শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

অভিনেতা অঙ্কুশকে ইডির তলব

অবৈধ অনলাইন বেটিং অ্যাপের প্রচারণার সঙ্গে জড়িত থাকায় মামলা করা হয়েছিল অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরার নামে। এবার তাকে সমন পাঠাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

এ মামলায় মাসখানেক আগেই ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে ইডি। তালিকায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনেতা এবং নেটপ্রভাবী।
সেই তালিকায় ছিলেন দক্ষিণী তারকা রানা ডগ্গুবতী থেকে কপিল শর্মা, বিজয় দেবরকোন্ডাসহ একাধিক তারকা। এর আগে আর কোনও টলিউড তারকার নাম জড়ায়নি এই ঘটনায়।

ভারতীয় গণমাধ্যমে সূত্রে খবর, পূজার আগেই এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে।

ওই অ্যাপগুলির হয়ে প্রচার করার বিনিময়ে তারা আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই বেআইনি বেটিং অ্যাপগুলি অবৈধভাবে কয়েক কোটি টাকা উপার্জন করেছে। তদন্তকারী সংস্থার নজর এড়াতে হাওয়ালার মাধ্যমে সেই টাকা ঘোরানো হয়েছে বলেও অভিযোগ।

জরুরি বৈঠকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনাসহ সার্বিক বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নানা মহলে চলছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা। এমন পরিস্থতিতে জরুরি বৈঠকে বসেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শনিবার (৩০ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বৈঠকের বিষয়টি জানিয়েছেন।

নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক চলছে। সিভিলে থাকা যে ব্যক্তি ছাত্রনেতা সম্রাটকে মারধর করেছেন তাকে আটক করা হয়েছে কিনা বা তার পরিচয় উদঘাটন হয়েছে কিনা— সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।

গণ অধিকার পরিষদের ওপর লাঠিচার্জের সময় পুলিশ-সেনা বাহিনীর সামনে লাল পোলো-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে ছাত্রনেতা সম্রাটকে এলোপাথাড়ি লাঠিপেটা করতে দেখা যায়।
তখন তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য দাবি করলেও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এখনো তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। ঘটনার পর নুরকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাত ১১টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, হামলায় নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে। চোখের ওপরে আঘাত রয়েছে, মাথায় সামান্য রক্তক্ষরণ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আহত অবস্থায় রাতে হাসপাতালে আনা হলে প্রথমে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দেখেন। সেখান থেকে তাকে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) রাখা হয়। পরে রাতেই আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রাতেই পাঁচ বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয় এবং তাদের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার বর্তমান অবস্থা স্টেবল (স্থিতিশীল) রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা না যাওয়া পর্যন্ত অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলছি না। তার মস্তিষ্কে যে রক্তক্ষরণ হয়েছে, সেটা ওষুধে ভালো হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’

যে কারণে ভারতীয় দম্পতিদের ৩ সন্তান নেওয়ার আহবান জানালেন আরএসএস প্রধান

প্রত্যেক ভারতীয়কে দম্পতিদের তিনটি করে সন্তান নেওয়া আহবান জানালেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। তার দাবি, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনটির কম সন্তান হলে বংশবিস্তারের গতি ধীর হয়ে যায়। এর ফলে পরিবার বা সম্প্রদায় ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। গত বৃহস্পতিবার আরএসএসের প্রতিষ্ঠা শতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং

তিনি বলেন, ‘দেশে জন্মহার ২.১ রাখতে হবে।
ভারতের জনসংখ্যা নীতিতে ২.১ সন্তান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা গড় হিসেবে সঠিক। কিন্তু কখনোই ০.১ সন্তান থাকতে পারে না। গণিত অনুযায়ী, ২.১ হলে সেটা ২ হয়ে যায়, কিন্তু জন্মের ক্ষেত্রে দুইয়ের পরে তিনটি সন্তানের প্রয়োজন।’ তার দাবি, চিকিৎসকরা তাকে এমনটাই বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, ভারতের জন্য তিনটি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ অন্য অনেক দেশেও প্রচলিত রয়েছে। জনসংখ্যা বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণায় এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, যদি কোনো জাতির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.১ এর নিচে নেমে যায়, তবে সেই সমাজ অবলুপ্তির পথে চলে যায়।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ধ্বংসের জন্য বাইরে থেকে কোনো আক্রমণের প্রয়োজন হয় না, সেই জাতি নিজেই ধ্বংস হয়ে যায়।’ তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ‘অনেক ভাষা এবং সভ্যতা এর আগে এমনভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কখনও ২.১ এর নিচে হতে দেওয়া উচিত নয়।’

