয়ার উন্মোচিত হবে। বাংলাদেশের জনসংখ্যাই হতে পারে সাফল্য এবং সমৃদ্ধির নিয়ামক। সাধারণভাবে একটা দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি যখন কর্মক্ষম শ্রমশক্তি থাকে সেটি হলো কিন্তু ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড।
এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের বিবেচনায় দেশের বর্তমান জনসংখ্যা দেশের উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। বয়সের হিসাবে আমাদের জনসংখ্যার অধিকাংশই কিন্তু কর্মক্ষম। শুধু এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে আমাদের রূপান্তর করা প্রয়োজন। এ কারণেই বিএনপি মনে করে দেশের জনসংখ্যাকে বিশেষ করে তরুণ এবং যুবশক্তিকে কারিগরি নির্ভর শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে বর্তমান জনসংখ্যা দেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে।
’

তিনি আরো বলেন, ‘স্লোগাননির্ভর রাজনীতির দিন ফুরিয়ে এসেছে। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিশ্বাস করে।’ এ ছাড়া দেশের জনগণের শক্তি প্রতিষ্ঠায় সবার সমর্থন প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিন, দেশ গড়ার সুযোগ দিন। ভোট দিলে ধানের শীষে, দেশ গড়ব মিলেমিশে।

জাতীয় স্বার্থে খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম চলবে

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও কেপি সরকারের আপত্তি সত্ত্বেও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাপ) অনুযায়ী খাইবার পাখতুনখোয়ায় (কেপি) সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

অভ্যন্তরীণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে সাবেক স্পিকার ও পিটিআই নেতা আসাদ কায়সারের এক বক্তব্যের জবাবে বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নেওয়া এমন পদক্ষেপ বন্ধ করার অধিকার কারো নেই।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রাদেশিক সরকারেরও সন্ত্রাস মোকাবিলার দায়িত্ব রয়েছে এবং কেপি প্রদেশ সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থার জন্য জাতীয় অর্থ কমিশন (এনএফসি) অ্যাওয়ার্ড থেকে ৭০০ বিলিয়ন রুপি পেয়েছে।

কেপি ও বেলুচিস্তান সবচেয়ে ভয়াবহ ধরনের সন্ত্রাসের শিকার—যা নাগরিকদের জীবন, সম্পদ ও রাষ্ট্রের প্রতীকী স্থাপনাগুলোর জন্য বড় হুমকি—তাই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা মূলত প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্ব হলেও সক্ষমতার ঘাটতি বা রাজনৈতিক কারণে অনাগ্রহ দেখা দিলে কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করে।

যখন প্রতিমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখনই দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের এক জনবহুল বাজারে পুলিশের টহল গাড়িতে দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা হামলায় অন্তত চারজন বেসামরিক নিহত ও ১৪ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যও ছিলেন। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—কেপি ও বেলুচিস্তানে প্রায় প্রতিদিনই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষ হামলার শিকার হচ্ছেন। তবু দুঃখজনকভাবে কিছু মহল এ গুরুতর ইস্যুতেও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রতিমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) জঙ্গিরা একসময় সেনাবাহিনীর অভিযানে আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে পিটিআই সরকার তাদের ফিরিয়ে এনে প্রদেশে বসবাসের সুযোগ দেয়। এখন সেই জঙ্গিরাই সীমান্তের ওপারের প্রভুদের সহযোগিতায় রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৭০০ বিলিয়ন রুপি পাওয়ার পরও কেন প্রদেশে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।

সন্ত্রাসে জড়িত বা উন্নয়নের পথে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য কোনো স্থানীয় বা রাজনৈতিক সমর্থন থাকা উচিত নয়।
সেনা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং প্রদেশ ও দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগ করছে—তাদের হাত শক্তিশালী করাই সবার দায়িত্ব।

সূত্র : পাকিস্তান অবজারভার

অবশেষে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন রোনালদো

অবশেষে সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত এসে গেল—নয় বছরের সম্পর্কের পর প্রেমিকা জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। গুচির এক শোরুম থেকে শুরু হওয়া মহাতারকার প্রেমের গল্পটি এবার পাচ্ছে আনুষ্ঠানিক পরিণতি।

শুরুটা ২০১৬ সালের মাদ্রিদের এক শীতের বিকেলে। বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছিল সন্ধ্যার দিকে।
সাধারণ দিনের মতোই দিনটি এগোচ্ছিল, যতক্ষণ না সানগ্লাস পরে গুচির শোরুমে প্রবেশ করলেন রোনালদো। তখন কাউন্টারের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তরুণী বিক্রয়কর্মী জর্জিনা রদ্রিগেজ।

