বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

গত এক মাসে বাংলাদেশে যা যা ঘটনা ঘটেছে, তা ষড়যন্ত্রের অংশ : শামা ওবায়েদ

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেছেন, গত এক মাসে বাংলাদেশে যেসব খুন হয়েছে, নুরুল হক নুরের ওপর হামলা হয়েছে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা কারণ বা তুচ্ছ কারণে গণ্ডগোল তৈরি করা হয়েছে এগুলো একটি ষড়যন্ত্রের অংশ।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের উন্নয়নের দিকে যেতে দিতে চায় না, যারা বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানে অগ্রগতি চায় না, যারা বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করে রাখতে চায়, তারা বাংলাদেশকে শোষণ করছে-তারাই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা সদরে অবস্থিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা-পরবর্তী এ সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি।

বিএনপি নেত্রী বলেন, যতবার এ দেশে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়েছে, ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে, মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করা হয়েছে, ততবার বিএনপি মাঠে নেমেছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী গত ১৭ বছরে গুম হয়েছে, খুন হয়েছে। আমাদের নগরকান্দা-সালথা উপজেলার মারুফকে আমরা হারিয়েছি। শত শত নেতাকর্মী জেলে গেছে। এসব মামলা এখনো খারিজ হয়নি।

বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের যারা দুর্নীতির ভাগ পেয়েছে, যারা খুন করেছে, যারা গুলি করেছে, যারা গুলির আদেশ দিয়েছে- তারা কিন্তু আমাদের চারপাশে এখনো ঘোরাফেরা করছে। সুতরাং আমাদেরকে সাবধান থাকতে হবে।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান, সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহিনুজ্জামান, আলিমুজ্জামান, আশরাফ আলী মুন্সী, মাহবুব আলী মিয়া, আলমগীর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এশিয়া কাপে আফগানিস্তানকে হারানো নিয়ে যা বললেন লিটন

আর মাত্র দিন পাঁচেক পরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে এশিয়া কাপ বসতে যাচ্ছে। যেখানে লিটন-মুস্তাফিজরা ‘বি’ গ্রুপে খেলবে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে। তার আগে নিজেদের সর্বশেষ তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে টাইগাররা বেশ ভালো আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করেছে।

শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ছাড়া বাংলাদেশের গ্রুপে অপর প্রতিপক্ষ হংকং। গ্রুপপর্বে আফগানদের বিপক্ষে শক্ত লড়াই অপেক্ষা করছে টাইগারদের জন্য, গত কয়েক বছরে অনেকবারই তাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এ ছাড়া আফগানিস্তানের কয়েকজন বোলারের সঙ্গে তারা নিয়মিত বিপিএলেও খেলেছে।

এ নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন বলেন, ‘আমার মনে হয় আফগানিস্তানের সঙ্গে আমরা অনেকগুলো সিরিজ খেলেছি নিকট অতীতে। দুই-একজন প্লেয়ার হয়তোবা খেলেনি, কিন্তু বেশিরভাগ ক্রিকেটারই তাদের বোলারদেরকে খেলতে অভ্যস্ত। কিছুদিন আগেও সিলেটে কিন্তু আফগানিস্তান টিম এসেছিল, খেলেছে।’

প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গা সম্পর্কে টাইগাররা ভালো ধারণা রাখে বলেও দাবি লিটনের, ‘তাই আমার কাছে মনে হয় আমাদের প্লেয়ার সবাই জানি যে তাদের শক্তির জায়গা বা দুর্বলতা কোনটা। তাই আমরা চেষ্টা করব তাদের সেভাবে মোকাবিলা করার জন্য।’

সাধারণত স্পিন বোলিং আক্রমণ দিয়েই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টায় থাকে আফগানরা। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেনিএই উইকেটরক্ষক ব্যাটার, ‘এমন না যে শুধুমাত্র তারা স্পিন দিয়ে আমাদের ধরবে, আমাদের হাতেও অপশন আছে। আমাদের ব্যাটার আছে, আমাদের পেস বোলিং অ্যাটাক আছে। আমরাও দেখি কী করা যায়।’

