শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

পুতিন-পেজেশকিয়ানের পরমাণু ফোনালাপ, কাল ইউরোপ-তেহরান বৈঠক

তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সোমবার আলোচনা করেছেন রাশিয়া ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা। অকার্যকর হয়ে পড়া ২০১৫ সালের চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে ইউরোপীয় শক্তিগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এ আলোচনা হলো।

ক্রেমলিন সোমবার জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন টেলিফোনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন এবং তারা ‘ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি’ নিয়ে আলাপ করেন। তবে কী আলোচনা হয়েছে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

পাশাপাশি ইরানি প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ইরানের ‘সমৃদ্ধকরণের অধিকার’ সমর্থনের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ইরান ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাইছে না এবং কখনো চাইবেও না’।

এদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরান যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের সঙ্গে সহযোগিতা পুনঃস্থাপন করতে রাজি না হয়, তবে তারা জাতিসংঘের সেই নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহালের জন্য ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’ সক্রিয় করবে, যা ওই চুক্তির অধীনে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, জেনেভায় মঙ্গলবার ইউরোপের এই তিন দেশের সঙ্গে আলোচনা করবে তেহরান।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে দুই দেশ রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করেছে।
বর্তমান অচলাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু আলোচনা শুরুর আগে ইরান নিয়মিতভাবে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে অবস্থান সমন্বয় করার চেষ্টা করে আসছে। রাশিয়ার বাণিজ্যিক দৈনিক কোমেরসান্ত সোমবার জানিয়েছে, মস্কো ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে।

পত্রিকাটি রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বে স্থগিত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের জন্য প্রক্রিয়া সক্রিয় করার হুমকি ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে গুরুতর অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ।’

রাশিয়া ২০১৫ সালের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএর স্বাক্ষরকারী দেশ, যার মাধ্যমে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার বিনিময়ে তাদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

তেহরান চুক্তির স্ন্যাপব্যাক ধারা প্রয়োগের বৈধতা অস্বীকার করেছে এবং অভিযোগ করেছে, ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেরাই চুক্তির প্রতিশ্রুতি পালন করেনি।

এ বছরের শুরুতে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আইএইএ তা নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে।

জাপানে আটক অবস্থায় নির্দোষ ব্যক্তির মৃত্যু, ক্ষমা চাইল পুলিশ

জাপানে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘ সময়ের আটক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা এক ব্যবসায়ীর পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির শীর্ষ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কর্মকর্তারা। এএফপি সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।

যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওকাওয়ারা কাকোহকির সাবেক উপদেষ্টা ছিলেন শিজুও আইশিমা, তিনজন কোম্পানি নির্বাহীর একজন যাদেরকে মাসের পর মাস অবৈধভাবে প্রাক-বিচার হেফাজতে রাখা হয়েছিল—যে অভিযোগগুলো পরবর্তীতে বাতিল হয়।

মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে জাপানের তথাকথিত ‘জিম্মি বিচার’ প্রথার অবসান দাবি করে আসছেন, যেখানে তদন্তকারীরা স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য আসামিদের দীর্ঘ সময় আটক রাখেন।

টোকিও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর দপ্তর ও টোকিও প্রসিকিউটর অফিসের কর্মকর্তারা সোমবার আইশিমার পরিবার ও তার সমাধিস্থল পরিদর্শন করেন।

টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-সুপারিনটেনডেন্ট জেনারেল তেতসুরো কামাতা পরিবারের সঙ্গে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বৈঠকে বলেন, ‘আমরা বেআইনি তদন্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

আইশিমার স্ত্রী বলেন, ‘আমি ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করছি, কিন্তু আমি কখনোই ক্ষমা করতে পারব না।’

২০২০ সালের মার্চে ওই তিনজনের ওপর অভিযোগ আনা হয়, তারা স্প্রে ড্রায়ার অবৈধভাবে রপ্তানি করেছেন, যা দিয়ে জীবাণু অস্ত্র তৈরি সম্ভব—যদিও তারা দাবি করেছিলেন রপ্তানিটি বৈধ।

আইশিমার শরীরে ২০২০ সালের অক্টোবরে অগ্রসরমান ক্যানসার ধরা পড়ে। তবুও মুক্তি দিলে তিনি প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন এই যুক্তিতে প্রসিকিউটররা তাকে আটকে রাখেন। এক মাস পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আইশিমার সঙ্গে দেখা না করার শর্তে তার দুই সহকর্মীকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি দেওয়া হয়—ফলে ওই মাসেই মারা যাওয়ার আগে তারা তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