সুত্র : আনন্দবাজার

‘সে আমার’, রহস্যজনক পোস্ট পরীমনির

চিত্রনায়িকা পরীমনি বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় থাকেন। কখনো প্রেম, কখনো বিয়ে কিংবা বিচ্ছেদ; সব নিয়েই থাকে ভক্তদের মাঝে কৌতূহল। এবারও একটি রহস্যময় ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে নায়িকার নতুন প্রেমের জল্পনা।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নিজের ফেসবুকে সানগ্লাস পরিহিত একটি ছবি পোস্ট করেন নায়িকা।
এলোমেলো চুলে স্নিগ্ধ রূপে পরী। সানগ্লাস পরা ছবিটি পোস্ট করে পরীমণি লিখেছেন, ‘এই সানগ্লাস আমার নয়, কিন্তু সে আমার। সবাইকে জানাই শুক্রবারের শুভেচ্ছা।’ বেশ রহস্য রেখেই পোস্টটি লিখেছেন পরীমনি, যা নজর এড়ায়নি ভক্তদের।
কে সেই ব্যক্তি, যাকে নিজের দাবি করছেন পরীমনি?

এদিকে, পরীমনির পোস্টে অুনরাগীরা জানতে চেয়েছেন, কে সেই ব্যক্তি? কেউ মন্তব্য করে লিখেছেন, ‘পরবর্তী প্রেমিক তাহলে কে?’ কেউবা লিখেছেন এমন, ‘ভালোবাসাই শক্তি।’ কেউ কেউ পরীমনির রুপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো চিত্রনায়িকা পরীমণির জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। আবার এই সম্পর্ক নিয়েও কোনো রাখঢাক রাখেন না আলোচিত এই চিত্রনায়িকা।
শরিফুল রাজের সঙ্গে ডিভোর্সের পর দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়েই এখন পরীমনির সংসার। বর্তমানে ‘সিঙ্গেল মাদার’ হিসেবে সন্তানদের বড় করে তুলছেন তিনি। মাঝে পরীমনির মামলায় জামিনদার হতে দেখা গিয়েছিল সংগীতশিল্পী শেখ সাদীকে, এরপর শোনা গিয়েছিল তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের কথাও। গত ১০ আগস্ট ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে পরীমনির ছেল পদ্মের জন্মদিনের আয়োজনেও গায়ক সাদীকে দেখা গেছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে ফের গুঞ্জন।
তবে প্রেমের বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করেছেন সাদী ও পরী দুজনেই।

চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলতে ৬ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ‘এশিয়ায়’ আসছে রিয়াল

প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার দূরের সফর। ১২ ঘণ্টার ক্লান্তিকর ফ্লাইট শেষে কাজাখস্তানের আলমাতি শহরে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ। ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশে একসঙ্গে ছড়িয়ে আছে কাজাখস্তান। আর আলমাতি শহরটির অবস্থান এশিয়ায় চীনের ঠিক উপরেই।

সেখানে রেকর্ড দূরত্ব অতিক্রম করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নবাগত দল এফসি কাইরাতের বিপক্ষে খেলাটা সহজ হবে না ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের জন্য। খেলোয়াড়রা কেমনভাবে এই চ্যালেঞ্জ সামলায়, সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে জানালেন রিয়াল কোচ জাভি আলোনসো।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন ফরম্যাটে লিগ পর্বে প্রতিপক্ষের মাঠে চারটি ম্যাচ খেলতে হবে রিয়ালকে। তার মধ্যে সবচেয়ে দূরের ভ্রমণ আলমাতি।
এই কয়রাতই আবার এ মৌসুমে প্রথমবারের মতো খেলছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। বাছাইপর্বের প্লে–অফে গত মঙ্গলবার সাবেক চ্যাম্পিয়ন সেল্টিককে টাইব্রেকারে হারিয়ে তারা পেয়েছে মূল পর্বের টিকিট।

গত মৌসুম থেকে শুরু হওয়া নতুন আঙ্গিকে ৩৬ দলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। রিয়াল ঘরের মাঠে খেলবে ম্যানচেস্টার সিটি, ইউভেন্তুস, মার্সেই ও মোনাকোর বিপক্ষে।
আর প্রতিপক্ষের মাঠে চারটি ম্যাচ তাদের সামনে—লিভারপুল, বেনফিকা, অলিম্পিয়াকোস ও এফসি কয়রাত।