রোনালদোর দুনিয়াজোড়া খ্যাতির সামনে জর্জিনা ছিলেন একেবারেই সাধারণ। তবু চোখের দৃষ্টিই বদলে দিল দুই জীবনের গতি।
প্রথম দেখাতেই যেন শুরু হয়ে গেল এক নতুন প্রেমের অধ্যায়। শুরুতে কথাবার্তা বেশি হয়নি, কিন্তু সেই মুহূর্তে যে কিছু একটা জন্ম নিয়েছে, তা দুজনই টের পেয়েছিলেন। এরপর নানা অজুহাতে দেখা করতে শুরু করলেন তারা। প্রথম দিকে দুজনেই সম্পর্কটি গোপন রেখেছিলেন।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফা দ্য বেস্ট পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রথমবার প্রকাশ্যে দেখা যায় রোনালদো–জর্জিনাকে। এরপর প্রেমের গুঞ্জন মিলল বাস্তবতার সিলমোহর। একই বছরের নভেম্বরে জন্ম নিল তাদের কন্যা আলানা মার্তিনা। জর্জিনা তখনই রোনালদোর অন্য সন্তানদেরও আপন করে নেন। ২০২২ সালে আবারও মা–বাবা হলেন তারা—এবার তাদের কোলে আসে কন্যা বেলা এস্মেরলাদা।

শুধু সন্তানদের যত্নই নয়, রোনালদোর প্রতিটি সাফল্য ও কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন জর্জিনা। এদিকে সময়ের সঙ্গে তিনিও জায়গা করে নিয়েছেন ফ্যাশন ও বিনোদন দুনিয়ায়। তবে এত বছর পার হলেও সম্পর্কটি আনুষ্ঠানিক না হওয়ায় ভক্তদের মনে এক ধরনের অপেক্ষা থেকেই যাচ্ছিল।

১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ল ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ এক মাস বাড়ানো হয়েছে। কমিশনকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।
সে সময় কমিশনকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছিল, যা শেষ হচ্ছে আগামী ১৫ আগস্ট।

কমিশনটি ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বিবেচনা ও গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত।

ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। অন্য সদস্যরা হলেন— জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের কার্যক্রম শুরু করে। কমিশনটি নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন বিষয়ক সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশগুলো পর্যালোচনা ও গ্রহণের জন্য কাজ করছে। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ প্রণয়ন করছে। কমিশনের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘কোক প্লান্টে’ বিস্ফোরণে নিহত ২, আহত ১০

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে ইউএস স্টিলের একটি কোক প্লান্টে সোমবার (স্থানীয় সময়) একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজন শ্রমিক নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ‘কোক’ মূলত কার্বনসমৃদ্ধ একটি কঠিন পদার্থ, যা ইস্পাত উৎপাদনে একটি জ্বালানি এবং বিজারক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর জোশ শাপিরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে বলেন, ‘আজ ইউএস স্টিল ক্লেয়ারটন কোক ওয়ার্কসে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে।’ এই প্লান্টটি পিটসবার্গ শহর থেকে প্রায় ১৫ মাইল (২৫ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত।

গভর্নর আরো জানান, আহত কর্মীদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে এবং এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।

ইউএস স্টিল এবং অ্যালেগেনি কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ খুঁজে পেতে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়েছে। একজন নিখোঁজ আহত ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া আরো ৯ জনকে বিভিন্ন ধরনের আঘাত নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইউএস স্টিল জানিয়েছে, সোমবার সকাল ১১টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৩টা) এ ঘটনা ঘটে এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবাদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।

ইউএস স্টিলের সিইও ডেভিড বুরিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ ধরনের কঠিন সময়ে ইউএস স্টিলের কর্মীরা একে অপরের পাশে দাঁড়ান। আমরা আমাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা এবং সমর্থন জানাচ্ছি ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি।
’ কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে (যেগুলোর সত্যতা এএফপি যাচাই করেনি) দেখা যায়, ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন জ্বলে যাওয়া একটি ভবনের সামনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, ক্লেয়ারটন কোক ওয়ার্কস যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় কোক উৎপাদনকারী কারখানা। এখানে কয়লা প্রক্রিয়াজাত করে কোক তৈরি করা হয়, যা ইস্পাত উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং উদ্ধারকাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র : এএফপি