৯ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠবে এশিয়া কাপের। দু’দিন (১১ সেপ্টেম্বর) পর হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা এবং ১৬ সেপ্টেম্বর তাদের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচই আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং একই সময়ে (রাত সাড়ে ৮টা) অনুষ্ঠিত হবে।

হলিউডে গেলেও ঐশ্বরিয়া কখনও সফল হবেন না, বলেন অমিতাভ

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন শুধুমাত্র একজন বলিউড তারকা নন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী। তার সৌন্দর্য, মেধা এবং অভিনয় প্রতিভা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।

২০০৪ সালে জেন অস্টেনের ক্লাসিক উপন্যাস ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ অবলম্বনে নির্মিত ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ ছবির মাধ্যমে হলিউডে অভিষেক হয় ঐশ্বরিয়ার। তার এই হলিউড যাত্রা তখন বলিউডের অন্দরে আলোচনার এক প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছিল।

ঐশ্বরিয়ার হলিউড অভিষেক প্রসঙ্গে তারকাদের প্রতিক্রিয়া আজও চর্চার বিষয়। ২০০৪ সালে করণ জোহরের জনপ্রিয় শো ‘কফি উইথ করণ’-এ যখন করণ ঐশ্বরিয়াকে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি হলিউডে সফল হবেন কি না, তখন অমিতাভ বচ্চন বলেছিলেন, “সে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত যেতে পারবে, কিন্তু এরপর একটা কাচের দেওয়াল থাকবে।”

তখনো ঐশ্বরিয়াকে বিয়ে না করা সত্ত্বেও অভিষেক বচ্চন তার প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘সে খুব প্রতিভাবান, চমৎকার পেশাদার এবং একসঙ্গে কাজ করার জন্য একজন দারুণ মানুষ।’

জায়েদ খান বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় তার একটা সর্বজনীন আকর্ষণ আছে।’ একতা কাপুর বলেছিলেন, ‘আমি জানি না সে সফল হবে কি না, তবে আমি আশা করি সে হবে, কারণ আমার প্রথম কাজ তার সঙ্গেই ছিল।’

শাবানা আজমি মনে করেন, ‘তার মধ্যে যা যা প্রয়োজন, সব আছে। তবে সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে যে সে সেখানে যেতে চায়, নাকি এখানে বেশি নিরাপদ বোধ করে।’ সুস্মিতা সেনের মন্তব্য ছিল, ‘ঐশ্বরিয়াকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন সে বলিউডকে হলিউডে নিয়ে যাবে, এবং সেই কারণে আমি চাই সেটা সত্যি হোক।’

বিপাশা বসু বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় সে এরই মধ্যে একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এটা দারুণ কারণ বলিউডের এত প্রতিভাবান অভিনেতাদের মধ্যে কেউই এটা এখনও পর্যন্ত করেনি।’ তবে সঞ্জয় দত্ত কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমি আশা করি সে সফল হবে, কিন্তু আমার মনে হয় না।’

‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’-এর পর ঐশ্বরিয়া আরও কিছু হলিউড ছবিতে কাজ করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘দ্য মিস্ট্রেস অফ স্পাইসেস’, ‘প্রোভোকড’ এবং স্টিভ মার্টিনের বিপরীতে ‘দ্য পিঙ্ক প্যান্থার ২’।
যদিও হলিউডে তার অভিনয় জীবন খুব দীর্ঘ ছিল না, তবুও কান চলচ্চিত্র উৎসবে তার আকর্ষণীয় উপস্থিতি আজও তাকে বিশ্বজুড়ে প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে। প্রতি বছর ভক্তরা অধীর আগ্রহে তার রেড কার্পেটের লুক দেখার জন্য অপেক্ষা করেন।

গঙ্গার চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনায় বসছে ঢাকা-দিল্লি