পরবর্তীতে অভিযোগগুলো বাতিল করা হয় এবং আইশিমার পরিবার ও সহকর্মীরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

টোকিও হাইকোর্ট রায়ে বলেছে, তদন্ত, গ্রেপ্তার ও অভিযোগপত্র—সবই বেআইনি ছিল ও কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত ছিল না।

পরিবারের আইনজীবী সুযোশি তাকাদা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আদালতের অনুমোদনে বারবার দেওয়া এই আটকাদেশ একজন বিচারকের একক ভুল নয়। আমাদের সব বিচারকের ভুল মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। আদালতকে এই ঘটনার শিক্ষা নিতে হবে এবং ভাবতে হবে, ভবিষ্যতে যেন আর কেউ ‘জিম্মি বিচার’ প্রথার শিকার না হয়।
”

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৫২ কর্মকর্তাকে রদবদল

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি), উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ৫২ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

আজ সোমবার সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মর্যাদার ১২ জনকে অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়েছে। সুপার নিউমারারি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬ জনকে নিয়মিত ডিআইজি করা হয়েছে।

অপর এক প্রজ্ঞাপনে ১২ জন ডিআইজির দপ্তর বদল করা হয়েছে। আরেকটি প্রজ্ঞাপনে পুলিশ সুপার মর্যাদার ১৪ জনকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

জানুয়ারির প্রথমেই সব বই হাতে পাবে শিক্ষার্থীরা : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

জানুয়ারির প্রথমেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই বিতরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার বায়রাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকের বইয়ের টেন্ডার চলছে। আগামী জানুয়ারির প্রথমেই শিক্ষার্থীরা তাদের সব বই হাতে পাবে।’

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষকদের পারফরম্যান্স মোটামুটি ভালো।
বর্ষা মৌসুমে হাওরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়াতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিভাবকদের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ডা. বিধান রঞ্জন জেলার কেন্দুয়া উপজেলা, সদর উপজেলার মদনপুরসহ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি জেলা শহরের সাতপাই এলাকায় বরেণ্য লেখক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রাবন্ধিক প্রয়াত অধ্যাপক যতীন সরকারের শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পড়াশোনার মান উন্নয়নের উদ্যোগ নিচ্ছি।
এটি সফল হলে অভিভাবকরা সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে আগ্রহী হবেন। হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সম্পৃক্ত করে সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে।’

নীরবতা ভেঙে ‘জবাব’ নিয়ে আসছেন অপু বিশ্বাস!

কিছুদিন আগে ‘আইজ অন’ ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের ‘স্টার ডায়েরি’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিয়ে নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন অপু বিশ্বাস।

সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব যখন প্রচার হয়, তখন নিজের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় নীরবতা পালন করছিলেন এই নায়িকা। ওদিকে শাকিব খান তার ছোট সন্তান শেহজাদ খান বীর এবং তার সন্তানের মা শবনম বুবলীকে নিয়ে আমেরিকায় কোয়ালিটি টাইম পার করছেন।

স্বামী ও সন্তান নিয়ে আমেরিকা ট্যুরের কিছু ছবি বুবলী প্রকাশ করার পর থেকেই নেটিজেনদের মাঝে অপেক্ষার প্রহর শুরু হয় কখন প্রতিক্রিয়া জানাবেন অপু বিশ্বাস।

‘আইজ অন’ চ্যানেলের স্টার ডায়েরি সেলিব্রিটি শোতেই সব কৌতূহলের জবাব দেন এই নায়িকা।

চলতি সময়ে আলোচিত উপস্থাপক সমৃদ্ধির একের পর এক প্রশ্নের মোকাবেলায় এক অন্য অপু বিশ্বাসকে আবিষ্কার করেন নেটিজেনরা। এবার আসছে এর দ্বিতীয় পর্ব।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এটি প্রচার হবে আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টায়।
এই পর্বেও রয়েছে দারুণ টুইস্ট।

ব্রাজিল দল ঘোষণার ঠিক আগে ইনজুরিতে নেইমার

প্রায় ২ বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে নেইমার জুনিয়র। আগামী সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখার স্বপ্নে মেতেছিলেন ভক্ত-সমর্থকরা। তবে সে আশায় গুঁড়েবালি। ইনজুরির কারণে আবারও ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিল জার্সিতে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছিলেন নেইমার। এরপর দু’বার দলে ডাক পেলেও চোটের কারণে ছিটকে যান। চিলি ও বলিভিয়ার বিপক্ষে আসন্ন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলে ফেরার জোর সম্ভাবনা ছিল নেইমারের। তবে দল ঘোষণার ঠিক আগের দিন নতুন করে ঊরুর ইনজুরিতে পড়েছেন এই সান্তোস ফরোয়ার্ড।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, অনুশীলনে ব্যথা অনুভব করছিলেন নেইমার। পরবর্তীতে পরীক্ষা করলে তার ঊরুতে চোট ধরা পড়ে। সান্তোস ক্লাব ইতিমধ্যেই বিষয়টি ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনকে (সিবিএফ) জানিয়েছে। ক্লাব জানিয়েছে, নেইমারের ঊরু ফুলে গেছে এবং তিনি চিকিৎসা শুরু করেছেন।