লা লিগায় মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে আলোনসো বলেন, ‘গ্রুপটা কঠিন হলেও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। এরমধ্যে আলমাতি সফর হবে বিশেষ কিছু, দেখা যাক আমরা কীভাবে এটি সামলাতে পারি।’

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি ভবনে আগুন দিলেন বিক্ষোভকারীরা, নিহত ৩

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় পুলিশের গাড়িচাপায় এক রাইডশেয়ার চালকের মৃত্যু মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার শুধু মাকাসার বা জাকার্তাই নয়, ইন্দোনেশিয়ার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জাভার যোগজাকার্তা, বান্দুং, সেমারাং, সুরাবায়া এবং উত্তর সুমাত্রার মেদান শহরেও হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।

এদিকে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার মাকাসার শহরে এক কাউন্সিল ভবনে বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুন লেগে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন শহর কাউন্সিলের সচিব রাহমাত মাপাতোবা।

নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন স্থানীয় কাউন্সিলের কর্মী এবং একজন সরকারি কর্মচারী। দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান, অপরজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান।
অন্তত চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শহরগুলোর পুলিশ কার্যালায় ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের দমাতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করছে পুলিশ।

পুলিশের গাড়ি চাপায় ওই রাইডশেয়ার চালকের মৃত্যুর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে।
ওই চালক স্বল্প মজুরি ও সংসদ সদস্যদের বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধার বিরুদ্ধে আয়োজিত আগের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। মাকাসারে বিক্ষোভ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। প্রাদেশিক ও সিটি কাউন্সিল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা, একাধিক গাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং মলোটভ ককটেল ব্যবহার করে।

অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে রাতের আঁধারে প্রাদেশিক কাউন্সিল ভবনে আগুনের ভয়াবহ দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রাদেশিক কাউন্সিল ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা গেট ভাঙতে উদ্যত হয়।

অন্যদিকে রাজধানী জাকার্তায় শত শত বিক্ষোভকারী এলিট আধাসামরিক পুলিশ ইউনিট মোবাইল ব্রিগেড কর্পস (ব্রিমোব) সদর দপ্তরের সামনে সমবেত হয়। তারা নিহত চালক আফান কুনিয়াওয়ানের মৃত্যুর জন্য ওই ইউনিটকে দায়ী করেছে। বিক্ষোভকারীরা আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে জবাব দেয়। গেট ভাঙার চেষ্টা এবং ভবনের সাইনবোর্ড খুলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল দৃশ্যও দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, চালকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাতজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

এদিকে কাউন্সিল সচিব মাপাতোবা বলেন, ‘ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে আগুনে মারা গেছেন তিনজন। সাধারণত বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীরা শুধু পাথর ছোড়ে বা টায়ারে আগুন লাগায়। এবার তারা ভবনের ভেতরে ঢুকে আগুন ধরিয়েছে, যা আমাদের কল্পনার বাইরে।’

রাইডশেয়ার চালকের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। নিহত চালকের পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে যান তিনি। এটি প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর শাসনামলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এবং সহিংস বিক্ষোভ। প্রাবোও এর আগে দ্রুত রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার জনপ্রিয় কর্মসূচির অর্থ জোগাতে বাজেট কাটছাঁট করা হয়, যার মধ্যে বিলিয়ন ডলারের বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ কর্মসূচিও রয়েছে। এ কারণেও তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন।

সূত্র : এএফপি

পুরো বাংলাদেশ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ : ওসমান হাদী

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির সংগঠক শরিফ ওসমান হাদী বলেছেন, আমাদের অনেক ঝগড়াঝাঁটি আছে; কিন্তু বাংলাদেশ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা পুরো বাংলাদেশ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। সুতরাং কেউ যদি মনে করে, নির্বাচনের আগে স্বৈরাচারী সেই শক্তি ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনবে এবং ষড়যন্ত্র করবে, আমরা সেটা হতে দেব না। আমাদের সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদের সেক্রেটারি রাশেদ ভাই আছেন, দেখেন কী অবস্থা, আমাদের বড় ভাই মঞ্জু ভাই- উনি আছেন। আরো অনেকে কম সময়ের মধ্যে আসতে চেয়েছেন।
আমরা আপনাদের একটা কথা জানাতে চাই— গতকাল শুক্রবার রাতে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হওয়া হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

তিনি বলেন, গত এক বছর ধরে বিভিন্ন ঘটনায় আমরা কখনো ইনকিলাব মঞ্চ থেকে কখনো এবি পার্টি থেকে, কখনো গণ অধিকার পরিষদ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচুর প্রগ্রাম করার চেষ্টা করেছি। কথা বলেছি। কিন্তু যেইভাবে সংঘবদ্ধভাবে জুলাইয়ের শক্তির ওপরে আক্রমণ চলছে, আমরা আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, দিল্লির সেবাদাসের বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যত রাজনৈতিক দল এবং শক্তি আছেন— আজ রাতের মধ্যে সবাই নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হোন।