১৯৯৬ সালে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সই হওয়া ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তিটি নবায়ন করতে উভয়পক্ষই সম্মত আছে এবং এটি নবায়নে দুইপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কর্মকর্তারা দিল্লিতে বৈঠকে বসছেন।

যৌথ নদী কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকার পক্ষ থেকে যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আবুল হোসেনের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দলের নয়াদিল্লি সফর করার কথা। বৈঠকে মূল আলোচনা হবে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এখনো তিনি সেখানেই আছেন। বাংলাদেশের পট পরিবর্তনে ঢাকা-দিল্লি দুইপক্ষের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকলেও পানি ইস্যুতে উভয়পক্ষ নিয়মিত আলোচনা করছে। চলতি বছরের মার্চে দুইপক্ষের মধ্যে দিল্লিতে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে প্রতি বছর দুইবার করে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। গঙ্গা ছাড়া আর কোনো নদীর পানি বণ্টনের চুক্তি হয়নি। তিস্তার পানিবণ্টনের প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত। এর প্রধান কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসহযোগিতা ও তার আপত্তি।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রবাহিত গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে ১৯৯৬ সালে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সই করেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া ও শেখ হাসিনা। চুক্তির মেয়াদ ছিল ৩০ বছর। আগামী বছর সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ২০২৪ সালের জুন মাসে দুই দেশই ঘোষণা দেয় যে, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি নবায়নের জন্য কারিগরিগত আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) গত ১ আগস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং এই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে সংসদে জানান যে. ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এখনও শুরু হয়নি। তবে এই নবায়নের আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারসহ সব অংশীদারদের কাছ থেকে গৃহস্থালি কাজে এবং কল-কারখানায় কী পরিমাণ পানি প্রয়োজন সেই সম্পর্কে মতামত পাওয়া গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে দুইপক্ষ কিছু ইস্যুতে একমতে আসতে না পারায় কোনো দলিল (মিনিটস) সই হয়নি। আবার গত বছর এই চুক্তি নবায়নের জন্য উভয়পক্ষ আলোচনা শুরুর ঘোষণা দিলেও সম্প্রতি ভারতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী জানান যে, এই ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এখনও শুরু হয়নি। সামনের বৈঠকে মূলত দিল্লি কী করতে চায় তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আবুল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, “এটি আমাদের রুটিন বৈঠক। গঙ্গা চুক্তির বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনা, চুক্তির বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। অফিশিয়াল এই আলোচনায় আমরা অন্য কোনো এজেন্ডা নিয়ে কথা বলি না। আমাদের আরও ১০-১৫টা এজেন্ডা আছে, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করি না। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে মূল আলোচনা।”

এদিকে, গত ডিসেম্বরে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে গঙ্গা নদীর চুক্তি নবায়ন ইস্যূতে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব আলাপ করেন। সেসময় বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন বলেছিলেন, আলোচনায় আন্তঃনদী বিষয়সমূহ গুরুত্ব পেয়েছে। গঙ্গা নদীর পানি বন্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ২০২৬ সালে শেষ হয়ে যাবে। সে প্রেক্ষিতে তা নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তরা জানিয়েছে, গত ৬-৭ মার্চ কলকাতায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ৬ মার্চ ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সম্পর্কিত যৌথ কমিটির ৮৬-তম সভা এবং গত ৭ মার্চ কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক হয়। যা দুই দেশের মধ্যকার নিয়মিত বৈঠক। গত বছর নভেম্বরে ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সম্পর্কিত যৌথ কমিটির ৮৫-তম সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর তা কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে গঙ্গার পানি বণ্টনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অন্যদিকে, কারিগরি পর্যায়ের সভায় দু দেশের মধ্যে আন্তঃ-সীমান্ত নদী-বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এবারও তাই হয়েছে। বিগত ১৯৯৬ সালে গঙ্গা চুক্তি বাস্তবায়নের পর থেকেই প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশের চার সদস্যের দল এবং ভারতের চার সদস্যের দলের উপস্থিতিতে প্রতিদিন চারবার গঙ্গার পানি মাপা হয় এবং চুক্তি অনুযায়ী যার যতটুকু পানি পাওয়ার, তা ভাগ করে নেয়। আর এ বিষয়গুলো ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনা করতে দিল্লি ও ঢাকা থেকে উচ্চপর্যায়ের কমিটি যায় এবং চুক্তি ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না বা আমরা যতটুকু পানি পাওয়ার কথা, তা পাচ্ছি কি না, সে বিষয়গুলোই তখন পরীক্ষা করা হয়।