চোট কাটিয়ে সান্তোসের হয়ে টানা সাত ম্যাচ পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলে জাতীয় দলে ফেরার দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন নেইমার। তবে আনচেলত্তি শুরু থেকেই তাকে নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন বলে দাবি করেছে কিছু সংবাদমাধ্যম। সবকিছু ঠিক থাকলে নেইমার ৩১ আগস্ট সান্তোসের ক্যাম্পে ফিরবেন। অন্যদিকে ৫ ও ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে যথাক্রমে চিলি ও বলিভিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।

ইউক্রেনকে আর কখনোই আপসে বাধ্য করা যাবে না: জেলেনস্কি

ইউক্রেনকে আর কখনোই আপসে বাধ্য করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, তার দেশ আর কখনোই আপসের নামে কোনো চাপের মুখে পড়বে না।

এছাড়া ইউক্রেন তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে এবং ইউক্রেন ভিক্ষা চায় না বরং প্রস্তাব দেয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কূটনৈতিক উদ্যোগ চলার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি একথা বললেন।

রোববার (২৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির স্বাধীনতা দিবসে দেওয়া ভিডিও ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, “ইতিহাসে আর কখনোই ইউক্রেনকে সেই লজ্জা সহ্য করতে হবে না, যেটাকে রাশিয়ানরা ‘আপস’ বলে ডাকে। আমাদের প্রয়োজন ন্যায্য শান্তি। আমাদের ভবিষ্যৎ আমরা নিজেরাই নির্ধারণ করব। বিশ্ব তা জানে এবং সম্মানও করে।”

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ স্বীকার করছে যে কিয়েভ এখনো পুরোপুরি জয়ী হয়নি, তবে রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী ইউক্রেন কোনোভাবেই পরাজিতও হয়নি।

জেলেনস্কি আরও বলেন, “ইউক্রেন তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। ইউক্রেন কোনো ভুক্তভোগী নয়, বরং একটি যোদ্ধা। ইউক্রেন ভিক্ষা চায় না, বরং প্রস্তাব দেয়। আমরা টেকসই, নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জন করব, কারণ আমরা শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “এটি শুধু আমাদের লক্ষ্য নয়—এটি আমাদের সন্তান-নাতি-নাতনিদের জন্য রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার: শক্তিশালী ইউক্রেন, সমান মর্যাদার ইউক্রেন, ইউরোপীয় ইউক্রেন, স্বাধীন ইউক্রেন।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ১৫ আগস্ট আলাস্কায় ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সেই প্রচেষ্টা এগিয়েছে। পরে হোয়াইট হাউসে ওভাল অফিসে ট্রাম্প, জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়।

এমন সময়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি রোববার কিয়েভে পৌঁছান দেশটির স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে যোগ দিতে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আলাদা হওয়ার পর পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে কানাডাই প্রথম দেশ ছিল, যারা ইউক্রেনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

কার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, “ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে এবং তাদের ইতিহাসের এই সংকটময় মুহূর্তে কানাডা ইউক্রেনের প্রতি সহায়তা ও ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রচেষ্টা আরও জোরদার করছে।”

পরে এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইউক্রেনের প্রতি কানাডার সমর্থনকে “অটল” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আপনারা যখন সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই করছেন এবং আপনার স্বপ্ন পূরণের পথে এগোচ্ছেন, কানাডা প্রতিটি পদক্ষেপে আপনাদের পাশে আছে।”

জুলাই গণহত্যা : শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অষ্টম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অষ্টম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ।

আজ (সোমবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। আজ চারজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন সূত্র।

