ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় পুলিশের গাড়িচাপায় এক রাইডশেয়ার চালকের মৃত্যু মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার শুধু মাকাসার বা জাকার্তাই নয়, ইন্দোনেশিয়ার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জাভার যোগজাকার্তা, বান্দুং, সেমারাং, সুরাবায়া এবং উত্তর সুমাত্রার মেদান শহরেও হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।
এদিকে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার মাকাসার শহরে এক কাউন্সিল ভবনে বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুন লেগে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন শহর কাউন্সিলের সচিব রাহমাত মাপাতোবা।
নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন স্থানীয় কাউন্সিলের কর্মী এবং একজন সরকারি কর্মচারী। দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান, অপরজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান।
অন্তত চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শহরগুলোর পুলিশ কার্যালায় ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের দমাতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করছে পুলিশ।
পুলিশের গাড়ি চাপায় ওই রাইডশেয়ার চালকের মৃত্যুর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে।
ওই চালক স্বল্প মজুরি ও সংসদ সদস্যদের বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধার বিরুদ্ধে আয়োজিত আগের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। মাকাসারে বিক্ষোভ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। প্রাদেশিক ও সিটি কাউন্সিল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা, একাধিক গাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং মলোটভ ককটেল ব্যবহার করে।
অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে রাতের আঁধারে প্রাদেশিক কাউন্সিল ভবনে আগুনের ভয়াবহ দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রাদেশিক কাউন্সিল ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা গেট ভাঙতে উদ্যত হয়।
অন্যদিকে রাজধানী জাকার্তায় শত শত বিক্ষোভকারী এলিট আধাসামরিক পুলিশ ইউনিট মোবাইল ব্রিগেড কর্পস (ব্রিমোব) সদর দপ্তরের সামনে সমবেত হয়। তারা নিহত চালক আফান কুনিয়াওয়ানের মৃত্যুর জন্য ওই ইউনিটকে দায়ী করেছে। বিক্ষোভকারীরা আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে জবাব দেয়। গেট ভাঙার চেষ্টা এবং ভবনের সাইনবোর্ড খুলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল দৃশ্যও দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, চালকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাতজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এদিকে কাউন্সিল সচিব মাপাতোবা বলেন, ‘ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে আগুনে মারা গেছেন তিনজন। সাধারণত বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীরা শুধু পাথর ছোড়ে বা টায়ারে আগুন লাগায়। এবার তারা ভবনের ভেতরে ঢুকে আগুন ধরিয়েছে, যা আমাদের কল্পনার বাইরে।’
রাইডশেয়ার চালকের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। নিহত চালকের পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে যান তিনি। এটি প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর শাসনামলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এবং সহিংস বিক্ষোভ। প্রাবোও এর আগে দ্রুত রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার জনপ্রিয় কর্মসূচির অর্থ জোগাতে বাজেট কাটছাঁট করা হয়, যার মধ্যে বিলিয়ন ডলারের বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ কর্মসূচিও রয়েছে। এ কারণেও তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন।
সূত্র : এএফপি