কারিগরি দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পানির ভাগাভাগি গাইডলাইন অনুযায়ী ঠিকভাবেই হচ্ছে। তবে চুক্তি বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হলেও এবার গঙ্গার পানি প্রবাহ কম সে বিষয়ে বাংলাদেশ উদ্বেগ জানিয়েছে এবং এ ব্যাপারে ভারতকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। গত মার্চে অনুষ্ঠিত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে কিছু বিষয়ের আলোচনায় কোনো সিদ্ধান্তে না আসতে পারার কারণে বৈঠকের পর কোনো মিনিটসে সই করা হয়নি। তবে এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। কোন সভায় দুপক্ষ এক বা একাধিক বিষয়ে একমত না হলে মিনিটস স্বাক্ষর নাও হতে পারে। অতীতেও বিভিন্ন সভায় এরকম ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষ পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক মাধ্যমে মতৈক্যের ভিত্তিতে এটি স্বাক্ষর করার প্রচেষ্টা নেবে।

পর্তুগালে ভয়াবহ ক্যাবল রেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের প্রাণকেন্দ্রে এলিভাদোর গ্লোরিয়া নামের একটি ফানিকুলার (ক্যাবল রেল) দুর্ঘটনায় ১৫জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ছয়টার দিকে একটি ফানিকুলার দ্রুত গতিতে নিচের দিকে নামতে থাকে এবং পাশের বিল্ডিংয়ে ধাক্কা লেগে এটি কাঠের বাক্সের মত ভেঙে পড়ে। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দমকল কর্মীরা হাজির হন এবং উদ্ধার কার্য শুরু করেন।

আহত ব্যক্তিদের লিসবনের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের এক গর্ভবতী নারী ও তার শিশু সন্তান রয়েছে। গর্ভবতী নারীকে মেটারনিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তার শিশু সন্তানকে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল দোনা এস্টেফানিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

আহত এবং নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত বিদেশিদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার পর্তুগালে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং রাজধানী লিসবনে তিনদিনের শোক পালিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন লিসবনের সিটি মেয়র কার্লোস মোয়েদা।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের শহরে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি । ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।। যে কোন পরিস্থিতি তাদের পাশে থাকব আমরা।”

উল্লেখ্য, এলিভাদোর গ্লোরিয়া নামের একটি ফানিকুলার (ক্যাবল রেল) শহরের প্রাণকেন্দ্রে রেসতোরাদোস থেকে বাইরো আলতো এরিয়াতে নিচ থেকে উপরে বা উপর থেকে নিচে যাত্রী পারাপার করে। এটি ১৮৮৫ সাল থেকে প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রায় ১৪০ বছর ব্যবহার হয়ে আসছে। লিসবন শহরটি ৭টি পাহাড়ের উপর অবস্থিত। এর ফলে উপর থেকে নিচে আবার নিচ থেকে উপরে পথচারীদের পারাপারের জন্য শহরের বিভিন্ন অংশে এই ধরনের সেবা চালু আছে। দুর্ঘটনার পর সবগুলো সার্ভিসই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভারত শুল্ক দিয়ে আমাদের হত্যা করেছে : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের শুল্ক নীতি নিয়ে আবারও তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‌‌ভারত আমাদের শুল্ক দিয়ে হত্যা করেছে। বর্তমানে আর কোনও শুল্ক আরোপ না করতে ওয়াশিংটনকে প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক নীতি ঘিরে চলমান ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার দ্য স্কট জেনিংস রেডিও শোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তারা (ভারত) আমাদের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করে। চীন আমাদের শুল্ক দিয়ে শেষ করে দিচ্ছে। ভারত আমাদের শুল্ক দিয়ে হত্যা করছে। ব্রাজিলও তাই করছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্ক বিষয়ে তিনি বিশ্বের অন্য যে কারও চেয়ে ভালো জানেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর কর আরোপ করার পরই ভারত শুল্ক কমানো শুরু করেছে। ভারতকে বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপকারী দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আপনারা জানেন, ভারত আমাকে জানিয়েছে, আর কোনও শুল্ক থাকবে না। কোনও শুল্ক নয়।