ভাইয়েরা আমার, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি, বাংলাদেশ বাঁচবে না। স্বাধীনতা বাঁচবে না, সার্বভৌমত্ব বাঁচবে না। জুলাইয়ের শক্তিদের যদি আজকে প্রকাশ্য দিবালোকে এ রকম পেটানো যায়, তাহলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নাই এইটা আপনাকে কে বলল? এখন আওয়ামী লীগের বি-টিম নাকি সি-টিম ক্ষমতায়, সেটা আমরা জানতে চাই।
ভাইয়েরা আমার, মঞ্জু ভাই নির্দিষ্ট একটা সময় ঘোষণা করবেন।
আমরা সবাই নিজেরা একত্র হয়েছি। সেই সময়ের মধ্যে কোনো একক উপদেষ্টার কথা বলছি না- পুরো সরকার। এখানে কারা হামলা করেছে প্রত্যেকের ফুটেজ আছে। সে আর্মি হোক, পুলিশ হোক, অন্য যেকোনো বাহিনীর হোক, আমরা জানি না। আমরা খুবই দায়িত্বশীল আচরণ করছি।
আমরা চাইলে এখন ঢাকাকে অচল করতে পারতাম। আমরা চাইলে এখন প্রচণ্ড এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো, যেটা সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হতো। আমরা সেটা চাই না। আমরা দেশের স্থিতিশীলতা চাই। এর মানে এই না যে জুলাইয়ের এই শক্তিগুলোকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেও আমরা সংযম দেখাব। আর সেটার মাধ্যমে আপনি আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনবেন।

সেটা আমাদের জীবন থাকতে হতে দেব না। সুতরাং বন্ধুরা আমার, নুরুল হক নূর এবং তার বন্ধুদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার নেতাকর্মীদের ওপর যে হামলা হয়েছে—এই হামলা তার একার ওপরে হয়নি। মঞ্জু ভাইয়ের ওপরেও হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের ওপরেও হয়েছে, সারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে শক্তির ওপর হয়েছে। সুতরাং মঞ্জু ভাই এখন সময় ঘোষণা করবেন, সেই সময়ের মধ্যে পুরো সরকার আমাদের জানাবে, তারা ঠিক কোন সময় এইখানে যারা উসকে দিয়ে এইভাবে পিটিয়ে আহত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি না নেন, আগামীকালকের মধ্যে এই সরকার ক্ষমতায় থাকবে কি থাকবে না তার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণ নেবে।

সুতরাং আওয়ামী লীগরে অথবা আওয়ামী লীগের কোনো বি-টিম বা সি-টিমকে ক্ষমতায় রাখার আর কোনো দায়বদ্ধতা আমাদের নেই। বন্ধুরা এবি পার্টির প্রধান মঞ্জু ভাইকে অনুরোধ করছি, তিনি এখন সময় ঘোষণা করবেন। এই সময়ের মধ্যে সরকার তার সিদ্ধান্ত জানাবে। নইলে তারপরে বাংলাদেশের জনগণ তার সিদ্ধান্ত জানাবে পাশে থেকে।

রিয়ালের বিপক্ষে অ্যানফিল্ডে খেলতে পারবে না লিভারপুল

চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের নাম থাকাটা এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা দ্বিতীয় মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে স্প্যানিশ জায়ান্টদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পেল ইংলিশ ক্লাবটি। তবে নিয়ম অনুযায়ী আগামী মৌসুমে (২০২৬/২৭) আর অ্যানফিল্ডে রিয়ালকে আতিথ্য দিতে পারবে না লিভারপুল।

চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাটে ধারাবাহিক তিন মৌসুমে একই মাঠে একই দুই দলের ম্যাচ আয়োজনের বিধিনিষেধ রয়েছে।
সেই নিয়মের কারণে আগামীবার অ্যানফিল্ডে রিয়ালকে আতিথ্য দেওয়া লিভারপুলের পক্ষে আর সম্ভব নয়।

গত নভেম্বরে অ্যানফিল্ডে মাদ্রিদের বিপক্ষে ২–০ ব্যবধানে জিতেছিল লিভারপুল। এই মৌসুমে আবারও ইংলিশদের মাটিতে নামছে দুই দল। এটিই হবে ইউরোপসেরা প্রতিযোগিতায় তাদের ১৩তম মুখোমুখি লড়াই।
এর মধ্যে শেষ ১৬ বছরের মধ্যেই হয়েছে প্রায় সবকটি ম্যাচ।