গত ২৪ আগস্ট সপ্তম দিনের সাক্ষ্য-জেরা শেষ হয়। ওই দিন তিনজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন— রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অফিস সহকারী মো. গিয়াস উদ্দিন, একই প্রতিষ্ঠানের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজিবুল ইসলাম ও কুষ্টিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাদের জেরা করেন শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা। এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১৯ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২০ আগস্ট ষষ্ঠ দিনে সাক্ষ্য দিয়েছেন চারজন। তারা হলেন— ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, একই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ পারভীন, ইবনে সিনা হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসানুল বান্না ও শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের মা সোনিয়া জামাল। ১৮ আগস্ট পঞ্চম দিনের সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ আস-সাবুরের বাবা মো. এনাব নাজেজ জাকি, শহীদ ইমাম হাসান তাইমের ভাই রবিউল আউয়াল ও রাজশাহীর প্রত্যক্ষদর্শী জসিম উদ্দিন।

গত ১৭ আগস্ট চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেন— সবজি বিক্রেতা আবদুস সামাদ, মিজান মিয়া, শিক্ষার্থী নাঈম শিকদার ও শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহীনা বেগম। ৬ আগস্ট প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দেন রিনা মুর্মু ও সাংবাদিক একেএম মঈনুল হক। ৪ আগস্ট জবানবন্দি দেন পঙ্গু হওয়া শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ইমরান ও দিনমজুর চোখ হারানো পারভীন। ৩ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার সূচনা বক্তব্যের পর প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আন্দোলনে আহত খোকন চন্দ্র বর্মণ। ি

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও আসামি হিসেবে রয়েছেন। তবে নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য এই প্রশংসা করেছে দেশটি। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাওয়া এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোরও প্রশংসা করেছে ওয়াশিংটন।

স্থানীয় সময় রোববার (২৪ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে দেওয়া এক প্রেস বিবৃতিতে একথা বলেন দপ্তরের প্রিন্সিপাল ডেপুটি স্পোকসপারসন টমাস “টমি” পিগট।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়েছে, যার মধ্যে সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীও রয়েছে। পাশাপাশি, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে (যুক্তরাষ্ট্র) ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোরও প্রশংসা করেছে, যারা মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে ছিল চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

এছাড়া প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিচ্ছে ক্যাম্পগুলোতে। সম্প্রতি নতুন করে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গাসহ বর্তমানে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন বাংলাদেশে।

স্পন্সর ছাড়াই এশিয়া কাপে খেলতে হবে ভারতকে!

কিছুদিন আগে নতুন ‘অনলাইন গেমিং বিল’ পাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন আইন অনুযায়ী অনলাইনে টাকার বিনিময়ে খেলা হয় এমন সব ধরনের অ্যাপকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এদিকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান স্পনসর ‘ড্রিম ১১’ এই ধরনেরই এক অ্যাপ। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান স্পনসর হিসেবে আর থাকতে চাইছে না ‘ড্রিম ১১’। যে কারণে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে স্পনসর ছাড়াই এশিয়া কাপে খেলতে হতে পারে।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এক রিপোর্টে এ কথা জানিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা তাদের বলেছেন, “ড্রিম ১১-এর প্রতিনিধিরা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অফিসে এসেছিলেন। বোর্ডের সিইও হেমঙ্গ আমিনের সঙ্গে তারা দেখা করে জানিয়েছেন, স্পনসর হিসেবে আর থাকতে পারবে না ড্রিম ১১। ফলে এশিয়া কাপে দলের কোনো প্রধান স্পনসর থাকবে না। খুব তাড়াতাড়ি বোর্ড নতুন স্পনসরের জন্য দরপত্র হাঁকবে।”

বোর্ডের আরও এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাঝপথে চুক্তি ভাঙায় ‘ড্রিম ১১’-কে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। কারণ, বোর্ডের সঙ্গে যখন তাদের চুক্তি হয়েছিল, তখন সেখানে লেখা ছিল, যদি সরকারের কোনো নীতির কারণে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে তারা চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। চুক্তির এই শর্তই কাজে লাগাচ্ছে ‘ড্রিম ১১।’

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান স্পনসর ‘ড্রিম ১১।’ বোর্ডের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি রয়েছে তাদের। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ভারতের প্রধান স্পনসর তারা। বোর্ডের সঙ্গে ৩৫৮ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির। সেই চুক্তি মাঝপথে ভাঙতে চলেছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বিসিসিআই। ‘ড্রিম ১১’-ও কোনো বিবৃতি দেয়নি।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া বলেছেন, “যদি অনুমতি না পাই, তা হলে আমরা কিছু করতে পারব না। কেন্দ্রীয় সরকার যা নীতি নেবে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে ক্রিকেট বোর্ড।” অর্থাৎ, এশিয়া কাপে প্রধান স্পনসর থাকবে কি না তা স্পষ্ট করেননি শইকীয়া। পুরোটাই কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। এর মাঝেই জানা গেছে, ‘ড্রিম ১১’-ই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াতে চাইছে।