শুল্কের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, যদি আমার শুল্ক না থাকত, তারা কখনোই এমন প্রস্তাব দিত না। কখনোই না। তাই শুল্ক থাকা জরুরি। আমরা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হব।

তবে ট্রাম্প যে প্রথমবারের মতো এই ধরনের মন্তব্য করেছেন, বিষয়টি তেমন নয়। এর আগে, সোমবার মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতদিন পুরোপুরি একপাক্ষিক ছিল। তিনি একে ‌‌একপাক্ষিক বিপর্যয় বলেও উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, এখন ভারত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু তাদের এই প্রস্তাব অনেক দেরিতে এসেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ককে অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন। এর জবাবে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন, আপিল আদালত ভুলভাবে আমাদের শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু তারা জানেন, শেষ পর্যন্ত আমেরিকাই জিতবে।

ভারতের ওপর বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা তেলের জন্য অতিরিক্ত জরিমানা হিসেবে আরোপ করা ২৫ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপকে ‌‌‘‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’’ বলে আখ্যা দিয়েছে নয়াদিল্লি।

সূত্র: এনডিটিভি।

‘বাংলাদেশে জাতীয় পার্টির রাজনীতি করার অধিকার নেই’

বাংলাদেশে জাতীয় পার্টির রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) কালের কণ্ঠের ‘কালের সংলাপ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আব্দুল মান্নান বলেন, জামায়াত বাংলাদেশে আদর্শিক রাজনীতি করে। জাতীয় পার্টিকে বা অন্য কোনো দলকে ভয় করে জামায়াত এদেশে রাজনীতি করে না।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে অপরাধ করেছে। তারা ফ্যাসিস্টের বৈধতা দানকারী একটা দল। তাদের তো বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন করার মতো ক্ষমতা এই প্রশাসন এবং সরকারের আছে কিনা, সেটা আগে দেখতে হবে।
বাংলাদেশে নির্বাচনের কয়েকটা স্টেকহোল্ডার আছে। নির্বাচন কমিশন তার নিজের ঘরের ভিতরে গ্যাঞ্জাম হলে থামাতে পারে না। প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব থেকে শুরু করে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভিতরে ফ্যাসিস্টদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ না করে কিভাবে সুষ্ঠ নির্বাচন হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যে চাঁদাবাজি, হত্যা ও রাহাজানি হচ্ছে; এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা যে সরকার ও প্রশাসনের নাই, সেই প্রশাসন কেন্দ্র দখল হলে ঠেকাবে কিভাবে? সরকার ও প্রশাসনকে এই সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

জাতির ক্রান্তিলগ্নে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল : সৈয়দ সাদাত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পটিয়ায় র‌্যালি ও জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বায়তুশ শরফ মাদরাসা চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে পৌর সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে শেষ হয়। এতে হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমেদ বলেন, জাতির ক্রান্তিলগ্নে বিএনপি বারবার জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশবাসীর হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি আরো বলেন, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিনা অপরাধে কারাবরণ করেছেন। কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। আমরা তার সুস্থতা কামনা করছি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা প্রত্যাশা করছি।