এর আগে গ্রুপ পর্বে লিভারপুল–মাদ্রিদের দেখা হয়েছিল ২০১৪ সালে। বাকি সব লড়াই নকআউট পর্বে, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি ফাইনাল—১৯৮১, ২০২১ ও ২০২২ সালে।

তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার বিধি (ধারা ১৬.০৩) অনুযায়ী একই প্রতিযোগিতায় টানা তিনবার একই মাঠে একই প্রতিপক্ষকে খেলানো যাবে না।
উয়েফার ক্লাব প্রতিযোগিতা কমিটির সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ‘একই দুই দলের মধ্যে যদি টানা দুই মৌসুম একই ভেন্যুতে ম্যাচ হয়, তবে তৃতীয় মৌসুমে সেই ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করা যাবে না। তবে অন্য ভেন্যুতে দুই দল মুখোমুখি হতে পারবে।’

এ কারণেই ২০২৪/২৫ এবং ২০২৫/২৬ মৌসুমে অ্যানফিল্ডে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলার পর ২০২৬/২৭ মৌসুমে লিভারপুলের সেই সুযোগ আর থাকছে না। তবে সান্তিয়াগো বের্নাব্যুতে দেখা হলে কোনো সমস্যা নেই।

প্রিমিয়ার লিগ মিডফিল্ডারের জন্য ১১৫ মিলিয়ন খরচ করতে প্রস্তুত রিয়াল

রিয়াল মাদ্রিদ নতুন কোচ জাবি আলোনসোর স্কোয়াড শক্তিশালী করতে চলতি গ্রীষ্মে চারজন খেলোয়াড় দলে নিয়েছে, তবে তাদের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডের শূন্যস্থান এখনো পূরণ হয়নি।

ফিচাজেসের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ক্রিস্টাল প্যালেসের ২১ বছর বয়সী ইংলিশ মিডফিল্ডার অ্যাডাম হোয়ার্টন রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী লক্ষ্য। ম্যানেজার আলোনসো তাকে ‘পারফেক্ট টেম্পো-কন্ট্রোলিং’ মিডফিল্ডার মনে করেন, যিনি দলের প্রকল্পের শেষ গুরুত্বপূর্ণ কড়ি।

রিয়াল মাদ্রিদ ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে তাকে দলে আনার জন্য ১১৫ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
চলতি গ্রীষ্মে রোদ্রিগোর ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা থাকায় তার বিক্রির মাধ্যমে এই ট্রান্সফার সম্ভব হতো, তবে রোদ্রিগো সম্ভবত ক্লাবেই থাকবেন।

তবে হোয়ার্টনের প্রতি আগ্রহ শুধু রিয়াল মাদ্রিদে সীমাবদ্ধ নয়। ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুলও তাকে নজর রাখছে। উচ্চ দামের কারণে ক্রিস্টাল প্যালেসের চাহিদা এখন পর্যন্ত বাধা হিসেবে কাজ করছে, তবে রিয়াল মাদ্রিদ বড় অর্থ ব্যয় করতে রাজি থাকলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথমে গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করা হবে : সালাহউদ্দিন

জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথমে গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে মায়ের ডাকের আলোচনাসভায় এ কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যদি জনগণ আমাদেরকে ম্যান্ডেট দেয়। ইনশাআল্লাহ গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করার জন্য প্রথমেই আইন প্রণয়নসহ এবং সেটা কার্যকর করার জন্য আমরা সবকিছু করব।
আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছি, যে বাংলাদেশে কোনোদিন গুমের শিকার হয়ে কোনো ব্যক্তিকে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না।’

গুম হওয়া ব্যক্তির পরিসংখ্যান নিয়ে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ১৮৫০ জন গুমের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০ জন এখনো ফেরত আসেনি। কাউকে যেন ছবি নিয়ে স্বজনদের খুঁজতে রাস্তায় দাঁড়াতে না হয়, সে বিষয় নিয়ে কাজ করবে বিএনপি।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য গুম-খুনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বর্তমানে সব দলের মধ্যে ঐক্য ফাটলের চেষ্টা করছে একটি মহল। তাই তারা নির্বাচন নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছে। অনেকে আবার কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণাকে স্বাগত না জানিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করছে।
বলছেন এই রোডম্যাপে নাকি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জবাবদিহির সংস্কৃতি তৈরি হবে। তাই দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।