সৈয়দ সাদাত আহমেদ দাবি করেন, জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসক ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম নেছারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমেদ।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীর কবির, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন সুমন, মফজল আহমেদ চেয়ারম্যান, এ কে এম জসীম, আবুল বশর সওদাগর, হারুনুর রশীদ চৌধুরী, আবু জাফর চৌধুরীসহ উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা।

বক্তারা বলেন, আজকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শপথ নিতে হবে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে।

হামাসের হামলায় মন্ত্রী হত্যার ‘পরিকল্পনা নস্যাৎ’ করেছে ইসরায়েল

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা বুধবার ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের একটি ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তারা অতি দক্ষিণপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে সংস্থাটি দাবি করেছে।

পরিকল্পিত হামলায় ‘বিস্ফোরক ড্রোন’ ব্যবহার করার কথা ছিল জানিয়ে নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট এক বিবৃতিতে আরো জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে সম্প্রতি পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকায় হামাসের সক্রিয় একটি সেলের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেন গভির নিকটবর্তী একটি ইসরায়েলি বসতিতে বসবাস করেন।

এদিকে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেন গভির শিন বেটকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘আরেকটি সেল গ্রেপ্তার হলো, যারা আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।’ পাশাপাশি তিনি অঙ্গীকার করেন, ধরা পড়া ব্যক্তিরা কারাগারের কঠোর শর্তের মুখোমুখি হবে।

শিন বেটের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের এই সেলটি ‘তুরস্ক থেকে হামাসের নির্দেশনায় বেন গভিরের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পরিকল্পনা করেছিল। সন্দেহভাজনরা কয়েকটি ড্রোন কিনেছিল, যা তারা বিস্ফোরক দিয়ে সজ্জিত করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে গাজা উপত্যকায় প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বেন গভির পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রবল সমর্থক। তিনি উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য কুখ্যাত এবং গাজা যুদ্ধ শেষ করতে হামাসের সঙ্গে কোনো চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের সবচেয়ে কট্টরপন্থী মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত, যা ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থী সরকারগুলোর একটি বলে বিবেচিত।

এর আগে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে বেন গভিরের দপ্তর জানিয়েছিল, ইসরায়েলি পুলিশ এক ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।

নুরের ওপর হামলার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে : রাশেদ খান

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান।

তিনি বলেন, ‘নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিচার অবশ্যই হতে হবে। এই হামলা শুধু নুরুল হক নুরের ওপর নয়, এটা গণ-অভ্যুত্থানের ওপর হামলা। সুতরাং নুরের ওপর হামলার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে।

নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ ও জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে দাবিতে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পল্টন মোড় অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন দলটির নেতাকর্মীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ে এসে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রাস্তা অবরোধ করে রাখেন।

অবরোধ কর্মসূচিতে রাশেদ খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বাংলাদেশের দল নয়।
এরা ভারতের দল। আপার মতো জাপাকেও ভারতে পাঠাতে হবে। রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুরা গ্রেপ্তার হলে, জি এম কাদের কেন গ্রেপ্তার হয় না? কারা কাদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে? এবার জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানানোর কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট হিসেবে নিষিদ্ধ হয়েছে।
জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।

এ সময় পল্টন মোড় অবরোধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই অবরোধের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। ঠাণ্ডা কথা সরকারের কানে ঢোকে না, যে কারণে সড়ক অবরোধ করেছেন নেতাকর্মীরা।’

পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি হলো– ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য’র ব্যানারে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে সংহতি সমাবেশ। এই সমাবেশ আমাদের ঐক্য প্রতিষ্ঠার সমাবেশ।

গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ আব্দুজ জাহেরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মুখপাত্র ফারুক হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল আল মামুন, উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, এডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, মাহফুজুর রহমান খান, রবিউল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঈসমাইল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল, মহানগর উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম শাকিল,যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সিনিয়র সভাপতি নেওয়াজ খান বাপ্পি প্রমুখ।